পাসপোর্ট আমাদের দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য খুবই জরুরি একটি কাগজ। কিন্তু অনেক সময় পাসপোর্টে ভুল তথ্য থাকে। নাম ভুল হতে পারে। জন্মতারিখ ভুল হতে পারে। এই ভুল ঠিক করা খুবই দরকার। আজকের এই লেখায় আমি আপনাদের জানাব পাসপোর্টে নাম ও তথ্য সংশোধনের নিয়ম। সব কিছু খুব সহজ ভাষায় বলব। আপনি নিজেই সব বুঝতে পারবেন।
পাসপোর্টে ভুল থাকলে অনেক সমস্যা হয়। বিদেশ যেতে বাধা পান। ভিসা পেতে সমস্যা হয়। তাই সঠিক নিয়মে ভুল ঠিক করা জরুরি। এই লেখায় আমি ধাপে ধাপে সব বলব। আপনি খুব সহজেই কাজ করতে পারবেন।
পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের আবেদন প্রক্রিয়া

পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের আবেদন প্রক্রিয়া খুবই সহজ। প্রথমে আপনাকে অনলাইনে যেতে হবে। www.dip.gov.bd এই ওয়েবসাইটে যান। সেখানে “রি-ইস্যু” অপশন পাবেন। সেখানে ক্লিক করুন। তারপর আপনার পাসপোর্ট নম্বর দিন।
এরপর একটি নতুন পেজ খুলবে। সেখানে আপনার পুরনো তথ্য দেখাবে। আপনি যা সংশোধন করতে চান তা বদলান। নতুন তথ্য দিন। সব তথ্য ভালো করে চেক করুন। কোনো ভুল থাকলে আবার সমস্যা হবে।
তথ্য দেওয়ার পর কাগজ আপলোড করুন। জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি দিন। জন্ম সনদের কপি দিন। ছবি দিন। সব কিছু ঠিক মতো দিলে সাবমিট করুন। আপনি একটি আবেদন নম্বর পাবেন। এই নম্বর সংরক্ষণ করুন।
- অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ করুন
- রি-ইস্যু অপশন বেছে নিন
- পুরনো পাসপোর্ট তথ্য দিন
- সংশোধিত তথ্য লিখুন
- প্রয়োজনীয় কাগজ আপলোড করুন
পাসপোর্টে নাম সংশোধন করার নিয়ম ২০২৬
পাসপোর্টে নাম সংশোধন করা এখন আগের চেয়ে সহজ হয়েছে। আপনি অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। প্রথমে পাসপোর্ট অফিসের ওয়েবসাইটে যেতে হবে। সেখানে একটি ফরম পাবেন। সেই ফরম পূরণ করতে হবে। তারপর প্রয়োজনীয় কাগজ জমা দিতে হবে।
নাম সংশোধনের জন্য কিছু কাগজ লাগে। জাতীয় পরিচয়পত্র লাগবে। জন্ম নিবন্ধন সনদ লাগবে। শিক্ষা সার্টিফিকেট লাগতে পারে। এই সব কাগজে যে নাম আছে সেটাই সঠিক নাম। পাসপোর্টে সেই নামই দিতে হবে।
আবেদন করার পর কিছু দিন অপেক্ষা করতে হয়। অফিসের লোক আপনার কাগজ দেখবেন। সব ঠিক থাকলে নাম সংশোধন করে দেবেন। আপনি নতুন পাসপোর্ট পাবেন। অথবা পুরনো পাসপোর্টে সংশোধনী দেবেন।
পাসপোর্টে বানান ভুল সংশোধন কিভাবে করবেন
পাসপোর্টে বানান ভুল খুব সাধারণ একটি সমস্যা। অনেকের নামের বানান ভুল থাকে। যেমন মোহাম্মদ লেখার জায়গায় মোহাম্মাদ লেখা হয়ে যায়। এই ভুল ঠিক করা খুব জরুরি। নইলে ভিসা পেতে সমস্যা হবে।
বানান ভুল ঠিক করতে প্রথমে প্রমাণ লাগবে। আপনার জন্ম সনদ দেখান। শিক্ষাগত সনদ দেখান। জাতীয় পরিচয়পত্র দেখান। এই সব কাগজে সঠিক বানান আছে। এগুলো দিয়ে প্রমাণ করুন যে পাসপোর্টে ভুল আছে।
এরপর অনলাইনে আবেদন করুন। রি-ইস্যু অপশন বেছে নিন। সঠিক বানান লিখুন। কাগজ আপলোড করুন। ফি দিন। আবেদন জমা দিন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আপনার কাজ হয়ে যাবে।
পাসপোর্টে নাম পরিবর্তনের আবেদন ফরম
পাসপোর্টে নাম পরিবর্তনের আবেদন ফরম পাওয়া খুব সহজ। আপনি অনলাইনে পাবেন। পাসপোর্ট অফিসের ওয়েবসাইটে গেলেই পাবেন। সেখানে “ডাউনলোড ফরম” অপশন আছে। সেখান থেকে ফরম নামিয়ে নিন।
ফরমে অনেক তথ্য চাওয়া হয়। আপনার পুরনো নাম লিখতে হবে। নতুন নাম লিখতে হবে। নাম পরিবর্তনের কারণ লিখতে হবে। পিতা মাতার নাম লিখতে হবে। ঠিকানা লিখতে হবে। সব তথ্য সত্য এবং সঠিক দিতে হবে।
ফরম পূরণ করার পর স্বাক্ষর করুন। তারিখ দিন। তারপর সব কাগজ সাথে জুড়ে দিন। আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র জুড়ুন। জন্ম সনদ জুড়ুন। ছবি জুড়ুন। সব একসাথে জমা দিন।
- পূর্ণ নাম ইংরেজি ও বাংলায় লিখুন
- পিতা মাতার নাম দিন
- বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা লিখুন
- যোগাযোগের নম্বর দিন
- স্বাক্ষর ও তারিখ দিন
পাসপোর্ট তথ্য পরিবর্তনের আবেদন অনলাইনে
