জমি কেনার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নামজারি করা। নামজারি না করলে আপনি জমির আসল মালিক হিসেবে প্রমাণিত হতে পারবেন না। অনেকেই জানেন না জমির নামজারি কীভাবে করতে হয়। এই গাইডে আমরা সহজ ভাষায় সব কিছু বুঝিয়ে দেব। নামজারি করার নিয়ম থেকে শুরু করে খরচ পর্যন্ত সব তথ্য পাবেন এখানে।
জমির নামজারি কী এবং কেন প্রয়োজন?

জমির নামজারি হলো সরকারি রেকর্ডে মালিকানা পরিবর্তন করার প্রক্রিয়া। জমি কিনলে বা উত্তরাধিকার সূত্রে পেলে নামজারি করতে হয়। এটি না করলে খতিয়ানে পুরাতন মালিকের নাম থাকবে। সরকারি কাগজপত্রে আপনার নাম না থাকলে ভবিষ্যতে সমস্যা হতে পারে। ব্যাংক লোন নিতে বা জমি বিক্রি করতে নামজারি লাগবে। তাই জমি কেনার পরপরই নামজারি করা উচিত। এটি আপনার মালিকানা সুরক্ষিত রাখে।
জমির নামজারি করার নিয়ম
জমির নামজারি করতে হলে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। প্রথমে জমি রেজিস্ট্রি করতে হবে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে। রেজিস্ট্রির পর ভূমি অফিসে আবেদন করতে হয়। আবেদনের সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। অফিসার আবেদন যাচাই করে অনুমোদন দেন। সঠিক কাগজপত্র থাকলে নামজারি প্রক্রিয়া সহজ হয়। আবেদনের সময় সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
নামজারি আবেদন অনলাইনে
এখন অনলাইনে নামজারি আবেদন করা যায়। land.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন। রেজিস্ট্রেশনের পর লগইন করে আবেদন ফরম পূরণ করুন। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট স্কান করে আপলোড করতে হবে। অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে ফি জমা দিন। আবেদন সাবমিট করার পর একটি ট্র্যাকিং নম্বর পাবেন। এই নম্বর দিয়ে আবেদনের স্ট্যাটাস জানা যায়। অনলাইন পদ্ধতিতে সময় ও খরচ দুটোই কম লাগে।
নামজারি খতিয়ান চেক
নামজারি হওয়ার পর খতিয়ান চেক করা জরুরি। খতিয়ান হলো জমির সরকারি রেকর্ড বই। এতে মালিকের নাম ও জমির তথ্য থাকে। অনলাইনে খতিয়ান চেক করতে পারবেন সহজেই। land.gov.bd সাইটে খতিয়ান সার্চ অপশন আছে। মৌজা নম্বর ও খতিয়ান নম্বর দিয়ে সার্চ করুন। আপনার নাম খতিয়ানে আছে কিনা দেখুন। খতিয়ানের কপি ডাউনলোড করে রাখতে পারবেন। ভূমি অফিস থেকেও খতিয়ানের সত্যায়িত কপি নিতে পারেন।
নামজারি প্রক্রিয়ার মূল ধাপ:
- জমি রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন
- ভূমি অফিসে বা অনলাইনে আবেদন করুন
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিন
- নির্ধারিত ফি পরিশোধ করুন
- অফিসার কর্তৃক যাচাইয়ের জন্য অপেক্ষা করুন
- নামজারি সম্পন্ন হলে খতিয়ান চেক করুন
- নামজারি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করুন
নামজারি করতে কত টাকা লাগে
জমির নামজারি করতে নির্দিষ্ট ফি দিতে হয়। ২০২৬ সালে মিউটেশন ফি হলো জমির মূল্যের ১%। তবে এটি সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। অনলাইন আবেদনে সার্ভিস চার্জ লাগে ১০০-৫০০ টাকা। জেলাভেদে ফি-এর পরিমাণ কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। কৃষি জমির ক্ষেত্রে ফি কম লাগে। নগর এলাকায় বাণিজ্যিক জমির ফি বেশি হয়। ফি পরিশোধের রসিদ সংরক্ষণ করে রাখুন।
