বাংলাদেশে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা শুরু করতে চাইলে প্রথমেই প্রয়োজন সঠিক রেজিস্ট্রেশন। রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনো কোম্পানি বৈধভাবে কাজ করতে পারে না। এই গাইডে আমরা সব ধাপ সহজভাবে বুঝিয়ে দেব। আপনি জানতে পারবেন কীভাবে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। কী কী কাগজপত্র লাগে সেটাও জানবেন। খরচ কেমন হবে তাও দেখবেন। চলুন শুরু করা যাক।
রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া
রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া বেশ সহজ যদি সঠিক ধাপ জানা থাকে। প্রথমে আপনাকে ব্যবসার ধরন ঠিক করতে হবে। একক মালিকানা, পার্টনারশিপ না কোম্পানি হবে সেটা ঠিক করুন। এরপর RJSC বা রেজিস্ট্রার অফ জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে আবেদন করতে হয়। নাম ছাড়পত্র নিতে হয় সবার আগে। কোম্পানির নাম অনন্য হতে হবে। অন্য কারো সাথে মিল থাকলে চলবে না। নাম পাওয়ার পর মেমোরেন্ডাম তৈরি করতে হয়। আর্টিকেল অফ অ্যাসোসিয়েশনও বানাতে হবে। সব কাগজ জমা দিয়ে ফি পরিশোধ করতে হয়। তারপর সার্টিফিকেট পেতে সময় লাগে ৭ থেকে ১৫ দিন। ট্রেড লাইসেন্স নিতে হয় সিটি কর্পোরেশন থেকে। TIN সার্টিফিকেটও জরুরি। এভাবে ধাপে ধাপে এগোলে রেজিস্ট্রেশন সহজ হয়।
রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রেশন বাংলাদেশ

বাংলাদেশে রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রেশন বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম মেনে করতে হয়। REHAB বা রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের সদস্য হওয়া ভালো। এটি আপনার ব্যবসায় বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়। সরকার চায় সব ডেভেলপার সঠিকভাবে নিবন্ধিত হোক। এতে ক্রেতারা সুরক্ষা পায়। জমি উন্নয়ন আইন মেনে চলতে হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও লাগে অনেক প্রজেক্টে। রাজউক বা সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদন নিতে হয়। ফায়ার সার্ভিসের NOC পেতে হয় বড় ভবনে। বাংলাদেশ ব্যাংকেও কিছু তথ্য দিতে হয় প্রজেক্ট শুরুতে। সব নিয়ম মেনে চললে ব্যবসা মসৃণ হয়। আইনি ঝামেলা এড়ানো যায় সহজেই।
রিয়েল এস্টেট ব্যবসা রেজিস্ট্রেশন
রিয়েল এস্টেট ব্যবসা রেজিস্ট্রেশন করতে হলে প্রস্তুতি দরকার। আপনার ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি করুন আগে। কত টাকা বিনিয়োগ করবেন সেটা ঠিক করুন। কোন এলাকায় কাজ করবেন তা নির্ধারণ করুন। পার্টনার থাকলে সবার মধ্যে চুক্তি করুন। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলুন কোম্পানির নামে। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংগ্রহ করুন। জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি, ঠিকানা প্রমাণ লাগবে। অফিস ঠিকানার কাগজ চাই। ভাড়া নিলে চুক্তিপত্র দিতে হবে। নিজের হলে মালিকানা দলিল লাগবে। ব্যবসা শুরুর আগে সব আইনি দিক পরিষ্কার রাখুন। পেশাদার আইনজীবী বা পরামর্শক রাখতে পারেন। এতে সময় বাঁচে এবং ভুল কম হয়।
- কোম্পানির নাম ছাড়পত্র নিন RJSC থেকে
- মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেল প্রস্তুত করুন
- প্রয়োজনীয় ফি জমা দিয়ে আবেদন করুন
- সার্টিফিকেট পেলে ট্রেড লাইসেন্স নিন
- TIN ও VAT রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন
রিয়েল এস্টেট কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন
রিয়েল এস্টেট কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন সাধারণত প্রাইভেট লিমিটেড হয়। এতে শেয়ারহোল্ডার কমপক্ষে দুইজন থাকে। ডিরেক্টর দুইজন হতে হবে। পরিচালক বাংলাদেশী নাগরিক হতে হয়। কোম্পানির নামে “প্রাইভেট লিমিটেড” যুক্ত থাকতে হবে। মূলধন নির্ধারণ করুন আগে থেকে। ন্যূনতম শেয়ার মূল্য ঠিক করুন। কোম্পানির অফিস ঠিকানা দিতে হবে নির্দিষ্ট। পরিচালকদের ছবি ও স্বাক্ষর জমা দিতে হয়। শেয়ার বন্টনের বিবরণী দিতে হবে। RJSC ফরম পূরণ করতে হয় সঠিকভাবে। কোনো ভুল থাকলে আবেদন বাতিল হতে পারে। নোটারি পাবলিক দিয়ে সব কাগজ সত্যায়িত করান। এরপর জমা দিন RJSC অফিসে। প্রসেসিং হতে সময় লাগে। সার্টিফিকেট পেলে আপনি ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।
