আপনি কি ব্রয়লার মুরগি পালন করে ভালো আয় করতে চান? অনেকেই এই ব্যবসা শুরু করতে চান। কিন্তু সঠিক তথ্য না থাকায় পিছিয়ে থাকেন। আজকের এই লেখায় আমি সব বিষয় সহজভাবে বুঝিয়ে দেব। ব্রয়লার মুরগি পালন খুবই লাভজনক একটি কাজ। ছোট পুঁজি দিয়েও শুরু করা যায়। মাত্র ৩০-৩৫ দিনে মুরগি বিক্রির উপযুক্ত হয়। এই ব্যবসায় সফল হতে হলে সঠিক নিয়ম জানা দরকার। চলুন শুরু করা যাক।
ব্রয়লার মুরগির দাম ২০২৫
২০২৫ সালে ব্রয়লার মুরগির দাম অনেক বদলে যায়। বাজারে চাহিদা অনুযায়ী দাম ওঠানামা করে। সাধারণত প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২২০ টাকা হয়। ঈদ বা বিশেষ দিনে দাম বেশি থাকে। শীতকালে মুরগির চাহিদা একটু কমে যায়। তখন দাম কিছুটা কম থাকে। গ্রীষ্মকালে আবার দাম বাড়তে থাকে। প্রতিটি অঞ্চলে দাম আলাদা হতে পারে। শহরে দাম গ্রামের চেয়ে বেশি হয়। খামারিরা সরাসরি বিক্রি করলে ভালো দাম পান। মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে বিক্রি করলে লাভ কমে। তাই বাজার দর সম্পর্কে সব সময় খবর রাখতে হবে। দামের উপর নির্ভর করে আপনার লাভ ঠিক হবে। তাই সঠিক সময়ে বিক্রি করা জরুরি।
ব্রয়লার মুরগির খামার করার নিয়ম

খামার করতে হলে প্রথমে একটি ভালো জায়গা খুঁজতে হবে। জায়গাটি শুকনো এবং উঁচু হতে হবে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ঘরটি পূর্ব-পশ্চিম দিকে তৈরি করুন। এতে সূর্যের আলো ভালো ঢুকবে। বাতাস চলাচলের জন্য জানালা রাখুন। মেঝে পাকা হলে পরিষ্কার রাখা সহজ হয়। প্রতি ১০০ মুরগির জন্য ৪০০ বর্গফুট জায়গা দরকার। খামারের চারপাশে বেড়া দিতে হবে। এতে বাইরের প্রাণী ঢুকতে পারবে না। খাবার ও পানির পাত্র পরিষ্কার রাখুন। খামারে আলো ও বাতাসের ব্যবস্থা ভালো হতে হবে। গরমের সময় ফ্যান লাগাতে পারেন। শীতে মুরগিকে উষ্ণ রাখার ব্যবস্থা করুন। পরিচ্ছন্নতা খুব জরুরি একটি বিষয়।
ব্রয়লার মুরগি পালন পদ্ধতি
ব্রয়লার মুরগি পালন একটি সহজ পদ্ধতি। প্রথমে ভালো মানের বাচ্চা কিনতে হবে। সুস্থ বাচ্চা নির্বাচন করা খুব জরুরি। একদিন বয়সী বাচ্চা কেনা ভালো। বাচ্চা আনার পর ঘরে গরম রাখতে হবে। প্রথম সপ্তাহে ৩৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা দরকার। ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমান। বাচ্চাকে পরিষ্কার পানি দিন। প্রথম দিন চিনি মেশানো পানি দিতে পারেন। খাবার সব সময় পর্যাপ্ত থাকতে হবে। প্রতিদিন ওজন মাপার চেষ্টা করুন। রোগ প্রতিরোধে টিকা দিতে হবে। নিয়মিত ঘর পরিষ্কার করুন। মৃত বাচ্চা দেখলে সাথে সাথে সরিয়ে ফেলুন। সঠিক যত্ন নিলে মুরগি তাড়াতাড়ি বড় হয়। ৩০ দিন পর বিক্রির উপযুক্ত হয়।
পালনের মূল বিষয়গুলো:
- স্বাস্থ্যকর পরিবেশ: ঘর সব সময় পরিষ্কার ও শুকনো রাখতে হবে।
- সঠিক খাদ্য: নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে প্রতিদিন।
- রোগ প্রতিরোধ: টিকা দেওয়া এবং ওষুধ দেওয়ার নিয়ম মানতে হবে।
- নিয়মিত পর্যবেক্ষণ: প্রতিদিন মুরগির স্বাস্থ্য দেখতে হবে ভালোভাবে।
ব্রয়লার মুরগির খাদ্য তালিকা
ব্রয়লার মুরগির খাদ্য তালিকা সঠিক হতে হবে। ভুট্টা হলো প্রধান খাবার এতে শক্তি পাওয়া যায়। গমও দেওয়া যেতে পারে মিশিয়ে। চালের কুঁড়া একটি ভালো খাবার। সয়াবিন মিল প্রোটিনের উৎস। তিল বা সরিষার খৈল দিতে পারেন। ঝিনুকের গুঁড়া ক্যালসিয়ামের জন্য দরকার। লবণও সামান্য মেশাতে হয়। ভিটামিন ও মিনারেল মিক্স দিতে হবে। বাজারে তৈরি ফিড পাওয়া যায়। স্টার্টার ফিড ১ থেকে ১০ দিন বয়সে দিতে হয়। গ্রোয়ার ফিড ১১ থেকে ২৫ দিন পর্যন্ত। ফিনিশার ফিড ২৬ দিন থেকে বিক্রি পর্যন্ত দিন। পানি সব সময় পর্যাপ্ত থাকতে হবে সামনে। প্রতিটি বয়সের জন্য খাবারের পরিমাণ আলাদা।
ব্রয়লার মুরগি খাওয়ানোর নিয়ম
