শিশুদের সুস্থ রাখতে সঠিক খাবার খুব জরুরি। প্রতিটি মা-বাবা চান তাদের সন্তান পুষ্টিকর খাবার খাক। কিন্তু অনেক সময় বুঝতে পারেন না কোন খাবার দেবেন। আজকের এই লেখায় আমরা শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যকর রেসিপি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। এখানে পাবেন সহজ, পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু খাবারের আইডিয়া। ছোট বাচ্চা থেকে বড় শিশু সবার জন্য রেসিপি থাকবে এই লেখায়।
বাচ্চাদের খাবার রেসিপি

বাচ্চাদের খাবার তৈরি করা একটি বিশেষ দায়িত্ব। তাদের শরীর দ্রুত বাড়ে তাই পুষ্টি খুব প্রয়োজন। সঠিক খাবার শিশুর মস্তিষ্ক এবং শরীর দুটোই ভালো রাখে। ছোট বাচ্চারা প্রায়ই খাবার নিয়ে অনীহা দেখায়। তাই তাদের পছন্দের খাবার সুন্দরভাবে সাজিয়ে দিতে হয়। রঙিন এবং আকর্ষণীয় খাবার শিশুরা সহজে খায়। বাড়িতে তৈরি খাবার সবসময় বেশি নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর হয়। বাজারের প্যাকেট খাবার এড়িয়ে চলুন যতটা সম্ভব। প্রতিদিন নতুন রেসিপি চেষ্টা করলে শিশুরা খেতে আগ্রহী হয়। সহজ উপকরণ দিয়ে বানানো খাবার সবচেয়ে ভালো।
৬ মাসের বাচ্চার খাবার রেসিপি
ছয় মাস বয়সে শিশুরা প্রথম শক্ত খাবার খাওয়া শুরু করে। এই সময় তাদের পেট খুব নরম থাকে। তাই খুব সহজ ও নরম খাবার দিতে হয়। চালের গুঁড়ো দিয়ে পাতলা সুজি একটি ভালো শুরু। কলা ম্যাশ করে দিতে পারেন খুব সহজেই। আপেল সিদ্ধ করে পিউরি বানিয়ে দিন। সবজি সিদ্ধ করে ভালোভাবে থেতলে দিতে পারেন। গাজর এবং আলু মিশিয়ে পিউরি বানান। মিষ্টি কুমড়া সিদ্ধ করে ম্যাশ করুন। এই বয়সে লবণ এবং চিনি দেওয়া ঠিক নয়। দুধ ছাড়া অন্য খাবার ধীরে ধীরে বাড়ান। প্রথমে একবার তারপর দুইবার এভাবে দিন।
- চালের গুঁড়ো পাতলা সুজি তৈরি করে দিন।
- কলা ভালো করে ম্যাশ করুন।
- আপেল সিদ্ধ করে নরম পিউরি বানান।
- গাজর এবং আলু সিদ্ধ করে মিশিয়ে দিন।
- মিষ্টি কুমড়া রান্না করে থেতলে খাওয়ান।
১ বছরের বাচ্চার খাবার রেসিপি
এক বছর বয়সে শিশুরা আরও বেশি খাবার খেতে পারে। এই সময় তাদের দাঁত উঠতে শুরু করে। তাই একটু শক্ত খাবারও দিতে পারেন। খিচুড়ি শিশুদের জন্য খুব ভালো একটি খাবার। চাল, ডাল এবং সবজি মিশিয়ে খিচুড়ি রান্না করুন। ডিম সিদ্ধ করে ছোট টুকরো করে দিন। মাছ ভালো করে সিদ্ধ করে কাঁটা ছাড়িয়ে দিন। মুরগির মাংস সিদ্ধ করে ছোট টুকরো করুন। দই এবং কলা মিশিয়ে একটি সুস্বাদু খাবার বানান। সবজির স্যুপ খুব পুষ্টিকর এই বয়সের জন্য। নরম রুটি দুধে ভিজিয়ে দিতে পারেন। ফলের রস তাজা বানিয়ে খাওয়ান নিয়মিত।
২ বছরের শিশুর খাবার তালিকা
দুই বছর বয়সে শিশুরা পরিবারের সবার সাথে খেতে চায়। এই সময় তারা নিজে খেতে চেষ্টা করে। খাবারের তালিকা বৈচিত্র্যময় হওয়া জরুরি এই সময়। সকালে দুধ এবং কলা দিয়ে দিন শুরু করুন। দুপুরে ভাত, মাছ এবং সবজি দিন। বিকেলে ফল বা হালকা স্ন্যাক্স দিতে পারেন। রাতে রুটি, সবজি এবং ডাল খাওয়ান। প্রতিদিন ডিম রাখুন খাবারের তালিকায়। দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবার অবশ্যই দিন। পনির শিশুদের খুব পছন্দের একটি খাবার। সবুজ শাকসবজি নিয়মিত খাওয়ান আকর্ষণীয়ভাবে। মিষ্টি এবং ভাজাপোড়া খাবার কম দিন।
- সকালে দুধ এবং ফল অবশ্যই রাখুন।
- দুপুরে ভাত, ডাল এবং সবজি দিন।
- বিকেলে স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স খাওয়ান।
- রাতে হালকা খাবার দিন।
- প্রতিদিন ডিম এবং দুধ রাখুন তালিকায়।
শিশুদের পুষ্টিকর খাবার তালিকা
শিশুদের বেড়ে উঠতে নানা পুষ্টি উপাদান দরকার। প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল সবই জরুরি তাদের জন্য। ডিম একটি সম্পূর্ণ পুষ্টিকর খাবার শিশুদের জন্য। মাছে আছে ওমেগা থ্রি যা মস্তিষ্কের জন্য ভালো। দুধ এবং দই ক্যালসিয়াম দেয় হাড় মজবুত করতে। ফল এবং সবজি ভিটামিন দেয় প্রচুর পরিমাণে। ডাল এবং বাদাম প্রোটিনের ভালো উৎস। চাল এবং রুটি শক্তি দেয় সারাদিনের জন্য। পনির এবং ছানা শিশুদের খুব পছন্দের খাবার। মাংস এবং মুরগি আয়রন দেয় রক্তের জন্য। সবুজ শাক ভিটামিন এ এবং আয়রন দেয়।