ডেভেলপার কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন নিয়ম
ডেভেলপার কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন নিয়ম একটু কঠোর। বড় প্রজেক্ট করতে চাইলে পেশাদার দল চাই। স্থপতি, ইঞ্জিনিয়ার রাখতে হয়। আর্থিক সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে। ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট দিতে হয়। প্রজেক্ট অনুমোদন নিতে রাজউকে যেতে হয়। নকশা জমা দিয়ে পাস করাতে হয়। পরিবেশ ছাড়পত্র নিতে হয় DOE থেকে। ইউটিলিটি সংযোগের অনুমতি চাই। ওয়াসা, বিদ্যুৎ, গ্যাসের NOC লাগে। ভূমি ব্যবহার পারমিট নিতে হয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ থেকে। নির্মাণ অনুমতি পেতে সব কাগজ জমা দিন। প্রজেক্টের বিস্তারিত পরিকল্পনা দেখাতে হয়। জমির মালিকানা দলিল সংযুক্ত করুন। প্রতিটি ধাপ সময়মতো শেষ করুন।
বাংলাদেশে রিয়েল এস্টেট লাইসেন্স
বাংলাদেশে রিয়েল এস্টেট লাইসেন্স পেতে কিছু শর্ত মানতে হয়। কোম্পানি রেজিস্টার্ড হতে হবে আগে। ট্রেড লাইসেন্স থাকতে হবে বৈধ। TIN সার্টিফিকেট জমা দিতে হয়। ব্যবসায়িক ঠিকানা প্রমাণ চাই। পরিচালকদের জাতীয় পরিচয়পত্র লাগবে। অফিস ভাড়া হলে চুক্তিপত্র দিন। মালিকানা হলে দলিল দেখান। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট দিতে হয়। আর্থিক সক্ষমতা থাকতে হবে। পেশাদার জনবল রাখার প্রমাণ চাই। REHAB সদস্যপদ পেলে সুবিধা বেশি। লাইসেন্স ফি পরিশোধ করতে হয়। নবায়ন করতে হয় প্রতি বছর। মেয়াদ শেষ হলে রিনিউ করান। লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করা আইনত দণ্ডনীয়।
- কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট প্রস্তুত রাখুন
- ট্রেড লাইসেন্স ও TIN নিশ্চিত করুন
- পেশাদার জনবল নিয়োগের প্রমাণ দিন
- আর্থিক সক্ষমতার কাগজ জমা দিন
- বার্ষিক নবায়ন ভুলবেন না
রিয়েল এস্টেট লাইসেন্স আবেদন পদ্ধতি
রিয়েল এস্টেট লাইসেন্স আবেদন পদ্ধতি খুবই সুনির্দিষ্ট। প্রথমে আবেদন ফরম সংগ্রহ করুন। REHAB বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে ফরম পাওয়া যায়। অনলাইনেও ডাউনলোড করা যায় অনেক সময়। ফরম পূরণ করুন সতর্কতার সাথে। সব তথ্য সঠিক দিন। কোনো মিথ্যা তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হবে। প্রয়োজনীয় কাগজ সংযুক্ত করুন। কোম্পানি সার্টিফিকেট, ট্রেড লাইসেন্স দিন। TIN, ব্যাংক স্টেটমেন্ট যুক্ত করুন। পরিচালকদের ছবি ও স্বাক্ষর দিন। নোটারি করা কাগজ জমা দিন। ফি জমা দিয়ে রসিদ রাখুন। আবেদন জমার পর ভেরিফিকেশন হয়। অফিসে পরিদর্শন আসতে পারে। সব কিছু ঠিক থাকলে লাইসেন্স মিলবে। সময় লাগে ৩০ থেকে ৬০ দিন সাধারণত।
রিয়েল এস্টেট ব্যবসা কীভাবে শুরু করবেন
রিয়েল এস্টেট ব্যবসা কীভাবে শুরু করবেন সেটা জানা জরুরি। প্রথমে বাজার গবেষণা করুন। কোথায় চাহিদা বেশি সেটা বুঝুন। আপনার বাজেট ঠিক করুন। কত টাকা খরচ করতে পারবেন জানুন। ব্যবসায়িক পরিকল্পনা লিখুন। ৫ বছরের লক্ষ্য সেট করুন। পার্টনার খুঁজুন বিশ্বস্ত। একা শুরু করলে পরে যুক্ত করতে পারেন। জমি খোঁজার কাজ শুরু করুন। ভালো লোকেশন নির্বাচন করুন। আইনজীবী রাখুন শুরু থেকেই। সব কাগজ যাচাই করাবেন তাদের দিয়ে। স্থপতি নিয়োগ দিন পরিকল্পনার জন্য। মার্কেটিং টিম গড়ুন বিক্রয়ের জন্য। ডিজিটাল মার্কেটিং করুন আজকাল। ফেসবুক, ইউটিউবে প্রচার করুন। ছোট প্রজেক্ট দিয়ে শুরু করুন। অভিজ্ঞতা বাড়লে বড় করবেন।
রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রেশন ফি
রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ভর করে কোম্পানির ধরনের উপর। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে বেশি খরচ। পার্টনারশিপে তুলনামূলক কম। RJSC ফি দিতে হয় মূলধন অনুযায়ী। মূলধন বেশি হলে ফিও বাড়ে। নাম ছাড়পত্র নিতে খরচ হয় ১,০০০ থেকে ২,০০০ টাকা। রেজিস্ট্রেশন ফি হতে পারে ৫,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা। স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হয় আলাদা। আইনজীবী ফি যোগ হয় ১০,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা। ট্রেড লাইসেন্স ফি ৫,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা। এলাকা ভেদে তারতম্য হয়। ঢাকায় বেশি, জেলায় কম। সব মিলিয়ে প্রাথমিক খরচ ৫০,০০০ থেকে ২ লাখ টাকা হতে পারে। বড় কোম্পানি করলে আরও বেশি লাগবে।
