গাড়ি চালানোর সময় ইঞ্জিন গরম হওয়া একটি সাধারণ সমস্যা। অনেক সময় এই সমস্যা বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। আজকের এই লেখায় আমরা জানবো গাড়ির ইঞ্জিন ওভারহিট এর কারণ এবং সমাধান। সহজ ভাষায় সব কিছু বুঝিয়ে দেব।
ইঞ্জিন ওভারহিট কেন হয়

ইঞ্জিন ওভারহিট কেন হয় এই প্রশ্নের উত্তর খুবই সহজ। ইঞ্জিন যখন কাজ করে তখন প্রচুর তাপ তৈরি হয়। এই তাপ বের করার জন্য কুলিং সিস্টেম থাকে। কুলিং সিস্টেমে কোনো সমস্যা হলে তাপ বের হতে পারে না। ফলে ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। কখনো কখনো পানির পাম্প নষ্ট হয়ে যায়। তখন পানি সঠিকভাবে ঘুরতে পারে না। আবার রেডিয়েটরে লিক থাকলেও পানি কমে যায়। এসব কারণে ইঞ্জিন ওভারহিট হয়।
গাড়ির ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হওয়ার কারণ
গাড়ির ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হওয়ার পেছনে অনেক কারণ আছে। প্রথমত, কুল্যান্ট বা পানি কমে গেলে এমন হয়। দ্বিতীয়ত, রেডিয়েটরে সমস্যা থাকলেও ইঞ্জিন গরম হয়। তৃতীয়ত, থার্মোস্ট্যাট নষ্ট হলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ হয় না। এছাড়া ফ্যান কাজ না করলেও ইঞ্জিন ঠান্ডা হতে পারে না। পুরনো গাড়িতে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করলে ইঞ্জিন ওভারহিট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই সময়মতো সার্ভিসিং করা জরুরি।
গাড়ি ওভারহিট হওয়ার লক্ষণ
- ড্যাশবোর্ডে তাপমাত্রা গেজ লাল হয়ে যায়
- ইঞ্জিন থেকে ধোঁয়া বা বাষ্প বের হতে দেখা যায়
- ইঞ্জিনের শব্দ অস্বাভাবিক হয়ে যায়
- গাড়ির পাওয়ার কমে যায় এবং চলতে সমস্যা হয়
- বনেটের নিচ থেকে পানি পড়তে দেখা যায়
- গাড়ির এসি ঠিকমতো ঠান্ডা হয় না
গাড়ি ওভারহিট হওয়ার লক্ষণ দেখলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে বড় ক্ষতি হতে পারে। প্রথমেই গাড়ি থামিয়ে ইঞ্জিন বন্ধ করুন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ইঞ্জিন ঠান্ডা হতে দিন। তারপর কুল্যান্ট চেক করুন এবং প্রয়োজন হলে যোগ করুন। মনে রাখবেন, গরম ইঞ্জিনে হঠাৎ ঠান্ডা পানি ঢালবেন না।
ইঞ্জিন ওভারহিট হলে করণীয়
ইঞ্জিন ওভারহিট হলে করণীয় জানা খুবই জরুরি। প্রথমে গাড়ি নিরাপদ স্থানে নিয়ে থামান। এসি এবং হিটার বন্ধ করে দিন। ইঞ্জিন চালু রেখে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। এতে ফ্যান চলতে থাকবে এবং ইঞ্জিন ধীরে ধীরে ঠান্ডা হবে। দশ থেকে পনেরো মিনিট পর ইঞ্জিন বন্ধ করুন। বনেট খোলার আগে সম্পূর্ণ ঠান্ডা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। রেডিয়েটর ক্যাপ খোলার সময় অবশ্যই সাবধান থাকুন। গরম বাষ্প দিয়ে পুড়ে যেতে পারেন। কুল্যান্ট কম থাকলে ঠান্ডা পানি যোগ করুন।
চলন্ত অবস্থায় ইঞ্জিন ওভারহিট হলে কী করবেন
