বাংলাদেশের কৃষিতে বোরো ধান একটি গুরুত্বপূর্ণ ফসল। এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় বিশাল ভূমিকা রাখে। শীতকালে চাষ করা এই ধান বছরের সবচেয়ে বেশি ফলন দেয়। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করলে লাভ বেশি হয়। আজকের লেখায় বোরো ধান চাষের সব কিছু জানাব।
বোরো ধান কি
বোরো ধান হলো শীতকালে চাষ করা একটি ধান। এটি নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরে রোপণ করা হয়। এপ্রিল থেকে মে মাসে এই ধান কাটা হয়। শীতের শুষ্ক আবহাওয়া এই ধানের জন্য উপযুক্ত। সেচ দিয়ে চাষ করতে হয় বলে এটি সেচনির্ভর ধান। বাংলাদেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৫৫ শতাংশ আসে বোরো থেকে। এই ধান দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। আমন ও আউশ ধানের চেয়ে এর ফলন বেশি। সেই কারণে কৃষকরা এই ধান চাষে বেশি আগ্রহী।
বোরো ধানের বৈশিষ্ট্য

বোরো ধানের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি দীর্ঘ জীবনকালের ধান। সাধারণত ১৪০ থেকে ১৫৫ দিন সময় লাগে পাকতে। এই ধান শীতের ঠাণ্ডা সহ্য করতে পারে। তবে বেশি ঠাণ্ডায় ক্ষতি হতে পারে। বোরো ধানের চারা শক্তিশালী হয়। শিকড় গভীরে যায় বলে গাছ মজবুত থাকে। এই ধানের দানা সাধারণত মাঝারি থেকে চিকন হয়। সেচের পানি নিয়মিত দিতে হয় এই ধানে। রোদের আলো প্রচুর পেলে ফলন ভালো হয়। পোকামাকড়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম হয়। বোরো ধান সংরক্ষণ করা সহজ কারণ এটি শুষ্ক মৌসুমে কাটা হয়।
বোরো ধান চাষ
এই ধান চাষ করা খুব একটা কঠিন নয়। প্রথমে উপযুক্ত জমি নির্বাচন করতে হবে। জমি ভালোভাবে চাষ দিয়ে তৈরি করতে হয়। মাটি নরম ও সমান করা জরুরি। চারা তৈরির জন্য বীজতলা বানাতে হবে। ভালো বীজ নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বীজতলায় বীজ বপনের ২৫-৩০ দিন পর চারা রোপণ করা হয়। সারি করে চারা লাগালে পরিচর্যা সহজ হয়। নিয়মিত সেচ ও আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। সঠিক সময়ে সার প্রয়োগ করলে ফলন ভালো হয়।
বোরো ধানের জাত
বাংলাদেশে অনেক ধরনের বোরো ধানের জাত রয়েছে। প্রতিটি জাতের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে। কিছু জাত বেশি ফলন দেয়। কিছু জাত রোগ প্রতিরোধী। আবার কিছু জাত কম সময়ে পাকে। ব্রি ধান-২৮ সবচেয়ে জনপ্রিয় জাত। এছাড়া ব্রি ধান-২৯, ব্রি ধান-৫০ ও ব্রি ধান-৮৮ চাষ হয়। হাইব্রিড জাতও কৃষকদের কাছে প্রিয়। জমির মাটি ও আবহাওয়া অনুযায়ী জাত বেছে নিতে হয়। স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ নেওয়া ভালো। সঠিক জাত নির্বাচন করলে লাভ বেশি হয়।
বোরো ধানের উৎপাদন
বাংলাদেশে এই ধানের উৎপাদন দিন দিন বাড়ছে। আধুনিক জাত ও প্রযুক্তির কারণে ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ৪-৫ টন ধান পাওয়া যায়। ভালো চাষাবাদে এটি ৬-৭ টন পর্যন্ত হতে পারে। সেচ সুবিধা থাকলে উৎপাদন নিশ্চিত হয়। সার ও কীটনাশক সঠিক ব্যবহার জরুরি। আবহাওয়াও ফলনে বড় প্রভাব ফেলে। কৃষি বিভাগ নতুন নতুন পদ্ধতি শেখাচ্ছে। ফলে কৃষকরা আরও বেশি ধান পাচ্ছেন। বোরো ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
উচ্চ ফলনশীল বোরো ধানের জাত