| খাবার | পুষ্টি উপাদান | উপকারিতা |
| ডিম | প্রোটিন, ভিটামিন | মস্তিষ্ক ও শরীর বৃদ্ধি |
| মাছ | ওমেগা থ্রি, প্রোটিন | মস্তিষ্ক উন্নতি |
| দুধ | ক্যালসিয়াম, প্রোটিন | হাড় মজবুত |
| ফল | ভিটামিন, ফাইবার | রোগ প্রতিরোধ |
| সবজি | ভিটামিন, মিনারেল | সুস্বাস্থ্য |
| ডাল | প্রোটিন, আয়রন | শক্তি বৃদ্ধি |
শিশুদের সকালের নাস্তার রেসিপি
সকালের নাস্তা দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার শিশুদের জন্য। ভালো নাস্তা শিশুকে সারাদিন শক্তি দেয়। পরোটা দুধ দিয়ে ভিজিয়ে খাওয়াতে পারেন। ওটস দুধ দিয়ে রান্না করে ফল মিশান। সুজি রান্না করে সবজি যোগ করুন। ডিম পোচ বা অমলেট খুব ভালো নাস্তা। পনকেক বানিয়ে মধু দিয়ে দিতে পারেন। রুটি দিয়ে স্যান্ডউইচ বানান পনির দিয়ে। কর্নফ্লেক্স দুধে ভিজিয়ে ফল দিন। ডাল পুরি বানিয়ে দই দিয়ে খাওয়ান। কলার প্যানকেক শিশুরা খুব পছন্দ করে।
শিশুদের দুপুরের খাবারের আইডিয়া
দুপুরের খাবার হতে হবে পেট ভরা এবং পুষ্টিকর। এই সময় শিশুরা সবচেয়ে বেশি খেতে পারে। খিচুড়ি একটি সম্পূর্ণ খাবার দুপুরের জন্য। ভাত, ডাল এবং সবজি একসাথে দিন। মাছ ভাত দিয়ে খেতে শিশুরা পছন্দ করে। মুরগির মাংস সিদ্ধ করে দিতে পারেন। সবজির তরকারি রুটি দিয়ে দিন। পোলাও বানিয়ে দই দিয়ে পরিবেশন করুন। পাস্তা সবজি দিয়ে রান্না করুন। নুডলস মুরগি দিয়ে বানাতে পারেন। পনির দিয়ে পরোটা বানিয়ে দিন। ফ্রাইড রাইস সবজি দিয়ে বানান।
- খিচুড়ি পুষ্টিকর এবং সহজ খাবার।
- ভাত, মাছ এবং সবজি একসাথে দিন।
- রুটি, ডাল এবং তরকারি দিতে পারেন।
- পাস্তা বা নুডলস দিন মাঝেমধ্যে।
- পোলাও বানিয়ে দই দিয়ে খাওয়ান।
শিশুদের রাতের খাবারের রেসিপি
রাতের খাবার হালকা এবং সহজপাচ্য হওয়া উচিত। শিশুরা রাতে বেশি ভারী খাবার খেলে হজমে সমস্যা হয়। খিচুড়ি রাতের জন্য একটি আদর্শ খাবার। সুজি রান্না করে সবজি মিশিয়ে দিন। ডাল রুটি দিয়ে খাওয়াতে পারেন। সবজির স্যুপ এবং রুটি দিন। দই ভাত শিশুদের পছন্দের রাতের খাবার। পাস্তা হালকা করে সবজি দিয়ে বানান। ডিম পোচ এবং রুটি দিতে পারেন। সবজির তরকারি পরোটা দিয়ে খাওয়ান। দুধ দিয়ে সিরিয়াল দিতে পারেন রাতে। হালকা সুজির পায়েস বানিয়ে দিন।
স্কুলে নেওয়ার জন্য শিশুদের খাবার
স্কুলের টিফিন হতে হবে পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু। শিশুরা স্কুলে অন্য বাচ্চাদের সাথে তুলনা করে খায়। তাই টিফিন আকর্ষণীয়ভাবে প্যাক করুন। স্যান্ডউইচ খুব ভালো টিফিনের জন্য পনির দিয়ে। পরোটা রোল বানিয়ে সবজি দিয়ে পাঠান। পাস্তা সালাদ বানিয়ে ছোট বক্সে দিন। ফ্রুট সালাদ বানিয়ে মধু মিশিয়ে দিন। পোহা বানিয়ে বাদাম দিয়ে পাঠাতে পারেন। মুরি মিক্স বানিয়ে পাঠান পুষ্টিকর করে। কাটলেট বানিয়ে দিন সবজি দিয়ে। পনির টিক্কা বানিয়ে পাঠাতে পারেন। ডিমের রোল বানিয়ে দিন টিফিনে। ফল এবং বিস্কুট সাথে রাখুন সবসময়।
| টিফিন আইডিয়া | উপকরণ | সুবিধা |
| স্যান্ডউইচ | রুটি, পনির, সবজি | সহজে খাওয়া যায় |
| পরোটা রোল | পরোটা, আলু, সবজি | পেট ভরে |
| পাস্তা সালাদ | পাস্তা, সবজি | পুষ্টিকর |
| ফ্রুট সালাদ | ফল, মধু | ভিটামিন সমৃদ্ধ |
| পোহা | চিড়া, বাদাম | হালকা এবং স্বাস্থ্যকর |
সহজ ও স্বাস্থ্যকর বেবি ফুড রেসিপি
বেবি ফুড বানানো খুব সহজ এবং নিরাপদ ঘরে। বাজারের বেবি ফুড থেকে ঘরের খাবার ভালো। চালের গুঁড়ো দিয়ে পাতলা পোরিজ বানান। কলা ম্যাশ করে দুধ মিশিয়ে দিন। আপেল এবং গাজর সিদ্ধ করে পিউরি বানান। মিষ্টি কুমড়া এবং আলু মিশিয়ে খাবার তৈরি করুন। ডাল সিদ্ধ করে ভালোভাবে ব্লেন্ড করুন। সবজির স্যুপ বানিয়ে পাতলা করে দিন। দই এবং কলা মিশিয়ে একটি সুস্বাদু খাবার। ওটস দুধ দিয়ে রান্না করে ফল মিশান। ডিমের কুসুম সিদ্ধ করে ম্যাশ করে দিন। সুজি পাতলা করে রান্না করুন বেবি ফুড হিসেবে।
- চালের গুঁড়ো পোরিজ সহজ এবং পুষ্টিকর।
- ফল পিউরি বানিয়ে নিয়মিত দিন।
- সবজি সিদ্ধ করে ম্যাশ করুন।
- ডাল ব্লেন্ড করে পাতলা করে দিন।
- ওটস এবং দুধ মিশিয়ে খাওয়ান।
ঘরে তৈরি বেবি ফুড আইডিয়া
