পাসপোর্ট নবায়ন করার নিয়ম: সহজ ধাপে সম্পূর্ণ গাইড

পাসপোর্ট আমাদের দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাগজ। প্রতিটি মানুষের জীবনে পাসপোর্ট নবায়ন একটি প্রয়োজনীয় কাজ। আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তা নবায়ন করতে হয়। অনেকেই জানেন না পাসপোর্ট নবায়ন করার নিয়ম কী। আজকের এই লেখায় আমরা খুব সহজভাবে সব কিছু জানব। আপনি ঘরে বসেই পাসপোর্ট নবায়ন করতে পারবেন। এই গাইড পড়লে আপনার সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।

👉 এক নজরে প্রবন্ধটির মূল বিষয়বস্তু/সূচিপত্রঃ 📖

পাসপোর্ট নবায়ন করতে কত টাকা লাগে

পাসপোর্ট নবায়ন করতে কত টাকা লাগে বিস্তারিত খরচ তালিকা

পাসপোর্ট নবায়ন করতে কত টাকা লাগে এটা সবার জানা দরকার। সাধারণ পাসপোর্ট নবায়নের জন্য ফি আলাদা হয়। ৫ বছরের পাসপোর্ট নবায়ন করতে একটা খরচ লাগে। ১০ বছরের পাসপোর্ট নবায়ন করলে আরেকটা খরচ পড়ে। বর্তমানে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য ফি ৩,০০০ টাকা। জরুরি পাসপোর্ট নবায়ন করতে ৫,০০০ টাকা দিতে হয়। এক্সপ্রেস সেবার জন্য ৭,৫০০ টাকা খরচ হয়। আপনি যদি সুপার এক্সপ্রেস চান তবে ১০,০০০ টাকা লাগবে। শিশুদের পাসপোর্ট নবায়ন করতে কম টাকা লাগে। ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ফি ১,৫০০ টাকা। ই-পাসপোর্ট নবায়নের ফি একটু বেশি হয়। নতুন ই-পাসপোর্টের জন্য ৩,৫০০ টাকা থেকে শুরু। সঠিক টাকার পরিমাণ জানতে অফিসিয়াল সাইট দেখুন। পাসপোর্ট অফিস থেকেও ফি সম্পর্কে জানতে পারবেন।

পাসপোর্ট নবায়ন কিভাবে করতে হয়

পাসপোর্ট নবায়ন কিভাবে করতে হয় তা ধাপে ধাপে জানব। প্রথমে আপনাকে অনলাইনে যেতে হবে। www.passport.gov.bd এই ওয়েবসাইটে যান। সেখানে একটা একাউন্ট খুলতে হবে। আপনার ইমেইল এবং মোবাইল নম্বর দিন। একটা পাসওয়ার্ড তৈরি করুন। লগইন করার পর পাসপোর্ট নবায়নের অপশন দেখবেন। সেখানে ক্লিক করে আবেদন শুরু করুন। আপনার পুরানো পাসপোর্টের তথ্য দিন। নতুন ছবি এবং স্বাক্ষর আপলোড করুন। সব তথ্য ঠিক মতো পূরণ করুন। ফি পরিশোধ করার জন্য বিকাশ বা কার্ড ব্যবহার করুন। পেমেন্ট করার পর একটা রশিদ পাবেন। এরপর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। আপনার কাছের পাসপোর্ট অফিস বেছে নিন। সুবিধামত তারিখ এবং সময় ঠিক করুন। নির্ধারিত দিনে অফিসে যান। সব কাগজপত্র সাথে নিয়ে যাবেন। বায়োমেট্রিক ডেটা দেওয়ার পর বাড়ি ফিরে আসুন।

পাসপোর্ট নবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

পাসপোর্ট নবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগে থেকে জোগাড় করুন। প্রথমে আপনার পুরানো পাসপোর্টটি লাগবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি নিতে হবে। জন্ম নিবন্ধন সনদের কপিও রাখুন। দুই কপি সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি দরকার। ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা হতে হবে। অনলাইন আবেদনের প্রিন্ট কপি নিন। পেমেন্ট রশিদ অবশ্যই সাথে রাখবেন। যদি নাম পরিবর্তন হয়ে থাকে তবে গেজেট কপি লাগবে। বিবাহিত মহিলাদের বিয়ের সার্টিফিকেট দিতে হয়। ঠিকানা প্রমাণের জন্য ইউটিলিটি বিল দিতে পারেন। ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বরও কাজে লাগতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের পাসপোর্ট কপি লাগে। সব কাগজ ফটোকপি এবং আসল দুটোই রাখুন। কাগজপত্র গুছিয়ে একটা ফাইলে রাখলে ভালো হয়।

অনলাইনে পাসপোর্ট নবায়ন করার নিয়ম

অনলাইনে পাসপোর্ট নবায়ন করার নিয়ম এখন অনেক সহজ হয়েছে। আপনাকে লাইনে দাঁড়াতে হবে না। ঘরে বসেই সব কাজ করতে পারবেন। প্রথমে সরকারি ওয়েবসাইটে যান। একটা নতুন একাউন্ট তৈরি করুন। আপনার সব তথ্য সঠিকভাবে দিন। পাসপোর্ট নম্বর এবং মেয়াদ উল্লেখ করুন। নতুন ছবি আপলোড করার জন্য ভালো মানের ছবি নিন। ছবির সাইজ ৩০০ x ৩০০ পিক্সেল হতে হবে। স্বাক্ষর স্ক্যান করে আপলোড করুন। ফর্ম পূরণ শেষ হলে রিভিউ করুন। সব ঠিক আছে কিনা চেক করুন। এরপর সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন। অনলাইন পেমেন্ট করার অপশন আসবে। বিকাশ, নগদ বা কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করুন। পেমেন্ট সফল হলে একটা মেসেজ পাবেন। আপনার ইমেইলে কনফার্মেশন মেইল আসবে। এরপর অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং করুন।

