প্রতিটি বাড়িতে পানির ট্যাংক একটি জরুরি জিনিস। বিশুদ্ধ পানি সংরক্ষণের জন্য এটি খুবই দরকারি। আজকের যুগে পানির সমস্যা প্রায় সবাই মুখোমুখি হয়। তাই সঠিক ট্যাংক বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এই নিবন্ধে আমরা সব ধরনের তথ্য দেব।
পানির ট্যাংক কেনার আগে অনেক কিছু জানতে হয়। কত লিটারের ট্যাংক দরকার, সেটা ভাবতে হবে। পরিবারের সদস্য সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ছোট পরিবারের জন্য ছোট ট্যাংক যথেষ্ট। বড় পরিবারের জন্য বড় ট্যাংক লাগবে।
বাজারে অনেক রকম ট্যাংক পাওয়া যায়। প্লাস্টিক এবং স্টিল দুই ধরনের জনপ্রিয়। প্রতিটির নিজস্ব সুবিধা আছে। দাম এবং মান দুটোই দেখতে হবে। ভালো ব্র্যান্ড বেছে নেওয়া জরুরি।
পানির ট্যাংক এর দাম
বাংলাদেশে পানির ট্যাংক এর দাম নির্ভর করে বিভিন্ন বিষয়ের উপর। ট্যাংকের সাইজ প্রথম বিবেচ্য বিষয়। ছোট ট্যাংক সস্তা, বড় ট্যাংক দামি। ব্র্যান্ডও দাম নির্ধারণ করে। নামকরা কোম্পানির পণ্য একটু বেশি দামে পাওয়া যায়। তবে মান নিশ্চিত থাকে। বাজারে অনেক দোকান আছে যেখানে তুলনা করতে পারবেন।
প্লাস্টিক ট্যাংক সাধারণত সস্তা হয়। এগুলো হালকা এবং বহন করা সহজ। স্টিল ট্যাংক একটু বেশি দামে পাওয়া যায়। তবে এগুলো দীর্ঘস্থায়ী। বাজেটের মধ্যে ভালো ট্যাংক কেনা সম্ভব। অনলাইন শপেও দেখতে পারেন। অনেক সময় ছাড় পাওয়া যায়।
হোলসেল দামে কিনলে সাশ্রয় হয়। একসাথে বেশি কিনলে দাম কম হয়। ফিটিং খরচও হিসাব করতে হবে। মোট খরচ আগে থেকে জেনে নেওয়া ভালো।
আর.এফ.এল পানির ট্যাংকের দাম

আর.এফ.এল বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড। প্লাস্টিক পণ্যে এরা অগ্রগামী। পানির ট্যাংকের মান অসাধারণ। দাম একটু বেশি হলেও গুণমান নিশ্চিত। অনেকে আর.এফ.এল পছন্দ করেন।
৫০০ লিটার আর.এফ.এল ট্যাংক ৫,০০০ থেকে ৭,৫০০ টাকা। ১০০০ লিটার ৯,০০০ থেকে ১৩,৫০০ টাকা। ২০০০ লিটার ১৬,০০০ থেকে ২৪,০০০ টাকা। ৩০০০ লিটার ২৭,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকা।
আর.এফ.এল ট্যাংক লেয়ার সিস্টেম ব্যবহার করে। এতে পানি বেশিদিন ভালো থাকে। UV স্ট্যাবিলাইজড প্রযুক্তি আছে। ওয়ারেন্টি এবং গ্যারান্টি পাওয়া যায়। সার্ভিস সেন্টার সব জেলায় আছে।
| ব্র্যান্ড | ৫০০ লিটার | ১০০০ লিটার | ২০০০ লিটার | ৩০০০ লিটার |
| গাজী | ৪,৫০০-৬,৫০০ টাকা | ৮,০০০-১২,৫০০ টাকা | ১৫,০০০-২২,০০০ টাকা | ২৫,০০০-৩৮,০০০ টাকা |
| মদিনা | ৩,৮০০-৬,০০০ টাকা | ৭,৫০০-১১,৫০০ টাকা | ১৪,০০০-২০,০০০ টাকা | ২৩,০০০-৩৫,০০০ টাকা |
| আর.এফ.এল | ৫,০০০-৭,৫০০ টাকা | ৯,০০০-১৩,৫০০ টাকা | ১৬,০০০-২৪,০০০ টাকা | ২৭,০০০-৪০,০০০ টাকা |
৫০০ লিটার পানির ট্যাংকের দাম
৫০০ লিটার পানির ট্যাংক ছোট পরিবারের জন্য উপযুক্ত। এই সাইজের ট্যাংক সহজে ছাদে বসানো যায়। জায়গা কম লাগে এবং রক্ষণাবেক্ষণ সহজ। দাম সাধারণত সাশ্রয়ী হয়। বাজারে অনেক ব্র্যান্ড পাওয়া যায়।
প্লাস্টিকের ৫০০ লিটার ট্যাংক ৩,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকায় পাওয়া যায়। ব্র্যান্ড অনুযায়ী দাম পরিবর্তন হয়। গাজী, মদিনা, আর.এফ.এল এর ট্যাংক জনপ্রিয়। স্টিল ট্যাংক ৮,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা হতে পারে।
ছোট বাসা বা ফ্ল্যাটের জন্য এটি আদর্শ। দুই থেকে তিন জনের পরিবার এটি ব্যবহার করতে পারে। পানি সরবরাহ কম থাকলেও কাজ চলে। সহজে বহন করা যায় এবং বসানো সুবিধা।
১০০০ লিটার পানির ট্যাংকের দাম
১০০০ লিটার পানির ট্যাংক মাঝারি পরিবারের জন্য ভালো। চার থেকে পাঁচ জনের পরিবারে এটি যথেষ্ট। দামও বেশি বেড়ে যায় না। মান ঠিক থাকলে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়।
প্লাস্টিকের ১০০০ লিটার ট্যাংক ৬,০০০ থেকে ১২,০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। বিভিন্ন কালারে পাওয়া যায় যা বাড়ির সাথে মানায়। স্টিল ট্যাংক ১৫,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকা হতে পারে। এই সাইজ সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়।
