জরুরী পাসপোর্ট করার নিয়ম – দ্রুত পাসপোর্ট পাওয়ার গাইড

বিদেশ যাত্রার জরুরি প্রয়োজনে পাসপোর্ট প্রয়োজন হলে অনেকেই চিন্তায় পড়ে যান। তবে, বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য জরুরি পাসপোর্ট পাওয়ার সুবিধা রয়েছে। এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা থাকলে আপনি সহজেই কম সময়ে পাসপোর্ট পেতে পারেন।

হঠাৎ বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজন হলে কী করবেন? এমন সময় জরুরী পাসপোর্ট আপনার সমস্যার সমাধান। অনেকেই জানেন না জরুরী পাসপোর্ট করার নিয়ম কী। আজকের লেখায় আমরা সব তথ্য সহজভাবে জানাব। আপনি দ্রুত পাসপোর্ট পেতে কী করবেন তা বুঝতে পারবেন। চলুন শুরু করি।

👉 এক নজরে প্রবন্ধটির মূল বিষয়বস্তু/সূচিপত্রঃ 📖

জরুরি পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়া

জরুরি পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়া, অনলাইন আবেদন ধাপ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

জরুরি পাসপোর্ট আবেদনের প্রাথমিক পদক্ষেপ হলো সঠিক কারণ নির্ধারণ। আপনার কাছে চিকিৎসার প্রয়োজন, কূটনৈতিক কাজ কিংবা জরুরি ব্যবসায়িক সফরের প্রমাণ থাকতে হবে। এই কারণগুলো ছাড়া জরুরি পাসপোর্ট পাওয়া কঠিন।

প্রথমে আপনাকে নিকটস্থ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে। সেখানে জরুরি পাসপোর্টের জন্য আলাদা কাউন্টার রয়েছে। অতঃপর, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সাথে আপনার জরুরি প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করুন।

আবেদনের সময় আপনার জরুরি কারণের সমর্থনে সকল প্রমাণপত্র উপস্থাপন করুন। যেমন, হাসপাতালের রিপোর্ট, সরকারি চিঠি কিংবা কোম্পানির পত্র। এই নথিগুলো ছাড়া আপনার আবেদন অগ্রাহ্য হতে পারে।

জরুরি পাসপোর্ট অনলাইন আবেদন

ডিজিটাল বাংলাদেশের অংশ হিসেবে জরুরি পাসপোর্টের জন্যও অনলাইন আবেদন করা যায়। তবে, এটি সম্পূর্ণভাবে অনলাইনে সম্পন্ন হয় না। বরং, প্রাথমিক আবেদন অনলাইনে করে পরবর্তী ধাপগুলো সশরীরে সম্পন্ন করতে হয়।

অনলাইন আবেদনের জন্য প্রথমেwww.passport.gov.bd সাইটে ভিজিট করুন। সেখানে ‘Express Service’ অপশনে ক্লিক করে প্রয়োজনীয় ফর্ম পূরণ করুন। ফর্ম পূরণের পর একটি অ্যাপ্লিকেশন আইডি পাবেন।

এরপর আপনাকে নির্ধারিত তারিখে পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে। সাথে সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি নিয়ে যান। অনলাইনে আবেদন করলেও জরুরি পাসপোর্টের ক্ষেত্রে শারীরিক উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।

জরুরী পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে

জরুরী পাসপোর্টের খরচ সাধারণ পাসপোর্টের চেয়ে বেশি। ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্টের জন্য খরচ হয় ৬,৫০০ টাকা। ৪৮ পৃষ্ঠার জন্য খরচ ৫,০০০ টাকা। এর সাথে ডেলিভারি চার্জ যোগ হয়। ডেলিভারি চার্জ প্রায় ১,০০০ টাকা। মোট খরচ দাঁড়ায় ৬,০০০ থেকে ৭,৫০০ টাকা।

