আপনি কি নতুন সোফা কিনতে চাইছেন? তাহলে এই গাইডটি আপনার জন্যই। সোফা শুধু বসার জায়গা নয়। এটি আপনার ঘরের সৌন্দর্য বাড়ায়। সঠিক সোফা বেছে নেওয়া একটু কঠিন হতে পারে। কিন্তু সঠিক তথ্য থাকলে কাজটা সহজ হয়ে যায়। এই গাইডে আপনি পাবেন সব দরকারি তথ্য।
সোফা সেট
একটি ভালো সোফা সেট ঘরকে জীবন্ত করে তোলে। শুধু বসার জন্য নয়, এটি ঘরের পরিবেশ তৈরি করে। অতিথি এলে প্রথমেই চোখ যায় সোফার দিকে। তাই সোফা সেট বেছে নেওয়ার সময় একটু ভাবতে হবে। ঘরের আকার, রঙ এবং বাজেট — তিনটিই মাথায় রাখুন। বাংলাদেশে এখন অনেক ধরনের সোফা সেট পাওয়া যায়। কাঠের সোফা থেকে শুরু করে আধুনিক ফোম সোফা পর্যন্ত অনেক বিকল্প আছে। আপনার পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী সোফা সেট বেছে নিন।
সোফা সেটের দাম

সোফা সেটের দাম নির্ভর করে অনেক কিছুর উপর। কাঠের মান, কাপড়ের ধরন এবং ডিজাইন — সবই দামকে প্রভাবিত করে। নিচে একটি সংক্ষিপ্ত দামের তালিকা দেওয়া হলো:
| সোফার ধরন | আনুমানিক দাম (টাকা) |
| ছোট ২ সিটার সোফা | ৮,০০০ – ২০,০০০ |
| ৩ সিটার কাঠের সোফা | ২৫,০০০ – ৬০,০০০ |
| লেদার সোফা সেট | ৫০,০০০ – ১,৫০,০০০ |
| এল-শেপ আধুনিক সোফা | ৪০,০০০ – ১,২০,০০০ |
এই দামগুলো আনুমানিক। বিভিন্ন দোকানে দাম কম-বেশি হতে পারে। কেনার আগে কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখুন।
সোফা সেট ডিজাইন
সোফা সেট ডিজাইন অনেক রকম হয়। কিছু ডিজাইন ঐতিহ্যবাহী, কিছু একদম আধুনিক। ডিজাইন বেছে নেওয়ার আগে ভাবুন ঘরের স্টাইল কেমন। যদি ঘর সাজানো থাকে ক্লাসিক স্টাইলে, তাহলে কাঠের ডিজাইন ভালো লাগবে। আর যদি ঘর মডার্ন হয়, তাহলে মিনিমাল ডিজাইন বেছে নিন। এল-শেপ, ইউ-শেপ, থ্রি-সিটার, টু-সিটার — এই সব ডিজাইন এখন বাজারে আছে। প্রতিটি ডিজাইনের নিজস্ব সুবিধা আছে।
আধুনিক সোফা সেট ডিজাইন
আধুনিক সোফা সেট ডিজাইন এখন অনেক বদলে গেছে। আগে শুধু ভারী কাঠের সোফা দেখা যেত। এখন হালকা, সুন্দর এবং স্মার্ট ডিজাইন বেশি জনপ্রিয়। আধুনিক ডিজাইনে কম জায়গায় বেশি আরাম পাওয়া যায়। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান স্টাইল এখন বাংলাদেশেও জনপ্রিয় হচ্ছে। এই স্টাইলে সোফার পা লম্বা থাকে এবং রঙ হালকা হয়। ঘর ছোট হলেও এই ধরনের সোফা ঘরকে বড় দেখায়।
সোফা ডিজাইন ছবি
সোফা কেনার আগে অনেক ছবি দেখুন। ইন্টারনেটে অনেক সোফা ডিজাইন ছবি পাওয়া যায়। Pinterest, Facebook এবং বিভিন্ন ফার্নিচার ওয়েবসাইটে ছবি খুঁজুন। ছবি দেখলে মাথায় একটা পরিষ্কার ধারণা আসে। কোন রঙ, কোন আকার, কোন কাপড় — সব বোঝা যায়। আপনার ঘরের ছবি তুলুন এবং ছবির সাথে মিলিয়ে দেখুন। এতে কেনার পর হতাশ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
