পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পর্বত মাউন্ট এভারেস্ট। এটি প্রকৃতির এক অসাধারণ সৃষ্টি। পর্বতারোহীদের কাছে এটি স্বপ্নের গন্তব্য। আজকে আমরা এই বিশাল পর্বত সম্পর্কে জানব। এর ইতিহাস, উচ্চতা এবং রোমাঞ্চকর তথ্য শেয়ার করব। আপনি জানবেন কেন এটি এত বিখ্যাত। চলুন শুরু করা যাক এই অসাধারণ যাত্রা।
মাউন্ট এভারেস্ট এর উচ্চতা কত

বর্তমানে মাউন্ট এভারেস্টের আনুষ্ঠানিক উচ্চতা ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার (২৯,০৩১.৬৯ ফুট)। এই নতুন উচ্চতা ২০২০ সালে নেপাল এবং চীন যৌথভাবে ঘোষণা করেছিল, যা পূর্বের স্বীকৃত উচ্চতা ৮,৮৪৮ মিটার থেকে সামান্য বেশি। এই পরিমাপ আধুনিক জিপিএস প্রযুক্তি এবং উন্নত জরিপ পদ্ধতি ব্যবহার করে সম্পন্ন করা হয়েছিল। নেপালি জরিপ দল ২০১৯ সালে এবং চীনা জরিপ দল ২০২০ সালে স্বাধীনভাবে পরিমাপ করে এবং উভয়ের ফলাফল প্রায় একই ছিল। এই উচ্চতা সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে মাপা হয় এবং এতে বরফের স্তর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বৈজ্ঞানিকদের মতে, ভূতাত্ত্বিক নড়াচড়া এবং বরফের পুরুত্বের পরিবর্তনের কারণে মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে। টেকটনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে হিমালয় পর্বতমালা এখনও প্রতি বছর কয়েক মিলিমিটার উঁচু হচ্ছে।
মাউন্ট এভারেস্ট কোথায় অবস্থিত
মাউন্ট এভারেস্ট হিমালয় পর্বতমালায় রয়েছে। এটি নেপাল এবং তিব্বতের সীমান্তে দাঁড়িয়ে আছে। দুটি দেশ এই পর্বতের অংশীদার। নেপাল থেকে দক্ষিণ দিক দেখা যায়। তিব্বত থেকে উত্তর দিক দৃশ্যমান হয়। এই অবস্থান পর্বতটিকে আরও বিশেষ করেছে। পর্যটকরা দুই দেশ থেকেই এটি দেখতে পারেন। এশিয়া মহাদেশে এর গর্বিত অবস্থান।
মাউন্ট এভারেস্টের ইতিহাস
মাউন্ট এভারেস্টের ইতিহাস অনেক পুরানো। ১৮৫২ সালে এটি প্রথম পরিমাপ করা হয়। ভারতীয় সার্ভে টিম এই কাজ করেছিল। তখন এটিকে “পিক ১৫” বলা হতো। স্থানীয় মানুষ এটিকে পবিত্র মনে করতেন। তারা এই পর্বতের পূজা করতেন। বহু বছর ধরে মানুষ এটি জয় করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু প্রকৃতি তাদের থামিয়ে দিয়েছে। অবশেষে ১৯৫৩ সালে সফলতা এসেছে। এটি মানব ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়।
মাউন্ট এভারেস্ট প্রথম কে জয় করেন
স্যার এডমন্ড হিলারি এবং তেনজিং নোরগে প্রথম শীর্ষে পৌঁছান। তারা ১৯৫৩ সালের ২৯ মে এই কীর্তি গড়েন। হিলারি ছিলেন নিউজিল্যান্ডের নাগরিক। তেনজিং ছিলেন নেপালি শেরপা। তাদের সফলতা বিশ্বকে অবাক করেছিল। এটি মানব ইতিহাসের সেরা মুহূর্ত। তারা দলবদ্ধভাবে কাজ করেছিলেন। কঠিন আবহাওয়া এবং অক্সিজেনের অভাব তাদের থামাতে পারেনি।
প্রথম সফল আরোহণের মূল বিষয়:
- হিলারি এবং তেনজিং ব্রিটিশ অভিযানের অংশ ছিলেন
- তারা দক্ষিণ কোল রুট ব্যবহার করেছিলেন
- অক্সিজেন সিলিন্ডার তাদের সাহায্য করেছিল
- আবহাওয়া সেদিন তাদের পক্ষে ছিল
- এই সফলতা তাদের বিশ্ব বিখ্যাত করেছে
মাউন্ট এভারেস্ট নামকরণের ইতিহাস
মাউন্ট এভারেস্ট নামটি জর্জ এভারেস্টের নামে রাখা হয়। তিনি ছিলেন ভারতের সার্ভেয়ার জেনারেল। ১৮৫৬ সালে এই নাম দেওয়া হয়। ব্রিটিশরা তাকে সম্মান করতে এই নাম বেছে নেয়। কিন্তু স্থানীয় মানুষের অন্য নাম ছিল। তিব্বতিরা এটিকে “চোমোলুংমা” বলে। নেপালিরা “সাগরমাথা” নাম ব্যবহার করে। প্রতিটি নাম বিশেষ অর্থ বহন করে। এখনও তিনটি নাম ব্যবহার হয়।
মাউন্ট এভারেস্ট কত কিলোমিটার
মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা ৮.৮৪৯ কিলোমিটার। এটি প্রায় নয় কিলোমিটার উঁচু। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এই দূরত্ব মাপা হয়। আকাশের কাছাকাছি এর শীর্ষ। বিমান এর চেয়ে নিচে উড়ে না। এই উচ্চতায় অক্সিজেন খুব কম। মানুষ শ্বাস নিতে কষ্ট পায়। তাপমাত্রা মাইনাস ৪০ ডিগ্রি হতে পারে। এজন্য বিশেষ প্রস্তুতি দরকার হয়।