বাড়ির ছাদে বা বেসমেন্টে রাখা যায়। পানির চাপ ভালো পাওয়া যায়। দৈনন্দিন সব কাজের জন্য যথেষ্ট পানি থাকে। রান্না, গোসল, কাপড় ধোয়া সব কিছুর জন্য উপযুক্ত।
- দৈনিক ব্যবহারের জন্য আদর্শ
- মাঝারি বাজেটে কেনা যায়
- সহজে যেকোনো জায়গায় বসানো যায়
২০০০ লিটার পানির ট্যাংকের দাম
২০০০ লিটার পানির ট্যাংক বড় পরিবারের জন্য জরুরি। ছয় থেকে আট জনের পরিবারে এই সাইজ প্রয়োজন। বাণিজ্যিক স্থানেও এটি ব্যবহার হয়। স্কুল, অফিস বা দোকানের জন্য উপযুক্ত।
প্লাস্টিকের ২০০০ লিটার ট্যাংকের দাম ১২,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা। ভালো মানের ট্যাংক নিলে দীর্ঘদিন টিকে। স্টিল ট্যাংক ২৫,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকায় পাওয়া যায়। গুণমান যাচাই করে কিনতে হবে।
বড় বিল্ডিংয়ে এটি বেশি ব্যবহৃত হয়। একবার ভরলে কয়েকদিন চলে। পানির ঘাটতি হলে এটি বেশ সহায়ক। শক্তিশালী বেস বা স্ট্যান্ড লাগে।
৩০০০ লিটার পানির ট্যাংকের দাম
৩০০০ লিটার পানির ট্যাংক বিশাল পরিবার বা প্রতিষ্ঠানের জন্য। হাসপাতাল, হোটেল বা বড় বাড়িতে এটি দরকার। পানির চাহিদা বেশি হলে এই সাইজ নিতে হবে। খরচ একটু বেশি হলেও সুবিধা অনেক।
প্লাস্টিকের ৩০০০ লিটার ট্যাংক ২০,০০০ থেকে ৩৫,০০০ টাকা। স্টিল ট্যাংক ৪০,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ইনস্টলেশন খরচ আলাদা। শক্ত জায়গায় বসাতে হয়।
একবার পূর্ণ হলে দীর্ঘদিন পানির চিন্তা নেই। বড় প্রজেক্টে এটি বাধ্যতামূলক। পাম্প দিয়ে পানি তুলতে হয়। রক্ষণাবেক্ষণ নিয়মিত করা জরুরি।
- বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য অপরিহার্য
- দীর্ঘমেয়াদী পানির সমাধান
- মজবুত কাঠামো প্রয়োজন
প্লাস্টিক পানির ট্যাংক দাম
প্লাস্টিক পানির ট্যাংক সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সস্তা। এটি হালকা এবং সহজে বহন করা যায়। মরিচা ধরে না এবং পরিষ্কার করা সহজ। বিভিন্ন রঙের ট্যাংক পাওয়া যায়। কালো রঙের ট্যাংক পানি ঠান্ডা রাখে।
দাম শুরু হয় ৩,০০০ টাকা থেকে। বড় সাইজ ৩৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ব্র্যান্ড ভেদে দাম আলাদা হয়। ভার্জিন প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি ট্যাংক বেশি দামে বিক্রি হয়। এগুলো নিরাপদ এবং দীর্ঘস্থায়ী।
ফুড গ্রেড প্লাস্টিক ব্যবহৃত হয় যা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। সূর্যের আলো সহ্য করতে পারে। UV প্রতিরোধী ট্যাংক বেশিদিন টিকে। বাজারে অনেক চাইনিজ পণ্য আছে যা এড়িয়ে চলা উচিত।
স্টিল পানির ট্যাংক দাম
স্টিল পানির ট্যাংক টেকসই এবং শক্ত। স্টেইনলেস স্টিল দিয়ে তৈরি হয় যা মরিচা ধরে না। দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায় কোনো সমস্যা ছাড়াই। দাম প্লাস্টিকের চেয়ে বেশি হয়।
দাম ৮,০০০ টাকা থেকে শুরু হয় ছোট সাইজের জন্য। বড় সাইজ ৬০,০০০ টাকা বা তার বেশিও হতে পারে। গুণমান অনুযায়ী দাম নির্ধারিত হয়। ভালো স্টিল দিয়ে তৈরি হলে বেশি দাম হয়। তবে সেটা দীর্ঘস্থায়ী বিনিয়োগ।
পানির মান ভালো থাকে স্টিল ট্যাংকে। ব্যাকটেরিয়া জন্মায় কম। পরিষ্কার করা সহজ এবং গরমে পানি গরম হয় না বেশি। বাণিজ্যিক কাজে স্টিল ট্যাংক পছন্দনীয়।
| ট্যাংকের ধরন | সুবিধা | অসুবিধা | মূল্য পরিসীমা |
| প্লাস্টিক | হালকা, সস্তা, মরিচা ধরে না | কম টেকসই, রোদে ক্ষতি হতে পারে | ৩,০০০-৩৫,০০০ টাকা |
| স্টিল | টেকসই, দীর্ঘস্থায়ী, পানির মান ভালো | ভারী, দামি, ইনস্টলেশন জটিল | ৮,০০০-৬০,০০০ টাকা |
মদিনা পানির ট্যাংকের দাম
মদিনা আরেকটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ড যা দীর্ঘদিন বাজারে আছে। এই কোম্পানির পণ্য মানসম্পন্ন এবং সাশ্রয়ী। অনেক মানুষ মদিনা ট্যাংক ব্যবহার করেন। দাম তুলনামূলক কম হয়।
