কৃত্রিম সূর্য কী ও কেন তৈরি করা হচ্ছে

আমরা সবাই জানি সূর্য আমাদের শক্তির সবচেয়ে বড় উৎস। কিন্তু কখনো ভেবেছেন কি, মানুষ নিজেই একটি সূর্য তৈরি করতে পারে? শুনতে অবাক লাগলেও এটি সত্যি। বিজ্ঞানীরা এমন একটি যন্ত্র তৈরি করেছেন, যা সূর্যের মতো শক্তি তৈরি করতে পারে। এটিকেই আমরা কৃত্রিম সূর্য বলি। এই নিবন্ধে আমরা জানব কৃত্রিম সূর্য কী, কীভাবে কাজ করে, এবং কেন এটি তৈরি করা হচ্ছে।


👉 এক নজরে প্রবন্ধটির মূল বিষয়বস্তু/সূচিপত্রঃ 📖

চীনের কৃত্রিম সূর্য

চীন এই মুহূর্তেি এটি তৈরিতে সবচেয়ে এগিয়ে আছে। চীনের বিজ্ঞানীরা একটি বিশাল যন্ত্র তৈরি করেছেন। এই যন্ত্রটি আসল সূর্যের মতো শক্তি তৈরি করতে পারে। চীন এই প্রকল্পে অনেক বছর ধরে কাজ করছে। তাদের লক্ষ্য হলো পরিষ্কার ও সস্তা বিদ্যুৎ তৈরি করা। এই যন্ত্রটি পারমাণবিক ফিউশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে। চীনের এই সাফল্য পুরো বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। অনেক দেশ এখন চীনের এই প্রযুক্তি থেকে শিখতে চাইছে। এটি শুধু চীনের নয়, পুরো মানবজাতির জন্য একটি বড় পদক্ষেপ।


চীনের তৈরি কৃত্রিম সূর্য

চীনের তৈরি কৃত্রিম সূর্য প্রকল্পে নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রযুক্তির ব্যবহার

চীনের তৈরি কৃত্রিম সূর্যের নাম EAST। এর পুরো নাম Experimental Advanced Superconducting Tokamak। এটি একটি বিশাল রিং আকৃতির যন্ত্র। এই যন্ত্রের ভেতরে অনেক বেশি তাপমাত্রায় প্লাজমা তৈরি হয়। প্লাজমা হলো গ্যাসের একটি বিশেষ অবস্থা। এই প্লাজমা সূর্যের কেন্দ্রের মতো কাজ করে। চীনের বিজ্ঞানীরা এই যন্ত্রটি আনহুই প্রদেশে তৈরি করেছেন। এটি তৈরি করতে কয়েক দশক সময় লেগেছে। চীনের এই যন্ত্র এখন পর্যন্ত অনেক রেকর্ড ভেঙেছে। বিশ্বের বিজ্ঞানীরা এটি দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।

বিষয়তথ্য
যন্ত্রের নামEAST (Experimental Advanced Superconducting Tokamak)
অবস্থানআনহুই প্রদেশ, চীন
প্রযুক্তিনিউক্লিয়ার ফিউশন
সর্বোচ্চ তাপমাত্রা১৬ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস

কৃত্রিম সূর্য কী

এটি হলো একটি বিশেষ যন্ত্র। এই যন্ত্র সূর্যের মতো শক্তি তৈরি করে। আসল সূর্যে প্রতিদিন পারমাণবিক ফিউশন হয়। সেই একই প্রক্রিয়া এই যন্ত্রে করা হয়। তাই এটিকে কৃত্রিম সূর্য বলা হয়। এটি আসলে একটি পারমাণবিক ফিউশন রিঅ্যাক্টর। এর ভেতরে হাইড্রোজেন গ্যাস দেওয়া হয়। তারপর সেই গ্যাসকে অনেক বেশি তাপে গরম করা হয়। এতে প্রচুর শক্তি তৈরি হয়। এই শক্তি দিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করা যায়। এটি পরিষ্কার শক্তির একটি বড় উৎস হতে পারে।


