১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট করার নিয়ম ২০২৫

বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন অনেকেই। কিন্তু পাসপোর্ট ছাড়া তো সেই স্বপ্ন পূরণ হয় না। বাংলাদেশে এখন ই-পাসপোর্ট চালু হয়েছে। এটি আধুনিক এবং নিরাপদ। ২০২৫ সালে ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট করা খুবই সহজ। আপনি ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এই নিবন্ধে সব কিছু সহজ ভাষায় জানাব।

বর্তমানে বাংলাদেশি নাগরিকরা দুই ধরনের পাসপোর্ট পেতে পারেন। প্রথমত, পাঁচ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট। দ্বিতীয়ত, দশ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট। যাইহোক, দীর্ঘমেয়াদি সুবিধার জন্য বেশিরভাগ মানুষ ১০ বছরের পাসপোর্ট বেছে নেন।

👉 এক নজরে প্রবন্ধটির মূল বিষয়বস্তু/সূচিপত্রঃ 📖

ই-পাসপোর্ট করার আগে যা জানা দরকার

পাসপোর্ট করার আগে কিছু বিষয় জানা জরুরি। প্রথমত আপনার বয়স ১৮ বছরের বেশি হতে হবে। কম বয়সীদের অভিভাবকের সম্মতি লাগবে। এনআইডি থাকতে হবে অবশ্যই। না থাকলে জন্ম সনদ দিয়ে করতে পারবেন।

  • পুলিশ ভেরিফিকেশন হবে তাই ঠিকানা সঠিক দিন
  • ছবিতে কোনো সমস্যা থাকলে বাতিল হবে
  • পেমেন্টের পর রিফান্ড হয় না মনে রাখবেন
  • সব তথ্য সঠিক দিন ভুল হলে বাতিল হতে পারে
  • অফিসে যাওয়ার সময় সব কাগজ নিয়ে যাবেন

আপনার কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড থাকলে সমস্যা হতে পারে। পুলিশ ভেরিফিকেশনে আটকে যাবে। তবে ছোট অপরাধে সমস্যা হয় না সাধারণত। কোর্ট কেস চলমান থাকলে জানাতে হবে। বিদেশে লোন খেলাপি হলে পাসপোর্ট নাও পেতে পারেন। তাই সব দায় পরিশোধ করে আবেদন করুন।

১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়া

আবেদন প্রক্রিয়া খুবই সহজ এবং দ্রুত। প্রথমে www.epassport.gov.bd ওয়েবসাইটে যেতে হবে। এরপর একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। একটি ভেরিফিকেশন কোড আসবে মোবাইলে। সেই কোড দিয়ে অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করুন।

লগইন করার পর আবেদন ফর্ম পাবেন। সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন। নাম, ঠিকানা, জন্ম তারিখ ভুল হলে সমস্যা হবে। ছবি আপলোড করতে হবে নির্দিষ্ট সাইজে। তারপর ফি পেমেন্ট করুন অনলাইনে। পেমেন্ট শেষে একটি এনরোলমেন্ট স্লিপ পাবেন। সেই স্লিপ প্রিন্ট করে রাখুন। নির্ধারিত তারিখে পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে।

১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে

১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট করতে খরচ জানা জরুরি। সাধারণ ডেলিভারিতে ৬,৫০০ টাকা লাগে। ৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্টের জন্য এই টাকা দিতে হয়। ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট চাইলে একটু বেশি খরচ হবে। সেক্ষেত্রে ৮,৫০০ টাকা দিতে হয়। জরুরি ডেলিভারির জন্য খরচ আরও বাড়ে। তবে নিয়মিত ডেলিভারিই বেশিরভাগ মানুষ নেয়।

এক্সপ্রেস ডেলিভারি নিলে ৭ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট পাবেন। এতে ৯,৫০০ টাকা লাগে ৪৮ পৃষ্ঠার জন্য। ৬৪ পৃষ্ঠা চাইলে ১১,৫০০ টাকা দিতে হবে। সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি আরও দ্রুত। মাত্র ৩ দিনে পাসপোর্ট হাতে পাবেন। এর জন্য ১২,৫০০ টাকা খরচ হয়। টাকা পেমেন্টের সময় অনলাইন বা ব্যাংকিং ব্যবহার করা যায়।

