আপনি কি নতুন বাথরুম বানাচ্ছেন? অথবা পুরনো বেসিন বদলাতে চাইছেন? তাহলে সঠিক জায়গায় এসেছেন। একটি ভালো টেকসই ওয়াশ বেসিন ডিজাইন বেছে নেওয়া সহজ মনে হলেও আসলে অনেক বিষয় ভাবতে হয়। শুধু সুন্দর দেখালেই হবে না। বেসিন দীর্ঘদিন টিকতে হবে। সহজে পরিষ্কার করা যেতে হবে। দামও হাতের নাগালে থাকতে হবে। এই লেখায় আপনি সব প্রশ্নের উত্তর পাবেন। চলুন শুরু করি।
টেকসই ওয়াশ বেসিন ডিজাইন বাংলাদেশ
বাংলাদেশে এখন ওয়াশ বেসিনের চাহিদা অনেক বেড়েছে। শহর ও গ্রাম দুই জায়গাতেই মানুষ এখন সুন্দর বাথরুম বানাতে চায়। টেকসই ওয়াশ বেসিন ডিজাইন বাংলাদেশ-এ এখন অনেক বৈচিত্র্য এসেছে। আগে শুধু সাদা সিরামিক বেসিন পাওয়া যেত। এখন গ্লাস, স্টোন, পোরসেলিন সব ধরনের বেসিন পাওয়া যায়। ঢাকার বসুন্ধরা সিটি, মিরপুর ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন দোকানে নতুন ডিজাইনের বেসিন পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশের আবহাওয়া গরম ও আর্দ্র। তাই এমন বেসিন বেছে নেওয়া উচিত যা জলীয় বাষ্প ও তাপ সহ্য করতে পারে। স্থানীয় বাজারে এখন দেশি ও বিদেশি দুই ধরনের বেসিন পাওয়া যায়। দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো দাম কম রেখে ভালো মান দিচ্ছে। বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো একটু দামি তবে অনেক বেশি টেকসই।
টেকসই ওয়াশ বেসিনের বর্তমান দাম

বেসিন কেনার আগে দাম সম্পর্কে জানা জরুরি। টেকসই ওয়াশ বেসিনের বর্তমান দাম নির্ভর করে উপাদান, ব্র্যান্ড ও ডিজাইনের উপর। সাধারণ সিরামিক বেসিন ১,৫০০ থেকে ৫,০০০ টাকায় পাওয়া যায়। মাঝারি মানের বেসিন ৫,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকার মধ্যে থাকে। প্রিমিয়াম বা আমদানি করা বেসিন ১৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে।
| বেসিনের ধরন | দামের পরিসর (টাকা) | মান |
| সাধারণ সিরামিক | ১,৫০০ – ৫,০০০ | মধ্যম |
| পোরসেলিন | ৫,০০০ – ১৫,০০০ | ভালো |
| স্টোন/গ্রানাইট | ১৫,০০০ – ৩৫,০০০ | খুব ভালো |
| গ্লাস/কাস্টম | ২০,০০০ – ৫০,০০০+ | প্রিমিয়াম |
দাম দেখে শুধু সস্তা বেসিন নেবেন না। একটু বেশি দাম দিয়ে ভালো বেসিন কিনলে বছরের পর বছর ভালো থাকবে। দীর্ঘ মেয়াদে এটি সাশ্রয়ী হয়।
বাথরুমের জন্য টেকসই ওয়াশ বেসিন
বাথরুমের বেসিন প্রতিদিন অনেকবার ব্যবহার হয়। তাই বাথরুমের জন্য টেকসই ওয়াশ বেসিন বেছে নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাথরুমে পানি, সাবান ও রাসায়নিক পদার্থ প্রতিদিন বেসিনে পড়ে। এসব সহ্য করতে পারে এমন উপাদান বেছে নিতে হবে। সিরামিক ও পোরসেলিন বাথরুমের জন্য সবচেয়ে ভালো। এগুলো পানি শোষণ করে না। রাসায়নিক পদার্থে ক্ষতি হয় না। পরিষ্কার করা সহজ। বাথরুমের আকার ও লেআউট বুঝে বেসিন বেছে নিন। ছোট বাথরুমে দেয়ালে লাগানো বেসিন ভালো। বড় বাথরুমে ফ্রিস্ট্যান্ডিং বা কাউন্টারটপ বেসিন সুন্দর দেখায়। রঙের ক্ষেত্রে সাদা বা হালকা রং বাথরুমকে বড় দেখায়। গাঢ় রং বাথরুমকে একটু ছোট দেখাতে পারে। তবে গাঢ় রঙের বেসিন এখন ট্রেন্ডি।
আধুনিক টেকসই বেসিন ডিজাইন