৫০০ লিটার মদিনা ট্যাংক ৩,৮০০ থেকে ৬,০০০ টাকা। ১০০০ লিটার ৭,৫০০ থেকে ১১,৫০০ টাকা। ২০০০ লিটার ১৪,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা। ৩০০০ লিটার ২৩,০০০ থেকে ৩৫,০০০ টাকা পর্যন্ত।
মদিনা ট্যাংক ফুড গ্রেড প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি। পানি সংরক্ষণে নিরাপদ। বিভিন্ন রঙের ট্যাংক পাওয়া যায়। শোরুম সারাদেশে ছড়িয়ে আছে। অনলাইনেও অর্ডার করা যায়।
সেরা পানির ট্যাংক কোনটি
সেরা পানির ট্যাংক নির্বাচন নির্ভর করে আপনার চাহিদার উপর। প্রতিটি ব্র্যান্ডের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে। বাজেট, পরিবারের সদস্য এবং জায়গা বিবেচনা করতে হবে। গুণমান সবসময় প্রথম অগ্রাধিকার।
আর.এফ.এল ট্যাংক প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে। লেয়ার সিস্টেম পানি ঠান্ডা রাখে। গাজী ট্যাংক দামে সাশ্রয়ী এবং টেকসই। মদিনা ট্যাংক সবচেয়ে সস্তা কিন্তু মান ভালো। স্টিল ট্যাংক চাইলে লোকাল ব্র্যান্ড দেখতে পারেন।
পরামর্শ হলো, নামকরা ব্র্যান্ড বেছে নিন। ওয়ারেন্টি আছে কিনা চেক করুন। পণ্যের পুরুত্ব পরীক্ষা করুন। পাতলা প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি ট্যাংক এড়িয়ে চলুন। রিভিউ পড়ুন অন্য ক্রেতাদের।
- পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী নির্বাচন করুন
- নামকরা ব্র্যান্ড বেছে নিন
- ওয়ারেন্টি এবং মান যাচাই করুন
পানির ট্যাংক কিনার নিয়ম
পানির ট্যাংক কিনার আগে কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত। প্রথমে আপনার পরিবারের দৈনিক পানি ব্যবহার হিসাব করুন। প্রতি জন প্রায় ১০০-১৫০ লিটার পানি ব্যবহার করে। এর ভিত্তিতে ট্যাংকের সাইজ ঠিক করুন।
ছাদের জায়গা দেখে ট্যাংক বেছে নিন। বড় ট্যাংক রাখার জন্য শক্ত বেস লাগবে। ট্যাংকের উচ্চতা বিবেচনা করুন। খুব উঁচু হলে পানির চাপ বেশি হবে। নিচু হলে চাপ কম পাবেন।
দোকানে গিয়ে ট্যাংকের পুরুত্ব চেক করুন। হাত দিয়ে চাপ দিয়ে দেখুন নমনীয় কিনা। রঙ দেখুন, কালো বা গাঢ় রঙ ভালো। ঢাকনা ভালো মত লাগে কিনা পরীক্ষা করুন। দামাদামি করতে দ্বিধা করবেন না।
পানির ট্যাংক বসানোর নিয়ম
পানির ট্যাংক সঠিকভাবে বসানো অত্যন্ত জরুরি। ভুল পদ্ধতিতে বসালে দুর্ঘটনা হতে পারে। প্রথমে সমতল জায়গা নির্বাচন করুন। ছাদে বসালে স্ট্রাকচার শক্ত হতে হবে। ভারী ট্যাংকের জন্য পিলার দরকার।
স্ট্যান্ড বা বেস তৈরি করুন সিমেন্ট দিয়ে। লোহার স্ট্যান্ডও ব্যবহার করতে পারেন। ট্যাংক বসানোর আগে জায়গা পরিষ্কার করুন। ট্যাংকের নিচে প্যাড বা ম্যাট দিন। এতে ট্র্যাংক নড়বে না।
পাইপলাইন সংযোগ দিতে হবে সঠিকভাবে। ইনলেট এবং আউটলেট পাইপ আলাদা হবে। ওভারফ্লো পাইপ অবশ্যই দিতে হবে। পাম্প সংযোগ ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে করান। নিজে করতে গেলে ভুল হতে পারে।
পানির ট্যাংক পরিষ্কার করার নিয়ম
পানির ট্যাংক নিয়মিত পরিষ্কার করা স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অন্তত তিন মাস পরপর পরিষ্কার করা উচিত। ময়লা জমলে পানি দূষিত হয়। রোগ ছড়াতে পারে পরিবারে।
প্রথমে ট্যাংকের সব পানি বের করে ফেলুন। ভিতরে ঢুকে ব্রাশ দিয়ে ঘষুন। সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করতে পারেন। কোণায় ভালো করে পরিষ্কার করুন। তারপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
জীবাণুনাশক ব্যবহার করতে পারেন। ব্লিচিং পাউডার সামান্য মিশিয়ে ধুলে ভালো। তবে খুব বেশি দেবেন না। পরে আবার পরিষ্কার পানি দিয়ে কয়েকবার ধুয়ে নিন। শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে দিন।
- তিন মাস পরপর অবশ্যই পরিষ্কার করুন
- ব্রাশ এবং জীবাণুনাশক ব্যবহার করুন
- পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন
পানির ট্যাংক লিক হলে কি করবেন
পানির ট্যাংক লিক হওয়া একটি সাধারণ সমস্যা। প্লাস্টিক ট্যাংকে ফাটল ধরতে পারে। পুরনো হলে এই সমস্যা বেশি হয়। দ্রুত সমাধান না করলে পানি নষ্ট হয়। ছাদেও ক্ষতি হতে পারে।