এই টাকা অনলাইনে জমা দিতে হয়। বিকাশ, নগদ বা কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করা যায়। অফিসে গিয়ে নগদ টাকা নেওয়া হয় না। তাই আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। জরুরী সেবার জন্য বাড়তি খরচ হয় স্বাভাবিক। কারণ আপনি দ্রুত সেবা পাচ্ছেন।

পাসপোর্টের ধরনপৃষ্ঠা সংখ্যাজরুরী সেবা খরচমেয়াদ
সাধারণ ই-পাসপোর্ট৪৮ পৃষ্ঠা৫,০০০ টাকা৫ বছর
সাধারণ ই-পাসপোর্ট৬৪ পৃষ্ঠা৬,৫০০ টাকা৫ বছর
অফিসিয়াল পাসপোর্ট৪৮ পৃষ্ঠা৩,৫০০ টাকা৫ বছর
ডিপ্লোমেটিক পাসপোর্ট৪৮ পৃষ্ঠা২,৫০০ টাকা৫ বছর

জরুরি পাসপোর্ট কত দিনে পাওয়া যায়

সাধারণত জরুরি পাসপোর্ট ৭-১০ কার্যদিবসের মধ্যে পাওয়া যায়। তবে এটি আপনার জরুরি কারণের ওপর নির্ভর করে। যদি খুবই জরুরি হয় এবং সঠিক প্রমাণ থাকে, ৩-৫ দিনেও পেতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে ২৪ ঘন্টার মধ্যেও পাসপোর্ট দেওয়া হয়।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে যে, সরকারি ছুটির দিনগুলো গণনায় আসে না। তাই আবেদনের সময় সরকারি ছুটির দিন বিবেচনায় রাখুন। রমজান মাস কিংবা ঈদের সময় প্রক্রিয়া কিছুটা ধীর হতে পারে।

পাসপোর্ট প্রস্তুত হলে আপনাকে SMS এর মাধ্যমে জানানো হবে। অতঃপর নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট অফিস থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন। সংগ্রহের সময় আপনার আবেদনের রসিদ ও পরিচয়পত্র সাথে রাখুন।

জরুরি পাসপোর্ট ট্র্যাক করার নিয়ম

আবেদনের পর আপনি অনলাইনেই পাসপোর্টের অবস্থা জানতে পারবেন। www.passport.gov.bd সাইটে গিয়ে ‘Track Application’ অপশনে ক্লিক করুন। সেখানে আপনার আবেদন নম্বর দিয়ে স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন।

ট্র্যাকিং সিস্টেমে বিভিন্ন পর্যায় দেখানো হয়। যেমন ‘Application Received’, ‘Under Process’, ‘Police Verification’, ‘Ready for Delivery’ ইত্যাদি। প্রতিটি পর্যায়ের তারিখ ও সময় দেখতে পাবেন।

যদি অনলাইনে কোনো সমস্যা হয়, তাহলে পাসপোর্ট অফিসের হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করুন। ঢাকার প্রধান অফিসের হটলাইন: ০২৯৬১১৬১৬। এছাড়া প্রতিটি আঞ্চলিক অফিসের আলাদা ফোন নম্বর রয়েছে।

বিদেশ যাওয়ার জন্য জরুরী পাসপোর্ট

বিদেশ যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট অবশ্যই লাগে। হঠাৎ বিদেশে চাকরি পেলে বা জরুরী কাজ থাকলে দ্রুত পাসপোর্ট চাই। তখন জরুরী সেবা নিতে হয়। জরুরী পাসপোর্ট করার নিয়ম মেনে আবেদন করুন। বাড়তি ফি দিয়ে দ্রুত পাসপোর্ট পাবেন। মাত্র ৫-৭ দিনে হাতে পাবেন।

বিদেশ যাওয়ার জন্য পাসপোর্টের মেয়াদ দেখুন। কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদ থাকতে হবে। কম মেয়াদের পাসপোর্ট নিয়ে ভিসা পাবেন না। তাই আগে থেকে চেক করুন। মেয়াদ শেষ হলে রিনিউ করুন। জরুরী রিনিউ সেবাও আছে।

