অলিম্পিক গেমস পৃথিবীর সবচেয়ে বড় খেলাধুলার উৎসব। এটি প্রতি চার বছর পর পর অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের প্রায় সব দেশ এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। খেলোয়াড়রা তাদের দেশের জন্য পদক জিততে চেষ্টা করে। এই গেমস দেখতে লাখ লাখ মানুষ উপস্থিত হয়। টেলিভিশনে কোটি কোটি মানুষ দেখে। অলিম্পিক গেমস শুধু খেলা নয়, এটি বিশ্বশান্তির প্রতীক। আজকের এই লেখায় আমরা অলিম্পিক সম্পর্কে সবকিছু জানব।
অলিম্পিক গেমসের ইতিহাস
অলিম্পিক গেমসের শুরু হয়েছিল প্রাচীন গ্রিসে। প্রায় ২৮০০ বছর আগে প্রথম অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়। তখন এটি ধর্মীয় উৎসব ছিল। গ্রিক দেবতা জিউসের সম্মানে এই খেলা হতো। কেবল পুরুষরাই অংশ নিতে পারত। মহিলারা দেখতেও পারত না। খেলার সময় সব যুদ্ধ বন্ধ থাকত। শান্তি বজায় রাখা হতো। প্রাচীন অলিম্পিকে দৌড়, লাফ, চাকতি নিক্ষেপ হতো। কুস্তি এবং মুষ্টিযুদ্ধও ছিল জনপ্রিয়। বিজয়ীরা জলপাই পাতার মুকুট পেত। সেই সময় এটি ছিল সবচেয়ে বড় সম্মান।
প্রাচীন অলিম্পিক প্রায় ১২০০ বছর চলে। রোমান সম্রাট প্রথম থিওডোসিয়াস এটি বন্ধ করে দেন। তিনি মনে করতেন এটি পৌত্তলিক উৎসব। ৩৯৩ খ্রিস্টাব্দে শেষ প্রাচীন অলিম্পিক হয়। এরপর প্রায় ১৫০০ বছর অলিম্পিক বন্ধ থাকে। মানুষ এই মহান খেলা ভুলে যায়। কিন্তু ইতিহাস আবার নতুন করে শুরু হয়। ঊনবিংশ শতাব্দীতে ইউরোপে আগ্রহ বাড়ে। মানুষ প্রাচীন গৌরব ফিরিয়ে আনতে চায়। তখন নতুন করে অলিম্পিক শুরুর পরিকল্পনা হয়।
আধুনিক অলিম্পিক গেমসের প্রতিষ্ঠাতা কে
ব্যারন পিয়ের দ্য কুবার্তাঁ আধুনিক অলিম্পিকের জনক। তিনি ছিলেন একজন ফরাসি শিক্ষাবিদ। তিনি বিশ্বাস করতেন খেলা মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে। ১৮৯৪ সালে তিনি আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি প্রতিষ্ঠা করেন। তার স্বপ্ন ছিল বিশ্বশান্তি তৈরি করা। তিনি চাইতেন সব দেশ একসাথে খেলুক। যুদ্ধের পরিবর্তে খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হোক। কুবার্তাঁ কঠোর পরিশ্রম করেন। তিনি অনেক দেশের নেতাদের রাজি করান। অবশেষে তার স্বপ্ন সফল হয়।
১৮৯৬ সালে প্রথম আধুনিক অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়। গ্রিসের এথেন্সে এই ঐতিহাসিক ইভেন্ট হয়। ১৪টি দেশ থেকে ২৪১ জন খেলোয়াড় আসে। মাত্র ৯টি খেলা ছিল তখন। এখন প্রায় ৩৩টি খেলা হয়। প্রথম অলিম্পিক ছিল বিশাল সফল। মানুষ খুব উৎসাহিত হয়। কুবার্তাঁ আজীবন অলিম্পিকের সেবা করেন। তার অবদান কখনো ভোলা যাবে না। আধুনিক অলিম্পিক তার সেরা উপহার।
অলিম্পিক গেমস কখন শুরু হয়
অলিম্পিক গেমস সাধারণত জুলাই বা আগস্ট মাসে শুরু হয়। গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক প্রতি চার বছরে একবার হয়। শীতকালীন অলিম্পিকও চার বছর পর পর হয়। তবে দুটি আলাদা বছরে অনুষ্ঠিত হয়। এতে খেলোয়াড়রা বেশি সুযোগ পায়। গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক প্রায় ১৬ দিন চলে। শীতকালীন অলিম্পিক প্রায় ১০ থেকে ১৬ দিন স্থায়ী হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান খুব জাঁকজমকপূর্ণ হয়। বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি প্রদর্শিত হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানও দারুণ উপভোগ্য। খেলোয়াড়রা একসাথে উদযাপন করে।
প্রথম আধুনিক অলিম্পিক ১৮৯৬ সালে শুরু হয়। সেই থেকে প্রতি চার বছর পর পর হচ্ছে। মাত্র দুবার বিশ্বযুদ্ধের কারণে বন্ধ ছিল। ১৯১৬, ১৯৪০ এবং ১৯৪৪ সালে অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০২০ অলিম্পিক করোনার কারণে ২০২১ সালে হয়। এটি ছিল ঐতিহাসিক ঘটনা। তবে অলিম্পিক সবসময় ফিরে আসে। কোনো কিছুই এই মহান উৎসব থামাতে পারে না। মানুষের ভালোবাসা অলিম্পিককে বাঁচিয়ে রাখে।
অলিম্পিক গেমস কোথায় অনুষ্ঠিত হয়
অলিম্পিক গেমস বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবার ভিন্ন শহর আয়োজক হয়। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি আয়োজক নির্বাচন করে। দেশগুলো আবেদন জমা দেয়। কমিটি বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে। স্টেডিয়াম, হোটেল, নিরাপত্তা সব দেখা হয়। আবহাওয়া এবং যাতায়াত ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। যে শহর সেরা সুবিধা দিতে পারে তারা জেতে। অলিম্পিক আয়োজন বিশাল সম্মানের বিষয়। সারা বিশ্ব সেই শহরকে দেখে।
প্রথম আধুনিক অলিম্পিক এথেন্সে হয়। এরপর প্যারিস, সেন্ট লুইস, লন্ডন আয়োজন করে। টোকিও, বেইজিং, রিও বিখ্যাত আয়োজক শহর। লন্ডন তিনবার অলিম্পিক আয়োজন করেছে। প্যারিসও তিনবার আয়োজক হয়েছে। এথেন্সে দুবার অলিম্পিক হয়েছে। কিছু দেশ কখনো আয়োজন করেনি। আফ্রিকা মহাদেশে এখনো অলিম্পিক হয়নি। ভবিষ্যতে হয়তো সেখানেও হবে। অলিম্পিক সব মহাদেশের উৎসব।
২০২৬ সালের অলিম্পিক গেমস কোথায়

- আয়োজক দেশ: ২০২৬ সালের শীতকালীন অলিম্পিক ইতালিতে হবে।
- শহর: মিলান এবং কোর্টিনা দ্য আম্পেজো যৌথভাবে আয়োজন করবে।
- তারিখ: ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে এই গেমস অনুষ্ঠিত হবে।
- বিশেষত্ব: এটি ইতালির তৃতীয়বার শীতকালীন অলিম্পিক আয়োজন।
- খেলার স্থান: আল্পস পর্বতমালার বিভিন্ন এলাকায় খেলা হবে।
- প্রস্তুতি: ইতালি ইতিমধ্যে স্টেডিয়াম ও সুবিধা তৈরি করছে।
ইতালি অলিম্পিক আয়োজনে অভিজ্ঞ দেশ। ১৯৫৬ সালে কোর্টিনা প্রথমবার আয়োজন করে। তখন এটি ছিল দারুণ সফল। ২০০৬ সালে তুরিনে শীতকালীন অলিম্পিক হয়। সেবারও বিশ্ব মুগ্ধ হয়েছিল। এবার মিলান এবং কোর্টিনা মিলে আয়োজন করবে। মিলান ইতালির ফ্যাশন রাজধানী। কোর্টিনা স্কি রিসোর্টের জন্য বিখ্যাত। দুই শহরের সমন্বয় অসাধারণ হবে। বরফের খেলা দেখতে হাজারো পর্যটক আসবে।
আল্পস পর্বতমালা স্কিইংয়ের জন্য আদর্শ। সেখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অপূর্ব। খেলোয়াড়রা চ্যালেঞ্জিং পাহাড়ে প্রতিযোগিতা করবে। দর্শকরা রোমাঞ্চকর মুহূর্ত উপভোগ করবে। ইতালি ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং সংস্কৃতি দেখাবে। পুরো বিশ্ব ইতালিতে মনোযোগ দেবে। ২০২৬ অলিম্পিক অবিস্মরণীয় হবে নিশ্চিত। ইতালির আতিথেয়তা সবাইকে মুগ্ধ করবে। খেলোয়াড়রা সেরা পারফরম্যান্স দেবে।