ছোট ফাটল হলে প্লাস্টিক ওয়েল্ডিং করা যায়। বাজারে বিশেষ আঠা পাওয়া যায়। এপোক্সি রেজিন ব্যবহার করে লিক বন্ধ করা যায়। ফাটলের জায়গা পরিষ্কার করে আঠা লাগান। শুকাতে কয়েক ঘণ্টা সময় দিন।
বড় ফাটল হলে পেশাদার ডাকা উচিত। তারা ভালোভাবে মেরামত করতে পারবে। কখনো কখনো প্যাচ ব্যবহার করা হয়। খুব বেশি লিক হলে নতুন ট্যাংক কিনতে হতে পারে। পুরনো ট্যাংক মেরামত করে বেশিদিন চলে না।
পানির ট্যাংক ফিটিং খরচ
পানির ট্যাংক ফিটিং করতে খরচ হয় অবস্থানের উপর নির্ভর করে। ছাদে বসালে খরচ কম। বেসমেন্টে বসালে বেশি খরচ। পাইপলাইন লম্বা হলেও খরচ বাড়ে। শ্রমিকের পারিশ্রমিক এলাকাভেদে আলাদা।
ছোট ট্যাংক ফিটিং খরচ ১,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা। বড় ট্যাংক ৩,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকা লাগতে পারে। পাম্প সংযোগ দিলে আরো ২,০০০-৪,০০০ টাকা খরচ। ইলেকট্রিক সংযোগের জন্য আলাদা পে করতে হয়।
পাইপ, ভাল্ভ, এবং ফিটিংস এর দাম আলাদা। ভালো মানের পাইপ কিনুন যাতে পরে সমস্যা না হয়। স্ট্যান্ড তৈরি খরচও যোগ হবে। মোট খরচ আগে থেকে জেনে নিন। দরকষাকষি করতে ভুলবেন না।
ওভারহেড পানির ট্যাংক দাম
ওভারহেড পানির ট্যাংক মানে উঁচুতে বসানো ট্যাংক। এগুলো সাধারণত ছাদে রাখা হয়। মাধ্যাকর্ষণ শক্তিতে পানি নিচে আসে। কোনো পাম্প লাগে না নিচে পানি পেতে। সবচেয়ে জনপ্রিয় সিস্টেম।
দাম নির্ভর করে সাইজ এবং ব্র্যান্ডের উপর। ৫০০ লিটার ৩,৫০০ থেকে ৭,০০০ টাকা। ১০০০ লিটার ৭,০০০ থেকে ১৩,০০০ টাকা। ২০০০ লিটার ১৩,০০০ থেকে ২৩,০০০ টাকা। ৩০০০ লিটার ২২,০০০ থেকে ৩৮,০০০ টাকা।
ওভারহেড ট্যাংক বসানোর জন্য শক্ত স্ট্যান্ড দরকার। ভারী ট্যাংক হলে সিমেন্টের পিলার করতে হবে। নিরাপত্তার জন্য এটি জরুরি। পতন হলে বিপদ হতে পারে। ভালো করে বসাতে হবে।
পানির ট্যাংক বেস/স্ট্যান্ড দাম
পানির ট্যাংক বেস বা স্ট্যান্ড খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি ট্যাংককে সাপোর্ট দেয়। মজবুত বেস না থাকলে ট্যাংক পড়ে যেতে পারে। বিভিন্ন ধরনের বেস পাওয়া যায়। স্টিল এবং সিমেন্ট দুই ধরনের জনপ্রিয়।
স্টিল স্ট্যান্ড ছোট ট্যাংকের জন্য ৩,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকা। বড় ট্যাংকের জন্য ১০,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা। সিমেন্ট বেস তৈরিতে ৫,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা খরচ। ইট, সিমেন্ট, বালি সব মিলিয়ে।
স্ট্যান্ডের উচ্চতা ট্যাংকের সাইজ অনুযায়ী হবে। অনেক উঁচু করলে বিপদ বেশি। ছাদের ওজন সহ্য ক্ষমতা দেখতে হবে। ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শ নিন। নিজে করতে গেলে ভুল হতে পারে।
| স্ট্যান্ডের ধরন | উপাদান | ছোট ট্যাংক খরচ | বড় ট্যাংক খরচ |
| স্টিল স্ট্যান্ড | লোহা/স্টিল | ৩,০০০-৮,০০০ টাকা | ১০,০০০-২০,০০০ টাকা |
| সিমেন্ট বেস | ইট, সিমেন্ট, বালি | ৫,০০০-১০,০০০ টাকা | ১০,০০০-১৫,০০০ টাকা |
পানির ট্যাংকের হোলসেল দাম
হোলসেল দামে পানির ট্যাংক কিনলে অনেক সাশ্রয় হয়। বড় প্রজেক্ট বা একসাথে অনেক ট্যাংক কিনলে ছাড় পাওয়া যায়। ডিলারদের কাছে সরাসরি যোগাযোগ করতে হবে। রিটেইল দামের চেয়ে ১৫-২৫% কম দাম পাবেন।
৫০০ লিটার ট্যাংক হোলসেলে ২,৮০০ থেকে ৫,০০০ টাকা। ১০০০ লিটার ৫,৫০০ থেকে ৯,৫০০ টাকা। ২০০০ লিটার ১০,৫০০ থেকে ১৮,০০০ টাকা। ৩০০০ লিটার ১৮,০০০ থেকে ৩২,০০০ টাকা। দশটা বা তার বেশি কিনলে এই দাম পাবেন।
কনস্ট্রাকশন কোম্পানি সাধারণত হোলসেল দামে কেনে। বিল্ডিং প্রজেক্টে একসাথে অনেক ট্যাংক লাগে। তখন ডিলারের সাথে দরকষাকষি করতে পারেন। ডেলিভারি চার্জও কম হয় বা ফ্রি হয়।
- একসাথে বেশি কিনলে ছাড় পাবেন
- ডিলারের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন
- ১৫-২৫% সাশ্রয় সম্ভব
১০,০০০ লিটার পানির ট্যাংকের দাম
১০,০০০ লিটার পানির ট্যাংক বিশাল আকারের। এটি বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য। বড় হাসপাতাল, ফ্যাক্টরি বা হোটেলে এটি ব্যবহার হয়। আবাসিক এলাকায় এত বড় ট্যাংক লাগে না। খরচও অনেক বেশি।