আধুনিক বাড়ির সাথে মানানসই বেসিন ডিজাইন এখন অনেক বেড়েছে। আধুনিক টেকসই বেসিন ডিজাইন মানে শুধু সুন্দর চেহারা নয়। এর মানে হলো সুন্দর দেখতে এবং দীর্ঘস্থায়ী উভয়ই। মিনিমালিস্ট ডিজাইন এখন সবচেয়ে জনপ্রিয়। এতে কোনো বাড়তি অলংকার নেই। সরল রেখা ও মসৃণ সারফেস থাকে। ফ্লোটিং বা ওয়াল-মাউন্টেড বেসিন এখন ট্রেন্ডে আছে। এতে বাথরুম বড় দেখায়। পরিষ্কার করাও সহজ হয়। ওভাল ও রাউন্ড শেপ এখন অনেক পছন্দের। স্কয়ার ও রেক্টাঙ্গুলার বেসিনও বেশ জনপ্রিয়। ম্যাট ফিনিশ বেসিন এখন অনেক বাড়িতে দেখা যাচ্ছে। এটি গ্লসি বেসিনের চেয়ে একটু আলাদা ও এলিগ্যান্ট দেখায়। রঙের দিক থেকে সাদার পাশাপাশি কালো, ধূসর ও বেজ রঙ এখন চলছে।
সিরামিক টেকসই ওয়াশ বেসিন
সিরামিক বেসিন বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। সিরামিক টেকসই ওয়াশ বেসিন এর অনেক সুবিধা আছে। প্রথমত, দাম তুলনামূলকভাবে কম। দ্বিতীয়ত, পরিষ্কার করা খুব সহজ। তৃতীয়ত, এটি দীর্ঘদিন ভালো থাকে। সিরামিক বেসিনের উপরে একটি গ্লেজড লেয়ার থাকে। এই লেয়ার বেসিনকে পানি ও ময়লা থেকে রক্ষা করে। ভালো মানের সিরামিক বেসিন ১০ থেকে ১৫ বছর সহজে টেকে। তবে জোরে কিছু পড়লে ভাঙতে পারে। এই একটাই সমস্যা। কিনতে হলে ভালো গ্লেজিং দেখে কিনুন। গ্লেজিং যত মসৃণ, বেসিন তত বেশি টেকসই হবে। রান্নাঘর ও বাথরুম উভয়ের জন্যই সিরামিক বেসিন উপযুক্ত।
পোরসেলিন ওয়াশ বেসিন ডিজাইন
পোরসেলিন হলো সিরামিকের উন্নত সংস্করণ। পোরসেলিন ওয়াশ বেসিন ডিজাইন অনেক বেশি টেকসই ও সুন্দর। পোরসেলিন বেসিন তৈরিতে উচ্চ তাপমাত্রায় পোড়ানো হয়। এতে উপাদানটি অনেক শক্ত ও ঘন হয়। পানি শোষণের হার সিরামিকের চেয়ে অনেক কম। তাই বাথরুমে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক কম জন্মায়। পোরসেলিন বেসিনের ডিজাইন অনেক বৈচিত্র্যময়। ওভাল, রাউন্ড, স্কয়ার সব শেপে পাওয়া যায়। রঙের দিক থেকেও অনেক অপশন আছে। দাম সিরামিকের চেয়ে একটু বেশি। কিন্তু মান ও স্থায়িত্ব অনেক বেশি। দীর্ঘমেয়াদে পোরসেলিন বেসিন বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
স্টোন ওয়াশ বেসিন ডিজাইন
প্রাকৃতিক পাথরের বেসিন দেখতে অসাধারণ সুন্দর। স্টোন ওয়াশ বেসিন ডিজাইন বাড়িকে একটি বিলাসবহুল রূপ দেয়। মার্বেল, গ্রানাইট ও অনিক্স পাথর দিয়ে বেসিন বানানো হয়। প্রতিটি পাথরের বেসিন একটু আলাদা দেখায়। কারণ প্রকৃতির প্যাটার্ন সবসময় আলাদা হয়। স্টোন বেসিন অনেক ভারী। তাই ইনস্টলেশনে সতর্ক থাকতে হয়। ভালোভাবে সাপোর্ট দিতে হয়। মার্বেল বেসিন সুন্দর কিন্তু একটু বেশি যত্ন চায়। অ্যাসিড জাতীয় পদার্থ মার্বেলের ক্ষতি করে। গ্রানাইট তুলনামূলক বেশি শক্ত ও টেকসই। স্টোন বেসিনে নিয়মিত সিলিং করা উচিত। এতে দীর্ঘদিন ভালো থাকে।
| পাথরের ধরন | বৈশিষ্ট্য | যত্নের প্রয়োজন |
| মার্বেল | সুন্দর, মসৃণ | বেশি যত্ন দরকার |
| গ্রানাইট | শক্ত, টেকসই | মাঝারি যত্ন |
| অনিক্স | বিরল, বিলাসবহুল | বেশি যত্ন দরকার |
| ট্র্যাভার্টিন | প্রাকৃতিক রূপ | নিয়মিত সিলিং |
গ্লাস ওয়াশ বেসিন কি টেকসই
অনেকে জানতে চান গ্লাস ওয়াশ বেসিন কি টেকসই আসলে। উত্তর হলো হ্যাঁ, তবে সঠিক মানের গ্লাস হলে। সাধারণ গ্লাস বেসিন ভঙ্গুর। কিন্তু টেম্পার্ড গ্লাস বেসিন অনেক শক্ত। টেম্পার্ড গ্লাস সাধারণ গ্লাসের চেয়ে ৫ থেকে ৬ গুণ শক্তিশালী। গ্লাস বেসিন দেখতে আধুনিক ও পরিষ্কার। স্বচ্ছ বা রঙিন দুই ধরনে পাওয়া যায়। তবে এতে আঙুলের ছাপ ও পানির দাগ বেশি দেখা যায়। তাই প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হয়। গ্লাস বেসিনের নিচে ভালো ক্যাবিনেট থাকলে দেখতে আরও সুন্দর লাগে। শিশু আছে এমন বাড়িতে গ্লাস বেসিন না নেওয়াই ভালো। কারণ ধাক্কা লাগলে ক্ষতি হতে পারে।