চলন্ত অবস্থায় ইঞ্জিন ওভারহিট হলে ঘাবড়াবেন না। প্রথমে গতি কমিয়ে নিন এবং নিরাপদ জায়গায় থামুন। জরুরি অবস্থায় হ্যাজার্ড লাইট জ্বালিয়ে দিন। গাড়ি থামানোর পর ইঞ্জিন বন্ধ করবেন না। কয়েক মিনিট চালু রেখে দিন যাতে ফ্যান কাজ করতে পারে। এই সময় এসি এবং অন্যান্য ইলেকট্রিক যন্ত্র বন্ধ করুন। ইঞ্জিন ঠান্ডা হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দিন। কখনোই গরম ইঞ্জিনে পানি ঢালবেন না। এতে ইঞ্জিন ব্লক ফেটে যেতে পারে। সমস্যা বেশি মনে হলে মেকানিক ডাকুন।
ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হলে কি চালানো যায়
- না, ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হলে চালানো উচিত নয়
- এতে ইঞ্জিন সিজ হয়ে যেতে পারে
- পিস্টন এবং সিলিন্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়
- হেড গ্যাসকেট নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে
- মেরামত খরচ অনেক বেড়ে যায়
- সম্পূর্ণ ইঞ্জিন বদলাতে হতে পারে
ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হলে কি চালানো যায় এই প্রশ্নের উত্তর হলো না। কখনোই ওভারহিট ইঞ্জিন চালানো উচিত নয়। এতে স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। ইঞ্জিনের ভেতরের যন্ত্রাংশ গলে যেতে পারে। তেল পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ইঞ্জিন ঠান্ডা হওয়ার পর আবার চালু করতে পারবেন। তবে দ্রুত মেকানিক দেখানো উচিত।
ইঞ্জিন ওভারহিট হলে কতটা ক্ষতি হয়
ইঞ্জিন ওভারহিট হলে কতটা ক্ষতি হয় তা নির্ভর করে কত দেরি হয়েছে। অল্প সময় ওভারহিট থাকলে তেমন সমস্যা নাও হতে পারে। কিন্তু বেশিক্ষণ ওভারহিট থাকলে বড় ক্ষতি হয়। হেড গ্যাসকেট নষ্ট হয়ে যায়। সিলিন্ডার হেড বাঁকা হয়ে যেতে পারে। পিস্টন এবং রিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কখনো কখনো ইঞ্জিন সম্পূর্ণ সিজ হয়ে যায়। তখন নতুন ইঞ্জিন লাগাতে হয়। মেরামত খরচ কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তাই ওভারহিটের লক্ষণ দেখলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নিন।
| ক্ষতির ধরন | হালকা ওভারহিট | মাঝারি ওভারহিট | মারাত্মক ওভারহিট |
| হেড গ্যাসকেট | সাধারণত ঠিক থাকে | ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে | নিশ্চিত নষ্ট হয় |
| পিস্টন | কোনো সমস্যা নেই | সামান্য ক্ষতি | গলে যেতে পারে |
| সিলিন্ডার | স্বাভাবিক | স্ক্র্যাচ পড়তে পারে | মারাত্মক ক্ষতি |
| খরচ | কম বা নেই | ১০-৩০ হাজার টাকা | ১-৫ লক্ষ টাকা |
গাড়ির রেডিয়েটর সমস্যা লক্ষণ
গাড়ির রেডিয়েটর সমস্যা লক্ষণ বুঝতে পারলে আগেই ব্যবস্থা নেওয়া যায়। রেডিয়েটরে লিক থাকলে পানি কমে যায়। গাড়ির নিচে পানি জমে থাকতে দেখবেন। রেডিয়েটর বন্ধ হয়ে গেলে ইঞ্জিন দ্রুত গরম হয়। কখনো কখনো রেডিয়েটরে মরিচা ধরে যায়। তখন পানি সঠিকভাবে চলাচল করতে পারে না। রেডিয়েটর ক্যাপ নষ্ট হলে চাপ ঠিকমতো থাকে না। এসব লক্ষণ দেখলে রেডিয়েটর পরীক্ষা করান। প্রয়োজন হলে পরিষ্কার বা বদলে ফেলুন।