উচ্চ ফলনশীল জাত কী:
- এই জাতগুলো সাধারণ জাতের চেয়ে বেশি ধান দেয়।
- বৈজ্ঞানিকভাবে উন্নত করা হয় এসব জাত।
- প্রতি হেক্টরে ৫-৭ টন পর্যন্ত ফলন হতে পারে।
- রোগ ও পোকামাকড় প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকে।
- কম সময়ে পাকে তাই খরচ কম হয়।
উচ্চ ফলনশীল জাতের মধ্যে ব্রি ধান-২৮ সবচেয়ে জনপ্রিয়। এটি ১৪০-১৪৫ দিনে পাকে। হেক্টরপ্রতি ৬-৭ টন ফলন দিতে পারে। ব্রি ধান-২৯ আরেকটি ভালো জাত। এটি একটু বেশি সময় নেয় কিন্তু ফলন ভালো। ব্রি ধান-৫০ খরা সহনশীল জাত। কম পানিতেও ভালো ফলন দেয়। ব্রি ধান-৮৮ স্বল্প জীবনকালের জাত। মাত্র ১৩৫-১৪০ দিনে পাকে। এই জাতগুলো কৃষি বিভাগ থেকে অনুমোদিত।
উন্নত বোরো ধানের জাত
উন্নত জাত মানে যেসব জাতে বিশেষ গুণ থাকে। এই জাতগুলো রোগ সহনশীল। পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়। আবহাওয়ার পরিবর্তনে টিকে থাকে ভালো। দানার মান উন্নত হয় এসব জাতে। ব্রি ধান-৫৮ একটি জিঙ্ক সমৃদ্ধ জাত। এতে পুষ্টিগুণ বেশি থাকে। ব্রি ধান-৮১ লবণাক্ততা সহনশীল জাত। উপকূলীয় এলাকায় ভালো হয়। ব্রি ধান-৮৯ আধুনিক উন্নত জাত। এর ফলন ও দানার মান দুটোই ভালো। এসব জাত চাষে কৃষকরা বেশি লাভবান হচ্ছেন। নতুন জাত উদ্ভাবনে গবেষণা চলছে।
হাইব্রিড বোরো ধানের জাত
হাইব্রিড ধান মানে দুটো ভিন্ন জাতের মিশ্রণ। এই ধান বেশি ফলন দেয় সাধারণ ধানের চেয়ে। তবে বীজের দাম একটু বেশি। হাইব্রিড বীজ প্রতি বছর নতুন করে কিনতে হয়। হেক্টরপ্রতি ৭-৯ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। ধান-শাইল, সোনালী, তেজ এসব জনপ্রিয় হাইব্রিড জাত। এই ধান একটু বেশি যত্ন চায়। সার ও সেচ নিয়মিত দিতে হয়। হাইব্রিড ধানের দানা সাধারণত লম্বা ও সরু হয়। বাজারে এর দাম একটু বেশি পাওয়া যায়। তবে খরচ বেশি হওয়ায় লাভ হিসাব করে চাষ করা ভালো।
ব্রি বোরো ধানের জাত
ব্রি জাতের বিশেষত্ব:
- বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এগুলো উদ্ভাবন করে।
- স্থানীয় আবহাওয়ার জন্য উপযোগী করে তৈরি।
- প্রতিটি জাতের নিজস্ব কোড নম্বর থাকে।
- সরকারি অনুমোদন পাওয়া নিরাপদ জাত।
- বীজ সহজে পাওয়া যায় কৃষি অফিস থেকে।
ব্রি ধান-২৮ সবচেয়ে বেশি চাষ হয় বাংলাদেশে। এটি ১৪০-১৪৫ দিনে পাকে। ভালো যত্নে হেক্টরে ৬-৭ টন ফলন দেয়। ব্রি ধান-২৯ একটু দেরিতে পাকে। প্রায় ১৫০-১৫৫ দিন সময় লাগে। কিন্তু ফলন ভালো হয় এবং দানা চিকন। ব্রি ধান-৫০ খরা সহনশীল হওয়ায় জনপ্রিয়। কম পানিতেও ভালো ফলন দেয়। ব্রি ধান-৮৮ দ্রুত পাকে। মাত্র ১৩৫-১৪০ দিনেই কাটা যায়। ব্রি ধান-৮৯ নতুন জাত। এর দানার মান ও ফলন দুটোই চমৎকার।
আধুনিক বোরো ধানের জাত
আধুনিক জাত মানে সাম্প্রতিককালে উদ্ভাবিত ধানের জাত। এসব জাতে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খায় এমন জাত। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকে। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ হয় এই ধানে। ব্রি ধান-৯২ একটি আধুনিক জাত। এতে জিঙ্কের পরিমাণ বেশি। ব্রি ধান-৯৬ লবণাক্ততা ও খরা উভয় সহ্য করে। ব্রি ধান-১০০ স্বল্প জীবনকালের আধুনিক জাত। এসব জাত এখনও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। আগামী দিনে এগুলোই প্রধান হবে।