আধুনিক সোফা ডিজাইন
আধুনিক সোফা ডিজাইন শুধু সুন্দর নয়, এটি অনেক বুদ্ধিমান। ছোট ঘরেও এখন বড় আরাম পাওয়া সম্ভব। সঠিক ডিজাইন বেছে নিলে জায়গাও বাঁচে, আরামও মেলে। নিচে কিছু জনপ্রিয় আধুনিক সোফা ডিজাইনের বৈশিষ্ট্য দেওয়া হলো:
- আধুনিক সোফা ডিজাইন ছোট ঘরের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়।
- ফোল্ডিং সোফা বা সোফা-বেড এখন অনেক জনপ্রিয়। এটি বসার এবং ঘুমানোর কাজে লাগে।
- মডুলার সোফা আলাদা করা যায়। প্রয়োজনে যেকোনো আকারে সাজানো সম্ভব।
- আধুনিক ডিজাইনে বিল্ট-ইন স্টোরেজও থাকে। নিচে জিনিস রাখার জায়গা পাওয়া যায়।
- হালকা রঙের আধুনিক সোফা ছোট ঘরকে বড় দেখায়।
কাঠের সোফা
কাঠের সোফা বাংলাদেশে সবচেয়ে পুরনো এবং জনপ্রিয় পছন্দ। এই সোফা অনেক বছর টেকে। কাঠের মান ভালো হলে সোফা ২০-৩০ বছরও টিকে যায়। পরিবারের বড়রা সাধারণত কাঠের সোফা পছন্দ করেন। কাঠের সোফায় কুশন লাগানো থাকে। কুশন নরম হওয়ায় বসতে আরামদায়ক। কাঠের সোফায় পানি বা ময়লা লাগলে পরিষ্কার করা সহজ।
কাঠের সোফা ডিজাইন
কাঠের সোফা ডিজাইন এখন অনেক বৈচিত্র্যময়। শুধু ঐতিহ্যবাহী ডিজাইন নয়, আধুনিক কাঠের সোফাও পাওয়া যায়। খোদাই করা কাঠের সোফা অনেক সুন্দর দেখায়। সরল কাঠের সোফা মডার্ন ঘরেও মানিয়ে যায়। কাঠে রঙ করলে আরও আকর্ষণীয় দেখায়। সেগুন, গামারি ও মেহগনি কাঠের সোফা বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
কাঠের সোফা সেট
কাঠের সোফা সেট মানে সোফা, টি-টেবিল এবং চেয়ার একসাথে। পুরো সেট একই কাঠ ও ডিজাইনে তৈরি হলে ঘর অনেক সুন্দর দেখায়। সেট কেনা আলাদা কেনার চেয়ে সাশ্রয়ী হয়। কারণ সেটে কেনাকাটায় দোকানদার ছাড় দেন। পুরো সেটের রঙ এবং কাঠ একই থাকলে ঘরের লুক একটানা থাকে। তাই সম্ভব হলে পুরো সেট একসাথে কিনুন।
| কাঠের ধরন | বৈশিষ্ট্য | স্থায়িত্ব | দাম |
| সেগুন কাঠ | অনেক শক্ত, পোকা ধরে না | ৩০+ বছর | বেশি |
| মেহগনি | সুন্দর রঙ, মসৃণ | ২০+ বছর | মধ্যম |
| গামারি | হালকা ও সস্তা | ১০-১৫ বছর | কম |
| রাবার কাঠ | পরিবেশবান্ধব | ১৫+ বছর | মধ্যম |
সোফার দাম বাংলাদেশ
বাংলাদেশে সোফার দাম অনেকটাই বৈচিত্র্যময়। ৮,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩ লাখ টাকার সোফাও পাওয়া যায়। ঢাকার হাতিরপুল, মিরপুর এবং মোহাম্মদপুরে অনেক ফার্নিচারের দোকান আছে। চট্টগ্রামে আগ্রাবাদ এবং রিয়াজউদ্দিন বাজারে সোফা পাওয়া যায়। অনলাইনেও এখন সোফা কেনা যায়। দারাজ, শপ.কম এবং বিভিন্ন ফেসবুক পেজে সোফা বিক্রি হয়। অনলাইনে কিনলে দাম তুলনা করা সহজ হয়।