- RJSC নাম ছাড়পত্র ফি: ১,০০০-২,০০০ টাকা
- কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন ফি: ৫,০০০-২০,০০০ টাকা
- স্ট্যাম্প ডিউটি: মূলধন অনুযায়ী
- আইনজীবী খরচ: ১০,০০০-৫০,০০০ টাকা
- ট্রেড লাইসেন্স ফি: ৫,০০০-১৫,০০০ টাকা
রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রেশন খরচ
রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রেশন খরচ বিভিন্ন খাতে ভাগ হয়। সরকারি ফি তো আছেই। এছাড়া পেশাদার সেবার খরচ আছে। আইনজীবী নিয়োগ দিলে ফি দিতে হয়। চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট লাগতে পারে। তাদের ফিও গুনতে হবে। কনসালট্যান্ট ফার্ম রাখলে আরও খরচ। কাগজপত্র তৈরিতে খরচ হয়। নোটারি, ফটোকপি, বাইন্ডিং এসব। অফিস ভাড়া দিতে হয় শুরু থেকে। আসবাবপত্র কিনতে হয়। কম্পিউটার, প্রিন্টার দরকার। কর্মচারী বেতন দিতে হয় প্রথম মাস থেকে। বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট বিল আছে। মার্কেটিং খরচ ধরতে হবে। ওয়েবসাইট, ব্রোশার বানাতে টাকা লাগে। সব মিলিয়ে শুরুতে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা রাখা ভালো। এতে ঝামেলা কম হয়।
রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রেশন ডকুমেন্ট
রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রেশন ডকুমেন্ট তালিকা বেশ লম্বা। প্রথমেই নাম ছাড়পত্রের কপি লাগবে। মেমোরেন্ডাম অফ অ্যাসোসিয়েশন চাই। আর্টিকেল অফ অ্যাসোসিয়েশন দিতে হবে। শেয়ারহোল্ডারদের জাতীয় পরিচয়পত্র। পরিচালকদের ছবি ও স্বাক্ষর। অফিসের ভাড়া চুক্তি বা মালিকানা দলিল। পরিচালকদের ঠিকানা প্রমাণ। ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট। TIN সার্টিফিকেট জমা দিতে হয়। ট্রেড লাইসেন্সের কপি চাই। পেশাদার জনবলের সিভি ও সার্টিফিকেট। স্থপতি ও ইঞ্জিনিয়ারের লাইসেন্স। REHAB সদস্যপদ পত্র থাকলে। পরিবেশ ছাড়পত্র বড় প্রজেক্টে। রাজউক অনুমোদন চাই প্রজেক্টে। সব কাগজ নোটারি করা থাকতে হবে। একটা ফাইলে গুছিয়ে রাখুন।
রিয়েল এস্টেট কোম্পানি নিবন্ধন কাগজপত্র
রিয়েল এস্টেট কোম্পানি নিবন্ধন কাগজপত্র সংগ্রহ করুন আগে। প্রতিষ্ঠাতাদের জাতীয় পরিচয়পত্র স্ক্যান করুন। পাসপোর্ট সাইজ ছবি নিন সবার। অফিসের ঠিকানা প্রমাণ রাখুন। হোল্ডিং ট্যাক্সের রসিদ দিতে পারেন। ভাড়া চুক্তিপত্র নোটারি করান। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে স্টেটমেন্ট নিন। মূলধন জমার প্রমাণপত্র চাই। শেয়ার বন্টন সার্টিফিকেট তৈরি করুন। পরিচালক নিয়োগপত্র লিখুন। কোম্পানির লক্ষ্য উদ্দেশ্য লিখুন। ব্যবসার ধরন বর্ণনা করুন। RJSC ফরম পূরণ করুন। স্ট্যাম্প কিনে লাগান প্রয়োজনমতো। সব কাগজ ফটোকপি করে রাখুন। মূল কপি জমা দেওয়ার আগে যাচাই করুন। একবার ভুল হলে নতুন করে করতে হয়।
| ডকুমেন্ট নাম | প্রয়োজনীয়তা | কোথায় পাবেন | সময় |
| জাতীয় পরিচয়পত্র | সবার জন্য বাধ্যতামূলক | নির্বাচন কমিশন | তাৎক্ষণিক |
| ঠিকানা প্রমাণ | অফিসের জন্য | হোল্ডিং ট্যাক্স/চুক্তি | ১-২ দিন |
| ব্যাংক সার্টিফিকেট | আর্থিক সক্ষমতা | যেকোনো ব্যাংক | ৩-৫ দিন |
| নোটারি | সব কাগজে | নোটারি অফিস | ১ দিন |
রিয়েল এস্টেট ব্যবসা আইন বাংলাদেশ
রিয়েল এস্টেট ব্যবসা আইন বাংলাদেশে বেশ কঠোর। রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট ২০১০ মানতে হয়। এই আইনে ক্রেতাদের সুরক্ষা আছে। ডেভেলপারকে সময়মতো ফ্ল্যাট দিতে হবে। বিলম্ব হলে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। প্রজেক্টের আগে অনুমোদন নিতে হবে। বিজ্ঞাপন দেওয়ার আগে অনুমতি চাই। মিথ্যা বিজ্ঞাপন করলে জরিমানা আছে। ক্রেতার টাকা আলাদা অ্যাকাউন্টে রাখতে হয়। অন্য কাজে ব্যবহার করা যাবে না। জমি কেনার আগে তল্লাশি রিপোর্ট নিন। দলিল যাচাই করান আইনজীবী দিয়ে। কালো টাকা দিয়ে জমি কিনলে আইনি সমস্যা হবে। সব লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে করুন। রসিদ সংরক্ষণ করুন সতর্কতার সাথে।
রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার নিবন্ধন
রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার নিবন্ধন একটু জটিল প্রক্রিয়া। প্রথমে কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন করুন। তারপর REHAB সদস্যপদের জন্য আবেদন করুন। এতে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে। ডেভেলপার হিসেবে নিবন্ধন নিতে হয় আলাদা। প্রজেক্ট লাইসেন্স নিতে হবে প্রতিটিতে। রাজউক অনুমোদন বাধ্যতামূলক ঢাকায়। জেলায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি চাই। নকশা পাস করাতে হয় স্থপতি দিয়ে। বিল্ডিং কোড মেনে চলতে হবে। ফায়ার সেফটি নিশ্চিত করুন। পরিবেশ বিধি লঙ্ঘন করবেন না। জলাশয় ভরাট করা নিষেধ। সরকারি জমিতে প্রজেক্ট করবেন না। বৈধ কাগজ ছাড়া কাজ শুরু নয়। প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা রাখুন। ক্রেতাদের সাথে সৎ থাকুন।
- REHAB সদস্যপদ নিতে আবেদন করুন
- প্রতিটি প্রজেক্টের জন্য আলাদা লাইসেন্স নিন
- রাজউক/স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিশ্চিত করুন
- বিল্ডিং কোড ও ফায়ার সেফটি মানুন
- পরিবেশ বিধি কঠোরভাবে পালন করুন
রিয়েল এস্টেট ফার্ম রেজিস্ট্রেশন
রিয়েল এস্টেট ফার্ম রেজিস্ট্রেশন ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ। একক মালিকানা বা পার্টনারশিপ করতে পারেন। কোম্পানি না করলে খরচ কম হয়। ট্রেড লাইসেন্স নিলেই শুরু করতে পারেন। TIN নিতে হবে ট্যাক্সের জন্য। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলুন ব্যবসার নামে। অফিস ভাড়া নিন ভালো জায়গায়। সাইনবোর্ড লাগান আকর্ষণীয়। ব্রোশার ছাপান তথ্য দিয়ে। ফেসবুক পেজ খুলুন প্রচারের জন্য। স্থানীয় বাজার চিনুন ভালোভাবে। ক্রেতাদের চাহিদা বুঝুন। জমি মালিকদের সাথে যোগাযোগ করুন। কমিশন ভিত্তিতে বিক্রয় করতে পারেন। নিজের প্রজেক্ট শুরু করুন পরে। প্রথমে অভিজ্ঞতা অর্জন করুন। সততা ও বিশ্বস্ততা রাখুন সবসময়।
একক মালিকানায় রিয়েল এস্টেট ব্যবসা
একক মালিকানায় রিয়েল এস্টেট ব্যবসা শুরু সহজ। শুধু আপনি একজন মালিক থাকবেন। সব সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারবেন। মুনাফা ভাগ করতে হবে না। তবে ঝুঁকিও একাই নিতে হবে। লস হলে আপনার একার। আইনি দায় আপনার উপর পড়বে। মূলধন কম হবে সাধারণত। বড় প্রজেক্ট করা কঠিন একা। ছোট প্রজেক্ট দিয়ে শুরু করুন। প্লট বিক্রয় করতে পারেন। ছোট ভবন তৈরি করুন। ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে শুরু করুন। TIN সার্টিফিকেট নিন অবশ্যই। ব্যাংক ঋণ নিতে পারেন প্রয়োজনে। তবে সুদ বেশি হতে পারে। নিজের টাকা বিনিয়োগ করুন বেশি। এতে ঝুঁকি কম। সফল হলে পরে কোম্পানি করবেন।
পার্টনারশিপ রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রেশন
পার্টনারশিপ রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রেশন বেশ জনপ্রিয়। দুই বা তিনজন মিলে ব্যবসা করেন। মূলধন বেশি জোগাড় হয়। ঝুঁকি ভাগাভাগি হয়ে যায়। সিদ্ধান্ত একসাথে নিতে হয়। পার্টনারশিপ ডিড তৈরি করুন। আইনজীবী দিয়ে লিখিয়ে নিন। লাভ-ক্ষতির হিসাব নির্ধারণ করুন। কে কী কাজ করবে ঠিক করুন। বিবাদ হলে সমাধান পদ্ধতি লিখুন। পার্টনারশিপ নিবন্ধন করুন দলিল দফতরে। স্ট্যাম্প লাগিয়ে রেজিস্ট্রি করান। ট্রেড লাইসেন্স নিন পার্টনারশিপের নামে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলুন যৌথভাবে। দুজনের স্বাক্ষর লাগবে চেকে। স্বচ্ছতা রাখুন সব লেনদেনে। বন্ধু হলেও ব্যবসা আলাদা রাখুন। হিসাব নিয়মিত মিলান।
প্রাইভেট লিমিটেড রিয়েল এস্টেট কোম্পানি
প্রাইভেট লিমিটেড রিয়েল এস্টেট কোম্পানি সবচেয়ে নিরাপদ। ব্যক্তিগত সম্পদ সুরক্ষিত থাকে। কোম্পানির দায় আলাদা। শেয়ারহোল্ডারদের দায় সীমিত। বড় প্রজেক্ট করতে সুবিধা। ব্যাংক ঋণ পেতে সহজ হয়। বিনিয়োগকারী আকৃষ্ট হয় বেশি। পেশাদারিত্ব বাড়ে অনেক। RJSC তে রেজিস্টার করতে হয়। মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেল চাই। পরিচালক বোর্ড গঠন করুন। শেয়ারহোল্ডার মিটিং করতে হবে। বার্ষিক অডিট বাধ্যতামূলক। ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিতে হয়। VAT রেজিস্ট্রেশন নিন। সব হিসাব সংরক্ষণ করুন। কোম্পানি সেক্রেটারি রাখুন। আইনি পরামর্শ নিয়মিত নিন।
