কাপড় আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমরা প্রতিদিন যে জামা পরি, তা বিভিন্ন ধরনের ফ্যাব্রিক দিয়ে তৈরি। এর মধ্যে ওভেন ফ্যাব্রিক অন্যতম জনপ্রিয়। এই কাপড়ের বিশেষত্ব, ব্যবহার এবং তৈরির পদ্ধতি জানা থাকলে আপনি সহজেই সঠিক পোশাক বেছে নিতে পারবেন। আজকের এই লেখায় আমরা ওভেন ফ্যাব্রিক সম্পর্কে বিস্তারিত জানব। কীভাবে এই কাপড় তৈরি হয়, কোথায় ব্যবহার করা হয় এবং এর সুবিধা কী, সব কিছু সহজ ভাষায় বুঝব।
ওভেন ফ্যাব্রিক কি
ওভেন ফ্যাব্রিক হলো এমন কাপড় যা তাঁতে বা মেশিনে বুনে তৈরি করা হয়। এই কাপড়ে সুতা লম্বালম্বি এবং আড়াআড়ি ভাবে একে অপরের সাথে জড়িয়ে থাকে। লম্বালম্বি সুতাকে বলা হয় ওয়ার্প এবং আড়াআড়ি সুতাকে বলা হয় ওয়েফট। এই দুই ধরনের সুতা একসাথে মিলে শক্ত এবং টেকসই কাপড় তৈরি করে। ওভেন ফ্যাব্রিক সাধারণত খুব বেশি প্রসারিত হয় না। এ কারণে এটি শার্ট, প্যান্ট এবং ফরমাল পোশাকের জন্য উপযুক্ত। বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পে এই ধরনের কাপড়ের ব্যবহার অনেক বেশি।
ওভেন ফ্যাব্রিক কত প্রকার

ওভেন ফ্যাব্রিক মূলত তিন ধরনের উইভ স্ট্রাকচারে তৈরি হয়। প্রথমটি হলো প্লেইন উইভ। এটি সবচেয়ে সহজ এবং সাধারণ বুনন পদ্ধতি। এখানে এক উপর এক নিচ প্যাটার্ন থাকে। দ্বিতীয়টি হলো টুইল উইভ। এই বুননে কাপড়ে তীর্যক রেখা তৈরি হয়। ডেনিম জিন্স এই ধরনের কাপড় দিয়ে তৈরি। তৃতীয়টি হলো স্যাটিন উইভ। এই কাপড়ের পৃষ্ঠ মসৃণ এবং চকচকে হয়। এছাড়া বিভিন্ন সুতার ধরন অনুযায়ীও ওভেন ফ্যাব্রিক বিভিন্ন প্রকারের হয়। যেমন সুতি, পলিয়েস্টার, সিল্ক, লিনেন ইত্যাদি। প্রতিটি ধরনের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য এবং ব্যবহার আছে।
- প্লেইন উইভ: সাধারণ এবং মসৃণ বুনন, শার্ট এবং বেডশিটে ব্যবহৃত হয়।
- টুইল উইভ: তীর্যক রেখাযুক্ত শক্ত কাপড়, জিন্স এবং জ্যাকেটে জনপ্রিয়।
- স্যাটিন উইভ: মসৃণ এবং চকচকে পৃষ্ঠ, ড্রেস এবং ফরমাল পোশাকে ব্যবহৃত।
ওভেন ফ্যাব্রিক কাকে বলে
তাঁতে বা মেশিনে দুটি সুতা একে অপরের সাথে ক্রস করে যে কাপড় তৈরি হয়, তাকে ওভেন ফ্যাব্রিক বলে। এই পদ্ধতিতে সুতা উপর-নিচে করে বোনা হয়। একটি সুতা আরেকটির উপর দিয়ে যায়, তারপর নিচ দিয়ে যায়। এভাবে একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্ন তৈরি হয়। এই প্যাটার্নকে বলা হয় উইভ স্ট্রাকচার। ওভেন কাপড়ের গঠন খুবই শক্ত এবং স্থিতিশীল। এই কারণে এই ধরনের কাপড় দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ফ্যাশন ডিজাইনাররা সবাই এই কাপড় পছন্দ করেন।
ওভেন ফ্যাব্রিক এর বৈশিষ্ট্য
ওভেন ফ্যাব্রিকের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে যা একে অন্যান্য কাপড় থেকে আলাদা করে। প্রথমত, এই কাপড়ের গঠন খুব শক্ত এবং মজবুত। এটি সহজে ছিঁড়ে যায় না। দ্বিতীয়ত, ওভেন ফ্যাব্রিক খুব বেশি প্রসারিত হয় না। এই কারণে এটি ফিটিং পোশাকের জন্য আদর্শ। তৃতীয়ত, এই কাপড় সহজে কুঁচকে যায়। তাই ইস্ত্রি করার প্রয়োজন হয়। চতুর্থত, ওভেন ফ্যাব্রিকের বায়ু চলাচল ভালো হয়। এটি পরতে আরামদায়ক। পঞ্চমত, এই কাপড় বিভিন্ন ডিজাইন এবং প্যাটার্নে পাওয়া যায়। এটি দেখতেও সুন্দর এবং আকর্ষণীয়।
ওভেন ফ্যাব্রিক তৈরির প্রক্রিয়া
