ভূমিকম্প সহনীয় রড: সঠিক গ্রেড ও কেনার গাইড

বাড়ি তৈরি করা একটি বড় সিদ্ধান্ত। আমরা সবাই চাই আমাদের বাড়ি শক্তিশালী হোক। ভূমিকম্প আসলে যেন বাড়ি নিরাপদ থাকে। এজন্য সঠিক রড বাছাই করা খুবই জরুরি। আজকের এই লেখায় আমরা জানব ভূমিকম্প সহনীয় রড সম্পর্কে। কোন রড ভালো, কত গ্রেডের হওয়া উচিত এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। আপনি যদি বাড়ি তৈরি করতে চান তাহলে এই লেখা আপনার জন্য। চলুন শুরু করা যাক।

👉 এক নজরে প্রবন্ধটির মূল বিষয়বস্তু/সূচিপত্রঃ 📖

ভূমিকম্পে কোন রড ভালো

ভূমিকম্পে কোন রড ভালো তা নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত উচ্চমানের নির্মাণ রড

ভূমিকম্পের সময় বাড়ির উপর অনেক চাপ পড়ে। এই চাপ সহ্য করতে পারে এমন রড দরকার। সাধারণত TMT রড সবচেয়ে ভালো মানের হয়। এই রড নমনীয় এবং শক্তিশালী দুটোই। ভূমিকম্পের সময় এটি বেঁকে যায় কিন্তু ভাঙে না। এজন্য বিশেষজ্ঞরা TMT রড ব্যবহার করতে বলেন। বাজারে অনেক ধরনের রড পাওয়া যায়। কিন্তু সব রড ভূমিকম্প সহনীয় নয়। আপনাকে সঠিক গ্রেডের রড কিনতে হবে। তাহলেই আপনার বাড়ি নিরাপদ থাকবে।

TMT মানে Thermo Mechanically Treated। এই পদ্ধতিতে রড তৈরি করা হয়। রডকে গরম করে দ্রুত ঠান্ডা করা হয়। এতে রডের শক্তি বাড়ে। ভেতরের অংশ নরম থাকে বাইরের অংশ শক্ত হয়। এই কারণে TMT রড সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। ভূমিকম্প প্রবণ এলাকায় এটি অবশ্যই ব্যবহার করা উচিত। অন্য রড যেমন মাইল্ড স্টিল রড তেমন শক্তিশালী নয়। তাই নির্মাণ কাজে সবসময় TMT রড বেছে নিন।

ভূমিকম্প সহনীয় রড কত গ্রেডের হয়

ভূমিকম্প সহনীয় রডের গ্রেড খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত ৫০০ গ্রেডের রড ব্যবহার করা হয়। এই গ্রেড মানে রডের প্রতি বর্গ মিলিমিটারে ৫০০ মেগাপাস্কাল শক্তি আছে। এটি যথেষ্ট শক্তিশালী। ভূমিকম্পের সময় এই রড ভালো পারফর্ম করে। আরও উচ্চ গ্রেড আছে যেমন ৫৫০ এবং ৬০০। কিন্তু সাধারণ বাড়ির জন্য ৫০০ গ্রেড যথেষ্ট। ছোট বাড়ির ক্ষেত্রে ৪১৫ গ্রেড ব্যবহার করা যায়। তবে বড় বাড়ির জন্য ৫০০ বা তার বেশি ব্যবহার করুন।

গ্রেড বেছে নেওয়ার সময় ভবনের উচ্চতা দেখতে হবে। নিচু বাড়ির জন্য কম গ্রেড চলে। কিন্তু উঁচু বাড়ির জন্য উচ্চ গ্রেড দরকার। ভূমিকম্প প্রবণ এলাকায় সবসময় উচ্চ গ্রেড ব্যবহার করা ভালো। এতে খরচ একটু বেশি হলেও নিরাপত্তা পাবেন বেশি। ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শ নিয়ে গ্রেড ঠিক করুন। তিনি মাটির ধরন এবং ভবনের ডিজাইন দেখে বলবেন। সঠিক গ্রেড বাছাই করলে বাড়ি দীর্ঘস্থায়ী হবে।

৫০০ TMT রড কি ভূমিকম্প সহনীয়

হ্যাঁ, ৫০০ TMT রড ভূমিকম্প সহনীয়। এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় রডের মধ্যে একটি। এই রডের ইল্ড স্ট্রেংথ ৫০০ মেগাপাস্কাল। এই শক্তি ভূমিকম্প সহ্য করতে পারে। অনেক দেশে এই রড স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ব্যবহার হয়। বাংলাদেশেও এটি খুব ব্যবহৃত হয়। ৫০০ TMT রডের নমনীয়তা বেশি। এটি চাপের মধ্যে বেঁকে যায় কিন্তু ভাঙে না। এই বৈশিষ্ট্য ভূমিকম্পের সময় খুব কাজে লাগে। তাই এই রড ব্যবহার করলে নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন।

৫০০ TMT রডের আরেকটি সুবিধা হলো এটি মরিচা প্রতিরোধী। বৃষ্টি বা আর্দ্রতায় এটি সহজে নষ্ট হয় না। এতে করে বাড়ির আয়ু বাড়ে। এই রড ঢালাই করাও সহজ। কারিগররা সহজেই এটি নিয়ে কাজ করতে পারেন। দাম একটু বেশি হলেও মান অনেক ভালো। বাজারে অনেক ব্র্যান্ডের ৫০০ TMT রড পাওয়া যায়। ভালো ব্র্যান্ড বেছে নিন। ISI মার্ক দেখে কিনুন। তাহলে নকল রড কিনবেন না।

ভূমিকম্প প্রতিরোধী রডের বৈশিষ্ট্য

ভূমিকম্প প্রতিরোধী রডের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকে। প্রথমত এটি উচ্চ শক্তি সম্পন্ন হয়। এর টেনসাইল স্ট্রেংথ অনেক বেশি। দ্বিতীয়ত এটি নমনীয় হয়। চাপের মধ্যে বেঁকে যায় কিন্তু ভাঙে না। তৃতীয়ত এতে ভালো ওয়েল্ডেবিলিটি থাকে। সহজেই ঢালাই করা যায়। চতুর্থত এটি মরিচা প্রতিরোধী হয়। পঞ্চমত এর ইলঙ্গেশন ক্ষমতা ভালো। মানে টানলে এটি লম্বা হতে পারে। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে এই রড ভূমিকম্প সহ্য করতে পারে।

ভূমিকম্প প্রতিরোধী রডের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো:

  • উচ্চ টেনসাইল স্ট্রেংথ: রডের টানা শক্তি বেশি হওয়া জরুরি যাতে ভাঙার আগে অনেক চাপ নিতে পারে
  • বেশি ডাক্টিলিটি: রড নমনীয় হলে হঠাৎ চাপে ভেঙে যায় না বরং বেঁকে শক্তি শোষণ করে
  • ভালো বন্ড স্ট্রেংথ: রড এবং কংক্রিটের মধ্যে শক্তিশালী বন্ধন থাকা দরকার যাতে আলাদা না হয়ে যায়
  • কর্জন রেজিস্ট্যান্স: মরিচা প্রতিরোধী রড দীর্ঘদিন টেকে এবং শক্তি হারায় না
  • থার্মাল স্ট্যাবিলিটি: আগুন বা তাপেও রড তার শক্তি ধরে রাখতে পারে

এছাড়াও রডের সারফেস টেক্সচার গুরুত্বপূর্ণ। রিবড রডের পৃষ্ঠে খাঁজ থাকে। এতে কংক্রিটের সাথে গ্রিপ বাড়ে। ভূমিকম্পের সময় রড এবং কংক্রিট একসাথে কাজ করে। রডের কেমিক্যাল কম্পোজিশনও দেখতে হয়। কার্বন, ম্যাঙ্গানিজ, সালফার এসবের পরিমাণ ঠিক থাকতে হবে। স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী তৈরি রড সবসময় ভালো হয়। তাই কেনার সময় সার্টিফিকেট চেক করুন।

