শীতকাল বাংলাদেশের সবচেয়ে মনোরম ঋতু। এই সময় আবহাওয়া থাকে মনোরম এবং শীতল। ঠান্ডা বাতাস, কুয়াশা আর শিশিরে ভেজা সকাল শীতের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই নিবন্ধে আমরা শীতকালীন আবহাওয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। জানব শীতের বিভিন্ন দিক এবং এর প্রভাব সম্পর্কে।
বাংলাদেশের শীত মৌসুম অনেকের কাছে প্রিয়। কারণ এই সময় আবহাওয়া থাকে মনোরম। ঠান্ডা বাতাস সবাইকে স্বস্তি দেয়। তাই শীতকালীন আবহাওয়া সম্পর্কে জানা জরুরি।
বাংলাদেশে শীতকালীন আবহাওয়া কেমন থাকে

বাংলাদেশে শীতকালীন আবহাওয়া সাধারণত শুষ্ক এবং ঠান্ডা থাকে। এই সময় তাপমাত্রা অনেক কমে যায়। বিশেষ করে রাতে এবং সকালে ঠান্ডা বেশি অনুভূত হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের তীব্রতা ভিন্ন হয়। উত্তরাঞ্চলে শীত বেশি পড়ে। দক্ষিণাঞ্চলে তুলনামূলকভাবে কম ঠান্ডা থাকে।
শীতকালে আকাশ থাকে পরিষ্কার এবং মেঘমুক্ত। সূর্যের আলো উজ্জ্বল থাকে কিন্তু তাপ কম। বাতাস বয়ে আসে উত্তর দিক থেকে। এই বাতাস শুষ্ক এবং ঠান্ডা হয়। তাই আর্দ্রতা কমে যায়। এই সময় বৃষ্টি খুবই কম হয়।
শীতকালীন আবহাওয়া কৃষির জন্য উপযুক্ত। অনেক ফসল এই সময় ভালো জন্মায়। বোরো ধান, গম, আলু, সরিষা এসব ফসল শীতে চাষ হয়। শীতের শুষ্ক আবহাওয়া এই ফসলগুলোর জন্য আদর্শ।
শীতকাল কখন শুরু হয়
বাংলাদেশে শীতকাল সাধারণত নভেম্বর মাসের শেষ থেকে শুরু হয়। তবে পুরোপুরি শীতের অনুভূতি আসে ডিসেম্বর থেকে। এই সময় তাপমাত্রা দ্রুত কমতে থাকে। রাতের তাপমাত্রা নেমে যায় অনেক নিচে।
শীতকাল চলে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত। তিন থেকে চার মাস স্থায়ী হয় এই ঋতু। জানুয়ারি মাসে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকে। এই মাসে ঠান্ডা সবচেয়ে প্রবল হয়। কুয়াশাও এই সময় ঘন হয়।
শীত শুরুর আগে হেমন্ত ঋতু থাকে। হেমন্তে আবহাওয়া পরিবর্তন শুরু হয়। তাপমাত্রা আস্তে আস্তে কমতে থাকে। এরপর পুরোপুরি শীতের আগমন ঘটে।
শীতকালে কুয়াশার পরিমাণ
শীতকালে কুয়াশা খুব সাধারণ ঘটনা। বিশেষ করে সকালের দিকে ঘন কুয়াশা দেখা যায়। এই কুয়াশা দৃশ্যমানতা কমিয়ে দেয়। রাস্তায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। নদী এবং জলাশয়ের কাছে কুয়াশা বেশি হয়।
কুয়াশা তৈরি হয় ঠান্ডা বাতাস এবং আর্দ্রতার কারণে। রাতে তাপমাত্রা কমে গেলে বাতাসের জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়। এটি ছোট ছোট পানির কণায় পরিণত হয়। এই কণাগুলো মিলে তৈরি হয় কুয়াশা।
শীতকালে কুয়াশার প্রভাব:
- যানবাহন চলাচলে সমস্যা হয়, দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে
- বিমান এবং নৌযান চলাচল বিলম্বিত হয়
- সূর্যের আলো ঠিকমতো পৌঁছায় না, ফসলের ক্ষতি হতে পারে
- শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বৃদ্ধি পায়
- দৈনন্দিন কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটে
শীতকালে তাপমাত্রা কেমন থাকে
শীতকালে বাংলাদেশের তাপমাত্রা থাকে ১০ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। তবে বিভিন্ন অঞ্চলে এই তাপমাত্রা ভিন্ন হয়। উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা অনেক কম থাকে। কখনো কখনো ৫ ডিগ্রি পর্যন্ত নেমে যায়।
দিনের বেলা তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। সূর্যের তাপে আবহাওয়া মনোরম হয়। কিন্তু রাতে তাপমাত্রা দ্রুত কমে। এই তাপমাত্রার পার্থক্য শীতের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। সকালেও ঠান্ডা থাকে অনেক।
শীতের শুরুতে তাপমাত্রা মাঝারি থাকে। কিন্তু ধীরে ধীরে কমতে থাকে। জানুয়ারিতে সবচেয়ে কম তাপমাত্রা রেকর্ড হয়। এরপর ফেব্রুয়ারি থেকে আবার বাড়তে শুরু করে।