২০২৮ সালের অলিম্পিক গেমস কোথায় অনুষ্ঠিত হবে
২০২৮ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক লস অ্যাঞ্জেলেসে হবে। আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে এই শহর অবস্থিত। লস অ্যাঞ্জেলেস তৃতীয়বার অলিম্পিক আয়োজন করবে। ১৯৩২ এবং ১৯৮৪ সালে এখানে অলিম্পিক হয়েছিল। উভয়বারই দারুণ সফল ছিল। এবারও বিশাল আয়োজনের পরিকল্পনা চলছে। শহরে ইতিমধ্যে অনেক স্টেডিয়াম আছে। নতুন কিছু সুবিধাও তৈরি হচ্ছে। লস অ্যাঞ্জেলেস খেলাধুলার জন্য বিখ্যাত শহর। অনেক পেশাদার দল এখানে খেলে।
জুলাই বা আগস্ট মাসে এই অলিম্পিক শুরু হবে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলবে। ২০০টিরও বেশি দেশ অংশ নেবে। হাজারো খেলোয়াড় প্রতিযোগিতা করবে। দর্শক আসবে সারা বিশ্ব থেকে। টেলিভিশনে কোটি কোটি মানুষ দেখবে। লস অ্যাঞ্জেলেসের আবহাওয়া খুব ভালো। গ্রীষ্মে রোদ থাকে প্রায় সবসময়। খেলোয়াড়রা খেলার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ পাবে। শহরের পরিবহন ব্যবস্থা চমৎকার।
হলিউড লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত। সেলিব্রিটিরা অলিম্পিক দেখতে আসবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে জাঁকজমকপূর্ণ। আমেরিকান সংস্কৃতি প্রদর্শিত হবে। বিখ্যাত শিল্পীরা পারফর্ম করবে। পুরো শহর সাজানো হবে অলিম্পিক থিমে। রেস্তোরাঁ এবং হোটেল প্রস্তুত থাকবে। পর্যটকরা দারুণ অভিজ্ঞতা পাবে। ২০২৮ অলিম্পিক ইতিহাস তৈরি করবে। লস অ্যাঞ্জেলেস আবার প্রমাণ করবে তাদের যোগ্যতা।
২০৩০ সালের অলিম্পিক গেমস কোথায় হবে
- শীতকালীন অলিম্পিক: ২০৩০ সালের শীতকালীন অলিম্পিক ফ্রান্সে হবে।
- আয়োজক এলাকা: ফ্রেঞ্চ আল্পস অঞ্চল আয়োজন করবে।
- নির্বাচন: ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি ঘোষণা করে।
- প্রথমবার: এটি ফ্রান্সের চতুর্থবার শীতকালীন অলিম্পিক আয়োজন।
- অঞ্চল: শামোনি, কুর্শেভেল এবং অন্যান্য স্কি রিসোর্ট জড়িত থাকবে।
- প্রত্যাশা: পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই অলিম্পিক হবে।
ফ্রান্স অলিম্পিকের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ দেশ। ১৯২৪ সালে প্রথম শীতকালীন অলিম্পিক শামোনিতে হয়। এটি ছিল ঐতিহাসিক ঘটনা। তারপর ১৯৬৮ এবং ১৯৯২ সালে ফ্রান্স আয়োজন করে। গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকও প্যারিসে কয়েকবার হয়েছে। ফ্রান্সের পাহাড় এবং বরফ স্কিইংয়ের জন্য আদর্শ। প্রতি বছর লাখ লাখ পর্যটক স্কি করতে আসে। ফ্রেঞ্চ আল্পস বিশ্বের সেরা গন্তব্য।
২০৩০ অলিম্পিক পরিবেশবান্ধব হবে বলে পরিকল্পনা। ফ্রান্স সবুজ শক্তি ব্যবহার করবে। পুরনো স্টেডিয়াম ব্যবহার করা হবে। নতুন নির্মাণ কম হবে। এতে খরচ এবং দূষণ কমবে। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি এই পদক্ষেপ সমর্থন করে। ভবিষ্যতের অলিম্পিক টেকসই হওয়া জরুরি। ফ্রান্স এক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে। অন্যান্য দেশও শিখবে। অলিম্পিক শুধু খেলা নয়, দায়িত্বও।
শীতকালীন অলিম্পিক গেমস কোন দেশ আয়োজন করে
শীতকালীন অলিম্পিক গেমস বরফ এবং পাহাড়ের দেশে হয়। প্রথম শীতকালীন অলিম্পিক ১৯২৪ সালে ফ্রান্সে হয়। শামোনি শহরে এই ঐতিহাসিক ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। তারপর থেকে বিভিন্ন দেশ আয়োজন করছে। নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া কয়েকবার করেছে। আমেরিকা এবং কানাডাও একাধিকবার আয়োজক। জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া এশিয়া থেকে আয়োজন করেছে। রাশিয়াও শীতকালীন অলিম্পিক আয়োজন করেছে। আয়োজক দেশে ভালো বরফপাত থাকতে হয়।
সম্প্রতি চীন ২০২২ সালে শীতকালীন অলিম্পিক আয়োজন করে। বেইজিং এবং পাহাড়ি এলাকায় খেলা হয়। বেইজিং একমাত্র শহর যে দুই ধরনের অলিম্পিক করেছে। ২০০৮ সালে গ্রীষ্মকালীন এবং ২০২২ সালে শীতকালীন। এটি বিশাল অর্জন। শীতকালীন অলিম্পিক আয়োজন ব্যয়বহুল। বিশেষ স্টেডিয়াম এবং ট্র্যাক তৈরি করতে হয়। বরফ রক্ষণাবেক্ষণ কঠিন কাজ। তাই সব দেশ আয়োজন করতে পারে না।
ইউরোপের দেশগুলো সবচেয়ে বেশি আয়োজন করে। সেখানে শীতকাল দীর্ঘ এবং বরফ প্রচুর। শীতকালীন খেলায় তারা অভিজ্ঞ। নরওয়ে শীতকালীন খেলায় সেরা দেশ। তাদের খেলোয়াড়রা প্রচুর পদক জেতে। ভবিষ্যতে আরও দেশ হয়তো আয়োজন করবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চ্যালেঞ্জ বাড়ছে। অনেক জায়গায় বরফ কমে যাচ্ছে। আর্টিফিশিয়াল বরফ ব্যবহার করতে হচ্ছে। তবুও শীতকালীন অলিম্পিক জনপ্রিয়তা হারায়নি।
অলিম্পিক গেমসের ইভেন্ট লিস্ট
অলিম্পিক গেমসে অনেক ধরনের খেলা হয়। গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে ৩৩টির বেশি খেলা আছে। প্রতিটি খেলায় অনেক ইভেন্ট থাকে। মোট প্রায় ৩৩৯টি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। সাঁতার একটি জনপ্রিয় খেলা। এতে ফ্রিস্টাইল, ব্যাকস্ট্রোক, বাটারফ্লাই আছে। অ্যাথলেটিক্সে দৌড়, লাফ, নিক্ষেপ হয়। ১০০ মিটার দৌড় সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ। জিমন্যাস্টিকস দর্শকদের মুগ্ধ করে। ভল্টিং, বিম, ফ্লোর রুটিন দেখতে দারুণ। বাস্কেটবল, ফুটবল, টেনিস দল খেলা।
বক্সিং, জুডো, কুস্তি মার্শাল আর্টস ধরনের খেলা। তীরন্দাজি প্রাচীন কিন্তু রোমাঞ্চকর। সাইক্লিং রোড এবং ট্র্যাকে হয়। ট্রায়াথলন তিনটি খেলার সমন্বয়। সাঁতার, সাইক্লিং, দৌড় একসাথে। রোয়িং নৌকা চালনার প্রতিযোগিতা। ডাইভিং উঁচু থেকে পানিতে ছিটকে পড়া। ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস ইনডোর খেলা। ঘোড়দৌড় এবং আধুনিক পেন্টাথলন অনন্য। প্রতিটি খেলার নিজস্ব আকর্ষণ আছে।
শীতকালীন অলিম্পিকে ভিন্ন খেলা হয়। স্কিইং সবচেয়ে জনপ্রিয়। আলপাইন, ক্রস-কান্ট্রি, ফ্রিস্টাইল আছে। আইস হকি দলগত উত্তেজনাপূর্ণ খেলা। ফিগার স্কেটিং শৈল্পিক এবং সুন্দর। স্পিড স্কেটিং বরফে দ্রুত দৌড়। স্নোবোর্ডিং যুব খেলোয়াড়দের প্রিয়। ববস্লেড এবং লুজ উচ্চ গতির খেলা। কার্লিং পাথর দিয়ে বরফে খেলা হয়। বায়াথলন স্কিইং এবং শুটিং একসাথে। প্রতিটি খেলা দর্শকদের বিনোদন দেয়।
| গ্রীষ্মকালীন খেলা | শীতকালীন খেলা | ইনডোর খেলা | আউটডোর খেলা |