মুরগিকে সঠিক নিয়মে খাওয়াতে হয়। প্রথম সপ্তাহে ঘন ঘন খাবার দিন। দিনে ৪-৫ বার খাওয়ানো ভালো। খাবার সব সময় তাজা রাখুন। পুরনো খাবার ফেলে দিয়ে নতুন দিন। খাবারের পাত্র পরিষ্কার রাখতে হবে। পানি পাত্রও ধুয়ে দিতে হবে নিয়মিত। প্রতি ১০০ মুরগির জন্য ৫টি খাবার পাত্র রাখুন। পানির পাত্রও পর্যাপ্ত সংখ্যক রাখুন। মুরগিরা যেন সহজে খেতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখুন। বাচ্চা অবস্থায় সমতল পাত্র ব্যবহার করুন। বড় হলে হ্যাঙ্গিং ফিডার ব্যবহার করতে পারেন। রাতেও খাবার থাকতে হবে সামনে। হঠাৎ খাবার বদলাবেন না কখনো। ধীরে ধীরে নতুন খাবারে অভ্যস্ত করুন। খাওয়ানোর নিয়ম ঠিক থাকলে মুরগি সুস্থ থাকবে।
ব্রয়লার মুরগির ওজন বৃদ্ধির উপায়
ওজন বাড়ানো খুব জরুরি লাভের জন্য। প্রথমেই উন্নত জাতের বাচ্চা কিনুন। এতে দ্রুত বাড়ে মুরগির ওজন। সঠিক মাত্রায় প্রোটিন দিতে হবে খাবারে। শক্তির খাবার যেমন ভুট্টা বেশি দিন। পরিষ্কার পানি সব সময় দিতে থাকুন। ঘরের তাপমাত্রা ঠিক রাখুন সব সময়। বেশি গরম বা ঠান্ডা হলে ওজন কমে। আলো-বাতাসের ভালো ব্যবস্থা করুন। রোগ হলে সাথে সাথে চিকিৎসা করুন। স্ট্রেস কমাতে শান্ত পরিবেশ রাখুন। ঘন ঘন বাচ্চা না ধরাই ভালো। খাবারে ভিটামিন মিশিয়ে দিন নিয়মিত। সপ্তাহে একবার ওজন মাপুন মুরগির। এতে বুঝবেন ঠিকমতো বাড়ছে কি না। ওজন না বাড়লে খাবার বাড়ান বা বদলান।
ওজন বাড়ানোর টিপস:
- মানসম্মত ফিড: কোম্পানির ভালো ফিড ব্যবহার করুন সব সময়।
- পর্যাপ্ত পানি: প্রতিদিন তাজা পানি দিতে হবে যথেষ্ট পরিমাণে।
- ঠিক তাপমাত্রা: ঘর না বেশি গরম না বেশি ঠান্ডা রাখুন।
- রোগমুক্ত রাখা: টিকা দিয়ে রোগ থেকে রক্ষা করুন মুরগিকে।
ব্রয়লার মুরগির রোগ ও চিকিৎসা
ব্রয়লার মুরগির বিভিন্ন রোগ হতে পারে। রানিক্ষেত একটি মারাত্মক রোগ। এতে মুরগি মারা যেতে পারে দ্রুত। টিকা দিয়ে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়। গাম্বোরো রোগে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে। এর জন্যও টিকা আছে বাজারে। কক্সিডিওসিস রোগে রক্ত আমাশয় হয়। ওষুধ দিয়ে এর চিকিৎসা করা যায়। সর্দি-কাশি বা শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এন্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করতে হয়। পাতলা পায়খানা একটি সাধারণ সমস্যা। পানিতে ইলেকট্রোলাইট মিশিয়ে দিন। পা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি দিন এজন্য। রোগ হলে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিজে নিজে ওষুধ দেবেন না কখনো। প্রতিরোধই সবচেয়ে ভালো উপায়। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা মেনে চলুন সব সময়।
ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা পরিচর্যা
বাচ্চা পরিচর্যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বাচ্চা আনার আগে ঘর প্রস্তুত করুন। মেঝেতে তুষ বা কাঠের গুঁড়া বিছান। ব্রুডার বা হিটার দিয়ে গরম রাখুন। তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি রাখতে হবে প্রথম সপ্তাহে। প্রতি সপ্তাহে ৩ ডিগ্রি কমান। খাবার ও পানি কাছে রাখুন। প্রথম দিন গ্লুকোজ পানিতে মেশান। দ্বিতীয় দিন থেকে স্টার্টার ফিড দিন। বাচ্চারা যেন খেতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখুন। সমতল পাত্রে খাবার দিন শুরুতে। অসুস্থ বা দুর্বল বাচ্চা আলাদা করুন। মৃত বাচ্চা দেখলে তুলে ফেলুন সাথে সাথে। প্রথম সপ্তাহে ২৪ ঘণ্টা আলো জ্বালান। পরে ধীরে ধীরে আলোর সময় কমান। ভিড় করে রাখবেন না বাচ্চা। পর্যাপ্ত জায়গা দিতে হবে সবাইকে। যত্ন ঠিক থাকলে মৃত্যুহার কম হয়।
ব্রয়লার মুরগির খাবার রেশিও
খাবার রেশিও মানে খাবারের উপাদানের অনুপাত। স্টার্টার ফিডে ২২-২৩% প্রোটিন থাকে। এতে ভুট্টা ৫০%, সয়াবিন মিল ৩৫% দিন। চালের কুঁড়া ১০%, ঝিনুক গুঁড়া ২% দিতে হয়। বাকি ৩% ভিটামিন ও লবণ মিশান। গ্রোয়ার ফিডে ২০-২১% প্রোটিন রাখুন। ভুট্টা ৫৫%, সয়াবিন মিল ৩০% দিন। চালের কুঁড়া ১২%, বাকিটা অন্যান্য উপাদান। ফিনিশার ফিডে ১৮-১৯% প্রোটিন থাকবে। ভুট্টা ৬০%, সয়াবিন মিল ২৫% দিন। চালের কুঁড়া ১২%, বাকি অংশ অন্যান্য। এই রেশিও অনুযায়ী খাবার তৈরি করুন। অথবা বাজার থেকে কোম্পানির ফিড কিনুন। নিজে তৈরি করলে খরচ কম হয়।
