বাংলাদেশের শীতকাল মানেই পিঠার উৎসব। ঘরে ঘরে তৈরি হয় নানা রকম সুস্বাদু পিঠা। আজকের এই লেখায় আমরা জানবো পিঠা রেসিপি সম্পর্কে বিস্তারিত। শেখার চেষ্টা করবো কীভাবে ঘরে বসে তৈরি করা যায় মজাদার সব পিঠা।
সহজ পিঠা রেসিপি

পিঠা বানানো মোটেও কঠিন কাজ নয়। একটু ধৈর্য আর সঠিক পদ্ধতি জানলেই হয়। সহজ পিঠা রেসিপি দিয়ে শুরু করা যাক। প্রথমে দরকার ভালো মানের চালের গুঁড়া। এরপর লাগবে গুড় বা চিনি। আর কিছু নারকেল কুরানো থাকলে তো কথাই নেই। এই তিনটি জিনিস দিয়েই শুরু করা যায় পিঠা বানানোর কাজ। ঘরের রান্নাঘরে যা আছে তাই দিয়েই সম্ভব। বিশেষ কোনো উপকরণের দরকার নেই।
পিঠা তৈরিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আঁচ নিয়ন্ত্রণ। মাঝারি আঁচে রান্না করতে হয়। বেশি আঁচে পিঠা পুড়ে যেতে পারে। কম আঁচে আবার ভালো সিদ্ধ হবে না। তাই আঁচের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখা চাই। প্রথমবার যারা বানাচ্ছেন তারা একটু সাবধানে করবেন। কিছুক্ষণ পরপর পিঠা উল্টে দিতে হবে। দুই পাশ সমানভাবে সেঁকে নিলেই তৈরি। গরম গরম পিঠা খেতে খুব মজা।
ভাজা পিঠার রেসিপি
ভাজা পিঠা আমাদের দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পিঠা। এটি বানাতে খুব বেশি সময় লাগে না। প্রথমে চালের গুঁড়ার সাথে পানি মিশিয়ে নিন। খামির তৈরি করুন একটু পাতলা করে। এরপর একটি প্যানে তেল গরম করুন। পরিমাণমতো খামির ঢেলে দিন গোল করে। মাঝারি আঁচে সোনালি করে ভেজে নিন।
ভাজা পিঠা দুই ধরনের হতে পারে। একটি সাধারণ মিষ্টি ভাজা পিঠা। আরেকটি ঝাল ভাজা পিঠা বা পেয়াঁজু। মিষ্টি পিঠায় খামিরের সাথে চিনি মেশান। ঝাল করতে চাইলে পেঁয়াজ কুচি দিন। লঙ্কা ও ধনেপাতা যোগ করলে আরও সুস্বাদু হবে। তেলে ভেজে নিয়ে পরিবেশন করুন। চায়ের সাথে খেতে দারুণ লাগে। সকালের নাশতায় এটি দারুণ একটি খাবার।
মুগডাল পিঠার রেসিপি
মুগডাল পিঠা একটি পুষ্টিকর খাবার। এতে প্রোটিন থাকে প্রচুর পরিমাণে। প্রথমে মুগডাল ভিজিয়ে রাখুন কয়েক ঘণ্টা। তারপর ডাল বেটে নিন মসৃণ করে। চালের গুঁড়ার সাথে এই বাটা ডাল মেশান। সামান্য নুন ও চিনি দিয়ে খামির তৈরি করুন। একটি পাত্রে তেল গরম করুন মাঝারি আঁচে। খামির থেকে ছোট ছোট পিঠা বানিয়ে ভেজে নিন।
মুগডাল পিঠায় আরও স্বাদ বাড়াতে যোগ করুন মসলা। এলাচ গুঁড়া দিতে পারেন সামান্য। আদা বাটা যোগ করলে সুগন্ধ বাড়ে। কিছু মানুষ এতে কিসমিস দেন। বাদাম কুচিও দেওয়া যায়। এসব উপকরণ পিঠাকে আরও বিশেষ করে তোলে। বাচ্চারা এই পিঠা খুব পছন্দ করে। স্বাস্থ্যকর নাশতা হিসেবে চমৎকার একটি অপশন। শীতের সকালে এই পিঠা খেতে ভারী মজা।
মুগডাল পিঠার মূল উপকরণ:
- চালের গুঁড়া – ২ কাপ
- মুগডাল বাটা – ১ কাপ
- চিনি – পরিমাণমতো
- নুন – সামান্য
- তেল – ভাজার জন্য
- এলাচ গুঁড়া – স্বাদমতো
- আদা বাটা – ১ চা চামচ
দুধ পিঠার রেসিপি
দুধ পিঠা শীতের একটি বিশেষ পিঠা। এর স্বাদ ও সুগন্ধ অতুলনীয়। প্রথমে তরল খামির তৈরি করুন চালের গুঁড়া দিয়ে। দুধে চিনি মিশিয়ে জ্বাল দিন। ঘন হলে আঁচ কমিয়ে দিন। খামির ঢেলে ছোট ছোট পিঠা বানান। সেগুলো দুধে ছেড়ে দিন একে একে। কিছুক্ষণ সিদ্ধ হতে দিন ঢাকনা দিয়ে।
পিঠা নরম হলে এলাচ গুঁড়া দিন। চুলা থেকে নামিয়ে ঠাণ্ডা করুন। দুধ পিঠা ঠাণ্ডা বা গরম দুভাবেই খাওয়া যায়। অনেকে এতে কিসমিস দেন সাজানোর জন্য। বাদাম কুচি ছড়িয়েও দিতে পারেন। এতে পিঠা আরও আকর্ষণীয় দেখায়। মিষ্টি প্রেমীদের জন্য এটি আদর্শ। অতিথি আপ্যায়নেও রাখা যায় এই পিঠা।
চিতই পিঠা রেসিপি