জমির নামজারি করতে কত সময় লাগে
সাধারণত নামজারি হতে ৩০-৬০ দিন সময় লাগে। আবেদন সঠিক হলে দ্রুত প্রক্রিয়া হয়। অনলাইন আবেদন অফলাইনের চেয়ে দ্রুত হয়। কাগজপত্রে কোনো সমস্যা থাকলে সময় বেশি লাগে। ব্যস্ত মৌসুমে অফিসে চাপ বেশি থাকায় দেরি হতে পারে। জরুরি ভিত্তিতে নামজারি করতে অতিরিক্ত ফি লাগতে পারে। নিয়মিত আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করুন। সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করুন।
ই-নামজারি আবেদন প্রক্রিয়া
ই-নামজারি হলো ডিজিটাল পদ্ধতিতে নামজারি করা। এটি সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ উদ্যোগের অংশ। প্রথমে land.gov.bd ওয়েবসাইটে একাউন্ট খুলুন। লগইনের পর ই-মিউটেশন সেকশনে যান। নতুন আবেদন ফরমে সব তথ্য পূরণ করুন। জমির দলিল, খতিয়ান ও জাতীয় পরিচয়পত্র স্কান করুন। সব ডকুমেন্ট আপলোড করে আবেদন সাবমিট করুন। মোবাইল ব্যাংকিং বা কার্ডের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করুন।
জমির মিউটেশন করার নিয়ম
মিউটেশন ও নামজারি একই জিনিস। এটি জমির মালিকানা পরিবর্তনের সরকারি প্রক্রিয়া। মিউটেশন করতে হলে আগে দলিল রেজিস্ট্রি করতে হবে। রেজিস্ট্রির ৬ মাসের মধ্যে মিউটেশন করা উচিত। দেরি হলে জরিমানা দিতে হতে পারে। ভূমি অফিসে গিয়ে মিউটেশন আবেদন ফরম নিন। ফরম পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করুন। অফিসার ফিল্ড ভেরিফিকেশন করে অনুমোদন দেন।
নামজারি আবেদনে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট:
- জমির রেজিস্ট্রিকৃত দলিল (কবলা দলিল)
- পূর্ববর্তী মালিকের খতিয়ানের কপি
- আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র
- জমির পর্চা বা জরিপ কাগজপত্র
- হলফনামা (প্রয়োজন হলে)
- ওয়ারিশ সার্টিফিকেট (উত্তরাধিকার সূত্রে পেলে)
- ট্যাক্স পরিশোধের রসিদ
নামজারি আপডেট করতে কী লাগে
পুরানো নামজারি আপডেট করতে হতে পারে। নতুন তথ্য যুক্ত করতে বা ভুল সংশোধন করতে আপডেট লাগে। আপডেটের জন্য আবেদন ফরম পূরণ করুন। বর্তমান খতিয়ানের কপি সংযুক্ত করুন। যে তথ্য পরিবর্তন করতে চান তার প্রমাণপত্র দিন। জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি আপডেট দিতে পারবেন। ঠিকানা পরিবর্তন হলেও আপডেট করা উচিত। আপডেট প্রক্রিয়ায় সামান্য ফি লাগে।
খতিয়ান কিভাবে চেক করবেন
খতিয়ান চেক করার কয়েকটি উপায় আছে। অনলাইনে সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি। land.gov.bd ওয়েবসাইটে খতিয়ান সার্চ করুন। জেলা, উপজেলা ও মৌজা নির্বাচন করুন। খতিয়ান নম্বর বা দাগ নম্বর দিয়ে সার্চ করুন। মালিকের নাম দিয়েও খুঁজতে পারবেন। খতিয়ানের পিডিএফ ভার্সন ডাউনলোড করুন। ভূমি অফিসে গিয়েও খতিয়ান দেখতে পারবেন। সত্যায়িত কপির জন্য নির্ধারিত ফি দিতে হবে।
নামজারি সার্টিফিকেট ডাউনলোড
নামজারি সম্পন্ন হলে সার্টিফিকেট পাবেন। অনলাইন আবেদনের ক্ষেত্রে সার্টিফিকেট ডাউনলোড করা যায়। আপনার একাউন্টে লগইন করুন। মাই অ্যাপ্লিকেশন সেকশনে গিয়ে আবেদন খুঁজুন। অনুমোদিত আবেদনের পাশে ডাউনলোড অপশন থাকবে। সার্টিফিকেট পিডিএফ ফরম্যাটে ডাউনলোড করুন। এটি প্রিন্ট করে সংরক্ষণ করুন। ভূমি অফিসের সিল ও স্বাক্ষর যাচাই করুন। প্রয়োজনে অফিস থেকে সত্যায়িত কপি নিন।