জরুরিপাসপোর্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

জরুরি পাসপোর্টের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা বেশ দীর্ঘ। সবার প্রথমে দরকার বৈধ জরুরি কারণের প্রমাণ। এটি ছাড়া অন্য কোনো কাগজ কাজে আসবে না। চিকিৎসা, কূটনৈতিক কাজ, জরুরি ব্যবসা – এগুলোর জন্য আলাদা আলাদা প্রমাণপত্র লাগবে।

ছবি লাগবে নির্দিষ্ট সাইজের। সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে তোলা ছবি চাই। ছবির সাইজ ৩০০x৩০০ পিক্সেল হতে হবে। স্বাক্ষরের ছবিও লাগবে। সাদা কাগজে কালো কালিতে স্বাক্ষর করুন। তারপর স্ক্যান করে আপলোড করুন। সব কাগজ সংরক্ষণ করুন সাবধানে।

প্রয়োজনীয় কাগজবিবরণফরম্যাট
জাতীয় পরিচয়পত্রঅবশ্যই প্রয়োজনJPG/PDF
জন্ম নিবন্ধনঅনলাইন কপি গ্রহণযোগ্যPDF
ছবিসাদা ব্যাকগ্রাউন্ড৩০০x৩০০ পিক্সেল
স্বাক্ষরকালো কালিতেJPG/PNG

আর্থিক প্রমাণপত্র হিসেবে ব্যাংক স্টেটমেন্ট কিংবা আয়ের সনদ দিতে হবে। যদি চাকরিজীবী হন তাহলে অফিস থেকে NOC (No Objection Certificate) আনতে হবে। ব্যবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্স ও ট্যাক্স সার্টিফিকেট লাগবে।

জরুরি পাসপোর্ট ফর্ম পূরণের নিয়ম

জরুরি পাসপোর্টের ফর্ম পূরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ফর্মে কোনো ভুল থাকলে আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে। তাই খুব সাবধানে প্রতিটি ঘর পূরণ করুন। কোনো জায়গা ফাঁকা রাখা যাবে না।

ব্যক্তিগত তথ্যের ঘরগুলো জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী পূরণ করুন। নাম, বয়স, ঠিকানা সব কিছুতে মিল থাকতে হবে। বাবা-মায়ের নামও এনআইডি অনুযায়ী লিখুন। ভিন্ন তথ্য দিলে যাচাইয়ের সময় সমস্যা হবে।

জরুরি কারণের ঘরটি বিস্তারিত পূরণ করুন। শুধু ‘চিকিৎসা’ লেখা যথেষ্ট নয়। বরং কোন রোগের জন্য, কোন দেশে, কবে যেতে হবে – এসব তথ্য দিন। এতে কর্মকর্তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

বাংলাদেশে জরুরি পাসপোর্ট, আবেদন প্রক্রিয়া ও দ্রুত পাসপোর্ট পাওয়ার ধাপ

বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবস্থা দিন দিন উন্নত হচ্ছে। জরুরি পাসপোর্ট সেবা এর একটি উদাহরণ। তবে এই সুবিধা অপব্যবহার রোধে কঠোর নিয়ম রয়েছে। যথাযথ কারণ ছাড়া জরুরি পাসপোর্ট পাওয়া সম্ভব নয়।

বর্তমানে বাংলাদেশের পাসপোর্ট বিশ্বের ১০৪তম শক্তিশালী পাসপোর্ট। ৩৪টি দেশে ভিসা ছাড়া যাওয়া যায়। আর ৩৯টি দেশে অন ভিসা সুবিধা রয়েছে। তাই জরুরি প্রয়োজনে এই পাসপোর্ট পেলে অনেক সুবিধা।

সরকার পাসপোর্ট সেবার মান উন্নয়নে ক্রমাগত কাজ করছে। ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর ফলে প্রক্রিয়া আরো দ্রুত হয়েছে। ভবিষ্যতে জরুরি পাসপোর্ট আরো কম সময়ে পাওয়া যেতে পারে।