চিতই পিঠা সবচেয়ে সহজ পিঠাগুলোর একটি। এটি দেখতে অনেকটা প্যানকেকের মতো। চালের গুঁড়া পানিতে ভিজিয়ে খামির বানান। খামিরটা একটু পাতলা রাখবেন। একটি নন-স্টিক প্যান গরম করুন। সামান্য তেল দিয়ে মুছে নিন। খামির ঢেলে গোল করে ছড়িয়ে দিন।
ছিদ্র দেখা দিলে বুঝবেন পিঠা তৈরি। উল্টানোর দরকার নেই এই পিঠা। একপাশে সেঁকে নিয়েই নামিয়ে নিন। সাথে খেতে পারেন তরকারি বা ভর্তা। অনেকে ডিম ভুজিয়া দিয়ে খান। আবার গুড় দিয়েও খাওয়া যায়। চিতই পিঠা খুব দ্রুত তৈরি হয়। ব্যস্ত সকালে এটি দারুণ একটি নাশতা।
ভাপা পিঠা রেসিপি
ভাপা পিঠা শীতের অন্যতম জনপ্রিয় পিঠা। এটি ভাপে তৈরি করা হয় বলে বেশ নরম হয়। প্রথমে চালের গুঁড়া ও নারকেল কুরানো মিশান। এতে গুড় গলিয়ে মেশাতে হবে। পরিমাণমতো পানি দিয়ে খামির বানান। খামিরটা হবে একটু গাঢ়। ছোট পাত্রে খামির ভরে ভাপ দিন। একটি বড় হাঁড়িতে পানি ফুটান।
হাঁড়ির উপর একটি ছাকনি বসান। ছাকনির উপর পাত্রগুলো রাখুন। ঢাকনা দিয়ে ২০ মিনিট ভাপ দিন। পিঠা ফুলে উঠলে নামিয়ে নিন। গরম গরম পরিবেশন করুন সবাইকে। ভাপা পিঠা তেল ছাড়াই তৈরি। তাই এটি স্বাস্থ্যকর একটি পিঠা। ডায়াবেটিস রোগীরাও খেতে পারেন চিনি ছাড়া বানিয়ে।
ভাপা পিঠা বানানোর ধাপ:
- চালের গুঁড়া ও নারকেল মেশান ভালো করে
- গুড় গলিয়ে খামিরের সাথে মিশিয়ে নিন
- ছোট পাত্রে খামির ঢেলে রাখুন
- পানি ফুটিয়ে ভাপের ব্যবস্থা করুন
- পাত্রগুলো ছাকনিতে সাজিয়ে রাখুন
- ঢাকনা দিয়ে ১৫-২০ মিনিট ভাপ দিন
- টুথপিক দিয়ে চেক করে নিন রান্না হয়েছে কিনা
পুলি পিঠা রেসিপি
পুলি পিঠা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পিঠা। এটি অনেকটা সামোসার মতো দেখতে। চালের গুঁড়া সিদ্ধ করে ময়দা তৈরি করুন। ময়দা ঠাণ্ডা করে ছোট বল বানান। বলগুলো পাতলা করে রুটির মতো বেলুন। নারকেল ও গুড় দিয়ে পুর তৈরি করুন। রুটির মাঝে পুর রেখে ভাঁজ করুন। একপাশ একপাশ দিয়ে ঢেকে দিন।
পুলি পিঠা ভাপে সিদ্ধ করতে হয়। একটি পাত্রে পানি ফুটান। ছাকনিতে কলাপাতা বা কাপড় বিছিয়ে নিন। পুলি পিঠাগুলো সাজিয়ে রাখুন। ১৫ মিনিট ভাপ দিলেই তৈরি। পিঠা থেকে সুন্দর সুগন্ধ বের হবে। এই পিঠা অতিথিদের পরিবেশন করা যায়। দেখতেও খুব সুন্দর লাগে। বিশেষ উৎসবে এই পিঠা বানানো হয়।
নকশি পিঠা রেসিপি
নকশি পিঠা শিল্পের এক অনন্য নিদর্শন। এতে ফুলের নকশা করা হয় খুব সুন্দর করে। চালের গুঁড়া দিয়ে সিদ্ধ ময়দা বানান। ময়দা নরম করে মাখুন ভালো করে। ছোট বল বানিয়ে পাতলা করে বেলুন। নারকেল ও খেজুর গুড়ের পুর তৈরি করুন। পুর রেখে পিঠা ভাঁজ করুন সুন্দর করে।
পিঠার উপর হাতের আঙুল দিয়ে নকশা করুন। ফুলের পাপড়ির মতো করে চাপ দিন। বিভিন্ন ডিজাইনে সাজাতে পারেন পিঠা। এরপর ভাপিয়ে নিন ১৫-২০ মিনিট। নকশি পিঠা দেখতে অপূর্ব সুন্দর। গ্রামের বাড়িতে এই পিঠা বেশি জনপ্রিয়। বিশেষ অনুষ্ঠানে এই পিঠা তৈরি করা হয়। শহরেও এখন অনেকে বানান এই পিঠা।
পাটিসাপটা পিঠা রেসিপি
পাটিসাপটা পিঠা খুবই সুস্বাদু একটি পিঠা। এটি দুধে রান্না করা হয়। চালের গুঁড়া পানিতে গুলে খামির বানান। খামিরটা হবে একটু ঘন। প্যানে সামান্য তেল দিয়ে মুছে নিন। খামির ঢেলে পাতলা পিঠা বানান। একপাশে সেঁকে নিয়ে নামিয়ে নিন।
নারকেল কুরানো ও চিনি মিশিয়ে পুর তৈরি করুন। পিঠার উপর পুর রেখে রোল করে নিন। দুধে চিনি মিশিয়ে জ্বাল দিন। দুধ ঘন হলে পিঠাগুলো ছেড়ে দিন। কিছুক্ষণ সিদ্ধ করে নামিয়ে নিন। এলাচ গুঁড়া ছড়িয়ে দিন উপরে। পাটিসাপটা ঠাণ্ডা করে খেতে বেশি মজা। দুধের সাথে পিঠার মিষ্টি স্বাদ দারুণ লাগে।