নামজারি ফি-এর তালিকা (২০২৬):
| জমির ধরন | মূল্যায়ন | ফি হার | সর্বোচ্চ ফি |
| কৃষি জমি | ১-৫ লাখ | ০.৫% | ২,৫০০ টাকা |
| আবাসিক জমি | ৫-১০ লাখ | ১% | ৫,০০০ টাকা |
| বাণিজ্যিক জমি | ১০+ লাখ | ১% | ১০,০০০ টাকা |
| অনলাইন সেবা চার্জ | – | স্থির | ১০০-৫০০ টাকা |
নামজারি স্ট্যাটাস চেক অনলাইন
আবেদনের পর স্ট্যাটাস জানা জরুরি। অনলাইনে স্ট্যাটাস চেক করার সুবিধা আছে। land.gov.bd সাইটে ট্র্যাক অ্যাপ্লিকেশন অপশন আছে। ট্র্যাকিং নম্বর ও মোবাইল নম্বর দিয়ে সার্চ করুন। বর্তমান স্ট্যাটাস দেখতে পাবেন। আবেদন পেন্ডিং, প্রসেসিং বা অনুমোদিত – সব দেখা যায়। কোনো সমস্যা থাকলে নোটিফিকেশন আসবে। নিয়মিত স্ট্যাটাস চেক করে আপডেট জানুন।
নামজারি আবেদন ফরম
নামজারি আবেদন ফরম পাওয়া খুবই সহজ। ভূমি অফিস থেকে বিনামূল্যে ফরম পাবেন। অনলাইনে land.gov.bd থেকে ডাউনলোড করতে পারবেন। ফরমে আবেদনকারীর সম্পূর্ণ তথ্য দিতে হয়। জমির বিবরণ সঠিকভাবে পূরণ করুন। দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর ও মৌজা লিখুন। পূর্ববর্তী ও নতুন মালিকের নাম উল্লেখ করুন। ফরমের সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করুন। ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হবে।
অনলাইন নামজারি আবেদনের ধাপসমূহ:
- land.gov.bd ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করুন
- মোবাইল নম্বর ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন
- লগইন করে ড্যাশবোর্ডে প্রবেश করুন
- নতুন মিউটেশন আবেদন নির্বাচন করুন
- আবেদন ফরমে সব তথ্য পূরণ করুন
- ডকুমেন্ট স্কান করে আপলোড করুন
- অনলাইনে ফি পরিশোধ করুন
- ট্র্যাকিং নম্বর সংরক্ষণ করুন
নামজারি করতে কোন কাগজপত্র লাগে
নামজারি করতে বেশ কিছু কাগজপত্র প্রয়োজন। মূল দলিল বা কবলা দলিল অবশ্যই লাগবে। পূর্ববর্তী মালিকের খতিয়ান কপি চাই। আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি দিতে হবে। জমির পর্চা বা জরিপ কাগজ সংযুক্ত করুন। সর্বশেষ ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রসিদ লাগবে। উত্তরাধিকার সূত্রে পেলে ওয়ারিশ সার্টিফিকেট চাই। সব কাগজপত্রের ফটোকপি সত্যায়িত করে নিন।
জমি নামজারি করতে কত দিন সময় লাগে
নামজারি প্রক্রিয়ার সময় নির্ভর করে অনেক বিষয়ে। স্বাভাবিকভাবে ৩০-৪৫ দিন সময় লাগে। অনলাইন আবেদন ২০-৩০ দিনে শেষ হয়। অফলাইন প্রক্রিয়া একটু বেশি সময় নেয়। কাগজপত্র সম্পূর্ণ ও সঠিক হলে দ্রুত হয়। জটিল মামলা থাকলে সময় বেশি লাগতে পারে। উৎসব বা নির্বাচনের সময় অফিস ব্যস্ত থাকে। তাই আগে থেকে পরিকল্পনা করে আবেদন করুন।
নামজারি রেকর্ড সংশোধন
অনেক সময় নামজারি রেকর্ডে ভুল থাকতে পারে। নাম বানান ভুল, ঠিকানা ভুল বা জমির তথ্য ভুল হতে পারে। এসব ভুল সংশোধন করতে হয়। সংশোধনের জন্য আলাদা আবেদন করতে হবে। ভুল তথ্যের প্রমাণ ও সঠিক তথ্যের প্রমাণ দিতে হবে। সংশোধন আবেদনে সামান্য ফি লাগে। ভূমি অফিসার যাচাই করে সংশোধন অনুমোদন দেন। সংশোধিত খতিয়ানের কপি নিয়ে রাখুন।
নামজারি প্রক্রিয়ার সময়সীমা:
| প্রক্রিয়ার ধাপ | সময়কাল | মন্তব্য |
| আবেদন জমা | ১ দিন | অনলাইন তাৎক্ষণিক |