ভূমিকম্প সহনীয় বাড়ির রডের মান

ভূমিকম্প সহনীয় বাড়ির জন্য রডের মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মান খারাপ হলে বাড়ি দুর্বল হবে। ISI মার্ক দেখে রড কিনুন। এটি ভারতীয় মান ব্যুরোর সার্টিফিকেশন। এছাড়া BNBC কোড অনুসরণ করুন। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডে রডের মান নির্ধারিত আছে। রডের ডায়ামিটার সঠিক হতে হবে। ১০ মিমি, ১২ মিমি, ১৬ মিমি এসব সাইজ পাওয়া যায়। কলামে মোটা রড ব্যবহার করুন। বিমে তুলনামূলক পাতলা রড চলবে।

রডের গুণমান পরীক্ষা করার উপায় আছে। প্রথমে রডের গায়ে ব্র্যান্ড নাম দেখুন। নামী ব্র্যান্ড বেছে নিন। দ্বিতীয়ত রডের ওজন মাপুন। মান ভালো হলে ওজন সঠিক হবে। তৃতীয়ত বাঁকিয়ে দেখুন। ভালো রড বাঁকানো যায় কিন্তু ভাঙে না। চতুর্থত রং দেখুন। মরিচা লাগলে সেটা পুরনো বা খারাপ মানের। পঞ্চমত দোকানদারের কাছে টেস্ট সার্টিফিকেট চান। এভাবে মান যাচাই করে কিনুন।

বিল্ডিংয়ে কোন রড ব্যবহার করা উচিত

বিল্ডিংয়ে রড ব্যবহারের জন্য কিছু নিয়ম আছে। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রড ব্যবহার করতে হয়। ফাউন্ডেশনে মোটা এবং উচ্চ গ্রেডের রড লাগে। কলামেও একই ধরনের রড দরকার। বিমে ১২ থেকে ১৬ মিমি রড ব্যবহার হয়। স্ল্যাবে ৮ থেকে ১২ মিমি রড চলে। শিয়ার ওয়ালে বিশেষ ধরনের রিইনফোর্সমেন্ট দরকার। সব জায়গায় TMT রড ব্যবহার করা ভালো। গ্রেড ৫০০ বা তার বেশি হলে আরও ভালো।

বিল্ডিংয়ের ডিজাইন অনুযায়ী রড বাছাই করুন। স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার এ ব্যাপারে সাহায্য করবেন। তিনি হিসাব করে বলবেন কোথায় কত রড লাগবে। রডের স্পেসিং মেনে চলুন। খুব কাছাকাছি বা দূরে দিলে সমস্যা হবে। কভার দেওয়াও জরুরি। কভার মানে রড এবং কংক্রিট সারফেসের দূরত্ব। এটি ঠিক না থাকলে রড তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়। লোড বহনকারী দেওয়ালে অবশ্যই রড দিতে হবে। এসব নিয়ম মানলে বিল্ডিং শক্তিশালী হবে।

শক্তিশালী রড কোনটি

শক্তিশালী রডের কথা বললে TMT রড প্রথমেই আসে। এর মধ্যে ৬০০ গ্রেডের রড সবচেয়ে শক্তিশালী। তবে দাম বেশি হওয়ায় সবসময় ব্যবহার হয় না। ৫০০ গ্রেড রডও যথেষ্ট শক্তিশালী। এটি বেশিরভাগ বিল্ডিংয়ের জন্য যথেষ্ট। কিছু বিশেষ ব্র্যান্ড আছে যারা খুব ভালো মানের রড তৈরি করে। TATA, SAIL, JSW এসব নামী ব্র্যান্ড। এদের রড পরীক্ষিত এবং নির্ভরযোগ্য। স্থানীয় ব্র্যান্ডের মধ্যেও ভালো আছে। তবে ISI মার্ক দেখে কিনুন।

রডের শক্তি বোঝার উপায়:

  • ইল্ড স্ট্রেংথ চেক করুন: যত বেশি হবে রড তত শক্তিশালী সাধারণত ৫০০ থেকে ৬০০ MPa হয়
  • আলটিমেট টেনসাইল স্ট্রেংথ দেখুন: এটি ভাঙার আগে সর্বোচ্চ চাপ যা ৫৫০ থেকে ৬৫০ MPa হওয়া উচিত
  • ইলঙ্গেশন পার্সেন্টেজ জানুন: নমনীয়তা বোঝায় কমপক্ষে ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ হওয়া ভালো
  • বেন্ড টেস্ট করুন: ভালো রড ১৮০ ডিগ্রি বাঁকানো যায় ভাঙা ছাড়াই
  • ওয়েট টলারেন্স মাপুন: ওজনে বেশি তারতম্য থাকলে মান খারাপ বোঝায়

শক্তিশালী রড চিনতে আরও কিছু পদ্ধতি আছে। রডের পৃষ্ঠ মসৃণ এবং সমান হবে। কোনো ফাটল বা গর্ত থাকবে না। রিবের আকার সমান হবে। রডের রং একই রকম হবে। এক জায়গা গাঢ় আরেক জায়গা হালকা হলে সমস্যা। শব্দ করে দেখুন। হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে পরিষ্কার শব্দ হবে। ফাঁপা শব্দ হলে খারাপ মানের। বিক্রেতার কাছে মিল টেস্ট সার্টিফিকেট চান। এতে রডের সব তথ্য থাকে।

নির্মাণে কোন গ্রেডের রড ভালো

নির্মাণ কাজে রডের গ্রেড খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ বাড়ির জন্য ৪১৫ বা ৫০০ গ্রেড ভালো। এই গ্রেড মধ্যম শক্তির এবং দাম সাশ্রয়ী। বহুতল ভবনের জন্য ৫০০ বা ৫৫০ গ্রেড ব্যবহার করা উচিত। খুব উঁচু বিল্ডিংয়ে ৬০০ গ্রেড লাগতে পারে। ব্রিজ বা বিশেষ স্ট্রাকচারে উচ্চ গ্রেড দরকার। ভূমিকম্প প্রবণ এলাকায় সবসময় উচ্চ গ্রেড বেছে নিন। এতে নিরাপত্তা বাড়ে। মাটির ধরন দেখেও গ্রেড ঠিক করতে হয়। নরম মাটিতে বেশি গ্রেড লাগে।

গ্রেড বাছাইয়ে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শ নিন। তিনি লোড ক্যালকুলেশন করে বলবেন। বাড়ির ব্যবহার অনুযায়ীও গ্রেড আলাদা হয়। বাসাবাড়ির চেয়ে কমার্শিয়াল বিল্ডিংয়ে বেশি লোড পড়ে। তাই সেখানে উচ্চ গ্রেড লাগে। কলাম এবং বিমে বেশি গ্রেড ব্যবহার করুন। স্ল্যাবে তুলনামূলক কম গ্রেড চলে। তবে কোনো অবস্থাতেই ৪১৫ এর নিচে যাবেন না। বাজার থেকে কেনার সময় গ্রেড চেক করুন। অনেক সময় কম গ্রেডের রড বেশি দামে বিক্রি হয়।

৬ তলা ভবনের জন্য কোন রড লাগে

৬ তলা ভবন একটি মধ্যম উচ্চতার বিল্ডিং। এতে ভালো মানের রড দরকার। সাধারণত ৫০০ গ্রেডের TMT রড ব্যবহার করা হয়। কলামে ১৬ থেকে ২৫ মিমি ডায়ামিটারের রড লাগে। বিমে ১২ থেকে ২০ মিমি রড ব্যবহার হয়। স্ল্যাবে ১০ থেকে ১২ মিমি রড যথেষ্ট। ফাউন্ডেশনে সবচেয়ে মোটা রড ব্যবহার করুন। এতে পুরো বিল্ডিংয়ের ভার বহন করতে পারবে। রডের সংখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি স্কয়ার ফুটে নির্দিষ্ট পরিমাণ রড দিতে হয়।