মাউন্ট এভারেস্টের আরেক নাম কী
মাউন্ট এভারেস্টের বেশ কয়েকটি নাম আছে। নেপালে এটি “সাগরমাথা” নামে পরিচিত। এর অর্থ “আকাশের মাথা” বা “স্বর্গের শীর্ষ”। তিব্বতিরা এটিকে “চোমোলুংমা” বলে। এর মানে “পৃথিবীর মা দেবী”। স্থানীয় শেরপারা এটিকে পবিত্র মনে করে। তারা আরোহণের আগে পূজা করে। প্রতিটি নাম পর্বতের মর্যাদা বাড়ায়। বিভিন্ন সংস্কৃতিতে এর বিশেষ স্থান রয়েছে।
মাউন্ট এভারেস্টের বিভিন্ন নাম:
- এভারেস্ট (ইংরেজি নাম)
- সাগরমাথা (নেপালি নাম)
- চোমোলুংমা (তিব্বতি নাম)
- দেবী মাতা (শেরপা সম্প্রদায়ের নাম)
- পিক ১৫ (পুরানো সার্ভে নাম)
মাউন্ট এভারেস্টের পূর্ব নাম কী
মাউন্ট এভারেস্টের পূর্ব নাম ছিল “পিক ১৫”। ব্রিটিশ সার্ভে টিম এই নাম দিয়েছিল। ১৮৫২ সালে যখন তারা এটি আবিষ্কার করে। তখন কোনো ইংরেজি নাম ছিল না। শুধু একটি নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করা হতো। পরে জর্জ এভারেস্টের নামে নামকরণ হয়। কিন্তু স্থানীয় নাম বহু শতাব্দী পুরানো। চোমোলুংমা এবং সাগরমাথা অনেক আগে থেকে প্রচলিত।
পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত কোনটি
পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্ট। এটি সবচেয়ে উঁচু শৃঙ্গ। কোনো পর্বত এর সমকক্ষ নয়। হিমালয় পর্বতমালায় এর অবস্থান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত কে-২। এটি পাকিস্তান এবং চীনের সীমান্তে আছে। কাঞ্চনজঙ্ঘা তৃতীয় স্থানে রয়েছে। মাউন্ট এভারেস্ট সবসময় শীর্ষে থাকবে। এর উচ্চতা অন্য সব পর্বতকে ছাড়িয়ে গেছে। পর্বতারোহীদের কাছে এটি চূড়ান্ত লক্ষ্য।
মাউন্ট এভারেস্টের মানচিত্র
মাউন্ট এভারেস্টের মানচিত্র খুবই জটিল। এতে বিভিন্ন রুট দেখানো আছে। দক্ষিণ কোল এবং উত্তর কোল প্রধান পথ। বেস ক্যাম্পগুলো চিহ্নিত করা থাকে। ক্যাম্প ১, ২, ৩ এবং ৪ রয়েছে। প্রতিটি ক্যাম্পে বিশ্রাম নেওয়া হয়। মানচিত্রে বিপদজনক এলাকা দেখানো হয়। আইসফল এবং ক্রেভাস চিহ্নিত থাকে। আধুনিক GPS প্রযুক্তি এখন ব্যবহার হয়। এটি আরোহীদের পথ খুঁজতে সাহায্য করে।
মাউন্ট এভারেস্ট আরোহণের প্রধান ক্যাম্প:
| ক্যাম্প নাম | উচ্চতা (মিটার) | বিশেষত্ব | অবস্থান |
| বেস ক্যাম্প | ৫,৩৬৪ | প্রথম শিবির | নেপাল পাশে |
| ক্যাম্প ১ | ৬,০৬৫ | আইসফলের উপরে | দক্ষিণ কোল রুটে |
| ক্যাম্প ২ | ৬,৪০০ | মধ্যবর্তী শিবির | পশ্চিম কাম |
| ক্যাম্প ৩ | ৭,২০০ | উঁচু শিবির | লহোৎসে দেওয়াল |
| ক্যাম্প ৪ | ৭,৯২০ | শেষ শিবির | সাউথ কোল |
মাউন্ট এভারেস্টের আবহাওয়া কেমন
মাউন্ট এভারেস্টের আবহাওয়া খুবই কঠিন। শীতে তাপমাত্রা মাইনাস ৬০ ডিগ্রি পর্যন্ত নামে। গ্রীষ্মেও মাইনাস ২০ ডিগ্রি থাকে। প্রচণ্ড বাতাস সবসময় বয়ে যায়। ঝড় এবং তুষারপাত হঠাৎ শুরু হয়। মে এবং সেপ্টেম্বর আরোহণের সেরা সময়। এই সময় আবহাওয়া তুলনামূলক স্থিতিশীল। কিন্তু বিপদ সবসময় থাকে। মেঘ এবং কুয়াশা দৃশ্যমানতা কমায়। অক্সিজেনের অভাব সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
মাউন্ট এভারেস্ট জয় করতে কত খরচ হয়
মাউন্ট এভারেস্ট জয় করা অনেক ব্যয়বহুল। নেপাল পাশ থেকে পারমিট ১১,০০০ ডলার। তিব্বত পাশ থেকে ৭,০০০ ডলার লাগে। গাইড এবং শেরপা খরচ আরও বেশি। মোট খরচ ৩০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ ডলার হতে পারে। সরঞ্জাম কিনতে হাজার হাজার ডলার যায়। খাবার এবং থাকার খরচ আলাদা। অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যয়বহুল। বীমা করাতে হয় জরুরি উদ্ধারের জন্য।
মাউন্ট এভারেস্ট জয় করা কেন কঠিন
মাউন্ট এভারেস্ট জয় করা অত্যন্ত কঠিন। উচ্চতার কারণে অক্সিজেন কম থাকে। শ্বাস নিতে খুব কষ্ট হয়। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা শরীর জমিয়ে দেয়। বাতাস ১০০ কিলোমিটার গতিতে বয়। তুষার ঝড় যেকোনো সময় আসতে পারে। রাস্তা অনেক বিপদজনক। বরফের ফাটল এবং তুষার ধস হয়। শারীরিক এবং মানসিক শক্তি দরকার। অনেকে উচ্চতায় অসুস্থ হয়ে পড়ে।