| কোম্পানির ধরন | মূলধন | মালিক সংখ্যা | দায় | খরচ |
| একক মালিকানা | কম | ১ জন | সীমাহীন | ১০-২০ হাজার |
| পার্টনারশিপ | মাঝারি | ২-২০ জন | সীমাহীন | ২০-৫০ হাজার |
| প্রাইভেট লিমিটেড | বেশি | ২-৫০ জন | সীমিত | ৫০ হাজার-২ লাখ |
| পাবলিক লিমিটেড | অনেক বেশি | ৭+ জন | সীমিত | ২ লাখ+ |
রিয়েল এস্টেট ব্যবসার অনুমোদন
রিয়েল এস্টেট ব্যবসার অনুমোদন বিভিন্ন সংস্থা থেকে নিতে হয়। রাজউক অনুমোদন ঢাকায় বাধ্যতামূলক। চট্টগ্রামে CDA থেকে নিতে হয়। অন্যান্য জেলায় পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন থেকে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র চাই। DOE থেকে পরিবেশ ক্লিয়ারেন্স নিন। ফায়ার সার্ভিসের NOC নিতে হবে। WASA থেকে পানি সংযোগ অনুমতি। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ। গ্যাস কর্তৃপক্ষ থেকে গ্যাস লাইন। টেলিকম থেকে ইন্টারনেট লাইন। প্রতিটি অনুমোদন নিতে সময় লাগে। একসাথে আবেদন করলে ভালো। ধৈর্য রাখতে হবে এই ক্ষেত্রে। সব কাগজ ঠিকঠাক রাখুন। অফিসে নিয়মিত যোগাযোগ করুন।
রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রেশন অনলাইন
রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রেশন অনলাইন এখন সম্ভব হচ্ছে। RJSC ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করুন। অ্যাকাউন্ট খুলুন প্রথমে। ফরম পূরণ করুন অনলাইনে। কাগজপত্র স্ক্যান করে আপলোড করুন। ফি অনলাইন পেমেন্ট করুন। বিকাশ, নগদ, কার্ড ব্যবহার করতে পারেন। আবেদন স্ট্যাটাস দেখুন নিয়মিত। ভেরিফিকেশন হলে নোটিফিকেশন পাবেন। কিছু কাগজ অফিসে জমা দিতে হতে পারে। সার্টিফিকেট ডাউনলোড করুন পরে। ডিজিটাল সার্টিফিকেট পাবেন। প্রিন্ট করে রাখুন কপি। ট্রেড লাইসেন্সও অনলাইন হচ্ছে ধীরে ধীরে। সিটি কর্পোরেশন ওয়েবসাইট চেক করুন। অনলাইন আবেদনে সময় বাঁচে। যাতায়াত খরচও কমে।
- RJSC ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলুন
- ফরম পূরণ করে ডকুমেন্ট আপলোড করুন
- অনলাইন পেমেন্ট করুন নিরাপদে
- আবেদন স্ট্যাটাস ট্র্যাক করুন নিয়মিত
- ডিজিটাল সার্টিফিকেট ডাউনলোড করুন
RJSC রিয়েল এস্টেট কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন
RJSC রিয়েল এস্টেট কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। Registrar of Joint Stock Companies হল মূল কর্তৃপক্ষ। সব কোম্পানি এখানে নিবন্ধিত হয়। অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করুন। নাম অনুসন্ধান করুন প্রথমে। অনন্য নাম বেছে নিন। নাম রিজার্ভ করুন পেমেন্ট দিয়ে। ৬০ দিন পর্যন্ত রিজার্ভ থাকে। এই সময়ে রেজিস্ট্রেশন শেষ করুন। মেমোরেন্ডাম আপলোড করুন। আর্টিকেল আপলোড করুন। ফরম ১ পূরণ করুন সঠিকভাবে। পরিচালক তথ্য দিন বিস্তারিত। শেয়ার মূলধন উল্লেখ করুন। ডিজিটাল স্বাক্ষর ব্যবহার করুন। সব ফি পরিশোধ করুন। সার্টিফিকেট পেতে ১০-১৫ দিন লাগে। হার্ড কপি সংগ্রহ করুন পরে।
রিয়েল এস্টেট ব্যবসা নিবন্ধন ধাপ
রিয়েল এস্টেট ব্যবসা নিবন্ধন ধাপ জানা থাকলে সহজ হয়। প্রথম ধাপ হল সিদ্ধান্ত নেওয়া। কী ধরনের ব্যবসা করবেন ঠিক করুন। দ্বিতীয় ধাপ নাম নির্বাচন। অনন্য ও আকর্ষণীয় নাম রাখুন। তৃতীয় ধাপ কাগজপত্র সংগ্রহ। সব ডকুমেন্ট গুছিয়ে রাখুন। চতুর্থ ধাপ RJSC আবেদন। অনলাইন বা অফলাইন করুন। পঞ্চম ধাপ ফি পরিশোধ। সরকারি ও পেশাদার ফি দিন। ষষ্ঠ ধাপ ভেরিফিকেশন অপেক্ষা। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন। সপ্তম ধাপ সার্টিফিকেট সংগ্রহ। পেলে সংরক্ষণ করুন নিরাপদে। অষ্টম ধাপ ট্রেড লাইসেন্স। সিটি কর্পোরেশনে আবেদন করুন। নবম ধাপ TIN নিবন্ধন। ট্যাক্স অফিসে যান। দশম ধাপ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। ব্যবসার নামে খুলুন।
রিয়েল এস্টেট কোম্পানি গঠন নিয়ম