বাংলাদেশের ঠান্ডা পড়ার সময়
বাংলাদেশে প্রকৃত ঠান্ডা পড়ে ডিসেম্বর মাস থেকে। এই সময় থেকে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে থাকে। মানুষ শীতের পোশাক পরা শুরু করে। গরম কাপড়ের চাহিদা বাড়ে।
জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ঠান্ডা থাকে সবচেয়ে বেশি। এই দুই মাস শীতের পিক সিজন। রাতে তাপমাত্রা অনেক নিচে নেমে যায়। সকালে কুয়াশা এবং শিশির থাকে প্রচুর।
ঠান্ডা পড়ার সময় অঞ্চলভেদে ভিন্ন হয়। উত্তরবঙ্গে নভেম্বর শেষ থেকেই ঠান্ডা শুরু হয়। দক্ষিণাঞ্চলে ডিসেম্বর মাঝামাঝি থেকে ঠান্ডা অনুভূত হয়। পাহাড়ি অঞ্চলে ঠান্ডা বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয়।
শীতকালে কোন মাস সবচেয়ে ঠান্ডা
জানুয়ারি মাস বাংলাদেশে সবচেয়ে ঠান্ডা মাস। এই মাসে তাপমাত্রা সবচেয়ে কম থাকে। বিশেষ করে জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে তীব্র শীত পড়ে। এই সময় রাতের তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রিতে নামতে পারে।
জানুয়ারিতে কুয়াশাও থাকে সবচেয়ে ঘন। সকাল পর্যন্ত কুয়াশা থাকে। দৃশ্যমানতা অনেক কমে যায়। এই মাসে শীতের পোশাকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। মানুষ গরম কাপড় পরে ঠান্ডা থেকে বাঁচতে।
জানুয়ারি মাসের বৈশিষ্ট্য:
- সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় এই মাসে
- ঘন কুয়াশা প্রায় প্রতিদিন দেখা যায়
- শিশিরপাত হয় সবচেয়ে বেশি
- উত্তরাঞ্চলে হিমশীতল বাতাস বয়
- রাত এবং সকাল থাকে অত্যন্ত ঠান্ডা
বাংলাদেশে শীতের তীব্রতা
বাংলাদেশে শীতের তীব্রতা মাঝারি থেকে মৃদু পর্যায়ের। তবে উত্তরাঞ্চলে তীব্র শীত অনুভূত হয়। এই অঞ্চলে তাপমাত্রা অনেক কম থাকে। দিনাজপুর, পঞ্চগড়, নীলফামারীতে শীত পড়ে সবচেয়ে বেশি।
শীতের তীব্রতা বছরের পর বছর ভিন্ন হয়। কোনো বছর শীত হয় মৃদু। আবার কোনো বছর তীব্র শীত পড়ে। এটি নির্ভর করে বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থার উপর। এল নিনো এবং লা নিনার প্রভাবও থাকে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শীতের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই পরিবর্তন হচ্ছে। তবে এখনো উত্তরাঞ্চলে প্রবল শীত পড়ে। দরিদ্র মানুষ শীতে অনেক ভোগেন।
দেশের কোন অঞ্চলে বেশি শীত পড়ে
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি শীত পড়ে। বিশেষ করে দিনাজপুর, পঞ্চগড়, রংপুর এবং নীলফামারী জেলায়। এই অঞ্চলগুলো দেশের সবচেয়ে শীতল স্থান। তাপমাত্রা কখনো কখনো ৫ ডিগ্রির নিচে নামে।
পাহাড়ি অঞ্চলেও প্রবল শীত পড়ে। রাঙামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়িতে ঠান্ডা বেশি। পাহাড়ের উঁচু জায়গায় তাপমাত্রা আরও কম। এসব এলাকায় শীতকাল দীর্ঘস্থায়ী হয়।
দক্ষিণাঞ্চলে তুলনামূলক কম শীত পড়ে। উপকূলীয় এলাকায় তাপমাত্রা মাঝারি থাকে। সমুদ্রের প্রভাবে আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ হয়। ঢাকা এবং চট্টগ্রামে শীত পড়ে মাঝারি মাত্রায়।
শীতকালের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য
শীতকালের জলবায়ু শুষ্ক এবং ঠান্ডা প্রকৃতির। এই সময় বৃষ্টিপাত খুবই কম হয়। আকাশ থাকে পরিষ্কার এবং মেঘমুক্ত। সূর্যের আলো পাওয়া যায় পর্যাপ্ত। কিন্তু তাপ কম থাকে।
বাতাসের আর্দ্রতা কমে যায় শীতকালে। এই কারণে ত্বক এবং ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যায়। বাতাস বয়ে আসে উত্তর এবং উত্তর-পূর্ব দিক থেকে। এই বাতাস শীতল এবং শুষ্ক হয়। তাই ঠান্ডা অনুভূত হয় বেশি।