পাসপোর্ট আবেদন ফরম ডাউনলোড

আবেদন ফরম অনলাইনেই পূরণ করা হয়। আলাদা করে ডাউনলোড করার দরকার নেই। তবে আপনি চাইলে ফরমের কপি সংরক্ষণ করতে পারেন। আবেদন সম্পূর্ণ হলে একটি পিডিএফ ডাউনলোড করা যায়। এতে আপনার সব তথ্য থাকে। এই পিডিএফ প্রিন্ট করে রাখুন।

অফিসে যাওয়ার সময় এই প্রিন্ট কপি নিয়ে যান। কর্মকর্তারা দেখতে চাইতে পারেন। এছাড়া এনরোলমেন্ট আইডি মনে রাখুন। আইডি না থাকলে সেবা পাবেন না। তাই সব ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করুন সাবধানে।

আবেদন ধাপবিবরণসময় প্রয়োজন
রেজিস্ট্রেশনএকাউন্ট তৈরি এবং ভেরিফিকেশন৫-১০ মিনিট
ফরম পূরণব্যক্তিগত তথ্য এবং ছবি আপলোড১৫-২০ মিনিট
ফি পেমেন্টঅনলাইন পেমেন্ট২-৫ মিনিট
বায়োমেট্রিকঅফিসে ছবি এবং আঙুলের ছাপ১৫-৩০ মিনিট

জরুরি পাসপোর্টের সময়সীমা

জরুরি পাসপোর্টের মেয়াদ সাধারণ পাসপোর্টের মতোই ৫ বছর কিংবা ১০ বছর। তবে প্রক্রিয়াকরণের সময়সীমা আলাদা। সাধারণত ৭-১০ কার্যদিবস সময় লাগে। অতি জরুরি প্রয়োজনে এটি আরো কমানো যায়।

কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ২৪-৪৮ ঘন্টার মধ্যেও জরুরি পাসপোর্ট দেওয়া হয়। তবে এর জন্য খুবই গুরুতর কারণ ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সুপারিশ লাগে। এমন সুবিধা সবার জন্য নয়।

সময়সীমা নির্ভর করে আপনার কাগজপত্রের সম্পূর্ণতা ও যাচাইয়ের ওপর। পুলিশ ভেরিফিকেশনে বেশি সময় লাগলে পাসপোর্টও দেরি হয়। তাই সব কাগজপত্র ঠিকঠাক রাখুন।

বাংলাদেশ পাসপোর্ট অফিসের ঠিকানা ও সময়সূচি

ঢাকায় কয়েকটি প্রধান পাসপোর্ট অফিস আছে। আগারগাঁও অফিস সবচেয়ে বড়। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা। শুক্রবার এবং সরকারি ছুটির দিন বন্ধ থাকে। উত্তরা, মিরপুর এবং মতিঝিলেও অফিস আছে। সব অফিসের সময়সূচি একই।

জেলা পর্যায়ে প্রতিটি জেলায় অফিস আছে। সেখানেও একই সেবা পাওয়া যায়। জেলা অফিসে সাধারণত ভিড় কম থাকে। আপনার নিকটতম অফিস বেছে নিতে পারবেন। অফিসের ঠিকানা ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়। যাওয়ার আগে সময়সূচি দেখে নিন।

  • ঢাকা আগারগাঁও অফিস: আগারগাঁও, শেরে বাংলা নগর, ঢাকা।
  • উত্তরা অফিস: হাউস ৬, রোড ১৩, সেক্টর ৪, উত্তরা।
  • কর্মঘণ্টা: রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা – বিকাল ৫টা।
  • বন্ধের দিন: শুক্রবার, শনিবার এবং সরকারি ছুটি।
  • হটলাইন নম্বর: ০২-৪৮৩১৫৬০৫, ০১৭৭৭৭৮৮৮৮৮।