দেয়ালে লাগানো ওয়াশ বেসিন ডিজাইন
দেয়ালে লাগানো বেসিন এখন খুব জনপ্রিয়। দেয়ালে লাগানো ওয়াশ বেসিন ডিজাইন ছোট বাথরুমের জন্য আদর্শ। এই বেসিন দেয়ালে বোল্ট দিয়ে আটকানো থাকে। নিচে কোনো পা বা ক্যাবিনেট থাকে না। তাই মেঝে পরিষ্কার করা সহজ। বাথরুম বড় দেখায়। ওয়াল-মাউন্টেড বেসিনে উচ্চতা নিজের সুবিধামতো ঠিক করা যায়। বড় মানুষের জন্য একটু উঁচুতে লাগানো যায়। শিশুদের কথা ভেবে একটু নিচুতেও লাগানো যায়। তবে ইনস্টলেশনে একটু বেশি কাজ লাগে। দেয়াল শক্ত হতে হবে। ভেতরে পাইপ লুকানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। দক্ষ মিস্ত্রি দিয়ে লাগানো উচিত।
টেবিল টপ ওয়াশ বেসিন ডিজাইন
টেবিল টপ বেসিন দেখতে অনেক সুন্দর। টেবিল টপ ওয়াশ বেসিন ডিজাইন বলতে সেই বেসিন বোঝায় যা কাউন্টারের উপরে বসানো থাকে। বাটির মতো আকৃতির এই বেসিন অনেক বেশি নজর কাড়ে। এখন হোটেল ও আধুনিক বাড়িতে এটি বেশি দেখা যায়। সিরামিক, পোরসেলিন, স্টোন ও গ্লাস সব উপাদানে পাওয়া যায়। টেবিল টপ বেসিনের নিচে ভালো কাউন্টার থাকতে হয়। কাউন্টার শক্ত হওয়া দরকার। বেসিনের চারপাশে পানি পড়তে পারে। তাই কাউন্টারে ওয়াটারপ্রুফ উপাদান ব্যবহার করুন। ট্যাপ একটু লম্বা হলে ভালো হয়। কারণ বেসিন উঁচুতে থাকে।
- টেবিল টপ বেসিনের জন্য কাউন্টারের উচ্চতা ৭০-৮০ সেমি রাখুন।
- বেসিনের চারপাশে কমপক্ষে ১৫ সেমি জায়গা রাখুন।
- ওয়াটারপ্রুফ সিলিকান দিয়ে জয়েন্ট বন্ধ করুন।
- লম্বা স্পাউটের ট্যাপ বেছে নিন।
- নিয়মিত কাউন্টারটপ শুকনো রাখুন।
আন্ডারমাউন্ট ওয়াশ বেসিন ডিজাইন
আন্ডারমাউন্ট বেসিন কাউন্টারের নিচ থেকে লাগানো হয়। আন্ডারমাউন্ট ওয়াশ বেসিন ডিজাইন দেখতে একদম পরিষ্কার ও মসৃণ। উপরে কোনো রিম থাকে না। তাই কাউন্টার থেকে পানি সরাসরি বেসিনে পড়ে। পরিষ্কার করা অনেক সহজ। ময়লা রিমের মধ্যে আটকায় না। এই ধরনের বেসিন ইনস্টল করতে একটু বেশি দক্ষতা দরকার। সঠিকভাবে না লাগালে কাউন্টারের নিচে পানি চুইয়ে পড়তে পারে। আন্ডারমাউন্ট বেসিনের জন্য শক্ত কাউন্টার দরকার। গ্রানাইট বা মার্বেল কাউন্টার সবচেয়ে ভালো। দামের দিক থেকে একটু বেশি। কিন্তু সৌন্দর্যের দিক থেকে এটি সেরা অপশন।
কাউন্টার টপ বেসিন ডিজাইন আইডিয়া
কাউন্টার টপ বেসিন মানে হলো কাউন্টারে বসানো বেসিন। কাউন্টার টপ বেসিন ডিজাইন আইডিয়া অনেক বৈচিত্র্যময়। এই ধরনের বেসিনে কাউন্টারের উপরে একটি ছিদ্র থাকে। বেসিন সেই ছিদ্রে বসে থাকে। বেসিনের রিম কাউন্টারের উপরে থাকে। এটি ইনস্টল করা সহজ। যেকোনো কাউন্টারে লাগানো যায়। নিচে স্টোরেজ ক্যাবিনেট থাকলে আরও ভালো। ট্যাপ কাউন্টারে বা বেসিনের পেছনে লাগানো যায়। বিভিন্ন শেপে পাওয়া যায়। গোল, চৌকো বা অনিয়মিত শেপ সব কিছুই আছে। বাথরুমের থিমের সাথে মিলিয়ে কাউন্টার টপ বেসিন বেছে নিন।
ছোট বাথরুমের জন্য টেকসই বেসিন