৬ তলা ভবনে সঠিক ডিজাইন মেনে চলা জরুরি। লিফট এবং সিঁড়ির জায়গায় বিশেষ মনোযোগ দিন। এখানে বেশি রড লাগে। বারান্দা এবং ব্যালকনিতেও পর্যাপ্ত রড দিতে হবে। রডের কভার ঠিকমতো দিন। কভার কম হলে রড তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়। বাঁধাই শক্ত করে করুন। ঢালাইয়ের সময় রড যেন নড়ে না যায়। ভাইব্রেটর ব্যবহার করে কংক্রিট ঠিকমতো ঢালুন। এতে রড এবং কংক্রিট ভালোভাবে বন্ড করবে। মাটি পরীক্ষা করে ফাউন্ডেশন ডিজাইন করুন। তাহলে বিল্ডিং দীর্ঘদিন টিকবে।

৪ তলা বাড়ির জন্য রড কত গ্রেডের

৪ তলা বাড়ির জন্য রডের গ্রেড নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের উপর। এলাকা ভূমিকম্প প্রবণ কিনা সেটা দেখতে হবে। সাধারণত ৪১৫ বা ৫০০ গ্রেডের রড যথেষ্ট। তবে ৫০০ গ্রেড বেছে নেওয়া নিরাপদ। এতে বাড়ি বেশি শক্তিশালী হয়। কলামে ১২ থেকে ২০ মিমি রড ব্যবহার করুন। বিমে ১০ থেকে ১৬ মিমি রড চলবে। স্ল্যাবে ৮ থেকে ১০ মিমি রড যথেষ্ট। ফাউন্ডেশনে ১৬ মিমি বা তার বেশি ব্যবহার করুন।

৪ তলা বাড়ি তৈরিতে বাজেট একটা বিষয়। কিন্তু রডে খরচ কমানো উচিত নয়। ভালো রড ব্যবহার করলে বাড়ি দীর্ঘস্থায়ী হয়। মেরামতে পরে কম খরচ হয়। মাটি শক্ত হলে একটু কম রড লাগতে পারে। নরম মাটিতে বেশি রড দরকার। ইঞ্জিনিয়ারের ড্রয়িং অনুযায়ী কাজ করুন। নিজের মনমতো রড কমিয়ে দেবেন না। বিল্ডিং কোড মেনে চলুন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিন। তাহলে আইনি সমস্যা হবে না। ভালো ঠিকাদার এবং কারিগর নিয়োগ দিন। তাদের কাজ তদারকি করুন।

ভবনের তলাপ্রস্তাবিত গ্রেডকলামের রড সাইজবিমের রড সাইজ
১-২ তলা৪১৫ বা ৫০০১০-১৬ মিমি১০-১২ মিমি
৩-৪ তলা৫০০১২-২০ মিমি১০-১৬ মিমি
৫-৬ তলা৫০০ বা ৫৫০১৬-২৫ মিমি১২-২০ মিমি
৭+ তলা৫৫০ বা ৬০০২০-৩২ মিমি১৬-২৫ মিমি

ভূমিকম্প সহনীয় ভবনের রড স্ট্যান্ডার্ড

ভূমিকম্প সহনীয় ভবনের জন্য আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড আছে। ASTM, BS, IS এসব কোড মেনে রড তৈরি হয়। বাংলাদেশে BNBC কোড অনুসরণ করা হয়। এতে রডের ন্যূনতম গ্রেড ৪১৫ বলা আছে। তবে ভূমিকম্প প্রবণ এলাকায় ৫০০ বা তার বেশি সুপারিশ করা হয়। রডের ডাক্টিলিটি কমপক্ষে ১৪ শতাংশ হতে হবে। ইলঙ্গেশন ক্ষমতা ভালো থাকতে হবে। রিবের উচ্চতা এবং স্পেসিং নির্দিষ্ট মাপের হবে। কেমিক্যাল কম্পোজিশনও স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী হতে হবে।

স্ট্যান্ডার্ড মেনে তৈরি রড চিনতে ISI মার্ক দেখুন। প্রতিটি রডে ব্র্যান্ড নাম এবং গ্রেড লেখা থাকবে। টেস্ট সার্টিফিকেট চাইতে পারেন। এতে রডের সব স্পেসিফিকেশন থাকে। নামী ব্র্যান্ড থেকে কিনুন। তারা আন্তর্জাতিক মান মেনে চলে। স্থানীয় ছোট কারখানার রডে সাবধান। অনেক সময় মান ঠিক থাকে না। দাম একটু কম দেখে কিনবেন না। মান যাচাই করে কিনুন। বড় প্রকল্পের জন্য রড ল্যাব টেস্ট করে নিন।

ভূমিকম্প প্রতিরোধী RCC রড

RCC মানে Reinforced Cement Concrete। এতে রড এবং কংক্রিট একসাথে কাজ করে। ভূমিকম্প প্রতিরোধী RCC তে বিশেষ রড লাগে। এই রড উচ্চ শক্তি এবং নমনীয়তা সম্পন্ন হয়। TMT রড এই কাজের জন্য সবচেয়ে ভালো। রডের বন্ড স্ট্রেংথ ভালো হতে হবে। কংক্রিটের সাথে ভালো গ্রিপ থাকবে। রিবড রড ব্যবহার করুন। এতে বন্ড আরও শক্তিশালী হয়। রডের স্পেসিং এবং কভার সঠিক হতে হবে। কংক্রিটের মিক্স ডিজাইনও গুরুত্বপূর্ণ।

RCC কাজে রড ব্যবহারের নিয়ম:

  • ওভারল্যাপ ঠিকমতো করুন: দুই রড জোড়া লাগানোর সময় কমপক্ষে ৫০ গুণ ডায়ামিটার ওভারল্যাপ দিন
  • স্টিরাপ সঠিক দূরত্বে বসান: কলামে ১৫ সেমি এবং বিমে ২০ সেমি দূরত্ব রাখুন
  • কভার মেনে চলুন: ফাউন্ডেশনে ৭৫ মিমি কলামে ৪০ মিমি এবং স্ল্যাবে ২০ মিমি কভার দিন
  • ক্র্যাঙ্ক সঠিক জায়গায় দিন: বিমের সাপোর্ট পয়েন্টে রডে ক্র্যাঙ্ক দিতে হয় শক্তি বাড়াতে
  • ট্রান্সভার্স রিইনফোর্সমেন্ট ব্যবহার করুন: শিয়ার ফোর্স সহ্য করতে স্টিরাপ এবং লিংক দিন

RCC কাজে কংক্রিটের মান গুরুত্বপূর্ণ। সিমেন্ট, বালি, পাথর সঠিক অনুপাতে মিশান। পানির পরিমাণ ঠিক রাখুন। বেশি পানি দিলে কংক্রিট দুর্বল হয়। ভাইব্রেটর ব্যবহার করুন। এতে বাতাসের গর্ত বের হয়ে যায়। কিউরিং ঠিকমতো করুন। ঢালাইয়ের পর কমপক্ষে ৭ দিন পানি দিন। তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করুন। এসব নিয়ম মেনে চললে RCC শক্তিশালী হবে। ভূমিকম্পে টিকে থাকবে।