খাবার রেশিও টেবিল:
| বয়স | প্রোটিন | ভুট্টা | সয়াবিন মিল | চালের কুঁড়া | অন্যান্য |
| ১-১০ দিন | ২২-২৩% | ৫০% | ৩৫% | ১০% | ৫% |
| ১১-২৫ দিন | ২০-২১% | ৫৫% | ৩০% | ১২% | ৩% |
| ২৬-৩৫ দিন | ১৮-১৯% | ৬০% | ২৫% | ১২% | ৩% |
ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ
উৎপাদন খরচ জানা খুব জরুরি লাভ বোঝার জন্য। একটি বাচ্চার দাম ৪০-৫০ টাকা হয়। ১০০ মুরগির জন্য ৪০০০-৫০০০ টাকা লাগে। ৩৫ দিনে একটি মুরগি ৩.৫ কেজি ফিড খায়। ফিডের দাম প্রতি কেজি ৪৫-৫০ টাকা। একটি মুরগির ফিড খরচ ১৬০-১৭৫ টাকা। ওষুধ ও টিকায় ১৫-২০ টাকা খরচ হয়। বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খরচ ১০-১৫ টাকা। মোট খরচ দাঁড়ায় ২২৫-২৬০ টাকা প্রতি মুরগিতে। ১০০ মুরগিতে মোট খরচ ২২৫০০-২৬০০০ টাকা। শ্রমিক খরচ আলাদা হিসাব করতে হবে। ঘর তৈরিতে প্রথমবার বেশি খরচ হয়। পরবর্তীতে সেই খরচ আর লাগে না। খরচ সঠিকভাবে হিসাব করুন সব সময়।
ব্রয়লার মুরগির খামার লাভজনক কি না
ব্রয়লার খামার অবশ্যই লাভজনক হতে পারে। তবে সঠিক পরিকল্পনা জরুরি এজন্য। একটি মুরগির ওজন হয় ২-২.৫ কেজি। প্রতি কেজি ২০০ টাকা হলে বিক্রয় মূল্য ৪০০-৫০০ টাকা। খরচ ২২৫-২৬০ টাকা হলে লাভ ১৪০-২৪০ টাকা। ১০০ মুরগিতে লাভ হয় ১৪০০০-২৪০০০ টাকা। ৩৫ দিনে এই লাভ খুব ভালো। বছরে ৮-১০ ব্যাচ করা যায়। তাহলে বছরে লাখ টাকা লাভ হতে পারে। তবে ঝুঁকিও আছে এই ব্যবসায়। রোগ হলে অনেক মুরগি মরতে পারে। বাজার দাম কমলে লাভ কমে যায়। তাই সাবধানে ব্যবসা করতে হবে। ছোট করে শুরু করাই বুদ্ধিমানের কাজ। অভিজ্ঞতা হলে বড় করা যাবে।
লাভ-ক্ষতি বিশ্লেষণ:
- লাভের দিক: অল্প সময়ে বিক্রি করা যায় মুরগি দ্রুত।
- বাজার চাহিদা: সারা বছর মুরগির চাহিদা থাকে বাজারে।
- ক্ষতির ঝুঁকি: রোগ বা দাম কমলে ক্ষতি হতে পারে।
- অভিজ্ঞতা দরকার: প্রথমবার ক্ষতি হতে পারে অনভিজ্ঞতায়।
ব্রয়লার মুরগির বাজার দর আজকের
আজকের বাজার দর জানা খুব দরকার। প্রতিদিন দাম বদলায় চাহিদা অনুযায়ী। শহরের বাজারে দাম একটু বেশি থাকে। গ্রামে দাম কম হয় সাধারণত। সকালে বাজারে গেলে তাজা মুরগি পাওয়া যায়। খামারি সরাসরি বিক্রি করলে দাম কম হয়। মধ্যস্বত্বভোগী বাড়িয়ে বিক্রি করে দাম। প্রতি কেজি ১৮০-২২০ টাকা এখন। সপ্তাহান্তে দাম একটু বাড়ে সাধারণত। ঈদের আগে দাম অনেক বেশি হয়। গরমকালে চাহিদা বেশি থাকে মুরগির। শীতে চাহিদা কমে খানিকটা। স্থানীয় বাজারে খোঁজ নিন নিয়মিত। অনলাইনেও দাম জানা যায় এখন। দাম জানলে বিক্রির সঠিক সময় বুঝবেন।
ব্রয়লার মুরগির খামার ব্যবসা পরিকল্পনা
ব্যবসা পরিকল্পনা করা খুব জরুরি সফলতার জন্য। প্রথমে ঠিক করুন কত মুরগি পালবেন। ছোট করে ১০০-২০০ মুরগি দিয়ে শুরু করুন। উপযুক্ত জায়গা খুঁজে বের করুন। ঘর তৈরির জন্য বাজেট ঠিক করুন। খাবার ও ওষুধের খরচ হিসাব করুন। মূলধন কোথা থেকে আসবে সেটা ঠিক করুন। ব্যাংক লোন নেওয়া যায় এই ব্যবসায়। বাজার কোথায় বিক্রি করবেন তা ঠিক করুন। পাইকারি ক্রেতা খুঁজে রাখুন আগে থেকে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করুন বড় করার। হিসাব রাখুন প্রতিটি খরচ ও আয়ের। অভিজ্ঞ খামারির পরামর্শ নিন প্রথমে। প্রশিক্ষণ নিতে পারলে আরও ভালো। পরিকল্পনা মেনে কাজ করলে সফল হবেন।
ব্রয়লার মুরগির জাত ও বৈশিষ্ট্য
বিভিন্ন জাতের ব্রয়লার মুরগি পাওয়া যায়। কব ৫০০ একটি জনপ্রিয় জাত। এই জাতের মুরগি দ্রুত বাড়ে। রস ৩০৮ আরেকটি ভালো জাত। লোহমান জাত বাংলাদেশে চাষ হয়। হাবার্ড জাতও অনেকে পালন করেন। ব্রয়লার মুরগির বৈশিষ্ট্য অনেক। এরা খুব দ্রুত বড় হয় বয়সে। মাত্র ৩০-৩৫ দিনে বিক্রির উপযুক্ত হয়। সাদা পালক বেশি দেখা যায়। হলুদ চামড়া হয় মুরগির। মাংস খুব নরম ও সুস্বাদু হয়। খাবার কম খেয়ে বেশি বাড়ে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মাঝারি। তাই টিকা দেওয়া জরুরি নিয়মিত। ভালো জাত নির্বাচন করলে লাভ বেশি হয়।