কম দামে ভালো সোফা
অনেকেই মনে করেন ভালো সোফা মানেই বেশি দাম। কিন্তু একটু চালাকি করলে কম টাকায়ও চমৎকার সোফা পাওয়া যায়। সঠিক সময়ে এবং সঠিক জায়গায় কিনলে অনেক সাশ্রয় হয়। নিচের টিপসগুলো মনে রাখুন:
- ঈদ বা পূজার আগে অনেক দোকানে ছাড় দেওয়া হয়। সেই সময় কেনাকাটা করুন।
- স্থানীয় কারিগরের কাছে অর্ডার দিলে দাম কম পড়ে। মান নিজে দেখে নিন।
- দ্বিতীয় হাতের সোফাও একটি বিকল্প। তবে কেনার আগে ভালোভাবে দেখুন।
- সিজন শেষে শোরুমে ছাড় পাওয়া যায়। তখন কিনলে ভালো মানের সোফা সাশ্রয়ী দামে মেলে।
- একাধিক দোকানে দাম যাচাই করুন। তাড়াহুড়া করে কিনবেন না।
লেটেস্ট সোফা ডিজাইন
এই বছরে কিছু বিশেষ ডিজাইন অনেক জনপ্রিয় হচ্ছে। আর্থ টোন রঙ এখন ট্রেন্ডে। মাটির রঙ, জলপাই রঙ এবং বেজ রঙের সোফা এখন বেশি দেখা যাচ্ছে। ভেলভেট কাপড়ের সোফা এখন অনেক পছন্দের। এটি দেখতে রাজকীয় এবং স্পর্শে নরম। লো-প্রোফাইল সোফা মানে মেঝের কাছাকাছি সোফা এখন ট্রেন্ডে। ঘরকে আরও মডার্ন দেখায় এই ডিজাইন।
ড্রয়িং রুমের সোফা ডিজাইন
ড্রয়িং রুমের সোফা ডিজাইন বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অতিথিরা প্রথমে এখানেই বসেন। ড্রয়িং রুমে একটু বড় এবং আকর্ষণীয় সোফা রাখুন। থ্রি-সিটার মেইন সোফার সাথে দুটি সিঙ্গেল চেয়ার রাখলে ভালো দেখায়। রঙের সাথে কার্পেট এবং পর্দার মিল রাখুন। ড্রয়িং রুমের সোফার সামনে একটি কফি টেবিল রাখুন। এতে ঘরের লুক সম্পূর্ণ হয়।
ছোট সোফা সেট
ছোট বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টে বড় সোফা মানায় না। সেক্ষেত্রে ছোট সোফা সেট আদর্শ। ২ সিটার বা ৩ সিটার সোফা ছোট ঘরের জন্য পারফেক্ট। কমপ্যাক্ট সোফায় স্টোরেজ থাকলে আরও সুবিধা। ছোট সোফা ঘরকে ফাঁকা ও পরিষ্কার দেখায়। হালকা রঙের ছোট সোফা ঘরকে বড় দেখাতে সাহায্য করে।
বড় সোফা সেট ডিজাইন
বড় পরিবারে বড় সোফা সেট দরকার। এল-শেপ বা ইউ-শেপ সোফা সেট বড় পরিবারের জন্য আদর্শ। ৫ থেকে ৭ সিটের সোফা সেটে পুরো পরিবার একসাথে বসতে পারবে। বড় সোফা সেটে মান এবং আরামের দিকে বেশি নজর দিন। বড় সোফায় ভালো ফোম ব্যবহার করা হয়েছে কিনা দেখুন। সিটের গভীরতা এবং উচ্চতা আরামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
| সোফা সেটের আকার | উপযুক্ত ঘরের মাপ | সদস্য সংখ্যা |
| ২ সিটার | ১০x১০ ফুট পর্যন্ত | ১-২ জন |
| ৩ সিটার | ১২x১২ ফুট | ৩-৪ জন |