  • দ্রুত সেবার জন্য সকালের স্লট বুক করুন
  • সব তথ্য সঠিক দিন যাতে কোনো সমস্যা না হয়
  • পেমেন্ট রশিদ অবশ্যই সেভ করে রাখুন

ই-পাসপোর্ট নবায়ন করার নিয়ম

ই-পাসপোর্ট নবায়ন করার নিয়ম সাধারণ পাসপোর্টের মতোই। তবে কিছু বিশেষ বিষয় মনে রাখতে হবে। ই-পাসপোর্টে চিপ থাকে যা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এতে আপনার সব তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত থাকে। নবায়নের সময় নতুন বায়োমেট্রিক ডেটা দিতে হয়। আঙুলের ছাপ এবং চোখের স্ক্যান করা হয়। অনলাইনে আবেদন করার পদ্ধতি একই। তবে ফি একটু বেশি হতে পারে। ই-পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে ডেটা দিতে হয়। পুরানো ই-পাসপোর্ট সাথে নিয়ে যাবেন। নতুন ছবি তোলা হবে অফিসেই। আপনার উচ্চতা এবং ওজনও মাপা হতে পারে। সব প্রক্রিয়া শেষ হতে ৩০ মিনিট সময় লাগে। ই-পাসপোর্ট নিরাপত্তার জন্য খুব ভালো। বিদেশ ভ্রমণে এটা অনেক সুবিধা দেয়। অনেক দেশ এখন ই-পাসপোর্ট পছন্দ করে।

পাসপোর্ট নবায়ন ফি ২০২৬

পাসপোর্ট নবায়ন ফি ২০২৬ সালে কিছু পরিবর্তন হতে পারে। বর্তমানে যে ফি আছে তা জানা দরকার। সাধারণ ডেলিভারির জন্য ৩,০০০ টাকা থেকে শুরু। জরুরি ডেলিভারি চাইলে ৫,০০০ টাকা দিতে হয়। এক্সপ্রেস সেবায় খরচ ৭,৫০০ টাকা। সবচেয়ে দ্রুত সেবার জন্য ১০,০০০ টাকা লাগে। ৫ বছরের পাসপোর্ট সস্তা হয়। ১০ বছরের পাসপোর্ট একটু বেশি খরচ। শিশুদের জন্য ফি কম রাখা হয়েছে। সরকার মাঝে মাঝে ফি পরিবর্তন করে। তাই সবসময় অফিসিয়াল সাইট চেক করুন। অনলাইন পেমেন্ট করলে কোনো অতিরিক্ত চার্জ নেই। ক্যাশ পেমেন্ট করতে চাইলে ব্যাংকে যেতে হয়। ব্যাংক চার্জ আলাদাভাবে যোগ হতে পারে। সময়মতো পেমেন্ট করুন যাতে সমস্যা না হয়। পেমেন্ট রশিদ সংরক্ষণ করে রাখবেন।

পাসপোর্ট নবায়ন করতে কত দিন লাগে

পাসপোর্ট নবায়ন করতে কত দিন লাগে এটা সেবার ধরনের ওপর নির্ভর করে। সাধারণ ডেলিভারিতে ২১ থেকে ৩০ দিন সময় লাগে। জরুরি ডেলিভারিতে ৭ থেকে ১০ দিন লাগে। এক্সপ্রেস সেবা নিলে ৫ থেকে ৭ দিনে পাবেন। সুপার এক্সপ্রেস সেবায় ২ থেকে ৩ দিনেই পাসপোর্ট পাওয়া যায়। তবে অনেক সময় দেরি হতে পারে। সরকারি ছুটির দিনগুলো বাদ যায়। পুলিশ ভেরিফিকেশনে সময় লাগতে পারে। যদি কোনো তথ্য ভুল হয় তবে আরও দেরি হয়। ঢাকায় দ্রুত পাসপোর্ট পাওয়া যায়। জেলা শহরে একটু বেশি সময় লাগে। আবেদনের পর স্ট্যাটাস চেক করুন নিয়মিত। অনলাইনে স্ট্যাটাস দেখা যায় সহজেই। এসএমএসেও আপডেট পাবেন। সময় বাঁচাতে চাইলে দ্রুত সেবা নিন। সঠিক কাগজপত্র দিলে কাজ দ্রুত হয়।

শিশুর পাসপোর্ট নবায়ন করার নিয়ম

শিশুর পাসপোর্ট নবায়ন করার নিয়ম একটু আলাদা। শিশুদের পাসপোর্ট ৫ বছরের জন্য দেওয়া হয়। মেয়াদ শেষ হলে নবায়ন করতে হয়। বাবা বা মায়ের সাথে শিশুকে অফিসে নিয়ে যেতে হবে। শিশুর জন্ম নিবন্ধন সনদ অবশ্যই লাগবে। বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে হবে। পুরানো পাসপোর্টও সাথে নিন। শিশুর দুই কপি ছবি দরকার। ছবি সাম্প্রতিক এবং পরিষ্কার হতে হবে। অনলাইন আবেদন করার সময় শিশুর তথ্য দিন। বায়োমেট্রিক ডেটার জন্য শিশুকে উপস্থিত থাকতে হবে। শিশুর আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়। ছবিও অফিসে তোলা হতে পারে। শিশুদের জন্য ফি কম হয়। নবায়নের প্রক্রিয়া সহজ এবং দ্রুত। শিশুর পাসপোর্ট সাধারণত ১৫ দিনে পাওয়া যায়।

  • শিশুর জন্ম নিবন্ধন সনদ অবশ্যই সঠিক হতে হবে
  • বাবা-মায়ের উভয়ের পাসপোর্ট কপি রাখুন
  • শিশুকে অফিসে নিয়ে যাওয়ার সময় খেয়াল রাখুন