শীতকালের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য:
- শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করে
- বৃষ্টিপাতের পরিমাণ থাকে নগণ্য
- দিন ছোট এবং রাত দীর্ঘ হয়
- সূর্যোদয় দেরিতে এবং সূর্যাস্ত তাড়াতাড়ি হয়
- আকাশ থাকে পরিষ্কার এবং উজ্জ্বল
শীতকালে পাহাড়ি এলাকার আবহাওয়া
পাহাড়ি এলাকায় শীতকালীন আবহাওয়া বেশ ভিন্ন। এই অঞ্চলে ঠান্ডা পড়ে প্রবলভাবে। উচ্চতার কারণে তাপমাত্রা কম থাকে। রাতে তাপমাত্রা অনেক নিচে নামে। কখনো কখনো ৮ ডিগ্রির কাছাকাছি হয়।
পাহাড়ি অঞ্চলে কুয়াশা হয় খুব ঘন। বিশেষ করে উঁচু পাহাড়ে মেঘ এবং কুয়াশা থাকে সারাদিন। এই কারণে দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি হয়। সূর্যের আলো ঠিকমতো পৌঁছায় না।
পাহাড়ি এলাকার মানুষ শীতে বেশি কষ্ট পায়। তাদের বাড়ি সাধারণত ছোট এবং কাঠের তৈরি। ঠান্ডা থেকে বাঁচতে আগুন জ্বালিয়ে রাখে। গরম পোশাকের খুবই প্রয়োজন হয়।
বর্ষপূর্বর্বতী শীতের পূর্বাভাস
শীতের পূর্বাভাস দেওয়া হয় আবহাওয়া দপ্তর থেকে। তারা বিভিন্ন উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পূর্বাভাস দেয়। স্যাটেলাইট এবং রাডার ব্যবহার করা হয়। এতে শীতের তীব্রতা এবং সময়কাল জানা যায়।
বর্ষপূর্বর্বতী পূর্বাভাসে বলা হয় শীত কতটা তীব্র হবে। কোন মাসে শীত বেশি থাকবে। তাপমাত্রা কত কম হতে পারে। এই তথ্য মানুষকে প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করে।
আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন মডেল ব্যবহার করেন। এই মডেলগুলো শীতের প্রবণতা বুঝতে সাহায্য করে। তবে পূর্বাভাস সবসময় ১০০% নির্ভুল হয় না। প্রকৃতির আচরণ অনেক সময় অপ্রত্যাশিত হয়।
এল নিনো–লা নিনো ও শীতের প্রভাব
এল নিনো এবং লা নিনা হলো প্রশান্ত মহাসাগরের জলবায়ু ঘটনা। এগুলো বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ায় প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশের শীতকালীন আবহাওয়াতেও এর প্রভাব দেখা যায়। লা নিনার বছরে শীত বেশি পড়ে।
এল নিনো বছরে শীত হয় মৃদু। তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকে। কুয়াশাও কম হয়। লা নিনা বছরে উল্টো ঘটনা ঘটে। শীত পড়ে প্রবল। তাপমাত্রা কমে যায় অনেক।
এই জলবায়ু ঘটনাগুলো প্রতি কয়েক বছর পরপর ঘটে। বিজ্ঞানীরা এগুলো পর্যবেক্ষণ করেন নিয়মিত। এর মাধ্যমে শীতের পূর্বাভাস দেওয়া সহজ হয়। মানুষ আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে পারে।
| জলবায়ু ঘটনা | শীতের প্রভাব | তাপমাত্রার অবস্থা | কুয়াশার পরিমাণ |
| এল নিনো | মৃদু শীত | তুলনামূলক বেশি | কম |
| লা নিনা | তীব্র শীত | অনেক কম | বেশি |
| স্বাভাবিক বছর | মাঝারি শীত | মাঝারি | মাঝারি |
শীতকালে উত্তরাঞ্চলের আবহাওয়া
উত্তরাঞ্চল বাংলাদেশের সবচেয়ে শীতল অঞ্চল। এখানে শীতকালীন আবহাওয়া থাকে অত্যন্ত ঠান্ডা। রাতে এবং সকালে তাপমাত্রা নেমে যায় ৬ থেকে ৮ ডিগ্রিতে। দিনাজপুরে সবচেয়ে কম তাপমাত্রা রেকর্ড হয়।
উত্তরাঞ্চলে কুয়াশা থাকে অত্যন্ত ঘন। সকাল ১০-১১টা পর্যন্ত কুয়াশা থাকে। এই কারণে যানবাহন চলাচলে বিপত্তি হয়। মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়। শিশির পড়ে প্রচুর পরিমাণে।
উত্তরাঞ্চলের মানুষ শীতে বেশি ভোগেন। দরিদ্র মানুষের কাছে পর্যাপ্ত গরম কাপড় থাকে না। শীত নিবারণের জন্য ত্রাণ কার্যক্রম চলে। সরকার এবং বিভিন্ন সংস্থা সাহায্য করে।
শীতকালে কুয়াশা কেন বাড়ে
শীতকালে কুয়াশা বাড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ আছে। প্রথমত রাতে তাপমাত্রা অনেক কমে যায়। ঠান্ডা বাতাস বেশি জলীয় বাষ্প ধরে রাখতে পারে না। তাই বাষ্প ঘনীভূত হয়ে পানির কণা তৈরি করে।