ঘরে বেবি ফুড বানালে তার গুণমান নিশ্চিত থাকে। তাজা উপকরণ ব্যবহার করুন সবসময় বেবি ফুডে। আলু এবং গাজর সিদ্ধ করে পিউরি তৈরি করুন। মুরগির মাংস সিদ্ধ করে ব্লেন্ড করে দিন। মাছ সিদ্ধ করে কাঁটা ছাড়িয়ে ম্যাশ করুন। কলা এবং আপেল মিশিয়ে পিউরি বানান। ডিম এবং দুধ দিয়ে কাস্টার্ড তৈরি করুন। সবুজ শাক সিদ্ধ করে পিউরি বানাতে পারেন। মিষ্টি আলু এবং কলা মিশিয়ে দিন। দই এবং ফল মিশিয়ে স্মুদি বানান। চালের পোরিজ ডাল দিয়ে রান্না করুন। সবজির খিচুড়ি বানিয়ে ম্যাশ করে দিন।
শিশুর ওজন বাড়ানোর খাবার
কিছু শিশুর ওজন কম থাকে বয়স অনুযায়ী। সঠিক খাবার দিয়ে তাদের ওজন বাড়ানো যায়। কলা এবং দুধ ওজন বাড়ায় খুব দ্রুত। ঘি এবং মাখন খাবারে যোগ করুন নিয়মিত। বাদাম গুঁড়ো করে দুধে মিশিয়ে দিন। আলু ভর্তা এবং ডিম একসাথে খাওয়ান। পনির এবং ছানা ওজন বাড়াতে সাহায্য করে। খেজুর এবং বাদাম মিশিয়ে পেস্ট বানান। মিষ্টি কুমড়া এবং ঘি দিয়ে রান্না করুন। মাংস এবং মুরগি নিয়মিত খাওয়ান শিশুকে। কলার শেক বানিয়ে মধু মিশিয়ে দিন। চাল এবং ডাল খিচুড়ি ঘি দিয়ে খাওয়ান।
| খাবার | পুষ্টি | কেন ওজন বাড়ায় |
| কলা | ক্যালরি, পটাসিয়াম | শক্তি দেয় |
| ঘি | ফ্যাট | ক্যালরি বেশি |
| বাদাম | প্রোটিন, ফ্যাট | পুষ্টি সমৃদ্ধ |
| ডিম | প্রোটিন | শরীর গঠন |
| দুধ | ক্যালসিয়াম, ফ্যাট | সম্পূর্ণ পুষ্টি |
| পনির | প্রোটিন, ফ্যাট | ওজন বৃদ্ধি |
শিশুদের জন্য ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার
ভিটামিন শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় মূলত। বিভিন্ন ফল এবং সবজিতে ভিটামিন থাকে প্রচুর পরিমাণে। কমলা এবং লেবুতে ভিটামিন সি থাকে বেশি। গাজর এবং মিষ্টি আলুতে ভিটামিন এ পাওয়া যায়। পালং শাক এবং ব্রকলি ভিটামিন কে দেয়। কলা এবং আলুতে ভিটামিন বি সিক্স থাকে। ডিমে ভিটামিন ডি এবং বি১২ পাওয়া যায়। টমেটো এবং মরিচে ভিটামিন সি থাকে ভালো পরিমাণে। বাদাম এবং সূর্যমুখী বীজে ভিটামিন ই আছে। দুধ এবং দই ভিটামিন ডি দেয় শরীরে। ফলের রস তাজা করে খাওয়ালে ভিটামিন ভালো পাওয়া যায়।
শিশুদের জন্য প্রোটিনসমৃদ্ধ রেসিপি
প্রোটিন শিশুদের শরীর গঠনে সবচেয়ে জরুরি উপাদান। পেশি এবং হাড় শক্তিশালী করতে প্রোটিন দরকার। ডিম প্রোটিনের সবচেয়ে ভালো উৎস শিশুদের জন্য। মাছ এবং মুরগি প্রোটিন দেয় প্রচুর পরিমাণে। ডাল প্রোটিনের উৎস শাকাহারী শিশুদের জন্য। পনির এবং ছানা প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার। বাদাম এবং চিনাবাদাম প্রোটিন দেয় ভালো পরিমাণে। দুধ এবং দই প্রোটিনের ভালো উৎস। সয়াবিন প্রোটিনের চমৎকার উৎস শিশুদের জন্য। মাংস এবং কলিজা প্রোটিন দেয় বেশি। ছোলা এবং মটরশুটি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার।
- ডিম রোজ খাওয়ান প্রোটিনের জন্য।
- মাছ এবং মুরগি সপ্তাহে কয়েকবার দিন।
- ডাল প্রতিদিন খাবারে রাখুন।
- পনির দিয়ে বিভিন্ন রেসিপি বানান।
- বাদাম স্ন্যাক্স হিসেবে দিন নিয়মিত।
শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর খাবার
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সঠিক খাবার খুব গুরুত্বপূর্ণ। শিশুরা সহজেই অসুস্থ হয়ে যায় দুর্বল রোগ প্রতিরোধ থাকলে। ভিটামিন সি যুক্ত ফল খাওয়ান নিয়মিত শিশুকে। রসুন এবং আদা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। হলুদ দুধ দিয়ে খাওয়ান ঠান্ডার সময়। মধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। দই খাওয়ালে পেটের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। গ্রিন টি শিশুদের জন্য ভালো রোগ প্রতিরোধে। বাদাম এবং বীজ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে। সবুজ শাক নিয়মিত খাওয়ান শিশুদের খাবারে। মাছ এবং ডিম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
শিশুর জন্য সহজ রান্না রেসিপি