৫ বছরের বাচ্চার পাসপোর্ট নবায়ন

৫ বছরের বাচ্চার পাসপোর্ট নবায়ন সহজ একটা প্রক্রিয়া। বাচ্চার বয়স ৫ বছর হলে নতুন পাসপোর্ট করাতে হয়। পুরানো পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। নবায়নের জন্য আবার আবেদন করতে হবে। বাচ্চার নতুন ছবি দিতে হবে। ৫ বছর বয়সে বাচ্চার চেহারা পরিবর্তন হয়। তাই নতুন বায়োমেট্রিক ডেটাও নিতে হয়। বাবা-মা দুজনেরই সম্মতি লাগে। একজন অভিভাবক বাচ্চাকে নিয়ে অফিসে যাবেন। জন্ম নিবন্ধন সনদ আপডেট করে নিন। বাচ্চার স্কুল সার্টিফিকেটও কাজে লাগতে পারে। অনলাইনে আবেদন করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন। নির্ধারিত দিনে সময়মতো অফিসে যান। বাচ্চাকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন। বায়োমেট্রিক ডেটা নেওয়ার সময় একটু সময় লাগে। বাচ্চার পাসপোর্ট সাধারণত ১০ থেকে ১৫ দিনে পাওয়া যায়।

১০ বছরের মেয়াদী পাসপোর্ট নবায়ন ফি

১০ বছরের মেয়াদী পাসপোর্ট নবায়ন ফি একটু বেশি হয়। দীর্ঘমেয়াদী পাসপোর্ট অনেক সুবিধা দেয়। আপনাকে বারবার নবায়ন করতে হবে না। ১০ বছরের পাসপোর্টের সাধারণ ফি ৪,০০০ টাকা। জরুরি ডেলিভারির জন্য ৬,০০০ টাকা লাগে। এক্সপ্রেস সেবায় খরচ হয় ৮,৫০০ টাকা। সুপার এক্সপ্রেস নিলে ১১,০০০ টাকা দিতে হয়। এই ফি সরকার নির্ধারণ করে দেয়। ফি পরিশোধ করতে অনলাইন পেমেন্ট ব্যবহার করুন। বিকাশ এবং নগদ দিয়ে সহজে পেমেন্ট হয়। ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডও ব্যবহার করতে পারেন। ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমেও ফি দেওয়া যায়। ১০ বছরের পাসপোর্ট বিদেশ ভ্রমণে খুব কাজের। একবার খরচ করলে অনেকদিন চলে। দীর্ঘমেয়াদী পাসপোর্ট অনেকে পছন্দ করে। ভিসা আবেদনেও সুবিধা হয়।

জরুরি ভিত্তিতে পাসপোর্ট নবায়ন করার নিয়ম

জরুরি ভিত্তিতে পাসপোর্ট নবায়ন করার নিয়ম জানা খুব দরকার। কখনো কখনো হঠাৎ বিদেশ যেতে হয়। তখন দ্রুত পাসপোর্ট দরকার হয়। জরুরি সেবার জন্য আলাদা ফি দিতে হয়। অনলাইন আবেদনের সময় জরুরি অপশন বাছুন। কারণ উল্লেখ করতে হতে পারে। চিকিৎসা বা কাজের জন্য যাচ্ছেন তা লিখুন। জরুরি ডেলিভারিতে ৭ থেকে ১০ দিন লাগে। আরও দ্রুত চাইলে এক্সপ্রেস নিন। সুপার এক্সপ্রেস সেবায় ২ দিনেই পাসপোর্ট পাবেন। তবে খরচ অনেক বেশি হয়। জরুরি আবেদনে সব কাগজ সঠিক দিন। কোনো ভুল করলে আরও দেরি হবে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট দ্রুত নিতে হবে। সকালের স্লটে গেলে কাজ তাড়াতাড়ি হয়। পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে জরুরি সেবার কথা বলুন। আপনার অবস্থা বুঝিয়ে বলুন। সব প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন করুন।

  • জরুরি সেবার জন্য সকল কাগজপত্র আগে থেকে প্রস্তুত রাখুন
  • অনলাইন আবেদনে জরুরি কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন
  • দ্রুত ডেলিভারির জন্য অতিরিক্ত ফি দিতে প্রস্তুত থাকুন

বিদেশে থেকে পাসপোর্ট নবায়ন করার নিয়ম

বিদেশে থেকে পাসপোর্ট নবায়ন করার নিয়ম একটু ভিন্ন। আপনি যদি বাইরে থাকেন তবে দূতাবাসে যেতে হবে। বাংলাদেশ দূতাবাস পাসপোর্ট সেবা দেয়। প্রথমে দূতাবাসে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন। তাদের ওয়েবসাইট থেকে ফর্ম ডাউনলোড করুন। ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে হবে। পুরানো পাসপোর্ট সাথে নিয়ে যাবেন। বৈধ ভিসা বা রেসিডেন্স পারমিট লাগবে। দূতাবাসে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করুন। বিদেশে ফি একটু বেশি হতে পারে। ডলার বা ইউরোতে পেমেন্ট করতে হয়। দূতাবাস বায়োমেট্রিক ডেটা নেবে। নতুন ছবি তোলা হবে সেখানেই। পাসপোর্ট তৈরি হতে ৩০ থেকে ৪৫ দিন লাগে। দূতাবাস থেকে কল দিলে গিয়ে নিয়ে আসবেন। কিছু দেশে পোস্টে পাঠানোর ব্যবস্থা আছে। বিদেশে পাসপোর্ট নবায়ন একটু সময়সাপেক্ষ।

এমআরপি পাসপোর্ট নবায়ন করার নিয়ম ২০২৬

এমআরপি পাসপোর্ট নবায়ন করার নিয়ম ২০২৬ সালে একই থাকবে। এমআরপি মানে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট। এই পাসপোর্টে একটা বারকোড থাকে। সব তথ্য মেশিনে পড়া যায়। এমআরপি পাসপোর্ট এখন সবাই ব্যবহার করে। নবায়নের জন্য অনলাইনে আবেদন করুন। পুরানো এমআরপি নম্বর দিতে হবে। আবেদন ফর্মে সব তথ্য ভালোভাবে দিন। ছবি এবং স্বাক্ষর ডিজিটালভাবে আপলোড করুন। ফি পরিশোধ করার পর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন। পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক দিন। এমআরপি পাসপোর্ট নবায়ন দ্রুত হয়। সাধারণত ১৫ থেকে ২০ দিন লাগে। জরুরি সেবা নিলে আরও দ্রুত পাবেন। এমআরপি পাসপোর্ট বিদেশে সহজে গ্রহণযোগ্য। সব দেশের ইমিগ্রেশনে কাজ করে। নবায়ন করার পর নতুন এমআরপি নম্বর পাবেন।