জাতের তুলনা টেবিল:
| জাত | বৃদ্ধির হার | ৩৫ দিনে ওজন | খাদ্য রূপান্তর | বৈশিষ্ট্য |
| কব ৫০০ | দ্রুত | ২.২-২.৫ কেজি | ১.৬-১.৮ | সবচেয়ে জনপ্রিয় |
| হাবার্ড | দ্রুত | ২.১-২.৪ কেজি | ১.৬-১.৮ | ভালো মাংসের গুণ |
| লোহমান | মাঝারি | ২.০-২.৩ কেজি | ১.৭-১.৯ | রোগ প্রতিরোধী |
| রস ৩০৮ | খুব দ্রুত | ২.৩-২.৬ কেজি | ১.৫-১.৭ | উচ্চ মাংস উৎপাদন |
ব্রয়লার মুরগি পালন বই pdf
ব্রয়লার পালন শিখতে বই পড়া জরুরি। অনেক ভালো বই পাওয়া যায় বাজারে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বিনামূল্যে বই দেয়। তাদের ওয়েবসাইট থেকে pdf ডাউনলোড করা যায়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বইও পাওয়া যায়। “ব্রয়লার মুরগি পালন পদ্ধতি” নামে বই আছে। “আধুনিক মুরগি পালন” বইটিও উপকারী। এসব বইয়ে বিস্তারিত তথ্য থাকে। খাদ্য তালিকা থেকে রোগ চিকিৎসা সব আছে। pdf ফরম্যাটে ফোনে পড়া সুবিধা। অনলাইন লাইব্রেরিতে খুঁজে দেখুন। ফেসবুক গ্রুপেও শেয়ার করা হয়। প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকেও বই সংগ্রহ করুন। বই পড়ে জ্ঞান বাড়ান নিয়মিত। অভিজ্ঞতার সাথে বই মিলিয়ে কাজ করুন।
ব্রয়লার মুরগির ৩০ দিনের ওজন তালিকা
৩০ দিনে মুরগির ওজন বোঝা জরুরি। প্রথম দিন বাচ্চার ওজন ৪০-৪৫ গ্রাম। ৭ দিন বয়সে ১৫০-১৮০ গ্রাম হয়। ১৪ দিন বয়সে ৪৫০-৫৫০ গ্রাম ওজন। ২১ দিন বয়সে ৯০০-১১০০ গ্রাম হয়। ২৮ দিন বয়সে ১৫০০-১৮০০ গ্রাম ওজন। ৩০ দিনে ১৮০০-২২০০ গ্রাম হওয়া উচিত। ৩৫ দিনে ২২০০-২৫০০ গ্রাম ওজন হয়। এই হার অনুযায়ী বাড়লে ভালো। কম হলে বুঝবেন সমস্যা আছে। খাবার বাড়াতে হবে বা বদলাতে হবে। রোগ আছে কিনা পরীক্ষা করুন। প্রতি সপ্তাহে ওজন মাপার অভ্যাস করুন। এতে বৃদ্ধির হার বুঝতে পারবেন। মান অনুযায়ী না হলে ব্যবস্থা নিন।
৩০ দিনের ওজন বৃদ্ধি:
- ১ম সপ্তাহ: প্রতিদিন ১৫-২০ গ্রাম করে বাড়ে ওজন।
- ২য় সপ্তাহ: প্রতিদিন ৪০-৪৫ গ্রাম করে ওজন বাড়ে।
- ৩য় সপ্তাহ: প্রতিদিন ৬০-৬৫ গ্রাম করে বৃদ্ধি হয়।
- ৪র্থ সপ্তাহ: প্রতিদিন ৮০-৯০ গ্রাম করে ওজন বাড়ে।
ব্রয়লার মুরগির প্রোটিন ও পুষ্টিগুণ
ব্রয়লার মুরগিতে প্রোটিন প্রচুর পরিমাণে থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম মাংসে ২০-২৫ গ্রাম প্রোটিন। এটি শরীরের জন্য খুব ভালো। চর্বি কম থাকে মুরগির মাংসে। ভিটামিন বি কমপ্লেক্স পাওয়া যায়। আয়রন ও জিংক আছে পর্যাপ্ত। ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসও থাকে। শিশুদের বৃদ্ধির জন্য উপকারী। অসুস্থ মানুষের জন্য সহজে হজম হয়। খেলোয়াড়রা মাংসপেশি তৈরিতে খায়। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখা যায়। রান্না করা সহজ ও সময় কম লাগে। সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার। তবে অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক না। সপ্তাহে ২-৩ দিন খেলে ভালো। পরিমিত খেলে স্বাস্থ্যকর খাবার।
ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কি নিরাপদ
অনেকে জিজ্ঞাসা করেন নিরাপদ কিনা। সঠিকভাবে পালন করলে সম্পূর্ণ নিরাপদ। কিছু মিথ্যা ধারণা আছে মানুষের মধ্যে। হরমোন ইনজেকশন দেওয়া হয় এটা সত্য না। জাতের কারণেই দ্রুত বাড়ে মুরগি। অতিরিক্ত এন্টিবায়োটিক দেওয়া ঠিক না। বিক্রির আগে ৭ দিন ওষুধ দেওয়া বন্ধ রাখতে হয়। ভালো খামারিরা এই নিয়ম মানেন। বাজার থেকে কেনার সময় সাবধান থাকুন। তাজা ও সুস্থ মুরগি কিনুন সব সময়। দুর্গন্ধ বা রঙ বদলে গেলে কিনবেন না। ভালোভাবে রান্না করে খান সব সময়। কাঁচা বা আধা সেদ্ধ খাবেন না। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা মেনে চলুন রান্নায়। নিয়ম মেনে খেলে কোনো সমস্যা নেই।
ব্রয়লার মুরগি কতদিনে বিক্রির উপযুক্ত হয়