দ্বিতীয়ত শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা থাকে। রাতে এই আর্দ্রতা ঠান্ডা হয়ে কুয়াশায় রূপান্তরিত হয়। বিশেষ করে নদী এবং জলাশয়ের কাছে কুয়াশা বেশি। কারণ সেখানে আর্দ্রতা বেশি থাকে।
তৃতীয়ত শীতকালে বাতাস শান্ত থাকে। তাই কুয়াশা ছড়িয়ে যায় না। একই জায়গায় থেকে যায়। সূর্য ওঠার পর তাপমাত্রা বাড়লে কুয়াশা কেটে যায়। তবে ঘন কুয়াশা সকাল পর্যন্ত থাকতে পারে।
শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা
শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যায়। এই সময় আপেক্ষিক আর্দ্রতা থাকে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ। গ্রীষ্মকালের তুলনায় এটি অনেক কম। কম আর্দ্রতার কারণে বাতাস শুষ্ক অনুভূত হয়।
কম আর্দ্রতার প্রভাব পড়ে মানুষের শরীরে। ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। ঠোঁট ফেটে যায়। চুল রুক্ষ হয়ে পড়ে। শ্বাসনালীতেও শুষ্কতা অনুভূত হয়। এই কারণে কাশি এবং ঠান্ডা লাগার প্রবণতা বাড়ে।
কম আর্দ্রতার প্রভাব:
- ত্বক এবং ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যায়
- চুল হয় রুক্ষ এবং নিস্তেজ
- শ্বাসনালীতে শুষ্কতা অনুভূত হয়
- স্থির বিদ্যুৎ তৈরি হয় বেশি
- কাঠের আসবাবপত্র ফেটে যেতে পারে
শীতকালের দৈনিক তাপমাত্রা পরিবর্তন
শীতকালে দৈনিক তাপমাত্রা পরিবর্তন হয় উল্লেখযোগ্যভাবে। রাতে তাপমাত্রা থাকে সবচেয়ে কম। ভোরে তাপমাত্রা নেমে যায় আরও কিছুটা। এই সময় সবচেয়ে বেশি ঠান্ডা অনুভূত হয়।
সকাল থেকে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে। সূর্যের তাপে দুপুরে তাপমাত্রা পৌঁছায় সর্বোচ্চে। এই সময় আবহাওয়া থাকে মনোরম। বিকেলে আবার তাপমাত্রা কমতে থাকে। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত তাপমাত্রা দ্রুত পতন ঘটে।
দৈনিক তাপমাত্রার এই পরিবর্তন ১০ থেকে ১৫ ডিগ্রি হতে পারে। এটি শীতকালের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এই পরিবর্তনের কারণে দিন এবং রাতের পার্থক্য স্পষ্ট বোঝা যায়।
শীতকালে নদী–উপকূল অঞ্চলের আবহাওয়া
নদী এবং উপকূল অঞ্চলের শীতকালীন আবহাওয়া কিছুটা ভিন্ন। এসব এলাকায় তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকে। পানির প্রভাবে আবহাওয়া হয় নাতিশীতোষ্ণ। তবে কুয়াশা এখানে বেশি ঘন হয়।
নদীর কাছাকাছি এলাকায় কুয়াশা থাকে সারারাত এবং সকাল পর্যন্ত। এই কারণে নৌযান চলাচলে সমস্যা হয়। দৃশ্যমানতা কমে যায় অনেক। নৌ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।
উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রের বাতাস প্রভাব ফেলে। এই বাতাস তাপমাত্রা মাঝারি রাখে। তাই চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারে শীত পড়ে কম। তবে আর্দ্রতা থাকে বেশি।
শীতকালে বৃষ্টির সম্ভাবনা
শীতকালে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে খুবই কম। এই ঋতু শুষ্ক প্রকৃতির। মেঘ তৈরি হয় না তেমন। তাই বৃষ্টি হয় না বললেই চলে। তবে মাঝেমধ্যে হালকা বৃষ্টি হতে পারে।
বছরের কোনো কোনো সময় পশ্চিমা ঝঞ্ঝা আসে। এই ঝঞ্ঝার প্রভাবে কিছু বৃষ্টি হতে পারে। তবে এই বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হয় না। মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য হয়। এরপর আবার আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায়।
শীতকালে বৃষ্টির অভাবে কৃষিকাজে সেচের প্রয়োজন হয়। ফসল ফলাতে পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে হয়। তবে শুষ্ক আবহাওয়া অনেক ফসলের জন্য উপযুক্ত।
| মাস | বৃষ্টির সম্ভাবনা | গড় বৃষ্টিপাত (মিমি) | আর্দ্রতা (%) |