কুল্যান্ট কম থাকলে কী হয়
- ইঞ্জিন দ্রুত গরম হয়ে যায়
- কুলিং সিস্টেম ঠিকমতো কাজ করতে পারে না
- ইঞ্জিনের ভেতরে মরিচা ধরার সম্ভাবনা থাকে
- ওভারহিটের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়
- পানির পাম্প শুকিয়ে নষ্ট হতে পারে
- হেড গ্যাসকেট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে
কুল্যান্ট কম থাকলে কী হয় এটা জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কুল্যান্ট মূলত ইঞ্জিন ঠান্ডা রাখার কাজ করে। এটি কম থাকলে তাপ নিয়ন্ত্রণ হয় না। ফলে ইঞ্জিন ওভারহিট হয়ে যায়। নিয়মিত কুল্যান্ট লেভেল চেক করা উচিত। প্রতি দুই বছর পর পর কুল্যান্ট বদলে নিন। ভালো মানের কুল্যান্ট ব্যবহার করুন যাতে মরিচা প্রতিরোধ করে।
ইঞ্জিন কুলিং সিস্টেম সমস্যা
ইঞ্জিন কুলিং সিস্টেম সমস্যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। রেডিয়েটরে বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি সাধারণ সমস্যা। থার্মোস্ট্যাট নষ্ট হলে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পানির পাম্প কাজ না করলেও কুলিং হয় না। হোসপাইপে লিক থাকলে পানি বের হয়ে যায়। ফ্যান বেল্ট ঢিলা হলে ফ্যান ঠিকমতো ঘুরে না। এসব সমস্যা নিয়মিত চেক করা দরকার। প্রতি সার্ভিসিংয়ে কুলিং সিস্টেম পরীক্ষা করান। ছোট সমস্যা বড় হওয়ার আগেই ঠিক করে নিন।
রেডিয়েটর ফ্যান কাজ না করলে কী হয়
রেডিয়েটর ফ্যান কাজ না করলে ইঞ্জিন ঠান্ডা হতে পারে না। বিশেষ করে ট্রাফিকে দাঁড়িয়ে থাকার সময় সমস্যা হয়। চলার সময় বাতাস লেগে ইঞ্জিন কিছুটা ঠান্ডা থাকে। কিন্তু স্থির থাকলে শুধু ফ্যানই ঠান্ডা করে। ফ্যান না চললে দ্রুত তাপমাত্রা বেড়ে যায়। ফ্যান মোটর নষ্ট হলে বদলাতে হয়। কখনো কখনো ফিউজ পুড়ে যায়। তখন শুধু ফিউজ বদলালেই চলে। ফ্যান সুইচ নষ্ট হলেও ফ্যান চালু হয় না। নিয়মিত ফ্যান পরীক্ষা করুন।
| যন্ত্রাংশ | কাজ | সমস্যার লক্ষণ | সমাধান |
| রেডিয়েটর ফ্যান | ইঞ্জিন ঠান্ডা করা | ফ্যান চালু হয় না | মোটর বদলানো |
| থার্মোস্ট্যাট | তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ | ইঞ্জিন গরম থাকা | ভালভ পরিবর্তন |
| পানির পাম্প | কুল্যান্ট চলাচল | পানি ঘুরে না | পাম্প মেরামত |
| হোসপাইপ | পানি বহন | লিক হওয়া | পাইপ বদলানো |
থার্মোস্ট্যাট ভালভ নষ্ট হলে লক্ষণ
- ইঞ্জিন স্বাভাবিক তাপমাত্রায় পৌঁছায় না
- অথবা খুব দ্রুত অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়
- তাপমাত্রা গেজ অস্বাভাবিক আচরণ করে
- হিটার ঠিকমতো গরম হয় না
- ফুয়েল খরচ বেড়ে যায়
- ইঞ্জিন পাওয়ার কমে যায়