মাউন্ট এভারেস্ট আরোহণের প্রধান চ্যালেঞ্জ:
- চরম ঠাণ্ডা এবং কঠোর আবহাওয়া
- অক্সিজেনের মারাত্মক অভাব (ডেথ জোন)
- হঠাৎ তুষার ঝড় এবং বরফ ধস
- শারীরিক দুর্বলতা এবং উচ্চতার অসুস্থতা
- বিপজ্জনক আইসফল এবং ক্রেভাস
মাউন্ট এভারেস্ট কত বছরে একবার পরিমাপ করা হয়
মাউন্ট এভারেস্ট নিয়মিত পরিমাপ করা হয় না। সাধারণত ৫০ থেকে ৬০ বছর পর পরিমাপ হয়। ২০২০ সালে সর্বশেষ পরিমাপ হয়েছে। নেপাল এবং চীন একসাথে কাজ করেছিল। ভূমিকম্প উচ্চতা পরিবর্তন করতে পারে। ২০১৫ সালের ভূমিকম্প প্রভাব ফেলেছিল। আধুনিক প্রযুক্তি এখন ব্যবহার হয়। স্যাটেলাইট এবং GPS খুবই সঠিক। বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য পরিমাপ দরকার।
মাউন্ট এভারেস্টে মৃত্যুহার কত
মাউন্ট এভারেস্টে মৃত্যুহার প্রায় ১ থেকে ২ শতাংশ। এখন পর্যন্ত ৩০০ এর বেশি মানুষ মারা গেছে। বেশিরভাগ মৃত্যু ডেথ জোনে ঘটে। ৮,০০০ মিটারের উপরে এই জোন। অক্সিজেনের অভাবে অনেকে মারা যায়। তুষার ঝড় এবং বরফ ধসও মারাত্মক। কিছু মৃতদেহ এখনও পর্বতে আছে। উদ্ধার করা সম্ভব নয়।
মাউন্ট এভারেস্টে বরফধস কেন হয়
মাউন্ট এভারেস্টে বরফধস প্রাকৃতিক ঘটনা। সূর্যের তাপে বরফ গলতে শুরু করে। তখন বরফের স্তর দুর্বল হয়ে যায়। ভারী বরফ হঠাৎ নিচে পড়ে। বাতাসের গতি বরফধস ঘটাতে পারে। ভূমিকম্পও কারণ হতে পারে। আইসফল এলাকায় বেশি বরফধস হয়। এটি খুবই বিপদজনক জায়গা। অনেক আরোহী এখানে মারা গেছে। সকালে আরোহণ করা নিরাপদ। সেই সময় বরফ শক্ত থাকে।
বরফধসের প্রধান কারণসমূহ:
| কারণ | বিস্তারিত | ঝুঁকির মাত্রা | প্রতিকার |
| তাপমাত্রা বৃদ্ধি | সূর্যের তাপে বরফ গলা | উচ্চ | সকালে আরোহণ |
| ভূমিকম্প | ভূমি কম্পনে বরফ পড়া | খুব উচ্চ | পূর্বাভাস মনিটরিং |
| প্রচণ্ড বাতাস | বাতাসের চাপে বরফ সরা | মধ্যম | আবহাওয়া দেখা |
| বরফের ওজন | অতিরিক্ত বরফ জমা | উচ্চ | নিরাপদ রুট বেছে নেওয়া |
বাংলাদেশ থেকে মাউন্ট এভারেস্ট কীভাবে দেখা যায়
বাংলাদেশ থেকে মাউন্ট এভারেস্ট সরাসরি দেখা যায় না। তবে নেপাল ভ্রমণ করে দেখা সম্ভব। ঢাকা থেকে কাঠমান্ডু বিমান আছে। সেখান থেকে পোখারা যেতে হয়। পোখারা থেকে পর্বত দৃশ্য অসাধারণ। লুক্লা যাওয়ার ফ্লাইট আছে। সেখান থেকে ট্রেকিং শুরু করা যায়। এভারেস্ট বেস ক্যাম্প জনপ্রিয় গন্তব্য। প্রায় ১২ থেকে ১৪ দিন লাগে। ভিসা এবং পারমিট নিতে হয়। ভালো শারীরিক সুস্থতা দরকার।
মাউন্ট এভারেস্ট এ আরোহণের নিয়ম
মাউন্ট এভারেস্ট আরোহণ একটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এবং ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান যার জন্য কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হয়। নেপাল এবং তিব্বত উভয় দেশেই মাউন্ট এভারেস্ট আরোহণের জন্য বিশেষ পারমিট প্রয়োজন হয়। নেপাল সরকার প্রতিটি আরোহণকারীকে ১১,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত পারমিট ফি প্রদান করতে হয়। আরোহণকারীদের অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ গাইড বা শেরপা সঙ্গে নিয়ে যেতে হয় এবং পূর্ব থেকে উচ্চতা অভিযোজন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হয়। প্রতি বছর আরোহণের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে – সাধারণত এপ্রিল থেকে মে মাস এবং সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাস। আরোহণকারীদের ন্যূনতম ৬,৫০০ মিটার উচ্চতার একটি পর্বত জয়ের অভিজ্ঞতা থাকতে হয় এবং চিকিৎসা সনদপত্র জমা দিতে হয়। পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য প্রতিটি আরোহণকারীকে ৪,০০০ ডলার জামানত রাখতে হয় যা তারা তাদের বর্জ্য সংগ্রহ করে ফিরিয়ে আনলে ফেরত পাবেন।