বাড়ি তৈরিতে কোন রড ব্যবহার হয়

বাড়ি তৈরিতে বিভিন্ন ধরনের রড ব্যবহার হয়। সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো TMT রড। এটি শক্তিশালী এবং টেকসই। মাইল্ড স্টিল রড এখন কম ব্যবহার হয়। কারণ এটি তেমন শক্তিশালী নয়। হাই টেনসাইল স্টিল রড বিশেষ কাজে লাগে। কলাম এবং বিমে TMT রড ব্যবহার করুন। ফাউন্ডেশনেও একই রকম। স্ল্যাবে পাতলা TMT রড চলবে। সিঁড়িতে বিশেষভাবে রড বাঁধতে হয়। লিন্টেল এবং সানশেডে হালকা রড লাগে। পানির ট্যাংকে মরিচা প্রতিরোধী রড ব্যবহার করুন।

বাড়ি তৈরির সময় রড কাটা এবং বাঁকানো হয়। এই কাজ সাবধানে করতে হয়। রড গরম করে বাঁকাবেন না। ঠান্ডা অবস্থায় বেন্ডিং মেশিনে বাঁকান। গরম করলে রডের শক্তি কমে যায়। ঢালাই করার সময়ও সাবধান। বেশি তাপ দিলে রড দুর্বল হয়। রড সংরক্ষণ সঠিকভাবে করুন। মাটিতে সরাসরি রাখবেন না। কাঠ বা ইট দিয়ে উঁচুতে রাখুন। বৃষ্টি থেকে রক্ষা করুন। দীর্ঘদিন খোলা রাখলে মরিচা পড়ে। মরিচা পড়া রড ব্যবহার করবেন না।

নির্মাণ কাজে রড নির্বাচনের নিয়ম

নির্মাণ কাজে রড নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। প্রথমে ভবনের ধরন ঠিক করুন। আবাসিক না বাণিজ্যিক সেটা দেখুন। দ্বিতীয়ত ভবনের উচ্চতা জানুন। উঁচু ভবনে বেশি গ্রেডের রড লাগে। তৃতীয়ত এলাকার ভূমিকম্প ঝুঁকি চিহ্নিত করুন। চতুর্থত মাটি পরীক্ষা করে দেখুন। পঞ্চমত বাজেট ঠিক করুন। তবে বাজেটের জন্য মান কমাবেন না। ষষ্ঠত স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শ নিন। তিনি সব দিক বিবেচনা করে সঠিক রড বলবেন।

রড নির্বাচনে কিছু টেকনিক্যাল বিষয় আছে। লোড ক্যালকুলেশন করতে হয়। ডেড লোড, লাইভ লোড, উইন্ড লোড সব হিসাব করুন। এরপর রডের সাইজ এবং সংখ্যা ঠিক করুন। ডিজাইন কোড মেনে চলুন। BNBC বা অন্য কোড অনুসরণ করুন। ড্রয়িং তৈরি করুন। এতে রডের অবস্থান স্পষ্ট থাকবে। বার বেন্ডিং শিডিউল বানান। এতে কতটা রড কিভাবে বাঁকাতে হবে লেখা থাকে। ম্যাটেরিয়াল এস্টিমেট করুন। অতিরিক্ত ১০ শতাংশ রড কিনুন। কাটা এবং বর্জ্যের জন্য এটা লাগবে।

রডের ধরনব্যবহারের জায়গাসুবিধাঅসুবিধা
TMT রডকলাম বিম স্ল্যাবউচ্চ শক্তি নমনীয় মরিচা প্রতিরোধীদাম একটু বেশি
মাইল্ড স্টিলছোট কাজ অস্থায়ী স্ট্রাকচারদাম কম সহজলভ্যকম শক্তিশালী ভূমিকম্প সহনীয় নয়
হাই টেনসাইলব্রিজ বড় স্প্যানখুব শক্তিশালীদাম বেশি বিশেষ দক্ষতা লাগে
স্টেইনলেস স্টিলপানির কাজ বিশেষ স্থানসম্পূর্ণ মরিচামুক্তখুব ব্যয়বহুল

ভূমিকম্পে রডের ডায়ামিটার কত হওয়া উচিত

ভূমিকম্পে রডের ডায়ামিটার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ডায়ামিটার কম হলে শক্তি কম হয়। বেশি হলে খরচ বাড়ে। সাধারণত কলামে ১২ থেকে ৩২ মিমি ডায়ামিটার ব্যবহার হয়। ভবনের উচ্চতা অনুযায়ী এটা পরিবর্তন হয়। নিচতলার কলামে মোটা রড লাগে। উপরের তলায় পাতলা চলে। বিমে ১০ থেকে ২৫ মিমি রড ব্যবহার হয়। স্প্যান বেশি হলে মোটা রড দরকার। স্ল্যাবে ৮ থেকে ১২ মিমি যথেষ্ট। ফাউন্ডেশনে ১৬ থেকে ৩২ মিমি ব্যবহার করা হয়।

ডায়ামিটার বাছাইয়ে লোড একটা বড় ফ্যাক্টর। বেশি লোড থাকলে মোটা রড লাগবে। মাটির ধরনও দেখতে হয়। নরম মাটিতে বেশি রড দরকার। ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রয়িংয়ে ডায়ামিটার উল্লেখ থাকে। সেটা মেনে চলুন। নিজে থেকে পরিবর্তন করবেন না। রড বাজারে ৬, ৮, ১০, ১২, ১৬, ২০, ২৫, ৩২ মিমি সাইজে পাওয়া যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী কিনুন। একই স্ট্রাকচারে বিভিন্ন সাইজ লাগতে পারে। ঠিকমতো পরিমাপ করে কিনুন।

রডের গ্রেড ৬০ ও ৫০০D এর পার্থক্য

রডের গ্রেড বোঝা একটু জটিল হতে পারে। গ্রেড ৬০ এবং ৫০০D আসলে একই জিনিস। গ্রেড ৬০ আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড। এর মানে ৬০ ksi বা ৬০০০ psi ইল্ড স্ট্রেংথ। ৫০০D হলো ভারতীয় স্ট্যান্ডার্ড। এর মানে ৫০০ মেগাপাস্কাল। যদি কনভার্ট করেন তাহলে প্রায় সমান হয়। ৬০ ksi মানে প্রায় ৪১৪ MPa। কিন্তু ৫০০D এর আলটিমেট স্ট্রেংথ বেশি। তাই এটা একটু শক্তিশালী। D মানে ডাক্টাইল। মানে এই রড বেশি নমনীয়।

এই দুই গ্রেডের ব্যবহার প্রায় একই। দুটোই ভূমিকম্প সহনীয়। বাংলাদেশে ৫০০D বেশি ব্যবহার হয়। কারণ আমরা ভারতীয় স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করি। আমেরিকায় গ্রেড ৬০ ব্যবহার হয়। রড কিনতে গেলে ৫০০ বা ৫০০D দেখে কিনুন। গ্রেড ৬০ সহজে পাওয়া যায় না। দাম প্রায় একই রকম। মান যাচাই করে কিনুন। টেস্ট সার্টিফিকেটে গ্রেড লেখা থাকবে। সেটা চেক করুন। নকল রড এড়িয়ে চলুন।

ভূমিকম্প প্রতিরোধী ভবন ডিজাইন রড

ভূমিকম্প প্রতিরোধী ভবন ডিজাইনে রড মূল ভূমিকা পালন করে। রডের অবস্থান এবং বিন্যাস ঠিক হতে হবে। কলামে লম্বালম্বি রড এবং স্টিরাপ দিতে হয়। স্টিরাপ ক্লোজলি স্পেসড হবে। বিমেও একই ব্যবস্থা। স্ল্যাবে দুই দিকে রড দিতে হয়। কর্নারে বিশেষভাবে রিইনফোর্স করুন। জয়েন্টে রড ওভারল্যাপ সঠিকভাবে করুন। শিয়ার ওয়াল তৈরি করুন। এতে পার্শ্ব বল সহ্য হয়। ডায়াফ্রাম অ্যাকশনের জন্য স্ল্যাব শক্তিশালী করুন।

ভূমিকম্প প্রতিরোধী ডিজাইনের মূল পয়েন্ট:

  • সিমেট্রিক্যাল ডিজাইন করুন: অসমান বিল্ডিং ভূমিকম্পে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সুষম ডিজাইন করুন
  • রেগুলার স্ট্রাকচার বানান: অনিয়মিত আকারের বিল্ডিং এড়িয়ে চলুন সাধারণ আকার ভালো
  • শর্ট কলাম এড়ান: ছোট কলাম দ্রুত ভাঙে লম্বা এবং সুষম কলাম ব্যবহার করুন
  • ফ্লেক্সিবল ফাউন্ডেশন করুন: শক্ত ফাউন্ডেশনের চেয়ে কিছুটা ফ্লেক্সিবল ভূমিকম্পে ভালো কাজ করে
  • কানেকশন শক্তিশালী করুন: বিম এবং কলামের জয়েন্ট সবচেয়ে দুর্বল বিন্দু এখানে বিশেষ মনোযোগ দিন

ভূমিকম্প প্রতিরোধী ডিজাইনে কম্পিউটার সফটওয়্যার ব্যবহার হয়। ETABS, SAP2000 এসব সফটওয়্যার দিয়ে এনালাইসিস করা হয়। এতে ভূমিকম্পের প্রভাব দেখা যায়। কোথায় বেশি স্ট্রেস পড়বে বোঝা যায়। সেই অনুযায়ী রিইনফোর্সমেন্ট দেওয়া হয়। ডিটেইলিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রডের হুক, বেন্ড, ওভারল্যাপ সব ঠিকমতো করতে হয়। কনস্ট্রাকশনের সময় তদারকি করুন। ড্রয়িং অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কিনা দেখুন।

উচ্চমানের রড সনাক্ত করার উপায়

উচ্চমানের রড চেনা একটু কঠিন। কিন্তু কিছু উপায় আছে। প্রথমত ব্র্যান্ড দেখুন। নামী ব্র্যান্ড সাধারণত ভালো মানের হয়। দ্বিতীয়ত ISI মার্ক চেক করুন। এটা মান নিশ্চিত করে। তৃতীয়ত রডের গায়ে লেখা দেখুন। গ্রেড এবং সাইজ লেখা থাকবে। চতুর্থত রডের পৃষ্ঠ দেখুন। মসৃণ এবং সমান হবে। পঞ্চমত রং চেক করুন। একই রকম রং হবে। দাগ বা ছোপ থাকলে খারাপ। ষষ্ঠত ওজন মাপুন। ভালো রডের ওজন স্ট্যান্ডার্ড মতো হবে। সপ্তমত বেন্ড টেস্ট করুন। ভালো রড বাঁকিয়ে ভাঙবে না।

আরও কিছু পরীক্ষা আছে। রড কেটে ভেতরটা দেখুন। সব জায়গায় একই রকম হবে। শব্দ পরীক্ষা করুন। হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে স্পষ্ট শব্দ হবে। ফাঁপা শব্দ মানে খারাপ। রডের রিবের আকার দেখুন। সমান এবং নিয়মিত হবে। রিবের উচ্চতা মাপুন। স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী হওয়া উচিত। টেস্ট সার্টিফিকেট চাইতে পারেন। বিক্রেতার কাছে সব কাগজপত্র থাকবে। বড় কেনাকাটার জন্য ল্যাবে টেস্ট করান। এতে সব প্রপার্টি জানা যাবে। নিরাপদে কিনতে পারবেন।

পরীক্ষার ধরনকি দেখবেনভালো মানের চিহ্নখারাপ মানের চিহ্ন
ভিজুয়ালপৃষ্ঠের অবস্থামসৃণ সমান কোনো দাগ নেইঅসমান ফাটল দাগ আছে
ওজনপ্রকৃত ওজনস্ট্যান্ডার্ড মতো সঠিককম বেশি তারতম্য আছে
বেন্ডিংবাঁকানো ক্ষমতা১৮০ ডিগ্রি বাঁকে ভাঙে নাবাঁকাতে ফাটল বা ভাঙে
সাউন্ডশব্দ পরীক্ষাস্পষ্ট রিং টোনফাঁপা বা ডাল শব্দ

রডের গুণগত মান কিভাবে চেনা যায়

রডের গুণগত মান চেনার জন্য কিছু টেকনিক্যাল জ্ঞান লাগে। প্রথমে কেমিক্যাল কম্পোজিশন দেখুন। কার্বন, ম্যাঙ্গানিজ, সালফার, ফসফরাসের পরিমাণ ঠিক থাকা দরকার। টেস্ট সার্টিফিকেটে এসব লেখা থাকে। দ্বিতীয়ত মেকানিক্যাল প্রপার্টি জানুন। ইল্ড স্ট্রেংথ, টেনসাইল স্ট্রেংথ, ইলঙ্গেশন দেখুন। তৃতীয়ত ফিজিক্যাল প্রপার্টি চেক করুন। ওজন, ডায়ামিটার, লেন্থ মাপুন। চতুর্থত সারফেস কোয়ালিটি দেখুন। কোনো ত্রুটি থাকবে না। পঞ্চমত রিব প্যাটার্ন পরীক্ষা করুন। স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী হতে হবে।

গুণমান যাচাইয়ে ল্যাব টেস্ট সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। টেনসাইল টেস্ট করা হয়। এতে রডের শক্তি জানা যায়। বেন্ডিং টেস্টও করা হয়। রড বাঁকিয়ে দেখা হয় ভাঙে কিনা। কেমিক্যাল এনালাইসিস করা হয়। উপাদানের পরিমাণ চেক করা হয়। ওয়েট টেস্ট করে ঘনত্ব দেখা হয়। সব টেস্ট পাস করলে রড ভালো মানের। এসব টেস্ট খরচসাপেক্ষ। তবে বড় প্রজেক্টে করা উচিত। ছোট কাজে বিশ্বস্ত সাপ্লায়ার থেকে কিনুন। তাদের নিয়মিত টেস্ট করা রড থাকে।

৮ তলা ভবনের রডের মান কত হওয়া উচিত

৮ তলা ভবন একটি উঁচু স্ট্রাকচার। এতে উচ্চমানের রড দরকার। সাধারণত ৫০০ বা ৫৫০ গ্রেডের TMT রড ব্যবহার করা হয়। কলামে ২০ থেকে ৩২ মিমি ডায়ামিটারের রড লাগে। নিচের তলায় মোটা রড দিতে হয়। উপরে পাতলা দেওয়া যায়। বিমে ১৬ থেকে ২৫ মিমি রড ব্যবহার হয়। স্ল্যাবে ১০ থেকে ১২ মিমি যথেষ্ট। ফাউন্ডেশনে ২৫ থেকে ৩২ মিমি ব্যবহার করুন। শিয়ার ওয়াল তৈরি করুন। এতে পার্শ্ব বল সহ্য হবে। লিফট এবং সিঁড়িতে বিশেষ মনোযোগ দিন।

৮ তলা ভবনের ডিজাইন জটিল। স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ছাড়া করা উচিত নয়। তিনি সব লোড ক্যালকুলেশন করবেন। উইন্ড লোড এবং সিসমিক লোড হিসাব করবেন। এরপর রিইনফোর্সমেন্ট ডিজাইন করবেন। ড্রয়িং তৈরি করবেন। সেই অনুযায়ী কাজ করতে হবে। নিজের মতো পরিবর্তন করবেন না। মাটি পরীক্ষা অবশ্যই করান। মাটির বহন ক্ষমতা জানতে হবে। তাহলে ফাউন্ডেশন ডিজাইন করা যাবে। পাইলিং লাগতে পারে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিন। নিয়ম মেনে কাজ করুন।