পাটিসাপটা পিঠার টিপস:
- খামির বেশি পাতলা করবেন না
- পিঠা একপাশে সেঁকে নামাতে হবে
- পুর ঠাণ্ডা হলে ভরবেন
- রোল টাইট করে গুটিয়ে নিন
- দুধ মাঝারি আঁচে জ্বাল দিন
- পিঠা দুধে বেশিক্ষণ রাখবেন না
- ঠাণ্ডা করে পরিবেশন করুন
খেজুর গুড়ের পিঠা রেসিপি
খেজুর গুড়ের পিঠা শীতের বিশেষ আকর্ষণ। খেজুর গুড়ের সুগন্ধ পিঠাকে করে তোলে অনন্য। চালের গুঁড়ার সাথে খেজুর গুড় মেশান। পানি দিয়ে নরম খামির তৈরি করুন। নারকেল কুরানো যোগ করুন খামিরে। সবকিছু ভালো করে মিশিয়ে নিন। একটু রেখে দিন আধা ঘণ্টা।
এরপর প্যানে তেল গরম করুন। খামির থেকে পিঠা বানিয়ে ভেজে নিন। অথবা ভাপিয়েও নিতে পারেন। খেজুর গুড়ের পিঠা তেলে ভাজলে বেশি মিষ্টি হয়। ভাপিয়ে নিলে স্বাস্থ্যকর থাকে। দুভাবেই খুব সুস্বাদু হয় পিঠা। খেজুর গুড় পিঠায় প্রাকৃতিক মিষ্টতা যোগ করে। এই পিঠা বাচ্চারা খুব পছন্দ করে।
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পিঠার রেসিপি
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পিঠার ইতিহাস অনেক পুরনো। আমাদের পূর্বপুরুষরা বিভিন্ন পিঠা তৈরি করতেন। গ্রামের মানুষদের কাছে পিঠা খুব প্রিয়। নকশি পিঠা, ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা সবই ঐতিহ্যের অংশ। প্রতিটি পিঠার রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। এসব পিঠা তৈরিতে ব্যবহার হয় দেশি উপকরণ।
পিঠা উৎসব বাংলাদেশের একটি বিশেষ সংস্কৃতি। শীতকালে গ্রামে পিঠা উৎসব হয়। সবাই মিলে পিঠা বানান ও খান। এটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠান। প্রতিবেশীরা একসাথে বসে পিঠা তৈরি করেন। এই ঐতিহ্য আজও বজায় আছে। শহরেও এখন পিঠা উৎসবের আয়োজন হয়। নতুন প্রজন্মও জানছে এই ঐতিহ্য সম্পর্কে।
শীতের পিঠা রেসিপি
শীতকাল মানেই পিঠার সময়। ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় গরম পিঠা খেতে ভারী মজা। শীতে বিভিন্ন ধরনের পিঠা বানানো হয়। দুধ পিঠা, ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা সবই শীতের পিঠা। এসব পিঠা শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে। শীতের সকালে পিঠা খেলে সারাদিন শক্তি পাওয়া যায়।
গ্রামে শীতকালে খেজুর গুড় পাওয়া যায়। এই গুড় দিয়ে তৈরি পিঠা অসাধারণ হয়। খেজুর রস দিয়েও পিঠা বানানো হয়। রসের পিঠা খুব সুস্বাদু। শীতের পিঠা উৎসবে নানা রকম পিঠার স্বাদ মিলে। পরিবারের সবাই একসাথে বসে পিঠা খান। এটি শীতের এক বিশেষ আনন্দ। শহরেও অনেকে শীতে পিঠা বানান বাড়িতে।
| পিঠার নাম | প্রধান উপকরণ | রান্নার সময় | বিশেষত্ব |
| ভাপা পিঠা | চালের গুঁড়া, নারকেল | ২০ মিনিট | তেল ছাড়া |
| চিতই পিঠা | চালের গুঁড়া | ৫ মিনিট | দ্রুত তৈরি |
| দুধ পিঠা | চালের গুঁড়া, দুধ | ৩০ মিনিট | অতি মিষ্টি |
| পুলি পিঠা | চালের গুঁড়া, নারকেল | ২৫ মিনিট | নকশাদার |
গ্রামের পিঠা রেসিপি
গ্রামের পিঠা রেসিপি একদম খাঁটি ও দেশি। গ্রামের মায়েরা বংশপরম্পরায় পিঠা বানান। তাদের হাতের পিঠার স্বাদই আলাদা। গ্রামে এখনও ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে পিঠা বানানো হয়। উনুনে কাঠের আগুনে পিঠা তৈরি করা হয়। এই পদ্ধতিতে পিঠার স্বাদ বেশি ভালো হয়।
গ্রামে পিঠা বানানো একটি উৎসবের মতো। সবাই মিলে একসাথে পিঠা বানায়। এক বাড়িতে একটা পিঠা তৈরি হলে পাড়ায় বিতরণ করা হয়। এই সংস্কৃতি এখনও গ্রামে জীবিত। শহরে বড় হওয়া মানুষরা গ্রামের পিঠা খুব মিস করেন। গ্রামের পিঠার স্বাদ অতুলনীয়। সেখানে রয়েছে ভালোবাসার ছোঁয়া।