থার্মোস্ট্যাট ভালভ নষ্ট হলে লক্ষণ বুঝতে পারা সহজ। এটি ইঞ্জিনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ভালভ খোলা অবস্থায় আটকে গেলে ইঞ্জিন গরম হয় না। বন্ধ অবস্থায় আটকে গেলে ওভারহিট হয়। নিয়মিত পরিবর্তন করা উচিত। সাধারণত প্রতি ৫০ হাজার কিলোমিটারে বদলানো হয়।
ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হওয়ার সমাধান
ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হওয়ার সমাধান জানা থাকলে বড় সমস্যা এড়ানো যায়। প্রথমে কুল্যান্ট লেভেল ঠিক রাখুন। নিয়মিত রেডিয়েটর পরিষ্কার করুন। থার্মোস্ট্যাট সময়মতো বদলান। ফ্যান এবং বেল্ট চেক করুন। ইঞ্জিন অয়েল নিয়মিত পরিবর্তন করুন। হোসপাইপে লিক থাকলে মেরামত করুন। পানির পাম্প ভালো আছে কিনা দেখুন। গরমের সময় বেশি সতর্ক থাকুন। দীর্ঘ যাত্রার আগে পুরো কুলিং সিস্টেম পরীক্ষা করান। এসব ছোট ছোট সাবধানতায় বড় সমস্যা এড়ানো সম্ভব।
গরমে গাড়ির ইঞ্জিন ওভারহিট কেন হয়
গরমে গাড়ির ইঞ্জিন ওভারহিট কেন হয় এটা বোঝা জরুরি। গরম আবহাওয়ায় বাইরের তাপমাত্রা বেশি থাকে। তাই ইঞ্জিন ঠান্ডা করা কঠিন হয়ে যায়। কুলিং সিস্টেমের উপর চাপ বেড়ে যায়। এসি চালালে আরও বেশি তাপ তৈরি হয়। রেডিয়েটরে ধুলাবালি জমে থাকলে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। গরমে পানি দ্রুত বাষ্প হয়ে যায়। ফলে কুল্যান্ট কমে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। গরম মাসে বেশি সতর্ক থাকতে হয়। নিয়মিত কুল্যান্ট চেক করুন এবং প্রয়োজনে যোগ করুন।
ট্রাফিকে দাঁড়িয়ে ইঞ্জিন ওভারহিট কারণ
- ট্রাফিকে গাড়ি স্থির থাকে তাই বাতাস লাগে না
- ফ্যানই একমাত্র উপায় ইঞ্জিন ঠান্ডা করার
- ফ্যান কাজ না করলে দ্রুত গরম হয়ে যায়
- এসি চালু থাকলে তাপ আরও বাড়ে
- দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলে সমস্যা বেশি হয়
- পুরনো গাড়িতে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়
ট্রাফিকে দাঁড়িয়ে ইঞ্জিন ওভারহিট কারণ খুঁজে বের করা সহজ। চলন্ত অবস্থায় সামনে থেকে বাতাস আসে। এই বাতাস রেডিয়েটর ঠান্ডা করে। কিন্তু স্থির থাকলে বাতাস আসে না। তখন শুধু ফ্যানের উপর নির্ভর করতে হয়। ফ্যান ঠিকমতো কাজ না করলে সমস্যা হয়। ট্রাফিকে আটকে গেলে এসি বন্ধ রাখার চেষ্টা করুন।
এসি চালালে ইঞ্জিন ওভারহিট হয় কেন
এসি চালালে ইঞ্জিন ওভারহিট হয় কেন এই প্রশ্ন অনেকেই করেন। এসি চালাতে ইঞ্জিনের শক্তি লাগে। এতে ইঞ্জিনের উপর বাড়তি চাপ পড়ে। এসি কম্প্রেসার অনেক তাপ তৈরি করে। এই তাপও ইঞ্জিনে যুক্ত হয়। কুলিং সিস্টেম দুটো কাজ করতে হয়। একসাথে ইঞ্জিন এবং এসি ঠান্ডা করতে হয়। দুর্বল কুলিং সিস্টেম এই চাপ নিতে পারে না। ফলে ইঞ্জিন গরম হয়ে যায়। গরমে বা ট্রাফিকে এসি কম ব্যবহার করুন। কুলিং সিস্টেম ভালো রাখলে এসি চালিয়েও সমস্যা হবে না।