| এল-শেপ | ১৫x১৫ ফুট | ৪-৬ জন |
| ইউ-শেপ | ২০x২০ ফুট | ৬-৮ জন |
সোফা কেনার গাইড
এটি কেনার গাইড মেনে চললে ভুল হওয়ার সুযোগ কম। প্রথমে ঘরের মাপ নিন। তারপর বাজেট ঠিক করুন। এরপর ডিজাইন বেছে নিন। কাপড় বা লেদার — কোনটি চান সেটা ঠিক করুন। দোকানে গিয়ে বসে দেখুন আরামদায়ক কিনা। পিঠ সোজা রেখে বসুন, কোনো ব্যথা অনুভব হলে সেই সোফা নেবেন না। ওয়ারেন্টি এবং আফটার-সেলস সার্ভিস আছে কিনা জেনে নিন।
ভালো সোফা চেনার উপায়
ভালো সোফা চেনার উপায় জানা থাকলে কেউ ঠকাতে পারবে না। প্রথমে সোফার কাঠামো পরীক্ষা করুন। কাঠামো শক্ত ও মজবুত হতে হবে। বসে দেখুন সোফা দুলছে কিনা। ফোম চেপে দেখুন — ছেড়ে দিলে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসছে কিনা। কাপড় টেনে দেখুন — ছিঁড়ে যাচ্ছে কিনা। সেলাই ভালো হয়েছে কিনা দেখুন। সোফার পায়ের নিচে রাবার বা প্যাড আছে কিনা পরীক্ষা করুন।
সোফা কোন কাঠ ভালো
এটি কেনার সময় কাঠের বিষয়টা অনেকে এড়িয়ে যান। কিন্তু এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কাঠ ভালো না হলে সোফা কয়েক বছরেই নষ্ট হয়ে যায়। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় আর্দ্রতা বেশি থাকে। তাই পোকা ও পানি সহ্য করতে পারে এমন কাঠ বেছে নেওয়া জরুরি। নিচে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত কাঠগুলোর বিবরণ দেওয়া হলো:
- সেগুন কাঠ: সবচেয়ে টেকসই। পোকা ও পানিতে নষ্ট হয় না। দাম একটু বেশি।
- মেহগনি কাঠ: সুন্দর রঙ, মসৃণ গড়ন। দীর্ঘস্থায়ী।
- গামারি কাঠ: হালকা ও সাশ্রয়ী। তবে তুলনামূলক কম টেকসই।
- শাল কাঠ: অনেক শক্ত। ভারী আসবাবপত্রে ব্যবহার হয়।
- রাবার কাঠ: পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী।
ফোম সোফা ডিজাইন
ফোম সোফা ডিজাইন এখন অনেক জনপ্রিয়। এই সোফায় কাঠের কাঠামোর উপরে মোটা ফোম ব্যবহার করা হয়। ফোম নরম হওয়ায় বসতে অনেক আরামদায়ক। দীর্ঘসময় বসলেও ব্যথা হয় না। ফোমের ঘনত্ব যত বেশি, সোফা তত টেকসই। ভালো মানের ফোম সোফা ৭-১০ বছর টেকে। ফোম সোফার কাপড় নোংরা হলে সহজেই বদলানো যায়।
লেদার সোফা সেট
লেদার সোফা সেট দেখতে অনেক আকর্ষণীয়। এটি ঘরকে প্রিমিয়াম লুক দেয়। লেদার সোফা পরিষ্কার করা সহজ। ভেজা কাপড় দিয়ে মুছলেই পরিষ্কার হয়। তবে গরমে লেদার সোফায় বসতে একটু অস্বস্তি হতে পারে। ভালো মানের লেদার ২০ বছরেও নষ্ট হয় না। নকল লেদার বা PU লেদারের সোফাও বাজারে পাওয়া যায়। দাম কম কিন্তু মান আসল লেদারের মতো নয়।
সোফা সেটের ছবি