বোরো ধান চাষ পদ্ধতি
এই ধান চাষের প্রথম ধাপ জমি নির্বাচন। সমতল ও উর্বর জমি বেছে নিতে হবে। জমিতে পানি ধরে রাখার ক্ষমতা থাকা জরুরি। জমি ৩-৪ বার চাষ দিয়ে নরম করতে হয়। আগাছা পরিষ্কার করে মাটি সমান করা প্রয়োজন। বীজতলা তৈরি করে সেখানে বীজ বপন করতে হয়। ভালো বীজ নির্বাচন ফলনের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। বীজ শোধন করে নেওয়া উচিত রোগ থেকে বাঁচতে। ২৫-৩০ দিনের চারা রোপণের জন্য উপযুক্ত। চারা সারি করে ২০×২০ সেমি দূরত্বে লাগাতে হয়। রোপণের পর পানি দিয়ে জমি ভেজা রাখতে হবে।
আধুনিক বোরো ধান চাষ পদ্ধতি
আধুনিক পদ্ধতির সুবিধা:
- বৈজ্ঞানিক উপায়ে চাষ করলে ফলন বাড়ে।
- যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সময় ও শ্রম বাঁচে।
- সঠিক সার ব্যবস্থাপনায় খরচ কমে।
- রোগ ও পোকা নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।
- মাটি পরীক্ষা করে সার দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
আধুনিক পদ্ধতিতে প্রথমে মাটি পরীক্ষা করা হয়। মাটির উর্বরতা অনুযায়ী সার দেওয়া হয়। ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করলে কাজ দ্রুত হয়। পাওয়ার টিলার দিয়ে মই দিলে মাটি ভালো হয়। মেশিনে বীজ বপন করলে সারি সমান থাকে। চারা রোপণ মেশিনও এখন পাওয়া যায়। স্প্রে মেশিনে সার ও কীটনাশক দেওয়া সহজ। ড্রিপ সেচ পদ্ধতি পানি বাঁচায়। কম্বাইন হার্ভেস্টারে ধান কাটা ও মাড়াই একসাথে হয়। এভাবে আধুনিক যন্ত্র ব্যবহারে চাষ সহজ ও লাভজনক হচ্ছে।
বোরো ধান লাগানোর সময়
এই ধান লাগানোর সঠিক সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নভেম্বরের শেষ থেকে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি উপযুক্ত সময়। এই সময় আবহাওয়া ধান চাষের জন্য ভালো থাকে। বীজতলায় বীজ বপন করতে হয় নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। ২৫-৩০ দিন পর চারা রোপণের উপযুক্ত হয়। ডিসেম্বরের ১৫ তারিখের মধ্যে রোপণ শেষ করা ভালো। দেরি হলে ফলন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় চারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই সময়মতো রোপণ জরুরি। এলাকাভেদে সময়ের কিছু তারতম্য হতে পারে। স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বোরো ধান রোপণের নিয়ম
চারা রোপণের আগে জমি ভালোভাবে তৈরি করতে হবে। মাটি কাদাময় ও সমান হতে হবে। ২৫-৩০ দিনের সুস্থ চারা বেছে নিতে হয়। প্রতি গুছিতে ২-৩ টি চারা লাগানো ভালো। চারা সারিবদ্ধভাবে লাগালে পরিচর্যা সহজ হয়। সারি থেকে সারির দূরত্ব ২০ সেমি রাখতে হবে। গাছ থেকে গাছের দূরত্বও ২০ সেমি হলে ভালো। চারা ২-৩ সেমি গভীরে রোপণ করতে হয়। বেশি গভীরে লাগালে বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। রোপণের পর জমিতে ৫-৭ সেমি পানি রাখা প্রয়োজন। চারা শক্ত হওয়া পর্যন্ত যত্ন নিতে হবে।
বোরো ধান চাষের সময়সূচি
| কাজের নাম | সময় | মন্তব্য |
| বীজতলায় বীজ বপন | নভেম্বর ১-১০ | ভালো বীজ নির্বাচন জরুরি |
| চারা রোপণ | ডিসেম্বর ১-১৫ | সময়মতো লাগানো গুরুত্বপূর্ণ |
| প্রথম সার প্রয়োগ | রোপণের ৭-১০ দিন পর | ইউরিয়া ও এমওপি |
| দ্বিতীয় সার প্রয়োগ | কুশি আসার সময় | ইউরিয়া ও পটাশ |