এটি তৈরি একটি ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া। প্রথমে সুতা প্রস্তুত করা হয়। এরপর সুতাকে ওয়ার্প বিম এ পেঁচানো হয়। এই ওয়ার্প বিম তাঁতে বা বুনন মেশিনে লাগানো হয়। এরপর ওয়েফট সুতা ওয়ার্প সুতার মধ্য দিয়ে যায়। এই কাজটি শাটল বা প্রজেক্টাইল দিয়ে করা হয়। প্রতিটি ওয়েফট সুতা যাওয়ার পর রিড দিয়ে চাপ দেওয়া হয়। এভাবে কাপড় ধীরে ধীরে তৈরি হয়। আধুনিক মেশিনে এই প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়। এতে কাপড় দ্রুত এবং নিখুঁত হয়। তৈরি হওয়ার পর কাপড় ফিনিশিং এর জন্য পাঠানো হয়। সেখানে রঙ করা, ধোয়া এবং প্রেস করা হয়।
ওভেন ফ্যাব্রিকের ব্যবহার
ওভেন ফ্যাব্রিকের ব্যবহার অনেক ব্যাপক এবং বৈচিত্র্যময়। শার্ট, প্যান্ট, স্কার্ট, জ্যাকেট সব ধরনের পোশাকে এই কাপড় ব্যবহার হয়। ফরমাল পোশাকের জন্য এটি সবচেয়ে জনপ্রিয়। এছাড়া বেডশিট, পর্দা, টেবিল কভার তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়। বাড়ির সাজসজ্জায় ওভেন কাপড়ের চাহিদা অনেক। ব্যাগ, জুতা এবং আসবাবপত্রেও এই কাপড় দেখা যায়। গার্মেন্টস শিল্পে এই ফ্যাব্রিকের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশের রপ্তানি পোশাকের একটি বড় অংশ ওভেন ফ্যাব্রিক দিয়ে তৈরি। এর মান এবং স্থায়িত্বের কারণে বিশ্বব্যাপী চাহিদা রয়েছে।
ওভেন ও নিট ফ্যাব্রিক পার্থক্য
ওভেন এবং নিট ফ্যাব্রিকের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো তৈরির পদ্ধতি। ওভেন ফ্যাব্রিক বুনে তৈরি হয়। নিট ফ্যাব্রিক সুতা লুপ করে তৈরি হয়। ওভেন কাপড় শক্ত এবং কম প্রসারিত। নিট কাপড় নরম এবং বেশি প্রসারিত। ওভেন ফ্যাব্রিক ফরমাল পোশাকে ভালো। নিট ফ্যাব্রিক ক্যাজুয়াল পোশাকে জনপ্রিয়। ওভেন কাপড় সহজে কুঁচকে যায়। নিট কাপড় কুঁচকায় কম। ওভেন ফ্যাব্রিক সেলাই করা কঠিন নয়। নিট ফ্যাব্রিক সেলাইয়ে বিশেষ মনোযোগ প্রয়োজন। দুটো কাপড়েরই নিজস্ব সুবিধা এবং ব্যবহার রয়েছে।
- ওভেন ফ্যাব্রিক: বুনন পদ্ধতিতে তৈরি, শক্ত এবং স্থিতিশীল, ফরমাল পোশাকে আদর্শ।
- নিট ফ্যাব্রিক: লুপিং পদ্ধতিতে তৈরি, নরম এবং প্রসারিত, টি-শার্ট এবং আন্ডারওয়্যারে ব্যবহৃত।
- প্রধান পার্থক্য: ওভেন প্রসারিত হয় না, নিট প্রসারিত হয়।
ওভেন ফ্যাব্রিকের উদাহরণ
এটির অনেক উদাহরণ আছে যা আমরা প্রতিদিন ব্যবহার করি। ডেনিম জিন্সের কাপড় ওভেন ফ্যাব্রিক। অফিসে পরার শার্ট সাধারণত ওভেন কাপড়ে তৈরি। সুতি বা পলিয়েস্টার প্যান্টও এই ধরনের কাপড়। বেডশিট এবং পর্দাও বেশিরভাগ ওভেন ফ্যাব্রিক। সিল্কের শাড়ি এবং পাঞ্জাবিও এই পদ্ধতিতে বোনা। লিনেনের কাপড় যা গ্রীষ্মকালে জনপ্রিয়, তাও ওভেন। ক্যানভাস কাপড় যা ব্যাগ তৈরিতে ব্যবহার হয়, সেটিও ওভেন ফ্যাব্রিক। সুতরাং আমাদের চারপাশে অনেক ওভেন কাপড়ের উপস্থিতি রয়েছে।
ওভেন ফ্যাব্রিকের সুবিধা
এটির অনেক সুবিধা রয়েছে। প্রথমত, এটি অত্যন্ত টেকসই এবং দীর্ঘস্থায়ী। সঠিক যত্নে বছরের পর বছর ব্যবহার করা যায়। দ্বিতীয়ত, এই কাপড়ের আকার স্থিতিশীল থাকে। ধোয়ার পর সংকুচিত হয় না। তৃতীয়ত, ওভেন ফ্যাব্রিক সহজে ছিঁড়ে যায় না। এটি প্রতিদিনের পরিধানের জন্য আদর্শ। চতুর্থত, এই কাপড়ের বায়ু চলাচল ভালো। এতে ঘাম কম হয় এবং আরাম বেশি। পঞ্চমত, ওভেন ফ্যাব্রিক রঙ ধরে রাখতে পারে। রঙ সহজে ওঠে না বা নষ্ট হয় না। ষষ্ঠত, এটি পেশাদার এবং ফরমাল চেহারা দেয়। অফিস এবং আনুষ্ঠানিক পরিবেশের জন্য উপযুক্ত।
ওভেন ফ্যাব্রিকের অসুবিধা