ই-পাসপোর্ট অনলাইন ফরম

ই-পাসপোর্ট অনলাইন ফরম পূরণ করা খুবই সহজ। www.epassport.gov.bd সাইটে গিয়ে ‘নতুন আবেদন’ ক্লিক করুন। তারপর আপনার ব্যক্তিগত তথ্য দিন।

নাম, পিতার নাম, মাতার নাম লিখুন। জন্ম তারিখ এবং স্থান উল্লেখ করুন। জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিন। বর্তমান ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানা লিখুন।

শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পেশার তথ্য দিন। জরুরি যোগাযোগের জন্য কারো নাম ও ঠিকানা লিখুন। সবশেষে ফরম সাবমিট করুন। একটি রেফারেন্স নম্বর পাবেন যা সংরক্ষণ করুন।

ই-পাসপোর্ট করার নিয়ম

ই-পাসপোর্ট করার নিয়ম জানা থাকলে কাজটি অনেক সহজ হয়। প্রথমে নিশ্চিত করুন যে আপনার বয়স ১৮ বছরের বেশি। নাবালকদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি লাগবে।

২০২৫ সালে ই-পাসপোর্ট করা আরও সহজ হয়েছে। সরকার নতুন কিছু সুবিধা যোগ করেছে। এখন মোবাইল অ্যাপ থেকেও আবেদন করা যায়। সব জেলায় পাসপোর্ট অফিস খোলা আছে। ঢাকার বাইরে থাকলেও সমস্যা নেই।

  • অনলাইনে আবেদন করুন এবং সময় বাঁচান
  • সব কাগজপত্র আগে থেকে প্রস্তুত রাখুন
  • অফিসে যাওয়ার আগে এপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করুন
  • ছবি এবং স্বাক্ষর স্ক্যান করে রাখুন
  • পুলিশ ভেরিফিকেশন দ্রুত হয় এখন

আগে পাসপোর্ট পেতে অনেক সময় লাগত। এখন সিস্টেম ডিজিটাল হয়েছে। তাই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হয়। বেশিরভাগ মানুষ ২১ দিনেই পাসপোর্ট পায়। জরুরি ভিত্তিতে আরও তাড়াতাড়ি পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে এখন খুবই সহজ।

ই-পাসপোর্ট করতে কত সময় লাগে

সময় নির্ভর করে ডেলিভারি টাইপের ওপর। নরমাল ডেলিভারিতে ২১ দিন লাগে সাধারণত। এই সময়ের মধ্যে পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে সময়মতো পাবেন। কখনো কখনো একটু দেরি হতে পারে।

এক্সপ্রেস ডেলিভারিতে মাত্র ৭ দিন লাগে। এটা জরুরি ভ্রমণের জন্য ভালো। সুপার এক্সপ্রেস নিলে ৩ দিনেই পাবেন। তবে খরচ বেশি হয় এক্ষেত্রে। আবেদনের পর ট্র্যাকিং করতে পারবেন অনলাইনে। তাই কোথায় আছে পাসপোর্ট জানতে পারবেন সহজেই।

ডেলিভারি টাইপসময়৪৮ পৃষ্ঠা ফি৬৪ পৃষ্ঠা ফি
নরমাল২১ দিন৬,৫০০ টাকা৮,৫০০ টাকা
এক্সপ্রেস৭ দিন৯,৫০০ টাকা১১,৫০০ টাকা
সুপার এক্সপ্রেস৩ দিন১২,৫০০ টাকা১৪,৫০০ টাকা

ই-পাসপোর্ট চেক করার নিয়ম

একজন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা কম্পিউটারে ই-পাসপোর্ট যাচাই করছেন, পাশে লেখা "E-PASSPORT VERIFICATION" বোর্ড এবং পটভূমিতে বাংলাদেশের পতাকা দৃশ্যমান।

ই-পাসপোর্ট চেক করার নিয়ম জানা জরুরি। পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর প্রথমে সব তথ্য মিলিয়ে নিন। নাম, জন্ম তারিখ, ছবি সঠিক আছে কিনা দেখুন।

