গাড়ি চালানোর সময় আমরা অনেক কিছু নিয়ে ভাবি। কিন্তু ইঞ্জিন অয়েলের কথা ভুলে যাই। এটি গাড়ির হৃদয় বলা যায়। সঠিক ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করলে গাড়ি দীর্ঘদিন ভালো থাকে। আজকের এই লেখায় আমরা ইঞ্জিন অয়েল সম্পর্কে সব কিছু জানব। কোন অয়েল কোন গাড়িতে ভালো, কখন পাল্টাতে হবে সব কিছু বলব। চলুন শুরু করা যাক।
ইঞ্জিন অয়েল কি
ইঞ্জিন অয়েল হলো একধরনের তেল। এটি গাড়ির ইঞ্জিনের ভেতরে ব্যবহার করা হয়। ইঞ্জিনের বিভিন্ন অংশ একসাথে ঘষা খায়। এই ঘষায় তাপ এবং ক্ষতি হয়। ইঞ্জিন অয়েল এই সমস্যা কমায়। এটি ইঞ্জিনকে পরিষ্কার রাখে। ময়লা এবং ধুলোও দূর করে। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। সহজ ভাষায়, ইঞ্জিন অয়েল ইঞ্জিনের রক্ষাকবচ।
ইঞ্জিন অয়েল ছাড়া ইঞ্জিন চলতে পারে না। সব ধাতব পার্টস একসাথে কাজ করে। এতে অনেক ঘর্ষণ হয়। ইঞ্জিন অয়েল এই ঘর্ষণ কমিয়ে দেয়। ফলে ইঞ্জিন মসৃণভাবে চলে। জ্বালানি সাশ্রয়ও হয়। তাই ভালো ইঞ্জিন অয়েল মানে ভালো পারফরম্যান্স।
ইঞ্জিন অয়েল কিভাবে কাজ করে

ইঞ্জিনের ভেতরে অনেক চলমান অংশ আছে। পিস্টন, ক্র্যাঙ্কশ্যাফট, ক্যামশ্যাফট এগুলো দ্রুত ঘোরে। এই ঘোরার সময় ঘর্ষণ সৃষ্টি হয়। ইঞ্জিন অয়েল এই অংশগুলোর মধ্যে একটা পাতলা স্তর তৈরি করে। এই স্তর ধাতব পার্টসগুলোকে সরাসরি ছোঁয়া থেকে বাঁচায়। ফলে ক্ষয় কম হয়।
ইঞ্জিন অয়েল তাপ শোষণও করে। ইঞ্জিন চলার সময় অনেক তাপ উৎপন্ন হয়। এই তাপ ইঞ্জিনের ক্ষতি করতে পারে। ইঞ্জিন অয়েল এই তাপ নিয়ে অন্যত্র পাঠায়। এভাবে ইঞ্জিন ঠান্ডা থাকে। পাশাপাশি ইঞ্জিনের ভেতরে জমা ময়লা পরিষ্কার করে। কার্বন এবং অন্যান্য অবশিষ্টাংশ সরিয়ে দেয়। এতে ইঞ্জিন পরিষ্কার এবং দক্ষ থাকে।
- লুব্রিকেশন: ইঞ্জিনের পার্টসগুলোর মধ্যে পিচ্ছিল স্তর তৈরি করে
- কুলিং: অতিরিক্ত তাপ শোষণ করে ইঞ্জিনকে ঠান্ডা রাখে
- পরিষ্কার করা: ইঞ্জিনের ভেতরে জমা ময়লা এবং কার্বন দূর করে
- সিলিং: পিস্টন রিং এবং সিলিন্ডারের মধ্যে ফাঁক বন্ধ করে
- ক্ষয় রোধ: জং এবং অক্সিডেশন থেকে ইঞ্জিনকে রক্ষা করে
কোন ইঞ্জিন অয়েল ভালো
বাজারে অনেক ধরনের ইঞ্জিন অয়েল পাওয়া যায়। মিনারেল, সেমি-সিনথেটিক এবং ফুল সিনথেটিক এই তিন ধরন। মিনারেল অয়েল প্রাকৃতিক উৎস থেকে তৈরি। এটি সবচেয়ে সস্তা। পুরনো গাড়িতে ভালো কাজ করে। কিন্তু তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়।
সেমি-সিনথেটিক অয়েল মিনারেল এবং সিনথেটিকের মিশ্রণ। এটি মাঝারি দামের এবং ভালো পারফরম্যান্স দেয়। বেশিরভাগ আধুনিক গাড়িতে এটি উপযুক্ত। ফুল সিনথেটিক অয়েল সবচেয়ে উন্নত। ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা হয়। দীর্ঘস্থায়ী এবং সর্বোচ্চ সুরক্ষা দেয়। দামও বেশি।
কোন ইঞ্জিন অয়েল ভালো তা নির্ভর করে আপনার গাড়ির উপর। গাড়ির ম্যানুয়াল দেখুন। সেখানে নির্দিষ্ট গ্রেডের কথা লেখা থাকে। সেই অনুযায়ী অয়েল কিনুন। আবহাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। ঠান্ডা এলাকায় কম ঘনত্বের অয়েল ভালো। গরম এলাকায় বেশি ঘনত্বের দরকার।
গাড়ির জন্য কোন ইঞ্জিন অয়েল ভাল
গাড়ির জন্য সঠিক ইঞ্জিন অয়েল বেছে নেওয়া জরুরি। প্রথমে আপনার গাড়ির ম্যানুয়াল পড়ুন। সেখানে নির্মাতা কোন গ্রেডের অয়েল সুপারিশ করেছেন দেখুন। সাধারণত আধুনিক পেট্রোল গাড়িতে ৫W-৩০ বা ১০W-৪০ ভালো। ডিজেল গাড়িতে ১৫W-৪০ বা ২০W-৫০ বেশি ব্যবহৃত হয়।
নতুন গাড়িতে সিনথেটিক অয়েল ব্যবহার করা ভালো। এটি ইঞ্জিনকে পরিষ্কার রাখে এবং দীর্ঘদিন টেকে। পুরনো গাড়িতে মিনারেল বা সেমি-সিনথেটিক যথেষ্ট। তবে যদি গাড়ি বেশি চালান তাহলে সিনথেটিক নিন। দীর্ঘদূর ভ্রমণে এটি ভালো কাজ করে।
- নতুন গাড়ি: ফুল সিনথেটিক ইঞ্জিন অয়েল সবচেয়ে ভালো
- পুরনো গাড়ি: মিনারেল বা সেমি-সিনথেটিক উপযুক্ত
- উচ্চ মাইলেজ গাড়ি: হাই মাইলেজ সিনথেটিক অয়েল বেছে নিন
- স্পোর্টস কার: হাই পারফরম্যান্স সিনথেটিক অয়েল দরকার
- ঠান্ডা অঞ্চল: কম ভিসকসিটির অয়েল যেমন ০W-২০ বা ৫W-৩০
১৫W-৪০ ইঞ্জিন অয়েল কোন গাড়িতে ব্যবহার হয়
১৫W-৪০ হলো একটি জনপ্রিয় ইঞ্জিন অয়েল গ্রেড। এটি মূলত মাঝারি থেকে উষ্ণ আবহাওয়ার জন্য। পুরনো পেট্রোল এবং ডিজেল উভয় গাড়িতে ভালো কাজ করে। বিশেষ করে উচ্চ মাইলেজ গাড়িতে এই অয়েল উপযুক্ত। ছোট ট্রাক এবং পিকআপেও ব্যবহার হয়।