এমআরপি পাসপোর্ট তথ্যবিবরণ
পাসপোর্টের ধরনমেশিন রিডেবল পাসপোর্ট
বারকোডহ্যাঁ, নিচের দিকে থাকে
মেয়াদ৫ বছর বা ১০ বছর
নবায়ন সময়১৫-২০ দিন (সাধারণ)
জরুরি নবায়ন৭-১০ দিন
বিদেশে গ্রহণযোগ্যতাসব দেশে গ্রহণযোগ্য

পাসপোর্ট রিনিউ করতে কত খরচ হয়

পাসপোর্ট রিনিউ করতে কত খরচ হয় তা অনেকেই জানতে চান। রিনিউ এবং নবায়ন একই কথা। খরচ নির্ভর করে আপনি কোন ধরনের সেবা নিচ্ছেন। সাধারণ রিনিউতে ৩,০০০ টাকা লাগে। এটা ৫ বছরের পাসপোর্টের জন্য। ১০ বছরের পাসপোর্ট রিনিউতে ৪,০০০ টাকা। জরুরি সেবা নিলে খরচ বাড়ে। এক্সপ্রেস রিনিউতে ৭,৫০০ টাকা দিতে হয়। সুপার এক্সপ্রেসের খরচ ১০,০০০ টাকা। শিশুদের পাসপোর্ট রিনিউ সস্তা। ৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য ১,৫০০ টাকা। এসব ফি সরকার নির্ধারিত। অনলাইন পেমেন্ট করলে কোনো চার্জ নেই। ব্যাংকে গিয়ে পেমেন্ট করলে চার্জ লাগতে পারে। সময়মতো রিনিউ করুন জরিমানা এড়াতে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রিনিউ করা ভালো।

পাসপোর্ট রিনিউ কাগজপত্র

পাসপোর্ট রিনিউ কাগজপত্র আগে থেকে সংগ্রহ করুন। পুরানো পাসপোর্ট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি রাখুন। আসল এনআইডিও সাথে নিয়ে যাবেন। জন্ম নিবন্ধন সনদ লাগতে পারে। দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি দিন। ছবি সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে হতে হবে। অনলাইন আবেদনের প্রিন্ট কপি নিন। পেমেন্ট রশিদ অবশ্যই রাখবেন। ঠিকানা প্রমাণপত্র হিসেবে বিদ্যুৎ বিল দিতে পারেন। পানি বা গ্যাস বিলও চলবে। বিবাহিত মহিলারা বিয়ের সার্টিফিকেট দেবেন। নাম পরিবর্তন করলে গেজেট কপি লাগবে। সব কাগজ একটা ফোল্ডারে গুছিয়ে রাখুন। ফটোকপি এবং আসল দুটোই সাথে রাখবেন। যেকোনো সমস্যা হলে অতিরিক্ত কাগজ কাজে লাগবে।

  • সব কাগজপত্র আগে থেকে চেক করে নিন
  • ফটোকপি পরিষ্কার এবং পাঠযোগ্য হতে হবে
  • আসল কাগজ সবসময় সাথে রাখুন

পাসপোর্ট রিনিউ কত দিনে হয়

পাসপোর্ট রিনিউ কত দিনে হয় এটা জানা দরকার। সাধারণ প্রক্রিয়ায় ২১ থেকে ৩০ দিন লাগে। এটা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী। জরুরি রিনিউতে ৭ থেকে ১০ দিন লাগে। এক্সপ্রেস সেবা নিলে ৫ দিনে পাবেন। সুপার এক্সপ্রেস রিনিউ ২ থেকে ৩ দিনে হয়। ঢাকার পাসপোর্ট অফিসে দ্রুত হয়। জেলা শহরে একটু বেশি সময় লাগতে পারে। সরকারি ছুটির দিন হিসাবে ধরা হয় না। পুলিশ ভেরিফিকেশন সময় নেয়। যদি তথ্য ভুল হয় তবে দেরি হবে। সব কাগজ ঠিক থাকলে নির্ধারিত সময়ে পাবেন। অনলাইনে স্ট্যাটাস চেক করুন নিয়মিত। এসএমএসেও আপডেট আসবে। দ্রুত পাসপোর্ট চাইলে বেশি ফি দিন। সময়মতো পাসপোর্ট পেতে সঠিক প্রক্রিয়া মানুন।

হারানো পাসপোর্ট নবায়ন করার নিয়ম

হারানো পাসপোর্ট নবায়ন করার নিয়ম একটু জটিল। পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে প্রথমে থানায় জিডি করুন। সাধারণ ডায়েরি একটা গুরুত্বপূর্ণ কাগজ। জিডি কপি পাসপোর্ট অফিসে জমা দিতে হবে। হারানো পাসপোর্টের নম্বর উল্লেখ করুন। কবে এবং কোথায় হারিয়েছে তা লিখুন। জিডির পর অনলাইনে নতুন আবেদন করুন। হারানো পাসপোর্টের জন্য আলাদা ফর্ম আছে। সেখানে সব তথ্য সঠিকভাবে দিন। নতুন ছবি এবং স্বাক্ষর আপলোড করুন। ফি পরিশোধ করার সময় জরিমানা লাগতে পারে। হারানো পাসপোর্টের জন্য অতিরিক্ত ৫০০ টাকা দিতে হয়। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে যান। সব কাগজপত্র এবং জিডি কপি সাথে নিন। নতুন পাসপোর্ট পেতে ৩০ থেকে ৪৫ দিন লাগে। পুলিশ ভেরিফিকেশনে সময় বেশি লাগতে পারে।

