স্যানিটারি আইটেম কেনার আগে যা জানা জরুরি

আধুনিক বাথরুমে ব্রাস রঙের স্যানিটারি ফিটিংস ও শাওয়ার সেটআপ

বাড়ি তৈরি বা সংস্কারের সময় স্যানিটারি আইটেম নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। অধিকাংশ মানুষ দোকানে গিয়ে তাড়াহুড়ো করে জিনিস কিনে ফেলেন। এতে করে পরে অনুশোচনা হয়।

প্রতিটি ঘরেই বাথরুমের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু সঠিক স্যানিটারি আইটেম না বাছাই করলে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয়। প্রথমত, মানের খারাপ পণ্য কিনলে তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত, ভুল মাপের জিনিস স্থাপনার সময় সমস্যা সৃষ্টি করে।

বর্তমান বাজারে হাজারো ব্র্যান্ডের স্যানিটারি আইটেম পাওয়া যায়। তাই নতুন ক্রেতারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যান। সাধারণত, দামের দিকে তাকিয়ে অনেকেই পণ্য বাছাই করেন। কিন্তু এই পদ্ধতি সব সময় সঠিক নয়।

আমাদের আজকের আর্টিকেলে স্যানিটারি আইটেম কেনার আগে যা জানা দরকার সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। এছাড়াও বাজারের বিভিন্ন পণ্যের দাম, গুণগত মান এবং পরিচর্যা সংক্রান্ত পরামর্শও তুলে ধরব।

👉 এক নজরে প্রবন্ধটির মূল বিষয়বস্তু/সূচিপত্রঃ 📖

বাথরুম ফিটিংস নির্বাচনের মূল নীতি

বাথরুম ফিটিংস বলতে আমরা বুঝি বাথরুমে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। স্যানিটারি আইটেম এর মধ্যে রয়েছে ট্যাপ, শাওয়ার, মিক্সার, এবং অন্যান্য হার্ডওয়্যার। প্রতিটি ফিটিং কেনার আগে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।

প্রথমেই বাথরুমের আকার মাপতে হবে। ছোট বাথরুমে বড় ফিটিংস মানানসই নয়। পরিবর্তে, কমপ্যাক্ট এবং স্মার্ট ডিজাইনের জিনিস বেছে নিন। বড় বাথরুমে অবশ্য বিভিন্ন বিকল্প রয়েছে।

দ্বিতীয়ত, পানির চাপ বিবেচনা করা প্রয়োজন। কিছু এলাকায় পানির চাপ কম থাকে। সেক্ষেত্রে বিশেষ ধরনের ট্যাপ ব্যবহার করতে হয়। অন্যদিকে, অতিরিক্ত চাপে কাজ করে এমন ফিটিংস লাগালে পাইপে সমস্যা হতে পারে।

তৃতীয়ত, পানির মান যাচাই করুন। লোনা পানি বা অধিক আয়রনযুক্ত পানির এলাকায় স্পেশাল কোটিংসহ ফিটিংস ব্যবহার করা উচিত। না হলে দ্রুত জং ধরে যাবে। উপরন্তু, কিছু বাথরুম ফিটিংস পানির সাথে বিক্রিয়া করে ক্ষতিকর পদার্থ উৎপাদন করতে পারে।

টয়লেট সামগ্রী বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ

টয়লেট সামগ্রী কিনতে গিয়ে বেশিরভাগ মানুষই শুধু কমোড দেখেন। কিন্তু বাস্তবে টয়লেট সামগ্রী বলতে আরও অনেক কিছু বোঝায়। এর মধ্যে টিস্যু হোল্ডার, টাওয়েল রড, হুক, শেলফ এবং অন্যান্য এক্সেসরিজও রয়েছে।

টয়লেট সামগ্রী কেনার সময় প্রথমে ব্র্যান্ডের খোঁজ নিন। নামকরা ব্র্যান্ডের পণ্য দীর্ঘদিন টেকে। যদিও দাম কিছুটা বেশি হয়, তবুও দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক। মনে রাখবেন, সস্তার তিন অবস্থা।

এছাড়াও পণ্যের ওয়ারেন্টি চেক করুন। ভাল কোম্পানিগুলো সাধারণত ১-৩ বছরের ওয়ারেন্টি দেয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ৫-১০ বছরের ওয়ারেন্টিও পাওয়া যায়। তবে শর্তাবলী পড়ে নিন।