ব্যস্ত মায়েদের জন্য সহজ রেসিপি খুব দরকারি। কম সময়ে পুষ্টিকর খাবার বানানো সম্ভব অনেক রকম। ডিম ভুর্জি বানাতে মাত্র পাঁচ মিনিট লাগে। সুজি রান্না করা খুবই সহজ এবং দ্রুত। খিচুড়ি একসাথে রান্না করা যায় প্রেসার কুকারে। পাস্তা সিদ্ধ করে সবজি মিশিয়ে দিন সহজেই। ওটস দুধে সিদ্ধ করুন এবং ফল যোগ করুন। ডাল ভাত মিশিয়ে ঘি দিয়ে খাওয়ান। রুটি দিয়ে স্যান্ডউইচ বানান তাড়াতাড়ি। কলা ম্যাশ করে দই মিশিয়ে দিন সহজভাবে। মুরি মিক্স বানিয়ে স্ন্যাক্স দিন দ্রুত। আলু সিদ্ধ করে ম্যাশ করে পরোটা দিয়ে দিন।
শিশুর পছন্দের সুস্বাদু খাবার
শিশুরা সুস্বাদু খাবার খেতে বেশি পছন্দ করে সবসময়। রঙিন এবং আকর্ষণীয় খাবার তাদের আগ্রহ বাড়ায়। পিজা শিশুদের খুব প্রিয় একটি খাবার। পাস্তা বিভিন্ন রকম সস দিয়ে বানান। পনকেক মধু দিয়ে খেতে শিশুরা পছন্দ করে। ফ্রেঞ্চ টোস্ট বানিয়ে দিন সকালের নাস্তায়। চকলেট শেক বানিয়ে দিতে পারেন মাঝেমধ্যে। ফ্রুট সালাদ সুন্দর করে সাজিয়ে দিন। আইসক্রিম ফল দিয়ে বানান ঘরে। কাটলেট এবং চপ খেতে শিশুরা ভালোবাসে। পরোটা রোল বিভিন্ন ফিলিং দিয়ে বানান। নুডলস বিভিন্ন স্বাদে রান্না করে দিন।
| খাবার | কেন পছন্দ | কীভাবে বানাবেন |
| পিজা | মজার টপিং | রুটিতে সস ও পনির |
| পাস্তা | রঙিন ও সুস্বাদু | সিদ্ধ করে সস মিশান |
| পনকেক | নরম ও মিষ্টি | ময়দা ডিম দুধ দিয়ে |
| ফ্রেঞ্চ টোস্ট | মজাদার | রুটি ডিমে ডুবিয়ে ভাজুন |
| ফ্রুট সালাদ | মিষ্টি ও তাজা | ফল কেটে মধু মিশান |
শিশুর জন্য ফলের রেসিপি
ফল শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী খাবার। তাজা ফল ভিটামিন এবং মিনারেল দেয় প্রচুর পরিমাণে। কলা শেক বানিয়ে দুধ দিয়ে খাওয়ান। আপেল কেটে দারচিনি গুঁড়ো দিয়ে দিন। আম পিউরি বানিয়ে দই মিশিয়ে খাওয়ান। পেঁপে কেটে মধু দিয়ে খেতে দিন। তরমুজ রস বানিয়ে তাজা খাওয়ান গরমে। স্ট্রবেরি এবং ব্লুবেরি দই দিয়ে মিশান। কমলার রস তাজা করে নিয়মিত দিন। আঙুর কেটে ফ্রুট সালাদ বানান সুন্দরভাবে। আনারস কেটে চাট মসলা দিয়ে দিতে পারেন। নাশপাতি সিদ্ধ করে পিউরি বানান ছোটদের জন্য।
- কলা শেক দুধ দিয়ে বানান পুষ্টিকর।
- আপেল কেটে সরাসরি খাওয়ান।
- ফলের রস তাজা করে তৈরি করুন।
- ফ্রুট সালাদ রঙিন করে সাজান।
- স্মুদি বানিয়ে দই মিশিয়ে দিন।
শিশুর জন্য দুধ দিয়ে খাবার রেসিপি
দুধ শিশুদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার বলা যায়। ক্যালসিয়াম এবং প্রোটিন দুধ থেকে পাওয়া যায়। দুধ দিয়ে খিচুড়ি রান্না করুন পুষ্টিকর করে। সুজি দুধে সিদ্ধ করে মিষ্টি করুন সামান্য। পায়েস বানিয়ে চাল দুধ দিয়ে খাওয়ান। পনকেক বানাতে দুধ ব্যবহার করুন ময়দার সাথে। কাস্টার্ড বানিয়ে ফল দিয়ে পরিবেশন করুন। দুধ ভাত বানিয়ে মিষ্টি করে খাওয়ান। রুটি দুধে ভিজিয়ে কলা দিয়ে দিন। ওটস দুধে রান্না করে ফল যোগ করুন। মিল্কশেক বিভিন্ন ফল দিয়ে বানিয়ে দিন। দই দুধ থেকে তৈরি এবং খুব উপকারী।
শিশুর জন্য সবজি দিয়ে রেসিপি
সবজি শিশুদের খাবারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ মূলত। ভিটামিন এবং ফাইবার সবজি থেকে পাওয়া যায়। গাজর এবং মটরশুটি দিয়ে তরকারি বানান। আলু এবং ফুলকপি দিয়ে সবজির ভাজা করুন। পালং শাক দিয়ে পরোটা বানিয়ে দিন মজাদার। টমেটো এবং পেঁয়াজ দিয়ে সবজির স্যুপ রান্না করুন। মিষ্টি কুমড়া দিয়ে ভর্তা বানান ভাত দিয়ে খাওয়ার জন্য। বিট এবং গাজর দিয়ে সালাদ বানান রঙিন। বেগুন এবং আলু দিয়ে তরকারি রান্না করুন। শিম এবং লাউ দিয়ে খিচুড়ি বানান পুষ্টিকর। ব্রকলি সিদ্ধ করে পনির দিয়ে মিশান। ক্যাপসিকাম দিয়ে পাস্তা বানিয়ে দিতে পারেন।
শিশুর ব্রেকফাস্টের আইডিয়া
সকালের নাস্তা শিশুদের দিনের শুরু করার শক্তি দেয়। পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু নাস্তা শিশুরা খেতে চায়। পরোটা এবং আলুর তরকারি দিয়ে নাস্তা করান। ওটস কুকিজ বানিয়ে দুধ দিয়ে দিন। ডিম টোস্ট বানিয়ে সকালে খাওয়াতে পারেন। সুজির উপমা বানিয়ে সবজি দিয়ে দিন। পোহা বানিয়ে বাদাম এবং মটরশুটি যোগ করুন। ইডলি বানিয়ে চাটনি দিয়ে পরিবেশন করুন। ডোসা বানিয়ে আলুর ফিলিং দিয়ে দিন। ব্রেড অমলেট বানিয়ে দ্রুত খাওয়ান। প্যারাটা রোল বানিয়ে পনির দিয়ে দিন। ফ্রুট পরিজ বানিয়ে মধু মিশিয়ে খাওয়ান।
- পরোটা এবং তরকারি সকালে দিন।