পাসপোর্ট তথ্য পরিবর্তনের আবেদন অনলাইনে করা এখন খুব সহজ। আপনাকে আর অফিসে যেতে হবে না। ঘরে বসে সব কাজ করতে পারবেন। শুধু একটি কম্পিউটার বা মোবাইল লাগবে। ইন্টারনেট লাগবে।
প্রথমে পাসপোর্ট অফিসের ওয়েবসাইটে যান। রেজিস্ট্রেশন করুন। একটি অ্যাকাউন্ট খুলুন। আপনার ইমেইল দিয়ে লগইন করুন। তারপর “তথ্য সংশোধন” অপশনে যান। সেখানে সব ধাপ দেখানো আছে।
আপনার পুরনো পাসপোর্ট নম্বর দিন। যে তথ্য বদলাতে চান তা নির্বাচন করুন। নতুন তথ্য দিন। প্রয়োজনীয় কাগজ স্কান করে আপলোড করুন। ফি অনলাইনে পেমেন্ট করুন। আবেদন সাবমিট করুন। কাজ শেষ।
পাসপোর্ট সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
পাসপোর্ট সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক মতো জমা দিতে হয়। কাগজ ছাড়া আবেদন গ্রহণ হবে না। তাই কোন কাগজ লাগবে তা জেনে নিন। আগে থেকে সব কাগজ তৈরি রাখুন।
প্রথমত জাতীয় পরিচয়পত্র লাগবে। এটির ফটোকপি করুন। জন্ম নিবন্ধন সনদ লাগবে। এটিও কপি করুন। পুরনো পাসপোর্টের কপি লাগবে। এসএসসি সার্টিফিকেট লাগতে পারে। সব কাগজ রঙিন স্কান করুন।
এছাড়া সাম্প্রতিক ছবি লাগবে। ছবির সাইজ নির্দিষ্ট আছে। ৩৫ মিমি বাই ৪৫ মিমি হতে হবে। সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে হতে হবে। স্পষ্ট ছবি দিতে হবে। সব কাগজ পিডিএফ ফরম্যাটে রাখুন।
| কাগজের নাম | কেন লাগবে | কপি সংখ্যা |
| জাতীয় পরিচয়পত্র | পরিচয় যাচাই | ২ কপি |
| জন্ম নিবন্ধন | জন্মতারিখ প্রমাণ | ২ কপি |
| শিক্ষা সনদ | নাম যাচাই | ১ কপি |
| পুরনো পাসপোর্ট | রেকর্ড দেখা | ১ কপি |
- সব কাগজ স্পষ্ট স্কান করুন
- ফাইল সাইজ ৩০০ কেবির মধ্যে রাখুন
- পিডিএফ বা জেপিজি ফরম্যাট ব্যবহার করুন
- সব কাগজের নাম একই রাখুন
- মূল কাগজ সাথে রাখুন
পাসপোর্টে নাম সংশোধনে কত টাকা লাগে
পাসপোর্টে নাম সংশোধনে কত টাকা লাগে এটা ২০২৬ সালে অনেকে জানতে চান। খরচ নির্ভর করে কি ধরনের সংশোধন করছেন তার উপর। ডিজিটাল সিস্টেম চালু হওয়ায় প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ এবং দ্রুত। অনলাইনে আবেদন করা যায় এবং পেমেন্টও ডিজিটাল মাধ্যমে করা যায়।
শুধু বানান ভুল ঠিক করতে চাইলে খরচ তুলনামূলক কম। প্রায় ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকা লাগতে পারে। এই ধরনের ছোটখাটো সংশোধন ১৫ দিনের মধ্যে হয়ে যায়। কিন্তু নাম সম্পূর্ণ বদলাতে চাইলে বেশি টাকা লাগবে এবং রি-ইস্যু করতে হলে আরো বেশি খরচ হবে। সেক্ষেত্রে ৩০০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
সরকারি ফি ছাড়াও অন্যান্য খরচ আছে। ডকুমেন্ট স্ক্যান ও ফটোকপিতে ২০০-৩০০ টাকা লাগে। পাসপোর্ট সাইজের ছবি তুলতে ১৫০-২৫০ টাকা। অনলাইন পেমেন্ট চার্জ সাধারণত ৫০-১০০ টাকা। কুরিয়ার সেবা নিলে আরো ২০০-২৫০ টাকা যোগ হবে। সব মিলিয়ে ছোট সংশোধনের জন্য ২০০০-৩০০০ টাকা এবং বড় পরিবর্তনের জন্য ৪০০০-৬০০০ টাকা বাজেট রাখুন।
পাসপোর্ট সংশোধনে কত সময় লাগে
পাসপোর্ট সংশোধনে কত সময় লাগে এটা নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের উপর। সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ দিন সময় লাগে। কিন্তু কখনো কখনো আরো বেশি সময় লাগতে পারে। আবেদনের চাপ বেশি থাকলে দেরি হয়।
যদি আপনি এক্সপ্রেস সার্ভিস নেন তাহলে কম সময় লাগবে। ৭ থেকে ১০ দিনেই কাজ হয়ে যেতে পারে। তবে এতে খরচ বেশি হবে। আপনি যদি জরুরি ভিত্তিতে চান তাহলে এই সেবা নিতে পারেন।
সময় কম লাগাতে চাইলে কিছু কাজ করতে পারেন। সব কাগজ ঠিক মতো দিন। কোনো ভুল থাকলে সংশোধন করুন। নিয়মিত আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করুন। অফিস থেকে কল আসলে দ্রুত সাড়া দিন।
পাসপোর্ট তথ্য পরিবর্তনের কারণসমূহ
পাসপোর্ট তথ্য পরিবর্তনের কারণসমূহ অনেক রকম হতে পারে। সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো নাম ভুল। অনেকের পাসপোর্টে নামের বানান ভুল থাকে। এটা ঠিক করতে হয় ভিসার জন্য।
আরেকটি কারণ হলো জন্মতারিখ ভুল। জন্ম সনদে এক তারিখ আর পাসপোর্টে অন্য তারিখ। এই অমিল ঠিক করা জরুরি। নইলে বয়স প্রমাণে সমস্যা হবে। সরকারি কাজেও বাধা পাবেন।
