ইসলামের ইতিহাসে হযরত উমর ফারুক (রা:) একজন অনন্য ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন ন্যায়বিচারের প্রতীক। তাঁর জীবন থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারি। আজকের এই লেখায় আমরা তাঁর সম্পূর্ণ জীবন নিয়ে আলোচনা করব।
হযরত উমর ফারুক (রা:) এর জীবনী

হযরত উমর ফারুক (রা:) ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা। তিনি ৫৮৩ খ্রিস্টাব্দে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল খাত্তাব ইবনে নুফাইল। তিনি কুরাইশ বংশের আদি গোত্রের সদস্য ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন শক্তিশালী এবং সাহসী।
উমর (রা:) শৈশবে উটের রাখাল ছিলেন। তিনি কুস্তি এবং তীরন্দাজিতে দক্ষ ছিলেন। পড়াশোনায়ও তিনি ছিলেন পারদর্শী। মক্কার মানুষ তাঁকে সম্মান করত। তিনি ছিলেন দৃঢ় চরিত্রের অধিকারী।
ইসলাম আসার আগে তিনি মূর্তিপূজা করতেন। কিন্তু তাঁর হৃদয় ছিল সত্য খোঁজার জন্য উন্মুখ। আল্লাহ তাঁকে হেদায়েত দান করেন। তিনি হয়ে ওঠেন ইসলামের এক মহান রক্ষক।
হযরত উমর ফারুক (রা:) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী
উমর (রা:) ৬৩৪ থেকে ৬৪৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত খলিফা ছিলেন। তাঁর শাসনকাল ছিল দশ বছরের। এই সময়ে ইসলামী রাষ্ট্র ব্যাপক বিস্তার লাভ করে। তিনি ছিলেন একজন আদর্শ শাসক।
তাঁর জীবন ছিল সরল এবং সাদামাটা। তিনি নিজের হাতে কাজ করতেন। রাতে গোপনে দরিদ্রদের সাহায্য করতেন। তাঁর ন্যায়বিচার ছিল কিংবদন্তিতুল্য। সবাই তাঁকে ভয় এবং ভালোবাসত।
উমর (রা:) ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী। তিনি প্রজাদের সেবক মনে করতেন। তাঁর খেলাফতকালে মানুষ শান্তিতে বসবাস করত। অপরাধের হার কমে গিয়েছিল। এটি ছিল স্বর্ণযুগ।
হযরত উমর ফারুক (রা:) এর জীবনী pdf
অনেকে উমর (রা:) এর জীবনী pdf আকারে খোঁজেন। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে এই বই পাওয়া যায়। তাঁর জীবনী পড়া প্রতিটি মুসলিমের উচিত। এতে অনেক শিক্ষা রয়েছে।
জীবনী বইতে তাঁর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব তথ্য থাকে। তাঁর বীরত্বের গল্প থাকে। ন্যায়বিচারের উদাহরণ থাকে। প্রশাসনিক সংস্কারের বর্ণনা থাকে। এসব পড়লে মন ভরে যায়।
কিছু বিখ্যাত লেখক উমর (রা:) এর ওপর বই লিখেছেন। আল্লামা শিবলী নোমানীর বই খুবই জনপ্রিয়। মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভীর লেখাও চমৎকার। এসব বই থেকে আমরা অনেক কিছু জানতে পারি।
বিখ্যাত জীবনী গ্রন্থসমূহ:
- আল-ফারুক (আল্লামা শিবলী নোমানী রচিত)
- খলিফা উমর ফারুক (ড. আলী মুহাম্মদ সাল্লাবীর লেখা)
- উমর ইবনুল খাত্তাব (মাওলানা আবুল হাসান রচিত)
- ফারুকে আযম (বাংলা অনুবাদ সংস্করণ)
- হযরত উমর (রা:) জীবন ও কর্ম (মাওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম)
হযরত উমর ফারুক (রা:) এর জীবনী বাংলা
বাংলা ভাষায় উমর (রা:) এর জীবনী অনেক আছে। বাংলাদেশ এবং ভারতের লেখকরা এ নিয়ে লিখেছেন। এই বইগুলো সহজ ভাষায় লেখা। যে কেউ পড়তে পারে।
বাংলা জীবনীতে তাঁর সব দিক তুলে ধরা হয়। শৈশব থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত। তাঁর পারিবারিক জীবন নিয়েও লেখা থাকে। তাঁর সন্তানদের কথা থাকে। স্ত্রীদের বিবরণ থাকে।
এসব বই পড়লে আমরা আদর্শ জীবন সম্পর্কে জানতে পারি। কীভাবে একজন নেতা হতে হয় তা শিখি। ন্যায়বিচার করার পদ্ধতি বুঝি। সরলতার মাহাত্ম্য উপলব্ধি করি।
হযরত উমর ফারুক (রা:) এর শৈশব জীবন
উমর (রা:) এর শৈশব ছিল কঠিন পরিশ্রমের। তিনি তাঁর পিতার উটের পাল দেখাশোনা করতেন। মরুভূমিতে একাকী সময় কাটাতেন। এই সময় তাঁর চরিত্র গঠন হয়।