ইঞ্জিন অয়েল কম হলে ওভারহিট হয় কি
ইঞ্জিন অয়েল কম হলে ওভারহিট হতে পারে। অয়েল শুধু লুব্রিকেশনই দেয় না। এটি তাপও নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। অয়েল ইঞ্জিনের ভেতরের যন্ত্রাংশ ঠান্ডা রাখে। কম অয়েলে ঘর্ষণ বেড়ে যায়। ঘর্ষণ থেকে বেশি তাপ তৈরি হয়। এই অতিরিক্ত তাপ ইঞ্জিন গরম করে দেয়। পুরনো অয়েলও সমস্যা করে। পুরনো অয়েল তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। নিয়মিত অয়েল চেক করুন। সময়মতো অয়েল বদলান। ভালো মানের অয়েল ব্যবহার করুন।
| ইঞ্জিন অয়েলের অবস্থা | ওভারহিটের ঝুঁকি | অন্যান্য সমস্যা | সমাধান |
| পরিমাণ কম | মাঝারি থেকে বেশি | ইঞ্জিন সিজ হতে পারে | অয়েল যোগ করা |
| পুরনো অয়েল | মাঝারি | পাওয়ার কমে যাওয়া | অয়েল বদলানো |
| ভুল গ্রেড | কম থেকে মাঝারি | খরচ বেড়ে যাওয়া | সঠিক অয়েল ব্যবহার |
| অয়েল লিক | বেশি | সম্পূর্ণ নষ্ট হওয়া | লিক মেরামত |
ইঞ্জিন সিজ হওয়ার কারণ
ইঞ্জিন সিজ হওয়ার কারণ মূলত ওভারহিট। অতিরিক্ত তাপে পিস্টন গলে যায়। সিলিন্ডারের সাথে লেগে যায়। তখন ইঞ্জিন
ঘুরতে পারে না। অয়েল কম থাকলেও সিজ হতে পারে। লুব্রিকেশন না থাকলে যন্ত্রাংশ আটকে যায়। পানি ইঞ্জিনে ঢুকে গেলেও সিজ হয়। বন্যার পানিতে গাড়ি ডুবলে এমন হয়। দীর্ঘদিন গাড়ি না চালালে মরিচা ধরে। তখনও সিজের সম্ভাবনা থাকে। সিজ হলে মেরামত খুব ব্যয়বহুল। অনেক সময় নতুন ইঞ্জিন লাগাতে হয়।
ওভারহিট ইঞ্জিন ঠান্ডা করার উপায়
- গাড়ি নিরাপদ স্থানে থামান এবং ইঞ্জিন বন্ধ করুন
- বনেট খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন
- অন্তত ত্রিশ মিনিট অপেক্ষা করুন
- ইঞ্জিন সম্পূর্ণ ঠান্ডা হওয়ার পর কুল্যান্ট চেক করুন
- প্রয়োজনে ঠান্ডা পানি ধীরে ধীরে যোগ করুন
- তাড়াহুড়া করবেন না এবং গরম অবস্থায় পানি ঢালবেন না
ওভারহিট ইঞ্জিন ঠান্ডা করার উপায় সঠিকভাবে জানা দরকার। ভুল পদ্ধতিতে আরও ক্ষতি হতে পারে। ধৈর্য ধরে ইঞ্জিন ঠান্ডা হতে দিন। কখনোই জোর করে চালু করবেন না। সম্পূর্ণ ঠান্ডা হওয়ার পর আবার স্টার্ট দিন।
পুরনো গাড়িতে ইঞ্জিন ওভারহিট সমস্যা
পুরনো গাড়িতে ইঞ্জিন ওভারহিট সমস্যা খুবই সাধারণ। কুলিং সিস্টেমের যন্ত্রাংশ পুরনো হয়ে যায়। রেডিয়েটরে মরিচা ধরে এবং বন্ধ হয়ে যায়। হোসপাইপ শক্ত হয়ে ফেটে যায়। থার্মোস্ট্যাট কাজ করা বন্ধ করে দেয়। পানির পাম্প দুর্বল হয়ে যায়। ইঞ্জিনে জমে থাকা ময়লা তাপ বাড়ায়। পুরনো গাড়ির জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ খুব জরুরি। কুলিং সিস্টেম পুরো পরিষ্কার করান। প্রয়োজনে যন্ত্রাংশ বদলে নিন। তাহলে পুরনো গাড়িও ভালো চলবে।
গাড়ির পানি কমে গেলে ইঞ্জিন গরম হয় কেন