ছোট বাথরুমে বড় বেসিন রাখলে জায়গা নষ্ট হয়। ছোট বাথরুমের জন্য টেকসই বেসিন বেছে নেওয়া একটু চ্যালেঞ্জিং। তবে সঠিক ডিজাইন জানলে ছোট বাথরুমেও সুন্দর বেসিন রাখা যায়। কর্নার বেসিন ছোট বাথরুমের জন্য আদর্শ। এটি কোণায় রাখা যায়। মূল জায়গা বাঁচে। ওয়াল-মাউন্টেড বেসিন ছোট বাথরুমে দারুণ কাজ করে। মেঝে ফাঁকা থাকে। বাথরুম বড় দেখায়। পেডেস্টাল বেসিনের ছোট সংস্করণও পাওয়া যায়। চওড়া ৪০ সেমি পর্যন্ত ছোট বেসিন পাওয়া যায়। হালকা রঙের বেসিন ছোট বাথরুমকে বড় দেখায়। আয়না বড় রাখলে বাথরুম আরও বড় মনে হয়। স্মার্টভাবে ডিজাইন করলে ছোট বাথরুমেও বিলাসবহুল রূপ আনা সম্ভব।
কম দামে টেকসই ওয়াশ বেসিন
বাজেট কম হলেও ভালো বেসিন পাওয়া সম্ভব। কম দামে টেকসই ওয়াশ বেসিন কিনতে হলে কিছু বিষয় মাথায় রাখুন। প্রথমে দেশীয় ব্র্যান্ড দেখুন। বাংলাদেশে কিছু স্থানীয় ব্র্যান্ড ভালো মানের সিরামিক বেসিন তৈরি করছে। দ্বিতীয়ত, সহজ ডিজাইন বেছে নিন। জটিল ডিজাইনের বেসিন বেশি দামি হয়। সহজ ডিজাইনে দাম কম কিন্তু দেখতেও ভালো। তৃতীয়ত, সিলানোর মানুষের কাছ থেকে কিনুন না। পরিচিত দোকান বা ব্র্যান্ড থেকে কিনুন। কম দামেও ভালো গ্লেজড সিরামিক বেসিন পাওয়া যায়। এগুলো ৫ থেকে ৭ বছর সহজেই টেকে। অনলাইনে তুলনা করে কিনলে ভালো দাম পাওয়া যায়।
- সিরামিক বেসিন সবচেয়ে কম দামে পাওয়া যায়।
- দেশীয় ব্র্যান্ড বেছে নিলে খরচ কমে।
- সহজ ও মিনিমালিস্ট ডিজাইনে দাম কম থাকে।
- অনলাইন বা পাইকারি বাজার থেকে কিনলে সাশ্রয় হয়।
- ওয়ারেন্টি সহ বেসিন কিনুন।
লং লাস্টিং ওয়াশ বেসিন ম্যাটেরিয়াল
দীর্ঘস্থায়ী বেসিনের জন্য সঠিক উপাদান বেছে নেওয়া জরুরি। লং লাস্টিং ওয়াশ বেসিন ম্যাটেরিয়াল কোনগুলো সেটা জানুন। পোরসেলিন সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী উপাদানগুলোর একটি। এটি ২০ থেকে ২৫ বছরও টেকে। গ্রানাইট ও মার্বেলও অনেক দীর্ঘস্থায়ী। তবে নিয়মিত যত্ন দরকার। ফায়ারক্লে বেসিন ও খুব শক্ত। এটি ঢালাই লোহার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার হয়। কঠিন রাসায়নিক ও উচ্চ তাপ সহ্য করতে পারে। স্টেইনলেস স্টিল রান্নাঘরের বেসিনে বেশি ব্যবহৃত হয়। এটি জং ধরে না। দীর্ঘদিন ভালো থাকে। উপাদান বেছে নেওয়ার সময় বাথরুমের ব্যবহার ও বাজেট মাথায় রাখুন।
| উপাদান | স্থায়িত্ব (বছর) | যত্নের সহজতা | দামের পরিসর |
| পোরসেলিন | ২০-২৫+ | সহজ | মধ্যম |
| সিরামিক | ১০-১৫ | সহজ | কম |
| গ্রানাইট | ২৫+ | মাঝারি | বেশি |
| ফায়ারক্লে | ২০+ | সহজ | বেশি |
কোন ওয়াশ বেসিন সবচেয়ে ভালো
এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে আপনার প্রয়োজনের উপর। কোন ওয়াশ বেসিন সবচেয়ে ভালো সেটা বলতে হলে কয়েকটি বিষয় দেখতে হবে। বাজেট কম হলে সিরামিক সেরা। মান ও দামের ভারসাম্যের জন্য পোরসেলিন সেরা। বিলাসবহুল রূপের জন্য মার্বেল বা গ্রানাইট সেরা। রান্নাঘরের জন্য স্টেইনলেস স্টিল সেরা। ছোট বাথরুমের জন্য ওয়াল-মাউন্টেড পোরসেলিন বেসিন সেরা। বড় বাথরুমের জন্য কাউন্টার টপ বা ফ্রিস্ট্যান্ডিং বেসিন ভালো। যদি দীর্ঘস্থায়িত্ব চান তাহলে পোরসেলিন বা ফায়ারক্লে বেসিন নিন। যদি সৌন্দর্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয় তাহলে গ্লাস বা স্টোন বেসিন দেখুন। সব মিলিয়ে পোরসেলিন বেসিন সবচেয়ে বেশি মানুষের জন্য সেরা পছন্দ।
ওয়াশ বেসিন সাইজ কত হওয়া উচিত