১৫W-৪০ অয়েলের ঘনত্ব মাঝারি। এটি ইঞ্জিনকে ভালো সুরক্ষা দেয়। তবে খুব ঠান্ডা এলাকায় ভালো নয়। শীতে এই অয়েল ঘন হয়ে যায়। ফলে ইঞ্জিন স্টার্ট নিতে সমস্যা হয়। বাংলাদেশের মতো গরম দেশে এটি আদর্শ।
অনেক মোটরসাইকেলেও ১৫W-৪০ ব্যবহার হয়। বিশেষ করে ১৫০cc থেকে ৪০০cc বাইকে। এটি ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স ভালো রাখে। তেল পরিবর্তনের ব্যবধানও দীর্ঘ হয়। তবে আপনার গাড়ির ম্যানুয়াল চেক করুন। নির্মাতা যা বলেছেন তাই ভালো।
২০W-৫০ ইঞ্জিন অয়েল কাদের জন্য
২০W-৫০ একটি উচ্চ ভিসকসিটির ইঞ্জিন অয়েল। এটি অত্যন্ত গরম আবহাওয়ার জন্য আদর্শ। পুরনো এবং উচ্চ মাইলেজ গাড়িতে খুব ভালো কাজ করে। বিশেষ করে যেসব গাড়ির ইঞ্জিন তেল খায় বা লিক করে। এই ঘন অয়েল সেই সমস্যা কমায়।
২০W-৫০ মূলত ডিজেল ইঞ্জিনে বেশি ব্যবহৃত হয়। বাস, ট্রাক এবং ভারী যানবাহনে এটি জনপ্রিয়। উচ্চ চাপ এবং তাপে এটি স্থিতিশীল থাকে। পেট্রোল ইঞ্জিনেও ব্যবহার করা যায়। তবে নতুন গাড়িতে সুপারিশ করা হয় না।
এই অয়েল খুব ঘন হওয়ায় ঠান্ডায় সমস্যা হয়। শীতকালে ইঞ্জিন স্টার্ট নিতে দেরি হয়। তাই শুধু গরম দেশেই এটি ভালো। যদি আপনার গাড়ি অনেক পুরনো হয় এবং তেল খরচ বেশি হয় তাহলে ২০W-৫০ ব্যবহার করুন। এতে খরচ কমবে এবং ইঞ্জিন ভালো থাকবে।
| ইঞ্জিন অয়েল গ্রেড | উপযুক্ত আবহাওয়া | গাড়ির ধরন | প্রধান সুবিধা |
| ৫W-৩০ | ঠান্ডা থেকে মাঝারি | নতুন পেট্রোল গাড়ি | জ্বালানি সাশ্রয় |
| ১০W-৪০ | সব ঋতু | পুরনো পেট্রোল গাড়ি | সর্বজনীন ব্যবহার |
| ১৫W-৪০ | গরম আবহাওয়া | ডিজেল ও পুরনো গাড়ি | উচ্চ সুরক্ষা |
| ২০W-৫০ | অতি গরম | ভারী যানবাহন | তেল খরচ কমায় |
ইঞ্জিন অয়েল কতদিন পর পরিবর্তন করতে হয়
ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তনের সময় নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের উপর। প্রথমত, কোন ধরনের অয়েল ব্যবহার করছেন। মিনারেল অয়েল সাধারণত ৩০০০-৫০০০ কিলোমিটার পর পাল্টাতে হয়। সেমি-সিনথেটিক ৭৫০০-১০০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলে। ফুল সিনথেটিক অয়েল ১৫০০০ কিলোমিটারও টিকতে পারে।
তবে শুধু দূরত্ব নয়, সময়ও গুরুত্বপূর্ণ। যদি গাড়ি কম চালান তাহলেও ৬ মাস পর অয়েল পাল্টান। অয়েল পড়ে থাকলে অক্সিডাইজ হয়ে যায়। এতে এর গুণমান নষ্ট হয়। শহরে যারা বেশি গাড়ি চালান তাদের তাড়াতাড়ি পাল্টাতে হবে। ট্রাফিকে ঘন ঘন থামা-চলায় ইঞ্জিনের চাপ বেশি হয়।
গাড়ির ম্যানুয়ালে নির্দিষ্ট সময় লেখা থাকে। সেই সময়সূচী মেনে চলুন। কিছু আধুনিক গাড়িতে অয়েল লাইফ মনিটর আছে। এটি আপনাকে জানিয়ে দেবে কখন পাল্টাতে হবে। নিয়মিত অয়েল পরিবর্তন করলে ইঞ্জিন দীর্ঘদিন ভালো থাকে। খরচও কম হয়।
ইঞ্জিন অয়েল না পাল্টালে কি হয়
ইঞ্জিন অয়েল না পাল্টালে অনেক সমস্যা হয়। পুরনো অয়েল ঘন এবং কালো হয়ে যায়। এতে ইঞ্জিনের ভেতরে ময়লা জমে। এই ময়লা অয়েল পাম্পের পথ বন্ধ করে দিতে পারে। ফলে ইঞ্জিনে পর্যাপ্ত অয়েল পৌঁছায় না। পার্টসগুলো শুকনো ঘষতে থাকে।
এতে করে ইঞ্জিনের ক্ষয় বেড়ে যায়। পিস্টন রিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইঞ্জিন থেকে অস্বাভাবিক শব্দ আসে। পারফরম্যান্স কমে যায়। জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি পায়। ইঞ্জিন বেশি গরম হয়ে যায়। একসময় ইঞ্জিন সিজ করে যেতে পারে।
- ঘর্ষণ বৃদ্ধি: পুরনো অয়েল লুব্রিকেশন ক্ষমতা হারায়
- ময়লা জমা: ইঞ্জিনের ভেতরে কার্বন এবং স্লাজ জমে
- তাপমাত্রা বৃদ্ধি: অয়েল তাপ শোষণ করতে পারে না
- পাওয়ার কমে: ইঞ্জিন দক্ষতা হারায়
- ইঞ্জিন সিজ: চরম ক্ষেত্রে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যেতে পারে
ইঞ্জিন অয়েল গ্রেড কি
ইঞ্জিন অয়েল গ্রেড হলো অয়েলের ঘনত্ব বা ভিসকসিটি বোঝানোর একটি পদ্ধতি। এটি SAE (Society of Automotive Engineers) দ্বারা নির্ধারিত। আপনি বোতলে ৫W-৩০, ১০W-৪০ এরকম লেখা দেখবেন। এই সংখ্যাগুলোই গ্রেড। প্রথম সংখ্যা ‘W’ সহ শীতকালীন ভিসকসিটি বোঝায়। দ্বিতীয় সংখ্যা গরমকালীন ভিসকসিটি।