কৃত্রিম সূর্য আসলে কী

অনেকে মনে করেন কৃত্রিম সূর্য মানে আকাশে একটি নতুন সূর্য তৈরি করা। কিন্তু আসলে তা নয়। কৃত্রিম সূর্য হলো মাটির উপরে তৈরি একটি যন্ত্র। এই যন্ত্র সূর্যের ভেতরে যা হয়, সেটা নকল করে। সূর্যের কেন্দ্রে হাইড্রোজেন পরমাণু একসাথে মিলে হিলিয়াম তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায় প্রচুর শক্তি বের হয়। কৃত্রিম সূর্যও একই কাজ করে, তবে একটি ছোট জায়গায়। এটি দেখতে একটি বড় রিং বা ডোনাটের মতো। ভেতরে প্লাজমা ঘুরতে থাকে। এই প্লাজমা থেকেই শক্তি আসে।


কৃত্রিম সূর্য কিভাবে কাজ করে

এটি কাজ করে পারমাণবিক ফিউশনের মাধ্যমে। প্রথমে হাইড্রোজেন গ্যাস নেওয়া হয়। তারপর সেটিকে অনেক বেশি তাপমাত্রায় গরম করা হয়। এতে হাইড্রোজেন প্লাজমায় পরিণত হয়। প্লাজমাকে শক্তিশালী চুম্বক ক্ষেত্র দিয়ে ধরে রাখা হয়। এই প্লাজমায় হাইড্রোজেনের দুটি রূপ, ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম, একসাথে মেশে। এতে ফিউশন বিক্রিয়া হয়। এই বিক্রিয়ায় প্রচুর তাপ ও শক্তি তৈরি হয়। সেই তাপ দিয়ে পানি গরম করা হয়। গরম পানির বাষ্প দিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক পরিষ্কার ও নিরাপদ।

  • ধাপ ১: হাইড্রোজেন গ্যাস যন্ত্রে দেওয়া হয়
  • ধাপ ২: গ্যাসকে কোটি কোটি ডিগ্রি তাপে গরম করা হয়
  • ধাপ ৩: প্লাজমা তৈরি হয় এবং ফিউশন বিক্রিয়া শুরু হয়
  • ধাপ ৪: প্রচুর শক্তি বের হয়
  • ধাপ ৫: সেই শক্তি দিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করা হয়

কৃত্রিম সূর্য কীভাবে তৈরি করা হয়

এটি তৈরি করা অনেক কঠিন কাজ। এটি তৈরি করতে হাজার হাজার বিজ্ঞানী কাজ করেন। প্রথমে একটি বড় রিং আকৃতির যন্ত্র তৈরি করা হয়। এই যন্ত্রকে টোকামাক বলা হয়। এর চারপাশে শক্তিশালী চুম্বক লাগানো হয়। চুম্বক তৈরিতে বিশেষ ধাতু ব্যবহার করা হয়। ভেতরের দেওয়াল এমন উপাদান দিয়ে তৈরি যা অনেক বেশি তাপ সহ্য করতে পারে। পুরো যন্ত্রটি তৈরি করতে অনেক বছর লাগে। এতে কোটি কোটি টাকা খরচ হয়। কিন্তু এই বিনিয়োগ ভবিষ্যতে অনেক সুবিধা দেবে।


কৃত্রিম সূর্যের তাপমাত্রা কত

এটির তাপমাত্রা আসল সূর্যের চেয়েও বেশি। আসল সূর্যের কেন্দ্রের তাপমাত্রা প্রায় ১.৫ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু চীনের EAST যন্ত্র ১৬ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা তৈরি করেছে। এটি সূর্যের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি গরম। এত বেশি তাপমাত্রায় ফিউশন বিক্রিয়া ভালো হয়। বেশি তাপমাত্রা মানে বেশি শক্তি। এই তাপমাত্রা কোনো ধাতু সহ্য করতে পারে না। তাই চুম্বক দিয়ে প্লাজমাকে যন্ত্রের দেওয়াল থেকে দূরে রাখা হয়। এটি একটি অসাধারণ প্রযুক্তিগত সাফল্য।

তুলনাতাপমাত্রা
সূর্যের পৃষ্ঠ৫,৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
সূর্যের কেন্দ্র১.৫ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস
EAST কৃত্রিম সূর্য১৬ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস
KSTAR (দক্ষিণ কোরিয়া)১০ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস

কৃত্রিম সূর্যের নতুন রেকর্ড

এটি নিয়ে প্রতি বছর নতুন রেকর্ড হচ্ছে। ২০২৩ সালে চীনের EAST যন্ত্র একটি বড় রেকর্ড করেছে। এটি ১০৩ সেকেন্ড ধরে ১৬ কোটি ডিগ্রি তাপমাত্রা বজায় রেখেছে। আগে এত দীর্ঘ সময় ধরে এত বেশি তাপমাত্রা রাখা সম্ভব হয়নি। এই রেকর্ড পুরো বিশ্বকে অবাক করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার KSTAR যন্ত্রও ৪৮ সেকেন্ড ধরে ১০ কোটি ডিগ্রি তাপমাত্রা ধরে রেখেছে। প্রতিটি নতুন রেকর্ড আমাদের আরও ভালো ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন এই রেকর্ড আরও ভাঙবে।


চীনের পাঁচটি সূর্য

“চীনের পাঁচটি সূর্য” কথাটি অনেকে শুনেছেন। কিন্তু এটি আসলে একটি পুরনো চীনা লোককথা। এই গল্পে বলা হয়, একসময় আকাশে পাঁচটি সূর্য ছিল। তখন পৃথিবী অনেক গরম ছিল। একজন বীর সেই সূর্যগুলো নামিয়ে এনেছিলেন। এই গল্পের সাথে আধুনিক কৃত্রিম সূর্যের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। তবে অনেকে মজা করে চীনের কৃত্রিম সূর্য প্রকল্পকে এই গল্পের সাথে মিলিয়ে ফেলেন। আসলে চীন একটি কৃত্রিম সূর্য তৈরি করেছে, পাঁচটি নয়। তবে ভবিষ্যতে আরও তৈরি হতে পারে।


চীনের পাঁচ সূর্যের গল্প

চীনের পাঁচ সূর্যের গল্পটি অনেক পুরনো। এটি চীনের একটি বিখ্যাত পুরাণ কাহিনী। গল্পে বলা হয়, পৃথিবীতে একবার ভয়ঙ্কর গরম পড়েছিল। কারণ আকাশে একসাথে পাঁচটি সূর্য উঠেছিল। মানুষ, পশু, গাছপালা সব পুড়ে যাচ্ছিল। তখন হৌ ই নামের একজন বীর তীর দিয়ে চারটি সূর্য মেরে ফেলেন। একটি সূর্য বাকি থাকে, যেটি আজও আছে। এই গল্পটি চীনের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আধুনিক কৃত্রিম সূর্যের সাথে এই গল্পের মিল হলো, উভয়েই শক্তির কথা বলে।


চীনের আকাশের সিঁড়ি সত্যি কি

“চীনের আকাশের সিঁড়ি” নিয়ে ইন্টারনেটে অনেক গল্প আছে। অনেকে দাবি করেন চীন আকাশে একটি সিঁড়ি তৈরি করেছে। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এই ধরনের গল্প সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আসলে চীনে অনেক উঁচু পাহাড়ে সিঁড়ি আছে। সেগুলোর ছবি দেখলে মনে হয় সিঁড়ি আকাশে গেছে। এটি শুধু একটি দৃষ্টিবিভ্রম। কৃত্রিম সূর্যের সাথে এই আকাশের সিঁড়ির কোনো সম্পর্ক নেই। তাই এই ধরনের গুজব বিশ্বাস না করাই ভালো। সঠিক তথ্য জানতে নির্ভরযোগ্য সূত্র দেখুন।


সূর্যের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা কৃত্রিম সূর্য

অনেকে অবাক হন যে কৃত্রিম সূর্য আসল সূর্যের চেয়ে বেশি গরম হয় কীভাবে। এর কারণ হলো ফিউশন বিক্রিয়া। পৃথিবীতে ফিউশন করতে হলে বেশি তাপমাত্রা দরকার। সূর্যের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি অনেক বেশি। তাই সূর্যে কম তাপমাত্রায় ফিউশন হয়। কিন্তু পৃথিবীতে সেই মাধ্যাকর্ষণ নেই। তাই বেশি তাপমাত্রা দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করতে হয়। এটি বিজ্ঞানের একটি চমৎকার কৌশল। এই বেশি তাপমাত্রা তৈরি করাই ছিল বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

  • আসল সূর্যে: মাধ্যাকর্ষণ শক্তি ফিউশনে সাহায্য করে
  • কৃত্রিম সূর্যে: মাধ্যাকর্ষণ নেই, তাই বেশি তাপমাত্রা দরকার
  • ফলাফল: কৃত্রিম সূর্যের তাপমাত্রা আসল সূর্যের ১০ গুণ বেশি