রিয়েল এস্টেট কোম্পানি গঠন নিয়ম মেনে চলা জরুরি। কোম্পানি আইন ১৯৯৪ অনুসরণ করতে হয়। ন্যূনতম দুইজন পরিচালক চাই। সর্বোচ্চ সংখ্যা নেই সাধারণত। শেয়ারহোল্ডার দুইজন হলেই হয়। তারা পরিচালকও হতে পারে। মূলধন নির্ধারণ করুন যুক্তিসঙ্গত। খুব কম রাখলে বিশ্বাসযোগ্যতা কমে। খুব বেশি রাখলে ট্যাক্স বাড়ে। অফিস ঠিকানা স্থায়ী হতে হবে। পরিচালক বাংলাদেশী নাগরিক হবে। বিদেশী হলে বিশেষ অনুমতি লাগে। কোম্পানি সিল বানান। ব্যাংক চেক বই নিন। লেটারহেড ছাপান। নিয়োগপত্র প্যাড তৈরি করুন। নিয়মিত মিটিং করুন পরিচালকদের। মিনিটস বুক সংরক্ষণ করুন।
| নিবন্ধন ধাপ | কাজ | সময় | খরচ |
| নাম নিবন্ধন | RJSC তে নাম রিজার্ভ | ১-২ দিন | ১,০০০-২,০০০ টাকা |
| কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন | ডকুমেন্ট জমা ও অনুমোদন | ৭-১৫ দিন | ৫,০০০-২০,০০০ টাকা |
| ট্রেড লাইসেন্স | স্থানীয় কর্তৃপক্ষ | ৩-৭ দিন | ৫,০০০-১৫,০০০ টাকা |
| TIN নিবন্ধন | কর অফিস | ১-৩ দিন | বিনামূল্যে |
বাংলাদেশে ডেভেলপার লাইসেন্স
বাংলাদেশে ডেভেলপার লাইসেন্স পেতে কিছু যোগ্যতা লাগে। কোম্পানি রেজিস্টার্ড হতে হবে। ন্যূনতম ৩ বছরের অভিজ্ঞতা চাই। আর্থিক সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে। ব্যাংক থেকে সার্টিফিকেট নিন। পেশাদার দল রাখতে হবে। স্থপতি লাইসেন্স দেখান। ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগপত্র দিন। আগের প্রজেক্টের রেফারেন্স চাই। সফলতার প্রমাণ দেখান। REHAB সদস্যপদ সুবিধা দেয়। লাইসেন্স আবেদন ফরম পূরণ করুন। সব ডকুমেন্ট সংযুক্ত করুন। ফি জমা দিয়ে আবেদন করুন। পরিদর্শন হতে পারে অফিসের। ইন্টারভিউ নিতে পারে কমিটি। সব ঠিক থাকলে লাইসেন্স মিলবে। বার্ষিক নবায়ন করতে হয়।
রিয়েল এস্টেট ব্যবসা করার শর্ত
রিয়েল এস্টেট ব্যবসা করার শর্ত কিছুটা কঠিন। বৈধ রেজিস্ট্রেশন প্রথম শর্ত। লাইসেন্স থাকতে হবে বলবৎ। আর্থিক স্বচ্ছতা রাখতে হবে। কালো টাকা ব্যবহার করা যাবে না। সব লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলে। ক্রেতার টাকা আলাদা রাখতে হবে। এসক্রো অ্যাকাউন্ট খুলুন প্রজেক্টের জন্য। সময়মতো ডেলিভারি দিতে হবে। চুক্তি অনুযায়ী কাজ করুন। মান নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। নিম্নমানের মালামাল নয়। পরিবেশ বিধি মানতে হবে। সবুজায়ন করুন প্রজেক্টে। বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা। সোলার প্যানেল লাগান সম্ভব হলে। ক্রেতাদের সাথে সৎ থাকুন। মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেবেন না। বিজ্ঞাপনে সত্য তথ্য দিন।
রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রেশন সময় লাগে কত
রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রেশন সময় লাগে কত সেটা নির্ভর করে অনেক কিছুতে। কাগজপত্র ঠিক থাকলে দ্রুত হয়। নাম ছাড়পত্রে ১-২ দিন। কোম্পানি রেজিস্ট্রেশনে ৭-১৫ দিন। জটিলতা থাকলে ১ মাসও লাগতে পারে। ট্রেড লাইসেন্সে ৩-৭ দিন। TIN নিতে ১-৩ দিন। REHAB সদস্যপদে ১-২ মাস। ডেভেলপার লাইসেন্সে ২-৩ মাস। প্রজেক্ট অনুমোদনে ৩-৬ মাস। রাজউক অনুমোদন সবচেয়ে সময় নেয়। পরিবেশ ছাড়পত্রে ১-২ মাস। সব মিলিয়ে শুরু থেকে শেষ ৬ মাস থেকে ১ বছর। তাড়াহুড়ো না করাই ভালো। ধাপে ধাপে এগোন। পেশাদার সাহায্য নিলে দ্রুত হয়। নিজে করলে বেশি সময় লাগে।
- নাম ছাড়পত্র: ১-২ দিন
- কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন: ৭-১৫ দিন
- ট্রেড লাইসেন্স: ৩-৭ দিন
- REHAB সদস্যপদ: ১-২ মাস
- প্রজেক্ট অনুমোদন: ৩-৬ মাস
রিয়েল এস্টেট ব্যবসা বৈধতা
রিয়েল এস্টেট ব্যবসা বৈধতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অবৈধ ব্যবসায় আইনি সমস্যা হবে। জেল-জরিমানা হতে পারে। সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হতে পারে। বৈধতার জন্য সব লাইসেন্স চাই। RJSC সার্টিফিকেট রাখুন। ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করুন। TIN সার্টিফিকেট আপডেট রাখুন। VAT রেজিস্ট্রেশন নিন প্রয়োজনে। প্রজেক্ট অনুমোদন নিয়েই শুরু করুন। বিজ্ঞাপন অনুমোদিত হতে হবে। মিথ্যা দাবি করা যাবে না। জমি কেনার আগে যাচাই করুন। মালিকানা পরিষ্কার কিনা দেখুন। দলিল নকল নয় তো চেক করুন। সরকারি জমি কিনবেন না। জলাশয় ভরাট নিষেধ। সব আইন মেনে চলুন। তবেই ব্যবসা বৈধ থাকবে।