অন্যান্য কারণের মধ্যে আছে ঠিকানা পরিবর্তন। পিতা মাতার নাম ভুল। ছবি পরিবর্তন। রক্তের গ্রুপ যোগ করা। এই সব কারণে মানুষ পাসপোর্ট সংশোধন করে।
- বানান ভুল সংশোধন
- জন্মতারিখ ঠিক করা
- পিতা মাতার নাম পরিবর্তন
- ঠিকানা আপডেট করা
- ছবি পরিবর্তন করা
পাসপোর্ট নাম সংশোধন আবেদন ফি
পাসপোর্ট নাম সংশোধন আবেদন ফি সরকার নির্ধারণ করে দেয়। ২০২৬ সালে ফি কাঠামোতে কিছু পরিবর্তন এসেছে। ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের ফলে প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত হয়েছে। তাই আবেদনের আগে পাসপোর্ট অফিসের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ ফি এর তালিকা যাচাই করে নিন।
সাধারণ ডেলিভারির জন্য ফি তুলনামূলক কম। ছোট সংশোধনের জন্য প্রায় ১২০০ থেকে ২০০০ টাকা এবং বড় পরিবর্তনের জন্য ৩০০০ থেকে ৪৫০০ টাকা হতে পারে। এক্সপ্রেস ডেলিভারির জন্য ফি বেশি, যা ৫০০০ থেকে ৭৫০০ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে। জরুরি প্রয়োজন হলে এক্সপ্রেস সেবা নিতে পারেন, নইলে সাধারণ ডেলিভারিই সাশ্রয়ী।
ফি প্রদানের পদ্ধতি এখন সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও নিরাপদ। আপনি অনলাইন ব্যাংকিং, বিকাশ, নগদ, রকেট বা অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করতে পারবেন। ক্রেডিট কার্ড বা ডেবিট কার্ড দিয়েও পেমেন্ট করা যায়। পেমেন্ট সম্পন্ন হলে অটোমেটিক ডিজিটাল রসিদ পাবেন, যা অবশ্যই সংরক্ষণ করুন এবং প্রিন্ট কপি রাখুন। পরবর্তী যেকোনো প্রয়োজনে এই রসিদ কাজে লাগবে।
পাসপোর্টে তথ্য পরিবর্তনের কারণ কী
পাসপোর্টে তথ্য পরিবর্তনের কারণ কী এটা বোঝা জরুরি। প্রথম কারণ হলো ভুল তথ্য। আবেদনের সময় ভুল করে ভুল তথ্য দেওয়া হয়। পরে সেটা সংশোধন করতে হয়।
দ্বিতীয় কারণ হলো ডকুমেন্ট আপডেট। আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রে তথ্য পরিবর্তন হয়েছে। এখন পাসপোর্টেও সেই পরিবর্তন আনতে হবে। সব কাগজে তথ্য এক রাখা ভালো।
তৃতীয় কারণ হলো ব্যক্তিগত পরিবর্তন। বিয়ের পর অনেকে নাম বদলান। তখন পাসপোর্টেও নাম বদলাতে হয়। আইনি কারণেও নাম পরিবর্তন করা যায়। তখন সব সরকারি কাগজ আপডেট করতে হয়।
পাসপোর্ট সংশোধনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
পাসপোর্ট সংশোধনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট হলো www.dip.gov.bd। এই ওয়েবসাইটে সব তথ্য পাবেন। কিভাবে আবেদন করতে হয় তা শিখতে পারবেন। প্রয়োজনীয় ফরম ডাউনলোড করতে পারবেন।
ওয়েবসাইটে গেলে প্রথমে হোম পেজ দেখবেন। সেখানে অনেক অপশন আছে। “নতুন আবেদন” আছে। “রি-ইস্যু” আছে। “তথ্য সংশোধন” আছে। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নিন।
ওয়েবসাইটে হেল্প সেকশন আছে। সেখানে প্রশ্নের উত্তর আছে। ভিডিও টিউটোরিয়াল আছে। যোগাযোগের নম্বর আছে। কোনো সমস্যা হলে সাহায্য চাইতে পারবেন। ওয়েবসাইট ব্যবহার করা খুবই সহজ।
| বিভাগ | লিংক | কাজ |
| নতুন আবেদন | www.dip.gov.bd/apply | প্রথম পাসপোর্ট |
| রি-ইস্যু | www.dip.gov.bd/reissue | পুরনো পাসপোর্ট নবায়ন |
| তথ্য সংশোধন | www.dip.gov.bd/correction | ভুল ঠিক করা |
| স্ট্যাটাস চেক | www.dip.gov.bd/status | আবেদন দেখা |
অনলাইনে পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের পদ্ধতি
অনলাইনে পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের পদ্ধতি খুব সোজা। আপনি ঘরে বসে সব কাজ করতে পারবেন। প্রথমে ইন্টারনেট সংযোগ চালু করুন। তারপর পাসপোর্ট অফিসের ওয়েবসাইটে যান।
ওয়েবসাইটে লগইন করুন। আপনার ইমেইল এবং পাসওয়ার্ড দিন। লগইন করার পর ড্যাশবোর্ড দেখবেন। সেখানে “তথ্য সংশোধন” বাটনে ক্লিক করুন। একটি নতুন পেজ খুলবে।
সেই পেজে আপনার পাসপোর্ট নম্বর দিন। পুরনো তথ্য দেখাবে। যে তথ্য বদলাতে চান তা সিলেক্ট করুন। নতুন তথ্য টাইপ করুন। কাগজপত্র আপলোড করুন। ফি পেমেন্ট করুন। সাবমিট করুন। কাজ শেষ।
- ওয়েবসাইটে রেজিস্টার করুন
- লগইন করুন
- সংশোধন অপশন বেছে নিন
- তথ্য পরিবর্তন করুন
- ডকুমেন্ট আপলোড করুন
পাসপোর্টে জন্মতারিখ সংশোধনের নিয়ম