পারমাণবিক ফিউশন কৃত্রিম সূর্য

পারমাণবিক ফিউশন হলো এটির মূল প্রযুক্তি। ফিউশন মানে দুটি ছোট পরমাণু একসাথে মিলে একটি বড় পরমাণু তৈরি করা। এই প্রক্রিয়ায় প্রচুর শক্তি বের হয়। এটি পারমাণবিক ফিশনের উল্টো। ফিশনে একটি বড় পরমাণু ভেঙে শক্তি পাওয়া হয়। ফিউশন অনেক বেশি শক্তি দেয় এবং অনেক কম বর্জ্য তৈরি করে। সূর্যে প্রতি সেকেন্ডে কোটি কোটি ফিউশন বিক্রিয়া হচ্ছে। কৃত্রিম সূর্য সেই একই কাজ করে। তবে এটি নিয়ন্ত্রণ করা অনেক কঠিন। বিজ্ঞানীরা এখনো এই সমস্যার সমাধান করছেন।


নিউক্লিয়ার ফিউশন রিঅ্যাক্টর চীন

চীনের নিউক্লিয়ার ফিউশন রিঅ্যাক্টর বিশ্বের সেরাগুলোর একটি। EAST রিঅ্যাক্টর চীনের বিজ্ঞানের একটি বড় গর্ব। এটি তৈরি করেছে চীনের ইনস্টিটিউট অব প্লাজমা ফিজিক্স। এই রিঅ্যাক্টর ২০০৬ সাল থেকে কাজ শুরু করেছে। তখন থেকে এটি ধীরে ধীরে উন্নত হয়েছে। চীন এই রিঅ্যাক্টরে প্রতি বছর কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। ভবিষ্যতে চীন আরও বড় রিঅ্যাক্টর তৈরি করতে চায়। এই রিঅ্যাক্টর থেকে পাওয়া তথ্য আন্তর্জাতিক ITER প্রকল্পেও কাজে লাগছে। চীন বিশ্বের ফিউশন গবেষণায় নেতৃত্ব দিতে চায়।

রিঅ্যাক্টরের নামদেশবিশেষত্ব
EASTচীন১৬ কোটি ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড
KSTARদক্ষিণ কোরিয়াদীর্ঘ সময় প্লাজমা ধরে রাখা
JETইংল্যান্ডসর্বোচ্চ ফিউশন শক্তি উৎপাদন
ITERআন্তর্জাতিকভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় রিঅ্যাক্টর

কৃত্রিম সূর্য প্রকল্প চীন

চীনের কৃত্রিম সূর্য প্রকল্প শুধু EAST নয়। চীন আরও অনেক গবেষণা করছে। HL-2A ও HL-2M নামে আরও দুটি রিঅ্যাক্টর চীনে আছে। HL-2M ২০২০ সালে চালু হয়েছে। এটি আরও বেশি শক্তিশালী। চীন আন্তর্জাতিক ITER প্রকল্পেও অংশ নিচ্ছে। ITER হলো ফ্রান্সে তৈরি হওয়া একটি বিশাল ফিউশন রিঅ্যাক্টর। চীন এই প্রকল্পে অনেক টাকা ও প্রযুক্তি দিচ্ছে। চীনের বিজ্ঞানীরা স্বপ্ন দেখছেন ২০৫০ সালের মধ্যে ফিউশন থেকে বিদ্যুৎ পাওয়ার। এই স্বপ্ন একদিন সত্যি হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।


EAST কৃত্রিম সূর্য প্রকল্প

EAST এর পুরো নাম হলো Experimental Advanced Superconducting Tokamak। এটি চীনের সবচেয়ে বিখ্যাত ফিউশন রিঅ্যাক্টর। EAST যন্ত্রটি দেখতে অনেকটা ডোনাটের মতো। এটির ব্যাস প্রায় ৩.৪ মিটার। ভেতরে প্লাজমা ঘুরতে থাকে। শক্তিশালী চুম্বক প্লাজমাকে ধরে রাখে। EAST ২০০৬ সালে প্রথম চালু হয়। তারপর থেকে এটি অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে। ২০২৩ সালে এটি ১০৩ সেকেন্ড ধরে ১৬ কোটি ডিগ্রি তাপমাত্রা ধরে রেখে নতুন রেকর্ড করেছে। এই সাফল্য বিজ্ঞানের ইতিহাসে লেখা থাকবে।