জরুরি পাসপোর্টে প্রয়োজনীয় ছবি

জরুরি পাসপোর্টের ছবির নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। ছবি অবশ্যই সাম্প্রতিক হতে হবে। ৬ মাসের পুরনো ছবি গ্রহণযোগ্য নয়। ছবির সাইজ হবে ৩৫x৪৫ মিমি। রঙিন ছবি বাধ্যতামূলক।

ছবির পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা কিংবা হালকা নীল হতে হবে। চোখে চশমা থাকলে চশমার কাঁচে কোনো রিফ্লেকশন যেন না থাকে। মুখের এক্সপ্রেশন স্বাভাবিক রাখুন। হাসি কিংবা গোমড়া মুখ করা যাবে না।

ধর্মীয় কারণে মাথা ঢাকা যায়। তবে মুখ সম্পূর্ণ দৃশ্যমান থাকতে হবে। পোশাক অবশ্যই শালীন হতে হবে। টি-শার্ট কিংবা অশালীন পোশাকে ছবি তোলা যাবে না। মনে রাখবেন, এই ছবিই আপনার পাসপোর্টে থাকবে।

জরুরি পাসপোর্ট দ্রুত পাওয়ার উপায়

জরুরি পাসপোর্ট দ্রুত পাওয়ার জন্য কিছু টিপস অনুসরণ করতে পারেন। সবার আগে সব কাগজপত্র সম্পূর্ণ রাখুন। একটা কাগজ বাদ পড়লেই দেরি হবে। তাই একটা চেকলিস্ট বানিয়ে প্রস্তুতি নিন।

ভোর বেলা পাসপোর্ট অফিসে যান। সকালে ভিড় কম থাকে। সিরিয়াল তাড়াতাড়ি পাবেন। দুপুরের দিকে গেলে অনেক সময় সিরিয়াল পেতেই দেরি হয়ে যায়।

যদি সত্যিই খুব জরুরি হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সাথে কথা বলুন। উচ্চপদস্থ কারো সুপারিশ থাকলে প্রক্রিয়া আরো দ্রুত হয়। তবে অযথা হয়রানি করবেন না। সবার পরেও আপনার কাজ হবে।

উপসংহার

জরুরি পাসপোর্ট করার নিয়ম জানা থাকলে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারবেন। বাংলাদেশ সরকার নাগরিকদের সুবিধার জন্য এই ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে এর অপব্যবহার রোধে কঠোর নিয়ম রয়েছে।

মনে রাখতে হবে, জরুরি পাসপোর্ট শুধুমাত্র সত্যিকারের জরুরি প্রয়োজনেই করা উচিত। অহেতুক এই সুবিধা নিলে পরবর্তীতে সমস্যা হতে পারে। সঠিক কারণ থাকলে এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন।

জরুরী পাসপোর্ট করার নিয়ম এখন আর জটিল নয়। সঠিক তথ্য এবং প্রস্তুতি থাকলে সহজেই পাসপোর্ট পাওয়া যায়। অনলাইনে আবেদন করুন এবং নিয়ম মেনে চলুন। বাড়তি ফি দিয়ে জরুরী সেবা নিন। মাত্র কয়েক দিনেই হাতে পাবেন পাসপোর্ট।

বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পাসপোর্ট প্রথম ধাপ। সময়মতো আবেদন করুন। সব কাগজপত্র ঠিকঠাক রাখুন। যাচাই এবং ট্র্যাকিং সুবিধা ব্যবহার করুন। পাসপোর্ট পাওয়ার পর ভালো করে চেক করুন। কোনো ভুল থাকলে দ্রুত জানান।

আশা করি এই গাইড অনুসরণ করে আপনি সহজেই জরুরি পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি প্রস্তুত রেখে সঠিক সময়ে আবেদন করুন। দেশের সেবায় নিয়োজিত পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা আপনাকে সাহায্য করবেন।আপনার পাসপোর্ট যাত্রা হোক সহজ এবং দ্রুত। শুভকামনা রইল!