| সাঁতার | স্কিইং | জিমন্যাস্টিক্স | ম্যারাথন |
| অ্যাথলেটিক্স | আইস হকি | বক্সিং | ফুটবল |
| বাস্কেটবল | ফিগার স্কেটিং | ব্যাডমিন্টন | সাইক্লিং |
| টেনিস | স্নোবোর্ডিং | টেবিল টেনিস | তীরন্দাজি |
অলিম্পিক গেমসে কোন কোন খেলা হয়
অলিম্পিক গেমসে ঐতিহ্যবাহী এবং আধুনিক খেলা হয়। অ্যাথলেটিক্স সবচেয়ে পুরনো খেলা। প্রাচীন গ্রিসেও এই খেলা ছিল। এতে দৌড়ের বিভিন্ন দূরত্ব আছে। ১০০ মিটার থেকে ম্যারাথন পর্যন্ত। লং জাম্প, হাই জাম্প, পোল ভল্ট লাফের খেলা। শট পুট, জ্যাভলিন, ডিসকাস নিক্ষেপ খেলা। সাঁতারে ফ্রিস্টাইল সবচেয়ে সাধারণ। ব্যাকস্ট্রোকে পিঠের উপর সাঁতার কাটা হয়। বাটারফ্লাই সবচেয়ে কঠিন স্টাইল। মেডলে রিলে চার স্টাইলের সমন্বয়।
জিমন্যাস্টিকসে শক্তি এবং নমনীয়তা দরকার। শৈল্পিক জিমন্যাস্টিক্সে বিম, বার, ভল্ট আছে। রিদমিক জিমন্যাস্টিক্সে দড়ি, বল ব্যবহার হয়। ট্রামপোলিন উঁচুতে লাফানোর খেলা। বাস্কেটবল এবং ফুটবল জনপ্রিয় দল খেলা। ভলিবল এবং হ্যান্ডবলও দলগত। টেনিস এককভাবে এবং দলে খেলা যায়। টেবিল টেনিস ইনডোরে দ্রুত গতির খেলা। ব্যাডমিন্টন শাটলকক দিয়ে খেলা হয়। হকি মাঠে এবং বরফে দুভাবেই হয়।
জুডো জাপানি মার্শাল আর্ট। কারাতে ২০২০ সালে প্রথম যুক্ত হয়। তায়কোয়ান্দো কোরিয়ান মার্শাল আর্ট। কুস্তি ফ্রিস্টাইল এবং গ্রেকো-রোমান দুই ধরনের। বক্সিংয়ে ওজন অনুযায়ী ভাগ আছে। ফেন্সিং তলোয়ার দিয়ে খেলা। আধুনিক পেন্টাথলনে পাঁচটি খেলা আছে। শুটিং, সাঁতার, ফেন্সিং, ঘোড়দৌড়, দৌড়। ট্রায়াথলন সাঁতার, সাইক্লিং, দৌড় একসাথে। সার্ফিং এবং স্কেটবোর্ডিং নতুন খেলা। ক্লাইম্বিং দেয়াল বেয়ে উপরে ওঠা।
বাংলাদেশ কি অলিম্পিক গেমসে অংশগ্রহণ করে
- প্রথম অংশগ্রহণ: বাংলাদেশ ১৯৮৪ সালে প্রথম অলিম্পিকে যায়।
- লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক: সেবার মাত্র পাঁচজন খেলোয়াড় ছিল।
- খেলা: তীরন্দাজি এবং অ্যাথলেটিক্সে অংশ নেয়।
- নিয়মিত অংশগ্রহণ: এরপর থেকে প্রতি অলিম্পিকে বাংলাদেশ যায়।
- পদক: এখন পর্যন্ত কোনো পদক জেতেনি।
- প্রত্যাশা: ভবিষ্যতে পদক জিতবে এমন আশা আছে।
বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা কঠোর পরিশ্রম করে। অল্প সুবিধা থাকলেও তারা হাল ছাড়ে না। তীরন্দাজিতে বাংলাদেশ ভালো করছে। মহিলা তীরন্দাজরা বিশেষভাবে প্রশংসিত। তারা অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় জিতেছে। শুটিংয়ে আবদুল্লাহ হেল বাকী অংশ নিয়েছিলেন। সাঁতারে জুনায়না শামসুদ্দিন অংশ নেয়। মাহফুজুর রহমান সাফোয়ান অ্যাথলেটিক্সে প্রতিযোগিতা করেছেন। প্রতিটি খেলোয়াড় দেশের প্রতিনিধিত্ব করে গর্বিত।
অলিম্পিকে যাওয়া নিজেই বড় অর্জন। বাংলাদেশ ছোট দেশ হলেও স্বপ্ন বড়। ক্রিকেট বাদে অন্য খেলায় কম বিনিয়োগ হয়। সরকার এবং খেলা সংস্থা চেষ্টা করছে। আরও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। বিদেশি কোচ আনা হচ্ছে। খেলোয়াড়দের স্কলারশিপ দেওয়া হচ্ছে। তরুণ প্রতিভা খুঁজে বের করা হচ্ছে। একদিন বাংলাদেশ অবশ্যই অলিম্পিক পদক জিতবে। সারা দেশ সেই দিনের অপেক্ষায় আছে।
অলিম্পিক গেমসের নতুন খেলা ২০২৬
২০২৬ শীতকালীন অলিম্পিকে কিছু পরিবর্তন হবে। স্কি মাউন্টেনিয়ারিং প্রথমবার যুক্ত হচ্ছে। এটি পাহাড়ে স্কি করে উপরে উঠার খেলা। খুব শারীরিক শক্তির প্রয়োজন হয়। ইউরোপে এই খেলা জনপ্রিয়। অলিম্পিকে যুক্ত হওয়ায় উৎসাহ বেড়েছে। বরফে স্কিইংয়ের নতুন ইভেন্ট আসছে। মিক্সড টিম ইভেন্ট যুক্ত হচ্ছে। পুরুষ এবং মহিলা একসাথে খেলবে। এতে সমতা বৃদ্ধি পায়। অলিম্পিক আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হচ্ছে।
আইস হকিতে নতুন নিয়ম আসতে পারে। ফিগার স্কেটিংয়ে নতুন ক্যাটাগরি হবে। স্নোবোর্ডিংয়ে কিছু নতুন ইভেন্ট আছে। ফ্রিস্টাইল স্কিইংয়েও বৈচিত্র্য আসছে। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি নতুন খেলা যুক্ত করে। যুব প্রজন্ম আকৃষ্ট করা লক্ষ্য। পুরনো খেলাও আপডেট করা হয়। নিয়ম আরও স্পষ্ট করা হচ্ছে। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দর্শকদের বিনোদন বাড়ানো হচ্ছে।
২০২৮ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকেও পরিবর্তন হবে। ব্রেকিং বা ব্রেকড্যান্স যুক্ত হয়েছিল ২০২৪ সালে। স্কেটবোর্ডিং এবং সার্ফিং জনপ্রিয় হচ্ছে। এগুলো তরুণদের প্রিয় খেলা। অলিম্পিক আধুনিক হচ্ছে। ঐতিহ্য বজায় রেখে নতুনত্ব আনা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও খেলা যুক্ত হতে পারে। ই-স্পোর্টস নিয়ে আলোচনা চলছে। ড্রোন রেসিং বিবেচনা করা হচ্ছে। অলিম্পিক সবসময় পরিবর্তনশীল।
অলিম্পিক গেমসের সময়সূচী
অলিম্পিক গেমসের সময়সূচী আগে থেকে ঠিক করা হয়। প্রতিটি খেলার সময় এবং স্থান জানানো হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রথম দিন হয়। মূল স্টেডিয়ামে জাঁকজমক অনুষ্ঠান হয়। সব দেশের খেলোয়াড়রা প্যারেড করে। পতাকা উত্তোলন এবং শপথ নেওয়া হয়। অলিম্পিক মশাল জ্বালানো হয়। এরপর থেকে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। প্রতিদিন বিভিন্ন খেলা হয়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ইভেন্ট থাকে।
সাঁতার সাধারণত সকালে বা সন্ধ্যায় হয়। অ্যাথলেটিক্স বিকেলে এবং সন্ধ্যায় হয়। ফাইনাল ম্যাচ প্রাইম টাইমে দেখানো হয়। এতে বেশি দর্শক দেখতে পায়। টিভি সম্প্রচার বিবেচনা করা হয়। বিভিন্ন সময় অঞ্চলের জন্য সময় ঠিক করা হয়। খেলোয়াড়দের বিশ্রামের সময়ও দেওয়া হয়। একই খেলোয়াড় একদিনে একাধিক ইভেন্টে থাকলে সময় সমন্বয় করা হয়। মেডেল প্রদান অনুষ্ঠান প্রতিদিন হয়। বিজয়ীদের সম্মাননা দেওয়া হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠান শেষ দিন হয়। এতে সব খেলোয়াড় একসাথে থাকে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। পরবর্তী আয়োজক শহরকে পতাকা হস্তান্তর করা হয়। অলিম্পিক শিখা নিভিয়ে দেওয়া হয়। এটি খুব আবেগপূর্ণ মুহূর্ত। সবাই বিদায় জানায়। পুরো সময়সূচী অলিম্পিক ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়। মোবাইল অ্যাপেও দেখা যায়। দর্শকরা আগে থেকে পরিকল্পনা করতে পারে। কোন খেলা দেখবে সেটা ঠিক করা যায়।
| প্রথম সপ্তাহ | দ্বিতীয় সপ্তাহ | ফাইনাল দিন | বিশেষ ইভেন্ট |