মাউন্ট এভারেস্ট আরোহণে কত দিন লাগে
মাউন্ট এভারেস্ট আরোহণে সাধারণত ৬০ থেকে ৭০ দিন সময় লাগে। এই দীর্ঘ সময়ের বেশিরভাগই ব্যয় হয় উচ্চতা অভিযোজনে, যা আরোহণকারীদের শরীরকে অক্সিজেনের স্বল্পতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। বেস ক্যাম্প থেকে শীর্ষে পৌঁছাতে প্রায় ৪০ দিন সময় লাগে, যার মধ্যে আরোহণকারীরা বেস ক্যাম্প এবং বিভিন্ন উচ্চতার ক্যাম্পের মধ্যে কয়েকবার উঠানামা করেন। প্রকৃত শীর্ষ আরোহণ শুধুমাত্র ৮ থেকে ১০ দিন সময় নেয়, কিন্তু অভিযোজনের জন্য অতিরিক্ত সময় অপরিহার্য। কাঠমান্ডু থেকে বেস ক্যাম্পে পৌঁছাতে প্রায় ২ সপ্তাহ লাগে, যার মধ্যে ট্রেকিং এবং প্রস্তুতি অন্তর্ভুক্ত। আবহাওয়ার অনুকূল অবস্থার জন্য অপেক্ষা করতে হয় বলে কখনো কখনো অভিযান আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। অভিজ্ঞ পর্বতারোহীরা কিছুটা কম সময়ে আরোহণ সম্পন্ন করতে পারেন, তবে নিরাপত্তার কারণে তাড়াহুড়া না করাই উত্তম।
মাউন্ট এভারেস্টে কোন কোন রুট আছে
মাউন্ট এভারেস্ট আরোহণের জন্য প্রধানত দুটি জনপ্রিয় রুট রয়েছে – দক্ষিণ রুট (নেপাল দিক থেকে) এবং উত্তর রুট (তিব্বত দিক থেকে)। দক্ষিণ রুট সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় এবং এটি ১৯৫৩ সালে স্যার এডমন্ড হিলারি এবং তেনজিং নোরগে কর্তৃক প্রথম সফল আরোহণের পথ।
দক্ষিণ রুটের প্রধান বৈশিষ্ট্য:
- খুম্বু আইসফল: বেস ক্যাম্প থেকে ক্যাম্প ১ পর্যন্ত বিপজ্জনক বরফের পথ
- ওয়েস্টার্ন কুম: বিশাল বরফের উপত্যকা যা ক্যাম্প ২ পর্যন্ত বিস্তৃত
- লোটসে ফেস: প্রায় ১,১২৫ মিটার উঁচু খাড়া বরফের দেয়াল
- সাউথ কোল: ৭,৯০৬ মিটার উচ্চতায় ক্যাম্প ৪ এর অবস্থান
- হিলারি স্টেপ: শীর্ষের কাছে একটি পাথুরে খাড়া অংশ
উত্তর রুট তিব্বত থেকে শুরু হয় এবং সাধারণত দক্ষিণ রুটের চেয়ে কম ভিড়যুক্ত। এই রুটে নর্থ কোল, নর্থ রিজ এবং তিনটি স্টেপস পেরিয়ে শীর্ষে পৌঁছাতে হয়। তবে এই পথে অক্সিজেনের স্বল্পতা বেশি অনুভূত হয় এবং উদ্ধার কার্য কঠিন। এছাড়াও ওয়েস্ট রিজ, সাউথওয়েস্ট ফেস এবং ইস্ট রিজের মতো কয়েকটি কঠিন ও কম ব্যবহৃত রুট রয়েছে যা শুধুমাত্র অভিজ্ঞ পর্বতারোহীরা ব্যবহার করেন।
মাউন্ট এভারেস্ট কোন দেশে অবস্থিত
মাউন্ট এভারেস্ট নেপাল এবং তিব্বত (চীন) এর সীমান্তে অবস্থিত। পর্বতটির শীর্ষবিন্দু উভয় দেশের ভূখণ্ডে পড়ে এবং সীমান্ত রেখা শিখর দিয়ে যায়। নেপালের দিক থেকে এটি সাগরমাথা জাতীয় উদ্যানের অংশ, যা সোলুখুম্বু জেলায় অবস্থিত। তিব্বতের দিক থেকে এটি কোমোলাংমা প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। নেপালি পক্ষে নিকটতম শহর হল লুকলা এবং নামচে বাজার, যেখানে আরোহণকারীরা সাধারণত অভিযোজনের জন্য থাকেন। তিব্বতের দিক থেকে নিকটতম প্রধান শহর হল শিগাতসে এবং তিংরি। ঐতিহাসিকভাবে, নেপাল এবং চীন উভয়েই মাউন্ট এভারেস্টকে তাদের জাতীয় গর্ব হিসেবে দাবি করে এবং উভয় দেশই আরোহণের জন্য পৃথক পারমিট ইস্যু করে। ভৌগোলিকভাবে, পর্বতটি মহালাঙ্গুর হিমাল উপ-পর্বতশ্রেণীর অংশ, যা বৃহত্তর হিমালয় পর্বতমালার একটি অংশ।
মাউন্ট এভারেস্ট কোন মহাদেশে
মাউন্ট এভারেস্ট এশিয়া মহাদেশে অবস্থিত, যা বিশ্বের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে জনবহুল মহাদেশ।
মাউন্ট এভারেস্টের ভৌগোলিক অবস্থান:
- মহাদেশ: এশিয়া
- পর্বতশ্রেণী: হিমালয় পর্বতমালা
- উপ-শ্রেণী: মহালাঙ্গুর হিমাল
- অক্ষাংশ: ২৭°৫৯’ উত্তর
- দ্রাঘিমাংশ: ৮৬°৫৬’ পূর্ব
হিমালয় পর্বতমালা এশিয়ার দক্ষিণ অংশে বিস্তৃত এবং এটি ভারতীয় উপমহাদেশ এবং তিব্বতীয় মালভূমিকে পৃথক করেছে। এই পর্বতমালা প্রায় ২,৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং পাকিস্তান থেকে ভুটান পর্যন্ত বিস্তৃত। মাউন্ট এভারেস্ট শুধুমাত্র এশিয়ার নয়, পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ। এশিয়া মহাদেশে হিমালয় পর্বতমালার সাথে আরও অনেক উচ্চ পর্বত রয়েছে, যার মধ্যে কে২, কাঞ্চনজঙ্ঘা, লোটসে এবং মাকালু উল্লেখযোগ্য। হিমালয় পর্বতমালা প্রায় ৫০ মিলিয়ন বছর আগে ভারতীয় টেকটনিক প্লেট এবং ইউরেশীয় প্লেটের সংঘর্ষের ফলে সৃষ্টি হয়েছিল এবং এটি এখনও ভূতাত্ত্বিকভাবে সক্রিয় অঞ্চল।