সঠিক সাইজের বেসিন না হলে ব্যবহারে অসুবিধা হয়। ওয়াশ বেসিন সাইজ কত হওয়া উচিত তা নির্ভর করে জায়গা ও ব্যবহারের উপর। সাধারণ বাথরুম বেসিনের প্রস্থ ৪৫ থেকে ৬০ সেমি হওয়া ভালো। গভীরতা ১৫ থেকে ২৫ সেমি হওয়া উচিত। খুব অগভীর হলে পানি ছিটকে পড়বে। ছোট বাথরুমে ৩৫ থেকে ৪৫ সেমি প্রস্থের বেসিন নিন। পরিবারে অনেক সদস্য থাকলে বড় বেসিন নিন। ডবল বেসিন নিতে পারেন। রান্নাঘরের বেসিন একটু বড় হওয়া দরকার। কমপক্ষে ৬০ থেকে ৮০ সেমি হলে ভালো। শিশুদের কথা ভেবে বেসিনের কাছে একটি ছোট স্টেপ রাখতে পারেন।
৩২mm নাকি ৪০mm ড্রেন পাইপ বেসিনে ভালো
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি প্রশ্ন। ৩২mm নাকি ৪০mm ড্রেন পাইপ বেসিনে ভালো জানতে চাইলে মনে রাখুন। ৩২mm পাইপ ছোট বেসিনের জন্য যথেষ্ট। এটি বেশিরভাগ বাথরুম বেসিনে ব্যবহার হয়। পানি দ্রুত যায়। জায়গাও কম লাগে। ৪০mm পাইপ বড় বেসিনের জন্য ভালো। রান্নাঘরের বেসিনে এটি বেশি উপযুক্ত। বেশি পানি ব্যবহার হলে ৪০mm পাইপ বেছে নিন। চুল বা খাবারের টুকরো পড়লেও দ্রুত বেরিয়ে যায়। পরিবারে সদস্য বেশি হলে ৪০mm পাইপ ভালো। কারণ বেশি ব্যবহারে পানি জমে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। দক্ষ প্লাম্বারকে জিজ্ঞেস করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন।
বেসিনের সঠিক উচ্চতা কত
বেসিনের উচ্চতা ঠিক না হলে পিঠে ব্যথা হতে পারে। বেসিনের সঠিক উচ্চতা কত সেটা জানা জরুরি। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী মেঝে থেকে বেসিনের উপরের অংশ ৮০ থেকে ৮৫ সেমি হওয়া উচিত। বাংলাদেশের গড় উচ্চতার মানুষের জন্য ৭৮ থেকে ৮২ সেমি ভালো। পরিবারে লম্বা মানুষ থাকলে একটু উঁচু করুন। ৮৫ থেকে ৯০ সেমিও হতে পারে। শিশুরা বেসিন ব্যবহার করলে তাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখুন। ওয়াল-মাউন্টেড বেসিনে উচ্চতা নিজে ঠিক করা যায়। এটি একটি বড় সুবিধা। বেসিন লাগানোর আগে পরিবারের সবার উচ্চতা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নিন।
স্ক্র্যাচ-প্রুফ ওয়াশ বেসিন ডিজাইন
বেসিনে দাগ পড়লে দেখতে খারাপ লাগে। স্ক্র্যাচ-প্রুফ ওয়াশ বেসিন ডিজাইন বেছে নিলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। ভালো গ্লেজড পোরসেলিন ও সিরামিক বেসিন সহজে স্ক্র্যাচ হয় না। এই বেসিনের উপরের লেয়ার অনেক শক্ত হয়। কঠিন জিনিস দিয়ে ঘষলেও দাগ পড়ে না। স্টেইনলেস স্টিল বেসিনও স্ক্র্যাচ প্রতিরোধ করে। তবে সস্তা স্টিলে দ্রুত দাগ পড়তে পারে। গ্লাস বেসিনে স্ক্র্যাচ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তাই পরিষ্কারে নরম কাপড় ব্যবহার করুন। কোনো ঘষা মাজা সামগ্রী ব্যবহার করবেন না। নিয়মিত মসৃণ ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করুন।
সহজে পরিষ্কার করা যায় এমন বেসিন
প্রতিদিন বেসিন পরিষ্কার করতে হয়। সহজে পরিষ্কার করা যায় এমন বেসিন বেছে নিলে ঝামেলা কমে। গ্লসি ফিনিশের পোরসেলিন বেসিন সবচেয়ে সহজে পরিষ্কার হয়। মসৃণ সারফেসে ময়লা আটকায় না। পানি দিলেই বেশিরভাগ ময়লা চলে যায়। আন্ডারমাউন্ট বেসিনে রিম না থাকায় পরিষ্কার সহজ। ওয়াল-মাউন্টেড বেসিনে মেঝে পরিষ্কার করা সহজ। কারণ নিচে জায়গা থাকে। পেডেস্টাল বেসিনে ট্যাপের আশেপাশে পরিষ্কার করা একটু কঠিন। এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল কোটিং সহ বেসিন বেছে নিলে আরও ভালো। এতে জীবাণু কম জন্মায়। পরিষ্কার করতেও কম সময় লাগে।
- ময়লা জমলে হালকা ডিটারজেন্ট ও নরম স্পঞ্জ দিয়ে পরিষ্কার করুন।