- ওটস বিভিন্নভাবে বানিয়ে খাওয়ান।
- ডিম সিদ্ধ বা অমলেট করে দিন।
- সুজি রান্না করে সবজি মিশান।
- ফল এবং দই একসাথে দিতে পারেন।
শিশুর জন্য পুষ্টিকর খিচুড়ি রেসিপি
খিচুড়ি শিশুদের জন্য একটি সম্পূর্ণ পুষ্টিকর খাবার। চাল এবং ডাল একসাথে রান্না করা সহজ। মুগ ডাল দিয়ে খিচুড়ি বানান হালকা করে। মসুর ডাল দিয়ে খিচুড়ি রান্না করুন দ্রুত। গাজর এবং মটরশুটি যোগ করুন খিচুড়িতে। আলু এবং ফুলকপি দিয়ে খিচুড়ি বানান সবজি দিয়ে। ঘি দিয়ে খিচুড়ি খাওয়ালে স্বাদ বাড়ে অনেক। হলুদ এবং জিরা দিয়ে খিচুড়ি রান্না করুন। মাছ দিয়ে খিচুড়ি বানাতে পারেন পুষ্টিকর করে। মুরগি দিয়ে খিচুড়ি রান্না করলে প্রোটিন বেশি পাওয়া যায়। ডিম দিয়ে খিচুড়ি বানিয়ে খাওয়াতে পারেন সহজে।
| খিচুড়ির ধরন | উপকরণ | পুষ্টি |
| সাধারণ খিচুড়ি | চাল, ডাল, ঘি | প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট |
| সবজি খিচুড়ি | চাল, ডাল, সবজি | ভিটামিন, ফাইবার |
| মাছ খিচুড়ি | চাল, ডাল, মাছ | ওমেগা থ্রি |
| মুরগি খিচুড়ি | চাল, ডাল, মুরগি | প্রোটিন |
| ডিম খিচুড়ি | চাল, ডাল, ডিম | সম্পূর্ণ পুষ্টি |
শিশুর জন্য ডিম দিয়ে রেসিপি
ডিম শিশুদের জন্য একটি আদর্শ খাবার বলা যায়। সম্পূর্ণ প্রোটিন এবং ভিটামিন ডিম থেকে পাওয়া যায়। ডিম সিদ্ধ করে খোসা ছাড়িয়ে দিন সহজভাবে। ডিম পোচ বানিয়ে রুটি দিয়ে খাওয়ান। অমলেট বানিয়ে সবজি মিশিয়ে দিন পুষ্টিকর করে। ডিম ভুর্জি বানিয়ে পরোটা দিয়ে পরিবেশন করুন। ডিমের কারি বানিয়ে ভাত দিয়ে খাওয়াতে পারেন। স্ক্র্যাম্বল এগ বানিয়ে টোস্ট দিয়ে দিন। ডিমের রোল বানিয়ে টিফিনে দিতে পারেন। ডিম দিয়ে পাস্তা বানিয়ে সুস্বাদু করুন। ফ্রেঞ্চ টোস্ট ডিম দিয়ে বানান সকালের নাস্তায়। ডিমের কাস্টার্ড বানিয়ে মিষ্টি হিসেবে দিন।
শিশুদের খাবারে কী থাকা উচিত
শিশুদের খাবারে সব ধরনের পুষ্টি থাকা জরুরি। সুষম খাবার শিশুদের সুস্থ রাখতে সাহায়তা করে মূলত। প্রোটিন থাকতে হবে শরীর গঠনের জন্য অবশ্যই। কার্বোহাইড্রেট শক্তি দেয় সারাদিনের কাজের জন্য। ভিটামিন এবং মিনারেল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ফাইবার হজমের জন্য খুবই দরকারি উপাদান। ক্যালসিয়াম হাড় এবং দাঁত মজবুত করে। আয়রন রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে শরীরে। ফ্যাট মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুর জন্য প্রয়োজন। পানি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে সবসময়। সব খাবার মিলিয়ে সুষম খাদ্য তালিকা তৈরি করুন।
শিশুর জন্য স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স রেসিপি

স্ন্যাক্স শিশুদের দুই বেলার খাবারের মাঝে শক্তি দেয়। স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স বেছে নিন শিশুদের জন্য সবসময়। ফলের টুকরো কেটে মধু দিয়ে দিন। বাদাম এবং কিশমিশ মিক্স করে দিন। পনির কিউব কেটে টমেটো সস দিয়ে দিন। ওটস কুকিজ বানিয়ে দুধ দিয়ে খাওয়ান। সবজির স্টিকস কেটে হামাস দিয়ে দিন। পোহা বানিয়ে বাদাম দিয়ে পরিবেশন করুন। কর্ন চাট বানিয়ে মাখন দিয়ে খাওয়ান। ফ্রুট স্মুদি বানিয়ে দই দিয়ে মিশান। মুরি মিক্স বানিয়ে বাদাম যোগ করুন। গাজরের হালুয়া বানিয়ে দিতে পারেন মাঝেমধ্যে।
- ফল কেটে স্ন্যাক্স হিসেবে রাখুন।
- বাদাম এবং শুকনো ফল মিশিয়ে দিন।
- ঘরে তৈরি কুকিজ বানান স্বাস্থ্যকর করে।
- সবজি স্টিকস দিয়ে ডিপ বানিয়ে দিন।
- দই এবং ফল মিশিয়ে স্মুদি তৈরি করুন।
বাচ্চাদের জন্য ঘরোয়া রেসিপি
ঘরে তৈরি খাবার সবসময় বেশি নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর। বাজারের তৈরি খাবারে কেমিকাল থাকে অনেক সময়। চাল এবং ডালের গুঁড়ো ঘরে তৈরি করুন। ফলের পিউরি তাজা ফল দিয়ে বানান। সবজির স্যুপ ঘরে রান্না করুন তাজা উপকরণ দিয়ে। খিচুড়ি ঘরে তৈরি করা সহজ এবং পুষ্টিকর। পরোটা ঘরে বানান ময়দা এবং ঘি দিয়ে। পনকেক ঘরে তৈরি করলে বেশি স্বাস্থ্যকর হয়। কুকিজ বানান ঘরে কম চিনি দিয়ে। স্ন্যাক্স ঘরে তৈরি করুন স্বাস্থ্যকর উপকরণ দিয়ে। পায়েস এবং হালুয়া ঘরে বানিয়ে খাওয়ান।