মুরগি বিক্রির উপযুক্ত হতে সময় লাগে। সাধারণত ৩০-৩৫ দিন সময় লাগে। ওজন ২-২.৫ কেজি হলে বিক্রি করা যায়। বাজার চাহিদা অনুযায়ী ওজন ঠিক করুন। কেউ ছোট মুরগি পছন্দ করেন। আবার কেউ বড় মুরগি চান। ২৮ দিনেও বিক্রি করা যায়। তবে লাভ কম হবে তখন। ৪০-৪৫ দিন রাখলে ওজন বেশি হয়। কিন্তু খরচও বেশি হয়ে যায়। সঠিক সময়ে বিক্রি করা বুদ্ধিমানের কাজ। বাজার দাম দেখে সিদ্ধান্ত নিন। দাম ভালো থাকলে তাড়াতাড়ি বিক্রি করুন। রোগ ছড়ানোর আগে বিক্রি করা উচিত। বেশি দিন রাখলে ঝুঁকি বাড়ে। তাই ৩০-৩৫ দিনই আদর্শ সময়।
বিক্রির উপযুক্ত সময় টেবিল:
| দিন | ওজন | খাদ্য খরচ | বিক্রয় মূল্য | লাভ |
| ২৮ দিন | ১.৫-১.৮ কেজি | ১৪০-১৬০ টাকা | ৩০০-৩৬০ টাকা | ১৪০-২০০ টাকা |
| ৩৫ দিন | ২.০-২.৫ কেজি | ১৬০-১৭৫ টাকা | ৪০০-৫০০ টাকা | ২২৫-৩২৫ টাকা |
| ৪২ দিন | ২.৫-৩.০ কেজি | ১৮০-২০০ টাকা | ৫০০-৬০০ টাকা | ৩০০-৪০০ টাকা |
ব্রয়লার মুরগির খামারের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র
খামার শুরুতে অনেক জিনিস লাগে। ঘর তৈরির জন্য টিন বা ইট দরকার। বাঁশ ও কাঠ ব্যবহার করা যায়। মেঝে পাকা করার জন্য সিমেন্ট লাগবে। তুষ বা কাঠের গুঁড়া বিছানার জন্য। খাবার পাত্র কিনতে হবে পর্যাপ্ত। পানির পাত্রও লাগবে অনেক। হিটার বা ব্রুডার দরকার শীতে। ফ্যান লাগবে গরমের সময়। থার্মোমিটার তাপমাত্রা মাপার জন্য। ওজন মাপার জন্য দাঁড়িপাল্লা কিনুন। ওষুধ ও টিকা রাখার বক্স দরকার। জীবাণুনাশক স্প্রে করার জন্য। বেড়া দেওয়ার জন্য নেট বা তার। আলো জ্বালানোর জন্য বাল্ব লাগবে। হিসাব রাখার জন্য খাতা ও কলম। এসব জিনিস আগে থেকে কিনে রাখুন।
ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা ফিড করার নিয়ম
বাচ্চা ফিড করা খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ। প্রথম দিন থেকেই স্টার্টার ফিড দিন। ফিড সূক্ষ্ম গুঁড়া হতে হবে। বড় দানা হলে বাচ্চা খেতে পারবে না। প্রথম ৩ দিন সমতল কাগজে ফিড ছড়িয়ে দিন। এরপর ছোট পাত্রে দিতে পারেন। দিনে ৪-৫ বার ফিড দিন। রাতেও ফিড থাকতে হবে সামনে। পানি ও ফিড কাছাকাছি রাখুন। বাচ্চা যেন সহজে পায় সবকিছু। পরিষ্কার পানি সব সময় দিতে হবে। প্রথম দিন গ্লুকোজ পানিতে মেশান। ভিটামিন সি মেশাতে পারেন পানিতে। ১০ দিন পর গ্রোয়ার ফিড শুরু করুন। ধীরে ধীরে বদলান ফিড। হঠাৎ বদলালে সমস্যা হতে পারে। ফিড খাচ্ছে কিনা প্রতিদিন দেখুন।
বাচ্চা ফিডিং সময়সূচি:
- সকাল ৬টা: প্রথম বার ফিড ও পানি দিন সকালে।
- সকাল ১০টা: দ্বিতীয়বার ফিড দিয়ে পাত্র পরিষ্কার করুন।
- দুপুর ২টা: দুপুরের ফিড দিন পর্যাপ্ত পরিমাণে।
- সন্ধ্যা ৬টা: সন্ধ্যায় ফিড দিয়ে রাতের জন্য রাখুন।
ব্রয়লার মুরগির খাদ্য তৈরি করার উপকরণ
নিজে খাদ্য তৈরি করতে চাইলে উপকরণ লাগবে। ভুট্টা প্রধান উপকরণ শক্তির জন্য। ভুট্টা ভেঙে নিতে হবে মিহি করে। সয়াবিন মিল প্রোটিনের উৎস। এটি ৩০-৩৫% মিশাতে হবে। চালের কুঁড়া ভিটামিন বি সমৃদ্ধ। তিল বা সরিষার খৈল দেওয়া যায়। ঝিনুকের গুঁড়া ক্যালসিয়ামের জন্য দরকার। লবণ সামান্য ০.৩% মেশাতে হবে। ভিটামিন ও মিনারেল প্রিমিক্স কিনতে হবে। মাছের গুঁড়া দিলে প্রোটিন বাড়ে। হাড়ের গুঁড়া ফসফরাসের উৎস। লাইসিন ও মিথিওনিন অ্যামাইনো এসিড দরকার। এসব উপকরণ ভালো মানের কিনুন। পচা বা নষ্ট উপকরণ ব্যবহার করবেন না। সঠিক অনুপাতে মিশিয়ে ফিড তৈরি করুন।
ব্রয়লার মুরগির দৈনিক যত্ন
প্রতিদিন মুরগির যত্ন নিতে হয়। সকালে খামারে গিয়ে মুরগি দেখুন। কোনো মৃত মুরগি আছে কিনা পরীক্ষা করুন। খাবার ও পানির পাত্র পরিষ্কার করুন। তাজা ফিড ও পানি দিন। পুরনো ফিড ফেলে দিতে হবে। মেঝের বিছানা ভেজা হলে বদলান। তাপমাত্রা দেখুন থার্মোমিটার দিয়ে। গরম বা ঠান্ডা বেশি হলে ব্যবস্থা নিন। অসুস্থ মুরগি আলাদা করে ফেলুন। আলো-বাতাস ঠিক আছে কিনা দেখুন। দুপুরে আবার একবার দেখতে যান। সন্ধ্যায় শেষবারের মতো দেখুন সব। রাতে পর্যাপ্ত খাবার রেখে আসুন। প্রতিদিন এভাবে যত্ন নিলে সুস্থ থাকবে।
ব্রয়লার মুরগি পালন লাভ ও ক্ষতি বিশ্লেষণ