ছোটবেলায় তিনি ছিলেন খুবই শক্তিশালী। কুস্তি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন। তীর চালনায় দক্ষ ছিলেন। তরবারি চালাতেও পারদর্শী ছিলেন। শারীরিক শক্তিতে তিনি ছিলেন অতুলনীয়।
তাঁর পিতা খাত্তাব ছিলেন কঠোর প্রকৃতির মানুষ। তিনি উমরকে কঠোর শাসনে রেখেছিলেন। এতে উমর (রা:) হয়েছিলেন শৃঙ্খলাবদ্ধ। তাঁর ব্যক্তিত্ব হয়েছিল দৃঢ়। এই গুণ পরবর্তীতে তাঁকে মহান করেছে।
শৈশবের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য:
- উট পালনের দায়িত্ব পালন
- কুস্তি ও তীরন্দাজিতে পারদর্শিতা
- পড়াশোনায় মনোযোগী ছাত্র
- শক্তিশালী শারীরিক গঠন
- কঠোর পরিশ্রমী স্বভাব
হযরত উমর ফারুক (রা:) এর ইসলাম গ্রহণ
উমর (রা:) ইসলাম গ্রহণের ঘটনা অত্যন্ত নাটকীয়। তিনি প্রথমে ইসলামের কঠোর বিরোধী ছিলেন। তিনি মুসলমানদের নির্যাতন করতেন। তাঁর ভয়ে মুসলমানরা কাঁপত।
একদিন তিনি রাসূল (সা:) কে হত্যার সংকল্প নিয়ে বের হন। পথে এক ব্যক্তি তাঁকে জানায় তাঁর বোন ইসলাম গ্রহণ করেছে। এতে তিনি রাগান্বিত হয়ে বোনের বাড়িতে যান।
সেখানে তিনি কুরআন তিলাওয়াত শুনেন। কুরআনের আয়াত তাঁর হৃদয়ে আঘাত করে। তিনি কুরআন পড়তে চান। বোন তাঁকে পবিত্র হতে বলেন। তিনি গোসল করে কুরআন পড়েন। কুরআনের বাণী তাঁকে বদলে দেয়। তিনি সঙ্গে সঙ্গে ইসলাম গ্রহণ করেন।
উমর ফারুক (রা:) কেন ফারুক নামে পরিচিত
উমর (রা:) কে ফারুক উপাধি দিয়েছিলেন স্বয়ং রাসূল (সা:)। ফারুক শব্দের অর্থ হলো সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী। তিনি সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সর্বদা দাঁড়াতেন।
ইসলাম গ্রহণের পর তিনি প্রকাশ্যে ইবাদত করতে শুরু করেন। তাঁর শক্তির ভয়ে কাফেররা বাধা দিতে সাহস পেত না। তিনি মুসলমানদের প্রকাশ্যে নামাজ পড়ার সুযোগ করে দেন। এভাবে তিনি সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করেন।
তাঁর বিচার ছিল সবসময় ন্যায়সঙ্গত। তিনি কখনো অন্যায়ের সাথে আপস করতেন না। ধনী-দরিদ্র সবার সাথে সমান আচরণ করতেন। এজন্যই তিনি ফারুক নামে বিখ্যাত হয়েছেন।
| উপাধি | অর্থ | প্রদানকারী | কারণ |
| ফারুক | সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী | রাসূল (সা:) | ন্যায়বিচার ও সত্যের পক্ষে দৃঢ়তা |
| আমিরুল মুমিনীন | বিশ্বাসীদের নেতা | মুসলিম উম্মাহ | খলিফা হিসেবে দায়িত্ব পালন |
| খলিফাতুর রাসূল | রাসূলের প্রতিনিধি | সাহাবীগণ | রাসূল (সা:) এর পথে পরিচালনা |
হযরত উমর ফারুক (রা:) এর খিলাফত
৬৩৪ খ্রিস্টাব্দে হযরত আবু বকর (রা:) এর মৃত্যুর পর উমর (রা:) খলিফা হন। তিনি ছিলেন দ্বিতীয় খলিফা। তাঁর খিলাফত ছিল দশ বছরের। এই সময় ইসলামী সাম্রাজ্য অনেক বিস্তৃত হয়।
তিনি খলিফা হতে চাননি। কিন্তু আবু বকর (রা:) তাঁকে মনোনীত করেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর বলেন এটি একটি বোঝা। তিনি আল্লাহর কাছে সাহায্য চান। তিনি প্রজাদের সেবা করার শপথ নেন।
খিলাফতকালে তিনি অসংখ্য সংস্কার করেন। প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। বিচার ব্যবস্থা উন্নত করেন। অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেন। শিক্ষার প্রসার ঘটান। এসব কাজে তিনি ছিলেন অগ্রণী।
খিলাফতকালীন প্রধান কাজসমূহ:
- হিজরি সন প্রবর্তন
- বায়তুলমাল (রাষ্ট্রীয় কোষাগার) প্রতিষ্ঠা
- বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ
- পুলিশ বাহিনী গঠন
- রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সম্প্রসারণ
হযরত উমর ফারুক (রা:) এর শাসনকাল