শিশুর জন্য সহজ রান্না খাবার
সহজ রান্না করা খাবার মায়েদের সময় বাঁচায় অনেক। কম উপকরণ দিয়ে পুষ্টিকর খাবার তৈরি করা যায়। ডাল ভাত খুব সহজ এবং পুষ্টিকর খাবার। খিচুড়ি একসাথে রান্না করা যায় সহজেই প্রেসার কুকারে। ডিম সিদ্ধ করতে মাত্র দশ মিনিট লাগে। সুজি রান্না করা খুব দ্রুত এবং সহজ। পাস্তা সিদ্ধ করে সস মিশিয়ে দিন দ্রুত। সবজি সিদ্ধ করে ম্যাশ করুন সহজভাবে। দই এবং ফল মিশিয়ে দ্রুত খাবার তৈরি করুন। ওটস দুধে সিদ্ধ করুন কয়েক মিনিটে। রুটি দিয়ে রোল বানান সবজি দিয়ে তাড়াতাড়ি।
| রেসিপি | সময় | উপকরণ |
| ডাল ভাত | ২০ মিনিট | চাল, ডাল |
| খিচুড়ি | ১৫ মিনিট | চাল, ডাল, সবজি |
| ডিম সিদ্ধ | ১০ মিনিট | ডিম |
| সুজি | ১০ মিনিট | সুজি, দুধ |
| পাস্তা | ১৫ মিনিট | পাস্তা, সস |
শিশুর খাবারে কীভাবে বৈচিত্র আনবেন
খাবারে বৈচিত্র থাকলে শিশুরা খেতে আগ্রহী হয় বেশি। একই খাবার বারবার দিলে শিশুরা বিরক্ত হয়। প্রতিদিন নতুন রেসিপি চেষ্টা করুন সম্ভব হলে। খাবার রঙিন এবং আকর্ষণীয় করে সাজান সবসময়। বিভিন্ন সবজি মিশিয়ে খাবার বানান নিয়মিত। ফল বিভিন্নভাবে কেটে পরিবেশন করুন প্রতিদিন। একই উপকরণ দিয়ে ভিন্ন রেসিপি তৈরি করুন। খাবারের আকার পরিবর্তন করে দিন মাঝেমধ্যে। বিভিন্ন মসলা ব্যবহার করে স্বাদ বদলান সামান্য। নতুন খাবার ছোট পরিমাণে দিয়ে শুরু করুন। শিশুকে খাবার তৈরিতে যুক্ত করুন যখন সম্ভব।
শিশুর খাবারের সময়সূচি ও তালিকা
সঠিক সময়সূচি মেনে খাবার দিলে শিশুরা সুস্থ থাকে। নির্দিষ্ট সময়ে খাবার দেওয়ার অভ্যাস করুন শিশুকে। সকাল আট থেকে নয়টায় ব্রেকফাস্ট দিন নিয়মিত। দুপুর বারোটা থেকে একটায় লাঞ্চ খাওয়ান। বিকেল চারটায় হালকা স্ন্যাক্স দিতে পারেন। সন্ধ্যা সাতটায় ডিনার খাওয়ান শিশুকে নিয়মিত। রাতে ঘুমানোর আগে দুধ দিন অবশ্যই। দুই বেলার খাবারের মাঝে স্ন্যাক্স দিন হালকা। খাবারের মাঝে অন্তত দুই ঘণ্টা ফাঁক রাখুন। পানি নিয়মিত খাওয়ান সারাদিন জুড়ে। খাবার খাওয়ার সময় টিভি বন্ধ রাখুন সবসময়।
শিশুর খাবার সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি
খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা খুব জরুরি শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য। তাজা খাবার বানিয়ে খাওয়ানো সবচেয়ে ভালো সবসময়। খাবার এয়ারটাইট কন্টেইনারে রাখুন ফ্রিজে সংরক্ষণের জন্য। রান্না করা খাবার দুই দিনের বেশি রাখবেন না। ফ্রিজে রাখার আগে খাবার ঠান্ডা করে নিন। ফলের পিউরি ছোট কন্টেইনারে ভাগ করে রাখুন। শুকনো খাবার এয়ারটাইট জারে সংরক্ষণ করুন ভালোভাবে। ফ্রিজার ব্যাগে খাবার রাখলে লেবেল লাগান তারিখ দিয়ে। গরম খাবার ফ্রিজে রাখবেন না কখনোই সরাসরি। খাবার গরম করার সময় ভালোভাবে গরম করুন পুরোটা। বাসি খাবার শিশুকে কখনো খাওয়াবেন না একদমই।
উপসংহার
শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যকর রেসিপি তৈরি করা কঠিন কিছু নয় মোটেই। সঠিক খাবার শিশুদের শারীরিক এবং মানসিক বিকাশে সাহায্য করে। পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু খাবার শিশুরা আনন্দের সাথে খায়। ঘরে তৈরি খাবার সবসময় বাজারের খাবার থেকে ভালো। বৈচিত্র্যময় খাবার শিশুদের খাওয়ার আগ্রহ বাড়ায় প্রচুর পরিমাণে। প্রতিটি বয়সের জন্য আলাদা খাবার তালিকা তৈরি করুন। সঠিক সময়ে খাবার দিলে শিশুরা সুস্থ থাকে সবসময়। খাবার সুন্দর করে সাজিয়ে পরিবেশন করুন শিশুদের জন্য। মা-বাবার ভালোবাসা এবং যত্ন খাবারে প্রকাশ পায় মূলত। শিশুদের পছন্দ বুঝে খাবার তৈরি করুন নিয়মিত ভিত্তিতে। স্বাস্থ্যকর খাওয়ার অভ্যাস ছোটবেলা থেকে গড়ে তুলুন অবশ্যই। প্রতিটি শিশু অনন্য তাই তাদের পছন্দও আলাদা হয়। ধৈর্য ধরে শিশুকে নতুন খাবার খাওয়ার অভ্যাস করান। খাবার নিয়ে জোর করবেন না কখনোই শিশুর উপর। খাবারের সময় হাসি খুশি পরিবেশ বজায় রাখুন সবসময়। সুস্থ শিশুই জাতির ভবিষ্যৎ এবং আশা আমাদের।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী(FAQs)
শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যকর রেসিপি কেন জরুরি?