| প্রাথমিক যাচাই | ৭-১০ দিন | কাগজপত্র পরীক্ষা |
| ফিল্ড ভেরিফিকেশন | ১০-১৫ দিন | জরিপ ও পরিদর্শন |
| চূড়ান্ত অনুমোদন | ৭-১০ দিন | অফিসার অনুমোদন |
| সার্টিফিকেট ইশু | ৩-৫ দিন | রেকর্ড আপডেট |
| মোট সময় | ৩০-৪৫ দিন | স্বাভাবিক ক্ষেত্রে |
ওয়ানস্টপ সার্ভিস নামজারি
সরকার ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করেছে। এটি একটি একীভূত সেবা কেন্দ্র। এখানে সব ভূমি সেবা এক জায়গায় পাবেন। নামজারি, খতিয়ান কপি, পর্চা – সব পাওয়া যায়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এই সেবা আছে। আপনাকে আর অফিস থেকে অফিসে ছুটতে হবে না। একটি কাউন্টারেই সব কাজ হয়ে যাবে। সেবা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে দেওয়া হয়। ওয়ানস্টপ সেবায় দুর্নীতির সুযোগ কম।
নামজারি ভূ-উপজেলা অফিস
নামজারি কাজের জন্য উপজেলা ভূমি অফিসে যেতে হয়। প্রতিটি উপজেলায় ভূমি অফিস আছে। এখানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) থাকেন। তিনি নামজারি আবেদন অনুমোদন করেন। অফিসে গিয়ে সেবা কাউন্টার থেকে ফরম নিন। পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিন। অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি। সরকারি ছুটির দিন অফিস বন্ধ থাকে।
জমি নামজারি কিভাবে করবেন
জমি নামজারি করার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া জানা জরুরি। প্রথমে জমি কিনে রেজিস্ট্রি করুন। রেজিস্ট্রির পর ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করুন। তারপর ভূমি অফিসে নামজারি আবেদন করুন। অনলাইন বা অফলাইন যেকোনো উপায়ে করতে পারবেন। সব কাগজপত্র সাথে রাখুন। নির্ধারিত ফি পরিশোধ করুন। অফিসার ফিল্ড যাচাই করবেন। যাচাইয়ের পর নামজারি অনুমোদন হবে। খতিয়ানে আপনার নাম আপডেট হবে।
নতুন মালিকের নামে নামজারি
জমি বিক্রয়ের পর নতুন মালিককে নামজারি করতে হয়। বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়ের তথ্য লাগবে। বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রি করতে হবে আগে। রেজিস্ট্রির পর নতুন মালিক আবেদন করবেন। আবেদনে উভয় পক্ষের স্বাক্ষর লাগতে পারে। নতুন মালিকের জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিন। পুরানো খতিয়ান থেকে নতুন খতিয়ান হবে। নতুন মালিকের নাম খতিয়ানে যুক্ত হবে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সার্টিফিকেট পাবেন।
নামজারি আবেদন বাতিলের প্রধান কারণ:
- অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্য প্রদান
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাব
- রেজিস্ট্রি ছাড়া আবেদন করা
- ভূমি কর বকেয়া থাকা
- জমিতে মামলা-মোকদ্দমা থাকা
- নকল বা জাল দলিল জমা দেওয়া
- ফিল্ড ভেরিফিকেশনে গরমিল পাওয়া
- সঠিক ফি পরিশোধ না করা
জমি রেজিস্ট্রেশন পর নামজারি
রেজিস্ট্রেশন ও নামজারি দুটি আলাদা প্রক্রিয়া। রেজিস্ট্রেশন হয় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে। এটি জমি ক্রয়-বিক্রয়ের আইনি প্রক্রিয়া। রেজিস্ট্রেশনের পর নামজারি করতে হয় ভূমি অফিসে। নামজারি না করলে খতিয়ান আপডেট হবে না। রেজিস্ট্রেশনের ৬ মাসের মধ্যে নামজারি করা উচিত। দেরি হলে জরিমানা বা সমস্যা হতে পারে। উভয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে মালিকানা সুরক্ষিত হয়।