এটির কিছু অসুবিধাও আছে। প্রথমত, এই কাপড় সহজে কুঁচকে যায়। নিয়মিত ইস্ত্রি করার প্রয়োজন হয়। দ্বিতীয়ত, ওভেন ফ্যাব্রিক প্রসারিত হয় না। তাই খুব টাইট পোশাক অস্বস্তিকর হতে পারে। তৃতীয়ত, এই কাপড় নিট ফ্যাব্রিকের চেয়ে কম নরম। দীর্ঘক্ষণ পরলে কখনও কখনও অস্বস্তি হয়। চতুর্থত, ওভেন কাপড় সেলাই করা তুলনামূলক কঠিন। বিশেষ দক্ষতা প্রয়োজন। পঞ্চমত, এই ধরনের কাপড়ের দাম কখনও কখনও বেশি হয়। বিশেষত উন্নত মানের কাপড়। ষষ্ঠত, ওভেন ফ্যাব্রিক ঘন এবং ভারী হতে পারে। গরম আবহাওয়ায় কম আরামদায়ক।
- কুঁচকে যাওয়া: নিয়মিত ইস্ত্রি প্রয়োজন, যত্নে বেশি সময় লাগে।
- প্রসারিত হয় না: টাইট ফিটিং অস্বস্তিকর হতে পারে।
- কম নরম: নিট ফ্যাব্রিকের তুলনায় কম আরামদায়ক হতে পারে।
ওভেন ফ্যাব্রিকের নাম
বিভিন্ন ধরনের ফ্যাব্রিকের আলাদা আলাদা নাম আছে। ডেনিম একটি জনপ্রিয় ওভেন কাপড় যা জিন্সে ব্যবহৃত হয়। পপলিন একটি মসৃণ এবং হালকা কাপড় যা শার্টে দেখা যায়। ক্যানভাস শক্ত এবং মোটা কাপড় যা ব্যাগ তৈরিতে ব্যবহার হয়। সিফন পাতলা এবং স্বচ্ছ কাপড় যা স্কার্ফে জনপ্রিয়। লিনেন প্রাকৃতিক তন্তু থেকে তৈরি শীতল কাপড়। টুইড পুরু এবং উষ্ণ কাপড় যা জ্যাকেটে ব্যবহার হয়। ক্রেপ কুঁচকানো পৃষ্ঠের কাপড় যা ড্রেসে দেখা যায়। ব্রোকেড নকশাদার এবং সুন্দর কাপড় যা অনুষ্ঠানে পরা হয়। এছাড়া তাফেটা, সাটিন, শিফলি ইত্যাদিও ওভেন ফ্যাব্রিকের নাম।
১০ ফ্যাব্রিক নাম
টেক্সটাইল শিল্পে অনেক ধরনের ফ্যাব্রিক রয়েছে। এখানে ১০টি জনপ্রিয় ফ্যাব্রিকের নাম দেওয়া হলো। প্রথমত, সুতি কাপড় যা সবচেয়ে জনপ্রিয়। দ্বিতীয়ত, পলিয়েস্টার যা টেকসই এবং সাশ্রয়ী। তৃতীয়ত, সিল্ক যা বিলাসবহুল এবং মসৃণ। চতুর্থত, লিনেন যা শীতল এবং আরামদায়ক। পঞ্চমত, ডেনিম যা জিন্সের জন্য বিখ্যাত। ষষ্ঠত, নাইলন যা শক্ত এবং ইলাস্টিক। সপ্তমত, উল যা উষ্ণ এবং নরম। অষ্টমত, রেয়ন যা সিল্কের মতো কিন্তু সস্তা। নবমত, স্প্যানডেক্স যা অত্যন্ত প্রসারিত। দশমত, ভেলভেট যা নরম এবং চকচকে।
সুতি ওভেন ফ্যাব্রিক
সুতি ওভেন ফ্যাব্রিক সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং পরিবেশবান্ধব কাপড়। এটি তুলা গাছ থেকে পাওয়া প্রাকৃতিক তন্তু দিয়ে তৈরি। এই কাপড় শ্বাস নিতে পারে এবং ত্বকের জন্য নিরাপদ। গরম আবহাওয়ায় সুতি কাপড় খুবই আরামদায়। এটি ঘাম শোষণ করে এবং শরীর ঠাণ্ডা রাখে। সুতি ওভেন ফ্যাব্রিক শার্ট, প্যান্ট, শাড়ি সব ধরনের পোশাকে ব্যবহার হয়। এই কাপড় ধোয়া সহজ এবং দীর্ঘস্থায়ী। বাংলাদেশে সুতি কাপড়ের চাহিদা সবসময় বেশি। এটি মান এবং আরামের জন্য পরিচিত। সুতি ওভেন ফ্যাব্রিক সাদা থেকে রঙিন সব রকমেই পাওয়া যায়।
| বৈশিষ্ট্য | সুতি ওভেন ফ্যাব্রিক |
| উৎস | তুলা গাছের প্রাকৃতিক তন্তু |
| শ্বাসপ্রশ্বাস | চমৎকার বায়ু চলাচল |
| ঘাম শোষণ | অত্যন্ত ভালো |
| ব্যবহার | শার্ট, প্যান্ট, শাড়ি, বেডশিট |
পলিয়েস্টার ওভেন ফ্যাব্রিক
পলিয়েস্টার ওভেন ফ্যাব্রিক একটি কৃত্রিম কাপড়। এটি পেট্রোলিয়াম থেকে তৈরি। পলিয়েস্টার খুবই টেকসই এবং শক্তিশালী। এই কাপড় সহজে নষ্ট হয় না বা ছিঁড়ে যায় না। পলিয়েস্টার কুঁচকায় কম, তাই ইস্ত্রির প্রয়োজন কম। এই কাপড় দ্রুত শুকিয়ে যায়। পানিতে ভেজানোর পর দ্রুত শুকায়। পলিয়েস্টার ওভেন ফ্যাব্রিক শার্ট, প্যান্ট, জ্যাকেট তৈরিতে ব্যবহার হয়। এটি সাশ্রয়ী এবং সহজলভ্য। তবে এই কাপড় ঘাম শোষণ করে কম। গরমে কিছুটা অস্বস্তিকর হতে পারে। অনেক সময় সুতি এবং পলিয়েস্টার মিশিয়ে কাপড় তৈরি করা হয়।