পাসপোর্ট নম্বর এবং মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ চেক করুন। কোনো ভুল থাকলে তাড়াতাড়ি পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করুন। ভুল সংশোধনের জন্য আলাদা ফি দিতে হতে পারে।

চিপ ঠিকমতো কাজ করছে কিনা পরীক্ষা করুন। এয়ারপোর্টে মেশিনে চেক করিয়ে নিশ্চিত হন। সমস্যা থাকলে নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করুন।

ই-পাসপোর্ট ট্র্যাকিং করার নিয়ম

আবেদনের পর ট্র্যাকিং খুব জরুরি। এতে জানা যায় পাসপোর্ট কোথায় আছে। ওয়েবসাইটে ট্র্যাকিং অপশন আছে। সেখানে আবেদন নম্বর দিতে হয়। তারপর স্ট্যাটাস দেখা যাবে স্ক্রিনে।

বিভিন্ন স্ট্যাটাস দেখতে পারবেন। আবেদন গৃহীত, পুলিশ ভেরিফিকেশন, প্রিন্টিং ইত্যাদি। প্রতিটি ধাপ আপডেট হয় নিয়মিত। এসএমএসও পাবেন মোবাইলে। গুরুত্বপূর্ণ আপডেট এলে জানিয়ে দেয়। তাই মোবাইল নম্বর সঠিক দেওয়া জরুরি।

ই-পাসপোর্টের মেয়াদ

ই-পাসপোর্টের মেয়াদ নির্ভর করে আপনার বেছে নেওয়া প্যাকেজের ওপর। পাঁচ বছর এবং দশ বছর – এই দুই ধরনের মেয়াদ পাওয়া যায়। বেশিরভাগ মানুষ দশ বছরের পাসপোর্ট নেন।

দশ বছরের পাসপোর্ট নিলে বার বার রিনিউ করতে হয় না। অর্থনৈতিক দিক থেকেও লাভজনক। একবার খরচ করলে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়।

মেয়াদ শেষ হওয়ার ছয় মাস আগে নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করুন। অনেক দেশ ছয় মাসের কম মেয়াদ থাকলে ভিসা দেয় না। তাই সময়মতো রিনিউ করুন।

ই-পাসপোর্ট ফরম পূরণ

ই-পাসপোর্ট ফরম পূরণ করার সময় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। সব তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী দিন। নাম বানানে কোনো ভুল করবেন না।

ইংরেজি বানানে বিশেষ খেয়াল রাখুন। কারণ পাসপোর্টে ইংরেজি নাম ব্যবহার হয়। জন্ম তারিখ সঠিক দিন। ভুল তারিখ দিলে ভবিষ্যতে সমস্যা হবে।

ঠিকানা স্পষ্ট এবং পূর্ণাঙ্গ লিখুন। ডাকঘর, থানা, জেলার নাম উল্লেখ করুন। মোবাইল নম্বর এবং ইমেইল ঠিক দিন। এর মাধ্যমে যোগাযোগ করা হবে।

পাসপোর্ট অফিসের ঠিকানা

পাসপোর্ট অফিসের ঠিকানা জানা থাকলে সময় বাঁচে। ঢাকায় মোট পাঁচটি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস আছে। আগারগাঁও, উত্তরা, গুলশান এলাকায় অফিস রয়েছে।

জেলা পর্যায়েও পাসপোর্ট অফিস আছে। সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুরে আঞ্চলিক অফিস রয়েছে। নিকটতম অফিসে যোগাযোগ করুন।

অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় নির্দিষ্ট অফিসে যেতে হবে। ভুল অফিসে গেলে সেবা পাবেন না। তাই আগে থেকে ঠিকানা এবং রুট জেনে নিন।

পাসপোর্ট অফিসে ই-পাসপোর্ট করার নিয়ম

অনলাইনে আবেদনের পর অফিসে যেতে হয়। সেখানে বায়োমেট্রিক তথ্য দিতে হয়। আঙুলের ছাপ এবং ছবি নেওয়া হয়। এনরোলমেন্ট স্লিপ সাথে নিয়ে যাবেন। সব আসল কাগজপত্র নিয়ে যাবেন অবশ্যই।