এটির ছবি দেখে অনেক কিছু শেখা যায়। ইন্টারনেটে লক্ষ লক্ষ সোফার ছবি আছে। Google-এ সার্চ করুন বা Pinterest দেখুন। বাংলাদেশি ফার্নিচার ব্র্যান্ডের ওয়েবসাইটে যান। সেখানে আপনার বাজেট অনুযায়ী ছবি দেখতে পাবেন। ছবি দেখে পছন্দের লিস্ট তৈরি করুন। তারপর দোকানে গিয়ে দেখুন এবং তুলনা করুন।
সোফা সেটের কালার আইডিয়া
এটির রঙ ঘরের পরিবেশ পরিবর্তন করতে পারে। হালকা রঙের সোফা ঘরকে বড় ও উজ্জ্বল দেখায়। গাঢ় রঙের সোফা ঘরকে ঘেরা এবং আরামদায়ক মনে করায়। কিছু জনপ্রিয় কালার কম্বিনেশন নিচে দেওয়া হলো:
| সোফার রঙ | দেওয়ালের রঙ | ঘরের অনুভূতি |
| সাদা বা ক্রিম | হালকা নীল বা সবুজ | শান্ত ও তাজা |
| ধূসর | সাদা বা হলুদ | আধুনিক ও পরিষ্কার |
| নেভি ব্লু | বেজ বা সোনালি | গভীর ও বিলাসবহুল |
| মাটির রঙ | সাদা বা ক্রিম | উষ্ণ ও প্রাকৃতিক |
সোফা সেটের সাইজ
এটি কেনার আগে অবশ্যই ঘরের মাপ নিন। ঘরের মাপ না নিলে বড় ভুল হতে পারে। সোফা বাড়িতে এসে ঘরে না ঢুকলে বিপদ। দরজার মাপও নিন। সোফা দরজা দিয়ে ঢুকবে কিনা নিশ্চিত করুন। ঘরে সোফা রাখার পর হাঁটার জন্য অন্তত ৩ ফুট জায়গা রাখুন। সোফার উচ্চতা এবং গভীরতা পরীক্ষা করুন।
সোফা ফার্নিচার বাংলাদেশ
বাংলাদেশে অনেক ভালো সোফা ফার্নিচার কোম্পানি আছে। হাতিল, অটোবি, নাভানা ফার্নিচার বাংলাদেশের পরিচিত ব্র্যান্ড। এই ব্র্যান্ডগুলোতে মানসম্মত সোফা পাওয়া যায়। তবে দাম একটু বেশি হতে পারে। স্থানীয় কারিগরদের কাছ থেকেও ভালো সোফা তৈরি করানো যায়। সেক্ষেত্রে নিজের পছন্দমতো ডিজাইন করা যায় এবং দাম কম পড়ে।
বেস্ট সোফা ডিজাইন বাংলাদেশ
বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জীবনযাত্রার সাথে মানানসই কিছু সোফা ডিজাইন আছে। গরমের কথা ভেবে সুতার কাপড়ের সোফা ভালো। এটি বাতাস চলাচল করতে দেয়। কাঠের সোফা বাংলাদেশে সবচেয়ে টেকসই। বৃষ্টির মৌসুমে আর্দ্রতায় কাঠ ফুলে যেতে পারে। তাই ভালোভাবে পলিশ করা কাঠের সোফা বেছে নিন। রঙের ক্ষেত্রে হালকা রঙ বেশি ব্যবহারিক। কারণ ময়লা একটু কম বোঝা যায়।
সোফা সেট কেনার টিপস
সোফা কেনা মানে শুধু পছন্দের রঙ বা ডিজাইন বেছে নেওয়া নয়। এর পেছনে অনেক ছোট ছোট বিষয় আছে যা অনেকে মিস করেন। একটু সচেতন থাকলে ভালো সোফা কেনা সহজ হয়ে যায়। নিচের পরামর্শগুলো মাথায় রাখুন:
- কেনার আগে অন্তত ৩-৪টি দোকান ঘুরে দেখুন।
- সোফায় বসে পরীক্ষা করুন — ১০ মিনিট বসুন।
- ওয়ারেন্টি কার্ড চেয়ে নিন।
- কাঠের জয়েন্ট শক্ত কিনা পরীক্ষা করুন।
- ফোমের মান জিজ্ঞেস করুন — ঘনত্ব কত তা জানুন।
- কাপড় বা লেদারের কোয়ালিটি যাচাই করুন।