শার্টের জন্য ওভেন ফ্যাব্রিক
শার্টের জন্য এটি সবচেয়ে উপযুক্ত পছন্দ। এই কাপড় শার্টকে ফরমাল এবং পেশাদার চেহারা দেয়। সুতি পপলিন শার্টের জন্য খুবই জনপ্রিয়। এটি মসৃণ, হালকা এবং শ্বাসপ্রশ্বাসযোগ্য। অক্সফোর্ড কাপড়ও শার্টে ব্যবহৃত হয়। এটি একটু মোটা এবং টেকসই। ব্রডক্লথ আরেকটি ভালো বিকল্প। এই কাপড় নরম এবং আরামদায়। টুইল উইভ শার্টও দেখা যায়। এতে তীর্যক রেখা থাকে। শার্টের জন্য সাদা, নীল, গোলাপি রঙের ওভেন ফ্যাব্রিক বেশি দেখা যায়। ডিজাইনার শার্টে চেক বা স্ট্রাইপ প্যাটার্নও জনপ্রিয়।
- পপলিন: হালকা এবং মসৃণ, অফিস শার্টে আদর্শ।
- অক্সফোর্ড: মোটা এবং টেকসই, ক্যাজুয়াল শার্টে জনপ্রিয়।
- ব্রডক্লথ: নরম এবং আরামদায়, ফরমাল শার্টে পছন্দের।
প্যান্টের জন্য ওভেন ফ্যাব্রিক
প্যান্টের জন্যও ওভেন ফ্যাব্রিক সবচেয়ে ভালো। এই কাপড় প্যান্টকে আকৃতি এবং স্থিতিশীলতা দেয়। টুইল উইভ কাপড় প্যান্টে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। এটি শক্ত এবং দীর্ঘস্থায়ী। ডেনিম জিন্স প্যান্টের সবচেয়ে জনপ্রিয় উদাহরণ। ক্যানভাস কাপড়ও ক্যাজুয়াল প্যান্টে ব্যবহার হয়। ফরমাল প্যান্টের জন্য গ্যাবার্ডিন কাপড় উপযুক্ত। এটি মসৃণ এবং পেশাদার দেখায়। কর্ডুরয় আরেকটি বিকল্প যা শীতকালীন প্যান্টে দেখা যায়। প্যান্টের কাপড় সাধারণত ঘন এবং মজবুত হয়। কালো, নেভি ব্লু, খাকি রঙ বেশি জনপ্রিয়।
ওভেন কাপড় কি
ওভেন কাপড় হলো বুনন প্রক্রিয়ায় তৈরি কাপড়। এতে দুটি সুতা একে অপরের সাথে ক্রস করা হয়। এক সেট সুতা লম্বালম্বি থাকে যাকে ওয়ার্প বলে। আরেক সেট আড়াআড়ি থাকে যাকে ওয়েফট বলে। এই দুই সুতা একসাথে মিলে কাপড়ের গঠন তৈরি করে। ওভেন কাপড়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর স্থিতিশীলতা। এটি খুব বেশি প্রসারিত হয় না। তাই আকৃতি ধরে রাখে। এই কাপড় টেকসই এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারযোগ্য। ওভেন কাপড় শার্ট থেকে শুরু করে পর্দা সব কিছুতে ব্যবহার হয়। বাংলায় একে বোনা কাপড়ও বলা হয়।
ওভেন ফ্যাব্রিক গার্মেন্টস
ওভেন ফ্যাব্রিক গার্মেন্টস হলো ওভেন কাপড় দিয়ে তৈরি পোশাক। বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে এই ধরনের পোশাক বেশি উৎপাদিত হয়। শার্ট, প্যান্ট, জ্যাকেট, স্কার্ট সবই ওভেন ফ্যাব্রিক গার্মেন্টস। এই পোশাকগুলো ফরমাল এবং পেশাদার কাজে ব্যবহৃত হয়। ওভেন গার্মেন্টস তৈরিতে বিশেষ মেশিন এবং দক্ষ শ্রমিক প্রয়োজন। কাপড় কাটা, সেলাই এবং ফিনিশিং সব ধাপ গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বব্যাপী ওভেন গার্মেন্টসের চাহিদা অনেক। বাংলাদেশ এই খাতে একটি বড় রপ্তানিকারক দেশ। কোয়ালিটি এবং দামের দিক থেকে বাংলাদেশি ওভেন গার্মেন্টস প্রশংসিত।
| পোশাক | ওভেন ফ্যাব্রিক প্রকার | ব্যবহার |
| শার্ট | পপলিন, অক্সফোর্ড | অফিস, ফরমাল |
| প্যান্ট | টুইল, ডেনিম | দৈনন্দিন, ক্যাজুয়াল |
| জ্যাকেট | টুইড, গ্যাবার্ডিন | শীতকাল, ফরমাল |
| স্কার্ট | সাটিন, ক্রেপ | অফিস, পার্টি |
ওভেন ফ্যাব্রিকের বাংলা অর্থ