- কখনো ঘষা মাজার পাউডার বা স্টিলের স্ক্রাবার ব্যবহার করবেন না।
- সপ্তাহে একবার বেকিং সোডা ও ভিনেগার দিয়ে গভীর পরিষ্কার করুন।
- পানির দাগ তুলতে লেবুর রস কাজে লাগে।
- ড্রেনের জালি নিয়মিত পরিষ্কার করুন।
টেকসই বাথরুম ইন্টেরিয়র ডিজাইন
শুধু বেসিন নয়, পুরো বাথরুমের ডিজাইন গুরুত্বপূর্ণ। টেকসই বাথরুম ইন্টেরিয়র ডিজাইন মানে হলো এমন ডিজাইন যা বছরের পর বছর সুন্দর ও কার্যকর থাকে। টাইলস বেছে নেওয়া জরুরি। মেঝের টাইলস অ্যান্টি-স্লিপ হতে হবে। দেয়ালের টাইলস ওয়াটারপ্রুফ হতে হবে। আলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। সাদা বা উষ্ণ আলো বাথরুমকে সুন্দর দেখায়। ভেন্টিলেশন ভালো হতে হবে। নয়তো ছত্রাক জন্মাবে। স্টোরেজের ব্যবস্থা রাখুন। আয়নার পেছনে বা নিচে ক্যাবিনেট রাখলে জিনিস রাখা যায়। বেসিনের সাথে মিলিয়ে ট্যাপ, তোয়ালে রড ও অন্যান্য জিনিস বেছে নিন। একই রঙ ও ফিনিশ ব্যবহার করলে বাথরুম দেখতে সুন্দর হয়।
ওয়াশ বেসিন ইনস্টলেশন টিপস
সঠিক ইনস্টলেশন না হলে পরে সমস্যা হয়। ওয়াশ বেসিন ইনস্টলেশন টিপস জানা থাকলে কাজ সহজ হয়। প্রথমে দক্ষ প্লাম্বার নিয়োগ করুন। নিজে ইনস্টল করার চেষ্টা না করাই ভালো। পানির পাইপ সঠিকভাবে সংযোগ করুন। লিকেজ পরীক্ষা করুন। সিলিকান দিয়ে সব ফাঁক বন্ধ করুন। ড্রেন পাইপ সঠিকভাবে লাগান। ট্র্যাপ বা পি-ট্র্যাপ ব্যবহার করুন। এটি দুর্গন্ধ আটকায়। ওয়াটার সাপ্লাই লাইনে শাটঅফ ভাল্ব রাখুন। জরুরি প্রয়োজনে পানি বন্ধ করা যাবে। ইনস্টলেশনের পর ৪৮ ঘণ্টা ব্যবহার না করাই ভালো। সিলিকান শুকাতে সময় লাগে।
ওয়াশ বেসিনের সুবিধা ও অসুবিধা
প্রতিটি ধরনের বেসিনের ভালো ও খারাপ দিক আছে। ওয়াশ বেসিনের সুবিধা ও অসুবিধা জানলে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। পেডেস্টাল বেসিন দেখতে সুন্দর ও ক্লাসিক। কিন্তু নিচে স্টোরেজ নেই। ওয়াল-মাউন্টেড বেসিন জায়গা বাঁচায়। কিন্তু ইনস্টলেশন জটিল। কাউন্টার টপ বেসিনে স্টোরেজ থাকে। কিন্তু বেশি জায়গা লাগে। গ্লাস বেসিন সুন্দর কিন্তু যত্ন বেশি চায়। স্টোন বেসিন বিলাসবহুল কিন্তু দামি। সঠিক বেসিন বেছে নেওয়া মানে সুবিধাগুলো নিজের প্রয়োজনের সাথে মেলানো। অসুবিধাগুলো কতটা সহ্য করতে পারবেন সেটাও ভাবুন।
| বেসিনের ধরন | সুবিধা | অসুবিধা |
| পেডেস্টাল | ক্লাসিক লুক, সহজ ইনস্টল | নিচে স্টোরেজ নেই |
| ওয়াল-মাউন্টেড | জায়গা বাঁচায় | জটিল ইনস্টলেশন |
| কাউন্টার টপ | স্টোরেজ আছে | বেশি জায়গা লাগে |
| আন্ডারমাউন্ট | পরিষ্কার সহজ | দক্ষ মিস্ত্রি দরকার |
বাংলাদেশে জনপ্রিয় বেসিন ডিজাইন
বাংলাদেশের মানুষ কোন বেসিন বেশি পছন্দ করে? বাংলাদেশে জনপ্রিয় বেসিন ডিজাইন সম্পর্কে বলতে হলে বলতে হয়, এখানে সিরামিক পেডেস্টাল বেসিন সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। এটি সস্তা ও টেকসই। শহরে এখন কাউন্টার টপ ও ওয়াল-মাউন্টেড বেসিনের চাহিদা বাড়ছে। নতুন অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে আধুনিক ডিজাইনের বেসিন দেখা যাচ্ছে। গ্রামে এখনও সাধারণ সিরামিক বেসিন বেশি ব্যবহার হয়। বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্টে স্টোন ও গ্লাস বেসিন ব্যবহার হয়। সাদা ও ক্রিম রঙের বেসিন সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। রঙিন বেসিনও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে।