উমর (রা:) এর শাসনকাল ছিল ইসলামের স্বর্ণযুগ। তাঁর সময়ে সাম্রাজ্য বিস্তৃত হয়। পারস্য এবং রোম সাম্রাজ্যের অংশ মুসলমানরা জয় করে। মিসর, সিরিয়া, ইরাক এসব এলাকা জয় হয়।
তিনি শাসন করতেন ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে। তাঁর দরবারে সবাই সমান ছিল। কোনো বৈষম্য ছিল না। ধনী-গরিবের মধ্যে পার্থক্য ছিল না। তিনি নিজে ছিলেন অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপনকারী।
তাঁর শাসনামলে অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয়। দারিদ্র্য কমে যায়। মানুষ সুখে-শান্তিতে বাস করে। অপরাধ প্রায় নেই বলতে গেলে। রাতে দরজা খোলা রেখে ঘুমানো যেত। এমন নিরাপত্তা ছিল।
হযরত উমর ফারুক (রা:) এর ন্যায়বিচার
উমর (রা:) এর ন্যায়বিচার ছিল কিংবদন্তিতুল্য। তিনি কখনো অন্যায় বিচার করতেন না। তাঁর সামনে সবাই ছিল সমান। খলিফা হয়েও তিনি নিজেকে সাধারণ মানুষ মনে করতেন।
একবার মিসরের গভর্নরের ছেলে এক কিবতি যুবককে মারে। যুবক উমর (রা:) এর কাছে অভিযোগ করে। তিনি গভর্নর এবং তাঁর ছেলেকে ডেকে পাঠান। তিনি যুবককে বলেন গভর্নরের ছেলেকে মারতে। এভাবে তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন।
অন্য একটি ঘটনায় এক ইহুদি তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে। তিনি বিচারকের সামনে সাধারণ বাদীর মতো দাঁড়ান। বিচারক তাঁকে বসতে বলেন। তিনি বলেন না এতে বৈষম্য হবে। এমন ছিল তাঁর ন্যায়পরায়ণতা।
ন্যায়বিচারের উল্লেখযোগ্য ঘটনা:
- মিসরের গভর্নরের ছেলের বিচার
- ইহুদির সাথে সমতা বজায় রাখা
- নিজ পুত্রদের শাস্তি প্রদান
- দাসী ও মনিবের সমান অধিকার
- দরিদ্র ও ধনীর মধ্যে কোনো পার্থক্য না করা
হযরত উমর ফারুক (রা:) এর অবদান
উমর (রা:) এর অবদান অসংখ্য। তিনি হিজরি সন চালু করেন। এটি মুসলমানদের নিজস্ব বর্ষপঞ্জি। তিনি বাইতুল মাল প্রতিষ্ঠা করেন। এটি রাষ্ট্রীয় কোষাগার।
তিনি পুলিশ বিভাগ চালু করেন। বিচার বিভাগকে আলাদা করেন। রাস্তাঘাট নির্মাণ করেন। খাল খনন করেন। মসজিদ ও স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। এসব কাজ ছিল যুগান্তকারী।
তিনি প্রশাসনিক বিভাগ তৈরি করেন। প্রদেশ ভাগ করেন। গভর্নর নিয়োগ দেন। সেনাবাহিনীকে সংগঠিত করেন। এসব সংস্কার আজও অনুসরণ করা হয়।
| বিভাগ | প্রতিষ্ঠাকাল | উদ্দেশ্য | বর্তমান প্রভাব |
| হিজরি সন | ৬৩৮ খ্রি: | মুসলিম বর্ষপঞ্জি | সারা বিশ্বে ব্যবহৃত |
| বাইতুল মাল | ৬৩৫ খ্রি: | রাষ্ট্রীয় কোষাগার | আধুনিক ট্রেজারির ভিত্তি |
| পুলিশ বিভাগ | ৬৩৮ খ্রি: | আইনশৃঙ্খলা রক্ষা | আধুনিক পুলিশ ব্যবস্থার মূল |
| বিচার বিভাগ | ৬৩৬ খ্রি: | স্বাধীন বিচার | বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের নমুনা |
হযরত উমর ফারুক (রা:) এর চরিত্র
উমর (রা:) এর চরিত্র ছিল অনুকরণীয়। তিনি ছিলেন সত্যবাদী। কখনো মিথ্যা বলতেন না। তাঁর কথা ছিল দৃঢ়। যা বলতেন তাই করতেন।
তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী। ক্ষমতায় থেকেও সাধারণ জীবনযাপন করতেন। তাঁর পোশাক ছিল তালি দেওয়া। খাবার ছিল সাদামাটা। তিনি রাজপ্রাসাদে থাকতেন না। ছোট্ট ঘরে থাকতেন।
তিনি ছিলেন দয়ালু। দরিদ্রদের প্রতি তাঁর মন কাঁদত। রাতে গোপনে তিনি মানুষের বাড়িতে যেতেন। তাদের খাবার পৌঁছে দিতেন। কাঁধে করে আটার বস্তা বহন করতেন। এমন ছিল তাঁর দয়া।
হযরত উমর ফারুক (রা:) এর বাণী
উমর (রা:) এর বাণী ছিল হিকমতপূর্ণ। তিনি বলতেন নিজের হিসাব নিজে করো। অন্যরা তোমার হিসাব নেওয়ার আগেই। এটি আত্মসমালোচনার শিক্ষা।
তিনি বলতেন যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে সে কাউকে ভয় পায় না। যে আল্লাহকে ভয় করে না সে সবাইকে ভয় পায়। এটি ঈমানের শিক্ষা।