গাড়ির পানি কমে গেলে ইঞ্জিন গরম হয় কেন এটা বুঝতে হবে। পানি বা কুল্যান্ট ইঞ্জিনের তাপ শোষণ করে। এই তাপ রেডিয়েটরে নিয়ে যায়। রেডিয়েটরে তাপ বাতাসে ছেড়ে দেয়। পানি কম থাকলে তাপ শোষণ হয় না। ফলে ইঞ্জিন গরম হতে থাকে। কুলিং সিস্টেম ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। পর্যাপ্ত পানি না থাকলে সার্কুলেশন হয় না। তাই নিয়মিত পানির লেভেল দেখা দরকার। কম থাকলে সাথে সাথে পূরণ করুন। লিক থাকলে মেরামত করান।
ইঞ্জিন ওভারহিট প্রতিরোধের উপায়
ইঞ্জিন ওভারহিট প্রতিরোধের উপায় জানলে সমস্যা এড়ানো যায়। প্রতিদিন কুল্যান্ট লেভেল চেক করুন। মাসে একবার রেডিয়েটর পরিষ্কার করুন। নিয়মিত ইঞ্জিন অয়েল বদলান। ফ্যান এবং বেল্ট ঠিক আছে কিনা দেখুন। থার্মোস্ট্যাট সময়মতো পরিবর্তন করুন। গরমে বা দীর্ঘ যাত্রার আগে পুরো সিস্টেম চেক করান। ট্রাফিকে এসি কম ব্যবহার করুন। গাড়ি ওভারলোড করবেন না। প্রতি সার্ভিসিংয়ে কুলিং সিস্টেম পরীক্ষা করান। এসব সাবধানতায় ওভারহিট এড়ানো সম্ভব।
হাইওয়েতে গাড়ির ইঞ্জিন ওভারহিট
হাইওয়েতে গাড়ির ইঞ্জিন ওভারহিট হওয়া বিপজ্জনক। দূরে থাকলে সাহায্য পাওয়া কঠিন। হাইওয়েতে দীর্ঘ সময় গাড়ি চালাতে হয়। উচ্চ গতিতে ইঞ্জিনের চাপ বেশি থাকে। এতে বেশি তাপ তৈরি হয়। কুলিং সিস্টেম দুর্বল হলে সামলাতে পারে না। তাই হাইওয়ে যাত্রার আগে ভালো করে চেক করুন। পর্যাপ্ত কুল্যান্ট নিয়ে যান। জরুরি যোগাযোগের নম্বর সাথে রাখুন। সমস্যা হলে সাথে সাথে থামুন। জোর করে চালানোর চেষ্টা করবেন না।
| পরিস্থিতি | ওভারহিট হওয়ার সম্ভাবনা | সাবধানতা | করণীয় |
| শহরে চলাচল | কম | নিয়মিত চেক | বছরে দুবার সার্ভিস |
| ট্রাফিক জ্যাম | মাঝারি | ফ্যান চেক করা | এসি কম চালানো |
| হাইওয়ে যাত্রা | মাঝারি থেকে বেশি | পুরো সিস্টেম চেক | যথেষ্ট কুল্যান্ট |
| পাহাড়ি এলাকা | বেশি | সব কিছু নতুন করা | বিরতি নিয়ে চালানো |
গাড়ি বন্ধ করলে ইঞ্জিন বেশি গরম হয় কেন
- গাড়ি বন্ধ করলে কুল্যান্ট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়
- ফ্যান না চললে বাতাস চলাচল হয় না
- ইঞ্জিনের তাপ আটকে থাকে ভেতরে
- কয়েক মিনিটের জন্য তাপমাত্রা বাড়তে পারে
- এরপর ধীরে ধীরে ঠান্ডা হতে শুরু করে
- এটি স্বাভাবিক এবং চিন্তার কিছু নেই
গাড়ি বন্ধ করলে ইঞ্জিন বেশি গরম হয় কেন এটা অনেকে বুঝেন না। চলার সময় কুল্যান্ট এবং ফ্যান কাজ করে। বন্ধ করলে এগুলো থেমে যায়। কিন্তু ইঞ্জিনে জমে থাকা তাপ বের হতে সময় নেয়। তাই প্রথমে একটু বেশি গরম মনে হয়। এরপর স্বাভাবিক হয়ে যায়।
ইঞ্জিন ওভারহিট হলে ধোঁয়া বের হয় কেন
ইঞ্জিন ওভারহিট হলে ধোঁয়া বের হয় কেন এই প্রশ্ন করেন অনেকে। আসলে এটি ধোঁয়া নয়, বাষ্প। কুল্যান্ট অতিরিক্ত গরম হয়ে ফুটতে থাকে। ফুটন্ত কুল্যান্ট থেকে বাষ্প বের হয়। কখনো কখনো রেডিয়েটর ক্যাপ খুলে বাষ্প বের হয়। লিক থাকলে গরম পানি ইঞ্জিনে পড়ে বাষ্প হয়। হোসপাইপ ফেটে গেলেও বাষ্প দেখা যায়। বাষ্প দেখলে সাথে সাথে গাড়ি থামান। বন্ধ করে ঠান্ডা হতে দিন। কখনোই চালু রাখবেন না। মেকানিক ডাকার ব্যবস্থা করুন।