লাভ ক্ষতি বিশ্লেষণ করা খুব জরুরি। ১০০ মুরগি পালনে খরচ ২৫০০০-২৬০০০ টাকা। প্রতিটি মুরগি ২.২ কেজি ওজন হলে। প্রতি কেজি ২০০ টাকা হলে বিক্রয় মূল্য ৪৪০ টাকা। ১০০ মুরগিতে মোট বিক্রয় ৪৪০০০ টাকা। মোট লাভ হয় ১৮০০০-১৯০০০ টাকা। ৩৫ দিনে এই লাভ অনেক ভালো। কিন্তু ক্ষতির ঝুঁকিও আছে। রোগে ২০-৩০% মুরগি মরতে পারে। বাজার দাম কমলে লাভ কমে যায়। খাবারের দাম বাড়লে খরচ বেশি হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগেও ক্ষতি হতে পারে। তাই সাবধানে পরিকল্পনা করুন। বীমা করানোর কথা ভাবতে পারেন। ছোট করে শুরু করুন প্রথমবার। অভিজ্ঞতা হলে বড় করা যাবে।
লাভ-ক্ষতি হিসাব টেবিল:
| খাত | পরিমাণ (১০০ মুরগি) | টাকা |
| বাচ্চা ক্রয় | ১০০টি × ৪৫ টাকা | ৪৫০০ টাকা |
| খাদ্য খরচ | ১০০টি × ১৭০ টাকা | ১৭০০০ টাকা |
| ওষুধ ও টিকা | ১০০টি × ২০ টাকা | ২০০০ টাকা |
| অন্যান্য | বিদ্যুৎ ও যত্ন | ১৫০০ টাকা |
| মোট খরচ | ২৫০০০ টাকা | |
| বিক্রয় আয় | ১০০টি × ৪৪০ টাকা | ৪৪০০০ টাকা |
| নিট লাভ | ১৯০০০ টাকা |
ব্রয়লার মুরগি পালন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
প্রশিক্ষণ নিলে ব্যবসা ভালো হয়। বাংলাদেশে অনেক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর প্রশিক্ষণ দেয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও দেয়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোর্স আছে। বেসরকারি সংস্থাও প্রশিক্ষণ দেয়। ব্র্যাক ও আশা এর প্রশিক্ষণ ভালো। মাসব্যাপী কোর্স করতে পারেন। ছোট ৭ দিনের কোর্সও আছে। হাতে-কলমে শেখানো হয় সেখানে। খামার পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হয়। সার্টিফিকেটও দেওয়া হয় শেষে। প্রশিক্ষণ ফি ৩০০০-৫০০০ টাকা হতে পারে। কিছু কোর্স বিনামূল্যে হয়। স্থানীয় অফিসে খোঁজ নিন। প্রশিক্ষণ নিলে ভুল কম হবে।
ব্রয়লার মুরগির বৃদ্ধি না হলে করণীয়
মুরগির বৃদ্ধি না হলে চিন্তিত হবেন না। প্রথমে কারণ খুঁজে বের করুন। খাবারে প্রোটিন কম থাকতে পারে। ফিড বদলে দেখতে পারেন। পানির অভাবে বৃদ্ধি কমে যায়। পর্যাপ্ত পানি দিন সব সময়। তাপমাত্রা বেশি গরম বা ঠান্ডা হলে সমস্যা। ঘরের তাপমাত্রা ঠিক করুন। রোগ থাকলে বৃদ্ধি হয় না। পশু চিকিৎসক দেখান দ্রুত। পেটে কৃমি থাকতে পারে। কৃমিনাশক ওষুধ দিন। ভিটামিনের অভাবে বৃদ্ধি কমে। ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট দিতে পারেন। ভিড় বেশি হলে বৃদ্ধি কমে। মুরগি কমিয়ে দিন বা ঘর বড় করুন। স্ট্রেসে থাকলেও বৃদ্ধি হয় না। শান্ত পরিবেশ রাখার চেষ্টা করুন।
বৃদ্ধি না হলে চেকলিস্ট:
- খাবার: প্রোটিন ও শক্তি পর্যাপ্ত আছে কিনা দেখুন।
- পানি: সারাদিন তাজা পানি পাচ্ছে কিনা পরীক্ষা করুন।
- তাপমাত্রা: ঘরের তাপমাত্রা ২৫-৩০ ডিগ্রি রাখুন সব সময়।
- স্বাস্থ্য: রোগের লক্ষণ আছে কিনা প্রতিদিন দেখুন।
ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন বাড়ানোর টিপস
উৎপাদন বাড়াতে চাইলে কিছু টিপস মানুন। প্রথমত ভালো জাতের বাচ্চা কিনুন। নামি হ্যাচারি থেকে বাচ্চা কিনুন। মানসম্মত ফিড ব্যবহার করুন সব সময়। কোম্পানির ফিড ভালো হয় সাধারণত। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। প্রতিদিন ঘর পরিষ্কার করুন ভালোভাবে। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করুন যন্ত্র দিয়ে। গরমে ফ্যান আর শীতে হিটার চালান। সময়মতো টিকা দিন সবগুলো। রোগ প্রতিরোধই সবচেয়ে ভালো উপায়। ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট দিন নিয়মিত। স্ট্রেস কমাতে শব্দ কম করুন। আলো-বাতাসের সুব্যবস্থা করুন ঘরে। নিয়মিত ওজন মাপুন প্রতি সপ্তাহে। হিসাব রেখে কাজ করুন সব সময়।
ব্রয়লার মুরগির খাদ্যে কোন ভিটামিন দরকার