- ডেলিভারি এবং ইনস্টলেশন সার্ভিস আছে কিনা জানুন।
ড্রয়িং রুম সোফা আইডিয়া
ড্রয়িং রুমকে স্বপ্নের মতো সাজাতে চাইলে এটি সঠিকভাবে বেছে নিন। মেইন সোফার পাশে একটি অ্যাকসেন্ট চেয়ার রাখুন। সোফার সামনে একটি কফি টেবিল রাখুন। কফি টেবিলে কিছু বই বা ফুলদানি রাখুন। সোফার পেছনে একটি শেলফ বা পেইন্টিং রাখুন। সোফার নিচে একটি কার্পেট বিছান। এতে ঘরের লুক একটানা এবং সুন্দর দেখাবে।
সোফা সেট অফার বাংলাদেশ
বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে এটিতে অফার পাওয়া যায়। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার আগে অনেক ছাড় থাকে। পহেলা বৈশাখেও অনেক ফার্নিচার শোরুম অফার দেয়। অনলাইন শপিং সাইটে বিশেষ দিনে ফ্ল্যাশ সেল হয়। ফার্নিচার ব্র্যান্ডের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে রাখুন। অফার এলে জানতে পারবেন। ব্র্যান্ডের নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করলেও আগাম জানা যায়।
সোফা সেট ফার্নিচার দাম
এটির দাম নির্ভর করে ব্র্যান্ড, মান ও ডিজাইনের উপর। নিচে একটি বিস্তারিত দামের তালিকা দেওয়া হলো:
| ব্র্যান্ড/ধরন | সেটের ধরন | আনুমানিক দাম |
| স্থানীয় কারিগর | ৩+১+১ কাঠের সেট | ৩০,০০০ – ৫০,০০০ |
| মিড-রেঞ্জ ব্র্যান্ড | ৩+১+১ ফোম সোফা | ৫০,০০০ – ৯০,০০০ |
| হাতিল/অটোবি | লেদার বা ফেব্রিক সেট | ৮০,০০০ – ২,০০,০০০ |
| আমদানি করা সোফা | মডার্ন ডিজাইন | ১,৫০,০০০ – ৩,০০,০০০ |
সোফা সেটের নতুন ডিজাইন

প্রতি বছরই সোফা সেটের নতুন ডিজাইন আসে। এই বছরে বোকলে ফেব্রিক সোফা অনেক জনপ্রিয়। এটি কোঁকড়ানো টেক্সচারের কাপড়। দেখতে আলাদা এবং স্পর্শে নরম। অ্যাসিমেট্রিক ডিজাইনের সোফাও এখন চলছে। মানে সোফার দুই পাশ এক রকম নয়। এই ধরনের সোফা ঘরকে আর্টিস্টিক লুক দেয়।
ফার্ণিচার সম্পর্কিত আরও পোস্ট দেখতে
👉 ফার্ণিচার ক্যাটাগরি দেখুন।
উপসংহার
সোফা কেনা একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। সঠিক সোফা আপনার ঘরকে সুন্দর ও আরামদায়ক করে তোলে। বাজেট, ঘরের মাপ, ডিজাইন এবং উপাদান — চারটি বিষয় সবসময় মাথায় রাখুন। তাড়াহুড়া করে সোফা কিনবেন না। সময় নিয়ে দেখুন, বসে পরীক্ষা করুন এবং তারপর সিদ্ধান্ত নিন। একটি ভালো সোফা কিনলে ১৫-২০ বছরও আরামে ব্যবহার করা যায়। তাই একটু বেশি সময় এবং সঠিক পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করুন। আপনার পরিবার আরামে বসবাস করুক — এটাই আমাদের কামনা।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)
বাংলাদেশে ভালো মানের সোফার দাম কত?