| নভেম্বর | খুব কম | ১০-১৫ | ৬৫-৭০ |
| ডিসেম্বর | নগণ্য | ৫-১০ | ৫৫-৬০ |
| জানুয়ারি | নগণ্য | ৩-৮ | ৫০-৫৫ |
| ফেব্রুয়ারি | কম | ১৫-২০ | ৫৫-৬৫ |
বাংলাদেশে শীতকালে তাপমাত্রার রেকর্ড
বাংলাদেশে এপর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হলো ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ১৯৬৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। স্থান ছিল শ্রীমঙ্গল। এটি ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে ঠান্ডা দিন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে তেঁতুলিয়ায়। পঞ্চগড় জেলার এই উপজেলায় প্রায় প্রতি বছর তাপমাত্রা নামে ৪-৫ ডিগ্রিতে। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে ঠান্ডা স্থান।
শীতকালে বিভিন্ন জেলায় ভিন্ন ভিন্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়। উত্তরাঞ্চলে ৬-৮ ডিগ্রি সাধারণ। মধ্যাঞ্চলে ১০-১২ ডিগ্রি। দক্ষিণাঞ্চলে ১৪-১৬ ডিগ্রি থাকে।
শীতকালের সকালে কুয়াশার ঘনত্ব
শীতকালের সকালে কুয়াশা থাকে সবচেয়ে ঘন। রাতভর ঠান্ডা হওয়ার পর সকালে কুয়াশা জমাট বাঁধে। ভোর থেকে সকাল ৯-১০টা পর্যন্ত কুয়াশা থাকে। এই সময় দৃশ্যমানতা কমে যায় ৫০ মিটারের নিচে।
ঘন কুয়াশায় রাস্তায় চলাচল বিপজ্জনক হয়ে পড়ে। গাড়ির চালকরা সামনে দেখতে পান না ঠিকমতো। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। হেডলাইট জ্বালিয়ে সাবধানে চলতে হয়।
সকালের কুয়াশার প্রভাব:
- যানবাহন চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হয়
- বিমান উড্ডয়ন এবং অবতরণ বিলম্বিত হয়
- নদীতে লঞ্চ এবং ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে
- স্কুল এবং অফিস যেতে বিলম্ব হয়
- কৃষিকাজ শুরু করতে দেরি হয়
শীতকালে কম দৃশ্যমানতার কারণ
শীতকালে দৃশ্যমানতা কমে যায় প্রধানত কুয়াশার কারণে। কুয়াশার ছোট ছোট পানির কণা আলো বিচ্ছুরিত করে। এতে দূরের জিনিস দেখা যায় না। কখনো কখনো দৃশ্যমানতা ৫০ মিটারের কম হয়।
ধোঁয়াশাও দৃশ্যমানতা কমায়। শীতকালে বাতাসে ধুলো এবং দূষণকারী পদার্থ জমে থাকে। বাতাস শান্ত থাকায় এগুলো ছড়ায় না। এই ধোঁয়াশা কুয়াশার সাথে মিশে দৃশ্যমানতা আরও কমিয়ে দেয়।
শহর এলাকায় যানবাহনের ধোঁয়া সমস্যা বাড়ায়। কলকারখানার ধোঁয়াও থাকে বাতাসে। এই সব মিলে তৈরি হয় স্মগ। এটি স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর।
শীতকালে শিশিরপাতের পরিমাণ
শীতকালে শিশিরপাত হয় প্রচুর পরিমাণে। রাতে তাপমাত্রা কমে গেলে বাতাসের জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়। এটি ঘাস এবং গাছের পাতায় জমে শিশির তৈরি করে। সকালে সবকিছু ভিজে থাকে শিশিরে।
শিশির পড়ে সবচেয়ে বেশি খোলা মাঠে। ঘাসের উপর শিশিরের পরিমাণ বেশি দেখা যায়। সূর্যের আলো পড়লে শিশির বাষ্পীভূত হয়ে যায়। তবে সকাল পর্যন্ত থেকে যায়।
শিশিরপাত ফসলের জন্য উপকারী। এটি গাছকে আর্দ্রতা যোগায়। তবে অতিরিক্ত শিশিরে ফসলের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে শাকসবজির পাতায় রোগ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
শীত মৌসুমের আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্য
শীত মৌসুমের আবহাওয়ার কয়েকটি প্রধান বৈশিষ্ট্য আছে। প্রথমত তাপমাত্রা থাকে নিম্ন। দ্বিতীয়ত কুয়াশা এবং শিশির পড়ে। তৃতীয়ত বাতাস থাকে শুষ্ক এবং ঠান্ডা।
শীত মৌসুমে আকাশ পরিষ্কার থাকে। মেঘ তৈরি হয় না। সূর্য উজ্জ্বল থাকে কিন্তু তাপ দেয় কম। বাতাস বয়ে আসে উত্তর দিক থেকে। এই বাতাস শীতল এবং শুষ্ক।
বৃষ্টি হয় খুবই কম। মাসে মাত্র এক-দুইদিন বৃষ্টি হতে পারে। দিন ছোট এবং রাত দীর্ঘ হয়। সূর্যোদয় হয় দেরিতে এবং সূর্যাস্ত হয় তাড়াতাড়ি।