পাসপোর্টে জন্মতারিখ সংশোধনের নিয়ম একটু জটিল। কারণ জন্মতারিখ খুব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এটা ভুল হলে অনেক সমস্যা হয়। বয়স প্রমাণে সমস্যা হয়। তাই এটা সংশোধন করা জরুরি।
প্রথমে আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ দেখুন। সেখানে সঠিক জন্মতারিখ আছে কিনা চেক করুন। যদি সনদেও ভুল থাকে তাহলে আগে সনদ সংশোধন করুন। তারপর পাসপোর্ট সংশোধন করুন।
জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য বিশেষ প্রমাণ লাগে। জন্ম সনদ লাগবে। এসএসসি সার্টিফিকেট লাগবে। হাসপাতালের জন্ম সনদ লাগতে পারে। এই সব কাগজ দিয়ে প্রমাণ করতে হবে। তারপর অনলাইনে আবেদন করুন।
পাসপোর্টে পিতামাতার নাম পরিবর্তনের নিয়ম
পাসপোর্টে পিতামাতার নাম পরিবর্তনের নিয়ম জানা দরকার। অনেকের পাসপোর্টে পিতা মাতার নাম ভুল থাকে। বানান ভুল থাকে। এটা ঠিক করা খুব জরুরি। নইলে পরিবার প্রমাণে সমস্যা হবে।
প্রথমে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখুন। সেখানে পিতা মাতার সঠিক নাম আছে কিনা চেক করুন। জন্ম নিবন্ধন সনদও দেখুন। এই দুই কাগজে নাম মিলতে হবে। তারপর পাসপোর্ট সংশোধন করুন।
আবেদনের সময় পিতা মাতার কাগজ দিন। তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দিন। জন্ম সনদ দিন। বিয়ের সনদ দিতে পারেন। এই সব কাগজ দিয়ে সম্পর্ক প্রমাণ করুন। তারপর অনলাইনে সংশোধনের আবেদন করুন।
পাসপোর্টে ঠিকানা পরিবর্তনের নিয়ম
পাসপোর্টে ঠিকানা পরিবর্তনের নিয়ম খুব সহজ। মানুষ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যায়। ঠিকানা বদলে যায়। তাই পাসপোর্টেও ঠিকানা আপডেট করা দরকার। এটা করা খুব সোজা।
ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য প্রমাণ লাগে। ইউটিলিটি বিল দিতে পারেন। বাড়ি ভাড়ার চুক্তি দিতে পারেন। ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিতে পারেন। যে কাগজে নতুন ঠিকানা আছে সেটা দিন।
অনলাইনে আবেদন করার সময় ঠিকানা সেকশনে যান। পুরনো ঠিকানা মুছে নতুন ঠিকানা লিখুন। গ্রাম বা শহরের নাম দিন। থানার নাম দিন। জেলার নাম দিন। পোস্ট কোড দিন। তারপর প্রমাণপত্র আপলোড করুন।
- বর্তমান ঠিকানা প্রমাণ দিন
- স্থায়ী ঠিকানা ঠিক রাখুন
- পোস্ট কোড সঠিক দিন
- থানা ও জেলা ভুল করবেন না
- ইউটিলিটি বিল আপলোড করুন
পাসপোর্ট রি-ইস্যু করার সময় তথ্য সংশোধন
পাসপোর্ট রি-ইস্যু করার সময় তথ্য সংশোধন করা যায়। এটা একটা ভালো সুযোগ। পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে রি-ইস্যু করতে হয়। সেই সময় সব ভুল ঠিক করে নিতে পারেন।
রি-ইস্যুর আবেদনে সংশোধনের অপশন আছে। আপনি নাম বদলাতে পারবেন। ঠিকানা বদলাতে পারবেন। ছবি নতুন দিতে পারবেন। সব তথ্য আপডেট করে নতুন পাসপোর্ট পাবেন।
এই সময় সব কাগজ নতুন করে দিতে হয়। জাতীয় পরিচয়পত্রের নতুন কপি দিন। জন্ম সনদের কপি দিন। নতুন ছবি দিন। সব কাগজ সঠিক হলে দ্রুত পাসপোর্ট পাবেন। একসাথে সব কাজ হবে।
পাসপোর্ট আবেদন ফরম পূরণের নিয়ম
পাসপোর্ট আবেদন ফরম পূরণের নিয়ম জানা জরুরি। ফরম ভুল পূরণ করলে আবেদন বাতিল হবে। তাই সাবধানে ফরম পূরণ করুন। প্রতিটি ঘর ভালো করে পড়ুন। তারপর উত্তর লিখুন।
ফরমে ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হয়। নাম লিখতে হয়। জন্মতারিখ লিখতে হয়। পিতা মাতার নাম লিখতে হয়। ঠিকানা লিখতে হয়। সব তথ্য ইংরেজিতে লিখুন। বড় হাতের অক্ষরে লিখুন।
কোনো ঘর ফাঁকা রাখবেন না। যদি কোনো তথ্য প্রযোজ্য না হয় তাহলে “N/A” লিখুন। তারিখ সঠিক ফরম্যাটে লিখুন। দিন মাস বছর ক্রমে লিখুন। ফরম পূরণের পর ভালো করে চেক করুন।
| ঘর নম্বর | তথ্য | উদাহরণ |
| ১ | পূর্ণ নাম | MD RAHMAN |
| ২ | জন্মতারিখ | 15-01-1990 |
| ৩ | পিতার নাম | MD ALI |
| ৪ | মাতার নাম | MST FATEMA |
পাসপোর্ট অফিসে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া
পাসপোর্ট অফিসে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সরাসরি করা যায়। আপনি যদি অনলাইনে করতে না পারেন তাহলে অফিসে যান। সেখানে সরাসরি আবেদন করতে পারবেন। কর্মকর্তারা সাহায্য করবেন।