রিয়েল এস্টেট কোম্পানি খুলতে কত টাকা লাগে
রিয়েল এস্টেট কোম্পানি খুলতে কত টাকা লাগে সেটা ব্যবসার আকার নির্ভর। ছোট কোম্পানি ৫ লাখ টাকায় শুরু সম্ভব। মাঝারি কোম্পানিতে ১০-২০ লাখ। বড় কোম্পানিতে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি। রেজিস্ট্রেশন খরচ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ। অফিস সাজাতে ৫-১০ লাখ। আসবাব, কম্পিউটার, এসি কিনতে হয়। কর্মচারী বেতন প্রথম ৬ মাস ধরুন। ৩-৫ লাখ রাখুন এজন্য। মার্কেটিং খরচ ২-৫ লাখ। ওয়েবসাইট, ব্রোশার বানাতে খরচ। জমি এডভান্স দিতে অনেক টাকা লাগে। ১-২ কোটি রাখতে হতে পারে। ব্যাংক ঋণ নিতে পারেন। তবে সুদ গুনতে হবে। নিজের টাকা বেশি ভালো। কম টাকায় শুরু করে বাড়ান।
রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রেশন সমস্যা ও সমাধান

রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রেশন সমস্যা ও সমাধান জানা থাকলে সুবিধা। প্রথম সমস্যা নাম পাওয়া। অনেক নাম আগেই নেওয়া থাকে। সমাধান হল বিকল্প নাম রাখা। ৫-১০টা নাম ভাবুন আগে। দ্বিতীয় সমস্যা কাগজপত্র জটিলতা। অনেক ডকুমেন্ট লাগে। সমাধান হল চেকলিস্ট বানান। একে একে সংগ্রহ করুন। তৃতীয় সমস্যা ফি বেশি। অনেকের বাজেটে কুলায় না। সমাধান হল আগে সঞ্চয় করুন। অথবা পার্টনার নিন। চতুর্থ সমস্যা সময় বেশি লাগা। ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন অনেকে। সমাধান হল পেশাদার নিয়োগ। তারা দ্রুত করবে। পঞ্চম সমস্যা আইনি জটিলতা। নিয়ম না জানা। সমাধান হল আইনজীবী রাখুন। ষষ্ঠ সমস্যা ঘুষ চাওয়া। কিছু অসৎ কর্মচারী আছে। সমাধান হল অনলাইন আবেদন করুন।
| সমস্যা | কারণ | সমাধান | খরচ |
| নাম না পাওয়া | আগে নেওয়া | বিকল্প নাম রাখা | বিনামূল্যে |
| কাগজ জটিলতা | না জানা | চেকলিস্ট বানানো | বিনামূল্যে |
| সময় বেশি | নিজে করা | পেশাদার নিয়োগ | ২০-৫০ হাজার |
| আইনি সমস্যা | জ্ঞান নেই | আইনজীবী রাখা | ১০-৫০ হাজার |
রিয়েল এস্টেট ব্যবসা নিবন্ধন গাইড
রিয়েল এস্টেট ব্যবসা নিবন্ধন গাইড আপনাকে সাহায্য করবে। শুরুতেই বাজার গবেষণা করুন। কোন এলাকায় চাহিদা বেশি জানুন। আপনার বাজেট ঠিক করুন। কত খরচ করতে পারবেন হিসাব করুন। ব্যবসার ধরন নির্ধারণ করুন। একক, পার্টনারশিপ না কোম্পানি। পার্টনার খুঁজুন বিশ্বস্ত। চুক্তি করুন লিখিতভাবে। কোম্পানির নাম ভাবুন আকর্ষণীয়। সহজ ও মনে রাখার মতো হোক। RJSC তে নাম চেক করুন। পাওয়া গেলে রিজার্ভ করুন। কাগজপত্র সংগ্রহ শুরু করুন। পরিচালকদের ডকুমেন্ট নিন। অফিস ভাড়া নিন ভালো জায়গায়। মেমোরেন্ডাম তৈরি করুন আইনজীবী দিয়ে। আর্টিকেল লিখুন সঠিকভাবে। RJSC তে আবেদন করুন। ফি পরিশোধ করুন। সার্টিফিকেট পেলে ট্রেড লাইসেন্স নিন। TIN নিবন্ধন করুন। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলুন। REHAB সদস্য হওয়ার চেষ্টা করুন। প্রজেক্ট শুরুর আগে সব অনুমোদন নিন।
জমি জমা সংক্রান্ত আরও পোস্ট দেখতে
👉 জমি জমা সংক্রান্ত ক্যাটাগরি দেখুন।
উপসংহার
রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রেশন একটি জটিল কিন্তু অত্যন্ত জরুরি প্রক্রিয়া। সঠিক নিয়ম মেনে চললে সফলতা আসবে। এই গাইডে আমরা সব ধাপ বিস্তারিত আলোচনা করেছি। রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে ব্যবসা শুরু পর্যন্ত। আপনি এখন জানেন কোন কাগজপত্র লাগবে। কত খরচ হবে সেটাও জানেন। সময় কতটা লাগবে তাও বুঝেছেন। মনে রাখবেন, ধৈর্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই ক্ষেত্রে। তাড়াহুড়ো করে ভুল করবেন না। পেশাদার সাহায্য নিন প্রয়োজনে। আইনজীবী, হিসাবরক্ষক রাখুন। সততা ও স্বচ্ছতা রাখুন সবসময়। ক্রেতাদের বিশ্বাস অর্জন করুন। মান নিয়ন্ত্রণে আপস করবেন না। পরিবেশ বিধি মেনে চলুন। সব আইন মেনে ব্যবসা করুন। তাহলে দীর্ঘমেয়াদী সফলতা আসবে। বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট খাতে সম্ভাবনা অনেক। সঠিক পরিকল্পনা ও পরিশ্রমে আপনিও সফল হতে পারবেন। শুভ কামনা রইল আপনার ব্যবসায়িক যাত্রায়।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী(FAQs)
রিয়েল এস্টেট কোম্পানি খুলতে কত টাকা লাগে?