যেমন ৫W-৩০ মানে শীতে এর ভিসকসিটি ৫W এবং গরমে ৩০। কম সংখ্যা মানে পাতলা অয়েল। বেশি সংখ্যা মানে ঘন অয়েল। পাতলা অয়েল ঠান্ডায় ভালো কাজ করে। ঘন অয়েল গরমে ভালো সুরক্ষা দেয়। মাল্টি-গ্রেড অয়েল দুই তাপমাত্রায়ই ভালো।
সঠিক গ্রেড নির্বাচন জরুরি। ভুল গ্রেড ব্যবহার করলে ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। খুব পাতলা অয়েল পর্যাপ্ত সুরক্ষা দেয় না। খুব ঘন অয়েল ইঞ্জিনে প্রবাহিত হতে পারে না। গাড়ির ম্যানুয়াল অনুসরণ করুন। সেখানে সঠিক গ্রেড উল্লেখ থাকে।
ইঞ্জিন অয়েল ভিসকসিটি কি
ভিসকসিটি মানে হলো তরলের ঘনত্ব বা প্রবাহের ক্ষমতা। পানি কম ভিসকাস, মধু বেশি ভিসকাস। ইঞ্জিন অয়েলের ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। উপযুক্ত ভিসকসিটি ইঞ্জিনকে সঠিক সুরক্ষা দেয়। তাপমাত্রা পরিবর্তনের সাথে ভিসকসিটিও বদলায়।
ঠান্ডায় অয়েল ঘন হয়ে যায়। গরমে পাতলা হয়। কম ভিসকসিটির অয়েল ঠান্ডায় সহজে প্রবাহিত হয়। তাই শীতকালে বা ঠান্ডা অঞ্চলে কম সংখ্যার গ্রেড ভালো। যেমন ০W-২০ বা ৫W-৩০। গরম অঞ্চলে বেশি ভিসকসিটির অয়েল দরকার। এতে উচ্চ তাপেও অয়েল ফিল্ম টিকে থাকে।
মাল্টি-গ্রেড অয়েল এই সমস্যার সমাধান। এটি তাপমাত্রা অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নেয়। ঠান্ডায় পাতলা এবং গরমে ঘন থাকে। এজন্য আজকাল সব গাড়িতে মাল্টি-গ্রেড অয়েল ব্যবহার করা হয়। এটি সব ঋতুতে কার্যকর। ইঞ্জিনের দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করে।
ইঞ্জিন অয়েলের দাম
ইঞ্জিন অয়েলের দাম নির্ভর করে অয়েলের ধরন এবং ব্র্যান্ডের উপর। মিনারেল অয়েল সবচেয়ে সস্তা। বাংলাদেশে এক লিটার মিনারেল অয়েল ২৫০-৪০০ টাকা হতে পারে। সেমি-সিনথেটিক অয়েল ৫০০-৮০০ টাকা প্রতি লিটার। ফুল সিনথেটিক অয়েল সবচেয়ে দামি, ৯০০-২০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর দাম একটু বেশি। যেমন শেল, মবিল, কাস্ট্রল এগুলো প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড। তাদের অয়েলের মান ভালো তবে দামও বেশি। দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো তুলনামূলক সস্তা। কিন্তু মান যাচাই করে কিনুন। সস্তার লোভে ভুয়া অয়েল কিনবেন না।
| অয়েলের ধরন | দাম (প্রতি লিটার) | টিকে থাকে | উপযুক্ত গাড়ি |
| মিনারেল | ২৫০-৪০০ টাকা | ৩-৫ হাজার কিমি | পুরনো গাড়ি |
| সেমি-সিনথেটিক | ৫০০-৮০০ টাকা | ৭-১০ হাজার কিমি | মাঝারি গাড়ি |
| ফুল সিনথেটিক | ৯০০-২০০০ টাকা | ১৫ হাজার কিমি | নতুন গাড়ি |
| হাই পারফরম্যান্স | ১৫০০-৩০০০ টাকা | ২০ হাজার কিমি | স্পোর্টস কার |
মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন অয়েল দাম
মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন অয়েল গাড়ির তুলনায় সস্তা। ছোট প্যাকেট পাওয়া যায়। সাধারণত ৮০০ মিলি থেকে ১ লিটার বোতল পাওয়া যায়। মিনারেল অয়েল ২০০-৩৫০ টাকা। সেমি-সিনথেটিক ৪০০-৬০০ টাকা। ফুল সিনথেটিক ৭০০-১২০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
ছোট বাইক যেমন ১০০-১৫০cc তে মিনারেল অয়েল যথেষ্ট। বড় বাইক ২০০cc এর উপরে সিনথেটিক ভালো। স্পোর্টস বাইকে অবশ্যই ভালো মানের অয়েল ব্যবহার করুন। এতে ইঞ্জিন ঠান্ডা থাকে এবং পারফরম্যান্স ভালো হয়।
মোটরসাইকেলের জন্য বিশেষ ফর্মুলার অয়েল আছে। এগুলোতে JASO MA বা MA2 স্ট্যান্ডার্ড লেখা থাকে। এই অয়েল বাইকের ক্লাচের জন্যও উপযুক্ত। গাড়ির অয়েল বাইকে ব্যবহার করবেন না। এতে ক্লাচ স্লিপ করতে পারে।
গাড়ির ইঞ্জিন অয়েল দাম
গাড়ির ইঞ্জিন অয়েলের দাম বাইকের চেয়ে বেশি। কারণ গাড়িতে বেশি অয়েল লাগে। সাধারণত ৪-৬ লিটার অয়েল দরকার হয়। মিনারেল অয়েল ৩০০-৫০০ টাকা প্রতি লিটার। সম্পূর্ণ অয়েল চেঞ্জে ১২০০-২৫০০ টাকা খরচ হবে।
সেমি-সিনথেটিক অয়েল ৬০০-৯০০ টাকা প্রতি লিটার। সম্পূর্ণ চেঞ্জে ৩০০০-৪৫০০ টাকা। ফুল সিনথেটিক ১০০০-২৫০০ টাকা প্রতি লিটার। সম্পূর্ণ চেঞ্জে ৫০০০-১২০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এর সাথে ফিল্টার এবং সার্ভিস চার্জ যোগ হয়।
প্রিমিয়াম গাড়ির জন্য বিশেষ অয়েল লাগে। এগুলো আরও দামি। বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ এসব গাড়িতে স্পেসিফিক গ্রেড দরকার। এই অয়েলের দাম লিটার প্রতি ২০০০-৩৫০০ টাকা। তবে এই গাড়িগুলো অয়েল চেঞ্জের ব্যবধান বেশি। তাই বছরে একবার বা দুইবার লাগে।