অফিসে যাওয়ার আগে সব কাগজ নিয়ে যান। জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল এবং কপি নিন। জন্ম সনদের মূল এবং কপি নিন। পুরনো পাসপোর্ট নিন। ছবি নিন। সব কাগজ একটা ফাইলে গুছিয়ে রাখুন।
অফিসে গিয়ে হেল্প ডেস্কে যান। আপনার সমস্যা বলুন। তারা একটা ফরম দেবেন। ফরম পূরণ করুন। কাগজ জমা দিন। ফি দিন। একটা রসিদ পাবেন। সেই রসিদ ভালো করে রাখুন।
পাসপোর্টে নাম সংশোধন করতে কত দিন লাগে
পাসপোর্টে নাম সংশোধন করতে কত দিন লাগে এটা নির্ভর করে বিভিন্ন বিষয়ের উপর। সাধারণ প্রক্রিয়ায় ২০ থেকে ৩০ দিন লাগে। কিন্তু ব্যস্ত সময়ে আরো বেশি লাগতে পারে।
আপনি যদি এক্সপ্রেস সেবা নেন তাহলে ৭ থেকে ১০ দিনে কাজ হবে। আরো জরুরি হলে ৩ থেকে ৫ দিনেও করা যায়। তবে এতে খরচ অনেক বেশি হবে। আপনার সময় এবং বাজেট দেখে সিদ্ধান্ত নিন।
সময় কম লাগানোর জন্য কিছু টিপস আছে। সব কাগজ সঠিক দিন। কোনো ভুল রাখবেন না। আবেদনের পর নিয়মিত স্ট্যাটাস চেক করুন। অফিস থেকে কল এলে তাড়াতাড়ি রিসপন্স করুন।
- সাধারণ সেবা: ২০-৩০ দিন
- এক্সপ্রেস সেবা: ৭-১০ দিন
- জরুরি সেবা: ৩-৫ দিন
- কাগজ যাচাই: ৫-৭ দিন
- ডেলিভারি: ২-৩ দিন
পাসপোর্টে তথ্য পরিবর্তনের জন্য কি কি লাগে
পাসপোর্টে তথ্য পরিবর্তনের জন্য কি কি লাগে তা জেনে রাখুন। সঠিক কাগজ না থাকলে আবেদন হবে না। তাই আগে থেকে সব প্রস্তুত করুন। একটা চেকলিস্ট বানান। তারপর কাজ শুরু করুন।
সবচেয়ে জরুরি হলো পরিচয়পত্র। জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদ লাগবে। এই দুটোর একটা অবশ্যই লাগবে। উভয়ের কপি থাকলে আরো ভালো। স্পষ্ট কপি করবেন।
এছাড়া শিক্ষাগত সনদ লাগবে। এসএসসি বা সমমানের সার্টিফিকেট দিন। পুরনো পাসপোর্ট লাগবে। সাম্প্রতিক ছবি লাগবে। সাইজ মাপমত হতে হবে। সব কাগজ একসাথে রাখুন।
ই-পাসপোর্টে নাম সংশোধনের নিয়ম
ই-পাসপোর্টে নাম সংশোধনের নিয়ম একটু আলাদা। ই-পাসপোর্ট হলো ডিজিটাল পাসপোর্ট। এতে চিপ থাকে। সব তথ্য চিপে জমা থাকে। তাই সংশোধন করা একটু জটিল।
ই-পাসপোর্টের তথ্য সংশোধন করতে অনলাইনেই আবেদন করতে হয়। অফিসে গিয়ে সরাসরি করা যায় না। আপনাকে ওয়েবসাইটে লগইন করতে হবে। রি-ইস্যু অপশন বেছে নিতে হবে।
তথ্য সংশোধনের পর নতুন ই-পাসপোর্ট দেওয়া হয়। পুরনো পাসপোর্ট বাতিল হয়ে যায়। নতুন পাসপোর্টে চিপ থাকে। সব তথ্য আপডেট থাকে। এতে বায়োমেট্রিক তথ্যও থাকে।
এমআরপি পাসপোর্টে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া
এমআরপি পাসপোর্টে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সহজ। এমআরপি মানে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট। এটা পুরনো ধরনের পাসপোর্ট। এখনো অনেকের কাছে এমআরপি পাসপোর্ট আছে।
এমআরপি পাসপোর্ট সংশোধন করতে রি-ইস্যু করতে হয়। আপনি ই-পাসপোর্টে আপগ্রেড করতে পারবেন। অথবা এমআরপিতেই থাকতে পারবেন। দুটো অপশনই আছে।
রি-ইস্যুর সময় সব তথ্য নতুন করে দিতে হয়। আপডেট করা তথ্য দিন। সঠিক কাগজ জমা দিন। ফি দিন। নতুন পাসপোর্ট পাবেন। এতে সব ভুল ঠিক হবে।
| পাসপোর্ট ধরন | বৈশিষ্ট্য | মেয়াদ |
| এমআরপি | মেশিন রিডেবল | ৫/১০ বছর |
| ই-পাসপোর্ট | চিপ সহ ডিজিটাল | ৫/১০ বছর |
| হস্তলিখিত | পুরনো ধরন | বাতিল |
পাসপোর্ট তথ্য যাচাই করার নিয়ম
পাসপোর্ট তথ্য যাচাই করার নিয়ম জানা দরকার। আবেদনের পর তথ্য যাচাই হয়। পাসপোর্ট অফিস আপনার কাগজ চেক করে। সব সঠিক আছে কিনা দেখে। তারপর অনুমোদন দেয়।
তথ্য যাচাই করার সময় অফিস থেকে কল আসতে পারে। আপনাকে অফিসে ডাকতে পারে। অতিরিক্ত কাগজ চাইতে পারে। তাই ফোন সবসময় চালু রাখুন। মেসেজ চেক করুন।
আপনি নিজেও তথ্য যাচাই করতে পারেন। পাসপোর্ট পাওয়ার পর ভালো করে দেখুন। প্রতিটি তথ্য মিলিয়ে দেখুন। কোনো ভুল থাকলে তাড়াতাড়ি জানান। দেরি করলে সমস্যা হবে।
- নাম সঠিক আছে কিনা চেক করুন
- জন্মতারিখ মিলিয়ে দেখুন
- পিতা মাতার নাম দেখুন
- ঠিকানা চেক করুন
- ছবি ঠিক আছে কিনা দেখুন
পাসপোর্ট আবেদন ভুল হলে করণীয়
পাসপোর্ট আবেদন ভুল হলে করণীয় কী তা জানুন। অনেক সময় আবেদনে ভুল হয়। টাইপিং ভুল হয়। তথ্য ভুল দেওয়া হয়। এই ভুল দ্রুত ঠিক করা দরকার।