টয়লেট সামগ্রী স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় স্পেস মাপুন। অনেক সময় দেখা যায় কিনে আনার পর লাগানো যাচ্ছে না। পূর্বে পরিকল্পনা করে কিনলে এই সমস্যা এড়ানো যায়। আর হ্যাঁ, প্লাম্বারের সাথে পরামর্শ করে নিলে ভাল হয়।

পানির ট্যাপ নির্বাচনে যা মনে রাখবেন

পানির ট্যাপ বাছাই করা একটি কলা। বাজারে বিভিন্ন টাইপের ট্যাপ রয়েছে। সিঙ্গেল লিভার, ডাবল হ্যান্ডেল, সেন্সর ট্যাপ এবং থার্মোস্ট্যাটিক ট্যাপ সবচেয়ে জনপ্রিয়। প্রতিটির আলাদা বৈশিষ্ট্য এবং মূল্য রয়েছে।

সিঙ্গেল লিভার ট্যাপ ব্যবহার করা সহজ। একটি হাতল দিয়েই গরম-ঠান্ডা পানি কন্ট্রোল করা যায়। এটি স্থান সাশ্রয়ী এবং আধুনিক দেখতে। অন্যদিকে, ডাবল হ্যান্ডেল ট্যাপে আলাদা আলাদা কন্ট্রোল থাকে।

সেন্সর ট্যাপ অত্যাধুনিক প্রযুক্তির নিদর্শন। হাত কাছে নিয়ে গেলেই পানি চালু হয়। কিন্তু এই ট্যাপের দাম বেশি এবং রক্ষণাবেক্ষণও জটিল। ব্যাটারি বা বিদ্যুতের সমস্যা হলে কাজ করে না।

ট্যাপ কেনার সময় উপাদান (ম্যাটেরিয়াল) দেখুন। ব্রাস, স্টেইনলেস স্টিল এবং ক্রোম প্লেটেড ট্যাপ ভাল। প্লাস্টিকের ট্যাপ সস্তা কিন্তু তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়। মোদ্দাকথা, স্যানিটারি আইটেম দামের সাথে গুণেরও সম্পর্ক রয়েছে।

হ্যান্ড শাওয়ার বেছে নেওয়ার কৌশল

হ্যান্ড শাওয়ার আজকাল প্রতিটি বাথরুমের অপরিহার্য অংশ। গোসলের সময় এটি অত্যন্ত কাজের। বিশেষ করে বাচ্চা এবং বয়স্কদের জন্য হ্যান্ড শাওয়ার খুবই সুবিধাজনক। কিন্তু কোন ধরনের হ্যান্ড শাওয়ার কিনবেন?

প্রথমত, শাওয়ার হেডের সাইজ বিবেচনা করুন। বড় হেড থেকে বেশি পানি বের হয়। কিন্তু পানির চাপ কম এলাকায় বড় হেড ভাল কাজ করে না। সেক্ষেত্রে স্যানিটারি আইটেম কেনার সময় ছোট হেড নিলে ভাল পানির স্প্রে পাবেন।

দ্বিতীয়ত, মাল্টি-ফাংশন শাওয়ার কিনতে পারেন। এতে বিভিন্ন ধরনের স্প্রে প্যাটার্ন রয়েছে। রেইন শাওয়ার, মাসাজ মোড, জেট স্প্রে ইত্যাদি অপশন পাওয়া যায়। তবে এগুলোর দাম একটু বেশি হয়।

হ্যান্ড শাওয়ারের হোজ দৈর্ঘ্যও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত ১.৫ মিটার হোজ যথেষ্ট। তবে বড় বাথরুমে ২ মিটার হোজ নিতে পারেন। হোজের উপাদানও দেখুন। স্টেইনলেস স্টিলের হোজ টেকসই। প্লাস্টিকের হোজ সস্তা কিন্তু তাড়াতাড়ি ফেটে যায়।

কমোড এবং বেসিনের সঠিক পছন্দ

কমোড এবং বেসিন বাথরুমের প্রধান উপাদান। এগুলো একবার লাগানোর পর অনেক বছর ব্যবহার করতে হয়। তাই কেনার সময় খুব সাবধানতার সাথে বেছে নিন। বাজারে চাইনিজ, ভারতীয় এবং ইউরোপীয় ব্র্যান্ডের পণ্য পাওয়া যায়।

কমোড কেনার সময় প্রথমে টাইপ নির্ধারণ করুন। ফ্লোর মাউন্টেড এবং ওয়াল হাং কমোড দুটোই জনপ্রিয়। ফ্লোর মাউন্টেড কমোড সাধারণত সস্তা এবং লাগানো সহজ। কিন্তু মেঝে পরিষ্কার করতে অসুবিধা হয়।