  • সময়মতো অফিসে পৌঁছান দেরি করবেন না
  • সব ডকুমেন্টের ফটোকপি সাথে রাখুন
  • ড্রেস কোড মেনে চলুন অফিসিয়াল পোশাক পরুন
  • মোবাইল ফোন সাইলেন্ট রাখুন অফিসে
  • কর্মকর্তাদের নির্দেশনা মেনে চলুন ভালোভাবে

অফিসে প্রক্রিয়া সাধারণত ৩০ মিনিট লাগে। ভিড় থাকলে একটু বেশি সময় লাগতে পারে। সব কিছু শেষ হলে একটি রসিদ পাবেন। সেই রসিদ সংরক্ষণ করুন সাবধানে। পরে পাসপোর্ট তুলতে এই রসিদ লাগবে। অফিসের পরিবেশ এখন অনেক ভালো এবং পরিষ্কার।

ই-পাসপোর্টের জন্য ছবি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ম

ছবির জন্য কিছু নিয়ম মানতে হয়। ব্যাকগ্রাউন্ড অবশ্যই সাদা হবে। চশমা পরলে চলবে না ছবিতে। মাথায় টুপি বা স্কার্ফ থাকা যাবে না। মুখ পরিষ্কার দেখা যেতে হবে। ছবির সাইজ ৩০০x৩০০ পিক্সেল।

ফিঙ্গারপ্রিন্ট অফিসে দিতে হয়। দশ আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়। এটা বায়োমেট্রিক নিরাপত্তার জন্য। আইরিস স্ক্যানও করা হয় কখনো কখনো। সব তথ্য চিপে সংরক্ষিত হয়। এতে পাসপোর্ট জাল করা অসম্ভব হয়ে যায়।

ই-পাসপোর্টের সুবিধা ও অসুবিধা

ই-পাসপোর্টের অনেক সুবিধা আছে। প্রথমত এটা খুবই নিরাপদ। জাল করা প্রায় অসম্ভব। বায়োমেট্রিক তথ্য থাকে চিপে। বিমানবন্দরে দ্রুত ইমিগ্রেশন হয়। অনেক দেশে ই-গেট ব্যবহার করা যায়। লাইনে দাঁড়াতে হয় কম।

  • নিরাপত্তা বেশি হয় জাল করা কঠিন
  • ইমিগ্রেশন দ্রুত হয় বিমানবন্দরে
  • অনেক দেশে ভিসা পেতে সুবিধা
  • দীর্ঘ মেয়াদের জন্য ভালো
  • আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী তৈরি

তবে কিছু অসুবিধাও আছে। খরচ একটু বেশি লাগে। পুরনো পাসপোর্টের চেয়ে দাম বেশি। চিপ নষ্ট হলে সমস্যা হয়। তবে সাবধানে রাখলে সমস্যা নেই। সামগ্রিকভাবে সুবিধাই বেশি মনে হয়।

ই-পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়ম

পুরনো পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে রিনিউ করতে হয়। রিনিউ প্রক্রিয়া নতুন করার মতোই। তবে কিছু তথ্য আগে থেকেই থাকে সিস্টেমে। পুরনো পাসপোর্ট নম্বর দিতে হবে। তারপর বাকি তথ্য আপডেট করুন প্রয়োজনমতো।

  • পুরনো পাসপোর্ট হাতে রাখুন আবেদনের সময়
  • নতুন ছবি তুলুন সাম্প্রতিক সময়ের
  • বায়োমেট্রিক আবার দিতে হবে অফিসে
  • ফি পেমেন্ট করুন নতুন পাসপোর্টের মতো
  • ডেলিভারি টাইম একই থাকে রিনিউতে

রিনিউ করতে একই সময় লাগে। নরমাল ডেলিভারিতে ২১ দিন। এক্সপ্রেস নিলে দ্রুত পাবেন। পুরনো পাসপোর্ট বাতিল হয়ে যায় নতুন পেলে। তবে ভিসা থাকলে পুরনোটা রাখতে পারবেন। দুটো পাসপোর্ট একসাথে ব্যবহার করা যায় না। শুধু রেফারেন্সের জন্য রাখা যায় পুরনোটা।

মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট থেকে ই-পাসপোর্ট

মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট থেকে ই-পাসপোর্ট করার নিয়ম সহজ। পুরাতন পাসপোর্ট থাকলে তা জমা দিতে হবে। নতুন করে আবেদন করতে হবে।

সব প্রক্রিয়া নতুন পাসপোর্টের মতোই। তবে কিছু ক্ষেত্রে সুবিধা পাবেন। আগের তথ্য ব্যবহার করা যেতে পারে। যাচাইয়ের সময় কম লাগে।

ই-পাসপোর্ট পাওয়ার পর পুরাতন পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া হয়। তাতে বাতিল সিল দেওয়া থাকে। স্মৃতি হিসেবে রাখতে পারেন।

ই-পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক

মোবাইল স্ক্রিনে ই-পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করার অ্যাপ্লিকেশন প্রদর্শিত হচ্ছে

ই-পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করার সুবিধা রয়েছে। www.epassport.gov.bd সাইটে গিয়ে ‘স্ট্যাটাস চেক’ ক্লিক করুন। রেফারেন্স নম্বর এবং জন্ম তারিখ দিন।

তাহলে আপনার আবেদনের বর্তমান অবস্থা দেখতে পাবেন। কোন পর্যায়ে আছে তা জানা যাবে। কতদিন আরও সময় লাগবে সে তথ্যও পাবেন।

এছাড়া ফোনে কল করেও স্ট্যাটাস জানা যায়। হটলাইন নম্বর ১৬৩। যেকোনো সময় কল করুন। তবে ব্যস্ত থাকতে পারে।

ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগবে

ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগবে এই তালিকা জানা জরুরি। প্রথমত, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি। মূল কপি সাথে নিন।

জন্ম নিবন্ধন সনদ বা সার্টিফিকেট। এসএসসি বা সমমানের সার্টিফিকেট। যদি বিবাহিত হন তাহলে বিয়ের সার্টিফিকেট।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রয়োজন নেই। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে লাগতে পারে। নো অবজেকশন সার্টিফিকেট সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য।

পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে না। অফিসে গিয়ে ছবি তোলা হয়। তবে অনলাইন আবেদনের সময় ডিজিটাল ছবি আপলোড করতে হয়।

উপসংহার

১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট করা এখন আগের চেয়ে সহজ। ঘরে বসে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। খরচ একটু বেশি হলেও সুবিধা অনেক। বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা পাচ্ছেন এতে। বিমানবন্দরে দ্রুত ইমিগ্রেশন হয় ই-পাসপোর্ট দিয়ে।

২০২৫ সালে সরকার প্রক্রিয়া আরও সহজ করেছে। মোবাইল অ্যাপ চালু হয়েছে নতুন। সব জেলায় পাসপোর্ট অফিস আছে এখন। ঢাকায় না এসেও করতে পারবেন। সময় বাঁচবে এবং ঝামেলা কমবে।

আবেদন করার আগে সব কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন। ছবি এবং স্বাক্ষর স্ক্যান করে রাখুন। এনআইডি অবশ্যই লাগবে মনে রাখবেন। পেমেন্ট করার জন্য মোবাইল ব্যাংকিং রেডি রাখুন। সব ঠিকঠাক থাকলে দ্রুত পাসপোর্ট পাবেন।

জরুরি ভ্রমণ থাকলে এক্সপ্রেস ডেলিভারি নিন। খরচ বেশি হবে কিন্তু দ্রুত পাবেন। নরমাল ডেলিভারিতে একটু সময় লাগে। তবে খরচ কম হয় অনেক। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নিন।

পাসপোর্ট পাওয়ার পর সাবধানে রাখবেন। চিপ নষ্ট হলে সমস্যা হয়। পানি থেকে দূরে রাখুন সবসময়। ভ্রমণের আগে মেয়াদ চেক করুন। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রিনিউ করুন। তাহলে কোনো সমস্যা হবে না।

ই-পাসপোর্ট আধুনিক বিশ্বের চাহিদা। অনেক দেশে এটা বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে। বাংলাদেশও এগিয়ে যাচ্ছে এই ক্ষেত্রে। তাই এখনই করে ফেলুন ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট। ভবিষ্যতে কাজে লাগবে অবশ্যই।

এই পোস্টটি সর্বশেষ আপডেট করা হয়েছে: অক্টোবর,২০২৫

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী(FAQs)

১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে?