আবেদন সাবমিট করার আগে ভুল দেখলে ঠিক করুন। এডিট অপশন আছে। সেখানে ক্লিক করে ঠিক করুন। কিন্তু সাবমিট করার পর এডিট করা যায় না। তখন নতুন আবেদন করতে হয়।
যদি পেমেন্ট করার পরও ভুল দেখেন তাহলে অফিসে কল করুন। হেল্পলাইনে যোগাযোগ করুন। তারা বলবে কী করতে হবে। কখনো কখনো রিফান্ড পাওয়া যায়। আবার নতুন করে আবেদন করতে হয়।
পাসপোর্টে তথ্য সংশোধনের আপডেট ২০২৬
পাসপোর্টে তথ্য সংশোধনের আপডেট ২০২৬ সালে আরও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। সরকার নতুন ডিজিটাল নীতিমালা চালু করেছে যা প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দ্রুততর করেছে। এখন সম্পূর্ণ পেপারলেস পদ্ধতিতে আবেদন করা যায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ডকুমেন্ট যাচাই দ্রুত হচ্ছে।
২০২৬ সালে অনলাইন সিস্টেম সম্পূর্ণ আধুনিকীকরণ হয়েছে। ওয়েবসাইট এখন আরও দ্রুত ও নিরাপদ। মোবাইল অ্যাপ আরও ফিচার সমৃদ্ধ হয়েছে এবং বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় উপলব্ধ। এখন মোবাইল থেকে আবেদন জমা, পেমেন্ট, ট্র্যাকিং এবং ডিজিটাল রসিদ ডাউনলোড সবকিছুই করা যায়। বায়োমেট্রিক আপডেট করার সুবিধাও যোগ হয়েছে।
নতুন নিয়মে সংশোধনের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সাধারণ সংশোধন এখন ১০-১৫ দিনে এবং জরুরি সেবায় ৩-৫ দিনে সম্পন্ন হয়। খরচও আগের তুলনায় যুক্তিসঙ্গত রাখা হয়েছে। ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহার করলে ৫০-১০০ টাকা ছাড় পাওয়া যায়। এক্সপ্রেস সেবার খরচও সাশ্রয়ী হয়েছে। সার্বিক দক্ষতা বৃদ্ধি ও জনগণের সুবিধার জন্যই এই পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে।
পাসপোর্টে নাম ও তথ্য মিলানোর উপায়
পাসপোর্টে নাম ও তথ্য মিলানোর উপায় জানা জরুরি। সব সরকারি কাগজে তথ্য এক হওয়া দরকার। জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, জন্ম সনদ সব জায়গায় একই নাম থাকা উচিত।
প্রথমে সব কাগজ একসাথে রাখুন। তারপর প্রতিটি কাগজ দেখুন। কোথায় কী নাম আছে লিখে রাখুন। যে কাগজে ভুল আছে সেটা চিহ্নিত করুন। একটা তালিকা বানান।
তারপর ঠিক করার কাজ শুরু করুন। যে কাগজ সবচেয়ে পুরনো এবং সঠিক সেটার তথ্য দিয়ে অন্যগুলো ঠিক করুন। সাধারণত জন্ম সনদ সবচেয়ে সঠিক। সেই অনুযায়ী বাকি কাগজ ঠিক করুন।
| কাগজ | অগ্রাধিকার | কেন |
| জন্ম সনদ | প্রথম | সবচেয়ে পুরনো |
| এসএসসি সার্টিফিকেট | দ্বিতীয় | শিক্ষা প্রমাণ |
| জাতীয় পরিচয়পত্র | তৃতীয় | সরকারি পরিচয় |
| পাসপোর্ট | চতুর্থ | আন্তর্জাতিক পরিচয় |
পাসপোর্টে তথ্য পরিবর্তনে কোন ফরম লাগে
পাসপোর্টে তথ্য পরিবর্তনে কোন ফরম লাগে তা জানুন। বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন ফরম আছে। সাধারণ সংশোধনের জন্য একটা ফরম। রি-ইস্যুর জন্য আরেকটা ফরম।
সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় “রি-ইস্যু আবেদন ফরম”। এই ফরমে সব ধরনের পরিবর্তন করা যায়। নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ সব। আপনি ওয়েবসাইট থেকে এই ফরম পাবেন।
ফরম ডাউনলোড করার পর প্রিন্ট করুন। হাতে লিখে পূরণ করুন। অথবা কম্পিউটারে টাইপ করে পূরণ করুন। স্পষ্ট অক্ষরে লিখুন। কোনো কাটাকাটি করবেন না। ভুল হলে নতুন ফরম নিন।
পাসপোর্টে বানান ভুল ঠিক করার নিয়ম

পাসপোর্টে বানান ভুল ঠিক করার নিয়ম খুব সোজা। বানান ভুল সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা। অনেকের নামে ইংরেজি বানান ভুল থাকে। এই ভুল ঠিক না করলে বিদেশ যেতে বাধা হয়।
বানান ঠিক করতে প্রথমে সঠিক বানান নির্ধারণ করুন। জাতীয় পরিচয়পত্রে যে বানান আছে সেটাই সঠিক। জন্ম সনদে যা আছে সেটা দেখুন। শিক্ষা সনদে যা আছে তাও দেখুন।
তারপর অনলাইনে আবেদন করুন। পুরনো বানান এবং নতুন বানান স্পষ্ট করে লিখুন। প্রমাণ হিসেবে কাগজ আপলোড করুন। আবেদন সাবমিট করুন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সংশোধন হবে।
- পুরনো বানান লিখুন
- নতুন সঠিক বানান দিন
- প্রমাণপত্র আপলোড করুন
- ফি পেমেন্ট করুন
- আবেদন সাবমিট করুন