পাসপোর্ট আবেদন ফর্ম পূরণের নিয়ম

পাসপোর্ট আবেদন ফর্ম পূরণের নিয়ম জানা খুব জরুরি। ফর্ম সঠিকভাবে পূরণ না করলে আবেদন বাতিল হবে। প্রথমে আপনার নাম বাংলা এবং ইংরেজিতে লিখুন। নাম এনআইডি কার্ডের মতো হতে হবে। জন্মতারিখ ঠিকঠাক দিন। বয়স ভুল হলে সমস্যা হবে। বাবা-মায়ের নাম সঠিকভাবে লিখুন। তাদের জাতীয়তা উল্লেখ করুন। বর্তমান ঠিকানা পূর্ণরূপে লিখুন। স্থায়ী ঠিকানাও দিতে হবে। পেশার তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন। শিক্ষাগত যোগ্যতা সঠিক লিখুন। জরুরি যোগাযোগের নম্বর দিন। কাছের আত্মীয়ের নাম এবং নম্বর দিন। পুরানো পাসপোর্ট থাকলে তার তথ্য দিন। ফর্ম পূরণ শেষে রিভিউ করুন। সব তথ্য দুইবার চেক করুন। ভুল তথ্য দিলে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হবে।

ফর্ম পূরণের ধাপবিবরণ
ব্যক্তিগত তথ্যনাম, জন্মতারিখ, লিঙ্গ
পিতা-মাতার তথ্যনাম, জাতীয়তা, পেশা
ঠিকানাবর্তমান এবং স্থায়ী
যোগাযোগমোবাইল নম্বর, ইমেইল
পুরানো পাসপোর্টনম্বর, মেয়াদ শেষ তারিখ
জরুরি যোগাযোগনিকটাত্মীয়ের নাম ও নম্বর

পাসপোর্ট নবায়ন স্ট্যাটাস চেক করার নিয়ম

পাসপোর্ট নবায়ন স্ট্যাটাস চেক করার নিয়ম খুবই সহজ। আবেদনের পর স্ট্যাটাস জানতে চাইবেন। অনলাইনে স্ট্যাটাস দেখা যায়। www.passport.gov.bd সাইটে যান। স্ট্যাটাস চেক অপশনে ক্লিক করুন। আপনার আবেদন নম্বর দিন। জন্মতারিখও দিতে হতে পারে। সাবমিট করলে স্ট্যাটাস দেখাবে। আপনার আবেদন কোন পর্যায়ে আছে জানবেন। পেমেন্ট সফল হয়েছে কিনা দেখুন। পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয়েছে কিনা চেক করুন। পাসপোর্ট প্রিন্ট হচ্ছে কিনা জানতে পারবেন। ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত হলে বার্তা আসবে। এসএমএসেও স্ট্যাটাস আপডেট পাওয়া যায়। আবেদনের সময় মোবাইল নম্বর সঠিক দিন। নিয়মিত স্ট্যাটাস চেক করুন। কোনো সমস্যা হলে হটলাইনে ফোন করুন।

  • প্রতিদিন একবার স্ট্যাটাস চেক করুন
  • আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করে রাখুন
  • এসএমএস নোটিফিকেশন চালু রাখুন

পাসপোর্ট যাচাই করার নিয়ম

পাসপোর্ট যাচাই করার নিয়ম জানা উচিত সবার। নকল পাসপোর্ট অনেক থাকে। আসল পাসপোর্ট চিনতে হবে। অনলাইনে পাসপোর্ট যাচাই করা যায়। সরকারি ওয়েবসাইটে যান। পাসপোর্ট নম্বর এবং জন্মতারিখ দিন। সাবমিট করলে তথ্য দেখাবে। পাসপোর্ট বৈধ কিনা জানতে পারবেন। মেয়াদ শেষ হয়েছে কিনা চেক করুন। পাসপোর্টের পিছনের দিকে এমআরপি কোড আছে। মেশিনে স্ক্যান করলে তথ্য আসবে। পাসপোর্ট অফিসেও যাচাই করা যায়। সেখানে গিয়ে পাসপোর্ট দেখান। কর্মকর্তারা যাচাই করে দেবেন। নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য চেক করুন। ওয়াটারমার্ক এবং হলোগ্রাম দেখুন। আসল পাসপোর্টে সব ফিচার থাকবে। যাচাই করা পাসপোর্ট নিরাপদে রাখুন।

পাসপোর্ট ফি কত

পাসপোর্ট ফি কত এটা সবাই জানতে চায়। নতুন পাসপোর্টের ফি আলাদা। নবায়নের ফি ভিন্ন হয়। সাধারণ পাসপোর্টের ফি ৩,০০০ টাকা। এটা ৫ বছরের মেয়াদের জন্য। ১০ বছরের পাসপোর্ট ৪,০০০ টাকা। জরুরি পাসপোর্ট ৫,০০০ টাকা লাগে। এক্সপ্রেস সেবার ফি ৭,৫০০ টাকা। সুপার এক্সপ্রেস পাসপোর্ট ১০,০০০ টাকা। শিশুদের পাসপোর্ট সস্তা। ৫ বছরের কম বাচ্চাদের ফি ১,৫০০ টাকা। ই-পাসপোর্টের ফি একটু বেশি। ই-পাসপোর্টে ৩,৫০০ টাকা থেকে শুরু। অফিসিয়াল পাসপোর্ট বিনামূল্যে দেওয়া হয়। ডিপ্লোমেটিক পাসপোর্টও ফ্রি। সরকার মাঝে মাঝে ফি পরিবর্তন করে। আপডেট ফি জানতে ওয়েবসাইট চেক করুন।