- ছোট গাড়ি (৮০০-১২০০cc): ৩-৪ লিটার অয়েল, খরচ ১৫০০-৪০০০ টাকা
- মাঝারি গাড়ি (১৩০০-১৮০০cc): ৪-৫ লিটার অয়েল, খরচ ২৫০০-৬০০০ টাকা
- বড় গাড়ি (২০০০cc+): ৫-৭ লিটার অয়েল, খরচ ৪০০০-১২০০০ টাকা
- ডিজেল গাড়ি: সাধারণত বেশি অয়েল লাগে, খরচ ৩০০০-৮০০০ টাকা
- হাইব্রিড/ইলেক্ট্রিক: কম অয়েল চেঞ্জ দরকার বা লাগে না
নতুন ইঞ্জিন অয়েল রেট
বাজারে নতুন ইঞ্জিন অয়েলের দাম সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়। এই বছর দাম আগের চেয়ে একটু বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম বাড়ার কারণে এটি হয়েছে। তবে এখনও সাশ্রয়ী মূল্যে ভালো অয়েল পাওয়া যায়।
মিনারেল অয়েলের রেট এখন ২৮০-৪৫০ টাকা প্রতি লিটার। সেমি-সিনথেটিক ৫৫০-৯৫০ টাকা। ফুল সিনথেটিক ৯৫০-২২০০ টাকা। নতুন প্রযুক্তির অয়েল যেমন ইকো-ফ্রেন্ডলি বা লং লাইফ ফর্মুলা আরও দামি। এগুলো ২৫০০-৪০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
অনলাইনে অয়েল কিনলে কিছুটা সাশ্রয় হয়। অফার এবং ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়। তবে সতর্ক থাকুন। অনেক সময় নকল অয়েল বিক্রি হয়। শুধু বিশ্বস্ত দোকান থেকে কিনুন। অফিসিয়াল ডিলার বা সার্ভিস সেন্টার থেকে কিনলে নিশ্চিত থাকবেন।
জনপ্রিয় ইঞ্জিন অয়েল ব্র্যান্ড
বাংলাদেশে বেশ কিছু জনপ্রিয় ইঞ্জিন অয়েল ব্র্যান্ড আছে। শেল (Shell) সবচেয়ে বিখ্যাত। তাদের হেলিক্স সিরিজ খুবই ভালো। মোবিল (Mobil) আরেকটি প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড। মোবিল১ সিনথেটিক অয়েল অনেকে ব্যবহার করেন। কাস্ট্রল (Castrol) ব্রিটিশ ব্র্যান্ড। তাদের এজ সিরিজ জনপ্রিয়।
টোটাল (Total) ফরাসি ব্র্যান্ড। মাঝারি দামে ভালো মান দেয়। পেট্রোনাস (Petronas) মালয়েশিয়ান ব্র্যান্ড। সিনটিয়াম সিরিজ ভালো পারফরম্যান্স দেয়। গালফ (Gulf) মধ্যপ্রাচ্যের ব্র্যান্ড। সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যায়। দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে মেঘনা, জামুনা জনপ্রিয়।
প্রতিটি ব্র্যান্ডের বিভিন্ন রেঞ্জ আছে। বাজেট, মিড-রেঞ্জ এবং প্রিমিয়াম। আপনার গাড়ি এবং বাজেট অনুযায়ী বেছে নিন। ব্র্যান্ড গুরুত্বপূর্ণ তবে সবচেয়ে জরুরি সঠিক গ্রেড। নামী ব্র্যান্ডের ভুল গ্রেডের চেয়ে সাধারণ ব্র্যান্ডের সঠিক গ্রেড ভালো।
| ব্র্যান্ড | মূল্য পরিসীমা | বিশেষত্ব | উৎপত্তি |
| শেল হেলিক্স | ৮০০-২২০০ টাকা | উন্নত পরিষ্কার প্রযুক্তি | নেদারল্যান্ডস |
| মোবিল১ | ৯০০-২৫০০ টাকা | সুপার সিনথেটিক | যুক্তরাষ্ট্র |
| কাস্ট্রল এজ | ৮৫০-২০০০ টাকা | টাইটানিয়াম প্রযুক্তি | যুক্তরাজ্য |
| টোটাল কোয়ার্টজ | ৭০০-১৮০০ টাকা | জ্বালানি সাশ্রয় | ফ্রান্স |
সিনথেটিক ইঞ্জিন অয়েল দাম
সিনথেটিক ইঞ্জিন অয়েল সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তির। এটি ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা হয়। প্রাকৃতিক অয়েলের চেয়ে অনেক ভালো। দামও বেশি। ফুল সিনথেটিক অয়েলের দাম বাংলাদেশে ৯০০-২৫০০ টাকা প্রতি লিটার। প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
সিনথেটিক অয়েলের অনেক সুবিধা আছে। এটি দীর্ঘস্থায়ী, ১৫-২০ হাজার কিলোমিটার টেকে। ইঞ্জিন পরিষ্কার রাখে। চরম তাপমাত্রায়ও ভালো কাজ করে। জ্বালানি সাশ্রয় হয়। ইঞ্জিনের আয়ু বাড়ায়। তাই প্রাথমিক খরচ বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক।
সব গাড়িতে সিনথেটিক অয়েল দরকার নেই। নতুন এবং উচ্চ পারফরম্যান্স গাড়িতে এটি আদর্শ। যদি আপনার গাড়ি বেশি দূরত্ব ভ্রমণ করে তাহলে সিনথেটিক নিন। এটি লম্বা সময় টেকে এবং সুরক্ষা ভালো দেয়। পুরনো গাড়িতে সেমি-সিনথেটিক যথেষ্ট।
মিনারেল ইঞ্জিন অয়েল কোনটা ভালো
মিনারেল ইঞ্জিন অয়েল প্রাকৃতিক উৎস থেকে তৈরি। অশোধিত তেল পরিশোধন করে এটি বানানো হয়। এটি সবচেয়ে পুরনো ধরনের ইঞ্জিন অয়েল। দামে সস্তা এবং সহজলভ্য। পুরনো গাড়ি এবং কম দামি বাইকের জন্য উপযুক্ত।
ভালো মিনারেল অয়েল বেছে নিতে হলে ব্র্যান্ড দেখুন। শেল, মোবিল, কাস্ট্রলের মিনারেল রেঞ্জ ভালো। তাদের দাম ৩০০-৫০০ টাকা প্রতি লিটার। API রেটিং দেখুন। SJ, SL বা তার উপরে হলে ভালো। পুরনো স্ট্যান্ডার্ড এড়িয়ে চলুন।