নামজারি খতিয়ান ডাউনলোড
নামজারির পর আপডেটেড খতিয়ান ডাউনলোড করতে পারবেন। land.gov.bd ওয়েবসাইটে খতিয়ান সেকশন আছে। আপনার জেলা ও উপজেলা নির্বাচন করুন। মৌজা নম্বর ও খতিয়ান নম্বর দিন। খতিয়ান পিডিএফ ফরম্যাটে দেখা যাবে। ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করে সংরক্ষণ করুন। এই কপি অফিসিয়াল কাজে ব্যবহার করা যায়। তবে আদালতে সত্যায়িত কপি লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে ভূমি অফিস থেকে নিতে হবে।
নামজারি কেস ট্র্যাকিং
আবেদনের পর কেস ট্র্যাকিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ট্র্যাকিং করে জানতে পারবেন আপনার আবেদন কোথায় আছে। land.gov.bd সাইটে ট্র্যাকিং সিস্টেম আছে। ট্র্যাকিং নম্বর দিয়ে সার্চ করুন। কেসের বর্তমান অবস্থা দেখতে পাবেন। পেন্ডিং, আন্ডার রিভিউ, অ্যাপ্রুভড – এসব স্ট্যাটাস দেখা যায়। কোনো সমস্যা থাকলে নোটিফিকেশন পাবেন। মোবাইলে এসএমএস নোটিফিকেশনও পেতে পারেন। নিয়মিত ট্র্যাক করে আপডেট জানুন।
নামজারি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ অফিস:
| অফিসের নাম | কাজ | যোগাযোগ |
| উপজেলা ভূমি অফিস | নামজারি আবেদন গ্রহণ ও অনুমোদন | স্থানীয় উপজেলা |
| ইউনিয়ন ভূমি অফিস | প্রাথমিক যাচাই ও সহায়তা | স্থানীয় ইউনিয়ন |
| জেলা রেজিস্ট্রার অফিস | দলিল রেজিস্ট্রেশন | জেলা সদর |
| জরিপ অফিস | জমির রেকর্ড ও ম্যাপ | জেলা/বিভাগ |
| ওয়ানস্টপ সার্ভিস | সমন্বিত সেবা কেন্দ্র | উপজেলা/জেলা |
নামজারি আবেদন কেন বাতিল হয়
অনেক সময় নামজারি আবেদন বাতিল হয়ে যায়। কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকলে বাতিল হতে পারে। ভুল তথ্য দিলে আবেদন প্রত্যাখ্যান হয়। জমিতে মামলা থাকলে নামজারি হয় না। ভূমি কর বকেয়া থাকলে সমস্যা হয়। দলিল রেজিস্ট্রি না করে আবেদন করলে বাতিল হবে। ফিল্ড যাচাইয়ে গরমিল পেলে অনুমোদন হয় না। নকল দলিল বা জাল কাগজ জমা দিলে আইনি ব্যবস্থা হতে পারে।
জমি নামজারি করার যোগ্যতা
নামজারি করার জন্য কিছু যোগ্যতা লাগে। আবেদনকারী অবশ্যই বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। জমির বৈধ মালিক বা ক্রেতা হতে হবে। রেজিস্ট্রিকৃত দলিল থাকতে হবে। বয়স ১৮ বছরের বেশি হতে হবে। উত্তরাধিকার সূত্রে পেলে ওয়ারিশ প্রমাণ লাগবে। জমিতে কোনো বিরোধ থাকা চলবে না। সব ট্যাক্স পরিশোধ করতে হবে। এসব শর্ত পূরণ হলে নামজারি করতে পারবেন।
জমির মালিকানা হস্তান্তর প্রক্রিয়া
মালিকানা হস্তান্তর একটি আইনি প্রক্রিয়া। জমি বিক্রয়, দান বা উত্তরাধিকারে হস্তান্তর হয়। প্রথমে দলিল তৈরি করে রেজিস্ট্রি করতে হবে। রেজিস্ট্রি ফি ও স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হয়। তারপর ভূমি অফিসে নামজারি আবেদন করুন। নামজারি হলে নতুন মালিকের নাম রেকর্ডে যুক্ত হয়। খতিয়ান আপডেট করতে হবে। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে হস্তান্তর সম্পন্ন হয়। আইনি পরামর্শ নিয়ে কাজ করা ভালো।
মিউটেশন অনলাইন পেমেন্ট