প্লাস্টিকের ১০,০০০ লিটার ট্যাংক ৮০,০০০ থেকে ১,২৫,০০০ টাকা। স্টিল ট্যাংক ১,৫০,০০০ থেকে ২,৫০,০০০ টাকা হতে পারে। ইনস্টলেশন খরচ আরো ৩০,০০০-৫০,০০০ টাকা। ভিত্তি তৈরি করতে হয় খুব শক্ত।
এত বড় ট্যাংক বসানোর জন্য ইঞ্জিনিয়ার লাগবে। স্ট্রাকচার পরীক্ষা করতে হবে। ক্রেন দিয়ে বসাতে হয় সাধারণত। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। পেশাদার সার্ভিস নিতে হবে।
বাড়ির জন্য সেরা পানির ট্যাংক
বাড়ির জন্য সেরা পানির ট্যাংক নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের উপর। পরিবারের সদস্য সংখ্যা প্রথম বিবেচ্য। দুই-তিন জনের জন্য ৫০০ লিটার যথেষ্ট। চার-পাঁচ জনের জন্য ১০০০ লিটার। ছয় বা তার বেশি হলে ২০০০ লিটার নিন।
প্লাস্টিক ট্যাংক বাড়ির জন্য উত্তম। এটি হালকা এবং রক্ষণাবেক্ষণ সহজ। কালো রঙের ট্যাংক বেছে নিন। এতে পানি ঠান্ডা থাকে এবং শেওলা জন্মায় না। UV প্রতিরোধী ট্যাংক কিনুন।
ব্র্যান্ড হিসেবে আর.এফ.এল, গাজী, বা মদিনা নিরাপদ। তিন লেয়ার ট্যাংক বেশি টেকসই। ওয়ারেন্টি আছে কিনা দেখুন। স্থানীয় দোকান থেকে কিনলে সার্ভিস পাওয়া সহজ। দাম তুলনা করে কিনুন।
পানির ট্যাংক পাইপলাইন খরচ
পানির ট্যাংক পাইপলাইন খরচ নির্ভর করে দূরত্ব এবং পাইপের মানের উপর। ভালো মানের পাইপ ব্যবহার করা উচিত। সস্তা পাইপ দ্রুত নষ্ট হয়। লিক করে এবং পানি নষ্ট হয়।
প্রতি ফুট GI পাইপ ১২০ থেকে ২০০ টাকা। PVC পাইপ ৪০ থেকে ৮০ টাকা প্রতি ফুট। PPR পাইপ ৮০ থেকে ১৫০ টাকা। ৫০ ফুট পাইপলাইন করতে ৪,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা খরচ। এলবো, টি, ভাল্ভ আলাদা খরচ।
শ্রমিক খরচ ২,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা। জটিল কাজ হলে বেশি খরচ হবে। দেওয়াল কেটে পাইপ লাগালে খরচ বাড়ে। পাম্প সংযোগ দিলে আরো ৩,০০০-৬,০০০ টাকা। সব মিলিয়ে বাজেট করুন।
- ভালো মানের পাইপ ব্যবহার করুন
- দূরত্ব অনুযায়ী বাজেট করুন
- শ্রমিক খরচ হিসাব করে রাখুন
পানির ট্যাংকের সেরা ব্র্যান্ড
বাংলাদেশে অনেক পানির ট্যাংক ব্র্যান্ড আছে। তবে কয়েকটি ব্র্যান্ড বিশেষভাবে জনপ্রিয়। আর.এফ.এল শীর্ষস্থানীয় যার মান অসাধারণ। গাজী ব্র্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে বাজারে আছে। মদিনা সাশ্রয়ী এবং ভালো।
আর.এফ.এল ট্যাংক প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত। থ্রি লেয়ার টেকনোলজি ব্যবহার করে। পানি দীর্ঘদিন ঠান্ডা এবং ফ্রেশ থাকে। ওয়ারেন্টি পাঁচ থেকে দশ বছর পর্যন্ত। সারাদেশে সার্ভিস সেন্টার আছে।
গাজী ট্যাংক মধ্যম দামে সেরা। মান এবং দামের ভারসাম্য ভালো। UV স্ট্যাবিলাইজড প্রযুক্তি আছে। রোদে নষ্ট হয় না। মদিনা ট্যাংক বাজেট ফ্রেন্ডলি। ছোট বাজেটে ভালো মানের ট্যাংক চাইলে এটি নিন।
পানির ট্যাংক কত লিটারের হলে ভালো
পানির ট্যাংক কত লিটারের হবে তা নির্ভর করে ব্যবহারকারীর সংখ্যার উপর। একজন মানুষ দৈনিক ১০০ থেকে ১৫০ লিটার পানি ব্যবহার করে। এতে রান্না, গোসল, কাপড় ধোয়া সব কিছু অন্তর্ভুক্ত। এই হিসাব অনুযায়ী ট্যাংক বেছে নিন।
দুই জনের পরিবার ৫০০ লিটার নিতে পারে। তিন-চার জনের জন্য ১০০০ লিটার আদর্শ। পাঁচ-ছয় জনের জন্য ১৫০০ বা ২০০০ লিটার। সাত বা তার বেশি হলে ৩০০০ লিটার বা দুইটি ১৫০০ লিটার ট্যাংক।
অতিরিক্ত ক্ষমতার ট্যাংক নিলে জরুরি অবস্থায় কাজে দেয়। পানি সরবরাহ বন্ধ থাকলেও চলে যায়। তবে খুব বড় ট্যাংক অপচয়ও। পানি বেশিদিন জমে থাকলে দূষিত হতে পারে। মিডল সাইজ বেছে নিন।
| পরিবারের সদস্য | প্রস্তাবিত ট্যাংক সাইজ | দৈনিক ব্যবহার |
| ২-৩ জন | ৫০০ লিটার | ২০০-৪৫০ লিটার |
| ৪-৫ জন | ১০০০ লিটার | ৪০০-৭৫০ লিটার |
| ৬-৭ জন | ২০০০ লিটার | ৬০০-১০৫০ লিটার |
| ৮+ জন | ৩০০০ লিটার | ৮০০+ লিটার |
পানির ট্যাংকের ওজন কত
পানির ট্যাংকের ওজন নির্ভর করে আকার এবং উপাদানের উপর। প্লাস্টিক ট্যাংক খালি অবস্থায় হালকা। স্টিল ট্যাংক ভারী হয়। পানি ভর্তি হলে ওজন অনেক বেড়ে যায়। এই ওজন সহ্য করার মতো ভিত্তি দরকার।