| সাঁতার শুরু | অ্যাথলেটিক্স শুরু | ম্যারাথন | উদ্বোধনী অনুষ্ঠান |
| জিমন্যাস্টিক্স | বাস্কেটবল নকআউট | ফুটবল ফাইনাল | সমাপনী অনুষ্ঠান |
| তীরন্দাজি | টেনিস সেমিফাইনাল | রিলে রেস | মেডেল প্রদান |
| ভলিবল | বক্সিং ফাইনাল | বাস্কেটবল ফাইনাল | পতাকা হস্তান্তর |
অলিম্পিক গেমস লাইভ দেখার উপায়
অলিম্পিক গেমস লাইভ দেখার অনেক উপায় আছে। টেলিভিশনে সব দেশে সম্প্রচার হয়। বাংলাদেশে সাধারণত জাতীয় টিভি দেখায়। কিছু বেসরকারি চ্যানেলও অধিকার কেনে। স্পোর্টস চ্যানেলে ২৪ ঘণ্টা সম্প্রচার চলে। বিভিন্ন ভাষায় ধারাভাষ্য পাওয়া যায়। বাংলা ধারাভাষ্য শুনে বুঝতে সুবিধা হয়। কেবল টিভি এবং ডিশে আরও চ্যানেল পাওয়া যায়। বিবিসি, এনবিসি, ইউরোস্পোর্ট বিখ্যাত চ্যানেল। তারা সব ইভেন্ট সরাসরি দেখায়।
অনলাইনে লাইভ স্ট্রিমিং খুব জনপ্রিয়। অলিম্পিকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট স্ট্রিম করে। ইউটিউবে কিছু চ্যানেল লাইভ দেখায়। ফেসবুকেও কিছু পেজ স্ট্রিম করে। তবে অফিশিয়াল উৎস নিরাপদ এবং ভালো মানের। মোবাইল অ্যাপে দেখা সবচেয়ে সুবিধাজনক। অলিম্পিকের নিজস্ব অ্যাপ আছে। সেখানে সব ইভেন্ট লাইভ এবং রিপ্লে পাওয়া যায়। নোটিফিকেশন পাওয়া যায় প্রিয় খেলার। স্কোর এবং ফলাফল রিয়েল টাইমে আপডেট হয়।
কিছু স্ট্রিমিং সেবা অলিম্পিক দেখায়। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম অধিকার কেনে। সাবস্ক্রিপশন নিয়ে দেখতে হয়। কিছু বিনামূল্যে দেখানো হয়। সরকারি সম্প্রচারক সবার জন্য ফ্রি করে। স্টেডিয়ামে সরাসরি দেখা সেরা অভিজ্ঞতা। টিকিট কিনে উপস্থিত থাকা যায়। তবে টিকিট ব্যয়বহুল এবং সীমিত। অনলাইনে দেখা সহজ এবং সাশ্রয়ী। যেকোনো জায়গা থেকে দেখা যায়। ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই হয়।
অলিম্পিক গেমসের টিকিট মূল্য
- সাধারণ টিকিট: সাধারণ ইভেন্টের টিকিট ৫০-২০০ ডলার।
- জনপ্রিয় খেলা: সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স ফাইনাল ৩০০-১০০০ ডলার।
- উদ্বোধনী অনুষ্ঠান: উদ্বোধনী টিকিট ৫০০-৩০০০ ডলার পর্যন্ত।
- সমাপনী অনুষ্ঠান: সমাপনী টিকিট ৪০০-২৫০০ ডলার।
- ভিআইপি টিকিট: প্রিমিয়াম সিট ১০০০০ ডলারেরও বেশি হতে পারে।
- ছাত্র ছাড়: কিছু দেশে তরুণদের জন্য ছাড় থাকে।
অলিম্পিক টিকিট কেনা প্রতিযোগিতামূলক। অনলাইনে টিকিট বিক্রয় শুরু হয়। অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে কিনতে হয়। কালোবাজারে কিনলে ঝুঁকি আছে। নকল টিকিট পেতে পারেন। আগে থেকে পরিকল্পনা করা ভালো। টিকিট খুব দ্রুত শেষ হয়ে যায়। জনপ্রিয় ইভেন্টের টিকিট মিনিটেই শেষ। লটারি সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়া হয়। প্যাকেজ টিকিটও পাওয়া যায়।
প্যাকেজে একাধিক ইভেন্ট দেখা যায়। এতে খরচ কিছুটা কম পড়ে। হোটেল এবং যাতায়াত অন্তর্ভুক্ত থাকে। ট্যুর অপারেটররা প্যাকেজ অফার করে। স্থানীয় দর্শকদের জন্য দাম কম। বিদেশিদের জন্য বেশি চার্জ হয়। অলিম্পিক দেখা ব্যয়বহুল কিন্তু স্মরণীয়। জীবনে একবার হলেও যাওয়া উচিত। অনেকে সঞ্চয় করে টিকিট কেনে। এটি তাদের স্বপ্ন পূরণ।
অলিম্পিক গেমসের মোট পদক সংখ্যা
অলিম্পিক গেমসে তিন ধরনের পদক দেওয়া হয়। স্বর্ণ পদক প্রথম স্থানের জন্য। রৌপ্য পদক দ্বিতীয় স্থানের জন্য। ব্রোঞ্জ পদক তৃতীয় স্থানের জন্য। গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে প্রায় ১০০০ পদক থাকে। প্রতিটি ইভেন্টে তিনটি পদক দেওয়া হয়। কিছু খেলায় দুটি ব্রোঞ্জ দেওয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ বক্সিং এবং জুডোতে। সেমিফাইনালে হারা দুজনই ব্রোঞ্জ পায়। শীতকালীন অলিম্পিকে প্রায় ৩০০ পদক থাকে। খেলার সংখ্যা কম বলে পদকও কম।
আমেরিকা সবচেয়ে বেশি পদক জিতেছে। ঐতিহাসিকভাবে তাদের হাজারেরও বেশি পদক আছে। রাশিয়া এবং চীনও শীর্ষে আছে। জার্মানি, গ্রেট ব্রিটেন শক্তিশালী। ছোট দেশও পদক জিতে। নরওয়ে শীতকালীন অলিম্পিকে সেরা। জ্যামাইকা স্প্রিন্টে দুর্দান্ত। কেনিয়া দূরপাল্লার দৌড়ে অপ্রতিরোধ্য। প্রতিটি দেশের নিজস্ব শক্তি আছে। পদক টেবিল প্রতিদিন আপডেট হয়। মিডিয়া পদক গণনা প্রকাশ করে।
পদক জেতা বিশাল সম্মান। খেলোয়াড়রা সারাজীবন মনে রাখে। জাতীয় সংগীত বাজে পডিয়ামে। পতাকা উত্তোলন করা হয়। এটি আবেগপূর্ণ মুহূর্ত। পরিবার এবং কোচরা গর্বিত হয়। পদক বিজয়ীরা জাতীয় নায়ক হয়। সরকার পুরস্কার এবং সম্মাননা দেয়। কিছু দেশ অর্থ পুরস্কার দেয়। পদক জীবন বদলে দিতে পারে। খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ার উন্নত হয়। স্পন্সরশিপ এবং বিজ্ঞাপন সুযোগ বাড়ে।
| দেশ | স্বর্ণ পদক | রৌপ্য পদক | ব্রোঞ্জ পদক | মোট |
| আমেরিকা | ১০০০+ | ৮০০+ | ৭০০+ | ২৫০০+ |
| চীন | ৬০০+ | ৫০০+ | ৪০০+ | ১৫০০+ |
| রাশিয়া | ৫০০+ | ৪০০+ | ৪০০+ | ১৩০০+ |
| জার্মানি | ৪০০+ | ৪০০+ | ৪০০+ | ১২০০+ |
অলিম্পিক গেমসের নিয়ম ও বিধি
অলিম্পিক গেমসের কঠোর নিয়ম আছে। সব খেলোয়াড়কে ফেয়ার প্লে করতে হয়। ডোপিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। খেলার আগে এবং পরে পরীক্ষা করা হয়। নিষিদ্ধ ওষুধ ব্যবহার করলে অযোগ্য ঘোষণা হয়। পদক কেড়ে নেওয়া হয়। আজীবন নিষিদ্ধও হতে পারে। খেলার প্রতিটি নিয়ম মেনে চলতে হয়। রেফারি এবং আম্পায়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। তবে ভিডিও রিভিউ ব্যবহার করা হয়। বিতর্কিত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা যায়। খেলোয়াড়দের সম্মানজনক আচরণ করতে হয়।
প্রতিটি খেলার নিজস্ব নিয়ম আছে। সাঁতারে মিথ্যা শুরু করলে অযোগ্য হয়। দৌড়ে লেন পরিবর্তন করা নিষিদ্ধ। ফুটবলে হাত দিয়ে বল ছোঁয়া যায় না। বাস্কেটবলে নির্দিষ্ট সময়ে শট নিতে হয়। জিমন্যাস্টিক্সে প্রতিটি মুভমেন্ট স্কোর করা হয়। বিচারকরা কঠোরভাবে মূল্যায়ন করে। টেকনিক্যাল ভুল হলে পয়েন্ট কাটা হয়। বক্সিংয়ে কিছু আঘাত নিষিদ্ধ। নিচে আঘাত করা যায় না। কুস্তিতে বিপজ্জনক মুভ নিষিদ্ধ।
খেলোয়াড়দের সময়মতো পৌঁছাতে হয়। দেরি হলে অযোগ্য হতে পারে। সঠিক পোশাক এবং সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হয়। জাতীয় পতাকা এবং প্রতীক থাকা আবশ্যক। রাজনৈতিক বক্তব্য নিষিদ্ধ। পডিয়ামে বিক্ষোভ করা যায় না। অলিম্পিক নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ। খেলার মাধ্যমে বন্ধুত্ব তৈরি লক্ষ্য। নিয়ম ভাঙলে কঠোর শাস্তি হয়। তবে অধিকাংশ খেলোয়াড় নিয়ম মেনে চলে। তারা সৎভাবে প্রতিযোগিতা করতে চায়।