| তৃতীয় সার প্রয়োগ | থোড় আসার আগে | শেষ ডোজ ইউরিয়া |
| ধান কাটা | এপ্রিল-মে | পেকে গেলে দ্রুত কাটা |
বোরো ধান চাষে পরিকল্পনা মেনে চললে ভালো ফলন পাওয়া যায়। প্রতিটি ধাপে সময় মেনে কাজ করতে হবে। বীজতলা তৈরি থেকে শুরু করে ধান কাটা পর্যন্ত প্রায় ৬-৭ মাস লাগে। এই সময়ে নিয়মিত পরিচর্যা জরুরি। সার, সেচ, আগাছা পরিষ্কার সবকিছু সময়মতো করতে হবে। রোগ ও পোকার আক্রমণ দেখলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হয়। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করে সেচ ও অন্যান্য কাজ করা উচিত। সময়সূচি মেনে চাষ করলে ফলন ভালো হয় এবং লাভও বেশি পাওয়া যায়।
বোরো ধানে সার ব্যবস্থাপনা
এই ধানে সার ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সঠিক পরিমাণে সার দিলে ফলন ভালো হয়। বেশি সার দিলে খরচ বাড়ে কিন্তু লাভ হয় না। কম সার দিলে গাছ দুর্বল হয় এবং ফলন কমে। মাটি পরীক্ষা করে সার দেওয়া সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি। জৈব সার ব্যবহার করলে মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকে। রাসায়নিক সার নির্দিষ্ট মাত্রায় দিতে হয়। ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি ও জিপসাম প্রধান সার। প্রতিটি সার আলাদা সময়ে দিতে হয়। ইউরিয়া কয়েক ভাগে ভাগ করে দেওয়া হয়। জমির উর্বরতা অনুযায়ী সারের মাত্রা ঠিক করা উচিত।
বোরো ধানে কোন সার দিতে হয়
প্রধান সারের তালিকা:
- ইউরিয়া – নাইট্রোজেনের উৎস, গাছের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
- টিএসপি – ফসফরাসের উৎস, শিকড় ও থোড় গঠনে জরুরি।
- এমওপি – পটাশিয়ামের উৎস, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
- জিপসাম – সালফারের উৎস, দানার মান উন্নত করে।
- জিংক সালফেট – জিংকের অভাব পূরণ করে।
এই ধানে ইউরিয়া সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এটি গাছের বৃদ্ধি ও পাতা সবুজ রাখতে সাহায্য করে। টিএসপি শিকড় মজবুত করে এবং থোড় ভালো হয়। এমওপি ধানের দানা পুষ্ট করে এবং রোগ প্রতিরোধ করে। জিপসাম সালফার সরবরাহ করে যা প্রোটিন তৈরিতে কাজ করে। জিংক সালফেট জিংকের অভাব পূরণ করে। বোরন সার দানা পূর্ণ হতে সাহায্য করে। জৈব সার যেমন গোবর বা কম্পোস্ট মাটির গুণ বাড়ায়। প্রতিটি সারের নির্দিষ্ট কাজ আছে। সব সার একসাথে না দিয়ে পর্যায়ক্রমে দিতে হয়।
বোরো ধানের সারের মাত্রা
এই ধানে সারের সঠিক মাত্রা জানা জরুরি। সাধারণত হেক্টরপ্রতি হিসাব করা হয় সার। ইউরিয়া দিতে হয় ২২০-২৫০ কেজি। টিএসপি প্রয়োজন ১৫০-১৮০ কেজি। এমওপি লাগে ১০০-১২০ কেজি। জিপসাম দিতে হয় ১২০-১৫০ কেজি। জিংক সালফেট ১০-১৫ কেজি যথেষ্ট। জমির উর্বরতা কম হলে একটু বেশি দিতে হবে। উর্বর জমিতে কিছু কম দিলেও চলে। জৈব সার ৫-৭ টন হেক্টরে দেওয়া যায়। মাটি পরীক্ষা করে সঠিক মাত্রা জানা ভালো। বেশি সার দিলে গাছ পেকে যায় এবং ফলন কমে।
বোরো ধানে ইউরিয়া প্রয়োগ
| প্রয়োগের সময় | পরিমাণ (%) | কাজ |
| রোপণের ৭-১০ দিন পর | ৩৩% | প্রাথমিক বৃদ্ধি |
| কুশি আসার সময় | ৩৩% | কুশি বৃদ্ধি |
| থোড় আসার আগে | ৩৩% | দানা গঠন |