৫০০ লিটার প্লাস্টিক ট্যাংক খালি ১৫-২৫ কেজি। ভর্তি অবস্থায় ৫১৫-৫২৫ কেজি। ১০০০ লিটার খালি ৩০-৪৫ কেজি। ভর্তি ১০৩০-১০৪৫ কেজি। ২০০০ লিটার খালি ৬০-৮৫ কেজি। ভর্তি ২০৬০-২০৮৫ কেজি।
স্টিল ট্যাংকের ওজন আরো বেশি। ১০০০ লিটার স্টিল ট্যাংক খালি ৮০-১২০ কেজি। ভর্তি অবস্থায় ১০৮০-১১২০ কেজি। ছাদে বসানোর আগে স্ট্রাকচার চেক করুন। দুর্বল ছাদে ভারী ট্যাংক বিপজ্জনক।
পানির ট্যাংকের জীবনকাল কত
পানির ট্যাংকের জীবনকাল নির্ভর করে মান এবং রক্ষণাবেক্ষণের উপর। ভালো মানের প্লাস্টিক ট্যাংক ৮ থেকে ১৫ বছর টিকে। খারাপ মানের ৩-৫ বছরে নষ্ট হয়ে যায়। স্টিল ট্যাংক ১৫ থেকে ২৫ বছর চলতে পারে।
নিয়মিত পরিষ্কার করলে জীবনকাল বাড়ে। সূর্যের সরাসরি আলো এড়িয়ে চলুন। UV প্রতিরোধী ট্যাংক বেশিদিন টিকে। রাসায়নিক দিয়ে পরিষ্কার করবেন না। এতে প্লাস্টিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ট্যাংকের ভিতরে কোনো ধারালো জিনিস রাখবেন না। ফাটল ধরতে পারে। লিক দেখলে দ্রুত মেরামত করুন। ওভারলোড করবেন না। ক্যাপাসিটির বেশি পানি রাখবেন না। যত্ন নিলে অনেক বছর চলবে।
- ভালো মানের ট্যাংক ৮-১৫ বছর টিকে
- নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করুন
- সূর্যের আলো থেকে রক্ষা করুন
পানির ট্যাংকের ঢাকনার দাম
পানির ট্যাংকের ঢাকনা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি ট্যাংককে ময়লা এবং পোকামাকড় থেকে রক্ষা করে। ঢাকনা ছাড়া পানি দূষিত হয়। অনেক সময় ঢাকনা হারিয়ে যায় বা ভেঙে যায়। তখন আলাদা কিনতে হয়।
প্লাস্টিক ঢাকনা ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা। আকার অনুযায়ী দাম পরিবর্তন হয়। ছোট ট্যাংকের ঢাকনা সস্তা। বড় ট্যাংকের ঢাকনা দামি। ব্র্যান্ডের অরিজিনাল ঢাকনা একটু বেশি দামে পাওয়া যায়।
ঢাকনায় ভেন্ট হোল থাকা উচিত। এতে বাতাস চলাচল করতে পারে। টাইট ঢাকনা হলে ট্যাংক ড্যামেজ হতে পারে। লক সিস্টেম আছে এমন ঢাকনা নিরাপদ। কেউ খুলে ফেলতে পারবে না। ভালো মানের ঢাকনা কিনুন।
পানির ট্যাংক প্লাস্টিক নাকি স্টিল ভালো
পানির ট্যাংক প্লাস্টিক নাকি স্টিল ভালো এটি একটি সাধারণ প্রশ্ন। দুটোরই নিজস্ব সুবিধা এবং অসুবিধা আছে। আপনার চাহিদা এবং বাজেট অনুযায়ী বেছে নিতে হবে। প্রতিটির বৈশিষ্ট্য জেনে সিদ্ধান্ত নিন।
প্লাস্টিক ট্যাংক হালকা এবং সস্তা। বহন এবং বসানো সহজ। মরিচা ধরে না এবং রক্ষণাবেক্ষণ কম। তবে সূর্যের আলোতে নষ্ট হতে পারে। ৮-১৫ বছর টিকে। ফুড গ্রেড প্লাস্টিক নিরাপদ।
স্টিল ট্যাংক খুবই টেকসই। ১৫-২৫ বছর চলে। পানির মান ভালো থাকে। তবে ভারী এবং দামি। ইনস্টলেশন খরচ বেশি। স্টেইনলেস স্টিল মরিচা ধরে না। সাধারণ স্টিল রঙ করতে হয়। বাণিজ্যিক ব্যবহারে স্টিল ভালো।
গাজী পানির ট্যাংকের দাম

গাজী বাংলাদেশের একটি বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড। অনেক বছর ধরে পানির ট্যাংক তৈরি করছে। মান নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। বাজারে গাজী ট্যাংকের চাহিদা অনেক। ক্রেতারা এই ব্র্যান্ড পছন্দ করেন।
৫০০ লিটার গাজী ট্যাংক ৪,৫০০ থেকে ৬,৫০০ টাকায় পাওয়া যায়। ১০০০ লিটার ৮,০০০ থেকে ১২,৫০০ টাকা। ২০০০ লিটার ১৫,০০০ থেকে ২২,০০০ টাকা। ৩০০০ লিটার ২৫,০০০ থেকে ৩৮,০০০ টাকা হতে পারে।
গাজী ট্যাংক UV প্রতিরোধী। রোদে নষ্ট হয় না সহজে। ওয়ারেন্টি পাওয়া যায় কিছু মডেলে। সারাদেশে ডিলার আছে যেখান থেকে কিনতে পারবেন। পার্টস সহজে পাওয়া যায়।
- বিশ্বস্ত বাংলাদেশি ব্র্যান্ড
- দীর্ঘস্থায়ী এবং টেকসই
- সারাদেশে সহজলভ্য
স্কুল/হাসপাতালের জন্য পানির ট্যাংক দাম
স্কুল এবং হাসপাতালের জন্য বড় পানির ট্যাংক প্রয়োজন। অনেক মানুষ ব্যবহার করে তাই ক্যাপাসিটি বেশি হতে হবে। সাধারণত ৩০০০ লিটার বা তার বেশি লাগে। কখনো কখনো একাধিক ট্যাংক বসাতে হয়।
স্কুলের জন্য ৩০০০-৫০০০ লিটার ট্যাংক যথেষ্ট। দাম ২৫,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকা। ছাত্রছাত্রী সংখ্যা বেশি হলে বড় ট্যাংক লাগবে। হাসপাতালে ৫০০০-১০,০০০ লিটার দরকার। দাম ৬০,০০০ থেকে ১,৫০,০০০ টাকা।