অলিম্পিক গেমসের প্রতীক এবং অর্থ
অলিম্পিক গেমসের বিখ্যাত প্রতীক আছে। পাঁচটি বলয় সবচেয়ে পরিচিত। নীল, হলুদ, কালো, সবুজ এবং লাল রঙ। প্রতিটি বলয় একটি মহাদেশ প্রতিনিধিত্ব করে। নীল ইউরোপ, হলুদ এশিয়া, কালো আফ্রিকা। সবুজ ওশেনিয়া, লাল আমেরিকা। বলয়গুলো একে অপরের সাথে সংযুক্ত। এটি বিশ্ব ঐক্যের প্রতীক। সব মহাদেশ একসাথে খেলে। কোনো বৈষম্য নেই। ১৯১৩ সালে পিয়ের দ্য কুবার্তাঁ এটি ডিজাইন করেন। এটি এখনও ব্যবহার হচ্ছে।
অলিম্পিক পতাকা সাদা রঙের। তাতে পাঁচটি বলয় আছে। প্রতি অলিম্পিকে এই পতাকা উড়ানো হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উত্তোলন করা হয়। সমাপনীতে নামানো হয়। পরবর্তী আয়োজক শহরকে দেওয়া হয়। অলিম্পিক মটো হলো “দ্রুততর, উচ্চতর, শক্তিশালীতর”। লাতিন ভাষায় “সিটিয়াস, আলটিয়াস, ফোর্টিয়াস”। ২০২১ সালে “একসাথে” যুক্ত হয়েছে। এখন মটো “একসাথে দ্রুততর, উচ্চতর, শক্তিশালীতর”। এটি ঐক্য এবং দলবদ্ধতা প্রকাশ করে।
অলিম্পিক শিখা পবিত্র প্রতীক। প্রাচীন গ্রিস থেকে এই ঐতিহ্য। গ্রিসের অলিম্পিয়া থেকে শিখা জ্বালানো হয়। টর্চ রিলে শুরু হয়। হাজারো মানুষ শিখা বহন করে। বিভিন্ন দেশ এবং শহর অতিক্রম করে। অবশেষে আয়োজক শহরে পৌঁছায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মূল শিখা জ্বালানো হয়। এটি অলিম্পিক শেষ পর্যন্ত জ্বলতে থাকে। শিখা শান্তি এবং বন্ধুত্বের প্রতীক। অলিম্পিক মেডেলও বিশেষ ডিজাইন। প্রতিটি অলিম্পিকের মেডেল ভিন্ন।
| প্রতীক | রঙ/বৈশিষ্ট্য | অর্থ | ইতিহাস |
| পাঁচ বলয় | নীল, হলুদ, কালো, সবুজ, লাল | পাঁচ মহাদেশের ঐক্য | ১৯১৩ সালে ডিজাইন |
| অলিম্পিক শিখা | আগুন | শান্তি ও বন্ধুত্ব | প্রাচীন গ্রিস থেকে |
| সাদা পতাকা | সাদা রঙ, পাঁচ বলয় | নিরপেক্ষতা ও ঐক্য | ১৯২০ থেকে ব্যবহৃত |
| মটো | “দ্রুততর, উচ্চতর, শক্তিশালীতর” | উৎকর্ষতার লক্ষ্য | ১৮৯৪ সালে তৈরি |
অলিম্পিক গেমসের মাসকট
প্রতিটি অলিম্পিকের নিজস্ব মাসকট থাকে। মাসকট সাধারণত একটি চরিত্র বা প্রাণী। আয়োজক দেশের সংস্কৃতি প্রতিফলিত হয়। শিশুরা মাসকট খুব পছন্দ করে। খেলনা এবং পণ্য বিক্রি হয়। ১৯৬৮ সালে প্রথম মাসকট ছিল। মেক্সিকো অলিম্পিকে “রেড জাগুয়ার”। এরপর প্রতিটি অলিম্পিকে মাসকট আছে। ১৯৭২ মিউনিখে “ওয়াল্ডি” কুকুর ছিল। ১৯৮০ মস্কোয় “মিশা” ভালুক বিখ্যাত। ১৯৮৪ লস অ্যাঞ্জেলেসে “স্যাম ঈগল” ছিল। ১৯৯৬ আটলান্টায় “ইজি” কম্পিউটার চরিত্র।
২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকে পাঁচটি মাসকট ছিল। “ফুওয়া” নামে পরিচিত। প্রতিটি অলিম্পিক রিং প্রতিনিধিত্ব করত। ২০১২ লন্ডনে “ওয়েনলক” এবং “ম্যান্ডেভিল”। ২০১৬ রিওতে “ভিনিসিয়াস” এবং “টম”। ২০২০ টোকিওতে “মিরাইতোয়া” এবং “সোমেইটি”। ২০২৪ প্যারিসে “ফ্রিজিয়ান ক্যাপ”। এটি ফরাসি বিপ্লবের প্রতীক। প্রতিটি মাসকটের পেছনে গল্প আছে। তারা অলিম্পিকের মূল্যবোধ প্রচার করে।
মাসকট ডিজাইন প্রতিযোগিতা হয়। শিল্পীরা ডিজাইন জমা দেয়। কমিটি সেরা নির্বাচন করে। জনগণের মতামতও নেওয়া হয়। মাসকট বিপণনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। টি-শার্ট, ক্যাপ, খেলনা বিক্রি হয়। আয় অলিম্পিক তহবিলে যায়। শিশুরা মাসকটের সাথে ছবি তোলে। স্টেডিয়ামে মাসকট ঘুরে বেড়ায়। দর্শকদের বিনোদন দেয়। মাসকট অলিম্পিকের স্মৃতি হয়ে থাকে। বছর পরও মানুষ মনে রাখে।
পরবর্তী অলিম্পিক গেমস কোথায় অনুষ্ঠিত হবে
- ২০২৬ শীতকালীন: ইতালির মিলান এবং কোর্টিনা দ্য আম্পেজো।
- ২০২৮ গ্রীষ্মকালীন: আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে।
- ২০৩০ শীতকালীন: ফ্রান্সের ফ্রেঞ্চ আল্পস অঞ্চলে।
- ২০৩২ গ্রীষ্মকালীন: অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন শহরে।
- ২০৩৪ শীতকালীন: আমেরিকার সল্ট লেক সিটিতে (প্রস্তাবিত)।
- ভবিষ্যত: আরও দেশ আবেদন জমা দিচ্ছে।
লস অ্যাঞ্জেলেস ২০২৮ অলিম্পিকের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন স্টেডিয়াম তৈরি হচ্ছে। পুরনো ভেন্যু আপগ্রেড করা হচ্ছে। পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করা হচ্ছে। শহর অলিম্পিক থিমে সাজানো হবে। ব্রিসবেন ২০৩২ এর জন্য পরিকল্পনা শুরু করেছে। এটি অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয়বার আয়োজন। মেলবোর্ন ১৯৫৬ এবং সিডনি ২০০০ সালে করেছিল। ব্রিসবেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কাছাকাছি। এশিয়ান দর্শকদের সুবিধা হবে।
সল্ট লেক সিটি ২০৩৪ শীতকালীন জন্য আগ্রহী। ২০০২ সালে তারা আয়োজন করেছিল। সেবার খুব সফল হয়েছিল। স্টেডিয়াম এখনও ভালো অবস্থায়। কম খরচে আয়োজন করতে পারবে। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি খরচ কমাতে চায়। অনেক শহর আয়োজনে আগ্রহ হারিয়েছে। ব্যয় খুব বেশি বলে। তাই অভিজ্ঞ শহর পছন্দ করা হয়। আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকায় আরও অলিম্পিক হওয়া দরকার। সেখানে এখনো কম হয়েছে।
শীতকালীন অলিম্পিক গেমস ২০২৬ সময়সূচী
শীতকালীন অলিম্পিক গেমস ২০২৬ ফেব্রুয়ারিতে হবে। সঠিক তারিখ ৬ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। মোট ১৭ দিন চলবে। ইতালির দুই শহরে বিভিন্ন ইভেন্ট হবে। মিলানে আইস হকি এবং ফিগার স্কেটিং। কোর্টিনা এবং আল্পসে স্কিইং ইভেন্ট। প্রথম দিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। মিলানের সান সিরো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠান হতে পারে। জাঁকজমকপূর্ণ পারফরম্যান্স থাকবে। ইতালিয়ান সংস্কৃতি প্রদর্শিত হবে। অপেরা এবং ফ্যাশন শো হতে পারে।
প্রথম সপ্তাহে স্কিইং ইভেন্ট শুরু হবে। আলপাইন স্কিইং, ক্রস-কান্ট্রি, জাম্পিং। ফিগার স্কেটিং একক প্রতিযোগিতা হবে। আইস হকি গ্রুপ পর্ব শুরু হবে। স্পিড স্কেটিং এবং শর্ট ট্র্যাক। দ্বিতীয় সপ্তাহে নকআউট রাউন্ড। ফাইনাল ম্যাচগুলো দর্শক উপভোগ করবে। স্নোবোর্ডিং এবং ফ্রিস্টাইল স্কিইং। তরুণরা এই খেলা পছন্দ করবে। ববস্লেড এবং স্কেলেটন রোমাঞ্চকর। উচ্চ গতিতে পাহাড় থেকে নামা। কার্লিং ধীর কিন্তু কৌশলপূর্ণ খেলা।