মিনারেল অয়েল তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়। ৩-৫ হাজার কিলোমিটার পর পাল্টাতে হয়। তাপমাত্রায় এর পারফরম্যান্স কমে যায়। তবে পুরনো গাড়িতে ভালো কাজ করে। এই গাড়িগুলোর ইঞ্জিন মিনারেল অয়েলের জন্য ডিজাইন করা। সিনথেটিক দিলে লিক হতে পারে।
- শেল রিমুলা: ডিজেল ইঞ্জিনের জন্য ভালো মিনারেল অয়েল
- মোবিল সুপার: পুরনো পেট্রোল গাড়িতে উপযুক্ত
- কাস্ট্রল GTX: মাঝারি পারফরম্যান্স এবং সুরক্ষা দেয়
- টোটাল কোয়ার্টজ ৩০০০: বাজেট ফ্রেন্ডলি বিকল্প
- গালফ সুপার ডিউটি: ভারী যানবাহনের জন্য
ডিজেল ইঞ্জিন অয়েল কোনটা সেরা
ডিজেল ইঞ্জিন পেট্রোল ইঞ্জিন থেকে ভিন্ন। এতে বেশি চাপ এবং তাপ সৃষ্টি হয়। তাই ডিজেল ইঞ্জিনের জন্য বিশেষ অয়েল দরকার। এই অয়েলে বেশি এডিটিভ থাকে। কালি এবং ময়লা পরিষ্কারের ক্ষমতা বেশি। API CF, CF-4 বা CJ-4 রেটিং থাকতে হবে।
ডিজেল গাড়ির জন্য ১৫W-০ বা ২০W-৫০ গ্রেড সবচেয়ে জনপ্রিয়। শেল রিমুলা সিরিজ ডিজেল ইঞ্জিনের জন্য বিখ্যাত। মোবিল ডেলভাক আরেকটি ভালো বিকল্প। কাস্ট্রল CRB ডিজেল ইঞ্জিনে চমৎকার পারফরম্যান্স দেয়।
ডিজেল গাড়িতে ভালো অয়েল ব্যবহার জরুরি। কারণ ডিজেল জ্বলার সময় বেশি কার্বন তৈরি হয়। খারাপ অয়েল এই কার্বন পরিষ্কার করতে পারে না। ফলে ইঞ্জিন নষ্ট হয়। তাই একটু বেশি দাম দিয়ে হলেও ভালো অয়েল কিনুন।
পেট্রোল ইঞ্জিনের জন্য সেরা ইঞ্জিন অয়েল
পেট্রোল ইঞ্জিন হালকা এবং দ্রুত ঘোরে। এতে কম চাপ থাকে কিন্তু বেশি RPM হয়। তাই পেট্রোল ইঞ্জিনের জন্য কম ঘনত্বের অয়েল ভালো। ৫W-৩০, ১০W-৩০ বা ১০W-৪০ গ্রেড সাধারণত ব্যবহৃত হয়। API SN বা SP রেটিং দেখুন।
নতুন পেট্রোল গাড়িতে ফুল সিনথেটিক সবচেয়ে ভালো। শেল হেলিক্স আল্ট্রা চমৎকার পারফরম্যান্স দেয়। মোবিল১ সুপার সিনথেটিক আরেকটি প্রিমিয়াম চয়েস। কাস্ট্রল এজ টাইটানিয়াম প্রযুক্তি সহ আসে। এগুলো ইঞ্জিন পরিষ্কার রাখে এবং শক্তি সাশ্রয় করে।
মাঝারি বাজেটে টোটাল কোয়ার্টজ ৯০০০ ভালো। এটি সেমি-সিনথেটিক এবং দাম সাশ্রয়ী। পুরনো পেট্রোল গাড়িতে মিনারেল অয়েলও চলবে। কিন্তু নিয়মিত পাল্টাতে হবে। গাড়ির ম্যানুয়াল চেক করে তারপর সিদ্ধান্ত নিন।
| গাড়ির বয়স | প্রস্তাবিত অয়েল | গ্রেড | পরিবর্তনের ব্যবধান |
| ০-৩ বছর | ফুল সিনথেটিক | ৫W-৩০ | ১৫,০০০ কিমি |
| ৪-৭ বছর | সেমি-সিনথেটিক | ১০W-৪০ | ১০,০০০ কিমি |
| ৮-১৫ বছর | মিনারেল | ১৫W-৪০ | ৫,০০০ কিমি |
| ১৫+ বছর | হাই মাইলেজ | ২০W-৫০ | ৩,০০০ কিমি |
দীর্ঘমেয়াদী ইঞ্জিন অয়েল কোনটা
দীর্ঘমেয়াদী ইঞ্জিন অয়েল মানে যেটি বেশি দিন টেকে। ফুল সিনথেটিক অয়েল সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী। কিছু বিশেষ ফর্মুলা আছে যেগুলো ২০-২৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত চলে। মোবিল১ এক্সটেন্ডেড পারফরম্যান্স এমন একটি অয়েল। এটি ২০ হাজার কিলোমিটার গ্যারান্টি দেয়।
শেল হেলিক্স আল্ট্রা ECT (Emissions Compatible Technology) আরেকটি লং লাইফ অয়েল। এটি ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ড পূরণ করে। কাস্ট্রল ম্যাগনাটেক স্টপ-স্টার্ট প্রযুক্তি সহ আসে। এটি ইঞ্জিন বন্ধ থাকা অবস্থায়ও সুরক্ষা দেয়। ফলে দীর্ঘ সময় ভালো থাকে।
দীর্ঘমেয়াদী অয়েল ব্যবহারের সুবিধা অনেক। কম বার অয়েল চেঞ্জ করতে হয়। সময় এবং টাকা বাঁচে। তবে প্রথমে দাম বেশি দিতে হয়। যারা বেশি গাড়ি চালান তাদের জন্য এটি আদর্শ। বছরে ২০ হাজার কিলোমিটারের বেশি চালালে দীর্ঘমেয়াদী অয়েল নিন।
ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তনের সময়
ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তনের সঠিক সময় জানা গুরুত্বপূর্ণ। বেশিরভাগ গাড়ির ম্যানুয়ালে এটি লেখা থাকে। সাধারণত মিনারেল অয়েল ৫০০০ কিলোমিটার পর পাল্টাতে হয়। সেমি-সিনথেটিক ৭৫০০-১০০০০ কিলোমিটার। ফুল সিনথেটিক ১৫০০০ কিলোমিটার বা তার বেশি।
তবে শুধু দূরত্ব নয়, সময়ও দেখুন। যদি গাড়ি কম চালান তাহলেও ৬ মাস পর অয়েল পাল্টান। শহরে যানজটে বেশি চললে তাড়াতাড়ি পাল্টাতে হবে। কারণ ঘন ঘন থামা-চালু হলে ইঞ্জিনের চাপ বেশি হয়। দূরপাল্লার ভ্রমণে ইঞ্জিনের চাপ কম।
কিছু লক্ষণ দেখে বুঝবেন অয়েল পাল্টানোর সময় হয়েছে। ইঞ্জিন থেকে অস্বাভাবিক শব্দ আসলে। অয়েল কালো এবং ঘন হয়ে গেলে। ড্যাশবোর্ডে তেল সতর্কতা বাতি জ্বললে। এসব ক্ষেত্রে দেরি না করে অয়েল পাল্টান।