কিচেন ও বাথরুম বেসিনের পার্থক্য
রান্নাঘর ও বাথরুমের বেসিন এক নয়। কিচেন ও বাথরুম বেসিনের পার্থক্য বোঝা জরুরি। রান্নাঘরের বেসিন বড় হয়। কারণ থালা বাসন ধোয়ার কাজ হয়। গভীরতা বেশি থাকে। সাধারণত ২০ থেকে ৩০ সেমি গভীর হয়। রান্নাঘরে স্টেইনলেস স্টিল বা ফায়ারক্লে বেসিন ভালো। গরম পানি সহ্য করতে পারে। রাসায়নিক ও তেলও সহজে পরিষ্কার হয়। বাথরুমের বেসিন একটু ছোট হয়। হাত ও মুখ ধোয়ার জন্য ব্যবহার হয়। সিরামিক ও পোরসেলিন বাথরুমের জন্য ভালো। রান্নাঘরে ডবল সিঙ্ক নিলে কাজ সহজ হয়। বাথরুমে সিঙ্গেল বেসিনই যথেষ্ট সাধারণত।
কাস্টম ওয়াশ বেসিন ডিজাইন
নিজের পছন্দমতো বেসিন বানাতে চাইলে কাস্টম বেসিন বেছে নিন। কাস্টম ওয়াশ বেসিন ডিজাইন আপনার বাড়িকে সত্যিকারের অনন্য করে তোলে। কাস্টম বেসিনে আপনি নিজে শেপ, সাইজ ও রঙ ঠিক করতে পারেন। স্থানীয় কারিগর বা আমদানিকারকের মাধ্যমে কাস্টম বেসিন বানানো যায়। দাম একটু বেশি হয়। তবে ফলাফল হয় অনন্য। কাস্টম স্টোন বেসিন বাংলাদেশে পাওয়া যাচ্ছে। কিছু ওয়ার্কশপে কংক্রিট কাস্টম বেসিনও তৈরি করা হচ্ছে। কংক্রিট বেসিন দেখতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও আধুনিক লাগে। সঠিক সিলিং দিলে এটি দীর্ঘস্থায়ী হয়। কাস্টম বেসিনের জন্য সময় ও ধৈর্য দরকার। কারণ তৈরি করতে বেশি সময় লাগে।
টেকসই বেসিন ব্র্যান্ড বাংলাদেশ

সঠিক ব্র্যান্ড থেকে কিনলে ভালো মান পাওয়া যায়। টেকসই বেসিন ব্র্যান্ড বাংলাদেশ-এ বেশ কিছু ভালো ব্র্যান্ড আছে। দেশীয় ব্র্যান্ডের মধ্যে পারটেক্স, আরএফএল ও কিছু স্থানীয় নির্মাতা ভালো বেসিন দিচ্ছে। বিদেশি ব্র্যান্ডের মধ্যে আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড, হিন্দওয়্যার, পারকো ও কোহলার বাংলাদেশে পাওয়া যায়। ভারতীয় ব্র্যান্ড হিন্দওয়্যার অনেক জনপ্রিয়। দাম ও মান দুই দিক থেকেই ভালো। কোহলার একটি প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড। দাম বেশি কিন্তু মান অসাধারণ। ব্র্যান্ড কেনার আগে রিভিউ পড়ুন। স্থানীয় ব্যবহারকারীদের মতামত নিন। ওয়ারেন্টি আছে কিনা দেখুন।
নতুন মডেলের ওয়াশ বেসিন ডিজাইন
প্রতি বছর নতুন ডিজাইনের বেসিন বাজারে আসে। নতুন মডেলের ওয়াশ বেসিন ডিজাইন সম্পর্কে আপডেট থাকা ভালো। এখন স্মার্ট বেসিন বাজারে এসেছে। এতে টাচলেস ট্যাপ থাকে। তাপমাত্রা সেন্সর থাকে। এলইডি লাইটও থাকে। ম্যাট ব্ল্যাক ফিনিশের বেসিন এখন ট্রেন্ডে আছে। সাদার পাশাপাশি গাঢ় রঙ জনপ্রিয় হচ্ছে। অর্গানিক বা অনিয়মিত শেপের বেসিন এখন চলছে। একদম মসৃণ, কোনো কোণ নেই এমন বেসিন দেখতে অসাধারণ। নিও-ক্লাসিক ডিজাইনও ফিরে আসছে। আধুনিকতার সাথে ঐতিহ্যের মিশেল। ২০২৫ সালের ট্রেন্ড হলো প্রকৃতির অনুপ্রেরণা নেওয়া ডিজাইন।
ওয়াশ বেসিন কেনার আগে যা জানা দরকার
বেসিন কেনার আগে কিছু বিষয় মাথায় রাখুন। ওয়াশ বেসিন কেনার আগে যা জানা দরকার তা হলো প্রথমে বাথরুমের মাপ নিন। জায়গা বুঝে বেসিনের সাইজ ঠিক করুন। বাজেট আগেই ঠিক করুন। শুধু বেসিন নয়, ট্যাপ, পাইপ ও ইনস্টলেশন খরচও ধরুন। উপাদান বুঝে কিনুন। পোরসেলিন ও সিরামিকের পার্থক্য জানুন। ওয়ারেন্টি দেখুন। ভালো ব্র্যান্ড কমপক্ষে ১ থেকে ৫ বছর ওয়ারেন্টি দেয়। একাধিক দোকান ঘুরুন। দাম তুলনা করুন। বিশ্বস্ত দোকান থেকে কিনুন। ইনস্টলেশনের জন্য দক্ষ প্লাম্বার রাখুন। কেনার পর রসিদ সংরক্ষণ করুন। ভবিষ্যতে ওয়ারেন্টি ক্লেইমে কাজে লাগবে।