শেষ দিন সমাপনী অনুষ্ঠান। সব খেলোয়াড় একসাথে উদযাপন করবে। পরবর্তী আয়োজক শহরকে পতাকা দেওয়া হবে। অলিম্পিক শিখা নেভানো হবে। আবেগপূর্ণ বিদায় জানানো হবে। সম্পূর্ণ সময়সূচী আগামী মাসগুলোতে প্রকাশিত হবে। টিকিট বিক্রয় শীঘ্রই শুরু হবে। দর্শকরা আগে থেকে পরিকল্পনা করতে পারবে। ইতালি অসাধারণ অলিম্পিক উপহার দেবে। আল্পসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মুগ্ধ করবে। খেলা এবং পর্যটন একসাথে উপভোগ্য হবে।
গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেমস ২০২৮
গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেমস ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হবে। জুলাই বা আগস্ট মাসে শুরু হবে। সঠিক তারিখ এখনো ঘোষণা হয়নি। সাধারণত জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে শুরু। প্রায় ১৬-১৭ দিন চলবে। ৩৩টির বেশি খেলা হবে। ৩৩৯টি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। ২০৬টি দেশ থেকে প্রায় ১০,০০০ খেলোয়াড় আসবে। মহিলা এবং পুরুষ সমান অংশগ্রহণ করবে। নতুন খেলা যুক্ত হতে পারে। সার্ফিং, স্কেটবোর্ডিং, ব্রেকিং চালু থাকবে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের বিভিন্ন ভেন্যুতে খেলা হবে। এলএ মেমোরিয়াল কলিসিয়াম মূল স্টেডিয়াম। এটি ঐতিহাসিক স্টেডিয়াম। ১৯৩২ এবং ১৯৮৪ সালেও ব্যবহার হয়েছিল। নতুন স্যুফাই স্টেডিয়াম ফুটবলে ব্যবহার হবে। এটি অত্যাধুনিক সুবিধা সম্পন্ন। সান্টা মনিকা বিচে বিচ ভলিবল। প্যাসাডেনায় টেনিস ম্যাচ। সাঁতার নতুন অ্যাকোয়াটিক সেন্টারে। বাস্কেটবল ক্রিপ্টো ডট কম এরেনায়। পুরো শহর অলিম্পিক মোডে থাকবে।
লস অ্যাঞ্জেলেস কার-মুক্ত অলিম্পিক করতে চায়। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার উৎসাহিত করা হবে। পরিবেশবান্ধব অলিম্পিক লক্ষ্য। কার্বন নিঃসরণ কমানো হবে। পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ ব্যবহার। প্লাস্টিক কমানো হবে। হলিউডের সেলিব্রিটিরা অংশ নেবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্মরণীয় হবে। বিশ্বমানের বিনোদন থাকবে। ২০২৮ অলিম্পিক নতুন মান স্থাপন করবে। প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন দেখানো হবে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি অভিজ্ঞতা থাকতে পারে।
অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের সাফল্য
বাংলাদেশ অলিম্পিক গেমসে পদক জেতেনি। তবে অংশগ্রহণই বড় সাফল্য। ১৯৮৪ সাল থেকে নিয়মিত যাচ্ছে। প্রতিবার খেলোয়াড়দের সংখ্যা বাড়ছে। তীরন্দাজিতে সবচেয়ে ভালো করছে। মহিলা তীরন্দাজরা উজ্জ্বল। সুমি খাতুন এবং রুমানা আক্তার বিখ্যাত। তারা বিশ্বকাপে পদক জিতেছে। অলিম্পিকে কোয়ালিফাইং রাউন্ড পার হয়েছে। এটি বড় অর্জন। ধানমন্ডি তীরন্দাজি একাডেমি ভালো কাজ করছে। তরুণ প্রতিভা তৈরি হচ্ছে।
শুটিংয়ে আবদুল্লাহ হেল বাকী অংশ নিয়েছিলেন। তিনি ভালো করেছেন। সাঁতারেও বাংলাদেশ পাঠায়। জুনায়না শামসুদ্দিন রেকর্ড ভেঙেছে। অ্যাথলেটিক্সে মাহফুজুর রহমান প্রতিনিধিত্ব করেছে। প্রতিটি খেলোয়াড় সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। প্রশিক্ষণ সুবিধা সীমিত হলেও হাল ছাড়ে না। সরকার খেলাধুলায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। নতুন স্টেডিয়াম তৈরি হচ্ছে। বিদেশি কোচ আনা হচ্ছে। খেলোয়াড়দের বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন সক্রিয়। তারা খেলোয়াড় খুঁজে বের করছে। প্রতিভা শনাক্তকরণ প্রোগ্রাম চলছে। স্কুল এবং কলেজে প্রতিযোগিতা হচ্ছে। তরুণরা খেলায় আগ্রহী হচ্ছে। ক্রিকেটের বাইরেও মনোযোগ দিতে হবে। ফুটবল, হকি, কাবাডিতেও মনোনিবেশ দরকার। বাংলাদেশের জনসংখ্যা বিশাল। এত মানুষের মধ্যে প্রতিভা অবশ্যই আছে। সঠিক সুযোগ এবং প্রশিক্ষণ দরকার। একদিন বাংলাদেশ অবশ্যই অলিম্পিক পদক জিতবে। সেই দিনের জন্য প্রস্তুতি চলছে।
ভবিষ্যতের অলিম্পিক গেমসের আয়োজক দেশ
ভবিষ্যতের অলিম্পিক গেমসের আয়োজক ইতিমধ্যে নির্বাচিত। ২০৩২ সাল পর্যন্ত নিশ্চিত। অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন ২০৩২ আয়োজন করবে। এরপর ২০৩৪ শীতকালীন সম্ভবত আমেরিকায়। সল্ট লেক সিটি শক্তিশালী প্রার্থী। তারপরের আয়োজক নিয়ে আলোচনা চলছে। ভারত ২০৩৬ বা ২০৪০ আবেদন করতে পারে। ইন্দোনেশিয়াও আগ্রহ দেখাচ্ছে। মিশর এবং দক্ষিণ আফ্রিকা আবেদন করতে পারে। আফ্রিকায় এখনো অলিম্পিক হয়নি। এটি অন্যায় বলে মনে করা হয়।
আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি নতুন নিয়ম করেছে। খরচ কমানো এবং টেকসই হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নতুন স্টেডিয়াম কম নির্মাণ করতে হবে। পুরনো ভেন্যু ব্যবহার করা উচিত। পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। কার্বন নিঃসরণ কমাতে হবে। স্থানীয় সম্প্রদায়ের উপকার হতে হবে। অলিম্পিকের পরেও সুবিধা ব্যবহার হবে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা জরুরি। অনেক শহর আয়োজনে আগ্রহ হারিয়েছে। বোস্টন, হামবুর্গ, রোম সরে গেছে। খরচ এবং জনগণের বিরোধিতার কারণে।
তাই কমিটি আয়োজককে সহায়তা দিচ্ছে। আর্থিক সহায়তা এবং পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যৌথ আয়োজন উৎসাহিত করা হচ্ছে। একাধিক শহর মিলে করতে পারে। এতে খরচ ভাগ হয়। ২০২৬ ইতালিতে দুই শহর মিলে করছে। এই মডেল সফল হলে ভবিষ্যতে আরও হবে। অলিম্পিক সবার জন্য অ্যাক্সেসযোগ্য হওয়া উচিত। ধনী দেশ ছাড়াও অন্যরা আয়োজন করতে পারবে। এটি অলিম্পিকের প্রকৃত চেতনা। সব মহাদেশের অলিম্পিক দেখা উচিত।
অলিম্পিক গেমসে জনপ্রিয় খেলা

- সাঁতার: সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা, অনেক ইভেন্ট আছে।
- অ্যাথলেটিক্স: দৌড়, লাফ, নিক্ষেপ সবার প্রিয়।
- জিমন্যাস্টিক্স: শৈল্পিক এবং রোমাঞ্চকর খেলা।
- বাস্কেটবল: আমেরিকা এবং বিশ্বে জনপ্রিয়।
- ফুটবল: সবচেয়ে বেশি দেখা টিম খেলা।
- টেনিস: তারকা খেলোয়াড়রা অংশ নেয়।
সাঁতার অলিম্পিকের হৃদয়। মাইকেল ফেল্পস, কেটি লেডেকি বিখ্যাত। তারা একাধিক স্বর্ণ জিতেছে। প্রতিটি সাঁতারের ইভেন্ট উত্তেজনাপূর্ণ। ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইল দ্রুততম। ম্যারাথন সাঁতার সবচেয়ে কঠিন। অ্যাথলেটিক্সে উসাইন বোল্ট কিংবদন্তি। ১০০ এবং ২০০ মিটার রেকর্ড তার। ম্যারাথন সবচেয়ে দীর্ঘ এবং কঠিন। কেনিয়ান এবং ইথিওপিয়ানরা ভালো করে। উঁচু লাফ এবং পোল ভল্ট দর্শকদের মুগ্ধ করে।