নানা ধরনের পিঠা বানানোর উপায়
বাংলাদেশে প্রায় ২০০ প্রকারের পিঠা আছে। প্রতিটি অঞ্চলের পিঠা আলাদা। উত্তরবঙ্গের পিঠা ও সিলেটের পিঠা ভিন্ন। ঢাকার পিঠা আবার অন্যরকম। প্রতিটি পিঠার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কিছু পিঠা মিষ্টি, কিছু ঝাল। কিছু পিঠা ভাজা, কিছু সিদ্ধ। বৈচিত্র্য অনেক বেশি।
পিঠা বানানোর উপায়ও ভিন্ন ভিন্ন। কিছু পিঠা তেলে ভাজতে হয়। কিছু পিঠা ভাপিয়ে তৈরি করা হয়। আবার কিছু পিঠা সিদ্ধ করে বানানো হয়। প্রতিটি পদ্ধতিতে পিঠার স্বাদ বদলে যায়। নতুন নতুন পদ্ধতি চেষ্টা করে দেখতে পারেন। পিঠা বানানো একটি সৃজনশীল কাজ। নিজের মতো করে পিঠা বানাতে পারবেন।
নতুনদের জন্য পিঠা বানানোর টিপস
নতুনরা পিঠা বানাতে একটু ভয় পান। কিন্তু পিঠা বানানো আসলে সহজ। প্রথমে সহজ পিঠা দিয়ে শুরু করুন। চিতই পিঠা বা ভাজা পিঠা বেছে নিন। এগুলো দ্রুত ও সহজে তৈরি হয়। ধৈর্য ধরে শিখতে হবে। প্রথমবার ভালো না হলেও হতাশ হবেন না।
পিঠা বানানোর সময় কিছু বিষয় মনে রাখবেন। খামির ঠিকমতো তৈরি করা জরুরি। খামির বেশি পাতলা বা ঘন হলে সমস্যা। আঁচ নিয়ন্ত্রণ খুব গুরুত্বপূর্ণ। বেশি আঁচে পিঠা পুড়ে যাবে। কম আঁচে সিদ্ধ হবে না। প্র্যাকটিস করলে ধীরে ধীরে দক্ষ হবেন। ইউটিউবে ভিডিও দেখেও শিখতে পারেন।
নতুনদের জন্য পিঠা বানানোর সহজ টিপস:
- প্রথমে সহজ রেসিপি বেছে নিন
- উপকরণ সঠিক মাপে নিন
- খামির তৈরিতে সময় দিন
- মাঝারি আঁচ ব্যবহার করুন
- প্রথমবার ছোট পরিমাণে বানান
- একজন অভিজ্ঞের কাছ থেকে শিখুন
- ভুল থেকে শিখে এগিয়ে যান
পিঠা কিভাবে তৈরি করতে হয়
পিঠা তৈরির মূল প্রক্রিয়া বেশ সহজ। প্রথমে ভালো চাল বেছে নিন। চাল ভিজিয়ে রাখুন কয়েক ঘণ্টা। তারপর পানি ঝরিয়ে শুকিয়ে নিন। মেশিনে বা পাটায় গুঁড়া করুন। ভালো গুঁড়া পিঠার মান নির্ধারণ করে। গুঁড়া চালুনি দিয়ে চেলে নিন। মিহি গুঁড়া পিঠা নরম করে।
গুঁড়া তৈরি হলে খামির বানান। পানি বা দুধ দিয়ে মাখুন। চিনি বা গুড় মেশান স্বাদ অনুযায়ী। নারকেল কুরানো দিলে আরও মজা। খামির একটু রেখে দিন। এরপর রান্না শুরু করুন। প্যান বা পাত্র আগে থেকে গরম করে নিন। পিঠা তৈরিতে আঁচ নিয়ন্ত্রণ মনে রাখবেন।
কোন উপকরণে পিঠা বানানো হয়
পিঠা বানাতে মূলত চালের গুঁড়া লাগে। এছাড়া নারকেল কুরানো একটি প্রধান উপকরণ। গুড় বা চিনি মিষ্টি স্বাদের জন্য দরকার। কিছু পিঠায় দুধ ব্যবহার করা হয়। ডিম দিয়েও পিঠা বানানো যায়। আটা দিয়ে তৈরি পিঠাও আছে। ডাল দিয়ে পুষ্টিকর পিঠা বানানো সম্ভব।
বিভিন্ন মসলা পিঠায় ব্যবহার হয়। এলাচ, দারচিনি, জায়ফল দেওয়া যায়। এগুলো সুগন্ধ বাড়ায় পিঠার। তেল বা ঘি লাগে রান্নার জন্য। কিছু পিঠায় কিসমিস বা বাদাম দেওয়া হয়। খেজুর রস দিয়ে বিশেষ পিঠা বানানো হয়। মূলত হাতের কাছে যা আছে তাই দিয়ে পিঠা সম্ভব।
পিঠার কত প্রকার
বাংলাদেশে পিঠার প্রকারভেদ অসংখ্য। প্রায় ২০০ ধরনের পিঠা পাওয়া যায়। প্রধান কয়েকটি হলো ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা। ভাজা পিঠা, দুধ পিঠা, পুলি পিঠা জনপ্রিয়। পাটিসাপটা, নকশি পিঠা, রসের পিঠা বিখ্যাত। মালপোয়া, মেরা পিঠা, তেলের পিঠাও আছে। প্রতিটি অঞ্চলে নতুন ধরনের পিঠা দেখা মিলে।
পিঠাকে কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। ভাজা পিঠা, ভাপা পিঠা, সিদ্ধ পিঠা প্রধান। মিষ্টি পিঠা ও ঝাল পিঠা দুই ধরনের। কিছু পিঠা নাশতার জন্য, কিছু মিষ্টান্নের মতো। কিছু পিঠা বিশেষ উৎসবে তৈরি হয়। এই বৈচিত্র্যই বাংলাদেশের পিঠা সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে।