ইঞ্জিন তাপমাত্রা কত হলে বিপজ্জনক
ইঞ্জিন তাপমাত্রা কত হলে বিপজ্জনক এটা জানা জরুরি। সাধারণত ইঞ্জিন ৯০-১০৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে চলে। এটি স্বাভাবিক তাপমাত্রা। ১১০ ডিগ্রির উপরে গেলে সতর্ক হতে হবে। ১২০ ডিগ্রি হলে বিপদের সীমায় পৌঁছে যায়। এর বেশি হলে ক্ষতি শুরু হয়ে যায়। তাপমাত্রা গেজ সবসময় চোখে রাখুন। মাঝামাঝি অবস্থানে থাকাই ভালো। লাল দাগে গেলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নিন। দেরি করলে বড় ক্ষতি হতে পারে।
গাড়ির হিট ইন্ডিকেটর লাল হলে কী করবেন
- সাথে সাথে গাড়ি নিরাপদ জায়গায় নিয়ে থামান
- ইঞ্জিন বন্ধ করে দিন এবং বনেট খুলুন
- অন্তত ত্রিশ মিনিট অপেক্ষা করুন
- কুল্যান্ট এবং অন্যান্য ফ্লুইড চেক করুন
- সমস্যা বড় মনে হলে মেকানিক ডাকুন
- জোর করে আবার চালু করবেন না
গাড়ির হিট ইন্ডিকেটর লাল হলে কী করবেন এটা মাথায় রাখুন। এটি একটি জরুরি সংকেত। উপেক্ষা করলে ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যাবে। লাল দেখলে কোনো দেরি করবেন না। সাথে সাথে থামুন এবং ঠান্ডা হতে দিন।
ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হলে কি বিস্ফোরণ হতে পারে
ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হলে কি বিস্ফোরণ হতে পারে এই ভয় অনেকের থাকে। সত্যি বলতে বিস্ফোরণের সম্ভাবনা খুবই কম। তবে একেবারে নেই তা নয়। অতিরিক্ত তাপে রেডিয়েটর ফেটে যেতে পারে। তখন গরম পানি ছিটকে বের হয়। এতে আগুন লাগার সম্ভাবনা থাকে। জ্বালানি লাইন গরম হয়ে ফুটো হতে পারে। তখন পেট্রোল বা ডিজেল বের হয়ে আগুন ধরতে পারে। তবে এগুলো খুবই বিরল ঘটনা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শুধু ইঞ্জিন নষ্ট হয়। তাও এড়ানো উচিত।
গাড়ির ওভারহিট সমস্যা স্থায়ী সমাধান

গাড়ির ওভারহিট সমস্যা স্থায়ী সমাধান চাইলে কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রথমে পুরো কুলিং সিস্টেম পরীক্ষা করান। রেডিয়েটর পরিষ্কার বা প্রয়োজনে বদলান। থার্মোস্ট্যাট নতুন লাগান। পানির পাম্প চেক করে ভালো না থাকলে পরিবর্তন করুন। সব হোসপাইপ এবং ক্ল্যাম্প পরীক্ষা করুন। ফ্যান মোটর এবং সুইচ ঠিক করুন। ভালো মানের কুল্যান্ট ব্যবহার করুন। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করুন। এসব করলে ওভারহিটের সমস্যা আর হবে না। একবার ঠিক করলে দীর্ঘদিন নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন।
ইঞ্জিন ওভারহিট হলে মেকানিক দেখাবেন কখন