পাসপোর্টে নাম পরিবর্তনের অনুমোদন প্রক্রিয়া
পাসপোর্টে নাম পরিবর্তনের অনুমোদন প্রক্রিয়া কয়েকটি ধাপে হয়। প্রথমে আপনার আবেদন জমা হয়। তারপর অফিসের কর্মকর্তারা চেক করেন। সব কাগজ যাচাই করেন। তথ্য মিলিয়ে দেখেন।
যাচাই করার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদি সব ঠিক থাকে তাহলে অনুমোদন দেওয়া হয়। যদি কোনো সমস্যা থাকে তাহলে আপনাকে জানানো হয়। অতিরিক্ত কাগজ চাওয়া হতে পারে।
অনুমোদনের পর পাসপোর্ট তৈরি শুরু হয়। নতুন তথ্য দিয়ে পাসপোর্ট প্রিন্ট করা হয়। তারপর ডেলিভারির জন্য পাঠানো হয়। আপনি এসএমএস পাবেন। তারপর পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন।
উপসংহার
পাসপোর্টে নাম ও তথ্য সংশোধনের নিয়ম এখন আপনার জানা হয়ে গেছে। এই লেখায় আমি সব কিছু বিস্তারিত বলেছি। কিভাবে আবেদন করবেন তা জানলেন। কি কি কাগজ লাগবে তা জানলেন। কত টাকা এবং কত সময় লাগবে তাও জানলেন।
পাসপোর্ট সংশোধন করা এখন আর কঠিন নয়। অনলাইনে সব কাজ করা যায়। ঘরে বসে আবেদন করতে পারবেন। শুধু সঠিক নিয়ম মেনে চললেই হবে। সব কাগজ ঠিক মতো জমা দিতে হবে।
মনে রাখবেন পাসপোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট। এতে কোনো ভুল থাকা উচিত নয়। ভুল থাকলে বিদেশ যাওয়ার সময় সমস্যা হবে। ভিসা পেতে বাধা হবে। তাই সময় নিয়ে সব ভুল ঠিক করুন। সঠিক তথ্য দিয়ে পাসপোর্ট করান।
আশা করি এই লেখা আপনার কাজে লেগেছে। এখন আপনি নিজেই পাসপোর্ট সংশোধন করতে পারবেন। কোনো সমস্যা হলে পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করুন। তারা সাহায্য করবেন। শুভকামনা রইল।
এই পোস্টটি সর্বশেষ আপডেট করা হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী(FAQs)
পাসপোর্টে নাম সংশোধন করতে কত টাকা খরচ হয়?
পাসপোর্টে নাম সংশোধনের খরচ নির্ভর করে সেবার ধরনের উপর। সাধারণ সেবায় ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা লাগে। এক্সপ্রেস সেবায় ৩০০০ থেকে ৫০০০ টাকা লাগতে পারে। এছাড়া কাগজপত্রের খরচ আলাদা। সব মিলিয়ে ২০০০ থেকে ৬০০০ টাকা বাজেট রাখুন।
পাসপোর্ট সংশোধন করতে কত সময় লাগে?
সাধারণ প্রক্রিয়ায় ২০ থেকে ৩০ দিন সময় লাগে। এক্সপ্রেস সেবা নিলে ৭ থেকে ১০ দিন লাগে। অতি জরুরি ক্ষেত্রে ৩ থেকে ৫ দিনেও সম্ভব। তবে এতে খরচ বেশি হয়। সময় নির্ভর করে আবেদনের চাপ এবং কাগজপত্রের সঠিকতার উপর।
অনলাইনে পাসপোর্ট সংশোধনের আবেদন কিভাবে করব?
প্রথমে www.dip.gov.bd ওয়েবসাইটে যান। রেজিস্ট্রেশন করে লগইন করুন। রি-ইস্যু অপশন বেছে নিন। পুরনো পাসপোর্ট নম্বর দিন। যে তথ্য সংশোধন করতে চান তা পরিবর্তন করুন। প্রয়োজনীয় কাগজ আপলোড করুন। ফি পেমেন্ট করুন এবং সাবমিট করুন।
পাসপোর্ট সংশোধনের জন্য কি কি কাগজ লাগে?
জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি লাগবে। জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি লাগবে। শিক্ষাগত সার্টিফিকেট লাগতে পারে। পুরনো পাসপোর্টের কপি লাগবে। সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে। সব কাগজের স্পষ্ট স্কান কপি রাখুন।
পাসপোর্টে বানান ভুল কিভাবে ঠিক করব?
প্রথমে সঠিক বানানের প্রমাণ সংগ্রহ করুন। জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জন্ম সনদ দেখুন। অনলাইনে রি-ইস্যু আবেদন করুন। পুরনো ভুল বানান এবং নতুন সঠিক বানান স্পষ্ট করে লিখুন। প্রমাণপত্র আপলোড করুন। ফি দিয়ে আবেদন জমা দিন।
জন্মতারিখ সংশোধন করা যায় কিনা?
হ্যাঁ, জন্মতারিখ সংশোধন করা যায়। তবে এর জন্য শক্ত প্রমাণ লাগে। জন্ম নিবন্ধন সনদ অবশ্যই লাগবে। এসএসসি সার্টিফিকেট লাগতে পারে। হাসপাতালের জন্ম সনদ থাকলে ভালো। সব প্রমাণ দিয়ে অনলাইনে আবেদন করুন। অফিস যাচাই করে অনুমোদন দেবে।
ই-পাসপোর্টে তথ্য সংশোধন কিভাবে হয়?
ই-পাসপোর্টে তথ্য সংশোধন শুধু অনলাইনে করা যায়। পাসপোর্ট অফিসের ওয়েবসাইটে যান। রি-ইস্যু অপশন বেছে নিন। নতুন তথ্য দিয়ে আবেদন করুন। অনুমোদনের পর নতুন ই-পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। পুরনো পাসপোর্ট বাতিল হয়ে যায়।
পাসপোর্ট রি-ইস্যুর সময় সংশোধন করা যায় কিনা?