এর বাংলা অর্থ হলো বোনা কাপড়। ইংরেজিতে ওভেন শব্দের অর্থ বোনা বা বুনন করা। আর ফ্যাব্রিক মানে কাপড় বা বস্ত্র। সুতরাং ওভেন ফ্যাব্রিক মানে এমন কাপড় যা বুনে তৈরি করা হয়েছে। তাঁতে বা মেশিনে সুতা দিয়ে বুনলে এই ধরনের কাপড় হয়। প্রাচীনকাল থেকে মানুষ এভাবে কাপড় তৈরি করে আসছে। বাংলায় তাঁতি বা জোলারা এই কাপড় বুনতেন। আজও গ্রামে গঞ্জে তাঁতে বোনা কাপড়ের চল আছে। ওভেন ফ্যাব্রিক শব্দটি বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পে বহুল ব্যবহৃত।
ওভেন ফ্যাব্রিক বনাম নিট ফ্যাব্রিক
ওভেন ফ্যাব্রিক এবং নিট ফ্যাব্রিকের মধ্যে তুলনা করলে কিছু স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। ওভেন কাপড় তাঁতে বুনে তৈরি হয়, নিট কাপড় সুতা লুপ করে তৈরি হয়। ওভেন কাপড়ের গঠন শক্ত এবং স্থির, নিট কাপড় নরম এবং নমনীয়। ওভেন কাপড় কম প্রসারিত হয়, নিট কাপড় বেশি প্রসারিত হয়। ওভেন ফ্যাব্রিক ফরমাল পোশাকে ভালো, নিট ফ্যাব্রিক ক্যাজুয়াল পোশাকে ভালো। ওভেন কাপড় দীর্ঘস্থায়ী, নিট কাপড় তুলনামূলক কম টেকসই। ওভেন কাপড় কুঁচকায় বেশি, নিট কাপড় কুঁচকায় কম। দুটোরই নিজস্ব সুবিধা আছে।
- ওভেন: বুনন, শক্ত, কম প্রসারিত, ফরমাল।
- নিট: লুপিং, নরম, বেশি প্রসারিত, ক্যাজুয়াল।
- ব্যবহার: ওভেন শার্ট-প্যান্টে, নিট টি-শার্ট-সোয়েটারে।
Fabric construction কি
ফ্যাব্রিক কনস্ট্রাকশন বলতে কাপড় তৈরির গঠন এবং পদ্ধতি বোঝায়। কীভাবে সুতা একসাথে জোড়া লেগে কাপড় তৈরি হয়, তাই হলো ফ্যাব্রিক কনস্ট্রাকশন। এতে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, উইভ টাইপ বা বুনন ধরন। যেমন প্লেইন, টুইল, সাটিন। দ্বিতীয়ত, ইয়ার্ন কাউন্ট বা সুতার মাপ। তৃতীয়ত, ফ্যাব্রিক ওয়েট বা কাপড়ের ওজন। চতুর্থত, থ্রেড ডেনসিটি বা সুতার ঘনত্ব। এই সব মিলে কাপড়ের গুণমান এবং বৈশিষ্ট্য নির্ধারিত হয়। ফ্যাব্রিক কনস্ট্রাকশন ভালো হলে কাপড় টেকসই হয়। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়াররা এই বিষয়ে বিশেষ জ্ঞান রাখেন।
গার্মেন্টস ফ্যাব্রিক কি
গার্মেন্টস ফ্যাব্রিক হলো পোশাক তৈরিতে ব্যবহৃত কাপড়। যে কাপড় দিয়ে শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্ট তৈরি হয়, তাই গার্মেন্টস ফ্যাব্রিক। এই কাপড় ওভেন বা নিট দুই ধরনেরই হতে পারে। গার্মেন্টস ফ্যাব্রিকের মান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কাপড় ভালো না হলে পোশাক ভালো হয় না। বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে বিভিন্ন দেশ থেকে ফ্যাব্রিক আমদানি করা হয়। আবার দেশেও অনেক মিল কাপড় তৈরি করে। গার্মেন্টস ফ্যাব্রিকের গুণমান রপ্তানি পোশাকের সাফল্যের চাবিকাঠি। সঠিক ফ্যাব্রিক নির্বাচন ডিজাইনারদের প্রধান কাজ।
| ফ্যাব্রিক প্রকার | গার্মেন্টস উদাহরণ | বৈশিষ্ট্য |
| ওভেন | শার্ট, প্যান্ট, জ্যাকেট | শক্ত, ফরমাল |
| নিট | টি-শার্ট, সোয়েটার, আন্ডারওয়্যার | নরম, প্রসারিত |
| মিশ্র | পোলো শার্ট, ক্যাজুয়াল পোশাক | দুইয়ের গুণ একসাথে |
নিট ফ্যাব্রিক কি
নিট ফ্যাব্রিক হলো সুতা লুপ করে তৈরি কাপড়। বুনন পদ্ধতির বদলে এখানে সুতা ইন্টারলুপিং করা হয়। একটি সুতা আরেকটির সাথে লুপ তৈরি করে জড়িয়ে যায়। এভাবে কাপড়ের গঠন হয়। নিট কাপড় খুবই নমনীয় এবং প্রসারিত। এটি শরীরের সাথে ফিট হয়। টি-শার্ট, সোয়েটার, মোজা সব নিট ফ্যাব্রিক দিয়ে তৈরি। এই কাপড় আরামদায়ক এবং নরম। দৈনন্দিন এবং খেলাধুলার পোশাকে বেশি ব্যবহৃত হয়। নিট কাপড় কুঁচকায় কম এবং যত্ন সহজ। তবে এটি ওভেন কাপড়ের চেয়ে কম টেকসই।
নিট ফ্যাব্রিক কত প্রকার