মাউন্ট এভারেস্টে প্রথম মহিলা কে আরোহণ করেন
জাপানি পর্বতারোহী জুনকো তাবেই ১৯৭৫ সালের ১৬ মে প্রথম মহিলা হিসেবে মাউন্ট এভারেস্ট শীর্ষে আরোহণ করেন। তিনি একটি জাপানি মহিলা পর্বতারোহী দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং তার শেরপা গাইড আং চেরিংয়ের সাথে শীর্ষে পৌঁছেছিলেন। জুনকো তাবেই শুধুমাত্র এভারেস্ট জয়ী প্রথম মহিলাই ছিলেন না, পরবর্তীতে তিনি সাতটি মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গে আরোহণ করা প্রথম মহিলাও হয়েছিলেন। তার অভিযানটি অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছিল, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল বরফধসে আটকে পড়া, যেখানে তিনি প্রায় মারা যাচ্ছিলেন। তাবেই ১৯৩৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৭ বছর বয়সে ২০১৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তার সাফল্য বিশ্বব্যাপী মহিলা পর্বতারোহণে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয় এবং তিনি অগণিত মহিলা পর্বতারোহীকে অনুপ্রাণিত করেছেন।
মাউন্ট এভারেস্ট বাংলাদেশি বিজেতা

বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন সাহসী পর্বতারোহী মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেছেন। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ২০১০ সালের ২৩ মে মুসা ইব্রাহিম মাউন্ট এভারেস্ট শীর্ষে পৌঁছান, যা বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত ছিল। এরপর ২০১১ সালে নিশাত মজুমদার প্রথম বাংলাদেশি মহিলা হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন। ওয়াসফিয়া নাজরীন ২০১২ সালে এভারেস্ট জয় করেন এবং পরবর্তীতে সাতটি মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বত জয়ী প্রথম বাংলাদেশি হন।
| বাংলাদেশি এভারেস্ট বিজেতা | সাফল্যের বছর | বিশেষত্ব |
| মুসা ইব্রাহিম | ২০১০ | প্রথম বাংলাদেশি |
| নিশাত মজুমদার | ২০১১ | প্রথম বাংলাদেশি মহিলা |
| ওয়াসফিয়া নাজরীন | ২০১২ | সেভেন সামিট সম্পন্নকারী প্রথম বাংলাদেশি |
| এম এ মুহিত | ২০১৩ | দ্বিতীয় বাংলাদেশি পুরুষ |
| বদরুল আলম | ২০১৬ | বয়স্ক বাংলাদেশি আরোহণকারী |
এছাড়াও বদরুল আলম, নাসির উদ্দিন আহমেদ, এবং আরও কয়েকজন বাংলাদেশি পর্বতারোহী এই বিশ্বের সর্বোচ্চ শিখর জয় করে দেশের জন্য গর্ব এনে দিয়েছেন। বাংলাদেশি পর্বতারোহীরা সীমিত সম্পদ এবং পর্বতারোহণের উপযুক্ত ভূখণ্ড না থাকা সত্ত্বেও তাদের দৃঢ় সংকল্প এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন।
মাউন্ট এভারেস্ট সম্পর্কিত তথ্য
মাউন্ট এভারেস্ট সম্পর্কে অনেক আকর্ষণীয় এবং বিস্ময়কর তথ্য রয়েছে যা এই পর্বতকে আরও রহস্যময় করে তোলে।
মাউন্ট এভারেস্টের বিস্ময়কর তথ্য:
- নামের উৎস: নেপালে এটি “সাগরমাথা” (স্বর্গের কপাল) এবং তিব্বতে “চোমোলাংমা” (বিশ্ব মাতা) নামে পরিচিত
- তাপমাত্রা: শীর্ষে তাপমাত্রা -৩৬°সে থেকে -৬০°সে পর্যন্ত নেমে যায়
- বায়ুর চাপ: শীর্ষে অক্সিজেনের মাত্রা সমুদ্র সমতলের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ
- মৃত্যু অঞ্চল: ৮,০০০ মিটারের উপরে “ডেথ জোন” যেখানে মানব দেহ দীর্ঘ সময় টিকতে পারে না
- বার্ষিক আরোহণকারী: প্রতি বছর প্রায় ৮০০-১,০০০ জন আরোহণ চেষ্টা করেন
- সাফল্যের হার: প্রায় ৬০-৭০% আরোহণকারী শীর্ষে পৌঁছাতে সক্ষম হন