ইউরিয়া তিন ভাগে ভাগ করে দিতে হয়। একসাথে দিলে অনেকটা নষ্ট হয়ে যায়। প্রথম ডোজ রোপণের ৭-১০ দিন পর দিতে হবে। এসময় চারা শক্ত হয় ও পাতা বৃদ্ধি পায়। দ্বিতীয় ডোজ কুশি আসার সময় দিতে হয়। এতে কুশির সংখ্যা বাড়ে। তৃতীয় ডোজ থোড় আসার আগে দেওয়া জরুরি। এটি দানা গঠনে সাহায্য করে। বৃষ্টির সময় ইউরিয়া দেওয়া উচিত নয়। পানি থাকা অবস্থায় দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়। ছিটিয়ে দেওয়ার পর পানি ছেড়ে দিতে হবে। এভাবে ইউরিয়া প্রয়োগ করলে ফলন সবচেয়ে বেশি হয়।
বোরো ধানে টিএসপি ও এমওপি প্রয়োগ
টিএসপি ও এমওপি জমি তৈরির সময় দেওয়া হয়। এই সারগুলো মাটির সাথে মিশে যেতে সময় লাগে। শেষ চাষের আগে জমিতে ছিটিয়ে দিতে হবে। তারপর চাষ দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হয়। টিএসপি ফসফরাস সরবরাহ করে যা শিকড়ের জন্য জরুরি। শিকড় মজবুত হলে গাছ ভালো খাবার নিতে পারে। এমওপি পটাশিয়াম দেয় যা রোগ প্রতিরোধ করে। এটি দানা পুষ্ট করতে ও ওজন বাড়াতে সাহায্য করে। কিছু কৃষক এমওপি দুই ভাগ করে দেন। অর্ধেক জমি তৈরির সময় এবং বাকি অর্ধেক থোড়ের সময়। এভাবে দিলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে সব একসাথে দিলেও সমস্যা নেই।
বোরো ধানের ফলন বাড়ানোর উপায়
ফলন বাড়ানোর কৌশল:
- উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করতে হবে।
- সঠিক সময়ে চারা রোপণ করা জরুরি।
- সুষম সার প্রয়োগ করলে ফলন বাড়ে।
- নিয়মিত সেচ দিয়ে পানির ঘাটতি দূর করতে হবে।
- আগাছা পরিষ্কার রেখে ধানের বৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
ফলন বাড়ানোর জন্য প্রথমেই ভালো বীজ নির্বাচন করতে হবে। সুস্থ ও রোগমুক্ত চারা লাগাতে হয়। সারের সঠিক মাত্রা ও সময় মেনে প্রয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। জমিতে সবসময় প্রয়োজনীয় পানি রাখতে হবে। ফুল আসার সময় পানি বেশি দরকার। আগাছা দমন করতে হবে কারণ সেগুলো খাবার নিয়ে নেয়। রোগ ও পোকা দেখা মাত্র দমন করতে হবে। জৈব সার ব্যবহার করলে মাটি ভালো থাকে। সময়মতো ধান কেটে ফেলতে হবে। পেকে গেলে বেশি দেরি করা উচিত নয়। এসব নিয়ম মেনে চললে ফলন ২০-৩০% বাড়ানো সম্ভব।
বোরো ধানের পোকামাকড় দমন
এই ধানে অনেক রকম পোকার আক্রমণ হয়। মাজরা পোকা কাণ্ডের ভেতর ঢুকে খায়। পাতা মোড়ানো পোকা পাতা পেঁচিয়ে ফেলে। চুঙ্গি পোকা রস চুষে খায়। বাদামি গাছ ফড়িং গাছ শুকিয়ে ফেলে। সবুজ পাতা ফড়িং ভাইরাস ছড়ায়। গান্ধি পোকা দানা চুষে নষ্ট করে। এসব পোকা ফলন মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। দমনের জন্য পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়। জমিতে ডাল পুঁতে দিলে পাখি বসে পোকা খায়। আলোর ফাঁদ দিয়ে পোকা মারা যায়। জৈব কীটনাশক ব্যবহার নিরাপদ। রাসায়নিক কীটনাশক শেষ উপায় হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। নিয়মিত জমি পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।
বোরো ধানের চারা উৎপাদন
| কাজ | পদ্ধতি | সময় |
| বীজতলা তৈরি | উঁচু ও ছায়ামুক্ত জায়গা | নভেম্বর প্রথম সপ্তাহ |
| বীজ শোধন | কার্বেন্ডাজিম দিয়ে | বপনের আগে |
| বীজ বপন | সমানভাবে ছিটিয়ে | নভেম্বরের ৫-১০ তারিখ |
| পরিচর্যা | নিয়মিত পানি ও সার | ২৫-৩০ দিন |