স্যানিটারি আইটেম সম্পর্কিত আরও পোস্ট দেখতে
👉 স্যানিটারি আইটেম ক্যাটাগরি দেখুন।
উপসংহার
একটি ভালো টেকসই ওয়াশ বেসিন ডিজাইন বেছে নেওয়া মানে শুধু সুন্দর কিছু কেনা নয়। এটি আপনার বাড়িতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ। সঠিক উপাদান, সঠিক ডিজাইন ও সঠিক ইনস্টলেশন একটি বেসিনকে ১৫ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত ভালো রাখতে পারে। বাজেট, জায়গা ও ব্যবহার মাথায় রেখে বেসিন বেছে নিন। শুধু দামি মানেই ভালো নয়। আবার সবচেয়ে সস্তাটা নেওয়াও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ভালো মান ও যুক্তিসংগত দামের মধ্যে ব্যালেন্স রাখুন। আশা করি এই লেখা আপনার কাজে লেগেছে। এখন আপনি নিশ্চিতভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)
বাংলাদেশে সবচেয়ে ভালো ওয়াশ বেসিন কোনটি?
বাংলাদেশে পোরসেলিন বেসিন সবচেয়ে ভালো হিসেবে বিবেচিত। দাম ও মানের দিক থেকে এটি সবচেয়ে সুষম। হিন্দওয়্যার ও আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড ভালো ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত।
ছোট বাথরুমের জন্য কোন বেসিন ভালো?
ছোট বাথরুমের জন্য ওয়াল-মাউন্টেড বা কর্নার বেসিন সবচেয়ে ভালো। এগুলো জায়গা বাঁচায় ও বাথরুমকে বড় দেখায়।
বেসিনের উচ্চতা কত হওয়া উচিত?
মেঝে থেকে বেসিনের উপরের অংশ ৭৮ থেকে ৮৫ সেমি হওয়া উচিত। পরিবারের সদস্যদের উচ্চতা বুঝে একটু কম বা বেশি করা যায়।
সিরামিক ও পোরসেলিন বেসিনের মধ্যে কোনটি ভালো?
পোরসেলিন বেসিন বেশি টেকসই ও কম পানি শোষণ করে। তবে দাম বেশি। বাজেট কম হলে ভালো মানের সিরামিক নিন।
গ্লাস বেসিন কি দীর্ঘস্থায়ী?
টেম্পার্ড গ্লাস বেসিন বেশ টেকসই। তবে নিয়মিত পরিষ্কার করতে হয়। শিশু থাকলে গ্লাস বেসিন না নেওয়াই ভালো।
কম দামে ভালো বেসিন পাওয়া যায় কি?
হ্যাঁ, দেশীয় ব্র্যান্ডের সিরামিক বেসিন ১,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকায় ভালো মানের পাওয়া যায়। পাইকারি বাজার থেকে কিনলে আরও কম পড়ে।
বেসিন কতদিন পরপর বদলাতে হয়?
ভালো মানের বেসিন ১৫ থেকে ২০ বছর সহজেই টেকে। তবে ফাটল ধরলে বা মেরামত না হলে আগেও বদলাতে হতে পারে।
৩২mm না ৪০mm ড্রেন পাইপ কোনটি ভালো?
সাধারণ বাথরুম বেসিনের জন্য ৩২mm যথেষ্ট। রান্নাঘর বা বেশি ব্যবহারের জন্য ৪০mm বেটার।
বেসিন ইনস্টল করতে কত খরচ হয়?
বাংলাদেশে সাধারণত বেসিন ইনস্টলেশনে ৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা খরচ হয়। এটি নির্ভর করে বেসিনের ধরন ও এলাকার উপর। ওয়াল-মাউন্টেড বেসিনে একটু বেশি খরচ হতে পারে। কারণ পাইপ লুকানোর কাজ থাকে। সবসময় দক্ষ প্লাম্বার দিয়ে ইনস্টল করান।
বেসিনে হলুদ বা বাদামি দাগ পড়লে কীভাবে পরিষ্কার করবেন?
পানির খনিজ পদার্থ থেকে এই দাগ হয়। সাদা ভিনেগার ও বেকিং সোডা মিশিয়ে লাগান। ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে নরম কাপড় দিয়ে মুছুন। লেবুর রসও কার্যকর। বাজারে বিশেষ বাথরুম ক্লিনারও পাওয়া যায়। তবে কড়া রাসায়নিক ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
🔥 পোস্টটি শেয়ার করুনঃ 🌍