| বৈশিষ্ট্য | বর্ণনা | প্রভাব |
| কম তাপমাত্রা | ১০-২০ ডিগ্রি | ঠান্ডা অনুভূত হয় |
| ঘন কুয়াশা | সকালে সবচেয়ে বেশি | দৃশ্যমানতা কম |
| শুষ্ক বাতাস | আর্দ্রতা কম | ত্বক শুষ্ক হয় |
| পরিষ্কার আকাশ | মেঘ কম | সূর্যের আলো ভালো |
শীতকালে বাতাসের দিক পরিবর্তন
শীতকালে বাতাসের দিক হয় উত্তর এবং উত্তর-পূর্ব। এই দিক থেকে আসে ঠান্ডা বাতাস। গ্রীষ্মকালে বাতাস বয়ে আসে দক্ষিণ থেকে। তাই শীতকালে বাতাসের দিক পরিবর্তন ঘটে।
উত্তর দিক থেকে আসা বাতাস হিমালয় পর্বত অতিক্রম করে আসে। এই কারণে বাতাস হয় অত্যন্ত ঠান্ডা। বাতাসের গতিবেগ থাকে মৃদু থেকে মাঝারি। তাই অস্বস্তিকর বাতাস বয় না।
বাতাসের দিক পরিবর্তন জলবায়ুর স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। পৃথিবীর ঘূর্ণন এবং সূর্যের তাপের কারণে এটি ঘটে। শীতকালে সূর্যের তাপ কম থাকায় বাতাসের প্রবাহ পরিবর্তন হয়।
শীতকালে আবহাওয়ার পরিবর্তনশীলতা
শীতকালের আবহাওয়া মোটামুটি স্থিতিশীল থাকে। তবে মাঝেমধ্যে পরিবর্তন ঘটে। কোনো দিন বেশি ঠান্ডা পড়ে। আবার কোনো দিন তাপমাত্রা বাড়ে। এই পরিবর্তন স্বাভাবিক।
পশ্চিমা ঝঞ্ঝার প্রভাবে হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তন হতে পারে। মেঘলা হয়ে যায় আকাশ। হালকা বৃষ্টিও হয়। তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ে। তবে কয়েকদিন পর আবার স্বাভাবিক হয়।
আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণ:
- বায়ুমণ্ডলের চাপের তারতম্য
- বাতাসের দিক পরিবর্তন
- পশ্চিমা ঝঞ্ঝার প্রভাব
- সমুদ্রের তাপমাত্রার প্রভাব
- মেঘের পরিমাণ বৃদ্ধি
শীতকালে কৃষিতে আবহাওয়ার প্রভাব
শীতকালীন আবহাওয়া কৃষির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় অনেক ফসল চাষ হয়। বোরো ধান, গম, আলু, সরিষা, মসুর প্রভৃতি ফসল শীতে ভালো জন্মায়। শুষ্ক আবহাওয়া এসব ফসলের জন্য আদর্শ।
তবে অতিরিক্ত ঠান্ডা ফসলের ক্ষতি করতে পারে। কুয়াশা দীর্ঘসময় থাকলে সূর্যের আলো পৌঁছায় না। এতে ফসলের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। শিশিরপাতেও কিছু ক্ষতি হয়।
কৃষকরা আবহাওয়া দেখে ফসলের পরিচর্যা করেন। সেচের ব্যবস্থা করেন। কীটনাশক স্প্রে করেন। শীতকালীন আবহাওয়া ভালো থাকলে কৃষি উৎপাদন বাড়ে। এতে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
শীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কোথায় হয়
বাংলাদেশে শীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হয় তেঁতুলিয়ায়। পঞ্চগড় জেলার এই উপজেলা দেশের সবচেয়ে উত্তরে অবস্থিত। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় এখানে ঠান্ডা বেশি পড়ে।
তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা নামে ৩-৫ ডিগ্রি পর্যন্ত। রাতে এবং সকালে ঠান্ডা হয় প্রচণ্ড। মানুষ কম্বল এবং লেপ মুড়ি দিয়ে থাকে। গরিব মানুষ আগুন জ্বালিয়ে রাখে।
এছাড়া দিনাজপুর, রংপুর এবং নীলফামারীতেও কম তাপমাত্রা রেকর্ড হয়। এসব জেলায় তাপমাত্রা ৬-৮ ডিগ্রিতে নামে। উত্তরাঞ্চলের সব জেলাতেই শীত পড়ে তীব্র।
বাংলাদেশের সবচেয়ে শীতল জেলা
বাংলাদেশের সবচেয়ে শীতল জেলা হলো পঞ্চগড়। এই জেলায় প্রতি বছর সবচেয়ে কম তাপমাত্রা রেকর্ড হয়। বিশেষ করে তেঁতুলিয়া উপজেলা অত্যন্ত ঠান্ডা। এখানকার মানুষ শীতে বেশি কষ্ট পায়।
দিনাজপুর দ্বিতীয় শীতল জেলা। এখানেও তাপমাত্রা ৬-৭ ডিগ্রিতে নামে। রংপুর এবং নীলফামারীও শীতল জেলার তালিকায় আছে। এসব জেলার মানুষ অভ্যস্ত শীতের সাথে।
উত্তরাঞ্চলের এসব জেলায় শীত মৌসুম দীর্ঘস্থায়ী হয়। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঠান্ডা থাকে। মার্চ মাসে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে। তখন শীত শেষ হয়।