কৃত্রিম সূর্য কেন তৈরি করা হয়েছে

এটি তৈরির পেছনে একটি বড় কারণ আছে। পৃথিবীতে কয়লা, তেল ও গ্যাস শেষ হয়ে যাচ্ছে। এগুলো পুড়িয়ে বিদ্যুৎ তৈরি হয়। এতে পরিবেশ নষ্ট হয়। বায়ু দূষণ বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে। তাই বিজ্ঞানীরা পরিষ্কার শক্তির খোঁজ করছেন। কৃত্রিম সূর্য হলো সেই পরিষ্কার শক্তির একটি বড় সমাধান। এটি থেকে কোনো ধোঁয়া বা দূষণ হয় না। এর জ্বালানি পানি থেকে পাওয়া যায়। তাই এটি কখনো শেষ হবে না। এই কারণেই বিশ্বের অনেক দেশ এটি তৈরিতে এগিয়ে এসেছে।


কৃত্রিম সূর্যের উদ্দেশ্য কী

এটির মূল উদ্দেশ্য হলো পরিষ্কার বিদ্যুৎ তৈরি করা। পৃথিবীতে শক্তির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। জনসংখ্যা বাড়ছে, শিল্প কারখানা বাড়ছে। তাই বিদ্যুতের দরকার আরও বেশি। কৃত্রিম সূর্য এই সমস্যার সমাধান দিতে পারে। এটি থেকে প্রায় সীমাহীন বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব। এছাড়া এটি গবেষণার কাজেও ব্যবহার হয়। বিজ্ঞানীরা এই যন্ত্রে পদার্থবিজ্ঞানের অনেক পরীক্ষা করেন। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি মহাকাশ গবেষণায়ও কাজে লাগতে পারে। তাই কৃত্রিম সূর্যের উদ্দেশ্য অনেক বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ।


কৃত্রিম সূর্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন

এটি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনো সম্পূর্ণ সফল হয়নি। তবে বিজ্ঞানীরা এর কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। ফিউশন বিক্রিয়ায় যে তাপ তৈরি হয়, সেই তাপ দিয়ে পানি গরম করা হবে। গরম পানির বাষ্প একটি টারবাইন ঘোরাবে। সেই টারবাইন জেনারেটর চালাবে। জেনারেটর থেকে বিদ্যুৎ আসবে। এটি অনেকটা সাধারণ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতোই। কিন্তু পার্থক্য হলো এতে কোনো জ্বালানি পোড়ানো হয় না। তাই কোনো দূষণ হয় না। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন ২০৩৫ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে প্রথম ফিউশন বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হবে।

  • বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধাপগুলো:
    • ফিউশন বিক্রিয়ায় তাপ তৈরি
    • তাপ দিয়ে পানি গরম করা
    • বাষ্প দিয়ে টারবাইন ঘোরানো
    • টারবাইন থেকে বিদ্যুৎ তৈরি
    • ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পাঠানো

কৃত্রিম সূর্যের সুবিধা ও অসুবিধা

এর অনেক সুবিধা আছে। প্রথমত, এটি পরিষ্কার শক্তি দেয়। দ্বিতীয়ত, এর জ্বালানি পানি থেকে পাওয়া যায়। তৃতীয়ত, এটি কখনো বিস্ফোরিত হয় না। চতুর্থত, এটি থেকে কম বর্জ্য তৈরি হয়। কিন্তু কিছু অসুবিধাও আছে। এটি তৈরি করতে অনেক টাকা লাগে। প্রযুক্তি এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। প্লাজমা নিয়ন্ত্রণ করা অনেক কঠিন। ট্রিটিয়াম জ্বালানি তেজস্ক্রিয়। তবে সুবিধা অসুবিধার চেয়ে অনেক বেশি। তাই বিজ্ঞানীরা এই প্রযুক্তিতে বিশ্বাস রাখছেন।