তাঁর আরেকটি বিখ্যাত উক্তি হলো ক্ষমতা মানুষকে পরীক্ষা করে। দরিদ্রতা নয় ক্ষমতাই বড় পরীক্ষা। অনেকে দরিদ্রতায় ধৈর্য ধরতে পারে। কিন্তু ক্ষমতায় বিচলিত হয়। এজন্য তিনি নিজেকে সংযত রাখতেন।
বিখ্যাত বাণীসমূহ:
- নিজের হিসাব নিজে করো
- ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আপসহীন থাকো
- দরিদ্রদের সেবা করাই খলিফার দায়িত্ব
- ক্ষমতা মানুষের প্রকৃত পরীক্ষা
- আল্লাহভীরু ব্যক্তিই প্রকৃত সফল
হযরত উমর ফারুক (রা:) এর হাদিস
উমর (রা:) থেকে বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি ছিলেন রাসূল (সা:) এর ঘনিষ্ঠ সাহাবী। রাসূল (সা:) এর অনেক কথা তিনি মুখস্থ রাখতেন। এসব হাদিস আমরা অনুসরণ করি।
একটি বিখ্যাত হাদিসে রাসূল (সা:) বলেন উমর সত্য বলে। আল্লাহ উমরের জিহ্বা দিয়ে সত্য বলান। এটি উমর (রা:) এর মর্যাদা প্রমাণ করে।
অন্য একটি হাদিসে রাসূল (সা:) বলেন শয়তান উমরকে দেখলে পালিয়ে যায়। অন্য পথ দিয়ে যায়। এতে বোঝা যায় তাঁর ঈমান কত শক্তিশালী ছিল।
হযরত উমর ফারুক (রা:) এর পরিবার
উমর (রা:) এর পরিবার ছিল ধর্মপ্রাণ। তাঁর পিতা খাত্তাব ছিলেন মক্কার সম্মানিত ব্যক্তি। তাঁর মাতার নাম ছিল হানতামা বিনতে হাশিম। তিনি ছিলেন সম্ভ্রান্ত পরিবারের।
উমর (রা:) এর বেশ কয়েকজন স্ত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উম্মে কুলসুম ছিলেন রাসূল (সা:) এর নাতনি। তাঁর সন্তানদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে উমর ছিলেন বিখ্যাত। তিনি ছিলেন মহান আলেম।
তাঁর কন্যা হাফসা ছিলেন রাসূল (সা:) এর স্ত্রী। তিনি ছিলেন পবিত্র কুরআনের হাফেজা। তাঁর আরেক পুত্র যায়েদ ছিলেন বীর যোদ্ধা। প্রত্যেক সন্তানই ছিল যোগ্য।
| সম্পর্ক | নাম | বিশেষত্ব | অবদান |
| পিতা | খাত্তাব ইবনে নুফাইল | কুরাইশ বংশীয় | মক্কার সম্মানিত ব্যক্তি |
| কন্যা | হাফসা (রা:) | উম্মুল মুমিনীন | রাসূল (সা:) এর স্ত্রী, কুরআন সংরক্ষক |
| পুত্র | আবদুল্লাহ ইবনে উমর | মহান সাহাবী | হাদিস বর্ণনাকারী, ফকীহ |
| স্ত্রী | উম্মে কুলসুম | রাসূল (সা:) এর নাতনি | আহলে বাইতের সদস্য |
হযরত উমর ফারুক (রা:) এর পিতা ও মাতা
উমর (রা:) এর পিতা খাত্তাব ইবনে নুফাইল ছিলেন শক্তিশালী। তিনি ছিলেন আদি গোত্রের সদস্য। কুরাইশদের মধ্যে তাঁর সম্মান ছিল। তিনি ছিলেন কঠোর স্বভাবের।
খাত্তাব ব্যবসা করতেন। তিনি উট পালন করতেন। তাঁর অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো ছিল। তিনি উমরকে শক্ত করে গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর কঠোরতা উমরকে দৃঢ় করেছে।
উমর (রা:) এর মাতা হানতামা ছিলেন সদয়। তিনি উমরকে স্নেহ করতেন। তিনি ছিলেন ধর্মপ্রাণ মহিলা। পরবর্তীতে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। উমরের চরিত্র গঠনে তাঁর ভূমিকা ছিল।
হযরত উমর ফারুক (রা:) এর সন্তান
উমর (রা:) এর অনেক সন্তান ছিল। তাঁদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে উমর সবচেয়ে বিখ্যাত। তিনি ছিলেন মহান সাহাবী। তিনি বহু হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর ইলম ছিল গভীর।
হাফসা ছিলেন উমর (রা:) এর কন্যা। তিনি রাসূল (সা:) কে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন কুরআনের হাফেজা। রাসূল (সা:) এর ওফাতের পর কুরআনের কপি তাঁর কাছে ছিল। তিনি ছিলেন জ্ঞানী এবং ধার্মিক।
যায়েদ ইবনে উমর ছিলেন বীর যোদ্ধা। তিনি অনেক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। আসিম ইবনে উমর ছিলেন তীরন্দাজ। ফাতিমা বিনতে উমর ছিলেন সৎকর্মশীলা। সবাই ছিল যোগ্য সন্তান।