ভালো চারা উৎপাদন সফল চাষের প্রথম ধাপ। উঁচু ও সমতল জায়গায় বীজতলা তৈরি করতে হবে। মাটি ভালোভাবে চাষ দিয়ে নরম করতে হয়। জৈব সার মিশিয়ে উর্বর করা প্রয়োজন। বীজ শোধন করে নিলে রোগের আক্রমণ কম হয়। হেক্টরপ্রতি ৩০-৩৫ কেজি বীজ লাগে। বীজতলায় সমানভাবে বীজ ছিটিয়ে দিতে হয়। হালকা মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। নিয়মিত হালকা সেচ দিতে হবে। ২৫-৩০ দিনে চারা রোপণের উপযুক্ত হয়। সুস্থ ও সবল চারা বেছে নিয়ে রোপণ করতে হয়। চারা তোলার সময় শিকড় যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
বোরো ধান পাকানোর সময়
এই ধান পাকতে সাধারণত ১৪০-১৫৫ দিন সময় লাগে। জাত অনুযায়ী এই সময় কম বেশি হতে পারে। স্বল্প জীবনকালের জাত ১৩৫-১৪০ দিনে পাকে। দীর্ঘ জীবনকালের জাত ১৫০-১৫৫ দিন নেয়। এপ্রিল মাসের শেষে ধান পাকতে শুরু করে। মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত কাটা চলে। ধান ৮০% পাকলে কাটা শুরু করা উচিত। অতিরিক্ত পাকলে ঝরে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। ধানের রং সোনালি হলে পাকা বুঝতে হবে। দানা শক্ত হয়ে গেলে কাটার সময় হয়েছে। দেরি করলে বৃষ্টিতে ক্ষতি হতে পারে। তাই সময়মতো কেটে ফেলা জরুরি।
বোরো ধান কত দিনে হয়
বিভিন্ন জাতের সময়কাল:
- স্বল্প জীবনকালের জাত: ১৩৫-১৪০ দিন
- মধ্যম জীবনকালের জাত: ১৪০-১৪৫ দিন
- দীর্ঘ জীবনকালের জাত: ১৫০-১৫৫ দিন
- হাইব্রিড জাত: ১৩৮-১৪৮ দিন
- আধুনিক ব্রি জাত: ১৪০-১৫০ দিন
এই ধান পাকতে গড়ে ১৪৫ দিন সময় লাগে। এটি রোপণ থেকে কাটা পর্যন্ত মোট সময়। ব্রি ধান-২৮ পাকে ১৪০-১৪৫ দিনে। ব্রি ধান-২৯ লাগে ১৫০-১৫৫ দিন। ব্রি ধান-৮৮ দ্রুত পাকে ১৩৫-১৪০ দিনে। হাইব্রিড জাত সাধারণত ১৪০-১৪৫ দিনে পাকে। আবহাওয়া ও যত্নের উপর সময় নির্ভর করে। ঠাণ্ডা বেশি হলে সময় একটু বেশি লাগতে পারে। সঠিক পরিচর্যা করলে নির্দিষ্ট সময়ে পাকে। দেরি হলে পরবর্তী ফসল লাগাতে সমস্যা হয়। তাই দ্রুত পাকা জাত কৃষকরা পছন্দ করেন।
বোরো ধানের বীজের হার কত
বোরো ধান চাষে বীজের পরিমাণ সঠিক রাখা জরুরি। হেক্টরপ্রতি ৩০-৩৫ কেজি বীজ যথেষ্ট। ছিটিয়ে বপন করলে একটু বেশি লাগে। সারি করে রোপণে কম বীজ লাগে। হাইব্রিড জাতের বীজ ২০-২৫ কেজি হলেই চলে। এসব জাতের কুশি বেশি হয় তাই কম বীজে কাজ হয়। বীজতলার জন্য আলাদা হিসাব করতে হয়। প্রতি বর্গমিটারে ৮০-১০০ গ্রাম বীজ বপন করা হয়। ভালো বীজ ব্যবহার করলে অঙ্কুরোদগম ভালো হয়। তাই বীজের পরিমাণ কম লাগে। পুরনো বা নিম্নমানের বীজ বেশি লাগে। সরকারি হিসাব মেনে বীজ কিনলে খরচ সাশ্রয় হয়।
বোরো ধান কোন মাটিতে ভালো হয়
এই ধান প্রায় সব ধরনের মাটিতে হয়। তবে দোআঁশ ও এঁটেল দোআঁশ মাটি সবচেয়ে ভালো। এসব মাটিতে পানি ধরে রাখার ক্ষমতা বেশি। জৈব পদার্থ থাকা মাটি উত্তম। মাটির pH ৬.৫-৭.৫ হলে ভালো ফলন হয়। বেশি অম্লীয় বা ক্ষারীয় মাটিতে সমস্যা হয়। উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমি উপযুক্ত। নিচু জমিতে জলাবদ্ধতার সমস্যা হতে পারে। লবণাক্ত মাটিতে বিশেষ জাত লাগাতে হয়। বেলে মাটিতে পানি ধরে না তাই সেচ বেশি লাগে। মাটি পরীক্ষা করে চাষ করা উচিত। জৈব সার মিশিয়ে যেকোনো মাটি উন্নত করা যায়। উর্বর মাটিতে সার কম লাগে এবং ফলন ভালো হয়।