TMT রড কি এবং কেন ব্যবহার হয়

TMT রড মানে Thermo Mechanically Treated রড। এটি একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। প্রথমে রডকে খুব গরম করা হয়। তারপর দ্রুত ঠান্ডা করা হয়। এতে বাইরের অংশ শক্ত হয়। ভেতরের অংশ নরম থাকে। এই কারণে TMT রড শক্তিশালী এবং নমনীয় দুটোই। ভূমিকম্পের সময় এটি বেঁকে যায় কিন্তু ভাঙে না। এজন্য নির্মাণ কাজে এটি সবচেয়ে জনপ্রিয়। পুরনো দিনে মাইল্ড স্টিল রড ব্যবহার হতো। কিন্তু এখন TMT রডই স্ট্যান্ডার্ড।

TMT রডের অনেক সুবিধা আছে। এটি মরিচা প্রতিরোধী। তাই দীর্ঘদিন টেকে। ঢালাই সহজ। কারিগররা সহজে কাজ করতে পারেন। বন্ড স্ট্রেংথ ভালো। কংক্রিটের সাথে ভালো লেগে থাকে। তাপ সহনশীল। আগুনেও সহজে দুর্বল হয় না। দাম একটু বেশি কিন্তু মান অনেক ভালো। তাই দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক। আন্তর্জাতিক মানের TMT রড এখন বাংলাদেশেও তৈরি হয়। অনেক ব্র্যান্ড পাওয়া যায়। ভালো ব্র্যান্ড বেছে কিনুন। নকল এড়িয়ে চলুন।

স্টিল রডের গুণাগুণ

স্টিল রডের কিছু মৌলিক গুণাগুণ থাকে। প্রথমত এটি শক্তিশালী। অনেক ওজন বহন করতে পারে। দ্বিতীয়ত এটি নমনীয়। বেঁকে যায় কিন্তু ভাঙে না। তৃতীয়ত এটি টেকসই। দীর্ঘদিন টিকে থাকে। চতুর্থত এটি ঢালাই যোগ্য। সহজেই জোড়া লাগানো যায়। পঞ্চমত এটি রিসাইকেল করা যায়। পুরনো রড গলিয়ে নতুন করা যায়। ষষ্ঠত এটি তাপ সহনশীল। আগুনেও শক্তি হারায় না তাড়াতাড়ি। সপ্তমত এটি বিদ্যুৎ পরিবাহী। ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেমে আর্থিং করা যায়।

স্টিল রডের প্রধান গুণাগুণ:

  • হাই টেনসাইল স্ট্রেংথ: টানা শক্তি বেশি থাকায় লোড ভালোভাবে সহ্য করতে পারে
  • ডাক্টিলিটি: নমনীয়তা থাকায় হঠাৎ ভাঙার ঝুঁকি কম থাকে নিরাপদ
  • ইউনিফর্ম স্ট্রেংথ: পুরো দৈর্ঘ্যে সমান শক্তি থাকে কোথাও দুর্বল নেই
  • কর্জন রেজিস্ট্যান্স: বিশেষ করে TMT রড মরিচা প্রতিরোধ করতে পারে
  • ফায়ার রেজিস্ট্যান্স: উচ্চ তাপমাত্রায়ও শক্তি ধরে রাখে আগুনে নিরাপদ

তবে স্টিল রডের কিছু অসুবিধাও আছে। মরিচা পড়তে পারে। বিশেষ করে পানির সংস্পর্শে। তাই কভার দেওয়া জরুরি। দাম কিছুটা বেশি। অন্য ম্যাটেরিয়ালের চেয়ে ভারী। পরিবহন খরচ বাড়ায়। বিদ্যুৎ পরিবাহী হওয়ায় সাবধানতা লাগে। তবে সব মিলিয়ে স্টিল রড সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নির্মাণ সামগ্রী। নির্মাণ কাজে এর কোনো বিকল্প নেই। সঠিক ব্যবহার এবং রক্ষণাবেক্ষণ করলে দীর্ঘদিন সেবা দেয়।

ভূমিকম্প প্রতিরোধে রডের ভূমিকা

ভূমিকম্প প্রতিরোধে রড মূল ভূমিকা পালন করে। রড বিল্ডিংয়ের কঙ্কাল হিসেবে কাজ করে। ভূমিকম্পের সময় বিল্ডিং নড়ে। এই নড়াচড়া সহ্য করে রড। কংক্রিট শক্ত কিন্তু ভঙ্গুর। রড না থাকলে কংক্রিট ভেঙে যাবে। রড টেনশন নেয়। কংক্রিট কমপ্রেশন নেয়। দুটো মিলে শক্তিশালী হয়। রডের নমনীয়তা শক্তি শোষণ করে। ভূমিকম্পের শক্তি রড বেঁকে শোষণ করে নেয়। তাই বিল্ডিং ভেঙে পড়ে না। রডের সঠিক বিন্যাস অত্যন্ত জরুরি। ভুল জায়গায় রড দিলে কাজ হবে না।

রড এবং কংক্রিটের বন্ড গুরুত্বপূর্ণ। দুটো একসাথে কাজ করতে হবে। আলাদা হয়ে গেলে বিল্ডিং দুর্বল হয়। তাই রিবড রড ব্যবহার করা হয়। রিবে কংক্রিট আটকে থাকে। ভূমিকম্পের সময় আলাদা হয় না। রডের কভার ঠিক রাখতে হয়। কভার কম হলে মরিচা পড়ে। বেশি হলে বন্ড দুর্বল হয়। রডের স্পেসিং মেনে চলুন। খুব কাছে বা দূরে দিলে সমস্যা। ঠিক দূরত্বে দিলে লোড সমানভাবে বিতরণ হয়। সব নিয়ম মেনে কাজ করলে বিল্ডিং ভূমিকম্প সহনীয় হবে।

রডের PSI স্কোর কি

PSI মানে Pounds per Square Inch। এটি চাপ মাপার একক। রডের শক্তি মাপতে ব্যবহার হয়। যেমন ৬০,০০০ PSI মানে প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে ৬০,০০০ পাউন্ড চাপ সহ্য করতে পারে। আমেরিকায় এই একক ব্যবহার হয়। ভারত এবং বাংলাদেশে MPa ব্যবহার হয়। MPa মানে Megapascal। ১ PSI সমান প্রায় ০.০০৬৮৯৫ MPa। তাই ৬০,০০০ PSI মানে প্রায় ৪১৪ MPa। রডের প্যাকেটে PSI বা MPa লেখা থাকে। এটি দেখে শক্তি বোঝা যায়।

PSI স্কোর যত বেশি রড তত শক্তিশালী। সাধারণ গ্রেড ৪০ রডের PSI ৪০,০০০। গ্রেড ৬০ রডের PSI ৬০,০০০। উচ্চ গ্রেড রডে PSI আরও বেশি। তবে শুধু PSI দেখে রড কিনবেন না। ডাক্টিলিটিও দেখুন। শক্তিশালী কিন্তু ভঙ্গুর রড খারাপ। নমনীয়তা থাকা জরুরি। ইলঙ্গেশন পার্সেন্টেজ দেখুন। কমপক্ষে ১৪ শতাংশ হওয়া উচিত। টেস্ট সার্টিফিকেটে সব তথ্য থাকে। সেটা চেক করে কিনুন। PSI এবং MPa দুটোই জানা ভালো। কনভার্ট করতে পারবেন।

বাড়ির ফাউন্ডেশনে কোন রড ব্যবহার ভালো

বাড়ির ফাউন্ডেশন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতে সবচেয়ে ভালো রড ব্যবহার করুন। সাধারণত ৫০০ বা ৫৫০ গ্রেডের TMT রড ব্যবহার হয়। ফাউন্ডেশনে মোটা রড দরকার। ১৬ থেকে ৩২ মিমি ডায়ামিটার ব্যবহার করা হয়। মাটির ধরন দেখে সাইজ ঠিক করুন। নরম মাটিতে বেশি রড লাগে। শক্ত মাটিতে কম চলে। ফাউন্ডেশনে দুই দিকে রড দিতে হয়। উপরে এবং নিচে দুই লেয়ার। কলামের নিচে বেশি রড দিন। এখানে বেশি লোড পড়ে।