কৃত্রিম সূর্য কি বিপজ্জনক

অনেকে ভাবেন এটি কি বিপজ্জনক। আসলে এটি তেমন বিপজ্জনক নয়। ফিউশন রিঅ্যাক্টর বিস্ফোরিত হতে পারে না। যদি কোনো সমস্যা হয়, বিক্রিয়া নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায়। তবে কিছু ছোট বিপদ আছে। ট্রিটিয়াম একটি তেজস্ক্রিয় পদার্থ। তবে এর পরিমাণ অনেক কম। নিউট্রন বিকিরণও হয়। তাই রিঅ্যাক্টরের চারপাশে ভালো সুরক্ষা থাকে। সব মিলিয়ে কৃত্রিম সূর্য কয়লা বা পরমাণু বিভাজন রিঅ্যাক্টরের চেয়ে অনেক নিরাপদ। সাধারণ মানুষের ভয়ের কোনো কারণ নেই।


কৃত্রিম সূর্য কি সত্যি

হ্যাঁ, কৃত্রিম সূর্য সত্যিই আছে। এটি কোনো গল্প বা কল্পনা নয়। বিশ্বের অনেক দেশে ফিউশন রিঅ্যাক্টর আছে। চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জাপানসহ অনেক দেশ এই গবেষণা করছে। আন্তর্জাতিক ITER প্রকল্পে ৩৫টি দেশ অংশ নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত কেউ ফিউশন থেকে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারেনি। কিন্তু পরীক্ষামূলকভাবে ফিউশন বিক্রিয়া সফল হয়েছে। ইংল্যান্ডের JET রিঅ্যাক্টর ৫৯ মেগাজুল শক্তি তৈরি করে রেকর্ড করেছে। তাই কৃত্রিম সূর্য একটি বাস্তব প্রযুক্তি।


চীনের বিজ্ঞানীদের কৃত্রিম সূর্য

চীনের বিজ্ঞানীরা এই প্রকল্পে অনেক পরিশ্রম করেছেন। হাজার হাজার গবেষক এতে কাজ করছেন। তারা রাত দিন কাজ করে নতুন রেকর্ড করেছেন। চীনের ইনস্টিটিউট অব প্লাজমা ফিজিক্স এই গবেষণার কেন্দ্র। এখানে বিশ্বের সেরা পদার্থবিজ্ঞানীরা কাজ করেন। চীনের সরকার এই গবেষণায় অনেক সহায়তা করছে। তারা বিশ্বাস করেন ফিউশন শক্তি চীনের ভবিষ্যৎ বদলে দেবে। চীনের তরুণ বিজ্ঞানীরাও এই গবেষণায় যোগ দিচ্ছেন। এই প্রকল্প চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে একটি নতুন যুগ এনেছে।


বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী কৃত্রিম সূর্য

বিশ্বে এখন অনেক ফিউশন রিঅ্যাক্টর আছে। তবে সবচেয়ে আলোচিত হলো চীনের EAST ও দক্ষিণ কোরিয়ার KSTAR। EAST তাপমাত্রার রেকর্ডে এগিয়ে। KSTAR দীর্ঘ সময় প্লাজমা ধরে রাখার রেকর্ডে এগিয়ে। ইংল্যান্ডের JET রিঅ্যাক্টর শক্তি উৎপাদনে রেকর্ড করেছে। ভবিষ্যতে ফ্রান্সের ITER সবচেয়ে বড় হবে। ITER এর উচ্চতা হবে ৩০ মিটার। এটি তৈরি হলে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ফিউশন রিঅ্যাক্টর হবে। তখন কৃত্রিম সূর্যের প্রযুক্তি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।


কৃত্রিম সূর্যের তাপ কত ডিগ্রি

এটির তাপমাত্রা নিয়ে অনেকে কৌতূহলী। আগে বলেছি চীনের EAST ১৬ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা তৈরি করেছে। এই তাপমাত্রা এত বেশি যে কোনো ধাতু গলে যাবে। তাই প্লাজমাকে চুম্বক দিয়ে বাতাসে ভাসিয়ে রাখা হয়। প্লাজমা যন্ত্রের দেওয়াল স্পর্শ করে না। তাই যন্ত্র গলে যায় না। এই তাপমাত্রা তৈরি করতে প্রথমে বেশি বিদ্যুৎ লাগে। কিন্তু ফিউশন শুরু হলে যত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি পাওয়া যায়। এটিই হলো কৃত্রিম সূর্যের আসল লক্ষ্য।