| পিঠার ধরন | উদাহরণ | রান্নার পদ্ধতি | সময় |
| ভাজা পিঠা | ভাজা পিঠা, পেয়াঁজু | তেলে ভাজা | ১০ মিনিট |
| ভাপা পিঠা | ভাপা পিঠা, পুলি | ভাপে সিদ্ধ | ২০ মিনিট |
| সিদ্ধ পিঠা | দুধ পিঠা, রসগোল্লা | দুধে সিদ্ধ | ৩০ মিনিট |
| সেঁকা পিঠা | চিতই পিঠা, পাটিসাপটা | প্যানে সেঁকা | ৫ মিনিট |
বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পিঠা
বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পিঠা হলো ভাপা পিঠা। প্রায় সব অঞ্চলে এই পিঠা পাওয়া যায়। চিতই পিঠাও খুব প্রিয়। সকালের নাশতায় এটি অনেকে খান। দুধ পিঠা মিষ্টি প্রেমীদের পছন্দের। পাটিসাপটা শহরে বেশি জনপ্রিয়। পুলি পিঠা গ্রামে খুব পছন্দ করা হয়।
প্রতিটি পিঠার নিজস্ব ভক্ত রয়েছে। কেউ ভাজা পিঠা পছন্দ করেন। কেউ আবার ভাপা পিঠা খেতে ভালোবাসেন। শীতে সব ধরনের পিঠার চাহিদা বাড়ে। রাস্তার পাশে পিঠার দোকান বসে। মানুষ লাইন ধরে পিঠা কিনতে। এই দৃশ্য শীতের একটি বিশেষ অংশ। পিঠা আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
পিঠার ইতিহাস ও অর্থ
পিঠার ইতিহাস বহু প্রাচীন। হাজার বছর আগে থেকে পিঠা বানানো হয়। প্রাচীন বাংলায় পিঠা ছিল প্রধান খাবার। রাজা-বাদশাহদের দরবারে পিঠা পরিবেশিত হতো। গ্রামের সাধারণ মানুষও পিঠা খেতেন। পিঠা ছিল সকল শ্রেণির খাবার। বিভিন্ন উৎসবে পিঠার বিশেষ স্থান ছিল।
পিঠা শব্দের অর্থ হলো পিষ্ট খাবার। অর্থাৎ যা পিষে বা গুঁড়া করে বানানো হয়। সংস্কৃত ‘পিষ্টক’ শব্দ থেকে পিঠা এসেছে। বাংলা সাহিত্যে পিঠার উল্লেখ আছে। চর্যাপদেও পিঠার কথা পাওয়া যায়। পিঠা শুধু খাবার নয়, এটি সংস্কৃতিরও অংশ। পিঠা বাঙালির পরিচয় বহন করে।
বাসায় সহজে পিঠা বানানোর পদ্ধতি
বাসায় পিঠা বানানো মোটেই কঠিন নয়। প্রথমে সব উপকরণ সংগ্রহ করুন। চালের গুঁড়া বাজার থেকে কিনে আনুন। অথবা নিজে তৈরি করে নিন। নারকেল কুরিয়ে প্রস্তুত রাখুন। গুড় বা চিনি মেপে রাখুন। একটি পরিষ্কার পাত্রে খামির তৈরি করুন। সব উপকরণ ভালো করে মিশিয়ে নিন।
রান্নার জন্য প্যান বা পাত্র প্রস্তুত করুন। চুলায় মাঝারি আঁচ দিন। ধীরে ধীরে পিঠা বানানো শুরু করুন। তাড়াহুড়া করবেন না একেবারেই। প্রথম পিঠা ভালো না হলে পরেরটা ভালো হবে। অভিজ্ঞতা থেকেই শেখা হয়। বাসায় পিঠা বানালে খরচও কম। নিজের হাতের পিঠা অন্য রকম স্বাদের।
বাসায় পিঠা বানানোর সহজ ধাপ:
- প্রথমে সব উপকরণ জোগাড় করুন
- চালের গুঁড়া ভালো করে চালুন দিন
- খামির তৈরিতে সঠিক পানির পরিমাণ নিন
- খামির ১৫-২০ মিনিট রেখে দিন
- রান্নার পাত্র আগে থেকে গরম করুন
- মাঝারি আঁচে ধীরে ধীরে রান্না করুন
- গরম পরিবেশন করুন পরিবারকে
ছাত্রছাত্রীদের জন্য সহজ পিঠা রেসিপি
ছাত্রছাত্রীদের সময় কম থাকে। তাদের জন্য দ্রুত ও সহজ পিঠা রেসিপি দরকার। চিতই পিঠা সবচেয়ে সহজ। মাত্র ৫ মিনিটে তৈরি হয়। চালের গুঁড়া পানিতে গুলে খামির বানান। প্যানে তেল দিয়ে মুছে নিন। খামির ঢেলে সেঁকে নিন। ব্যস, তৈরি আপনার নাশতা।
ভাজা পিঠাও দ্রুত বানানো যায়। খামির একটু ঘন করে বানান। ছোট ছোট পিঠা ভেজে নিন। এটি স্ন্যাকস হিসেবে খাওয়া যায়। হোস্টেলে থাকলে এই পিঠা বানাতে পারবেন। একটা প্যান ও চুলা থাকলেই হয়। বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে খান। পিঠা বানানো একটি মজার কাজ।
আটা দিয়ে পিঠা রেসিপি