শিশুদের শরীর দ্রুত বৃদ্ধি পায় তাই পুষ্টি খুব প্রয়োজন। সঠিক খাবার মস্তিষ্ক এবং শরীর দুটোই ভালো রাখে। স্বাস্থ্যকর খাবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় শিশুদের। ছোটবেলার খাবার অভ্যাস সারাজীবন থেকে যায় প্রায়শই। পুষ্টিকর খাবার শিশুকে শারীরিক এবং মানসিকভাবে সুস্থ রাখে। প্রতিদিন সুষম খাবার দিলে শিশুর বিকাশ ভালো হয়।
৬ মাসের বাচ্চার খাবার রেসিপি কী দেব?
ছয় মাস বয়সে শিশুরা প্রথম শক্ত খাবার খায়। চালের গুঁড়ো পাতলা সুজি একটি ভালো শুরু। কলা ম্যাশ করে দিতে পারেন খুব সহজেই। আপেল এবং গাজর সিদ্ধ করে পিউরি বানান। এই বয়সে লবণ এবং চিনি দেবেন না। খুব নরম এবং পাতলা খাবার দিন শুরুতে। ধীরে ধীরে খাবারের পরিমাণ বাড়ান নিয়মিত ভাবে।
শিশুর ওজন বাড়ানোর খাবার কী কী?
কলা এবং দুধ ওজন বাড়ায় খুব দ্রুত। ঘি এবং মাখন খাবারে যোগ করুন নিয়মিত ভাবে। বাদাম গুঁড়ো করে দুধে মিশিয়ে দিন প্রতিদিন। পনির এবং ছানা ওজন বাড়াতে সাহায্য করে অনেক। খেজুর এবং বাদাম মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে খাওয়ান। ডিম এবং মাংস নিয়মিত খাওয়ান শিশুকে নিয়মিত। পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত দিলে ওজন স্বাভাবিক হয়।
শিশুদের সকালের নাস্তার রেসিপি কী দেব?
সকালের নাস্তা পুষ্টিকর এবং শক্তিদায়ক হওয়া উচিত। পরোটা দুধ দিয়ে ভিজিয়ে খাওয়াতে পারেন সহজে। ওটস দুধ দিয়ে রান্না করে ফল মিশান। ডিম পোচ বা অমলেট খুব ভালো নাস্তা। পনকেক বানিয়ে মধু দিয়ে দিতে পারেন মজাদার। সুজি রান্না করে সবজি যোগ করুন পুষ্টির জন্য। বৈচিত্র্যময় নাস্তা শিশুরা আগ্রহ নিয়ে খায় সবসময়।
স্কুলে নেওয়ার জন্য শিশুদের খাবার কী দেব?
স্কুলের টিফিন পুষ্টিকর এবং আকর্ষণীয় হতে হবে। স্যান্ডউইচ পনির দিয়ে বানিয়ে দিতে পারেন সহজেই। পরোটা রোল বানিয়ে সবজি দিয়ে পাঠান সুন্দরভাবে। পাস্তা সালাদ বানিয়ে ছোট বক্সে দিন টিফিনে। ফ্রুট সালাদ বানিয়ে মধু মিশিয়ে দিন মিষ্টি করে। পোহা বানিয়ে বাদাম দিয়ে পাঠাতে পারেন পুষ্টিকর করে। টিফিন সুন্দর করে প্যাক করুন আকর্ষণীয় ভাবে।
শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর খাবার কী?
ভিটামিন সি যুক্ত ফল খাওয়ান নিয়মিত শিশুকে। রসুন এবং আদা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অনেক। হলুদ দুধ দিয়ে খাওয়ান ঠান্ডার সময়ে প্রতিদিন। মধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে খুব। দই খাওয়ালে পেটের স্বাস্থ্য ভালো থাকে নিয়মিত। বাদাম এবং বীজ খাওয়ান শক্তি বাড়ানোর জন্য। সবুজ শাক এবং মাছ নিয়মিত খাওয়ান অবশ্যই।
শিশুদের খাবারে কী কী পুষ্টি থাকা উচিত?
শিশুদের খাবারে প্রোটিন থাকতে হবে শরীর গঠনের জন্য। কার্বোহাইড্রেট শক্তি দেয় সারাদিনের কাজের জন্য প্রয়োজনীয়। ভিটামিন এবং মিনারেল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অনেক। ক্যালসিয়াম হাড় এবং দাঁত মজবুত করে শিশুদের। আয়রন রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে শরীরে প্রচুর। ফাইবার হজমের জন্য খুবই দরকারি উপাদান খাবারে। সুষম খাবারে সব পুষ্টি থাকে একসাথে প্রয়োজন অনুযায়ী।
শিশুর খিচুড়ি কীভাবে বানাব পুষ্টিকর করে?