ইঞ্জিন ওভারহিট হলে মেকানিক দেখাবেন কখন এটা জানা দরকার। প্রথমবার হলে নিজে ঠিক করার চেষ্টা করতে পারেন। কুল্যান্ট যোগ করে দেখুন কাজ হয় কিনা। কিন্তু বারবার হলে অবশ্যই মেকানিক দেখান। ধোঁয়া বা বাষ্প বের হলে সাথে সাথে দেখান। ইঞ্জিন থেকে অস্বাভাবিক শব্দ এলে দেরি করবেন না। কুল্যান্ট দ্রুত কমে গেলে বুঝবেন লিক আছে। তখনও মেকানিক লাগবে। ওভারহিট হওয়ার পর গাড়ি ঠিকমতো না চললে চেক করান। যত তাড়াতাড়ি সমস্যা ধরা পড়বে তত কম খরচ হবে।
অটোমোবাইল সম্পর্কিত আরও পোস্ট দেখতে
👉 অটোমোবাইল ক্যাটাগরি দেখুন।
উপসংহার
গাড়ির ইঞ্জিন ওভারহিট একটি মারাত্মক সমস্যা। তবে সঠিক জ্ञান থাকলে এড়ানো সম্ভব। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করলে সমস্যা হয় না। কুল্যান্ট, রেডিয়েটর, ফ্যান সব ঠিক রাখতে হবে। গরমের সময় বেশি সতর্ক থাকুন। লক্ষণ দেখলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন। ছোট সমস্যা বড় হওয়ার আগে সমাধান করুন। গাড়ির যত্ন নিলে গাড়িও আপনার যত্ন নেবে। মনে রাখবেন, প্রতিরোধ সবসময় চিকিৎসার চেয়ে ভালো। সঠিক জ্ঞান এবং সাবধানতা আপনার গাড়ি দীর্ঘদিন ভালো রাখবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)
ইঞ্জিন ওভারহিট হওয়ার প্রধান কারণ কী?
প্রধান কারণ হলো কুল্যান্ট কম থাকা বা শেষ হয়ে যাওয়া। এছাড়া রেডিয়েটর বন্ধ, ফ্যান নষ্ট, থার্মোস্ট্যাট খারাপ এসব কারণেও হতে পারে।
ওভারহিট হলে কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়?
কমপক্ষে ত্রিশ মিনিট অপেক্ষা করা উচিত। সম্পূর্ণ ঠান্ডা না হওয়া পর্যন্ত বনেট খুলবেন না বা পানি ঢালবেন না।
কত দিন পর পর কুল্যান্ট বদলাতে হয়?
সাধারণত প্রতি দুই বছর বা ৪০-৫০ হাজার কিলোমিটার পর কুল্যান্ট বদলানো উচিত। গাড়ির ম্যানুয়েল অনুযায়ী করুন।
ইঞ্জিন ওভারহিট হলে মেরামত খরচ কত?
খরচ নির্ভর করে কতটা ক্ষতি হয়েছে তার উপর। সাধারণ সমস্যায় ৫-১০ হাজার টাকা। বড় সমস্যায় ১-৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
এসি বন্ধ করলে কি ওভারহিট এড়ানো যায়?
হ্যাঁ, ট্রাফিকে বা গরমে এসি বন্ধ রাখলে ইঞ্জিনের চাপ কমে। এতে ওভারহিটের সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।
পানির বদলে কুল্যান্ট ব্যবহার কেন ভালো?
কুল্যান্ট শুধু ঠান্ডা করে না, মরিচাও প্রতিরোধ করে। এটি উচ্চ তাপমাত্রায় ফোটে না এবং ইঞ্জিন ভালো রাখে।
ওভারহিট ইঞ্জিন কি আবার ভালো হয়?
হ্যাঁ, সময়মতো ব্যবস্থা নিলে ভালো হয়। কিন্তু বেশিক্ষণ ওভারহিট থাকলে স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যায়।
গরমে কি বেশি ওভারহিট হয়?
হ্যাঁ, গরমে বাইরের তাপমাত্রা বেশি থাকে। তাই কুলিং সিস্টেমের উপর বেশি চাপ পড়ে এবং ওভারহিটের ঝুঁকি বাড়ে।
হাইওয়েতে না শহরে বেশি ওভারহিট হয়?
শহরে ট্রাফিকে বেশি হয়। কারণ গাড়ি স্থির থাকলে বাতাস লাগে না। হাইওয়েতে চলার সময় বাতাস ঠান্ডা রাখে।
ইঞ্জিন সিজ হলে কি করতে হয়?
সিজ হলে সাধারণত নতুন ইঞ্জিন লাগাতে হয়। কখনো কখনো ওভারহল করে চলানো যায়। তবে খরচ অনেক বেশি হয়।
🔥 পোস্টটি শেয়ার করুনঃ 🌍