চালের গুঁড়া না থাকলে আটা দিয়ে পিঠা বানান। আটা সহজে পাওয়া যায় সবখানে। আটার পিঠাও বেশ সুস্বাদু হয়। আটা, চিনি ও পানি মিশিয়ে খামির বানান। একটু ঘন খামির তৈরি করুন। প্যানে তেল গরম করে পিঠা ভেজে নিন। আটার পিঠা নরম ও মচমচে হয়।
আটায় দুধ মিশিয়েও পিঠা বানানো যায়। দুধ দিলে পিঠা বেশি নরম হয়। আটায় ডিম ভেঙে মিশাতে পারেন। এতে পুষ্টিগুণ বাড়ে পিঠার। আটার পিঠায় নারকেল কুরানো মিশালে চমৎকার। এলাচ গুঁড়া দিয়ে সুগন্ধ বাড়ান। আটার পিঠা শিশুদের জন্য ভালো। হজম হয় সহজেই।
চালের গুঁড়া দিয়ে পিঠা রেসিপি
চালের গুঁড়া দিয়ে পিঠা খুবই জনপ্রিয়। এটি ঐতিহ্যবাহী পিঠা বানানোর উপাদান। ভালো চাল বেছে নিয়ে গুঁড়া করান। বাজারেও চালের গুঁড়া পাওয়া যায়। গুঁড়া ভালো হলে পিঠা সুস্বাদু হয়। চালের গুঁড়ায় পানি বা দুধ মিশান। চিনি বা গুড় দিয়ে মিষ্টি করুন। নারকেল মিশিয়ে খামির তৈরি করুন।
খামির তৈরি হলে ১৫ মিনিট রেখে দিন। এরপর রান্না শুরু করুন পছন্দমতো। ভাপিয়ে বা ভেজে নিতে পারেন। চালের গুঁড়ার পিঠা খুব হালকা। হজম হয় সহজে এটি। শিশু থেকে বয়স্ক সবাই খেতে পারেন। চালের পিঠা পুষ্টিকরও বটে। শক্তি পাওয়া যায় এই পিঠা থেকে।
ঝটপট পিঠা রেসিপি
ব্যস্ত জীবনে সময় কম থাকে। তাই ঝটপট পিঠা রেসিপি জানা দরকার। মাত্র ১০ মিনিটে পিঠা বানানো সম্ভব। চালের গুঁড়া রেডিমেড কিনে রাখুন। পানি দিয়ে দ্রুত খামির বানান। প্যানে তেল গরম করে ভেজে ফেলুন। অথবা চিতই পিঠা সেঁকে নিন দ্রুত। গরম পরিবেশন করুন সবাইকে।
ঝটপট পিঠার জন্য প্রস্তুতি রাখুন আগে থেকে। চালের গুঁড়া, চিনি, নারকেল মজুদ রাখুন। যখন দরকার তখন দ্রুত বানিয়ে ফেলুন। অতিথি এলে ঝটপট পিঠা বানাতে পারেন। চায়ের সাথে পরিবেশন করুন। সবাই খুশি হবে আপনার দক্ষতায়। ঝটপট পিঠা জীবন সহজ করে দেয়।
| পিঠার ধরন | প্রস্তুতি সময় | রান্নার সময় | মোট সময় |
| চিতই পিঠা | ৫ মিনিট | ৫ মিনিট | ১০ মিনিট |
| ভাজা পিঠা | ৮ মিনিট | ১০ মিনিট | ১৮ মিনিট |
| দুধ পিঠা | ১০ মিনিট | ২০ মিনিট | ৩০ মিনিট |
| ভাপা পিঠা | ১৫ মিনিট | ২০ মিনিট | ৩৫ মিনিট |
তেলের পিঠা রেসিপি
তেলের পিঠা খুবই মচমচে ও সুস্বাদু। এটি ভাজা পিঠার একটি ধরন। চালের গুঁড়া, আটা, চিনি মিশিয়ে খামির বানান। খামির একটু ঘন করে তৈরি করুন। তেলে ভাজলে ভালো ফুলবে পিঠা। একটি কড়াইয়ে প্রচুর তেল গরম করুন। খামির থেকে ছোট বল বানিয়ে ফেলুন তেলে। সোনালি হলে তুলে নিন।
তেলের পিঠা খুব জনপ্রিয় গ্রামে। বিশেষ উৎসবে এই পিঠা তৈরি হয়। তেলের পিঠায় ঘি মিশালে আরও মজা। এতে সুগন্ধ বেশি হয় পিঠার। তেলের পিঠা ঠাণ্ডা হলেও খাওয়া যায়। কয়েক দিন রেখেও খাওয়া সম্ভব। বাচ্চারা এই পিঠা খুব পছন্দ করে। স্ন্যাকস হিসেবে দারুণ একটি অপশন।
নারকেল পিঠা রেসিপি
নারকেল পিঠা অত্যন্ত সুস্বাদু একটি পিঠা। নারকেল কুরিয়ে চিনি মিশিয়ে পুর বানান। চালের গুঁড়া দিয়ে পাতলা পিঠা তৈরি করুন। পিঠার মাঝে নারকেল পুর রাখুন। রোল করে গুটিয়ে নিন সুন্দর করে। ভাপিয়ে অথবা ভেজে নিতে পারেন পিঠা। দুভাবেই খুব মজা।
নারকেল পিঠায় খেজুর গুড় মিশালে অসাধারণ। খেজুর গুড়ের সুগন্ধ নারকেলের সাথে মিশে যায়। এটি শীতের বিশেষ পিঠা। নারকেল পিঠা উপহার দেওয়া যায়। সুন্দর করে সাজিয়ে পরিবেশন করুন। অতিথিরা মুগ্ধ হবেন স্বাদে। নারকেল পিঠা পুষ্টিকরও বটে। এতে রয়েছে প্রাকৃতিক তেল ও ফাইবার।
দুধ-গুড় পিঠা রেসিপি