প্রধান সন্তানগণ:
- আবদুল্লাহ ইবনে উমর (হাদিস বর্ণনাকারী)
- হাফসা বিনতে উমর (উম্মুল মুমিনীন)
- আসিম ইবনে উমর (তীরন্দাজ)
- যায়েদ ইবনে উমর (বীর যোদ্ধা)
- ফাতিমা বিনতে উমর (সৎকর্মশীলা)
হযরত উমর ফারুক (রা:) এর উপাধি
উমর (রা:) এর প্রধান উপাধি ছিল ফারুক। এর অর্থ সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী। রাসূল (সা:) তাঁকে এই উপাধি দেন। এটি তাঁর ন্যায়পরায়ণতার প্রমাণ।
তাঁর আরেকটি উপাধি ছিল আমিরুল মুমিনীন। এর অর্থ বিশ্বাসীদের নেতা। খলিফা হিসেবে তিনি এই উপাধি পান। এটি খলিফাদের সম্মানসূচক উপাধি।
আরেকটি উপাধি ছিল খলিফাতুর রাসূল। অর্থাৎ রাসূলের খলিফা। তিনি রাসূল (সা:) এর পথে চলতেন। রাসূল (সা:) এর আদর্শ বাস্তবায়ন করতেন। এজন্য এই উপাধি পেয়েছিলেন।
হযরত উমর ফারুক (রা:) এর মৃত্যু
উমর (রা:) ৬৪৪ খ্রিস্টাব্দে শহীদ হন। তিনি মদিনায় ফজরের নামাজ পড়ছিলেন। তখন আবু লুলু ফিরোজ নামক এক ব্যক্তি তাঁকে আক্রমণ করে। তিনি বিষযুক্ত ছুরি দিয়ে আঘাত করে।
উমর (রা:) আহত অবস্থায় নামাজ শেষ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু পারেননি। তাঁকে ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি তিন দিন যন্ত্রণায় ছিলেন। এসময় তিনি পরবর্তী খলিফা নির্বাচনের ব্যবস্থা করেন।
তিনি শেষ নিঃশ্বাসে বলেন আমি রাসূল (সা:) এর পাশে শুয়ে থাকতে চাই। তাঁর ইচ্ছা পূরণ হয়। তাঁকে রাসূল (সা:) এবং আবু বকর (রা:) এর পাশে দাফন করা হয়। সবাই কাঁদে তাঁর মৃত্যুতে।
হযরত উমর ফারুক (রা:) কে হত্যা করে
আবু লুলু ফিরোজ নামক এক পারসিক দাস উমর (রা:) কে হত্যা করে। সে ছিল মুগিরা ইবনে শুবার দাস। সে ছিল কামার। সে উমর (রা:) এর কাছে তার মনিবের অভিযোগ করেছিল। উমর (রা:) তাকে ন্যায়বিচার দেন।
কিন্তু সে ক্ষুব্ধ ছিল। পারস্য সাম্রাজ্যের পতনে সে রাগান্বিত ছিল। সে মুসলমানদের শত্রু ছিল। সে ষড়যন্ত্র করে উমর (রা:) কে হত্যার পরিকল্পনা করে।
সে বিষাক্ত ছুরি বানায়। ফজরের নামাজের সময় মসজিদে প্রবেশ করে। উমর (রা:) যখন ইমামতি করছিলেন তখন আক্রমণ করে। সে ছয়জনকে আহত করে। তারপর নিজেই আত্মহত্যা করে।
| তথ্য | বিবরণ |
| হত্যাকারী | আবু লুলু ফিরোজ (পারসিক দাস) |
| হত্যার স্থান | মসজিদে নববী, মদিনা |
| হত্যার সময় | ফজরের নামাজ, ৬৪৪ খ্রিস্টাব্দ |
| হত্যার কারণ | পারস্য সাম্রাজ্যের পতনের প্রতিশোধ |
| হত্যাকারীর পরিণতি | আত্মহত্যা |
হযরত উমর ফারুক (রা:) এর কবর কোথায়
উমর (রা:) এর কবর মদিনার মসজিদে নববীতে। তিনি রাসূল (সা:) এর পাশে শায়িত আছেন। তাঁর এক পাশে রাসূল (সা:) অন্য পাশে আবু বকর (রা:)। এটি তাঁর জন্য বিরাট সম্মান।
তিনি জীবদ্দশায় রাসূল (সা:) এর পাশে থাকার আকাঙ্ক্ষা করতেন। তাঁর আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়েছে। মৃত্যুর পরও তিনি রাসূল (সা:) এর সান্নিধ্যে আছেন। লাখো মুসলমান তাঁর কবর জিয়ারত করেন।
তাঁর কবরে সবুজ গম্বুজ আছে। এটি মসজিদে নববীর অংশ। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এখানে আসেন। তাঁরা সালাম দেন। দোয়া করেন। এটি পবিত্র স্থান।
কবরের তথ্য:
- অবস্থান: মসজিদে নববী, মদিনা
- পাশে শায়িত: রাসূল (সা:) ও আবু বকর (রা:)
- বৈশিষ্ট্য: সবুজ গম্বুজের নিচে
- জিয়ারতকারী: বিশ্বব্যাপী মুসলমান
- মর্যাদা: রাওজায়ে মুবারক
হযরত উমর ফারুক (রা:) এর ইতিহাস
উমর (রা:) এর ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তিনি ইসলামের প্রাথমিক যুগের মহানায়ক। তাঁর অবদান অতুলনীয়। ইসলামের বিস্তারে তাঁর ভূমিকা অপরিসীম।
তিনি জাহেলিয়াত যুগে জন্মগ্রহণ করেন। প্রথমে ইসলামের বিরোধী ছিলেন। পরে আল্লাহ তাঁকে হেদায়েত দান করেন। তিনি হয়ে ওঠেন ইসলামের রক্ষক। তাঁর ইসলাম গ্রহণ মুসলমানদের শক্তিশালী করে।