রিয়েল এস্টেট কোম্পানি খুলতে ৫ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা লাগতে পারে। ছোট কোম্পানি ৫ লাখে শুরু সম্ভব। মাঝারি কোম্পানিতে ১০-২০ লাখ দরকার। বড় কোম্পানিতে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি লাগে। রেজিস্ট্রেশন খরচ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ। অফিস সাজাতে ৫-১০ লাখ খরচ হয়।
রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রেশন করতে কত দিন লাগে?
রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রেশন করতে ৭ থেকে ১৫ দিন লাগে। নাম ছাড়পত্রে ১-২ দিন লাগে। ট্রেড লাইসেন্সে ৩-৭ দিন সময় নেয়। TIN নিতে ১-৩ দিন যথেষ্ট। তবে সব মিলিয়ে ১ মাস সময় রাখা উচিত। জটিলতা থাকলে আরও বেশি সময় লাগতে পারে।
রিয়েল এস্টেট ব্যবসার জন্য কী কী কাগজ লাগে?
রিয়েল এস্টেট ব্যবসার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র লাগে। অফিসের ভাড়া চুক্তি বা মালিকানা দলিল চাই। ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট দিতে হয়। পরিচালকদের ছবি ও স্বাক্ষর লাগবে। মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেল তৈরি করতে হয়। TIN সার্টিফিকেট জমা দিতে হয়।
রিয়েল এস্টেট লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করলে কী হয়?
রিয়েল এস্টেট লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করা আইনত দণ্ডনীয়। জেল-জরিমানা হতে পারে। সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হতে পারে। প্রজেক্ট বন্ধ করে দেওয়া হবে। ক্রেতারা মামলা করতে পারে। ব্যবসায়িক সুনাম নষ্ট হবে। তাই লাইসেন্স নিয়েই ব্যবসা শুরু করুন।
REHAB সদস্যপদ কি বাধ্যতামূলক?
REHAB সদস্যপদ বাধ্যতামূলক নয়। তবে এটি খুবই উপকারী। সদস্যপদ পেলে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে। ক্রেতারা বেশি আস্থা রাখে। ব্যাংক ঋণ পেতে সুবিধা হয়। সরকারি প্রজেক্টে অংশ নেওয়া যায়। নেটওয়ার্কিং সুযোগ পাওয়া যায়। তাই সদস্য হওয়া ভালো।
রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় কত লাভ হয়?
রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় লাভ নির্ভর করে প্রজেক্টের উপর। ভালো প্রজেক্টে ২০-৩০% লাভ হতে পারে। ছোট প্রজেক্টে ১০-১৫% লাভ। বড় প্রজেক্টে ২৫-৪০% পর্যন্ত। তবে ঝুঁকিও আছে অনেক। বাজার নিচে গেলে লস হতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা লাভ বাড়ায়।
প্রজেক্ট অনুমোদন নিতে কত সময় লাগে?
প্রজেক্ট অনুমোদন নিতে ৩ থেকে ৬ মাস লাগে। রাজউক অনুমোদনে সবচেয়ে বেশি সময়। পরিবেশ ছাড়পত্রে ১-২ মাস লাগে। ফায়ার সার্ভিস NOC তে ১ মাস। ইউটিলিটি সংযোগ অনুমতিতে ২-৩ মাস। সব মিলিয়ে ৬ মাস থেকে ১ বছর ধরতে হয়।
একা কি রিয়েল এস্টেট ব্যবসা করা যায়?
হ্যাঁ, একা রিয়েল এস্টেট ব্যবসা করা যায়। একক মালিকানায় শুরু করতে পারেন। তবে মূলধন কম হবে। ছোট প্রজেক্ট করতে হবে। ঝুঁকি একাই নিতে হবে। বড় হতে চাইলে পার্টনার নিন। অথবা কোম্পানি করুন পরে।
রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?
রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় জমি খোঁজা বড় চ্যালেঞ্জ। ভালো লোকেশনে দাম বেশি। জমির কাগজ যাচাই করা কঠিন। অনেক জাল দলিল থাকে। আর্থিক ব্যবস্থাপনাও চ্যালেঞ্জিং। সময়মতো ডেলিভারি দেওয়া কঠিন। নির্মাণ খরচ বেড়ে যায় অনেক সময়।
অনলাইনে কি রেজিস্ট্রেশন করা যায়?
হ্যাঁ, অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করা যায়। RJSC ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করুন। সব কাগজ স্ক্যান করে আপলোড করুন। অনলাইন পেমেন্ট করতে পারবেন। তবে কিছু কাগজ অফিসে জমা দিতে হয়। অনলাইনে সময় কম লাগে।
🔥 পোস্টটি শেয়ার করুনঃ 🌍