ফাউন্ডেশনের ডিজাইন মাটি পরীক্ষার উপর নির্ভর করে। প্রথমে সয়েল টেস্ট করুন। মাটির বহন ক্ষমতা জানুন। তারপর ফাউন্ডেশন টাইপ ঠিক করুন। স্প্রেড ফুটিং, রাফট বা পাইল যেটা লাগবে। এরপর রিইনফোর্সমেন্ট ডিজাইন করুন। রডের পরিমাণ এবং সাইজ হিসাব করুন। স্পেসিং ঠিক রাখুন। সাধারণত ১৫ সেমি স্পেসিং হয়। কভার ৭৫ মিমি দিন। মাটির সাথে সরাসরি সংস্পর্শে থাকায় বেশি কভার দরকার। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখুন। ফাউন্ডেশনে পানি জমলে রড নষ্ট হয়।

RCC কলামে কোন রড ব্যবহার করতে হয়

RCC কলামে উচ্চ গ্রেডের রড ব্যবহার করা জরুরি। কলাম পুরো বিল্ডিংয়ের ওজন বহন করে। তাই এখানে শক্তিশালী রড লাগে। সাধারণত ৫০০ বা ৫৫০ গ্রেডের TMT রড ব্যবহার হয়। কলামে লম্বালম্বি রড এবং স্টিরাপ দুটোই লাগে। লম্বালম্বি রডের সাইজ ১২ থেকে ৩২ মিমি হয়। ভবনের উচ্চতা অনুযায়ী সাইজ ঠিক করা হয়। উঁচু ভবনে মোটা রড লাগে। স্টিরাপ সাধারণত ৮ বা ১০ মিমি হয়। স্টিরাপ লম্বালম্বি রড ধরে রাখে। শিয়ার ফোর্স সহ্য করে।

কলামে রডের সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ। ছোট কলামে ৪টি রড লাগে। বড় কলামে ৮ বা ১২টি লাগতে পারে। রড সমানভাবে বিতরণ করুন। কোণায় অবশ্যই রড থাকবে। স্টিরাপের স্পেসিং ১৫ সেমি হওয়া উচিত। জয়েন্টের কাছে আরও কাছে দিন। ১০ সেমি স্পেসিং ভালো। কলামের কভার ৪০ মিমি রাখুন। কভার বেশি বা কম দুটোই ক্ষতিকর। রড বাঁধাই শক্ত করে করুন। ঢালাইয়ের সময় রড নড়ে গেলে সমস্যা। ভাইব্রেটর সাবধানে ব্যবহার করুন। রডে আঘাত করবেন না।

কলামের সাইজ (ইঞ্চি)লম্বালম্বি রড সংখ্যারডের সাইজ (মিমি)স্টিরাপ স্পেসিং (সেমি)
৯ x ৯৪টি১২-১৬১৫
১২ x ৯৬টি১৬-২০১৫
১২ x ১২৮টি১৬-২৫১৫
১৫ x ১৫১২টি২০-৩২১০-১৫

১০ তলা ভবনের রড কেমন হওয়া উচিত

১০ তলা ভবন একটি উঁচু বিল্ডিং। এতে খুব ভালো মানের রড দরকার। ৫৫০ বা ৬০০ গ্রেডের TMT রড ব্যবহার করা উচিত। কলামে ২৫ থেকে ৩২ মিমি ডায়ামিটারের রড লাগবে। নিচের তলায় সবচেয়ে মোটা রড দিন। উপরে ক্রমশ পাতলা হতে পারে। বিমে ২০ থেকে ২৫ মিমি রড ব্যবহার করুন। স্ল্যাবে ১২ থেকে ১৬ মিমি যথেষ্ট। ফাউন্ডেশনে পাইলিং লাগতে পারে। পাইলে ১৬ থেকে ২৫ মিমি রড ব্যবহার হয়। শিয়ার ওয়াল অবশ্যই তৈরি করুন। এতে পার্শ্ব বল সহ্য হবে।

১০ তলা ভবনের ডিজাইন অত্যন্ত জটিল। অভিজ্ঞ স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার দরকার। তিনি কম্পিউটার সফটওয়্যার ব্যবহার করবেন। সব ধরনের লোড হিসাব করবেন। উইন্ড লোড খুব গুরুত্বপূর্ণ। উঁচু ভবনে বাতাসের চাপ বেশি পড়ে। সিসমিক লোডও হিসাব করতে হবে। ভূমিকম্পের প্রভাব দেখতে হবে। সব হিসাব শেষে রিইনফোর্সমেন্ট ডিটেইলিং করবেন। ড্রয়িং তৈরি করবেন। বার বেন্ডিং শিডিউল দেবেন। কনস্ট্রাকশনের সময় ইঞ্জিনিয়ার সাইটে থাকবেন। তদারকি করবেন। ড্রয়িং মতো কাজ হচ্ছে কিনা দেখবেন।

১ম শ্রেণীর রড কোন ব্র্যান্ড

বাজারে অনেক রডের ব্র্যান্ড আছে। ১ম শ্রেণীর রড চিনতে কিছু নাম জানা জরুরি। TATA Tiscon একটি বিখ্যাত ব্র্যান্ড। এটি ভারতীয় কিন্তু বাংলাদেশেও পাওয়া যায়। SAIL রডও ভালো মানের। JSW Neosteel আরেকটি নামী ব্র্যান্ড। বাংলাদেশী ব্র্যান্ডের মধ্যে BSRM, KSRM, GPH Ispat ভালো। এসব কোম্পানি ISI এবং BSTI স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলে। নিয়মিত টেস্ট করা হয়। তাই এদের রড নির্ভরযোগ্য। নতুন ব্র্যান্ডও আছে। কিন্তু নামী ব্র্যান্ড বেছে নেওয়া নিরাপদ।

ব্র্যান্ড বেছে নেওয়ার সময় কিছু বিষয় দেখুন। প্রথমত মার্কেট রেপুটেশন দেখুন। পুরনো এবং বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড ভালো। দ্বিতীয়ত সার্টিফিকেশন চেক করুন। ISI, BSTI মার্ক আছে কিনা। তৃতীয়ত গ্যারান্টি দেখুন। ভালো ব্র্যান্ড গ্যারান্টি দেয়। চতুর্থত দাম তুলনা করুন। খুব সস্তা হলে সন্দেহ করুন। পঞ্চমত পুরনো কাস্টমারদের রিভিউ জানুন। তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। ষষ্ঠত ডিস্ট্রিবিউটর চিনে কিনুন। অথরাইজড ডিলার থেকে কিনুন। তাহলে নকল রড কিনবেন না।

রডের দাম ও মান তুলনা

রডের দাম ও মান তুলনা করার জন্য বিভিন্ন গ্রেডের স্টিল রডের প্রদর্শনী

রডের দাম বিভিন্ন ফ্যাক্টরের উপর নির্ভর করে। গ্রেড, ব্র্যান্ড, সাইজ, বাজার পরিস্থিতি দেখে দাম হয়। ৫০০ গ্রেড রড ৪১৫ গ্রেড থেকে একটু দামি। নামী ব্র্যান্ড বেশি দামে বিক্রি হয়। মোটা রডের দাম বেশি। বাজারে স্টিলের দাম ওঠানামা করে। তাই রডের দামও পরিবর্তন হয়। বর্তমানে প্রতি কেজি রডের দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা। ভালো ব্র্যান্ড একটু বেশি। তবে দাম দেখে শুধু কিনবেন না। মান দেখে কিনুন। সস্তা রড কিনে পরে সমস্যায় পড়বেন।