ওয়াল হাং কমোড দেখতে আধুনিক এবং স্পেস সেভ করে। মেঝে পরিষ্কার করাও সহজ হয়। কিন্তু এর ইনস্টলেশন জটিল এবং খরচও বেশি। প্রাচীরের মধ্যে সিস্টার্ন লুকানো থাকে বলে রিপেয়ার করতে সমস্যা হতে পারে।

বেসিন বাছাই করার সময় সাইজ এবং শেপ দেখুন। গোলাকার, আয়তাকার এবং অভাল শেপের বেসিন বেশি প্রচলিত। ছোট বাথরুমে কর্নার বেসিন ব্যবহার করা যায়। এতে স্থান সাশ্রয় হয়। তবে কর্নার বেসিন ব্যবহার করা কিছুটা অসুবিধাজনক।

স্যানিটারি আইটেম এর দাম সম্পর্কে ধারণা

স্যানিটারি আইটেম এর দাম বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে। ব্র্যান্ড, কোয়ালিটি, ডিজাইন এবং ফিচারের ভিত্তিতে দামের তারতম্য হয়। স্থানীয় দোকানে গিয়ে সরাসরি দাম জেনে নিন। অনলাইনেও তুলনা করতে পারেন।

কমোডের দাম সাধারণত ৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকার মধ্যে। সাধারণ ফ্লোর মাউন্টেড কমোড ৫-১০ হাজার টাকায় পাওয়া যায়। ওয়াল হাং এবং স্মার্ট কমোডের দাম ২০-৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

বেসিনের দাম ২,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকার মধ্যে। সিম্পল ওয়াল হাং বেসিন ২-৫ হাজার টাকায় পাবেন। ডিজাইনার এবং কাউন্টার টপ বেসিনের দাম ১০-২০ হাজার টাকা।

ট্যাপের দাম ৫০০ থেকে ১০,০০০ টাকার মধ্যে। স্থানীয় ব্র্যান্ডের সিঙ্গেল ট্যাপ ৫০০-১৫০০ টাকায় পাবেন। ব্র্যান্ডেড মিক্সারের দাম ২-১০ হাজার টাকা। সেন্সর ট্যাপের দাম আরও বেশি। এছাড়াও শাওয়ার, এক্সেসরিজ এবং অন্যান্য পণ্যের আলাদা দাম রয়েছে।

বাথরুম সাজানোর উপায় এবং টিপস

বাথরুম সাজানোর জন্য প্রথমে থিম নির্ধারণ করুন। মডার্ন, ক্লাসিক অথবা মিনিমাল যে ধরনই পছন্দ করেন, সে অনুযায়ী পণ্য বাছাই করুন। সব পণ্যের কালার এবং ডিজাইন একই ধরনের হলে বাথরুম সুন্দর দেখায়।

স্টোরেজ স্পেসের কথাও ভাবুন। বাথরুমে বিভিন্ন জিনিসপত্র রাখার জায়গা প্রয়োজন হয়। ক্যাবিনেট, শেলফ এবং নিশ ব্যবহার করে স্টোরেজের সমস্যা সমাধান করা যায়। তবে অতিরিক্ত জিনিস রাখলে বাথরুম বিশৃঙ্খল দেখায়।

ভেন্টিলেশনের দিকেও নজর দিন। বাথরুমে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। এক্সহস্ট ফ্যান লাগালে আর্দ্রতা কমে এবং গন্ধ দূর হয়। জানালা থাকলে সেটাও খোলা রাখুন। ভাল ভেন্টিলেশন থাকলে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার সমস্যা কম হয়।

ঘরের স্যানিটেশন বজায় রাখার পদ্ধতি

ঘরের স্যানিটেশন বজায় রাখতে প্রতিদিন পরিষ্কার করুন। বিশেষ করে বাথরুম এবং রান্নাঘর নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি। জীবাণুনাশক ব্যবহার করে পরিষ্কার করলে ভাল হয়। কিন্তু বেশি রাসায়নিক ব্যবহার করবেন না।

পানি জমে থাকলে মশা-মাছি হয়। তাই বাথরুমে পানি জমতে দেবেন না। ফ্লোর ড্রেনের দিকে ঢাল রাখুন যাতে পানি সহজেই বের হয়ে যায়। এছাড়াও নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করুন।