এই পোস্টটি সর্বশেষ আপডেট করা হয়েছে: অক্টোবর,২০২৫

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী(FAQs)

জরুরি পাসপোর্ট পেতে সর্বনিম্ন কত দিন লাগে?

খুবই জরুরি প্রয়োজনে ২৪-৪৮ ঘন্টার মধ্যে পাসপোর্ট পাওয়া সম্ভব। তবে সাধারণত ৭-১০ কার্যদিবস সময় লাগে। এটি নির্ভর করে আপনার জরুরি কারণ ও কাগজপত্রের সম্পূর্ণতার ওপর।

কোন কোন কারণে জরুরি পাসপোর্ট পাওয়া যায়?

প্রধানত চিকিৎসা সেবা, কূটনৈতিক কাজ, জরুরি ব্যবসায়িক সফর এবং পারিবারিক জরুরি অবস্থার জন্য জরুরি পাসপোর্ট পাওয়া যায়। প্রতিটি কারণের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রমাণপত্র প্রয়োজন।

জরুরি পাসপোর্টের মেয়াদ কত?

জরুরি পাসপোর্টের মেয়াদ সাধারণ পাসপোর্টের মতোই। ৫ বছর কিংবা ১০ বছর মেয়াদী পাসপোর্ট পেতে পারেন। শুধু প্রক্রিয়াকরণের সময় কম লাগে।

জরুরি পাসপোর্ট করতে কি পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে?

হ্যাঁ, জরুরি পাসপোর্টের জন্যও পুলিশ ভেরিফিকেশন আবশ্যক। তবে এটি দ্রুত সম্পন্ন হয়। সাধারণত ২-৩ দিনের মধ্যে ভেরিফিকেশন শেষ হয়ে যায়।

কোন ব্যাংকে জরুরি পাসপোর্টের ফি জমা দিতে হয়?

শুধুমাত্র সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক এবং রূপালী ব্যাংকে ফি জমা দিতে পারবেন। ব্যাংক ড্রাফট করে ফি পরিশোধ করতে হবে। নগদ টাকা গ্রহণ করা হয় না।

জরুরি পাসপোর্টের ছবি কেমন হতে হবে?

ছবি অবশ্যই সাম্প্রতিক, রঙিন এবং ৩৫x৪৫ মিমি সাইজের হতে হবে। সাদা কিংবা হালকা নীল ব্যাকগ্রাউন্ড থাকতে হবে। মুখের এক্সপ্রেশন স্বাভাবিক রাখুন।

অনলাইনে জরুরি পাসপোর্টের আবেদন করা যায়?

প্রাথমিক আবেদন অনলাইনে করা যায়। তবে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন হয় না। পরবর্তী ধাপগুলো সশরীরে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে করতে হয়।

জরুরি পাসপোর্টে কি বিশেষ কোনো চিহ্ন থাকে?

না, জরুরি পাসপোর্ট দেখতে সাধারণ পাসপোর্টের মতোই। কোনো আলাদা চিহ্ন থাকে না। শুধুমাত্র প্রক্রিয়াকরণের সময় কম লাগে।

পুরনো পাসপোর্ট থাকলেও কি জরুরি পাসপোর্ট করা যায়?

হ্যাঁ, পুরনো পাসপোর্ট মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে কিংবা পৃষ্ঠা শেষ হয়ে গেলে জরুরি পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে বৈধ জরুরি কারণ থাকতে হবে।

জরুরি পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে কী করতে হবে?

জরুরি পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে সাথে সাথে নিকটস্থ থানায় জিডি করুন। তারপর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিন। এরপর নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

সন্তানের জন্য জরুরি পাসপোর্ট করা যায়?

অবশ্যই। নাবালক সন্তানের জন্যও জরুরি পাসপোর্ট করা যায়। তবে বাবা-মা উভয়ের সম্মতি ও উপস্থিতি প্রয়োজন। সন্তানের জন্মনিবন্ধন অবশ্যই থাকতে হবে।

জরুরি পাসপোর্টের খরচ কি ফেরত পাওয়া যায়?