এভারেস্টের শীর্ষ থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দূরের দৃশ্য দেখা যায় যখন আবহাওয়া পরিষ্কার থাকে। পর্বতটিতে প্রতি বছর প্রায় ১০০ টন বর্জ্য জমা হয়, যা পরিবেশের জন্য একটি বড় সমস্যা। এখানে প্রায় ৩০০ জনের মৃতদেহ এখনও রয়ে গেছে, কারণ সেগুলো উদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন এবং বিপজ্জনক। মাউন্ট এভারেস্টে প্রথম সফল আরোহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬,০০০ জন শীর্ষে পৌঁছেছেন।
মাউন্ট এভারেস্টের ছবি
মাউন্ট এভারেস্টের ছবিগুলি এই পর্বতের ভয়াবহ সৌন্দর্য এবং বিশালত্ব তুলে ধরে। পর্বতের শীর্ষভাগ সবসময় বরফে ঢাকা থাকে এবং সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় এটি সোনালি আভা ছড়ায়। বেস ক্যাম্প থেকে তোলা ছবিগুলি খুম্বু আইসফলের বিপজ্জনক সৌন্দর্য প্রদর্শন করে, যেখানে বিশাল বরফের খণ্ড এবং ক্রেভাস দেখা যায়। শীর্ষ থেকে তোলা ছবিগুলিতে আশেপাশের অন্যান্য হিমালয় শৃঙ্গ যেমন লোটসে, নুপৎসে এবং চাঙৎসে দেখা যায়। নাসার স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতে মাউন্ট এভারেস্টের সম্পূর্ণ ভূতাত্ত্বিক কাঠামো এবং আশেপাশের হিমবাহগুলি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে এখন মাউন্ট এভারেস্টের অভূতপূর্ব বিমান দৃশ্য ধারণ করা সম্ভব হয়েছে। অনেক পেশাদার ফটোগ্রাফার এই পর্বতের বিভিন্ন মৌসুমে ছবি তুলে এর বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য প্রদর্শন করেছেন। বিখ্যাত হিলারি স্টেপের ছবিগুলি পর্বতারোহণের চ্যালেঞ্জিং দিক তুলে ধরে।
মাউন্ট এভারেস্ট ভ্রমণ গাইড
মাউন্ট এভারেস্ট ভ্রমণ একটি অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা, তবে এটি সঠিক পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতি প্রয়োজন। যারা পর্বত আরোহণ করতে চান না, তারাও বেস ক্যাম্প পর্যন্ত ট্রেকিং করতে পারেন, যা একটি জনপ্রিয় এবং তুলনামূলকভাবে নিরাপদ অভিযান। নেপালের কাঠমান্ডু থেকে যাত্রা শুরু হয় এবং সেখান থেকে লুকলায় ফ্লাইট নিয়ে ট্রেক শুরু করতে হয়। বেস ক্যাম্প ট্রেকে সাধারণত ১২-১৪ দিন লাগে এবং এতে নামচে বাজার, তেঙবোচে, দিংবোচের মতো সুন্দর শেরপা গ্রামগুলি অতিক্রম করা হয়। ট্রেকারদের অবশ্যই শারীরিকভাবে ফিট থাকতে হবে এবং উচ্চতার সাথে অভিযোজনের জন্য ধীরে ধীরে উঠতে হবে।
| ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র | বিবরণ |
| পোশাক | থার্মাল লেয়ার, ডাউন জ্যাকেট, ট্রেকিং প্যান্ট, উলের মোজা |
| জুতা | উষ্ণ ট্রেকিং বুট, ক্র্যাম্পন্স (উচ্চ এলাকায়) |
| ঔষধপত্র | উচ্চতা অসুস্থতার ওষুধ, ব্যথানাশক, প্রাথমিক চিকিৎসা কিট |
| সরঞ্জাম | স্লিপিং ব্যাগ,ট্রেকিং পোল, হেডল্যাম্প, সানগ্লাস |
| অন্যান্য | পানির বোতল, ক্যামেরা, পাওয়ার ব্যাংক, সানস্ক্রিন |
এভারেস্ট অঞ্চলে ভ্রমণের সেরা সময় হল এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-নভেম্বর মাস। তেঙবোচে মনাস্ট্রি পরিদর্শন এবং কালা পাথার থেকে এভারেস্টের সূর্যোদয় দেখা অবশ্যই করণীয়। স্থানীয় শেরপা সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা এবং তাদের আতিথেয়তা উপভোগ করা ভ্রমণের একটি অনন্য অংশ।
মাউন্ট এভারেস্ট ট্রাভেল খরচ
মাউন্ট এভারেস্ট ভ্রমণের খরচ নির্ভর করে আপনি কোন ধরনের অভিযান করতে চান তার উপর। বেস ক্যাম্প ট্রেক এবং পূর্ণাঙ্গ শীর্ষ আরোহণের মধ্যে খরচের বিশাল পার্থক্য রয়েছে। এভারেস্ট বেস ক্যাম্প ট্রেকের জন্য প্রতি জন প্রায় ১,২০০-২,০০০ মার্কিন ডলার খরচ হয়, যার মধ্যে গাইড, পোর্টার, থাকা-খাওয়া এবং পারমিট অন্তর্ভুক্ত। পূর্ণাঙ্গ এভারেস্ট শীর্ষ আরোহণের খরচ অত্যন্ত ব্যয়বহুল – সাধারণত ৩০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ মার্কিন ডলার বা তারও বেশি। নেপাল সরকারের পারমিট ফি ১১,০০০ ডলার, এবং চীনের দিক থেকে আরোহণের পারমিট প্রায় ৭,০০০ ডলার। আরোহণ এজেন্সিগুলি সাধারণত ৪৫,০০০-৮৫,০০০ ডলারে সম্পূর্ণ প্যাকেজ অফার করে, যার মধ্যে সব সরঞ্জাম, খাদ্য, অক্সিজেন, শেরপা সাপোর্ট এবং বেস ক্যাম্প সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকে। ভিআইপি বা লাক্সারি সেবার জন্য খরচ ১ লক্ষ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। অতিরিক্ত খরচের মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট, কাঠমান্ডুতে হোটেল, ব্যক্তিগত সরঞ্জাম ক্রয়, বীমা এবং জরুরি উদ্ধার পরিকল্পনা। বাজেট সচেতন ভ্রমণকারীদের জন্য স্থানীয় টি-হাউসে থাকা এবং স্থানীয় খাবার খাওয়া খরচ কমাতে পারে।