খলিফা হিসেবে তাঁর কৃতিত্ব অসাধারণ। তিনি সাম্রাজ্য বিস্তৃত করেন। প্রশাসন উন্নত করেন। জনগণের সেবা করেন। তাঁর শাসনকাল ছিল আদর্শ। ইতিহাসে তিনি অমর হয়ে আছেন।
হযরত উমর ফারুক (রা:) এর দৃষ্টান্ত
উমর (রা:) এর জীবনে অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। একবার তিনি রাতে টহল দিচ্ছিলেন। একটি ঘর থেকে কান্নার শব্দ শুনলেন। ভেতরে গিয়ে দেখেন এক মহিলা রান্না করছেন। বাচ্চারা কাঁদছে। মহিলা বাচ্চাদের বলছেন একটু অপেক্ষা করো।
উমর (রা:) জিজ্ঞেস করলেন কী রান্না হচ্ছে। মহিলা বললেন পানি। কারণ খাবার নেই। বাচ্চারা ক্ষুধার্ত তাই পানি ফুটিয়ে তাদের ভুলাচ্ছি। এই শুনে উমর (রা:) কেঁদে ফেললেন।
তিনি সঙ্গে সঙ্গে বাইতুল মালে গেলেন। আটা এবং খাবার নিয়ে এলেন। নিজে কাঁধে করে বহন করলেন। মহিলার জন্য রান্না করে দিলেন। বাচ্চাদের খাওয়ালেন। এমন ছিল তাঁর দয়া এবং দায়িত্ববোধ।
উমর ফারুক (রা:) এর প্রশাসনিক সংস্কার
উমর (রা:) ছিলেন দক্ষ প্রশাসক। তিনি অনেক সংস্কার করেন। তিনি প্রদেশ ভাগ করেন। প্রতিটি প্রদেশে গভর্নর নিয়োগ দেন। তিনি তাদের নিয়মিত তদারক করতেন।
তিনি পুলিশ বাহিনী গঠন করেন। তিনি কারাগার নির্মাণ করেন। তিনি ডাক ব্যবস্থা চালু করেন। তিনি সড়ক নির্মাণ করেন। এসব কাজ প্রশাসনকে শক্তিশালী করে।
তিনি বিচার ব্যবস্থাকে আলাদা করেন। বিচারকদের স্বাধীনতা দেন। তিনি নিয়মিত হিসাব নিতেন। গভর্নরদের জবাবদিহি করতে হতো। তাঁর প্রশাসন ছিল স্বচ্ছ এবং দক্ষ।
| সংস্কার | বর্ণনা | উদ্দেশ্য | ফলাফল |
| প্রাদেশিক বিভাগ | সাম্রাজ্যকে প্রদেশে ভাগ | দক্ষ শাসন | সুশৃঙ্খল প্রশাসন |
| ডাক ব্যবস্থা | দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা | তথ্য আদান-প্রদান | কার্যকর শাসন |
| কারাগার | অপরাধীদের জন্য | আইনশৃঙ্খলা | অপরাধ হ্রাস |
| সড়ক নির্মাণ | যোগাযোগ উন্নতি | বাণিজ্য সহজীকরণ | অর্থনৈতিক উন্নয়ন |
হযরত উমর ফারুক (রা:) সম্পর্কে প্রশ্ন উত্তর
অনেকে উমর (রা:) সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। প্রশ্ন হলো তিনি কেন মহান? উত্তর হলো তাঁর ন্যায়বিচার এবং দায়িত্ববোধ। তিনি প্রজাদের সেবক ছিলেন। তিনি নিজেকে জবাবদিহি মনে করতেন।
আরেকটি প্রশ্ন তিনি কীভাবে সাম্রাজ্য বিস্তৃত করলেন? উত্তর হলো তাঁর কুশলী নেতৃত্ব। তিনি যোগ্য সেনাপতি নিয়োগ দিতেন। তিনি সঠিক কৌশল প্রয়োগ করতেন। তিনি সৈন্যদের অনুপ্রাণিত করতেন।
তৃতীয় প্রশ্ন তাঁর থেকে কী শিক্ষা নেওয়া যায়? উত্তর হলো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। দরিদ্রদের সেবা। সাদাসিধে জীবনযাপন। আল্লাহর ভয়। এসব গুণ অর্জন করা প্রয়োজন।
প্রচলিত প্রশ্নোত্তর:
- কেন তিনি ফারুক? উত্তর: সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী
- খিলাফত কত বছর? উত্তর: দশ বছর
- কোন সালে শহীদ? উত্তর: ৬৪৪ খ্রিস্টাব্দ
- প্রধান অবদান কী? উত্তর: প্রশাসনিক সংস্কার ও ন্যায়বিচার
- কবর কোথায়? উত্তর: মসজিদে নববী, মদিনা
উমর ফারুক (রা:) এর জীবনী class 4
চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য উমর (রা:) এর জীবনী সহজভাবে পড়ানো হয়। তাদের বলা হয় তিনি ছিলেন মহান খলিফা। তিনি ছিলেন ন্যায়বিচারক। তিনি দরিদ্রদের সাহায্য করতেন।
শিশুরা শেখে তিনি সৎ ছিলেন। তিনি সত্য বলতেন। তিনি প্রতিশ্রুতি রাখতেন। তিনি কঠোর পরিশ্রম করতেন। এসব গুণ শিশুদের শেখানো হয়।
শিক্ষকরা তাঁর জীবনের সহজ ঘটনা বলেন। দরিদ্র মহিলার জন্য রান্না করার গল্প। গভর্নরের ছেলেকে শাস্তি দেওয়ার কাহিনী। এসব গল্প শিশুদের ভালো লাগে। তারা অনুপ্রাণিত হয়।