| জেলা | সর্বনিম্ন তাপমাত্রা | শীতকালের সময় | বৈশিষ্ট্য |
| পঞ্চগড় | ৩-৫ ডিগ্রি | নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি | সবচেয়ে শীতল |
| দিনাজপুর | ৬-৭ ডিগ্রি | ডিসেম্বর-জানুয়ারি | প্রবল শীত |
| রংপুর | ৭-৮ ডিগ্রি | ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি | তীব্র ঠান্ডা |
| নীলফামারী | ৭-৯ ডিগ্রি | ডিসেম্বর-জানুয়ারি | ঘন কুয়াশা |
শীত মৌসুম ও পরিবেশগত পরিবর্তন

শীত মৌসুমে পরিবেশে অনেক পরিবর্তন ঘটে। গাছের পাতা ঝরে যায়। প্রকৃতি হয় শুষ্ক এবং রুক্ষ। নদীর পানি কমে যায়। অনেক জলাশয় শুকিয়ে যায়।
প্রাণীদের আচরণেও পরিবর্তন আসে। অতিথি পাখি আসে উত্তর থেকে। তারা শীত কাটাতে আসে বাংলাদেশে। স্থানীয় পাখিরা খাবারের সন্ধানে ঘুরে বেড়ায়। কিছু প্রাণী শীতনিদ্রায় যায়।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শীত মৌসুমেও পরিবর্তন আসছে। শীতের তীব্রতা কমছে কিছুটা। তাপমাত্রা আগের মতো কমছে না। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। কৃষি এবং প্রকৃতির উপর প্রভাব পড়ছে।
শীতকালে দিনের ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য
শীতকালে দিন এবং রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য অনেক বেশি থাকে। রাতে তাপমাত্রা নেমে যায় ৮-১০ ডিগ্রিতে। দিনে বেড়ে যায় ২০-২৫ ডিগ্রিতে। এই পার্থক্য হয় ১০-১৫ ডিগ্রি।
এই পার্থক্যের কারণ হলো শুষ্ক বাতাস এবং পরিষ্কার আকাশ। রাতে মেঘ না থাকায় তাপ দ্রুত বিকিরিত হয়। তাই তাপমাত্রা কমে যায়। দিনে সূর্যের তাপে আবার বাড়ে।
এই তাপমাত্রার পার্থক্য শরীরে প্রভাব ফেলে। সকালে খুব ঠান্ডা কিন্তু দুপুরে গরম লাগে। এজন্য পোশাক সামলাতে হয় সাবধানে। সকালে গরম কাপড় আর দুপুরে হালকা কাপড় পরতে হয়।
উপসংহার
শীতকালীন আবহাওয়া বাংলাদেশের জলবায়ুর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই মৌসুম আসে ঠান্ডা, কুয়াশা এবং শুষ্ক আবহাওয়া নিয়ে। উত্তরাঞ্চলে শীত পড়ে প্রবলভাবে। দক্ষিণাঞ্চলে মৃদু থাকে।
শীতকাল কৃষির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। অনেক ফসল এই মৌসুমে চাষ হয়। বোরো ধান, গম, আলু, সবজি জন্মে ভালো। শুষ্ক আবহাওয়া এসব ফসলের জন্য আদর্শ।
তবে শীতকালে কিছু সমস্যাও আছে। ঘন কুয়াশা যানবাহন চলাচলে বাধা দেয়। দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। দরিদ্র মানুষ ঠান্ডায় কষ্ট পায়। তাদের পর্যাপ্ত গরম কাপড় থাকে না।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শীতের ধরন বদলাচ্ছে। তীব্রতা কমছে কিছুটা। তাপমাত্রা আগের মতো কমছে না। এটি পরিবেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
শীতকালীন আবহাওয়া সম্পর্কে জানা জরুরি। এতে আমরা প্রস্তুতি নিতে পারি ভালোভাবে। কৃষকরা ফসলের পরিচর্যা করতে পারেন সঠিকভাবে। সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্য রক্ষা করতে পারেন।
সবশেষে বলা যায়, শীতকাল বাংলাদেশের প্রিয় একটি ঋতু। এই মৌসুম আসে প্রকৃতিতে নতুন সাজ নিয়ে। ঠান্ডা আবহাওয়া সবাইকে স্বস্তি দেয়। তাই শীতকালীন আবহাওয়া আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
শেষ কথা: শীতকালীন আবহাওয়া বাংলাদেশের প্রকৃতির এক অনন্য রূপ। এই মৌসুমের সৌন্দর্য এবং বৈশিষ্ট্য আমাদের মুগ্ধ করে। ঠান্ডা, কুয়াশা আর শিশিরের এই সময়টি সবার কাছে প্রিয়। শীতকালীন আবহাওয়া সম্পর্কে সচেতন থাকলে আমরা এই মৌসুম উপভোগ করতে পারি নিরাপদে এবং আনন্দের সাথে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)
বাংলাদেশে শীতকাল কখন শুরু হয়?