দুধ-গুড় পিঠা শীতের বিশেষ আকর্ষণ। দুধ ও গুড়ের মিষ্টি মিলন অপূর্ব। চালের গুঁড়ায় গুড় মিশিয়ে খামির বানান। দুধে চিনি বা গুড় মিশিয়ে জ্বাল দিন। ছোট ছোট পিঠা বানিয়ে দুধে ছাড়ুন। মাঝারি আঁচে সিদ্ধ করতে থাকুন। দুধ ঘন হয়ে এলে নামিয়ে নিন।
দুধ-গুড় পিঠায় এলাচ গুঁড়া দিন অবশ্যই। এতে সুগন্ধ বাড়ে অনেক গুণ। কিসমিস ও কাজুবাদাম দিতে পারেন। এতে পিঠা আরও বিশেষ হয়। দুধ-গুড় পিঠা ঠাণ্ডা করে খান। ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করতে পারেন। গরমেও এই পিঠা খাওয়া যায়। দুধ-গুড় পিঠা পুষ্টিতে ভরপুর।
দুধ-গুড় পিঠার পুষ্টিগুণ:
- ক্যালসিয়াম পাওয়া যায় দুধ থেকে
- আয়রন মিলে গুড়ের মাধ্যমে
- কার্বোহাইড্রেট আসে চালের গুঁড়া থেকে
- এলাচ হজমে সাহায্য করে
- নারকেল ফাইবার সরবরাহ করে
- শক্তি পাওয়া যায় প্রচুর
- স্বাস্থ্যকর মিষ্টি খাবার এটি
পিঠার নাম ও ছবি
বাংলাদেশে অসংখ্য পিঠা আছে নাম সহ। ভাপা পিঠা দেখতে সাদা ও নরম। চিতই পিঠা পাতলা ও গোলাকার। পুলি পিঠা ভাঁজ করা ও সুন্দর। নকশি পিঠায় রয়েছে শিল্পের ছোঁয়া। পাটিসাপটা রোল করা পিঠা। দুধ পিঠা দুধে ভেসে থাকে। মালপোয়া গোলাকার ও মিষ্টি। প্রতিটি পিঠার আলাদা রূপ আছে।
পিঠার ছবি দেখলে চেনা যায় সহজেই। ভাজা পিঠা সোনালি বর্ণের হয়। ভাপা পিঠা সাদা ও ফোলা থাকে। তেলের পিঠা খয়েরি ও মচমচে। রসের পিঠা রসে ভেজা থাকে। প্রতিটি পিঠার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ছবি দেখে পিঠা চিনতে শেখা যায়। এতে পিঠা বানাতে সুবিধা হয়।
ঘরোয়া উপকরণে পিঠা রেসিপি
ঘরের সহজ উপকরণ দিয়েই পিঠা বানানো যায়। চাল, আটা, চিনি সব ঘরেই থাকে। নারকেল, দুধ, ডিমও পাওয়া যায়। এসব দিয়ে নানা রকম পিঠা সম্ভব। বিশেষ কিছু কেনার দরকার নেই। ঘরোয়া পিঠা সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর। এতে কোনো সংরক্ষক থাকে না। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহৃত হয়।
ঘরোয়া পিঠা বানাতে খরচও কম। বাজার থেকে কিনতে গেলে বেশি লাগে। নিজে বানালে অর্থ সাশ্রয় হয়। পরিবারের সবাই একসাথে বানাতে পারেন। এতে বন্ধন আরও মজবুত হয়। ঘরের পিঠার স্বাদ অন্য রকম। মায়ের হাতের পিঠার কোনো তুলনা নেই। ঘরোয়া পিঠায় থাকে ভালোবাসার ছোঁয়া।
উপসংহার
পিঠা রেসিপি শেখা এখন আর কঠিন নয়। এই লেখায় বিভিন্ন পিঠার রেসিপি তুলে ধরা হয়েছে। ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, দুধ পিঠা সব শিখেছেন। পুলি পিঠা, পাটিসাপটা, নকশি পিঠাও জানা হয়েছে। প্রতিটি পিঠার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সহজ পদ্ধতি অনুসরণ করলেই বানানো সম্ভব। ঘরে বসে তৈরি করুন সুস্বাদু পিঠা।
পিঠা শুধু খাবার নয়। এটি আমাদের সংস্কৃতির অংশ। বাংলাদেশের ঐতিহ্য বহন করে পিঠা। শীতকালে পিঠার উৎসব হয়। সবাই মিলে পিঠা বানান ও খান। এই ঐতিহ্য ধরে রাখা দরকার। নতুন প্রজন্মকে পিঠা বানানো শেখান। পিঠা আমাদের পরিচয় বহন করে। ঘরে তৈরি পিঠার স্বাদ অতুলনীয়। আজই শুরু করুন পিঠা বানানোর কাজ। পরিবারকে খাওয়ান স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু পিঠা।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী(FAQs)
পিঠা বানাতে কোন চালের গুঁড়া ভালো?
পিঠা বানাতে মিনিকেট চালের গুঁড়া সবচেয়ে ভালো। আতপ চাল দিয়েও বানানো যায়। চাল ভালো মানের হতে হবে। পুরাতন চাল নতুনের চেয়ে ভালো। গুঁড়া মিহি হলে পিঠা নরম হয়। বাজারে রেডিমেড গুঁড়া পাওয়া যায়। নিজে তৈরি করলে বেশি ভালো। তাজা গুঁড়া পিঠার স্বাদ বাড়ায়। সঠিক চালের গুঁড়া বেছে নেওয়া জরুরি।
পিঠা কি ডায়াবেটিস রোগীরা খেতে পারবেন?