কৃত্রিম সূর্য গবেষণা কেন্দ্র

বিশ্বে অনেক কৃত্রিম সূর্য গবেষণা কেন্দ্র আছে। চীনের আনহুইতে EAST গবেষণা কেন্দ্র আছে। দক্ষিণ কোরিয়ার দেজনে KSTAR কেন্দ্র আছে। ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডের কাছে JET কেন্দ্র আছে। ফ্রান্সে ITER তৈরি হচ্ছে। জাপানেও একটি বড় রিঅ্যাক্টর আছে। আমেরিকার ন্যাশনাল ইগনিশন ফ্যাসিলিটিও গবেষণা করছে। এই কেন্দ্রগুলো একে অপরের সাথে তথ্য ভাগ করে নেয়। একসাথে কাজ করে ফিউশন সমস্যা সমাধান করা হচ্ছে। এটি মানবজাতির একটি যৌথ প্রচেষ্টা।

গবেষণা কেন্দ্রদেশবিশেষ অর্জন
EASTচীন১৬ কোটি ডিগ্রি তাপমাত্রা
KSTARদক্ষিণ কোরিয়াদীর্ঘ প্লাজমা ধারণ
JETইংল্যান্ডসর্বোচ্চ শক্তি উৎপাদন
NIFআমেরিকাপ্রথম নেট এনার্জি গেইন

সূর্যের মতো শক্তি উৎপাদন প্রযুক্তি

সূর্যের মতো শক্তি উৎপাদন করার প্রযুক্তি এখন বাস্তব হয়ে উঠছে। এই প্রযুক্তির নাম নিউক্লিয়ার ফিউশন। এটি আগের পারমাণবিক প্রযুক্তি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। পুরনো পারমাণবিক প্রযুক্তি ইউরেনিয়াম দিয়ে চলে। এটি অনেক বর্জ্য তৈরি করে। কিন্তু ফিউশন প্রযুক্তি হাইড্রোজেন দিয়ে চলে। হাইড্রোজেন পানি থেকে পাওয়া যায়। পানি পৃথিবীতে অফুরন্ত। তাই ফিউশন শক্তি কখনো শেষ হবে না। এই প্রযুক্তি পুরোপুরি সফল হলে পৃথিবীর শক্তি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।


ভবিষ্যতের জ্বালানি কৃত্রিম সূর্য

ভবিষ্যতের জ্বালানি কৃত্রিম সূর্য প্রযুক্তির মাধ্যমে শক্তি উৎপাদনের দৃশ্য

কৃত্রিম সূর্য হলো ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় জ্বালানি উৎস। বিশেষজ্ঞরা বলছেন ২০৫০ সালের মধ্যে ফিউশন বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হবে। তখন বিদ্যুতের দাম অনেক কমে যাবে। পরিবেশ পরিষ্কার থাকবে। কয়লা ও তেলের উপর নির্ভরতা কমবে। দরিদ্র দেশগুলোও সস্তায় বিদ্যুৎ পাবে। পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তন রোধ করা সম্ভব হবে। মানুষের জীবনমান আরও উন্নত হবে। শিল্প কারখানাগুলো পরিষ্কার শক্তিতে চলবে। কৃত্রিম সূর্য তাই শুধু একটি প্রযুক্তি নয়, এটি মানবজাতির ভবিষ্যতের স্বপ্ন।


কৃত্রিম সূর্য নিয়ে সর্বশেষ খবর

কৃত্রিম সূর্য নিয়ে সম্প্রতি অনেক ভালো খবর আছে। ২০২৩ সালে চীনের EAST নতুন রেকর্ড করেছে। ১০৩ সেকেন্ড ধরে ১৬ কোটি ডিগ্রি তাপমাত্রা ধরে রাখা হয়েছে। আমেরিকার NIF ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো নেট এনার্জি গেইন অর্জন করেছে। এর মানে হলো, বিক্রিয়ায় যত শক্তি দেওয়া হয়েছে, তার চেয়ে বেশি শক্তি পাওয়া গেছে। এটি ফিউশন গবেষণায় একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ফ্রান্সের ITER প্রকল্পও এগিয়ে চলছে। এই সব খবর বলছে, কৃত্রিম সূর্যের যুগ আসতে বেশি দেরি নেই।