মান এবং দামের ভারসাম্য জরুরি। সবচেয়ে দামি রড কেনার দরকার নেই। আবার সবচেয়ে সস্তাও না। মাঝারি দামের ভালো ব্র্যান্ড বেছে নিন। দাম তুলনা করুন। বিভিন্ন দোকানে গিয়ে দাম জানুন। অনলাইনেও দাম দেখতে পারেন। তবে সরাসরি দেখে কেনা ভালো। পাইকারি কিনলে দাম কম পাবেন। বড় পরিমাণে কিনলে ছাড় পাওয়া যায়। অগ্রিম পেমেন্ট করলেও দাম কমে। তবে যাচাই করে কিনুন। দাম কম দেখে নকল রড কিনবেন না। ISI মার্ক চেক করুন। টেস্ট সার্টিফিকেট চাইতে পারেন।

ভূমিকম্প সহনীয় বাড়ি তৈরির উপকরণ

ভূমিকম্প সহনীয় বাড়ি তৈরিতে শুধু রড নয় অন্যান্য উপকরণও গুরুত্বপূর্ণ। ভালো মানের সিমেন্ট ব্যবহার করুন। OPC বা PPC সিমেন্ট ভালো। পাথর শক্ত এবং পরিষ্কার হতে হবে। নরম পাথর ব্যবহার করবেন না। বালি মোটা এবং পরিষ্কার চাই। মিহি বালি দুর্বল কংক্রিট তৈরি করে। পানি পরিষ্কার হতে হবে। নোনা পানি ব্যবহার করবেন না। ইট ভালো পোড়ানো এবং শক্ত হবে। কাঁচা ইট এড়িয়ে চলুন। সব উপকরণ ভালো মানের হলে বাড়ি শক্তিশালী হবে।

ভূমিকম্প সহনীয় বাড়িতে ডিজাইনও গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ির আকার সাধারণ এবং সুষম হবে। জটিল আকারের বাড়ি ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বেশি। দেওয়াল শক্তিশালী করুন। রিইনফোর্সড দেওয়াল তৈরি করুন। লিন্টেল এবং ব্যান্ড অবশ্যই দিন। এগুলো দেওয়াল ধরে রাখে। ছাদ হালকা কিন্তু শক্তিশালী করুন। ভারী ছাদ বিপজ্জনক। জোড়া এবং কানেকশন শক্তিশালী করুন। এগুলো দুর্বল হলে বাড়ি আলাদা হয়ে যায়। ফাউন্ডেশন গভীর এবং শক্তিশালী করুন। এসব নিয়ম মেনে চললে বাড়ি ভূমিকম্পে টিকবে।

উপসংহার

ভূমিকম্প সহনীয় রড ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। বাড়ি তৈরির সময় সঠিক রড বাছাই করলে আপনার পরিবার নিরাপদ থাকবে। ৫০০ গ্রেডের TMT রড সবচেয়ে ভালো পছন্দ। এটি শক্তিশালী এবং নমনীয় দুটোই। নামী ব্র্যান্ড থেকে কিনুন। ISI মার্ক দেখে কিনুন। স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শ নিন। তিনি সঠিক গ্রেড এবং সাইজ বলবেন। নির্মাণ কাজ সঠিকভাবে তদারকি করুন। ড্রয়িং মেনে কাজ করান। কভার এবং স্পেসিং ঠিক রাখুন।

শুধু রড নয় অন্যান্য উপকরণেও মনোযোগ দিন। ভালো সিমেন্ট, পাথর, বালি ব্যবহার করুন। ডিজাইন সুষম এবং সাধারণ রাখুন। কনস্ট্রাকশন কোড মেনে চলুন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিন। দামে একটু বেশি খরচ হলেও মান কমাবেন না। ভালো মানের রড ব্যবহার করলে বাড়ি দীর্ঘদিন টিকবে। মেরামতে খরচ কম হবে। সবচেয়ে বড় কথা ভূমিকম্পে আপনার পরিবার নিরাপদ থাকবে। তাই সময় নিয়ে সঠিক রড বাছাই করুন। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন। নিরাপদ বাড়ি তৈরি করুন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)

ভূমিকম্প সহনীয় রড কোনটি সবচেয়ে ভালো?

৫০০ গ্রেডের TMT রড সবচেয়ে ভালো। এটি শক্তিশালী এবং নমনীয়। ভূমিকম্পে এটি বেঁকে যায় কিন্তু ভাঙে না। নামী ব্র্যান্ডের ৫০০ TMT রড কিনুন। ISI মার্ক দেখে নিশ্চিত হন।

৪ তলা বাড়ির জন্য কত গ্রেডের রড লাগবে?

৪ তলা বাড়ির জন্য ৫০০ গ্রেডের রড ব্যবহার করা উচিত। কলামে ১২ থেকে ২০ মিমি সাইজের রড লাগবে। বিমে ১০ থেকে ১৬ মিমি যথেষ্ট। স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করুন।

TMT রড কি সত্যিই ভূমিকম্প সহনীয়?

হ্যাঁ, TMT রড ভূমিকম্প সহনীয়। এটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। বাইরে শক্ত ভেতরে নরম থাকে। তাই নমনীয়তা বেশি। ভূমিকম্পের চাপ এটি সহ্য করতে পারে। সব দেশেই TMT রড স্ট্যান্ডার্ড।

রডের ISI মার্ক কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ISI মার্ক মান নিশ্চিত করে। ভারতীয় মান ব্যুরো এটি দেয়। মার্ক থাকলে বোঝা যায় রড স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী তৈরি। সব টেস্ট পাস করেছে। নকল রড চেনার সহজ উপায় ISI মার্ক দেখা।

ভূমিকম্পে রডের ডায়ামিটার কত হওয়া উচিত?

ডায়ামিটার নির্ভর করে ভবনের উচ্চতা এবং লোডের উপর। কলামে ১২ থেকে ৩২ মিমি লাগে। বিমে ১০ থেকে ২৫ মিমি। স্ল্যাবে ৮ থেকে ১২ মিমি। ইঞ্জিনিয়ার হিসাব করে সঠিক সাইজ বলবেন।

কলামে কয়টা রড লাগে?

কলামের সাইজ অনুযায়ী রডের সংখ্যা হয়। ৯x৯ ইঞ্চি কলামে ৪টি রড। ১২x১২ ইঞ্চিতে ৮টি। বড় কলামে ১২টি বা তার বেশি। কোণায় অবশ্যই রড থাকতে হবে। স্ট্রাকচারাল ড্রয়িং দেখে কাজ করুন।

রডে মরিচা পড়লে কি করব?

হালকা মরিচা সমস্যা নয়। ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করুন। তারপর ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু বেশি মরিচা খারাপ। রডের শক্তি কমে যায়। এমন রড ব্যবহার করবেন না। নতুন কিনুন।

রড কিনতে কত খরচ হবে?

দাম নির্ভর করে গ্রেড এবং ব্র্যান্ডের উপর। বর্তমানে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা। ৪ তলা বাড়িতে প্রায় ৫ থেকে ৭ টন রড লাগে। তাহলে খরচ হবে ৪ থেকে ৭ লাখ টাকা।

নকল রড কিভাবে চিনব?

নকল রড চেনার কিছু উপায় আছে। প্রথমত ISI মার্ক দেখুন। দ্বিতীয়ত ওজন মাপুন। হালকা হলে নকল। তৃতীয়ত বেন্ড টেস্ট করুন। নকল রড বাঁকিয়ে ভেঙে যায়। চতুর্থত নামী দোকান থেকে কিনুন।

রড সংরক্ষণ কিভাবে করব?

রড মাটিতে সরাসরি রাখবেন না। কাঠ বা ইট দিয়ে উঁচুতে রাখুন। বৃষ্টি থেকে রক্ষা করুন। প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রাখতে পারেন। খোলা জায়গায় বেশিদিন রাখবেন না। মরিচা পড়ে যাবে। প্রয়োজন অনুযায়ী কিনুন।

🔥 পোস্টটি শেয়ার করুনঃ 🌍

Scroll to Top