পাসপোর্ট তোলার সময় কী কী লাগে

পাসপোর্ট তোলার সময় কী কী লাগে তা জানা উচিত। নতুন পাসপোর্ট করাতে অনেক কাগজ লাগে। জাতীয় পরিচয়পত্র সবার আগে দরকার। জন্ম নিবন্ধন সনদ অবশ্যই লাগবে। এসএসসি সার্টিফিকেট দিতে হয়। চার কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি নিন। ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা হতে হবে। অনলাইন আবেদন ফর্ম পূরণ করুন। আবেদন ফর্মের প্রিন্ট কপি নিন। পেমেন্ট রশিদ সাথে রাখবেন। ঠিকানা প্রমাণপত্র হিসেবে বিদ্যুৎ বিল দিন। ইউটিলিটি বিল বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট চলবে। পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য চারিত্রিক সনদ লাগে। অভিভাবকের এনআইডি কপিও দিতে হয়। সব কাগজ গুছিয়ে একটা ফাইলে রাখুন। অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার প্রিন্ট করুন। সময়মতো পাসপোর্ট অফিসে যান।

পাসপোর্ট পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে কি না

পাসপোর্ট পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে কি না এটা একটা সাধারণ প্রশ্ন। নতুন পাসপোর্টের জন্য ভেরিফিকেশন লাগে। পুলিশ আপনার ঠিকানা যাচাই করে। চরিত্র এবং পরিচয় চেক করে। নবায়নের ক্ষেত্রে সাধারণত লাগে না। যদি ঠিকানা পরিবর্তন হয় তবে লাগতে পারে। হারানো পাসপোর্ট নবায়নে ভেরিফিকেশন দরকার। পুলিশ ভেরিফিকেশনে সময় লাগে। এই কারণে পাসপোর্ট পেতে দেরি হয়। থানার পুলিশ আপনার বাসায় আসবে। তারা প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসা করবে। সব ঠিক থাকলে রিপোর্ট জমা দেবে। ভেরিফিকেশন রিপোর্ট পাসপোর্ট অফিসে পাঠানো হয়। সব কিছু ঠিক থাকলে পাসপোর্ট ইশু হয়। ভেরিফিকেশনে ৭ থেকে ১৫ দিন লাগতে পারে। সব তথ্য সঠিক দিলে কোনো সমস্যা হয় না।

পুলিশ ভেরিফিকেশন তথ্যবিস্তারিত
কাদের লাগেনতুন পাসপোর্ট আবেদনকারী
নবায়নে লাগে কিনাসাধারণত লাগে না
সময়৭-১৫ দিন
প্রক্রিয়াঠিকানা ও চরিত্র যাচাই
খরচকোনো খরচ নেই
রিপোর্টপাসপোর্ট অফিসে পাঠানো হয়

পাসপোর্ট নবায়ন ও রিনিউ এর পার্থক্য

পাসপোর্ট নবায়ন ও রিনিউ এর পার্থক্য আসলে নেই। দুটো একই জিনিস। নবায়ন বাংলা শব্দ। রিনিউ ইংরেজি শব্দ। দুটোর অর্থ একই। মেয়াদ শেষ পাসপোর্ট আবার চালু করা। কিছু মানুষ নবায়ন বলে। আবার কেউ রিনিউ বলে। সরকারি কাগজে নবায়ন লেখা থাকে। অনলাইনে রিনিউ শব্দ বেশি দেখা যায়। প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ একই। কাগজপত্রও একই লাগে। ফি এবং সময়ও সমান। আপনি যেটা বলুন না কেন কোনো সমস্যা নেই। পাসপোর্ট অফিসে সবাই বুঝবে। কিছু মানুষ মনে করে পার্থক্য আছে। কিন্তু বাস্তবে কোনো পার্থক্য নেই। শুধু ভাষাগত পার্থক্য। মূল কাজ একই রকম।

  • নবায়ন এবং রিনিউ অর্থ একই
  • প্রক্রিয়া, কাগজপত্র ও ফি সব সমান
  • যেকোনো শব্দ ব্যবহার করতে পারেন

পাসপোর্ট ডেলিভারি কত দিনে পাওয়া যায়

পাসপোর্ট ডেলিভারি কত দিনে পাওয়া যায় তার সময়সূচি এবং প্রক্রিয়া

পাসপোর্ট ডেলিভারি কত দিনে পাওয়া যায় এটা জানা দরকার। সাধারণ ডেলিভারিতে ২১ থেকে ৩০ দিন লাগে। এটা সরকারি নিয়ম। জরুরি ডেলিভারি ৭ থেকে ১০ দিনে হয়। এক্সপ্রেস ডেলিভারি ৫ দিনে পাবেন। সুপার এক্সপ্রেস মাত্র ২ দিনে। ঢাকায় ডেলিভারি দ্রুত হয়। জেলা শহরে একটু দেরি হতে পারে। পাসপোর্ট তৈরি হলে এসএমএস আসবে। আপনাকে পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে। সেখান থেকে সংগ্রহ করতে হয়। কিছু অফিসে কুরিয়ার সেবা আছে। আপনার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। কুরিয়ার চার্জ আলাদা দিতে হয়। ডেলিভারির সময় পাসপোর্ট চেক করুন। তথ্য ঠিক আছে কিনা দেখুন। কোনো ভুল থাকলে সাথে সাথে বলুন।

পাসপোর্ট নবায়ন অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার নিয়ম

পাসপোর্ট নবায়ন অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার নিয়ম সহজ। অনলাইন আবেদনের পর অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করুন। ওয়েবসাইটে অ্যাপয়েন্টমেন্ট অপশন আছে। আপনার কাছের পাসপোর্ট অফিস বেছে নিন। উপলব্ধ তারিখ দেখতে পাবেন। সুবিধামত তারিখ এবং সময় ঠিক করুন। সকালের স্লট বেশি ভালো। ভিড় কম থাকে সকালে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট কনফার্ম করার পর প্রিন্ট নিন। অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার সাথে নিয়ে যাবেন। নির্ধারিত সময়ের আগে পৌঁছান। দেরি করলে স্লট বাতিল হতে পারে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট পরিবর্তন করা যায়। ওয়েবসাইটে গিয়ে রিশিডিউল করুন। শুধু একবার পরিবর্তন করা যায়। যদি যেতে না পারেন তবে আগে জানান। নতুন করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।