অনলাইনে নামজারি ফি দেওয়া খুবই সহজ। land.gov.bd সাইটে পেমেন্ট অপশন আছে। আবেদন করার সময় পেমেন্ট করতে পারবেন। বিকাশ, নগদ, রকেট – সব মোবাইল ব্যাংকিং চলে। ক্রেডিট কার্ড বা ডেবিট কার্ডেও দিতে পারবেন। পেমেন্ট করার পর রসিদ পাবেন। এই রসিদ অবশ্যই সংরক্ষণ করুন। পেমেন্ট সফল হলে এসএমএস নোটিফিকেশন আসবে। অনলাইন পেমেন্টে সময় ও খরচ দুটোই বাঁচে।
মিউটেশন প্রক্রিয়ার চেকলিস্ট:
- জমি রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেছেন কিনা
- সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেছেন কিনা
- ভূমি কর আপডেট করেছেন কিনা
- আবেদন ফরম সঠিকভাবে পূরণ করেছেন কিনা
- নির্ধারিত ফি পরিশোধ করেছেন কিনা
- ট্র্যাকিং নম্বর সংরক্ষণ করেছেন কিনা
- নিয়মিত আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করছেন কিনা
- অনুমোদনের পর খতিয়ান চেক করেছেন কিনা
জমি নামজারি করতে দেরি হলে করণীয়
নামজারিতে দেরি হলে চিন্তার কিছু নেই। প্রথমে আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করুন। কোনো সমস্যা আছে কিনা দেখুন। প্রয়োজনে ভূমি অফিসে যোগাযোগ করুন। ট্র্যাকিং নম্বর দিয়ে অফিসে খোঁজ নিন। কাগজপত্রে সমস্যা থাকলে সংশোধন করুন। অতিরিক্ত দেরি হলে অভিযোগ করতে পারবেন। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিন। প্রয়োজনে আইনি সহায়তা নিতে পারেন।
জমি মিউটেশন ফি ২০২৬

২০২৬ সালে মিউটেশন ফি-এর হার সামান্য পরিবর্তিত হয়েছে। সাধারণ কৃষি জমির জন্য ফি ০.৫-১%। নগর এলাকার জমির ফি ১-১.৫%। জমির মূল্যায়ন অনুযায়ী ফি নির্ধারণ করা হয়। অনলাইন আবেদনে ১০০ টাকা সার্ভিস চার্জ যোগ হয়। জরুরি সেবায় ডবল ফি লাগতে পারে। ওয়ারিশ সূত্রে নামজারিতে কিছু ছাড় আছে। ফি পরিশোধের সময় রসিদ অবশ্যই রাখুন।
জমি নামজারি ও খতিয়ানের পার্থক্য
নামজারি ও খতিয়ান দুটি ভিন্ন জিনিস। নামজারি হলো মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া। খতিয়ান হলো জমির রেকর্ড বই। নামজারি করলে খতিয়ান আপডেট হয়। খতিয়ানে মালিকের নাম ও জমির বিবরণ থাকে। নামজারি একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। খতিয়ান একটি সরকারি নথি। নামজারি করতে আবেদন ও ফি লাগে। খতিয়ান শুধু দেখা বা কপি নেওয়া যায়। উভয়ই জমির মালিকানা প্রমাণে জরুরি।
উপসংহার
জমির নামজারি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া যা প্রতিটি জমির মালিকের জানা উচিত। সঠিক নিয়মে নামজারি করলে আপনার মালিকানা সুরক্ষিত থাকবে। এই গাইডে আমরা নামজারির সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছি। অনলাইন পদ্ধতি ব্যবহার করলে সময় ও খরচ দুটোই বাঁচানো যায়। প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র আগে থেকে প্রস্তুত রাখুন। নামজারি করার পর অবশ্যই খতিয়ান চেক করুন। যেকোনো সমস্যায় ভূমি অফিসে যোগাযোগ করুন। সঠিক তথ্য ও সচেতনতা আপনার জমির অধিকার রক্ষা করবে। আশা করি এই গাইড আপনার জমির নামজারি প্রক্রিয়া সহজ করবে।
লেখকের নোট: এই গাইডে জমির নামজারি সম্পর্কে সব প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হয়েছে। আরও কোনো প্রশ্ন থাকলে স্থানীয় ভূমি অফিসে যোগাযোগ করুন বা land.gov.bd ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)
নামজারি করতে কত টাকা খরচ হয়?