চাল এবং ডাল একসাথে ধুয়ে নিন ভালোভাবে। সবজি যোগ করুন গাজর আলু এবং মটরশুটি দিয়ে। হলুদ এবং সামান্য লবণ দিয়ে রান্না করুন। ঘি দিয়ে খিচুড়ি খাওয়ালে স্বাদ বাড়ে অনেক বেশি। প্রেসার কুকারে রান্না করলে সময় কম লাগে সহজেই। নরম করে রান্না করুন শিশুর বয়স অনুযায়ী। খিচুড়ি একটি সম্পূর্ণ খাবার শিশুদের জন্য আদর্শভাবে।
শিশুকে সবজি খাওয়াতে না চাইলে কী করব?
সবজি রঙিন এবং আকর্ষণীয় করে সাজিয়ে দিন। বিভিন্ন আকারে কেটে মজার করে পরিবেশন করুন। পছন্দের খাবারে সবজি লুকিয়ে দিতে পারেন সহজে। পরোটায় সবজি ভরে বানিয়ে দিন সুস্বাদুভাবে। পাস্তা এবং পিজায় সবজি দিয়ে মজাদার করুন। নিজে সবজি খান শিশুর সামনে উদাহরণ হিসেবে। জোর করবেন না বরং ধৈর্য ধরে অভ্যাস করান।
শিশুর খাবার কীভাবে সংরক্ষণ করব সঠিকভাবে?
তাজা খাবার বানিয়ে খাওয়ানো সবচেয়ে ভালো সবসময়ই। খাবার এয়ারটাইট কন্টেইনারে রাখুন ফ্রিজে সংরক্ষণের সময়। রান্না করা খাবার দুই দিনের বেশি রাখবেন না কখনো। ফ্রিজে রাখার আগে খাবার ঠান্ডা করে নিন ভালোভাবে। গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে রাখবেন না একদম। লেবেল লাগান তারিখ দিয়ে কন্টেইনারে সবসময়। বাসি খাবার শিশুকে খাওয়াবেন না কোনো অবস্থাতেই।
২ বছরের শিশুর খাবার তালিকা কেমন হবে?
দুই বছরে শিশুরা পরিবারের সবার সাথে খেতে পারে। সকালে দুধ এবং কলা দিয়ে দিন শুরু করুন। দুপুরে ভাত ডাল মাছ এবং সবজি দিন পুষ্টিকর। বিকেলে ফল বা হালকা স্ন্যাক্স দিতে পারেন সহজে। রাতে রুটি সবজি এবং ডাল খাওয়ান শিশুকে। প্রতিদিন ডিম এবং দুধ রাখুন তালিকায় অবশ্যই। বৈচিত্র্যময় খাবার দিন নিয়মিত প্রতিদিন আলাদা আলাদা।
শিশুর জন্য ডিম কীভাবে রান্না করব?
ডিম সিদ্ধ করে খোসা ছাড়িয়ে দিন সহজভাবে। ডিম পোচ বানিয়ে রুটি দিয়ে খাওয়াতে পারেন। অমলেট বানিয়ে সবজি মিশিয়ে দিন পুষ্টিকর করে। ডিম ভুর্জি বানিয়ে পরোটা দিয়ে পরিবেশন করুন মজাদার। স্ক্র্যাম্বল এগ বানিয়ে টোস্ট দিয়ে দিতে পারেন। ডিমের কারি বানিয়ে ভাত দিয়ে খাওয়ান শিশুকে। ডিম সম্পূর্ণ পুষ্টিকর খাবার শিশুদের জন্য আদর্শ সবসময়।
শিশুদের জন্য ফল কীভাবে খাওয়াব?
তাজা ফল সবসময় সবচেয়ে ভালো শিশুদের জন্য। ফল কেটে সুন্দর করে সাজিয়ে দিন আকর্ষণীয়ভাবে। ফলের রস তাজা করে বানিয়ে খাওয়ান শিশুকে। ফ্রুট সালাদ বানিয়ে মধু মিশিয়ে দিন মিষ্টি করে। স্মুদি বানিয়ে দই মিশিয়ে দিতে পারেন পুষ্টিকর। মৌসুমি ফল খাওয়ান সবসময় বেশি পুষ্টিকর হয়। প্রতিদিন ভিন্ন ফল দিন বৈচিত্র্যের জন্য নিয়মিত।
শিশুর খাবারে দুধ কেন জরুরি?
দুধে ক্যালসিয়াম থাকে যা হাড় মজবুত করে। প্রোটিন দুধ থেকে পাওয়া যায় প্রচুর পরিমাণে। ভিটামিন ডি এবং বি১২ দুধে থাকে শিশুদের জন্য। দুধ সম্পূর্ণ খাবার শিশুদের বৃদ্ধির জন্য আদর্শ। রাতে ঘুমানোর আগে দুধ খাওয়ান নিয়মিত ভাবে। দুধ দিয়ে বিভিন্ন রেসিপি বানাতে পারেন সুস্বাদু। প্রতিদিন দুধ খাওয়ান শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য অবশ্যই।
শিশুর জন্য স্ন্যাক্স কী দেব স্বাস্থ্যকর?
ফলের টুকরো কেটে মধু দিয়ে দিতে পারেন। বাদাম এবং কিশমিশ মিক্স করে দিন পুষ্টিকর। পনির কিউব কেটে টমেটো সস দিয়ে দিন মজাদার। ওটস কুকিজ বানিয়ে দুধ দিয়ে খাওয়ান ঘরে। সবজির স্টিকস কেটে হামাস দিয়ে দিতে পারেন। পোহা বানিয়ে বাদাম দিয়ে পরিবেশন করুন সহজে। ঘরে তৈরি স্ন্যাক্স সবচেয়ে ভালো এবং নিরাপদ সবসময়।
🔥 পোস্টটি শেয়ার করুনঃ 🌍