সাধারণ ডেলিভারির জন্য ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট করতে ৩,৫০০ টাকা এবং জরুরি ডেলিভারির জন্য ৫,৫০০ টাকা লাগে।

১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট পেতে কতদিন সময় লাগে?

১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট সাধারণ ডেলিভারিতে ২১ কার্যদিবস এবং জরুরি ডেলিভারিতে ৭ কার্যদিবস সময় লাগে।

১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট অনলাইনে আবেদন করার ওয়েবসাইট কোনটি?

১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট এর জন্য www.epassport.gov.bd এই সাইটে অনলাইন আবেদন করা যায়।

১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট করতে কি কি কাগজপত্র লাগে?

জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন সনদ, শিক্ষাগত সার্টিফিকেট প্রয়োজন।

১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট স্ট্যাটাস কিভাবে চেক করব?

অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে রেফারেন্স নম্বর দিয়ে স্ট্যাটাস চেক করা যায়।

অতিরিক্ত পৃষ্ঠার জন্য কত টাকা লাগে?

প্রতি ১৬ পৃষ্ঠার জন্য ২০০ টাকা অতিরিক্ত ফি দিতে হয়।

১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট এ কি কি সুবিধা আছে?

১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট আন্তর্জাতিক মানের, নিরাপদ, দ্রুত যাচাই, ই-গেট ব্যবহারযোগ্য।

নাবালকদের জন্য কি বিশেষ নিয়ম আছে?

হ্যাঁ, নাবালকদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি এবং উপস্থিতি প্রয়োজন।

১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে কি করব?

প্রথমে পুলিশে জিডি করুন। তারপর জিডি কপিসহ নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করুন। অতিরিক্ত ১০০০ টাকা ফি দিতে হবে।

বিদেশে থাকলে কিভাবে ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট রিনিউ করব?

নিকটতম বাংলাদেশি দূতাবাস বা কনস্যুলেটে যোগাযোগ করুন। সেখানে পাসপোর্ট রিনিউয়ের সুবিধা আছে। তবে সময় বেশি লাগতে পারে।

ঘরে বসে কি ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা যায়?

হ্যাঁ, সম্পূর্ণ অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। www.epassport.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন। ফর্ম পূরণ করে পেমেন্ট করুন। তবে বায়োমেট্রিকের জন্য অফিসে যেতে হবে।

পাসপোর্ট ট্র্যাকিং কীভাবে করব?

ওয়েবসাইটে ট্র্যাকিং অপশন আছে। আবেদন নম্বর দিয়ে চেক করতে পারবেন। এসএমএসও পাবেন মোবাইলে নিয়মিত। স্ট্যাটাস দেখা যাবে অনলাইনে। প্রতিটি ধাপ আপডেট হয় সিস্টেমে।

পেমেন্ট কীভাবে করতে হয়?

অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবহার করতে পারবেন। ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড দিয়ে করা যায়। বিকাশ নগদ রকেট সব চলে। ব্যাংকে গিয়েও পেমেন্ট করা যায়। পেমেন্ট রসিদ সংরক্ষণ করবেন।

জরুরি পাসপোর্ট কখন নেওয়া উচিত?

হঠাৎ বিদেশ যেতে হলে নিতে পারেন। চিকিৎসার জন্য জরুরি ভ্রমণে দরকার। চাকরির সাক্ষাৎকারের জন্যও নেওয়া যায়। তবে খরচ অনেক বেশি হয়। সময় থাকলে নরমাল ডেলিভারিই ভালো।

🔥 পোস্টটি শেয়ার করুনঃ 🌍

Scroll to Top