এসব জায়গায় স্টিল ট্যাংক বেশি উপযুক্ত। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হয়। প্লাস্টিক হলে ফুড গ্রেড হতে হবে। নিয়মিত পরিষ্কার করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রফেশনাল সার্ভিস নিতে হয় পরিষ্কারের জন্য।
- বড় ক্যাপাসিটির ট্যাংক প্রয়োজন
- স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি
- নিয়মিত পরিষ্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণ বাধ্যতামূলক
পানির ট্যাংকের মান যাচাই করার পদ্ধতি
পানির ট্যাংক কেনার আগে মান যাচাই অত্যন্ত জরুরি। ভালো মানের ট্যাংক দীর্ঘদিন টিকে এবং পানি নিরাপদ রাখে। খারাপ মানের ট্যাংক দ্রুত নষ্ট হয় এবং স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। কয়েকটি পদ্ধতি অনুসরণ করে মান বুঝতে পারবেন।
প্রথমে ট্যাংকের পুরুত্ব চেক করুন। হাত দিয়ে চাপ দিয়ে দেখুন। পাতলা প্লাস্টিক সহজে বেঁকে যাবে। মোটা প্লাস্টিক শক্ত হয়। ভার্জিন প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি কিনা জিজ্ঞেস করুন। রিসাইকেল প্লাস্টিক স্বাস্থ্যকর নয়।
রঙ দেখুন, উজ্জ্বল এবং সমান হবে। দাগ বা ফোসকা থাকা উচিত নয়। ঢাকনা ভালো মত লাগে কিনা পরীক্ষা করুন। ওয়ারেন্টি কার্ড আছে কিনা দেখুন। আইএসও সার্টিফিকেট চাওয়া যেতে পারে। ব্র্যান্ডের খ্যাতি অনলাইনে চেক করুন।
গন্ধ শুঁকে দেখুন। খারাপ গন্ধ হলে মান ভালো নয়। ট্যাংকের ভিতরে হাত দিয়ে স্পর্শ করুন। মসৃণ হবে, রাফ নয়। আউটলেট এবং ইনলেট পরীক্ষা করুন। ভালো ফিটিং থাকতে হবে। দাম খুব কম হলে সন্দেহ করুন।
উপসংহার
পানির ট্যাংক আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ। সঠিক ট্যাংক নির্বাচন এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই নিবন্ধে আমরা পানির ট্যাংক সম্পর্কে সব ধরনের তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছি। দাম, ব্র্যান্ড, সাইজ এবং রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
ট্যাংক কেনার সময় পরিবারের চাহিদা প্রথমে বিবেচনা করুন। বাজেটের মধ্যে সবচেয়ে ভালো মানের পণ্য বেছে নিন। নামকরা ব্র্যান্ড যেমন আর.এফ.এল, গাজী, বা মদিনা থেকে কিনুন। প্লাস্টিক এবং স্টিল দুই ধরনেরই সুবিধা আছে, আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নিন।
ট্যাংক বসানোর সময় পেশাদার সাহায্য নিন। শক্ত বেস বা স্ট্যান্ড ব্যবহার করুন। পাইপলাইন ভালো মানের হতে হবে। নিয়মিত পরিষ্কার করুন, অন্তত তিন মাস পরপর। লিক দেখলে দ্রুত মেরামত করুন। ভালো রক্ষণাবেক্ষণ করলে ট্যাংক দীর্ঘদিন টিকবে।
মনে রাখবেন, সস্তার লোভে গিয়ে খারাপ মানের পণ্য কিনবেন না। এতে পরে বেশি খরচ হবে। একবার ভালো ট্যাংক কিনলে অনেক বছর ঝামেলামুক্ত থাকবেন। বিশুদ্ধ পানি সংরক্ষণ করে পরিবারকে সুস্থ রাখুন। আশা করি এই গাইড আপনার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।
লেখকের নোট: আশা করি এই সম্পূর্ণ গাইড আপনাকে পানির ট্যাংক কেনা এবং রক্ষণাবেক্ষণে সাহায্য করবে। সঠিক তথ্য দিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। বিশুদ্ধ পানি সংরক্ষণ করে পরিবারকে সুস্থ রাখুন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)
পানির ট্যাংক কত বছর টিকে?
ভালো মানের প্লাস্টিক পানির ট্যাংক ৮ থেকে ১৫ বছর টিকে। স্টিল ট্যাংক ১৫ থেকে ২৫ বছর চলতে পারে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করলে জীবনকাল বাড়ে। UV প্রতিরোধী ট্যাংক বেশিদিন টেকসই হয়।
কোন ব্র্যান্ডের পানির ট্যাংক সবচেয়ে ভালো?
আর.এফ.এল, গাজী এবং মদিনা বাংলাদেশের সেরা ব্র্যান্ড। আর.এফ.এল প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত কিন্তু একটু দামি। গাজী মান এবং দামের ভারসাম্য ভালো। মদিনা সবচেয়ে সাশ্রয়ী কিন্তু মানসম্পন্ন। আপনার বাজেট অনুযায়ী যেকোনো একটি বেছে নিতে পারেন।
পানির ট্যাংক কত লিটারের কিনব?