পাসপোর্ট অফিসে ছবি তোলার নিয়ম

পাসপোর্ট অফিসে ছবি তোলার নিয়ম জানা উচিত। অফিসে গিয়ে ছবি তোলা হয়। আগে থেকে ছবি নিয়ে যাওয়া লাগে না। বায়োমেট্রিক ডেটা দেওয়ার সময় ছবি তোলা হয়। ছবি তোলার জন্য একটা বুথ আছে। সেখানে দাঁড়িয়ে ছবি তুলবেন। মুখ সোজা রাখুন। হাসবেন না ছবি তোলার সময়। চোখের গ্লাস খুলে নিতে হবে। মাথায় কোনো টুপি বা স্কার্ফ থাকবে না। তবে ধর্মীয় কারণে হিজাব পরতে পারেন। হিজাব মুখ ঢাকবে না। কান দেখা যেতে হবে। পোশাক সাধারণ হতে হবে। খুব রঙিন কাপড় পরবেন না। ছবি তোলার আগে চুল আঁচড়ে নিন। মুখ পরিষ্কার করে নিন। ছবি তোলার পর স্ক্রিনে দেখানো হবে। ছবি ঠিক না হলে আবার তুলতে পারবেন।

ছবি তোলার নিয়মবিস্তারিত
কোথায় তোলা হয়পাসপোর্ট অফিসের বায়োমেট্রিক বুথে
পোশাকসাধারণ, হালকা রঙের
চোখের গ্লাসখুলে নিতে হবে
মাথার কাপড়ধর্মীয় কারণ ছাড়া না
মুখভাবগম্ভীর, হাসি নয়
পুনরায় তোলাছবি ঠিক না হলে সম্ভব

পাসপোর্ট করার নিয়ম ২০২৬

পাসপোর্ট করার নিয়ম ২০২৬ সালে খুব সহজ। অনলাইন সিস্টেম অনেক উন্নত হয়েছে। ঘরে বসে আবেদন করা যায়। প্রথমে সরকারি ওয়েবসাইটে যান। নতুন একাউন্ট তৈরি করুন। ইমেইল এবং মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্টার করুন। লগইন করার পর নতুন পাসপোর্ট অপশন বাছুন। ব্যক্তিগত তথ্য সব দিন। বাবা-মায়ের তথ্য লিখুন। ঠিকানা ঠিকঠাক পূরণ করুন। পেশা এবং শিক্ষার তথ্য দিন। জরুরি যোগাযোগের নম্বর দিন। ছবি এবং স্বাক্ষর আপলোড করুন। সব তথ্য রিভিউ করুন। সাবমিট করার পর ফি পরিশোধ করুন। অনলাইন পেমেন্ট সবচেয়ে সহজ। অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করুন। নির্ধারিত দিনে অফিসে যান। বায়োমেট্রিক ডেটা দিয়ে আসুন। পাসপোর্ট পেতে ২১ থেকে ৩০ দিন অপেক্ষা করুন।

পাসপোর্ট রিনিউ করার খরচ কত

পাসপোর্ট রিনিউ করার খরচ কত এটা নির্ভর করে সেবার ধরনের ওপর। সাধারণ রিনিউতে ৩,০০০ টাকা লাগে। এটা সবচেয়ে সস্তা অপশন। মেয়াদ ৫ বছরের জন্য হবে। ১০ বছরের রিনিউতে ৪,০০০ টাকা। জরুরি সেবার খরচ ৫,০০০ টাকা। এক্সপ্রেস রিনিউ ৭,৫০০ টাকা পড়বে। সুপার এক্সপ্রেসের জন্য ১০,০০০ টাকা দিতে হয়। শিশুদের রিনিউ সস্তা হয়। পাঁচ বছরের কম বাচ্চাদের ১,৫০০ টাকা। ই-পাসপোর্ট রিনিউ একটু বেশি। নতুন ই-পাসপোর্টে ৩,৫০০ টাকা থেকে শুরু। অনলাইন পেমেন্টে কোনো চার্জ নেই। ব্যাংকে গেলে চার্জ লাগতে পারে। হারানো পাসপোর্ট রিনিউতে জরিমানা আছে। অতিরিক্ত ৫০০ টাকা দিতে হয়। সব খরচ মিলিয়ে বাজেট করুন।

বাংলাদেশে পাসপোর্ট সেবা ফি তালিকা

বাংলাদেশে পাসপোর্ট সেবা ফি তালিকা জেনে নিন। সরকার নির্ধারিত ফি অনুযায়ী পেমেন্ট করতে হয়। নিয়মিত পাসপোর্ট ৫ বছরের ফি ৩,০০০ টাকা। ১০ বছরের পাসপোর্ট ৪,০০০ টাকা। জরুরি পাসপোর্ট সেবা ৫,০০০ টাকা। এক্সপ্রেস ডেলিভারি ৭,৫০০ টাকা লাগে। সুপার এক্সপ্রেস পাসপোর্ট ১০,০০০ টাকা। শিশুদের পাসপোর্ট ১,৫০০ টাকা। ই-পাসপোর্ট ৫ বছরের ৩,৫০০ টাকা। ১০ বছরের ই-পাসপোর্ট ৫,০০০ টাকা। জরুরি ই-পাসপোর্ট ৬,৫০০ টাকা। এক্সপ্রেস ই-পাসপোর্ট ৯,০০০ টাকা। সুপার এক্সপ্রেস ই-পাসপোর্ট ১২,০০০ টাকা। অফিসিয়াল পাসপোর্ট বিনামূল্যে। ডিপ্লোমেটিক পাসপোর্টও ফ্রি। হারানো পাসপোর্ট রিনিউতে জরিমানা ৫০০ টাকা। পেমেন্ট অনলাইন বা ব্যাংকে করা যায়।