নিট ফ্যাব্রিক প্রধানত দুই প্রকার। প্রথমটি হলো ওয়েফট নিট। এখানে সুতা আড়াআড়ি লুপ তৈরি করে। টি-শার্ট এবং সোয়েটার এই ধরনের। দ্বিতীয়টি হলো ওয়ার্প নিট। এখানে সুতা লম্বালম্বি লুপ করে। এই কাপড় বেশি স্থিতিশীল। ওয়েফট নিটের মধ্যে আবার কয়েক ধরন আছে। সিঙ্গল জার্সি সবচেয়ে সাধারণ যা টি-শার্টে ব্যবহার হয়। রিব নিট যা কলার এবং কাফে দেখা যায়। ইন্টারলক নিট যা ডবল ফেসড এবং মোটা। ফ্লিস নিট যা উষ্ণ এবং নরম। এছাড়া জ্যাকার্ড নিট এবং পাইল নিটও আছে।
- ওয়েফট নিট: আড়াআড়ি লুপিং, টি-শার্ট এবং সোয়েটারে ব্যবহৃত।
- ওয়ার্প নিট: লম্বালম্বি লুপিং, বেশি স্থিতিশীল, আন্ডারওয়্যার এবং সাঁতারের পোশাকে।
- বিশেষ প্রকার: জার্সি, রিব, ইন্টারলক, ফ্লিস, জ্যাকার্ড।
টেক্সটাইল ফ্যাব্রিক প্রকারভেদ
টেক্সটাইল ফ্যাব্রিক অনেক প্রকারের হয়। প্রথম শ্রেণীবিভাগ হয় তৈরির পদ্ধতি অনুযায়ী। ওভেন, নিট এবং নন-ওভেন। দ্বিতীয় শ্রেণীবিভাগ হয় সুতার ধরন অনুযায়ী। প্রাকৃতিক তন্তু যেমন সুতি, সিল্ক, উল, লিনেন। কৃত্রিম তন্তু যেমন পলিয়েস্টার, নাইলন, রেয়ন, স্প্যানডেক্স। তৃতীয় শ্রেণীবিভাগ হয় ব্যবহার অনুযায়ী। পোশাক ফ্যাব্রিক, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফ্যাব্রিক, মেডিকেল ফ্যাব্রিক। চতুর্থ শ্রেণীবিভাগ হয় গঠন অনুযায়ী। সিম্পল, কম্পোজিট, স্পেশালিটি ফ্যাব্রিক। প্রতিটি প্রকারের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য এবং ব্যবহার রয়েছে। টেক্সটাইল শিল্পে এই সব ফ্যাব্রিকের বিশাল বাজার আছে।
ওভেন কাপড়ের দাম
ওভেন কাপড়ের দাম বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন রকম হয়। প্রথমত, কাপড়ের মান এবং গুণগত মানের উপর দাম নির্ভর করে। উন্নত মানের কাপড় বেশি দামি। দ্বিতীয়ত, কোন ধরনের সুতা ব্যবহার হয়েছে তার উপর দাম নির্ভর করে। সিল্ক এবং উল ওভেন কাপড় বেশি দামি। সুতি এবং পলিয়েস্টার তুলনামূলক সস্তা। তৃতীয়ত, কাপড়ের ডিজাইন এবং প্রিন্ট দামকে প্রভাবিত করে। সাদা কাপড় সস্তা, ডিজাইনার কাপড় দামি। চতুর্থত, ব্র্যান্ড এবং উৎপাদনস্থলও দামের উপর প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশে ওভেন কাপড়ের দাম সাধারণত প্রতি গজ ১০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত। মার্কেট এবং ধরন অনুযায়ী দাম আরও বেশি বা কম হতে পারে।
| কাপড়ের ধরন | আনুমানিক দাম (প্রতি গজ) | ব্যবহার |
| সাধারণ সুতি পপলিন | ১০০-২০০ টাকা | দৈনন্দিন শার্ট |
| উন্নত মানের সুতি | ৩০০-৫০০ টাকা | ফরমাল শার্ট |
| পলিয়েস্টার ব্লেন্ড | ১৫০-৩০০ টাকা | প্যান্ট, শার্ট |
| সিল্ক বা লিনেন | ৫০০-১০০০+ টাকা | বিলাসবহুল পোশাক |
ওভেন ফ্যাব্রিক কিভাবে চেনা যায়
ওভেন ফ্যাব্রিক চেনার কয়েকটি সহজ উপায় আছে। প্রথমত, কাপড়টি হাতে নিয়ে টানুন। ওভেন কাপড় খুব কম প্রসারিত হবে। নিট কাপড় বেশি প্রসারিত হবে। দ্বিতীয়ত, কাপড়ের প্রান্ত দেখুন। ওভেন কাপড়ের প্রান্ত থেকে সুতা খুলে আসতে পারে। নিট কাপড়ের প্রান্ত গুটিয়ে যাবে। তৃতীয়ত, কাপড়ের গঠন লক্ষ করুন। ওভেন কাপড়ে ক্রস-ওভার প্যাটার্ন দেখা যাবে। ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে দেখলে বোঝা সহজ। চতুর্থত, কাপড় ভাঁজ করুন। ওভেন কাপড় ভাঁজে ক্রিজ পড়বে। নিট কাপড় ক্রিজ কম পড়বে। এই উপায়গুলো দিয়ে সহজেই ওভেন ফ্যাব্রিক চেনা যায়।
ওভেন ফ্যাব্রিকের স্ট্রাকচার