মাউন্ট এভারেস্ট সম্পর্কে অজানা তথ্য
মাউন্ট এভারেস্ট সম্পর্কে অনেক অজানা এবং চমকপ্রদ তথ্য রয়েছে যা অনেকেই জানেন না।
অজানা বিস্ময়কর তথ্য:
- মাকড়সা বাস করে: বিজ্ঞানীরা ৬,৭০০ মিটার উচ্চতায় জাম্পিং স্পাইডার খুঁজে পেয়েছেন, যা পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্থায়ী বাসিন্দা
- হেলিকপ্টার অবতরণ: ২০০৫ সালে ডিডিয়ের ডেলসালে প্রথমবারের মতো শীর্ষে হেলিকপ্টার অবতরণ করান
- ওয়াইফাই সুবিধা: এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে এখন ওয়াইফাই সুবিধা উপলব্ধ, যদিও খুবই ধীর গতির
- ভূমিকম্পের প্রভাব: ২০১৫ সালের নেপাল ভূমিকম্পে এভারেস্ট প্রায় ১ ইঞ্চি সরে গিয়েছিল
- বায়ুর গতি: শীর্ষে বাতাসের গতি ঘণ্টায় ২০০ মাইল পর্যন্ত হতে পারে, যা ক্যাটাগরি ৫ হারিকেনের সমান
- জীবাশ্ম: এভারেস্টের পাথরে সামুদ্রিক জীবাশ্ম পাওয়া গেছে, প্রমাণ করে যে এটি একসময় সমুদ্রতলে ছিল
মাউন্ট এভারেস্টের শীর্ষে প্রতিদিন শুধুমাত্র কয়েক মিনিটের জন্য একটি “উইন্ডো” থাকে যখন আরোহণ নিরাপদ। এভারেস্টে প্রথম সফল শীতকালীন আরোহণ ১৯৮০ সালে হয়েছিল, যা গ্রীষ্মকালীন আরোহণের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। কিছু আরোহণকারী বিনা অক্সিজেনে শীর্ষে পৌঁছেছেন, যা অবিশ্বাস্য মানবিক সহনশীলতার প্রমাণ। এভারেস্টের শীর্ষে থাকা বরফ বছরে প্রায় ৪ মিলিমিটার পুরু হয়। পর্বতের ওপরে জেট স্ট্রিম প্রবাহিত হয়, যা সাধারণত বিমানের উড়ার উচ্চতায় থাকে।
উপসংহার
মাউন্ট এভারেস্ট শুধুমাত্র বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত নয়, এটি মানব সাহস, ইচ্ছাশক্তি এবং প্রকৃতির বিশালতার প্রতীক। ১৯৫৩ সালে প্রথম সফল আরোহণ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত, হাজারো মানুষ এই পর্বত জয়ের স্বপ্ন দেখেছেন এবং অনেকে সফল হয়েছেন। তবে এভারেস্টের সৌন্দর্য এবং চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি এর ভয়াবহতা এবং বিপদও অস্বীকার করা যায় না। প্রতি বছর অনেক আরোহণকারী তাদের জীবন হারান, আবার অনেকে জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। বাংলাদেশি পর্বতারোহীরাও এই বিশ্ব শৃঙ্গে তাদের পদচিহ্ন রেখে দেশের গর্ব বৃদ্ধি করেছেন। মাউন্ট এভারেস্ট শুধু একটি পর্বত নয়, এটি মানুষের অসীম সম্ভাবনা এবং প্রকৃতির শক্তির মধ্যে এক অনন্য সংযোগ। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দায়িত্বশীল পর্যটনের মাধ্যমে আমরা এই প্রাকৃতিক বিস্ময়কে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করতে পারি। মাউন্ট এভারেস্ট আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মানুষ যখন দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যায়, তখন কোনো শিখরই অজেয় নয়।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)
মাউন্ট এভারেস্টের বর্তমান উচ্চতা কত?
এর আনুষ্ঠানিক উচ্চতা ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার (২৯,০৩১.৬৯ ফুট), যা ২০২০ সালে নেপাল এবং চীন যৌথভাবে ঘোষণা করেছে।
মাউন্ট এভারেস্টে প্রথম কে আরোহণ করেন?
১৯৫৩ সালের ২৯ মে স্যার এডমন্ড হিলারি (নিউজিল্যান্ড) এবং তেনজিং নোরগে শেরপা (নেপাল) প্রথম সফলভাবে এর শীর্ষে পৌঁছান।
মাউন্ট এভারেস্ট আরোহণে কত টাকা খরচ হয়?