ডায়াবেটিস রোগীরা সাবধানে পিঠা খেতে পারেন। চিনি বা গুড় ছাড়া বানাতে হবে। কম তেলে রান্না করা ভালো। ভাপা পিঠা বেশি নিরাপদ। ছোট পরিমাণে খাওয়া উচিত। রক্তে শর্করা মেপে নিন আগে। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খান। বাদামী চালের গুঁড়া ব্যবহার করুন। এতে ফাইবার বেশি থাকে। পরিমিত খেলে সমস্যা হয় না।
পিঠা কত দিন ভালো থাকে?
পিঠা সাধারণত ১-২ দিন ভালো থাকে। ফ্রিজে রাখলে ৩-৪ দিন চলে। ভাজা পিঠা বেশি দিন থাকে। ভাপা পিঠা তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়। দুধ পিঠা ফ্রিজে রাখতে হবে। এয়ারটাইট পাত্রে সংরক্ষণ করুন। ঘরের তাপমাত্রায় বেশিক্ষণ রাখবেন না। গরম পিঠা সবচেয়ে মজা। তাই তাজা খাওয়াই ভালো। বেশি বানালে হিমায়িত করুন।
পিঠা ফ্রিজে রাখা যায় কি?
হ্যাঁ, পিঠা ফ্রিজে রাখা যায়। এয়ারটাইট পাত্রে ভরে রাখুন। ৩-৪ দিন পর্যন্ত ভালো থাকবে। খাওয়ার আগে গরম করে নিন। মাইক্রোওয়েভে গরম করা যায়। চুলায় সেঁকে নিতে পারেন। দুধ পিঠা অবশ্যই ফ্রিজে রাখবেন। ভাজা পিঠা ঘরে রাখলেও চলে। ফ্রিজে রাখলে স্বাদ কম হতে পারে। তাই তাজা খাওয়া উত্তম।
পিঠা খেলে কি ওজন বাড়ে?
পিঠায় কার্বোহাইড্রেট ও চিনি থাকে। বেশি খেলে ওজন বাড়তে পারে। পরিমিত খেলে সমস্যা নেই। ভাপা পিঠা কম ক্যালরিযুক্ত। ভাজা পিঠায় তেল বেশি থাকে। তেল কম দিয়ে বানান। চিনির পরিমাণ কমিয়ে দিন। নিয়মিত ব্যায়াম করলে সমস্যা হয় না। সপ্তাহে ১-২ বার পিঠা খান। ভারসাম্য রাখা জরুরি খাদ্যতালিকায়।
পিঠা নরম হয় না কেন?
পিঠা শক্ত হওয়ার কয়েকটি কারণ আছে। খামির বেশি ঘন হলে শক্ত হয়। বেশি আঁচে রান্না করলে সমস্যা। চালের গুঁড়া পুরাতন হলে খারাপ। খামির বেশিক্ষণ রেখে দিলে শক্ত হয়। পরিমাণমতো পানি দিতে হবে। ময়দা ভালো করে মাখুন। সঠিক সময় রান্না করুন। বেশি সেঁকলেও শক্ত হয়। প্র্যাকটিস করলে ভালো হবে।
পিঠার খামির কতক্ষণ রাখতে হয়?
পিঠার খামির ১৫-৩০ মিনিট রাখা ভালো। এতে খামির ভালো হয় পিঠার। বেশিক্ষণ রাখলে খামির পাতলা হয়। কম সময়ে রান্না করলে সমস্যা। খামির ঢেকে রাখুন সবসময়। ঘরের তাপমাত্রায় রাখবেন। ফ্রিজে রাখবেন না একেবারেই। খামির তৈরির পর দ্রুত ব্যবহার করুন। বেশিক্ষণ রাখলে গন্ধ হতে পারে। তাজা খামিরে পিঠা ভালো হয়।
পিঠায় কি দুধের বিকল্প আছে?
হ্যাঁ, দুধের বিকল্প ব্যবহার করা যায়। নারকেল দুধ দিতে পারেন। সয়া দুধ ব্যবহার করা যায়। বাদাম দুধও একটি অপশন। পানি দিয়েও পিঠা বানানো সম্ভব। দুধ ছাড়া পিঠা কম মিষ্টি হয়। তবে স্বাদ ভালোই থাকে। ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুদের জন্য বিকল্প জরুরি। নারকেল দুধ সবচেয়ে ভালো বিকল্প। এতে সুগন্ধও বেশি থাকে।
পিঠা পুড়ে যাচ্ছে কেন?
পিঠা পুড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ বেশি আঁচ। মাঝারি আঁচে রান্না করতে হবে। প্যানে তেল কম দিলে পোড়ে। খামির বেশি ঘন হলে সমস্যা। পিঠা বেশিক্ষণ রাখলে পুড়ে যায়। সময়মতো উল্টে দিতে হবে। নন-স্টিক প্যান ব্যবহার করুন। প্যান আগে থেকে গরম করুন। আঁচ নিয়ন্ত্রণে রাখুন সবসময়। প্র্যাকটিস করলে ভুল কমবে।
পিঠা বানাতে কতটা সময় লাগে?
পিঠার ধরন অনুযায়ী সময় লাগে। চিতই পিঠা মাত্র ১০ মিনিটে তৈরি। ভাজা পিঠায় ১৫-২০ মিনিট লাগে। ভাপা পিঠা ৩০-৪০ মিনিট সময় নেয়। দুধ পিঠা ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা। প্রস্তুতি সময় আলাদা হিসেব। উপকরণ প্রস্তুত থাকলে দ্রুত হয়। প্রথমবার একটু বেশি সময় লাগে। অভিজ্ঞতা বাড়লে সময় কমে। পরিকল্পনা করে কাজ করুন সবসময়।
🔥 পোস্টটি শেয়ার করুনঃ 🌍