বাংলাদেশে ভালো মানের সোফার দাম ২৫,০০০ থেকে ১,৫০,০০০ টাকার মধ্যে হয়। বাজেট অনুযায়ী অনেক বিকল্প আছে।
সোফার জন্য কোন কাঠ সবচেয়ে ভালো?
সেগুন কাঠ সবচেয়ে টেকসই। তবে দাম বেশি। মধ্যম বাজেটে মেহগনি কাঠ ভালো পছন্দ।
লেদার নাকি ফেব্রিক সোফা ভালো?
লেদার পরিষ্কার করা সহজ কিন্তু গরমে অস্বস্তিকর। ফেব্রিক আরামদায়ক কিন্তু দ্রুত ময়লা হয়। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নিন।
ছোট ঘরের জন্য কোন সোফা ভালো?
ছোট ঘরের জন্য ২ বা ৩ সিটার কমপ্যাক্ট সোফা ভালো। হালকা রঙের সোফা ঘরকে বড় দেখায়।
সোফার ফোম কতদিন ভালো থাকে?
ভালো মানের ফোম ৭-১০ বছর ভালো থাকে। ফোমের ঘনত্ব বেশি হলে বেশিদিন টেকে।
অনলাইনে সোফা কেনা কি নিরাপদ?
পরিচিত ও বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট থেকে কিনলে নিরাপদ। রিভিউ দেখুন এবং রিটার্ন পলিসি জেনে নিন।
সোফা কীভাবে পরিষ্কার রাখবো?
প্রতি সপ্তাহে ভ্যাকুয়াম করুন। দাগ পড়লে তাৎক্ষণিক পরিষ্কার করুন। বছরে একবার পেশাদার ক্লিনিং করান।
সোফা কেনার সময় ওয়ারেন্টি পাওয়া যায় কি?
ভালো ব্র্যান্ড সাধারণত ১-৩ বছরের ওয়ারেন্টি দেয়। কেনার আগে ওয়ারেন্টির শর্ত জেনে নিন।
সোফার কুশন বদলানো কি সম্ভব?
হ্যাঁ, বেশিরভাগ সোফার কুশন বদলানো যায়। পুরনো কুশন নরম হয়ে গেলে নতুন ফোম দিয়ে তৈরি করানো যায়। এতে পুরো সোফা না বদলেও নতুনের মতো মনে হয়। স্থানীয় আসবাবপত্রের দোকানে এই কাজ কম খরচে হয়।
সোফা কেনার সময় কোন ভুলগুলো এড়ানো উচিত?
সবচেয়ে বড় ভুল হলো ঘরের মাপ না নিয়ে কেনা। এছাড়া শুধু দেখতে সুন্দর বলে কিনে ফেলা, বসে না দেখা এবং কাঠ বা ফোমের মান যাচাই না করাও বড় ভুল। কেনার আগে সময় নিন এবং ভালো করে যাচাই করুন।
🔥 পোস্টটি শেয়ার করুনঃ 🌍