- নতুন গাড়ি: প্রথম ১০০০ কিমি পর প্রাথমিক সার্ভিস করুন
- শহরে চালনা: প্রতি ৫-৭ হাজার কিমি বা ৬ মাসে পরিবর্তন করুন
- হাইওয়ে চালনা: প্রতি ১০-১৫ হাজার কিমি বা ১ বছরে পরিবর্তন করুন
- কঠিন পরিস্থিতি: ধুলোবালি, চরম তাপে প্রায়ই পরিবর্তন করুন
- ডিজেল গাড়ি: পেট্রোলের চেয়ে একটু আগে পরিবর্তন করুন
ইঞ্জিন অয়েল ফিল্টার কি
ইঞ্জিন অয়েল ফিল্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি ইঞ্জিন অয়েল থেকে ময়লা ছেঁকে দেয়। ইঞ্জিন চলার সময় ধাতব কণা, কার্বন এবং অন্যান্য ময়লা তৈরি হয়। এই ময়লা অয়েলে মিশে যায়। ফিল্টার এই ময়লা আটকে দেয়। পরিষ্কার অয়েল ইঞ্জিনে চলাচল করে।
ফিল্টার ছাড়া ময়লা ইঞ্জিনের ভেতরে ঘুরতে থাকবে। এতে ক্ষয় হবে। পার্টস নষ্ট হবে। তাই ফিল্টার নিয়মিত পরিবর্তন করতে হয়। সাধারণত অয়েল চেঞ্জের সময় ফিল্টারও পাল্টানো হয়। কখনো প্রতিবার, কখনো এক বার পর পর।
ফিল্টারের দাম ২০০-১৫০০ টাকা হতে পারে। গাড়ির মডেল অনুযায়ী ভিন্ন হয়। ভালো ব্র্যান্ডের ফিল্টার কিনুন। সস্তার লোভে নিম্নমানের ফিল্টার কিনবেন না। এটি ঠিকমতো ছাঁকতে পারে না। ময়লা ইঞ্জিনে চলে যায়।
ইঞ্জিন অয়েল কমে গেলে লক্ষণ
ইঞ্জিন অয়েল কমে গেলে কিছু লক্ষণ দেখা যায়। প্রথমত, ড্যাশবোর্ডে তেলের সতর্কতা বাতি জ্বলবে। এটি দেখলেই গাড়ি থামান। অয়েল লেভেল চেক করুন। যদি খুব কম হয় তাহলে দ্রুত অয়েল ভরুন। না হলে ইঞ্জিন সিজ করতে পারে।
ইঞ্জিন থেকে অস্বাভাবিক শব্দ আসতে পারে। বিশেষ করে ঘর্ঘর বা কটকট শব্দ। এটি ধাতব পার্টস ঘষার শব্দ। পর্যাপ্ত অয়েল না থাকায় এটি হয়। ইঞ্জিন বেশি গরম হয়ে যেতে পারে। তাপমাত্রা গেজ বেশি দেখাবে। ধোঁয়া বের হতে পারে।
পারফরম্যান্স কমে যাবে। গাড়ি ভারী লাগবে। ত্বরণ কম হবে। জ্বালানি খরচ বাড়বে। এসব লক্ষণ দেখলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন। নিয়মিত অয়েল লেভেল চেক করুন। মাসে অন্তত একবার দেখুন। এতে সমস্যা আগে ধরা পড়বে।
| লক্ষণ | কারণ | সমাধান | জরুরিতা |
| তেল সতর্কতা বাতি | অয়েল লেভেল কম | অবিলম্বে অয়েল ভরুন | জরুরি |
| ইঞ্জিন শব্দ | লুব্রিকেশন কম | অয়েল চেক করুন | খুব জরুরি |
| তাপমাত্রা বৃদ্ধি | কুলিং ক্ষমতা কম | থামিয়ে ঠান্ডা করুন | জরুরি |
| ধোঁয়া নির্গমন | অয়েল পোড়া | মেকানিক দেখান | জরুরি |
ইঞ্জিন অয়েল গরম হলে কি সমস্যা
ইঞ্জিন অয়েল গরম হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু অতিরিক্ত গরম হলে সমস্যা। অয়েলের কার্যকারিতা কমে যায়। এটি পাতলা হয়ে যায়। ফলে ভালো লুব্রিকেশন দিতে পারে না। ইঞ্জিনের ক্ষয় বাড়ে। পার্টসগুলো দ্রুত নষ্ট হয়।
অতিরিক্ত তাপে অয়েল অক্সিডাইজ হয়ে যায়। এতে এর গুণমান নষ্ট হয়। কালো এবং ঘন হয়ে যায়। ইঞ্জিনে কার্বন জমে। অয়েলের আয়ুও কমে যায়। তাড়াতাড়ি পাল্টাতে হয়। জ্বালানি খরচ বাড়ে।
অয়েল গরম হওয়ার কয়েকটি কারণ আছে। ইঞ্জিন কুলিং সিস্টেম ত্রুটিপূর্ণ হতে পারে। রেডিয়েটরে সমস্যা থাকতে পারে। অয়েল লেভেল কম হলেও এমন হয়। ভুল গ্রেডের অয়েল ব্যবহার করলে। অতিরিক্ত লোড বা দ্রুত গতিতে চললে। এসব কারণ খুঁজে সমাধান করুন।
ইঞ্জিন অয়েল লিক হলে কি করবেন
ইঞ্জিন অয়েল লিক একটি সাধারণ সমস্যা। বিশেষ করে পুরনো গাড়িতে। লিক হলে প্রথমে কোথা থেকে হচ্ছে খুঁজুন। গাড়ির নিচে তেলের দাগ দেখবেন। ইঞ্জিনের চারপাশে ভেজা ভেজা লাগবে। সাধারণত অয়েল প্যান, গ্যাসকেট বা সিল থেকে লিক হয়।
ছোট লিক হলে সাময়িক সমাধান আছে। বাজারে স্টপ লিক এডিটিভ পাওয়া যায়। এটি অয়েলের সাথে মিশিয়ে দিলে সিল ফুলে যায়। ছোট ফাঁক বন্ধ হয়। কিন্তু এটি অস্থায়ী সমাধান। দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য মেকানিকের কাছে যান।
মেকানিক ত্রুটিপূর্ণ গ্যাসকেট বা সিল পাল্টাবেন। অয়েল প্যান টাইট করবেন। লিক পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। না হলে অয়েল শেষ হয়ে যাবে। ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নিয়মিত গাড়ির নিচে চেক করুন। তেলের দাগ দেখলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন।
- তেলের দাগ পরীক্ষা: পার্কিংয়ের জায়গায় দাগ আছে কিনা দেখুন