পরিবারের সদস্য সংখ্যার উপর নির্ভর করে। দুই-তিন জনের জন্য ৫০০ লিটার যথেষ্ট। চার-পাঁচ জনের জন্য ১০০০ লিটার উপযুক্ত। ছয় বা তার বেশি হলে ২০০০ লিটার বা তার বেশি নিন।
প্লাস্টিক নাকি স্টিল ট্যাংক ভালো?
প্রতিটির নিজস্ব সুবিধা আছে। প্লাস্টিক হালকা, সস্তা এবং মরিচা ধরে না। স্টিল টেকসই, দীর্ঘস্থায়ী এবং পানির মান ভালো রাখে। বাড়ির জন্য প্লাস্টিক এবং বাণিজ্যিক স্থানের জন্য স্টিল ভালো।
পানির ট্যাংক কত টাকায় পাওয়া যায়?
৫০০ লিটার ট্যাংক ৩,০০০ থেকে ৭,০০০ টাকা। ১০০০ লিটার ৬,০০০ থেকে ১৩,০০০ টাকা। ২০০০ লিটার ১২,০০০ থেকে ২৪,০০০ টাকা। ৩০০০ লিটার ২০,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকা। ব্র্যান্ড এবং মান অনুযায়ী দাম পরিবর্তন হয়।
পানির ট্যাংক কিভাবে পরিষ্কার করব?
তিন মাস পরপর ট্যাংক পরিষ্কার করুন। প্রথমে সব পানি বের করুন। ব্রাশ দিয়ে ভিতর ভালো করে ঘষুন। সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করতে পারেন। সামান্য ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে জীবাণুমুক্ত করুন। পরে পরিষ্কার পানি দিয়ে কয়েকবার ধুয়ে ফেলুন।
পানির ট্যাংক লিক হলে কি করব?
ছোট ফাটল হলে প্লাস্টিক ওয়েল্ডিং করা যায়। বাজারে বিশেষ আঠা পাওয়া যায়। এপোক্সি রেজিন ব্যবহার করে লিক বন্ধ করতে পারেন। বড় ফাটল হলে পেশাদার ডাকুন। খুব বেশি লিক হলে নতুন ট্যাংক কিনতে হতে পারে।
পানির ট্যাংক বসাতে কত খরচ হয়?
ছোট ট্যাংক ফিটিং খরচ ১,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা। বড় ট্যাংক ৩,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকা লাগতে পারে। পাম্প সংযোগ দিলে আরো ২,০০০-৪,০০০ টাকা খরচ। পাইপলাইন এবং স্ট্যান্ডের খরচ আলাদা। মোট খরচ আগে থেকে জেনে নিন।
কালো নাকি নীল রঙের ট্যাংক ভালো?
কালো রঙের ট্যাংক সবচেয়ে ভালো। এতে পানি ঠান্ডা থাকে এবং শেওলা জন্মায় না। সূর্যের আলো ভিতরে প্রবেশ করতে পারে না। নীল রঙও ভালো কিন্তু কালোর মত কার্যকর নয়। সাদা বা হালকা রঙ এড়িয়ে চলুন।
ওভারহেড ট্যাংক কিভাবে কাজ করে?
ওভারহেড ট্যাংক উঁচুতে বসানো হয়। পাম্প দিয়ে পানি উপরে তোলা হয়। মাধ্যাকর্ষণ শক্তিতে পানি নিচে আসে। কোনো পাম্প লাগে না নিচে পানি পেতে। এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় সিস্টেম। বিদ্যুৎ চলে গেলেও পানি পাওয়া যায়।
পানির ট্যাংকে কি সমস্যা হতে পারে?
লিক হওয়া সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা। ফাটল ধরতে পারে পুরনো হলে। ঢাকনা ভেঙে যেতে পারে। পাইপ আটকে যেতে পারে। শেওলা জন্মাতে পারে ভিতরে। নিয়মিত পরিষ্কার করলে বেশিরভাগ সমস্যা এড়ানো যায়।
হোলসেল দামে কোথায় পাব?
ডিলারদের কাছে হোলসেল দামে পাওয়া যায়। একসাথে দশটা বা তার বেশি কিনলে ছাড় পাবেন। কারখানা থেকেও সরাসরি কিনতে পারেন। অনলাইনে হোলসেল দোকান খুঁজে দেখুন। ১৫-২৫% পর্যন্ত সাশ্রয় সম্ভব।
পানির ট্যাংক ওয়ারেন্টি থাকে?
ভালো ব্র্যান্ডের ট্যাংকে ওয়ারেন্টি থাকে। আর.এফ.এল ৫-১০ বছর ওয়ারেন্টি দেয়। গাজী এবং মদিনা ৩-৫ বছর দিতে পারে। ওয়ারেন্টি কার্ড সংরক্ষণ করুন। সমস্যা হলে সার্ভিস সেন্টারে যোগাযোগ করুন।
পানির ট্যাংকের জন্য কি পারমিট লাগে?
বাড়ির ছাদে ছোট ট্যাংক বসাতে পারমিট লাগে না। তবে খুব বড় ট্যাংক বা বাণিজ্যিক স্থানে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগতে পারে। বিল্ডিং কোড মেনে চলতে হবে। ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শ নিন বড় ট্যাংকের জন্য।
পানির ট্যাংকে কি সরাসরি পাম্প থেকে পানি তুলব?
না, সরাসরি পাম্প থেকে তুলবেন না। এতে পাম্প নষ্ট হতে পারে। প্রথমে আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংকে সংরক্ষণ করুন। তারপর পাম্প দিয়ে ওভারহেড ট্যাংকে তুলুন। এতে পানির চাপ ভালো থাকে এবং সিস্টেম দীর্ঘস্থায়ী হয়।
🔥 পোস্টটি শেয়ার করুনঃ 🌍