আবর্জনা ফেলার জন্য আলাদা ডাস্টবিন রাখুন। প্রতিদিন ডাস্টবিন খালি করুন এবং পরিষ্কার করুন। কোথাও আবর্জনা ফেলে রাখলে পোকামাকড় হয় এবং দুর্গন্ধ ছড়ায়।

টয়লেট এবং বেসিনে নিয়মিত ডিসইনফেকট্যান্ট ব্যবহার করুন। বিশেষ করে টয়লেট বোলের ভিতরের অংশ ভাল করে পরিষ্কার করুন। ব্রাশ ব্যবহার করে কঠিন দাগ তুলুন। মনে রাখবেন, পরিচ্ছন্নতাই স্বাস্থ্যের চাবিকাঠি।

পানির লাইনের ফিটিং সংক্রান্ত বিষয়াবলী

পানির লাইনের ফিটিং বাড়ির প্লাম্বিং সিস্টেমের হৃদয়। এই ফিটিংগুলো সঠিক না হলে পানি লিক করে এবং নানা সমস্যা হয়। তাই ভাল মানের ফিটিং ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। বাজারে বিভিন্ন ধরনের ফিটিং পাওয়া যায়।

সাধারণত PVC, CPVC এবং পিতলের ফিটিং ব্যবহার হয়। PVC ফিটিং সবচেয়ে সস্তা কিন্তু ঠান্ডা পানির জন্য উপযুক্ত। CPVC ফিটিং গরম পানি সহ্য করতে পারে। পিতলের ফিটিং দামি কিন্তু সবচেয়ে টেকসই।

ফিটিং কেনার সময় পাইপের সাইজ মেপে নিন। ভুল সাইজের ফিটিং লাগালে লিক হবে। এছাড়াও জয়েন্টিং কম্পাউন্ড অথবা টেফলন টেপ ব্যবহার করুন। এতে জয়েন্ট শক্ত হয় এবং লিক হওয়ার সম্ভাবনা কমে।

ফিটিং লাগানোর কাজ অভিজ্ঞ প্লাম্বার দিয়ে করাই ভাল। নিজে করতে গিয়ে ভুল হলে পরে বেশি খরচ পড়বে। মনে রাখুন, প্লাম্বিং কাজে একবার ভুল হলে সারাজীবনের জন্য সমস্যা হতে পারে।

স্যানিটারি পণ্যের পরিচর্যা এবং রক্ষণাবেক্ষণ

স্যানিটারি আইটেম পরিচর্যা করলে সেগুলো অনেক বছর ভাল থাকে। প্রথমত, নিয়মিত পরিষ্কার করুন। প্রতিদিন ব্যবহারের পর হালকা পরিষ্কার করুন এবং সপ্তাহে একবার গভীর পরিষ্কারণ করুন।

পরিষ্কার করার জন্য মৃদু ক্লিনার ব্যবহার করুন। অ্যাসিড জাতীয় পরিষ্কারক ব্যবহার করবেন না। এতে পণ্যের ফিনিশিং নষ্ট হয়ে যায়। বরং বেকিং সোডা, ভিনেগার অথবা সাবান পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন।

ট্যাপ এবং শাওয়ারে পানির দাগ পড়ে যায়। প্রতিদিন ব্যবহারের পর শুকনা কাপড় দিয়ে মুছে রাখুন। এতে দাগ পড়বে না এবং ঝকঝকে থাকবে। লেবুর রস দিয়েও পানির দাগ তোলা যায়।

পাইপ এবং ড্রেইনে চুল অথবা অন্য কিছু আটকে গেলে পানি জমে যায়। নিয়মিত ড্রেইন পরিষ্কার করুন। চুল ক্যাচার ব্যবহার করলে চুল ড্রেইনে ঢুকবে না। মাসে একবার পাইপ ক্লিনার দিয়ে পাইপ পরিষ্কার করুন।

উপসংহার

স্যানিটারি আইটেম কেনা মানে শুধু টাকা খরচ করা নয়। এটি একটি বিনিয়োগ যা আপনার দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করে। সঠিক পণ্য নির্বাচন করলে দীর্ঘদিন ঝামেলামুক্ত থাকা যায়। বিপরীতে, ভুল সিদ্ধান্ত নিলে প্রতিনিয়ত সমস্যায় পড়তে হয়।

মার্কেট রিসার্চ করে পণ্য কিনুন। দোকানদার এবং প্লাম্বারের পরামর্শ নিন। তবে অন্ধভাবে কারও কথা শুনবেন না। নিজের প্রয়োজন এবং বাজেট বুঝে সিদ্ধান্ত নিন।

পরিশেষে বলব, স্যানিটারি আইটেম কেনার সময় তাড়াহুড়ো করবেন না। প্রতিটি পণ্য ভাল করে দেখুন এবং তুলনা করুন। মানসম্পন্ন পণ্য কিনলে পরবর্তীতে রক্ষণাবেক্ষণও কম খরচ হয়। সর্বোপরি, পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা নিশ্চিত করুন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী(FAQs)

কোন ব্র্যান্ডের স্যানিটারি আইটেম সবচেয়ে ভাল?