হযরত উমর ফারুক (রা:) এর জীবনী বই
উমর (রা:) এর জীবনী নিয়ে অনেক বই লেখা হয়েছে। আল্লামা শিবলী নোমানীর আল-ফারুক বিখ্যাত। এই বই খুবই বিস্তারিত। তাঁর জীবনের সব দিক আলোচিত হয়েছে।
ড. আলী মুহাম্মদ সাল্লাবীর বইও জনপ্রিয়। তিনি গবেষণা করে বই লিখেছেন। তাঁর বই তথ্যবহুল। একাডেমিক মানের বই এটি।
মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভীও লিখেছেন। তাঁর লেখা সহজবোধ্য। সাধারণ মানুষের জন্য উপযোগী। এসব বই পড়লে উমর (রা:) সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান হয়।
হযরত উমর ফারুক (রা:) এর ইসলামী অবদান
উমর (রা:) এর ইসলামী অবদান অসংখ্য। তিনি ইসলামকে রক্ষা করেন। তিনি ইসলামের প্রসার ঘটান। তাঁর সময়ে অনেক দেশ ইসলামের ছায়াতলে আসে।
তিনি কুরআনের শিক্ষা ছড়িয়ে দেন। তিনি হাদিস সংরক্ষণে ভূমিকা রাখেন। তিনি ফিকহের ভিত্তি স্থাপন করেন। তিনি ইসলামী আইন প্রয়োগ করেন। এসব কাজ ইসলামকে শক্তিশালী করে।
তিনি মসজিদ নির্মাণ করেন। মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। আলেম তৈরি করেন। দাঈ পাঠান। এভাবে ইসলাম বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়।
উমর ফারুক (রা:) এর জীবন কাহিনি
উমর (রা:) এর জীবন কাহিনী অনুপ্রেরণাদায়ক। তিনি সাধারণ জীবন থেকে শুরু করেন। উটের রাখাল ছিলেন। কঠোর পরিশ্রম করতেন। ধীরে ধীরে তিনি পরিচিত হন।
ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর জীবন বদলে যায়। তিনি হয়ে ওঠেন ইসলামের সেবক। রাসূল (সা:) এর সাথী হন। খলিফা হন। তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেন।
তাঁর জীবন শেখায় পরিশ্রম সফলতা আনে। ঈমান জীবন বদলে দেয়। ন্যায়বিচার মানুষকে মহান করে। দায়িত্বশীলতা নেতৃত্ব দেয়। তাঁর জীবন থেকে আমরা অনেক কিছু শিখি।
হযরত উমর ফারুক (রা:) এর শাহাদাত

উমর (রা:) এর শাহাদাত ছিল মর্মান্তিক। তিনি ইবাদত অবস্থায় শহীদ হন। মসজিদে নববীতে নামাজরত অবস্থায় আক্রান্ত হন। এটি ছিল তাঁর জন্য সম্মানের।
তিনি তিন দিন কষ্টে ছিলেন। কিন্তু অভিযোগ করেননি। তিনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। তাঁর ধৈর্য ছিল অসাধারণ।
শেষ মুহূর্তে তিনি তাঁর সন্তানদের উপদেশ দেন। তিনি বলেন আল্লাহকে ভয় করো। মানুষের সেবা করো। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করো। এই উপদেশ দিয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ইসলামিক পোস্ট সম্পর্কিত আরও পোস্ট দেখতে
👉 ইসলামিক পোস্ট ক্যাটাগরি দেখুন।
উপসংহার
হযরত উমর ফারুক (রা:) ছিলেন ইসলামের এক মহান ব্যক্তিত্ব। তাঁর জীবন ছিল আদর্শে পূর্ণ। তিনি শিখিয়েছেন ন্যায়বিচার কীভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হয়। তিনি দেখিয়েছেন নেতৃত্ব মানে সেবা।
তাঁর সরল জীবনযাপন আমাদের শিক্ষা দেয়। তাঁর দয়া আমাদের অনুপ্রাণিত করে। তাঁর সাহস আমাদের শক্তি দেয়। তাঁর ঈমান আমাদের পথ দেখায়। তিনি চিরকাল আমাদের আদর্শ থাকবেন।
আমরা তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের জীবন সাজাতে পারি। ন্যায়পরায়ণ হতে পারি। দায়িত্বশীল হতে পারি। মানুষের সেবা করতে পারি। আল্লাহ আমাদের তাঁর পথে চলার তৌফিক দিন। আমীন।
লেখকের নোট: এই নিবন্ধটি হযরত উমর ফারুক (রা:) এর জীবনী এবং তাঁর শিক্ষণীয় জীবন সম্পর্কে একটি সম্পূর্ণ ধারণা দেয়। তাঁর জীবন থেকে আমরা অনেক মূল্যবান শিক্ষা পেতে পারি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর আদর্শ অনুসরণ করার তৌফিক দিন। আমীন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)
হযরত উমর ফারুক (রা:) কে ছিলেন?