এটির স্ট্রাকচার বা গঠন খুবই সুসংগঠিত। এটি মূলত দুই সেট সুতার ইন্টারলেসিং। ওয়ার্প সুতা লম্বালম্বি থাকে এবং টেনশনে রাখা হয়। ওয়েফট সুতা আড়াআড়ি ভাবে ওয়ার্পের উপর-নিচ দিয়ে যায়। এই ইন্টারলেসিং প্যাটার্নই হলো উইভ স্ট্রাকচার। প্লেইন উইভে সবচেয়ে সহজ স্ট্রাকচার। এক উপর এক নিচ। টুইল উইভে তীর্যক স্ট্রাকচার। দুই বা তিন উপর তারপর নিচ। সাটিন উইভে ফ্লোট স্ট্রাকচার। সুতা লম্বা দূরত্ব উপরে থাকে। এই স্ট্রাকচারের কারণেই ওভেন কাপড়ের বৈশিষ্ট্য নির্ধারিত হয়। স্ট্রাকচার শক্ত হলে কাপড় টেকসই হয়।
ওভেন ফ্যাব্রিকের শ্রেণীবিভাগ
ওভেন ফ্যাব্রিকের শ্রেণীবিভাগ করা হয় বিভিন্ন মাপদণ্ডে। প্রথম শ্রেণীবিভাগ হয় উইভ টাইপ অনুযায়ী। প্লেইন, টুইল, সাটিন এবং স্পেশাল উইভ। দ্বিতীয় শ্রেণীবিভাগ হয় সুতার ধরন অনুযায়ী। সুতি ওভেন, পলিয়েস্টার ওভেন, সিল্ক ওভেন, লিনেন ওভেন। তৃতীয় শ্রেণীবিভাগ হয় কাপড়ের ওজন অনুযায়ী। লাইটওয়েট, মিডিয়ামওয়েট, হেভিওয়েট। চতুর্থ শ্রেণীবিভাগ হয় ব্যবহার অনুযায়ী। শার্টিং ফ্যাব্রিক, প্যান্টিং ফ্যাব্রিক, সুটিং ফ্যাব্রিক। পঞ্চম শ্রেণীবিভাগ হয় ফিনিশ অনুযায়ী। ডাইড, প্রিন্টেড, এমব্রয়ডারড। প্রতিটি শ্রেণীর নিজস্ব বাজার এবং ব্যবহার আছে।
- উইভ টাইপ: প্লেইন, টুইল, সাটিন – বুনন পদ্ধতি অনুযায়ী।
- সুতার ধরন: সুতি, পলিয়েস্টার, সিল্ক, লিনেন – তন্তু অনুযায়ী।
- ওজন: লাইটওয়েট (শার্ট), মিডিয়াম (প্যান্ট), হেভি (জ্যাকেট)।
ওভেন ফ্যাব্রিকের গুণাগুণ

ওভেন ফ্যাব্রিকের অনেক গুণাগুণ রয়েছে যা একে বিশেষ করে তোলে। প্রথমত, এই কাপড়ের স্থায়িত্ব অসাধারণ। বছরের পর বছর ব্যবহার করা যায়। দ্বিতীয়ত, এটি শক্ত এবং মজবুত। সহজে ছিঁড়ে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। তৃতীয়ত, ওভেন কাপড়ের আকৃতি স্থিতিশীল। ধোয়ার পরেও সাইজ একই থাকে। চতুর্থত, এই কাপড়ের ড্রেপ বা ঝুলন্ত ভাব সুন্দর। পোশাক দেখতে আকর্ষণীয় হয়। পঞ্চমত, ওভেন ফ্যাব্রিকের বায়ু চলাচল ভালো। শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে সুবিধা। ষষ্ঠত, এটি রঙ ধরে রাখতে পারে। রঙ সহজে নষ্ট হয় না। সপ্তমত, ওভেন কাপড় পেশাদার চেহারা দেয়। অফিস এবং আনুষ্ঠানিক পরিবেশে উপযুক্ত।
টেক্সটাইল সম্পর্কিত আরও পোস্ট দেখতে
👉 টেক্সটাইল ক্যাটাগরি দেখুন।
উপসংহার
ওভেন ফ্যাব্রিক আমাদের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাপড়। এর শক্তি, স্থায়িত্ব এবং বহুমুখী ব্যবহার একে অপরিহার্য করে তুলেছে। শার্ট থেকে শুরু করে প্যান্ট, ঘরের পর্দা থেকে বেডশিট – সব জায়গায় ওভেন কাপড় দেখা যায়। এই কাপড় তৈরির প্রক্রিয়া জটিল কিন্তু ফলাফল চমৎকার। বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে ওভেন ফ্যাব্রিকের বিশাল অবদান রয়েছে। হাজার হাজার মানুষ এই খাতে কাজ করেন এবং দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখেন। সঠিক যত্ন এবং ব্যবহারে ওভেন কাপড় বছরের পর বছর টিকে থাকে। পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক তন্তু এবং আধুনিক কৃত্রিম তন্তু – দুটোই ওভেন পদ্ধতিতে কাপড় তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। প্রযুক্তির উন্নতির সাথে ওভেন ফ্যাব্রিকের মানও বাড়ছে। ভবিষ্যতেও এই কাপড়ের চাহিদা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা যায়।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)
ওভেন ফ্যাব্রিক এবং নিট ফ্যাব্রিকের মধ্যে কোনটি ভালো?