মুরগির খাদ্যে ভিটামিন খুব জরুরি। ভিটামিন এ চোখ ও চামড়ার জন্য দরকার। এর অভাবে অন্ধত্ব হতে পারে। ভিটামিন ডি হাড় মজবুত করে। ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে। সূর্যের আলো থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। ভিটামিন ই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। প্রজনন ক্ষমতাও ভালো রাখে। ভিটামিন কে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। ভিটামিন বি কমপ্লেক্স শক্তি উৎপাদন করে। স্নায়ুতন্ত্র ভালো রাখে এটি। ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধে কাজ করে। স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। বাজারে ভিটামিন প্রিমিক্স পাওয়া যায়। সেটি খাবারে মেশান নিয়মিত। পানিতেও দেওয়া যায় ভিটামিন।
ব্রয়লার মুরগির জন্য সেরা ফিড কোম্পানি
বাংলাদেশে অনেক ফিড কোম্পানি আছে। কোয়ালিটি ফিড লিমিটেড একটি ভালো কোম্পানি। তাদের ফিড মান ভালো হয়। নেভিগেশন ফিড মিলস জনপ্রিয় কোম্পানি। সাউদিয়া ফিড বেশ নামকরা। সিপি বাংলাদেশের ফিড অনেকে ব্যবহার করেন। প্যারাগন পোল্ট্রি লিমিটেডও ভালো। আফতাব ফিড মিলস নাম শুনেছেন হয়তো। মজুমদার ফিড মিলসও ভালো। ফিড কেনার সময় কিছু বিষয় দেখুন। প্রোটিনের পরিমাণ দেখে কিনুন। মেয়াদ উত্তীর্ণ কিনা পরীক্ষা করুন। দাম যুক্তিসংগত কিনা দেখুন। অভিজ্ঞ খামারিদের পরামর্শ নিন। একবারে বেশি না কিনে ছোট প্যাকেট কিনুন। ভালো কাজ করলে পরে বেশি কিনবেন। স্থানীয় ডিলারের সাথে যোগাযোগ রাখুন।
ব্রয়লার মুরগির ব্যবসা শুরু করার ধাপ

ব্যবসা শুরু করতে হলে ধাপে ধাপে এগোতে হবে। প্রথম ধাপ হলো পরিকল্পনা করা। কত মুরগি পালবেন সেটা ঠিক করুন। দ্বিতীয় ধাপ হলো জায়গা নির্বাচন। উঁচু ও শুকনো জায়গা খুঁজুন। তৃতীয় ধাপ ঘর তৈরি করা। মজবুত ও পরিষ্কার ঘর বানান। চতুর্থ ধাপ প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা। খাবার পাত্র, পানির পাত্র সব কিনুন। পঞ্চম ধাপ ভালো বাচ্চা কেনা। সুস্থ বাচ্চা নির্বাচন করুন সাবধানে। ষষ্ঠ ধাপ সঠিক খাবার দেওয়া। মানসম্মত ফিড ব্যবহার করুন। সপ্তম ধাপ নিয়মিত যত্ন নেওয়া। প্রতিদিন মুরগি দেখুন মনোযোগ দিয়ে। অষ্টম ধাপ রোগ প্রতিরোধ করা। টিকা ও ওষুধ সময়মতো দিন। নবম ধাপ সঠিক সময়ে বিক্রি। বাজার দাম দেখে বিক্রি করুন। দশম ধাপ হিসাব রাখা। লাভ-ক্ষতি হিসাব রাখুন নিয়মিত।
ব্যবসা শুরুর ধাপসমূহ:
- পরিকল্পনা: কত মুরগি পালবেন এবং কত টাকা খরচ হবে।
- স্থান নির্বাচন: ভালো জায়গা খুঁজে বের করুন আগে।
- ঘর নির্মাণ: মজবুত ও পরিষ্কার ঘর তৈরি করুন ভালোভাবে।
- যন্ত্রপাতি: প্রয়োজনীয় সব জিনিস কিনে নিন আগেই।
খামার প্রস্তুতি টেবিল:
| কাজ | সময় | খরচ (আনুমানিক) | গুরুত্ব |
| ঘর তৈরি | ১৫-২০ দিন | ৫০,০০০-৮০,০০০ টাকা | অত্যন্ত জরুরি |
| যন্ত্রপাতি কেনা | ৩-৫ দিন | ১৫,০০০-২৫,০০০ টাকা | খুব জরুরি |
| বাচ্চা কেনা | ১ দিন | ৪,৫০০-৫,০০০ টাকা | জরুরি |
| ফিড মজুদ | ২-৩ দিন | ১৭,০০০-২০,০০০ টাকা | অত্যন্ত জরুরি |
উপসংহার
ব্রয়লার মুরগি পালন একটি লাভজনক ব্যবসা। সঠিক পরিকল্পনা ও যত্ন নিলে সফল হওয়া যায়। ছোট পুঁজি দিয়ে শুরু করা যায় এই ব্যবসা। মাত্র ৩০-৩৫ দিনে বিক্রি করা যায়। প্রতি ব্যাচে ভালো লাভ হতে পারে। তবে নিয়ম মেনে চলতে হবে সব সময়। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা খুব জরুরি বিষয়। মানসম্মত খাবার ও পানি দিতে হবে। রোগ প্রতিরোধে টিকা দেওয়া বাধ্যতামূলক। বাজার দর সম্পর্কে জানতে হবে নিয়মিত। অভিজ্ঞতা না থাকলে প্রশিক্ষণ নিন। ছোট করে শুরু করুন প্রথমে। ধৈর্য ধরে কাজ করতে হবে। প্রথমবার ক্ষতি হতে পারে। তাই হতাশ না হয়ে চেষ্টা চালান। নিয়মিত হিসাব রাখুন সব খরচের। সফল খামারিদের পরামর্শ নিন। সঠিক পদ্ধতি মানলে ব্যবসা এগিয়ে যাবে। মনোযোগ ও পরিশ্রম দিয়ে কাজ করুন। আশা করি এই লেখা আপনার কাজে লাগবে।
লেখকের নোট: এই নিবন্ধে ব্রয়লার মুরগি পালনের সব দিক তুলে ধরা হয়েছে। আশা করি আপনার উপকারে আসবে। সফল হোক আপনার খামার। ধন্যবাদ।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী(FAQs)
ব্রয়লার মুরগি পালনে কত টাকা লাগে?