বাংলাদেশে শীতকাল সাধারণত নভেম্বর মাসের শেষ থেকে শুরু হয়। তবে পুরোপুরি শীতের অনুভূতি আসে ডিসেম্বর মাস থেকে। এই সময় তাপমাত্রা দ্রুত কমতে থাকে এবং রাতে ঠান্ডা বাড়ে।
শীতকালে সবচেয়ে ঠান্ডা কোন মাস?
জানুয়ারি মাস বাংলাদেশে সবচেয়ে ঠান্ডা মাস। এই মাসে তাপমাত্রা সবচেয়ে কম থাকে এবং কুয়াশা পড়ে সবচেয়ে ঘন। বিশেষ করে জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে তীব্র শীত অনুভূত হয়।
বাংলাদেশের কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি শীত পড়ে?
পঞ্চগড় জেলায় সবচেয়ে বেশি শীত পড়ে। বিশেষ করে তেঁতুলিয়া উপজেলায় তাপমাত্রা ৩-৫ ডিগ্রি পর্যন্ত নেমে যায়। এছাড়া দিনাজপুর, রংপুর এবং নীলফামারীতেও প্রবল শীত পড়ে।
শীতকালে কুয়াশা কেন বেশি হয়?
শীতকালে রাতে তাপমাত্রা অনেক কমে যায়। ঠান্ডা বাতাস বেশি জলীয় বাষ্প ধরে রাখতে পারে না। তাই বাষ্প ঘনীভূত হয়ে পানির কণা তৈরি করে। এই কণাগুলো মিলে কুয়াশা তৈরি হয়।
শীতকালে তাপমাত্রা কত থাকে?
শীতকালে বাংলাদেশের তাপমাত্রা থাকে ১০ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। তবে বিভিন্ন অঞ্চলে এটি ভিন্ন হয়। উত্তরাঞ্চলে ৫-৮ ডিগ্রি এবং দক্ষিণাঞ্চলে ১৪-১৮ ডিগ্রি থাকে।
শীতকালে কৃষিতে কী প্রভাব পড়ে?
শীতকালীন আবহাওয়া কৃষির জন্য উপকারী। বোরো ধান, গম, আলু, সরিষা ভালো জন্মায়। শুষ্ক আবহাওয়া এসব ফসলের জন্য আদর্শ। তবে অতিরিক্ত ঠান্ডা এবং কুয়াশা ক্ষতি করতে পারে।
শীতকালে বৃষ্টি হয় কি?
শীতকালে বৃষ্টির সম্ভাবনা খুবই কম। এই ঋতু শুষ্ক প্রকৃতির। তবে মাঝেমধ্যে পশ্চিমা ঝঞ্ঝার প্রভাবে হালকা বৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
শীতকালে কুয়াশা কখন বেশি থাকে?
শীতকালে সকালে কুয়াশা সবচেয়ে ঘন থাকে। ভোর থেকে সকাল ৯-১০টা পর্যন্ত কুয়াশা থাকে। সূর্য ওঠার পর তাপমাত্রা বাড়লে কুয়াশা কেটে যায়। রাতেও কুয়াশা থাকে।
এল নিনো এবং লা নিনা কী?
এল নিনো এবং লা নিনা প্রশান্ত মহাসাগরের জলবায়ু ঘটনা। এগুলো বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ায় প্রভাব ফেলে। লা নিনার বছরে শীত বেশি পড়ে। এল নিনো বছরে শীত হয় মৃদু।
শীতকালে স্বাস্থ্য রক্ষায় কী করণীয়?
শীতকালে গরম কাপড় পরতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। গরম খাবার খেতে হবে। ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। ঠান্ডা লাগলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
শীতকালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড কত?
বাংলাদেশে এপর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি রেকর্ড হয়েছিল ১৯৬৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গলে। এটি ইতিহাসের সবচেয়ে ঠান্ডা দিন।
শীতকালে পাহাড়ি এলাকার আবহাওয়া কেমন?
পাহাড়ি এলাকায় শীত পড়ে প্রবলভাবে। উচ্চতার কারণে তাপমাত্রা কম থাকে। ঘন কুয়াশা এবং মেঘ থাকে সারাদিন। রাতে তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রির কাছাকাছি নামে।
শীতকালে দিন এবং রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কত?
শীতকালে দিন এবং রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য ১০-১৫ ডিগ্রি হয়। রাতে ৮-১০ ডিগ্রি এবং দিনে ২০-২৫ ডিগ্রি থাকে। শুষ্ক বাতাস এবং পরিষ্কার আকাশের কারণে এই পার্থক্য হয়।
জলবায়ু পরিবর্তন শীতকে কীভাবে প্রভাবিত করছে?
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শীতের তীব্রতা কমছে। তাপমাত্রা আগের মতো কমছে না। শীতকাল ছোট হয়ে আসছে। এটি পরিবেশ এবং কৃষির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
শীতকালে উপকূলীয় এলাকার আবহাওয়া কেমন?
উপকূলীয় এলাকায় তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকে। সমুদ্রের প্রভাবে আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ হয়। তবে আর্দ্রতা বেশি থাকে। চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারে শীত পড়ে মৃদু।
🔥 পোস্টটি শেয়ার করুনঃ 🌍