দুটোরই নিজস্ব সুবিধা আছে। ওভেন ফ্যাব্রিক ফরমাল পোশাকের জন্য ভালো। এটি শক্ত এবং টেকসই। নিট ফ্যাব্রিক ক্যাজুয়াল পোশাকের জন্য উপযুক্ত। এটি নরম এবং আরামদায়। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নিন।
ওভেন কাপড় কি গরমে পরা যায়?
হ্যাঁ, সুতি ওভেন ফ্যাব্রিক গরমে পরার জন্য আদর্শ। এটি শ্বাসপ্রশ্বাসযোগ্য এবং ঘাম শোষণ করে। তবে পলিয়েস্টার ওভেন কাপড় গরমে কম আরামদায়ক হতে পারে।
ওভেন ফ্যাব্রিক কি সংকুচিত হয়?
সাধারণত ওভেন ফ্যাব্রিক ধোয়ার পর সংকুচিত হয় না। তবে প্রথমবার ধোয়ার সময় সামান্য সংকুচিত হতে পারে। তাই কেনার সময় একটু বড় সাইজ নেওয়া ভালো। প্রি-শ্রাঙ্ক কাপড় সংকুচিত হয় না।
কীভাবে ওভেন কাপড়ের যত্ন নিব?
ওভেন কাপড়ের যত্ন সহজ। মেশিনে বা হাতে ধোয়া যায়। তবে রঙিন কাপড় ঠান্ডা পানিতে ধুতে হবে। রোদে শুকানোর সময় সরাসরি সূর্যালোক এড়ান। ইস্ত্রি করার সময় কাপড়ের ধরন অনুযায়ী তাপমাত্রা সেট করুন।
ওভেন ফ্যাব্রিক কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?
বাংলাদেশে যেকোনো কাপড়ের বাজারে ওভেন ফ্যাব্রিক পাওয়া যায়। ঢাকার নিউ মার্কেট, গাউসিয়া, চকবাজার বড় বাজার। এছাড়া অনলাইনেও অর্ডার করা যায়। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি এবং ফ্যাব্রিক সাপ্লাইয়ারদের কাছেও পাওয়া যায়।
ওভেন কাপড় দিয়ে কি সব ধরনের পোশাক তৈরি করা যায়?
না, ওভেন কাপড় প্রসারিত হয় না বলে টাইট ফিটিং পোশাক তৈরি কঠিন। শার্ট, প্যান্ট, স্কার্ট, জ্যাকেট ভালো হয়। কিন্তু লেগিংস, সোয়েটার, টি-শার্টের জন্য নিট কাপড় ভালো।
বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে ওভেন ফ্যাব্রিকের গুরুত্ব কতটা?
বাংলাদেশের গার্মেন্টস রপ্তানির প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ ওভেন পোশাক। শার্ট, প্যান্ট, জ্যাকেট রপ্তানি হয়। এই খাতে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান। অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রয়েছে।
ওভেন ফ্যাব্রিক কি পরিবেশবান্ধব?
এটি নির্ভর করে কোন তন্তু ব্যবহার হয়েছে তার উপর। সুতি, লিনেন, সিল্ক প্রাকৃতিক এবং পরিবেশবান্ধব। পলিয়েস্টার, নাইলন কৃত্রিম এবং কম পরিবেশবান্ধব। তবে রিসাইকেল পলিয়েস্টার পরিবেশের জন্য ভালো।
ওভেন কাপড়ের গুণমান কীভাবে যাচাই করব?
কাপড়ের গুণমান যাচাই করতে কয়েকটি বিষয় দেখুন। সুতার সূক্ষ্মতা এবং ঘনত্ব। কাপড়ের ওজন এবং পুরুত্ব। রঙের স্থায়িত্ব এবং উজ্জ্বলতা। কাপড় টানলে কতটা শক্ত। ভালো কাপড় সমান এবং ত্রুটিহীন হবে।
ওভেন ফ্যাব্রিক কি ওয়াশিং মেশিনে ধোয়া যায়?
হ্যাঁ, বেশিরভাগ ওভেন ফ্যাব্রিক ওয়াশিং মেশিনে ধোয়া যায়। তবে কাপড়ের লেবেলে দেওয়া নির্দেশনা দেখুন। সিল্ক এবং উলের মতো সূক্ষ্ম কাপড় হাতে ধোয়া ভালো। সাধারণ সুতি এবং পলিয়েস্টার মেশিনে ধোয়া নিরাপদ।
🔥 পোস্টটি শেয়ার করুনঃ 🌍