১০০ মুরগি পালনে প্রায় ২৫-৩০ হাজার টাকা লাগে। এর মধ্যে বাচ্চা, খাবার ও ওষুধ সব আছে। ঘর তৈরিতে প্রথমবার বেশি খরচ হয়। পরবর্তীতে শুধু বাচ্চা ও খাবারের খরচ।
ব্রয়লার মুরগি কতদিনে বড় হয়?
সাধারণত ৩০-৩৫ দিনে বিক্রির উপযুক্ত হয়। তখন ওজন ২-২.৫ কেজি হয়। ভালো যত্ন নিলে তাড়াতাড়ি বাড়ে। ২৮ দিনেও বিক্রি করা যায় কম ওজনে।
ব্রয়লার মুরগির খাবার কোথায় পাবো?
স্থানীয় ফিড ডিলারের দোকানে পাওয়া যায়। বড় শহরে কোম্পানির শোরুম আছে। অনলাইনেও অর্ডার করা যায় এখন। কৃষি বাজারেও ফিড পাওয়া যায়।
ব্রয়লার মুরগির রোগ কীভাবে প্রতিরোধ করবো?
নিয়মিত টিকা দিতে হবে সময়মতো। ঘর পরিষ্কার রাখতে হবে সব সময়। জীবাণুনাশক স্প্রে করুন প্রতি সপ্তাহে। অসুস্থ মুরগি আলাদা করে ফেলুন দ্রুত।
ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কি স্বাস্থ্যকর?
হ্যাঁ, সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ। প্রচুর প্রোটিন আছে এতে। চর্বি কম থাকে মাংসে। ভিটামিন ও খনিজ পাওয়া যায়। ভালোভাবে রান্না করে খেতে হবে।
ব্রয়লার মুরগির খামারে কত জায়গা লাগে?
প্রতি ১০০ মুরগিতে ৪০০ বর্গফুট জায়গা দরকার। বেশি ভিড় করলে রোগ হতে পারে। পর্যাপ্ত জায়গা থাকলে ভালো বাড়ে। বাতাস চলাচলের জায়গা রাখুন।
ব্রয়লার মুরগি পালনে লাভ কত?
প্রতি মুরগিতে ১৫০-২৫০ টাকা লাভ হয়। ১০০ মুরগিতে ১৫-২৫ হাজার টাকা লাভ। ৩৫ দিনে এই লাভ ভালো। বছরে ৮-১০ ব্যাচ করা যায়।
ব্রয়লার মুরগির ওজন কমে গেলে কী করবো?
খাবারে প্রোটিন বাড়াতে হবে। ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট দিন পানিতে। রোগ আছে কিনা পরীক্ষা করুন। পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন দ্রুত।
কোন জাতের ব্রয়লার ভালো?
কব ৫০০ সবচেয়ে জনপ্রিয় জাত। রস ৩০৮ দ্রুত বাড়ে। লোহমান ও হাবার্ডও ভালো। নামি হ্যাচারি থেকে কিনুন বাচ্চা।
ব্রয়লার খামারে বিদ্যুৎ বিল কত হয়?
১০০ মুরগিতে মাসে ১০০০-১৫০০ টাকা হয়। ফ্যান ও হিটার চালালে বেশি হয়। সোলার প্যানেল ব্যবহার করতে পারেন। খরচ কমবে অনেকটা।
ব্রয়লার মুরগি কোথায় বিক্রি করবো?
স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে পারেন। পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করুন। হোটেল ও রেস্তোরাঁয় সরবরাহ করুন। অনলাইনেও বিক্রি করা যায় এখন।
ব্রয়লার মুরগির টিকা কখন দিতে হয়?
প্রথম সপ্তাহে রানিক্ষেত টিকা দিন। দ্বিতীয় সপ্তাহে গাম্বোরো টিকা দিতে হয়। তৃতীয় সপ্তাহে আবার রানিক্ষেত বুস্টার দিন। পশু চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।
ব্রয়লার মুরগির মৃত্যুহার কত?
সাধারণত ৫-১০% মৃত্যুহার স্বাভাবিক। ভালো যত্ন নিলে ৩-৫% হয়। রোগ ছড়ালে ২০-৩০% মরতে পারে। প্রতিরোধই সবচেয়ে ভালো উপায়।
ব্রয়লার খামারে কতজন শ্রমিক লাগে?
৫০০ মুরগিতে ১ জন শ্রমিক যথেষ্ট। ১০০০ মুরগিতে ২ জন দরকার। বড় খামারে বেশি লোক লাগবে। অভিজ্ঞ শ্রমিক নিয়োগ দিন।
ব্রয়লার মুরগি পালনে ঝুঁকি কী কী?
রোগ হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বাজার দাম কমে যেতে পারে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ হতে পারে। খাবারের দাম বাড়তে পারে। তবে সাবধানে করলে ঝুঁকি কম।
🔥 পোস্টটি শেয়ার করুনঃ 🌍