বোরো ধানের ইংরেজি কি
| বাংলা | ইংরেজি | উচ্চারণ |
| বোরো ধান | Boro Rice | বোরো রাইস |
| বোরো ধান | Winter Rice | উইন্টার রাইস |
| বোরো ধান | Dry Season Rice | ড্রাই সিজন রাইস |
এই ধানের ইংরেজি হলো “Boro Rice”। এটি “Winter Rice” নামেও পরিচিত। কখনো কখনো “Dry Season Rice” বলা হয়। বোরো শব্দটি বাংলা থেকে এসেছে। আন্তর্জাতিক ভাষায় এটি এখন স্বীকৃত। কৃষি বিষয়ক ইংরেজি লেখায় “Boro” ব্যবহার হয়। FAO এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাও এই নাম ব্যবহার করে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় “Oryza sativa” লেখা হয়। তবে সাধারণ কথায় Boro Rice বললেই বোঝা যায়। Winter Rice বলার কারণ শীতকালে চাষ করা হয়। Dry Season Rice কারণ শুষ্ক মৌসুমে পাকে।
বোরো ধান কাটার সময়
এই ধান কাটার সঠিক সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ থেকে মে মাসের মাঝামাঝি কাটা হয়। ধান ৮০% পাকলে কাটা শুরু করা ভালো। খুব বেশি পাকলে ঝরে পড়ে ক্ষতি হয়। কম পাকলে চাল ভাঙে এবং মান খারাপ হয়। সকাল বেলা কাটা সবচেয়ে ভালো। রোদ বেশি হলে দানা ঝরে যেতে পারে। কাস্তে বা মেশিন যেকোনো উপায়ে কাটা যায়। কম্বাইন হার্ভেস্টার দিয়ে দ্রুত কাজ হয়। কাটার পর দ্রুত মাড়াই করতে হবে। বৃষ্টির আগে কেটে ঘরে তুলতে হয়। কাটা ধান শুকিয়ে সংরক্ষণ করা জরুরি। আর্দ্রতা ১২-১৩% হলে ভালো থাকে। সময়মতো কাটলে ফলন ও মান দুটোই ভালো থাকে।
বোরো ধানের রোগ ও প্রতিকার

বোরো ধানে বিভিন্ন ধরনের রোগ হতে পারে। ব্লাস্ট রোগ সবচেয়ে ক্ষতিকর। এতে পাতা ও থোড়ে দাগ পড়ে। ব্রাউন স্পট রোগে পাতায় বাদামি দাগ দেখা যায়। শিথ ব্লাইট রোগ কাণ্ড ও পাতা আক্রমণ করে। টাংগ্রো রোগে পাতা হলুদ হয়ে যায়। খোল পচা রোগ গোড়া থেকে শুরু হয়। এসব রোগের জন্য ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস দায়ী। প্রতিকারের জন্য প্রথমে রোগ প্রতিরোধী জাত লাগাতে হবে। পরিষ্কার বীজ ব্যবহার করতে হয়। জমিতে জলাবদ্ধতা রাখা যাবে না। নির্দিষ্ট ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। সময়মতো চিকিৎসা করলে রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
আধুনিক পদ্ধতিতে ধান চাষ সম্পর্কিত আরও পোস্ট দেখতে
👉 আধুনিক পদ্ধতিতে ধান চাষ ক্যাটাগরি দেখুন।
উপসংহার
বোরো ধান বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। এই ধান চাষ করে দেশের লাখ লাখ কৃষক জীবিকা নির্বাহ করেন। আধুনিক পদ্ধতি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফলন আরও বাড়ানো সম্ভব। সঠিক জাত নির্বাচন, সময়মতো রোপণ এবং সুষম সার প্রয়োগ জরুরি। রোগ ও পোকামাকড় দমনে সতর্ক থাকতে হবে। নিয়মিত সেচ ও পরিচর্যা ভালো ফলনের চাবিকাঠি। কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে চাষ করলে লাভ বেশি হয়। বোরো ধান চাষে সফল হলে কৃষকের জীবনমান উন্নত হয়। দেশের খাদ্য উৎপাদনও বৃদ্ধি পায়। আসুন সবাই মিলে বোরো ধান চাষে আরও যত্নবান হই। আধুনিক কৃষি পদ্ধতি অনুসরণ করে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারি।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)
বোরো ধান চাষের সবচেয়ে ভালো সময় কখন?