পাসপোর্ট সেবাফি (টাকা)
নিয়মিত ৫ বছর৩,০০০
নিয়মিত ১০ বছর৪,০০০
জরুরি সেবা৫,০০০
এক্সপ্রেস৭,৫০০
সুপার এক্সপ্রেস১০,০০০
শিশু পাসপোর্ট১,৫০০
ই-পাসপোর্ট ৫ বছর৩,৫০০
ই-পাসপোর্ট ১০ বছর৫,০০০
হারানো পাসপোর্ট জরিমানা৫০০

উপসংহার

পাসপোর্ট নবায়ন করার নিয়ম এখন আমরা সবাই জানি। এই গাইড আপনাকে সব ধাপ শিখিয়েছে। অনলাইনে আবেদন করা খুব সহজ। ঘরে বসেই পুরো কাজ করা যায়। সঠিক কাগজপত্র সংগ্রহ করুন। সব তথ্য ঠিকঠাক পূরণ করুন। ফি সময়মতো পরিশোধ করুন। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে অফিসে যান। বায়োমেট্রিক ডেটা দিয়ে আসুন। নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট পাবেন। জরুরি সেবা নিলে দ্রুত পাবেন। তবে খরচ বেশি হবে। পাসপোর্ট নবায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই করুন। দেরি করলে সমস্যা হতে পারে। বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আগে করুন। এই গাইড অনুসরণ করলে কোনো সমস্যা হবে না। পাসপোর্ট নবায়ন এখন আর কঠিন নয়। সবাই সহজেই করতে পারবে।


লেখকের নোট: এই সম্পূর্ণ গাইড পড়ে আপনি এখন পাসপোর্ট নবায়ন করার নিয়ম ভালোভাবে জানেন। যেকোনো প্রশ্ন থাকলে পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করুন। সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন করুন। সময়মতো পাসপোর্ট নবায়ন করুন। বিদেশ ভ্রমণ নিরাপদ এবং সহজ হোক।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)

পাসপোর্ট নবায়ন করতে কতদিন আগে আবেদন করতে হয়?

পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬ মাস আগে আবেদন করতে পারেন। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়ন করা উচিত। দেরি করলে জরুরি সেবা নিতে হতে পারে। আগে আগে করলে ভালো হয়।

পাসপোর্ট নবায়ন করার সময় কি পুরানো পাসপোর্ট জমা দিতে হয়?

না, পুরানো পাসপোর্ট জমা দিতে হয় না। শুধু দেখাতে হয় যাচাইয়ের জন্য। নতুন পাসপোর্ট পাওয়ার পর পুরানোটা বাতিল করা হয়। পুরানো পাসপোর্ট আপনার কাছেই থাকবে।

অনলাইনে পাসপোর্ট নবায়ন করতে কি কি সমস্যা হতে পারে?

অনলাইনে কখনো কখনো ওয়েবসাইট স্লো হয়। পেমেন্ট করার সময় সমস্যা হতে পারে। ছবি আপলোড না হলে আবার চেষ্টা করুন। ইন্টারনেট সংযোগ ভালো রাখুন। সমস্যা হলে হটলাইনে যোগাযোগ করুন।

পাসপোর্ট নবায়নের পর কি নতুন নম্বর পাবো?

না, নবায়নের পর পাসপোর্ট নম্বর একই থাকে। শুধু মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে এমআরপি থেকে ই-পাসপোর্টে পরিবর্তন করলে নতুন নম্বর পাবেন। সাধারণ নবায়নে নম্বর পরিবর্তন হয় না।

শিশুর পাসপোর্ট নবায়নে কি বাবা-মা দুজনকেই যেতে হয়?

না, একজন অভিভাবক নিয়ে যেতে পারেন। তবে দুজনের সম্মতিপত্র লাগবে। বাবা বা মা যেকোনো একজন উপস্থিত থাকলেই চলবে। শিশুকে অবশ্যই নিয়ে যেতে হবে।

পাসপোর্ট নবায়নের সময় কি নাম পরিবর্তন করা যায়?

হ্যাঁ, নাম পরিবর্তন করা যায়। তবে গেজেট কপি লাগবে। বিয়ের পর নাম পরিবর্তন হলে সার্টিফিকেট দিতে হবে। সঠিক কাগজপত্র জমা দিলে নাম পরিবর্তন হবে। আবেদন ফর্মে নতুন নাম লিখুন।

পাসপোর্ট ডেলিভারি হোম ডেলিভারি পাওয়া যায় কিনা?

কিছু পাসপোর্ট অফিসে হোম ডেলিভারি আছে। তবে সব জায়গায় নয়। কুরিয়ার সেবার জন্য আলাদা চার্জ দিতে হয়। অনলাইনে আবেদনের সময় অপশন দেখুন। হোম ডেলিভারি না থাকলে অফিস থেকে নিতে হবে।

পাসপোর্ট নবায়নের ফি কি ফেরত পাওয়া যায়?

না, একবার ফি পরিশোধ করলে ফেরত পাওয়া যায় না। আবেদন বাতিল করলেও টাকা ফেরত নেই। তাই আবেদনের আগে ভালো করে চিন্তা করুন। সব তথ্য ঠিক আছে কিনা নিশ্চিত হন।

পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে কি জরিমানা দিতে হয়?

মেয়াদ শেষ পাসপোর্ট নবায়নে জরিমানা নেই। শুধু সাধারণ ফি দিতে হয়। তবে হারানো পাসপোর্টে জরিমানা আছে। সময়মতো নবায়ন করলে কোনো অতিরিক্ত খরচ নেই।

পাসপোর্ট নবায়নের স্ট্যাটাস কিভাবে জানবো?

অনলাইনে স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন। সরকারি ওয়েবসাইটে আবেদন নম্বর দিন। স্ট্যাটাস দেখা যাবে সাথে সাথে। এসএমএসেও আপডেট পাবেন। নিয়মিত চেক করুন আপনার আবেদনের অবস্থা।

🔥 পোস্টটি শেয়ার করুনঃ 🌍

Scroll to Top