বিজ্ঞানের বিস্ময় সম্পর্কিত আরও পোস্ট দেখতে
👉 বিজ্ঞানের বিস্ময় ক্যাটাগরি দেখুন।

উপসংহার

কৃত্রিম সূর্য মানবজাতির অন্যতম সেরা উদ্ভাবন হতে পারে। এটি পরিষ্কার, সস্তা ও অফুরন্ত শক্তির প্রতিশ্রুতি দেয়। চীন ও অন্যান্য দেশের বিজ্ঞানীরা দিন রাত কাজ করছেন। প্রতিটি নতুন রেকর্ড আমাদের আরও কাছে নিয়ে যাচ্ছে। এই প্রযুক্তি সফল হলে পৃথিবীর অনেক সমস্যা মিটে যাবে। জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ু দূষণ, শক্তি সংকট সব সমাধান হতে পারে। আমাদের সবার উচিত এই গবেষণাকে সমর্থন করা। কারণ এই কৃত্রিম সূর্যই হতে পারে আমাদের পৃথিবীর আলো।


প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)

কৃত্রিম সূর্য কি আসলে সূর্যের মতো দেখতে?

না, এটি দেখতে সূর্যের মতো নয়। এটি একটি বড় রিং আকৃতির যন্ত্র। এটি মাটির উপরে একটি বিল্ডিংয়ের ভেতরে থাকে। এটি সূর্যের মতো কাজ করে, কিন্তু দেখতে সম্পূর্ণ আলাদা।

কৃত্রিম সূর্য কি বিপজ্জনক?

এটি তেমন বিপজ্জনক নয়। এটি বিস্ফোরিত হতে পারে না। তবে তেজস্ক্রিয় পদার্থ ব্যবহার হয় বলে ভালো সুরক্ষা থাকে। সামগ্রিকভাবে এটি অনেক নিরাপদ।

কৃত্রিম সূর্যের তাপমাত্রা কত?

চীনের EAST যন্ত্র ১৬ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা তৈরি করেছে। এটি আসল সূর্যের কেন্দ্রের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি গরম।

কৃত্রিম সূর্য থেকে কি এখন বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে?

না, এখনো বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়নি। তবে পরীক্ষামূলকভাবে শক্তি উৎপাদন সফল হয়েছে। ২০৩৫ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে।

কোন দেশ কৃত্রিম সূর্য তৈরিতে সবচেয়ে এগিয়ে?

চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া এখন সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে। চীনের EAST এবং দক্ষিণ কোরিয়ার KSTAR উভয়ই নতুন রেকর্ড করেছে। ইংল্যান্ড ও আমেরিকাও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি করেছে।

কৃত্রিম সূর্যের জ্বালানি কোথা থেকে আসে?

কৃত্রিম সূর্যের জ্বালানি হলো ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম। ডিউটেরিয়াম পানি থেকে পাওয়া যায়। পৃথিবীতে পানি অফুরন্ত। তাই এই জ্বালানি কখনো শেষ হবে না।

ITER কি এবং এটি কোথায়?

ITER হলো আন্তর্জাতিক থার্মোনিউক্লিয়ার এক্সপেরিমেন্টাল রিঅ্যাক্টর। এটি ফ্রান্সে তৈরি হচ্ছে। ৩৫টি দেশ এই প্রকল্পে অংশ নিচ্ছে। এটি তৈরি হলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফিউশন রিঅ্যাক্টর হবে।

কৃত্রিম সূর্য কি পরিবেশের জন্য ভালো?

হ্যাঁ, কৃত্রিম সূর্য পরিবেশের জন্য অনেক ভালো। এটি থেকে কোনো কার্বন ডাই-অক্সাইড বের হয় না। কোনো ধোঁয়া বা দূষণ হয় না। তাই এটি জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

কৃত্রিম সূর্য তৈরি করতে কত টাকা লাগে?

কৃত্রিম সূর্য তৈরি করা অনেক ব্যয়বহুল। শুধু ITER প্রকল্পেই খরচ হচ্ছে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। তবে একবার সফল হলে এই বিনিয়োগ বহুগুণে ফিরে আসবে। কারণ এরপর বিদ্যুতের খরচ অনেক কমে যাবে।

সাধারণ মানুষ কি কখনো কৃত্রিম সূর্যের সুবিধা পাবেন?

হ্যাঁ, অবশ্যই পাবেন। ভবিষ্যতে কৃত্রিম সূর্য থেকে তৈরি সস্তা ও পরিষ্কার বিদ্যুৎ সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছাবে। বিদ্যুতের বিল কমবে। পরিবেশ ভালো থাকবে। সবাই এর সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

🔥 পোস্টটি শেয়ার করুনঃ 🌍

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top