- অয়েল লেভেল মনিটর: নিয়মিত ডিপস্টিক দিয়ে চেক করুন
- ইঞ্জিন পরিষ্কার রাখুন: লিক বোঝার জন্য ইঞ্জিন পরিষ্কার রাখুন
- অবিলম্বে মেরামত: লিক ধরা পড়লে দেরি করবেন না
- মানসম্পন্ন পার্টস: গ্যাসকেট পাল্টানোর সময় ভালো মানের নিন
ব্যবহৃত ইঞ্জিন অয়েল কিভাবে পরীক্ষা করবেন
ব্যবহৃত ইঞ্জিন অয়েল পরীক্ষা করে বুঝবেন পাল্টানোর সময় হয়েছে কিনা। সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ডিপস্টিক। ইঞ্জিন বন্ধ করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। তারপর ডিপস্টিক বের করুন। টিস্যু দিয়ে মুছে আবার ঢুকান। এবার বের করে দেখুন।
অয়েলের রঙ দেখুন। নতুন অয়েল সোনালি বা হালকা বাদামি। ব্যবহৃত অয়েল গাঢ় বাদামি বা কালো হয়। খুব কালো হলে পাল্টানোর সময় হয়েছে। অয়েলের ঘনত্ব অনুভব করুন। আঙুলে নিয়ে ঘষুন। খুব ঘন বা আঠালো লাগলে খারাপ।
অয়েলে ধাতব কণা বা ময়লা দেখা গেলে সমস্যা। এটি ইঞ্জিনের ক্ষয় নির্দেশ করে। অয়েল যদি দুধের মতো সাদাটে হয় তাহলে কুল্যান্ট মিশে গেছে। এটি বড় সমস্যা। দ্রুত মেকানিকের কাছে যান। নিয়মিত পরীক্ষা করলে ইঞ্জিন ভালো থাকবে।
৫০cc–২০০cc বাইকের জন্য কোন ইঞ্জিন অয়েল
ছোট ক্যাপাসিটির বাইকের জন্য বিশেষ অয়েল দরকার। ৫০-১২৫cc বাইকে সাধারণত ১০W-৩০ বা ২০W-৪০ ভালো। এই বাইকগুলো কম শক্তিসম্পন্ন। তাই সাধারণ মিনারেল বা সেমি-সিনথেটিক যথেষ্ট। কাস্ট্রল অ্যাক্টিভ, শেল অ্যাডভান্স এক্স৪ ভালো পছন্দ।
১৫০-২০০cc বাইকের জন্য একটু ভালো অয়েল চাই। এগুলো বেশি RPM এ চলে। ১৫W-৫০ বা ২০W-৫০ গ্রেড উপযুক্ত। সেমি-সিনথেটিক অয়েল নিলে ভালো। মোবিল সুপার মোটো, শেল অ্যাডভান্স AX৭ চমৎকার পারফরম্যান্স দেয়। এগুলো ওয়েট ক্লাচেও ভালো কাজ করে।
বাইকের অয়েলে অবশ্যই JASO MA বা MA2 স্ট্যান্ডার্ড থাকতে হবে। এটি ক্লাচের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গাড়ির অয়েল বাইকে দেবেন না। ক্লাচ স্লিপ করবে। ২-৩ হাজার কিলোমিটার পর অয়েল পাল্টান। এতে বাইক ভালো চলবে এবং দীর্ঘদিন টিকবে।
| বাইক ক্যাপাসিটি | প্রস্তাবিত গ্রেড | অয়েলের ধরন | পরিবর্তন ব্যবধান |
| ৫০-১০০cc | ১০W-৩০ | মিনারেল | ২,০০০ কিমি |
| ১০০-১৫০cc | ২০W-৪০ | সেমি-সিনথেটিক | ৩,০০০ কিমি |
| ১৫০-২০০cc | ১৫W-৫০ | সেমি-সিনথেটিক | ৩,৫০০ কিমি |
| ২০০cc+ | ১০W-৪০ | ফুল সিনথেটিক | ৫,০০০ কিমি |
ট্রাক/বাসের ইঞ্জিন অয়েল গ্রেড
ভারী যানবাহনের জন্য বিশেষ অয়েল দরকার। ট্রাক এবং বাসের ইঞ্জিন বড় এবং শক্তিশালী। এতে অনেক চাপ সহ্য করতে হয়। সাধারণত ডিজেল ইঞ্জিন হয়। তাই উচ্চ ভিসকসিটির অয়েল লাগে। ১৫W-৪০ বা ২০W-৫০ গ্রেড জনপ্রিয়।
API CI-4, CJ-4 বা CK-4 রেটিং থাকতে হবে। এই রেটিং নিশ্চিত করে যে অয়েল ভারী যানবাহনের জন্য উপযুক্ত। শেল রিমুলা R৪ বা R৬ ট্রাকের জন্য খুব ভালো। মোবিল ডেলভাক MX আরেকটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প। টোটাল রুবিয়া সিরিজও ভারী যানবাহনে ভালো কাজ করে।
ট্রাক এবং বাসে অয়েল চেঞ্জ ব্যবধান একটু বেশি। সাধারণত ১০-১৫ হাজার কিলোমিটার পর পাল্টানো হয়। তবে ব্যবহারের উপর নির্ভর করে। যারা পাহাড়ি এলাকায় চালায় তাদের তাড়াতাড়ি পাল্টাতে হবে। সমতলে চললে দেরিতে। নিয়মিত অয়েল পরীক্ষা করুন।
ঠান্ডা আবহাওয়ার জন্য কোন ইঞ্জিন অয়েল ভালো

ঠান্ডা আবহাওয়ায় ইঞ্জিন অয়েল ঘন হয়ে যায়। এতে ইঞ্জিন স্টার্ট নিতে সমস্যা হয়। তাই ঠান্ডা এলাকার জন্য কম ভিসকসিটির অয়েল ভালো। ০W-২০, ৫W-৩০ বা ০W-৪০ গ্রেড আদর্শ। এই অয়েলগুলো ঠান্ডায়ও পাতলা থাকে। দ্রুত প্রবাহিত হয়।
শীতকালে সিনথেটিক অয়েল সবচেয়ে ভালো। এটি চরম তাপমাত্রায় স্থিতিশীল। মোবিল১ ০W-৪০ উত্তরের দেশগুলোতে জনপ্রিয়। কাস্ট্রল এজ ০W-৩০ ও ভালো। শেল হেলিক্স আল্ট্রা ECT ০W-৩০ পরিবেশবান্ধব এবং ঠান্ডায় কার্যকর।
বাংলাদেশে শীত খুব বেশি না। তবে উত্তরাঞ্চলে একটু ঠান্ডা হয়। সেখানে ৫W-৩০ ব্যবহার করলে ভালো। এটি শীতে ভালো স্টার্টিং দেয় এবং গরমেও পর্যাপ্ত সুরক্ষা দেয়। বছরব্যাপী একই অয়েল ব্যবহার করতে পারবেন।
ইঞ্জিন অয়েল কত লিটার লাগে গাড়িতে
গাড়িতে কত লিটার ইঞ্জিন অয়েল লাগবে তা নির্ভর করে ইঞ্জিনের আকারের উপর। ছোট গাড়ি যেমন ৮০০-১২০০cc তে সাধারণত ৩-৪ লিটার লাগে। মাঝারি গাড়ি ১৩০০-১৮০০cc তে ৪-৫ লিটার। বড় গাড়ি ২০০০cc এর উপরে ৫-৭ লিটার পর্যন্ত লাগতে পারে।