জমির মূল্যায়নের ১% বা সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ফি লাগে। অনলাইন সেবা চার্জ আলাদা ১০০-৫০০ টাকা। কৃষি জমির ক্ষেত্রে ফি কম হয় ০.৫-১%।
নামজারি না করলে কী সমস্যা হতে পারে?
নামজারি না করলে খতিয়ানে আপনার নাম থাকবে না। ব্যাংক লোন পাবেন না। জমি বিক্রয়ে সমস্যা হবে। আইনি মালিকানা প্রমাণ করতে পারবেন না। ভবিষ্যতে বিরোধ হতে পারে।
অনলাইনে নামজারি করা কি নিরাপদ?
হ্যাঁ, অনলাইন নামজারি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সরকারি সেবা। land.gov.bd অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। এখানে ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে। আপনার তথ্য সুরক্ষিত থাকে।
নামজারি হতে কতদিন সময় লাগে?
স্বাভাবিকভাবে ৩০-৪৫ দিন সময় লাগে। অনলাইন আবেদন দ্রুত হয় ২০-৩০ দিনে। কাগজপত্র সঠিক থাকলে আরও দ্রুত হতে পারে।
উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারি কীভাবে করবো?
ওয়ারিশ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করুন চেয়ারম্যান বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে। মৃত ব্যক্তির মৃত্যু সনদ লাগবে। সব ওয়ারিশের তালিকা ও সম্মতিপত্র দিতে হবে। তারপর স্বাভাবিক নিয়মে আবেদন করুন।
নামজারি আবেদন বাতিল হলে কী করবো?
বাতিলের কারণ জানতে অফিসে যোগাযোগ করুন। সমস্যা সংশোধন করে নতুন আবেদন করুন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যোগ করুন। সঠিক তথ্য দিয়ে পুনরায় আবেদন করতে পারবেন।
খতিয়ান কোথায় পাবো?
land.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে ডাউনলোড করতে পারবেন। ভূমি অফিস থেকে সত্যায়িত কপি পাবেন। ইউনিয়ন ভূমি অফিসেও খতিয়ানের কপি পাওয়া যায়।
জমিতে মামলা থাকলে নামজারি হবে কি?
না, জমিতে মামলা থাকলে নামজারি হয় না। আগে মামলার নিষ্পত্তি করতে হবে। আদালত থেকে রায় পাওয়ার পর নামজারি করতে পারবেন। মামলা চলাকালীন সময়ে নামজারি বন্ধ থাকে।
রেজিস্ট্রির কতদিনের মধ্যে নামজারি করতে হয়?
রেজিস্ট্রির ৬ মাসের মধ্যে নামজারি করা উচিত। এটি বাধ্যতামূলক না হলেও যত দ্রুত সম্ভব করা ভালো। দেরি হলে জরিমানা বা অতিরিক্ত ফি লাগতে পারে।
নামজারি সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে কী করবো?
ভূমি অফিসে গিয়ে ডুপ্লিকেট কপির আবেদন করুন। জাতীয় পরিচয়পত্র ও একটি হলফনামা লাগবে। নির্ধারিত ফি দিয়ে ডুপ্লিকেট সার্টিফিকেট পেতে পারবেন। অনলাইনে থাকলে সেখান থেকেও ডাউনলোড করা যায়।
🔥 পোস্টটি শেয়ার করুনঃ 🌍