জিমন্যাস্টিক্সে সিমোন বাইলস তারকা। তার পারফরম্যান্স অবিশ্বাস্য। রাশিয়ান এবং চীনা খেলোয়াড়রা শক্তিশালী। বাস্কেটবলে আমেরিকা অপ্রতিরোধ্য। লেব্রন জেমস, কোবি ব্রায়ান্ট খেলেছে। এনবিএ তারকারা অলিম্পিকে আসে। ফুটবলে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা শক্তিশালী। নেইমার, মেসি অলিম্পিকে খেলেছে। টেনিসে ফেডেরার, নাদাল, সেরেনা বিখ্যাত। অলিম্পিক স্বর্ণ তাদের ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ।
অলিম্পিক গেমসের আয়োজনের খরচ
অলিম্পিক গেমসের আয়োজন অত্যন্ত ব্যয়বহুল। কয়েক বিলিয়ন ডলার খরচ হয়। ২০২০ টোকিও অলিম্পিকে ১৫ বিলিয়ন ডলার খরচ। ২০১৬ রিও অলিম্পিকে ১৩ বিলিয়ন ডলার। ২০১২ লন্ডনে ১৪ বিলিয়ন ডলার। বেইজিং ২০০৮ সবচেয়ে ব্যয়বহুল। প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছিল। নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণ সবচেয়ে ব্যয়বহুল। অলিম্পিক ভিলেজ তৈরি করতে হয়। খেলোয়াড়দের থাকার ব্যবস্থা দরকার। নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক অর্থ লাগে। পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করতে হয়।
উদ্বোধনী এবং সমাপনী অনুষ্ঠান ব্যয়বহুল। জাঁকজমকপূর্ণ শো তৈরি করতে হয়। বিখ্যাত শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানাতে হয়। প্রযুক্তি এবং আতশবাজিতে খরচ হয়। বিপণন এবং বিজ্ঞাপনেও অর্থ লাগে। টিকিট বিক্রয় থেকে কিছু আয় হয়। স্পন্সরশিপ বড় আয়ের উৎস। কোকাকোলা, ভিসা, টয়োটা প্রধান স্পন্সর। টিভি সম্প্রচার অধিকার বিক্রি হয়। এনবিসি, বিবিসি অনেক অর্থ দেয়। তবুও অধিকাংশ অলিম্পিকে লোকসান হয়।
কিছু অলিম্পিক লাভজনক ছিল। ১৯৮৪ লস অ্যাঞ্জেলেস লাভ করেছিল। ২০০২ সল্ট লেক সিটিও লাভ করে। তারা বিদ্যমান সুবিধা ব্যবহার করেছিল। নতুন নির্মাণ কম করেছিল। এখন টেকসই অলিম্পিক লক্ষ্য। অপচয় কমানো হচ্ছে। পুরনো স্টেডিয়াম ব্যবহার করা হচ্ছে। অলিম্পিকের পরে স্টেডিয়াম ব্যবহার পরিকল্পনা দরকার। নাহলে ফাঁকা পড়ে থাকে। এথেন্সের কিছু স্টেডিয়াম এখন পরিত্যক্ত। এটি দুঃখজনক এবং অপচয়।
অলিম্পিক ববস্লেড খেলার নিয়ম
ববস্লেড শীতকালীন অলিম্পিকের রোমাঞ্চকর খেলা। এতে একটি স্লেড বরফের ট্র্যাকে নামে। দুই বা চারজন খেলোয়াড় স্লেডে বসে। অত্যন্ত উচ্চ গতিতে নিচে নামে। গতি প্রতি ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত। ট্র্যাক বরফে ঢাকা এবং সরু। বাঁক এবং মোড় অনেক থাকে। খেলোয়াড়দের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ দরকার। একটু ভুল হলে দুর্ঘটনা হতে পারে। স্লেড ট্র্যাক থেকে বাইরে গেলে অযোগ্য। শুরুতে খেলোয়াড়রা স্লেড ধাক্কা দেয়। দ্রুত দৌড়ে স্লেডে লাফ দেয়।
ড্রাইভার সামনে বসে স্টিয়ারিং করে। ব্রেকম্যান পেছনে বসে। চার জনের টিমে দুই পুশার থাকে। প্রতিটি রানের সময় মাপা হয়। সবচেয়ে কম সময় নিলে জেতে। সাধারণত চার রান হয়। মোট সময় গণনা করা হয়। স্লেডের ওজন নিয়ম অনুযায়ী হতে হবে। খেলোয়াড়দের ওজনও সীমিত। সঠিক সরঞ্জাম এবং হেলমেট আবশ্যক। নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্র্যাক পরীক্ষা করা হয় নিয়মিত। বরফ সমান এবং মসৃণ রাখা হয়।
ববস্লেড সুইজারল্যান্ডে শুরু হয়েছিল। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষে প্রথম খেলা হয়। ১৯২৪ থেকে অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্ত। জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, কানাডা শক্তিশালী। তাদের খেলোয়াড়রা প্রচুর পদক জিতে। ববস্লেড দেখতে অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। উচ্চ গতি এবং বিপদ দর্শকদের উত্তেজিত করে। লুজ এবং স্কেলেটন একই ধরনের খেলা। তবে স্লেড এবং অবস্থান ভিন্ন। স্কেলেটনে পেটের উপর শুয়ে থাকা হয়। লুজে পিছনে শুয়ে পা আগে যায়।
অলিম্পিক গেমসের যোগ্যতা নির্ধারণ প্রক্রিয়া
অলিম্পিক গেমসে যাওয়া সহজ নয়। কঠোর যোগ্যতা প্রক্রিয়া আছে। প্রতিটি খেলার নিজস্ব মানদণ্ড। কিছু খেলায় নির্দিষ্ট সময় বা দূরত্ব অর্জন দরকার। সাঁতারে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে হয়। অ্যাথলেটিক্সেও মান সময় আছে। কোয়ালিফাইং প্রতিযোগিতায় ভালো করতে হয়। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ এবং আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপ গুরুত্বপূর্ণ। সেখান থেকে সেরারা অলিম্পিকে যায়। টিম খেলায় টুর্নামেন্ট জিততে হয়। এশিয়ান গেমস, প্যান আমেরিকান গেমস যোগ্যতার পথ।
প্রতিটি দেশের একটি জাতীয় অলিম্পিক কমিটি আছে। তারা খেলোয়াড় নির্বাচন করে। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হয়। সেরা খেলোয়াড়রা সুযোগ পায়। তবে আন্তর্জাতিক মান অর্জন আবশ্যক। শুধু জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হলেই হয় না। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি নিয়ম করে। প্রতিটি দেশের কোটা আছে। একটি খেলায় সীমিত সংখ্যক যেতে পারে। বড় দেশ বেশি খেলোয়াড় পাঠায়। ছোট দেশ কম পাঠাতে পারে।
ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রিও আছে। কিছু খেলোয়াড় সরাসরি আমন্ত্রণ পায়। তারা মান অর্জন করেনি কিন্তু প্রতিভাবান। এতে বৈচিত্র্য বাড়ে। সব অঞ্চল থেকে প্রতিনিধিত্ব হয়। ইউনিভার্সালিটি প্লেস আছে। ছোট দেশ থেকে কয়েকজন যায়। এটি অলিম্পিক চেতনার অংশ। যোগ্যতা প্রক্রিয়া অনেক মাস আগে শুরু হয়। অলিম্পিকের এক-দুই বছর আগে প্রতিযোগিতা হয়। খেলোয়াড়রা কঠোর প্রশিক্ষণ নেয়। অলিম্পিকে যাওয়াই তাদের স্বপ্ন।
অলিম্পিক গেমসের আপডেট খবর
অলিম্পিক গেমসের সব সময় নতুন খবর থাকে। নতুন আয়োজক ঘোষণা হয়। খেলা যুক্ত বা বাদ হয়। খেলোয়াড়দের প্রস্তুতির খবর আসে। বিশ্ব রেকর্ড ভাঙার খবর শিরোনাম হয়। কোভিড-১৯ মহামারী অলিম্পিক প্রভাবিত করেছিল। টোকিও ২০২০ এক বছর স্থগিত হয়। ২০২১ সালে হয়েছিল। দর্শক ছাড়া অনেক ইভেন্ট হয়। এটি ছিল অভূতপূর্ব। তবে অলিম্পিক সফল হয়েছিল। খেলোয়াড়রা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়েছিল।