হযরত উমর ফারুক (রা:) ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা। তিনি রাসূল (সা:) এর ঘনিষ্ঠ সাহাবী ছিলেন। তিনি ন্যায়বিচার এবং প্রশাসনিক দক্ষতার জন্য বিখ্যাত। তাঁর শাসনকাল ছিল ইসলামের স্বর্ণযুগ।
উমর (রা:) কে ফারুক উপাধি কেন দেওয়া হয়েছিল?
রাসূল (সা:) তাঁকে ফারুক উপাধি দেন। ফারুক মানে সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী। তিনি সবসময় সত্যের পক্ষে দাঁড়াতেন। তাঁর বিচার ছিল ন্যায়সঙ্গত। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর ছিলেন।
হযরত উমর (রা:) কত বছর খলিফা ছিলেন?
তিনি দশ বছর খলিফা ছিলেন। ৬৩৪ থেকে ৬৪৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তাঁর শাসনকাল। এই সময়ে ইসলামী সাম্রাজ্য অনেক বিস্তৃত হয়। পারস্য ও রোম সাম্রাজ্যের অংশ জয় হয়।
উমর (রা:) এর প্রধান অবদান কী ছিল?
তাঁর প্রধান অবদান হলো প্রশাসনিক সংস্কার। তিনি হিজরি সন চালু করেন। বায়তুল মাল প্রতিষ্ঠা করেন। পুলিশ ও বিচার বিভাগ আলাদা করেন। ডাক ব্যবস্থা এবং সড়ক নির্মাণ করেন।
হযরত উমর (রা:) কীভাবে শহীদ হন?
আবু লুলু ফিরোজ নামক এক পারসিক দাস তাঁকে হত্যা করে। ৬৪৪ খ্রিস্টাব্দে ফজরের নামাজের সময় মসজিদে নববীতে আক্রমণ করা হয়। বিষাক্ত ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। তিন দিন পর তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
উমর (রা:) এর কবর কোথায় অবস্থিত?
তাঁর কবর মদিনার মসজিদে নববীতে। তিনি রাসূল (সা:) এবং হযরত আবু বকর (রা:) এর পাশে শায়িত আছেন। এটি মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র স্থান। লাখো মানুষ প্রতিবছর জিয়ারত করেন।
হযরত উমর (রা:) এর পরিবার সম্পর্কে কী জানা যায়?
তাঁর পিতা ছিলেন খাত্তাব ইবনে নুফাইল। তাঁর কন্যা হাফসা ছিলেন রাসূল (সা:) এর স্ত্রী। তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ ইবনে উমর ছিলেন মহান সাহাবী। তাঁর পরিবার ছিল ইসলামের সেবায় নিয়োজিত।
উমর (রা:) কীভাবে ইসলাম গ্রহণ করেন?
প্রথমে তিনি ইসলামের বিরোধী ছিলেন। একদিন তাঁর বোনের বাড়িতে কুরআন শোনেন। কুরআনের বাণী তাঁর হৃদয় স্পর্শ করে। তিনি কুরআন পড়েন এবং সঙ্গে সঙ্গে ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁর ইসলাম গ্রহণ মুসলমানদের শক্তিশালী করে।
উমর (রা:) এর ন্যায়বিচারের কোনো উদাহরণ আছে কি?
হ্যাঁ অনেক উদাহরণ আছে। মিসরের গভর্নরের ছেলে এক যুবককে মারে। উমর (রা:) যুবককে গভর্নরের ছেলেকে প্রতিশোধ নিতে বলেন। এভাবে তিনি প্রমাণ করেন আইনের চোখে সবাই সমান। তাঁর বিচার ছিল নিরপেক্ষ।
উমর (রা:) থেকে আমরা কী শিক্ষা নিতে পারি?
আমরা শিখতে পারি ন্যায়বিচার করা। দরিদ্রদের সেবা করা। সাদাসিধে জীবনযাপন করা। দায়িত্বশীল হওয়া। আল্লাহকে ভয় করা। সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো। এসব গুণ আমাদের জীবনে প্রয়োগ করা উচিত।
🔥 পোস্টটি শেয়ার করুনঃ 🌍