এসইউভি এবং পিকআপ ট্রাকে আরও বেশি লাগে। সাধারণত ৬-৮ লিটার। ডিজেল গাড়িতে পেট্রোলের চেয়ে একটু বেশি লাগে। স্পোর্টস কারে ৮-১০ লিটারও লাগতে পারে। সঠিক পরিমাণ জানতে গাড়ির ম্যানুয়াল দেখুন। ইঞ্জিন কম্পার্টমেন্টে স্টিকারেও লেখা থাকতে পারে।
অয়েল চেঞ্জের সময় ফিল্টারও পাল্টান। ফিল্টারে ৩০০-৫০০ মিলি অয়েল থাকে। তাই ফিল্টার সহ মোট পরিমাণ হিসাব করুন। বেশি অয়েল দিলে সমস্যা হবে। কম দিলেও খারাপ। সঠিক পরিমাণ দেওয়া জরুরি।
- হাচব্যাক (৮০০-১২০০cc): ৩-৩.৫ লিটার ইঞ্জিন অয়েল
- সেডান (১৩০০-১৮০০cc): ৪-৪.৫ লিটার অয়েল
- এসইউভি (২০০০-২৫০০cc): ৫-৬ লিটার অয়েল
- পিকআপ ট্রাক: ৬-৮ লিটার অয়েল
- স্পোর্টস কার: ৮-১০ লিটার অয়েল
উপসংহার
ইঞ্জিন অয়েল গাড়ির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক অয়েল নির্বাচন এবং নিয়মিত পরিবর্তন ইঞ্জিনের দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করে। এই লেখায় আমরা ইঞ্জিন অয়েল সম্পর্কে প্রায় সব কিছু জেনেছি। কোন গ্রেড কোন গাড়িতে ভালো, কখন পাল্টাতে হবে, দাম কেমন সব বিষয়ে ধারণা পেয়েছি।
মনে রাখবেন, সস্তার লোভে ভুয়া অয়েল কিনবেন না। সবসময় বিশ্বস্ত দোকান থেকে কিনুন। গাড়ির ম্যানুয়াল অনুসরণ করুন। নির্মাতা যে গ্রেড সুপারিশ করেছেন সেটাই ব্যবহার করুন। নিয়মিত অয়েল লেভেল চেক করুন। সময়মতো পরিবর্তন করুন। এতে আপনার গাড়ি দীর্ঘদিন সুস্থ থাকবে এবং পারফরম্যান্স ভালো থাকবে।
ইঞ্জিন অয়েল একটি ছোট খরচ কিন্তু বড় সুরক্ষা। এতে কার্পণ্য করবেন না। ভালো অয়েল ব্যবহার করলে ইঞ্জিন মেরামতে বড় খরচ এড়াতে পারবেন। আশা করি এই নিবন্ধ আপনার জন্য উপকারী হয়েছে। সঠিক ইঞ্জিন অয়েল নির্বাচন করুন এবং নিরাপদে গাড়ি চালান।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী(FAQs)
ইঞ্জিন অয়েল কত দিন পর পরিবর্তন করতে হয়?
মিনারেল অয়েল ৩-৫ হাজার কিলোমিটার পর পাল্টাতে হয়। সেমি-সিনথেটিক ৭-১০ হাজার কিলোমিটার। ফুল সিনথেটিক ১৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত চলে। তবে সময়ের দিক থেকে ৬ মাস পর পরিবর্তন করা ভালো।
কোন ইঞ্জিন অয়েল সবচেয়ে ভালো?
সবচেয়ে ভালো অয়েল নির্ভর করে আপনার গাড়ির উপর। নতুন গাড়িতে ফুল সিনথেটিক সেরা। পুরনো গাড়িতে মিনারেল বা সেমি-সিনথেটিক যথেষ্ট। গাড়ির ম্যানুয়াল অনুসরণ করুন।
ইঞ্জিন অয়েল না পাল্টালে কি হবে?
ইঞ্জিনে ময়লা জমবে। পার্টসগুলো ক্ষয় হবে। পারফরম্যান্স কমবে। জ্বালানি খরচ বাড়বে। চরম ক্ষেত্রে ইঞ্জিন সিজ করতে পারে। তাই নিয়মিত অয়েল পরিবর্তন জরুরি।
১৫W-৪০ এবং ২০W-৫০ এর মধ্যে পার্থক্য কি?
১৫W-৪০ মাঝারি ঘনত্বের এবং সব ঋতুর জন্য উপযুক্ত। ২০W-৫০ বেশি ঘন এবং গরম আবহাওয়ার জন্য ভালো। পুরনো এবং উচ্চ মাইলেজ গাড়িতে ২০W-৫০ ব্যবহার করা হয়।
সিনথেটিক অয়েল কি মিনারেল অয়েল থেকে ভালো?
হ্যাঁ, সিনথেটিক অয়েল অনেক ভালো। এটি দীর্ঘস্থায়ী, ইঞ্জিন পরিষ্কার রাখে এবং চরম তাপমাত্রায় ভালো কাজ করে। তবে দাম বেশি। নতুন গাড়িতে সিনথেটিক আদর্শ।
ইঞ্জিন অয়েল লিক হলে কি করব?
প্রথমে লিকের স্থান খুঁজুন। ছোট লিকে স্টপ লিক এডিটিভ ব্যবহার করতে পারেন। বড় লিকে মেকানিকের কাছে যান। গ্যাসকেট বা সিল পাল্টাতে হতে পারে। দেরি করবেন না।
গাড়ির অয়েল বাইকে ব্যবহার করা যাবে কি?
না, গাড়ির অয়েল বাইকে ব্যবহার করবেন না। বাইকের জন্য JASO MA স্ট্যান্ডার্ড অয়েল দরকার। গাড়ির অয়েল দিলে ক্লাচ স্লিপ করবে। বাইকের জন্য বিশেষ ফর্মুলার অয়েল ব্যবহার করুন।
ইঞ্জিন অয়েল কালো হয়ে গেলে কি করব?
অয়েল কালো হওয়া স্বাভাবিক। এটি ইঞ্জিনের ময়লা পরিষ্কার করছে। তবে খুব কালো এবং ঘন হলে পাল্টান। নিয়মিত চেক করুন এবং সময়মতো পরিবর্তন করুন।
ঠান্ডা এলাকার জন্য কোন গ্রেড ভালো?
ঠান্ডা এলাকার জন্য ০W-২০, ৫W-৩০ বা ০W-৪০ গ্রেড ভালো। এই অয়েলগুলো ঠান্ডায় পাতলা থাকে এবং দ্রুত প্রবাহিত হয়। শীতকালে ইঞ্জিন স্টার্ট নিতে সুবিধা হয়।
ইঞ্জিন অয়েলের দাম কত?
মিনারেল অয়েল ২৫০-৪০০ টাকা প্রতি লিটার। সেমি-সিনথেটিক ৫০০-৮০০ টাকা। ফুল সিনথেটিক ৯০০-২৫০০ টাকা। ব্র্যান্ড এবং মানভেদে দাম ভিন্ন হয়।
🔥 পোস্টটি শেয়ার করুনঃ 🌍