প্যারিস ২০২৪ সফলভাবে শেষ হয়েছে। সীন নদীতে সাঁতার ইভেন্ট হয়েছিল। এটি নতুন এবং উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। ব্রেকড্যান্স প্রথমবার অলিম্পিকে। তরুণরা এটি উপভোগ করেছে। এখন ২০২৬ এর প্রস্তুতি চলছে। ইতালি নতুন ভেন্যু তৈরি করছে। লস অ্যাঞ্জেলেসও ব্যস্ত। তারা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে। নতুন খেলা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ই-স্পোর্টস অলিম্পিকে আসবে কি না তা নিয়ে বিতর্ক। যুব অলিম্পিকে ই-স্পোর্টস ছিল।
ডোপিং কেলেঙ্কারি মাঝেমধ্যে আসে। রাশিয়ান খেলোয়াড়দের নিষেধাজ্ঞা ছিল। তারা নিরপেক্ষ পতাকায় খেলেছিল। ট্রান্সজেন্ডার খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা। নিয়ম আপডেট করা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন অলিম্পিক প্রভাবিত করছে। শীতকালীন অলিম্পিকে বরফ কমছে। কৃত্রিম বরফ ব্যবহার বাড়ছে। পরিবেশবান্ধব অলিম্পিক এখন লক্ষ্য। নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার হচ্ছে। প্লাস্টিক কমানো হচ্ছে। অলিম্পিক সবসময় বিকশিত হচ্ছে। নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে।
উপসংহার
অলিম্পিক গেমস মানবতার সেরা উৎসব। এটি খেলা, শান্তি এবং ঐক্যের প্রতীক। প্রাচীন গ্রিস থেকে শুরু হয়ে আজও চলছে। আধুনিক অলিম্পিক ১৮৯৬ সাল থেকে নিয়মিত হচ্ছে। প্রতি চার বছরে বিশ্ব একসাথে হয়। ২০০টিরও বেশি দেশ অংশ নেয়। হাজারো খেলোয়াড় স্বপ্ন পূরণ করে। পদক জেতা এবং না জেতা সবাই বিজয়ী। অংশগ্রহণই সবচেয়ে বড় অর্জন। অলিম্পিক শুধু খেলা নয়, এটি বিশ্বভ্রাতৃত্ব। ভাষা, ধর্ম, বর্ণ ভুলে সবাই এক।
বাংলাদেশও অলিম্পিকের অংশ। আমাদের খেলোয়াড়রা কঠোর পরিশ্রম করছে। একদিন আমরাও পদক জিতব। সেই স্বপ্ন সবার। তরুণ প্রজন্মকে খেলায় উৎসাহিত করতে হবে। সরকার এবং সমাজ সহায়তা দিচ্ছে। অলিম্পিক আমাদের শেখায় ফেয়ার প্লে। সততা এবং কঠোর পরিশ্রম মূল্যবান। হার জিত গৌণ, চেষ্টাই আসল। প্রতিটি অলিম্পিক নতুন ইতিহাস তৈরি করে। রেকর্ড ভাঙা হয়, নতুন তারকা জন্ম নেয়। দর্শকরা অবিস্মরণীয় মুহূর্ত দেখে। অলিম্পিক মানুষকে অনুপ্রাণিত করে।
ভবিষ্যতের অলিম্পিক আরও উন্নত হবে। প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়বে। পরিবেশবান্ধব হবে। নতুন খেলা যুক্ত হবে। তরুণরা আরও বেশি আগ্রহী হবে। অলিম্পিক সবসময় প্রাসঙ্গিক থাকবে। এটি মানবতার শ্রেষ্ঠ উদযাপন। আসুন আমরা সবাই অলিম্পিক চেতনা ধারণ করি। খেলাধুলায় অংশ নিই। স্বাস্থ্যকর এবং সক্রিয় জীবন যাপন করি। অলিম্পিক আমাদের শেখায় একসাথে থাকতে। মতভেদ ভুলে বন্ধুত্ব গড়তে। এই মহান উৎসব চিরজীবী হোক। অলিম্পিক গেমস দীর্ঘজীবী হোক।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)
অলিম্পিক গেমস কত বছর পর পর হয়?
অলিম্পিক গেমস প্রতি চার বছর পর পর অনুষ্ঠিত হয়। গ্রীষ্মকালীন এবং শীতকালীন আলাদা বছরে হয়। এতে খেলোয়াড়রা দুই ধরনের অলিম্পিকে অংশ নিতে পারে।
প্রথম আধুনিক অলিম্পিক কোথায় হয়েছিল?
প্রথম আধুনিক অলিম্পিক ১৮৯৬ সালে গ্রিসের এথেন্সে হয়েছিল। ১৪টি দেশ থেকে খেলোয়াড় অংশ নিয়েছিল। এটি ছিল ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
অলিম্পিকে কয়টি পদক দেওয়া হয়?
অলিম্পিকে তিন ধরনের পদক দেওয়া হয়। স্বর্ণ প্রথম স্থান, রৌপ্য দ্বিতীয়, ব্রোঞ্জ তৃতীয় স্থানের জন্য। কিছু খেলায় দুটি ব্রোঞ্জ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ কখন প্রথম অলিম্পিকে অংশ নেয়?
বাংলাদেশ ১৯৮৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে প্রথম অংশ নেয়। তখন পাঁচজন খেলোয়াড় ছিল। তারপর থেকে নিয়মিত অংশগ্রহণ করছে।
অলিম্পিকের পাঁচটি বলয়ের অর্থ কী?
পাঁচটি বলয় পাঁচ মহাদেশ প্রতিনিধিত্ব করে। নীল ইউরোপ, হলুদ এশিয়া, কালো আফ্রিকা, সবুজ ওশেনিয়া, লাল আমেরিকা। এটি বিশ্ব ঐক্যের প্রতীক।
অলিম্পিক শিখা কোথা থেকে জ্বালানো হয়?
অলিম্পিক শিখা গ্রিসের অলিম্পিয়া থেকে জ্বালানো হয়। সূর্যের আলো দিয়ে পবিত্রভাবে জ্বালানো হয়। তারপর টর্চ রিলে শুরু হয়।
সবচেয়ে বেশি অলিম্পিক পদক কোন দেশ জিতেছে?
আমেরিকা সবচেয়ে বেশি পদক জিতেছে। তাদের হাজারেরও বেশি পদক আছে। সাঁতার এবং অ্যাথলেটিক্সে তারা শক্তিশালী।
শীতকালীন এবং গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের পার্থক্য কী?
গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে সাঁতার, দৌড়, বাস্কেটবল হয়। শীতকালীন অলিম্পিকে স্কিইং, আইস হকি, ফিগার স্কেটিং হয়। একটি গ্রীষ্মে, অন্যটি শীতে।
অলিম্পিক টিকিট কোথায় কিনব?
অলিম্পিক টিকিট অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে কিনতে হবে। কালোবাজারে কিনলে নকল পেতে পারেন। আগে থেকে পরিকল্পনা করা ভালো।
পরবর্তী অলিম্পিক কোথায় হবে?
পরবর্তী শীতকালীন অলিম্পিক ২০২৬ সালে ইতালিতে হবে। গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক ২০২৮ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে হবে। এরপর ২০৩০ এবং ২০৩২ নির্ধারিত।
অলিম্পিকে ডোপিং পরীক্ষা কেন হয়?
ডোপিং পরীক্ষা ফেয়ার প্লে নিশ্চিত করে। নিষিদ্ধ ওষুধ ব্যবহার প্রতিরোধ করা হয়। সব খেলোয়াড় সমান সুযোগ পায়। এটি অলিম্পিকের নিয়ম।
অলিম্পিকে যাওয়ার যোগ্যতা কী
প্রতিটি খেলার নির্দিষ্ট মান আছে। কোয়ালিফাইং প্রতিযোগিতায় ভালো করতে হয়। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে হয়। জাতীয় কমিটি চূড়ান্ত নির্বাচন করে।
অলিম্পিক মাসকট কেন থাকে?
মাসকট অলিম্পিককে আকর্ষণীয় কর। শিশুরা মাসকট পছন্দ করে। আয়োজক দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরে। পণ্য বিক্রয়েও সাহায্য করে।
অলিম্পিকে কি সব দেশ অংশ নেয়?
প্রায় সব দেশ অলিম্পিকে অংশ নেয়। বর্তমানে ২০০টিরও বেশি দেশ অংশগ্রহণ করে। কিছু ছোট দেশ কম খেলোয়াড় পাঠায়। তবে সবার অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।
অলিম্পিক লাইভ কীভাবে দেখব?
টেলিভিশনে জাতীয় চ্যানেলে দেখা যায়। অনলাইনে অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে স্ট্রিম হয়। মোবাইল অ্যাপও আছে। ইউটিউব এবং স্পোর্টস চ্যানেলেও দেখা যায়।
🔥 পোস্টটি শেয়ার করুনঃ 🌍