হ্যাঁ, পাসপোর্ট রি-ইস্যুর সময় সব ধরনের সংশোধন করা যায়। এটা সবচেয়ে ভালো সময় ভুল ঠিক করার। রি-ইস্যু আবেদনে সংশোধনের অপশন আছে। নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ সব পরিবর্তন করতে পারবেন। নতুন পাসপোর্টে সব তথ্য সঠিক থাকবে।
পাসপোর্ট সংশোধনের জন্য কোথায় যোগাযোগ করব?
পাসপোর্ট অফিসের হেল্পলাইনে কল করতে পারেন। ওয়েবসাইটে ইমেইল ঠিকানা আছে। সেখানে মেইল করতে পারেন। নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে সরাসরি কথা বলতে পারেন। ওয়েবসাইটে লাইভ চ্যাট সুবিধা আছে। যেকোনো মাধ্যমে যোগাযোগ করুন।
পাসপোর্টে ঠিকানা পরিবর্তন করতে কি লাগে?
ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য প্রমাণ লাগে। নতুন ঠিকানার ইউটিলিটি বিল দিতে পারেন। বাড়ি ভাড়ার চুক্তিপত্র দিতে পারেন। ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিতে পারেন। যে কাগজে নতুন ঠিকানা স্পষ্ট আছে সেটা জমা দিন। অনলাইনে আবেদনের সময় আপলোড করুন।
পাসপোর্ট সংশোধনের ফি কিভাবে দিতে হয়?
অনলাইন পেমেন্ট সবচেয়ে সহজ। বিকাশ, নগদ, রকেট দিয়ে দিতে পারবেন। ক্রেডিট কার্ড বা ডেবিট কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন। ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করা যায়। পেমেন্ট করার পর রসিদ অবশ্যই সংরক্ষণ করুন। আবেদনের সাথে রসিদ নম্বর জুড়ে থাকবে।
এক্সপ্রেস সেবা কি এবং কত খরচ হয়?
এক্সপ্রেস সেবা হলো দ্রুত ডেলিভারি সেবা। সাধারণ সেবার চেয়ে কম সময় লাগে। ৭ থেকে ১০ দিনে পাসপোর্ট পাবেন। এর জন্য অতিরিক্ত ফি দিতে হয়। সাধারণ ফির দ্বিগুণ বা তিনগুণ লাগতে পারে। জরুরি প্রয়োজনে এই সেবা নিতে পারেন।
পাসপোর্ট আবেদনের স্ট্যাটাস কিভাবে চেক করব?
পাসপোর্ট অফিসের ওয়েবসাইটে যান। “আবেদন স্ট্যাটাস” অপশনে ক্লিক করুন। আপনার আবেদন নম্বর দিন। জন্মতারিখ দিন। সার্চ করুন। আবেদনের বর্তমান অবস্থা দেখাবে। কোন ধাপে আছে তা জানতে পারবেন। নিয়মিত স্ট্যাটাস চেক করুন।
পাসপোর্ট সংশোধনের আবেদন বাতিল হলে কি করব?
আবেদন বাতিল হলে কারণ জানুন। অফিস থেকে এসএমএস বা ইমেইল পাবেন। কেন বাতিল হয়েছে তা পড়ুন। সাধারণত কাগজপত্রের সমস্যায় বাতিল হয়। সঠিক কাগজ সংগ্রহ করুন। তারপর নতুন করে আবেদন করুন। আগের ভুল সংশোধন করে দিন।
পাসপোর্টে পিতা মাতার নাম ভুল হলে কি করব?
পিতা মাতার সঠিক নামের প্রমাণ সংগ্রহ করুন। জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জন্ম সনদ দেখুন। তাদের কাগজপত্র কপি করুন। অনলাইনে রি-ইস্যু আবেদন করুন। সঠিক নাম লিখুন। প্রমাণ হিসেবে কাগজ আপলোড করুন। আবেদন জমা দিলে যাচাই হবে।
নাম সম্পূর্ণ বদলানো যায় কিনা?
নাম সম্পূর্ণ বদলানো যায় তবে আইনি প্রক্রিয়া লাগে। প্রথমে আদালত থেকে নাম পরিবর্তনের অনুমতি নিতে হবে। গেজেট নোটিফিকেশন করতে হবে। তারপর জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম বদলাতে হবে। সব কাগজ আপডেট করার পর পাসপোর্টে নাম বদলানো যাবে।
পাসপোর্ট ছবি পরিবর্তন করা যায় কিনা?
হ্যাঁ, পাসপোর্ট ছবি পরিবর্তন করা যায়। রি-ইস্যুর সময় নতুন ছবি দিতে পারবেন। ছবির নির্দিষ্ট সাইজ আছে। ৩৫ মিমি বাই ৪৫ মিমি হতে হবে। সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড থাকতে হবে। মুখ স্পষ্ট দেখা যেতে হবে। চশমা এবং টুপি ছাড়া ছবি তুলুন।
পাসপোর্ট সংশোধনের পর কিভাবে সংগ্রহ করব?
পাসপোর্ট তৈরি হলে এসএমএস পাবেন। ওয়েবসাইটে স্ট্যাটাস চেক করলে “রেডি ফর ডেলিভারি” দেখাবে। আপনি যদি হোম ডেলিভারি নিয়ে থাকেন তাহলে ঘরে পৌঁছে যাবে। নইলে নির্ধারিত অফিসে গিয়ে সংগ্রহ করুন। রসিদ এবং জাতীয় পরিচয়পত্র সাথে নিন।
পাসপোর্ট সংশোধনের সময় পুরনো পাসপোর্ট কি জমা দিতে হয়?
হ্যাঁ, সংশোধনের সময় পুরনো পাসপোর্ট জমা দিতে হয়। যদি রি-ইস্যু করেন তাহলে পুরনো পাসপোর্ট বাতিল হয়। নতুন পাসপোর্ট পাবেন। তবে পুরনো পাসপোর্টে যদি ভ্যালিড ভিসা থাকে তাহলে সেটা রাখতে পারবেন। ক্যানসেল করে ফেরত দেওয়া হয়।
🔥 পোস্টটি শেয়ার করুনঃ 🌍