বাংলাদেশি বাজারে RAK, Kohler, American Standard এবং Parex এর পণ্য ভাল মানের। তবে বাজেট অনুযায়ী লোকাল ব্র্যান্ডও বেছে নিতে পারেন। গুরুত্বপূর্ণ হল পণ্যের কোয়ালিটি এবং ওয়ারেন্টি।

স্যানিটারি আইটেম কিনতে কত টাকা বাজেট রাখব?

সম্পূর্ণ বাথরুম সেটআপের জন্য ৩০,০০০-১,৫০,০০০ টাকা বাজেট রাখুন। বেসিক পণ্য নিলে কম খরচ হবে। প্রিমিয়াম পণ্য চাইলে বাজেট বাড়াতে হবে

কমোড এবং বেসিনের জন্য কোন ম্যাটেরিয়াল ভাল?

সিরামিক এবং ভিট্রিয়াস চায়না সবচেয়ে জনপ্রিয়। এগুলো টেকসই এবং পরিষ্কার করা সহজ। মার্বেল এবং গ্রানাইট দামি কিন্তু খুবই সুন্দর দেখায়।

পানির চাপ কম হলে কি ধরনের ট্যাপ ব্যবহার করব?

কম চাপের জন্য ছোট অরিফিস সহ ট্যাপ ব্যবহার করুন। সিঙ্গেল লিভার ট্যাপ ভাল কাজ করে। প্রয়োজনে প্রেশার বুস্টার পাম্প লাগান।

বাথরুমের সাইজ অনুযায়ী কি কি পণ্য নিব?

ছোট বাথরুমে (৪০-৬০ বর্গফুট) কমপ্যাক্ট পণ্য নিন। মাঝারি বাথরুমে (৬০-১০০ বর্গফুট) স্ট্যান্ডার্ড সাইজ ভাল। বড় বাথরুমে আপনার পছন্দমত যেকোনো সাইজ নিতে পারেন।

স্যানিটারি আইটেম এর ওয়ারেন্টি কতদিনের হয়?

সাধারণত ১-৩ বছরের ওয়ারেন্টি পাওয়া যায়। প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডে ৫-১০ বছরের ওয়ারেন্টিও আছে। ওয়ারেন্টি কার্ড এবং রসিদ সংরক্ষণ করুন।

কত সময় পরপর স্যানিটারি আইটেম পরিবর্তন করতে হয়?

ভাল মানের পণ্য ১৫-২০ বছর চলে। কিন্তু ১০-১২ বছর পর আপগ্রেড করা ভাল। নিয়মিত পরিচর্যা করলে পণ্য বেশিদিন টেকে।

অনলাইন এবং ফিজিক্যাল দোকান – কোথায় কিনব?

ফিজিক্যাল দোকানে প্রোডাক্ট দেখে কিনতে পারবেন। অনলাইনে দাম তুলনা করা সহজ। তবে ডেলিভারি এবং ইনস্টলেশনের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে কিনুন।

স্যানিটারি আইটেম ইনস্টলেশনের খরচ কত?

ইনস্টলেশন খরচ পণ্যের ১০-২০% হতে পারে। সিম্পল ইনস্টলেশন ২,০০০-৫,০০০ টাকা। কমপ্লেক্স ইনস্টলেশনে ১০,০০০-২০,০০০ টাকা লাগতে পারে।

পরিষ্কারের জন্য কোন কেমিক্যাল ব্যবহার করব?

মাইল্ড ডিটার্জেন্ট, বেকিং সোডা এবং ভিনেগার নিরাপদ। টয়লেট ক্লিনার এবং ব্লিচ মাঝে মধ্যে ব্যবহার করুন। অ্যাসিড জাতীয় ক্লিনার এড়িয়ে চলুন।

🔥 পোস্টটি শেয়ার করুনঃ 🌍

Scroll to Top