না, একবার ফি জমা দিলে তা ফেরত পাওয়া যায় না। এমনকি আবেদন বাতিল হয়ে গেলেও ফি ফেরত দেওয়া হয় না। তাই আবেদনের আগে ভালো করে চিন্তা করুন।

জরুরি পাসপোর্ট পেতে কারো সুপারিশ লাগে?

সাধারণত কোনো সুপারিশের প্রয়োজন নেই। তবে সরকারি কর্মকর্তা কিংবা গণ্যমান্য ব্যক্তির সুপারিশ থাকলে প্রক্রিয়া আরো দ্রুত হতে পারে। বিশেষ ক্ষেত্রে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার অনুমোদন লাগতে পারে।

বিদেশে থেকে জরুরি পাসপোর্ট করা যায়?

বিদেশে অবস্থানকারীরা সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশি দূতাবাসে যোগাযোগ করতে পারেন। তারা জরুরি প্রয়োজনে ট্রাভেল ডকুমেন্ট কিংবা পাসপোর্ট নবায়নের ব্যবস্থা করেন।

জরুরি পাসপোর্ট দিয়ে কোন দেশে যাওয়া যায়?

জরুরি পাসপোর্ট দিয়ে সব দেশেই যাওয়া যায়। এটি সাধারণ পাসপোর্টের মতোই কার্যকর। তবে গন্তব্য দেশের ভিসা নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। কিছু দেশে ভিসার জন্য পাসপোর্টের নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকতে হয়।

জরুরী পাসপোর্টের খরচ কত?

৪৮ পৃষ্ঠার জরুরী পাসপোর্টের জন্য খরচ ৫,০০০ টাকা। ৬৪ পৃষ্ঠার জন্য ৬,৫০০ টাকা। এর সাথে ডেলিভারি চার্জ প্রায় ১,০০০ টাকা যোগ হয়।

জরুরী পাসপোর্ট এবং সাধারণ পাসপোর্টের পার্থক্য কী?

পার্থক্য শুধু ডেলিভারি সময়ে এবং খরচে। জরুরী পাসপোর্ট দ্রুত পাওয়া যায় কিন্তু বেশি খরচ হয়। মেয়াদ এবং গুণমান একই রকম।

পাসপোর্ট ট্র্যাকিং কিভাবে করবো?

passport.gov.bd সাইটে ট্র্যাকিং অপশনে যান। এনরোলমেন্ট আইডি এবং জন্মতারিখ দিয়ে ট্র্যাক করুন। মোবাইল অ্যাপেও ট্র্যাক করা যায়।

বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টে কী হয়?

বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টে আপনার ছবি তোলা হয় এবং দশ আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়। এই তথ্য পাসপোর্টের চিপে সংরক্ষিত হয়। পুরো প্রক্রিয়া ১৫-৩০ মিনিট লাগে।

কোন বয়সে পাসপোর্ট করা যায়?

যেকোনো বয়সে পাসপোর্ট করা যায়। শিশুদের জন্যও পাসপোর্ট হয়। তবে ১৮ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের তথ্য লাগে। জন্ম সনদ অবশ্যই দিতে হবে।

পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার সময় কী কী নিয়ে যাবো?

এনরোলমেন্ট আইডি প্রিন্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং অন্যান্য মূল কাগজ নিয়ে যান। সব কাগজের ফটোকপিও রাখুন। এনরোলমেন্ট আইডি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পাসপোর্ট ডেলিভারি ঠিকানা পরিবর্তন করা যায় কি?

আবেদন সম্পূর্ণ হওয়ার আগে ঠিকানা পরিবর্তন করা যায়। অফিসে যোগাযোগ করুন। তবে পাসপোর্ট প্রিন্ট হওয়ার পর পরিবর্তন কঠিন হয়।

🔥 পোস্টটি শেয়ার করুনঃ 🌍

Scroll to Top