নভেম্বরের শেষ থেকে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি এই ধান রোপণের উপযুক্ত সময়। এই সময় আবহাওয়া চাষের জন্য আদর্শ থাকে এবং ফলন ভালো হয়।
বোরো ধানে কোন জাত সবচেয়ে ভালো ফলন দেয়?
ব্রি ধান-২৮ এবং ব্রি ধান-২৯ সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বেশি ফলন দেয়। হেক্টরপ্রতি ৬-৭ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। হাইব্রিড জাত আরও বেশি ফলন দিতে পারে।
বোরো ধানে কত দিন পর পর সেচ দিতে হয়?
সাধারণত ৭-১০ দিন পর পর সেচ দিতে হয়। তবে মাটির ধরন এবং আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে এটি কম বেশি হতে পারে। ফুল আসার সময় নিয়মিত সেচ জরুরি।
বোরো ধানে ইউরিয়া সার কতবার দিতে হয়?
ইউরিয়া সার তিনবার ভাগ করে দিতে হয়। প্রথম ডোজ রোপণের ৭-১০ দিন পর, দ্বিতীয় ডোজ কুশি আসার সময় এবং তৃতীয় ডোজ থোড়ের আগে দিতে হবে।
বোরো ধানের প্রধান রোগ কোনগুলো?
ব্লাস্ট, ব্রাউন স্পট, শিথ ব্লাইট এবং খোল পচা রোগ প্রধান। এসব রোগের জন্য ছত্রাকনাশক ব্যবহার এবং প্রতিরোধী জাত চাষ করা উচিত।
বোরো ধান পাকতে কত দিন সময় লাগে?
এই ধান পাকতে সাধারণত ১৪০-১৫৫ দিন সময় লাগে। জাতভেদে এই সময় কম বেশি হতে পারে। স্বল্প জীবনকালের জাত ১৩৫ দিনেই পেকে যায়।
হেক্টরপ্রতি কত টন বোরো ধান উৎপাদন হয়?
ভালো চাষাবাদে হেক্টরপ্রতি ৫-৭ টন বোরো ধান পাওয়া যায়। হাইব্রিড জাত চাষ করলে ৭-৯ টন পর্যন্ত ফলন সম্ভব।
বোরো ধানে কোন মাটি সবচেয়ে ভালো?
দোআঁশ ও এঁটেল দোআঁশ মাটি এই ধান চাষের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। এসব মাটিতে পানি ধরে রাখার ক্ষমতা বেশি এবং উর্বরতা ভালো থাকে।
বোরো ধানের চারা কত দিন বয়সী হলে রোপণ করতে হয়?
২৫-৩০ দিন বয়সী চারা রোপণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। এই বয়সের চারা শক্ত ও সুস্থ থাকে এবং সহজে মাটিতে খাপ খায়।
বোরো ধান কাটার পর কী করতে হয়?
ধান কাটার পর দ্রুত মাড়াই করে শুকাতে হবে। আর্দ্রতা ১২-১৩% করে সংরক্ষণ করা উচিত। ঠাণ্ডা ও শুষ্ক জায়গায় রাখলে ভালো থাকে।
🔥 পোস্টটি শেয়ার করুনঃ 🌍