পূর্ণাঙ্গ এভারেস্ট আরোহণের খরচ সাধারণত ৩০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে, যার মধ্যে পারমিট, সরঞ্জাম, গাইড এবং অন্যান্য সুবিধা অন্তর্ভুক্ত।
মাউন্ট এভারেস্ট কোন দেশে অবস্থিত?
জাপানি পর্বতারোহী জুনকো তাবেই ১৯৭৫ সালের ১৬ মে প্রথম মহিলা হিসেবে মাউন্ট এভারেস্ট শীর্ষে আরোহণ করেন। নেপাল এবং তিব্বত (চীন) এর সীমান্তে অবস্থিত এবং শীর্ষবিন্দু উভয় দেশের ভূখণ্ডে পড়ে।
এভারেস্ট বেস ক্যাম্প ট্রেক করতে কত দিন লাগে?
এভারেস্ট বেস ক্যাম্প ট্রেক সাধারণত ১২-১৪ দিন সময় নেয়, যার মধ্যে উঠা-নামা এবং অভিযোজনের দিন অন্তর্ভুক্ত।
মাউন্ট এভারেস্টে কত জন মারা গেছেন?
১৯২২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০+ জন মানুষ এতে আরোহণের চেষ্টা করতে গিয়ে মারা গেছেন।
এভারেস্ট আরোহণের সবচেয়ে বিপজ্জনক অংশ কোনটি?
খুম্বু আইসফল এবং “ডেথ জোন” (৮,০০০ মিটারের উপরে) সবচেয়ে বিপজ্জনক অংশ হিসেবে বিবেচিত, যেখানে বরফধস, ক্রেভাস এবং অক্সিজেন স্বল্পতা প্রাণঘাতী হতে পারে।
প্রথম বাংলাদেশি কে এভারেস্ট জয় করেন?
মুসা ইব্রাহিম ২০১০ সালের ২৩ মে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে মাউন্ট এভারেস্ট শীর্ষে আরোহণ করেন।
মাউন্ট এভারেস্টে আরোহণের সেরা সময় কখন?
এপ্রিল-মে এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস আরোহণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়, যখন আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে।
এভারেস্ট শীর্ষে তাপমাত্রা কত থাকে?
শীর্ষে গড় তাপমাত্রা শীতকালে -৩৬°সে থেকে -৬০°সে এবং গ্রীষ্মকালে -১৯°সে থেকে -২৫°সে পর্যন্ত থাকে।
এভারেস্ট আরোহণের জন্য কী ধরনের শারীরিক প্রস্তুতি প্রয়োজন?
অত্যন্ত ভালো কার্ডিওভাসকুলার সহনশীলতা, শক্তি প্রশিক্ষণ, পূর্ববর্তী উচ্চ উচ্চতায় আরোহণ অভিজ্ঞতা এবং কমপক্ষে ৬-১২ মাসের নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।
মাউন্ট এভারেস্টে কি ওয়াইফাই আছে?
হ্যাঁ, এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে সীমিত ওয়াইফাই সুবিধা রয়েছে, তবে এটি ধীর গতির এবং ব্যয়বহুল।
এভারেস্টের “ডেথ জোন” কী?
৮,০০০ মিটারের উপরের অঞ্চলকে “ডেথ জোন” বলা হয়, যেখানে অক্সিজেনের মাত্রা এত কম যে মানব দেহ দীর্ঘ সময় টিকতে পারে না।
কোন বয়সে এভারেস্ট আরোহণ করা যায়?
নেপাল সরকার ১৬ বছরের কম এবং ৭৫ বছরের বেশি বয়সীদের আরোহণের অনুমতি দেয় না, তবে এই নিয়মে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে।
এভারেস্টে কত ধরনের রুট আছে?
প্রধানত দুটি রুট – দক্ষিণ রুট (নেপাল থেকে) এবং উত্তর রুট (তিব্বত থেকে), এবং কয়েকটি কম ব্যবহৃত কঠিন রুট রয়েছে।
প্রথম মহিলা কে এভারেস্ট জয় করেন?
জাপানি পর্বতারোহী জুনকো তাবেই ১৯৭৫ সালের ১৬ মে প্রথম মহিলা হিসেবে এর শীর্ষে আরোহণ করেন।
এভারেস্ট বেস ক্যাম্প কত উচ্চতায়?
নেপালের দিকে দক্ষিণ বেস ক্যাম্প ৫,৩৬৪ মিটার (১৭,৫৯৮ ফুট) এবং তিব্বতের উত্তর বেস ক্যাম্প ৫,১৫০ মিটার (১৬,৯০০ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত।
মাউন্ট এভারেস্টের অন্য নাম কী কী?
নেপালে “সাগরমাথা”, তিব্বতে “চোমোলাংমা” এবং ইংরেজিতে “মাউন্ট এভারেস্ট” (স্যার জর্জ এভারেস্টের নামে নামকরণ)।
এভারেস্ট কি এখনও বৃদ্ধি পাচ্ছে?
হ্যাঁ, টেকটনিক প্লেট চলাচলের কারণে এটি প্রতি বছর প্রায় ৪ মিলিমিটার উঁচু হচ্ছে।
এভারেস্ট আরোহণে সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি কে?
জাপানের ইউচিরো মিউরা ৮০ বছর বয়সে ২০১৩ সালে এভারেস্ট শীর্ষে পৌঁছে সবচেয়ে বয়স্ক আরোহণকারী হওয়ার রেকর্ড গড়েন।
🔥 পোস্টটি শেয়ার করুনঃ 🌍






